শিশু হত্যায় মায়ের হাতে মেয়ে খুন, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ডাক্তার মা গ্রেপ্তার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০৩ ০৯:২৮:৩৬
শিশু হত্যায় মায়ের হাতে মেয়ে খুন, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ডাক্তার মা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডায় ছুটি কাটাতে গিয়ে চার বছরের কন্যা আরিয়া তালাঠির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন ওকলাহোমাভিত্তিক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নেহা গুপ্তা (৩৬)। প্রাথমিকভাবে একটি দুঃখজনক দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হলেও এক সপ্তাহব্যাপী তদন্ত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণে এই মৃত্যুর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মায়ামি-ডেইড কাউন্টি শেরিফ অফিস।

২৭ জুন, স্থানীয় সময় ভোর ৩:৪০ মিনিটে গুপ্তা ৯১১-এ কল করে জানান, তার মেয়ে একটি আবাসিক পুলে ডুবে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছিল মায়ামির উপকণ্ঠ এল পোর্টাল এলাকার একটি স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনে। জরুরি ফোনের পরপরই পুলিশ ও চিকিৎসা টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পেছনের উঠানের পুল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। অচেতন আরিয়াকে সিপিআর দেওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। পরে জ্যাকসন মেমোরিয়াল হাসপাতালের রাইডার ট্রমা সেন্টারে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

শুরুতে ঘটনাটি পানিতে ডুবে যাওয়া দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হলেও তদন্তের গভীরে গিয়ে তদন্তকারীরা একে ‘স্টেজড ড্রাউনিং’ বা সাজানো মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, আরিয়ার ফুসফুস ও পাকস্থলীতে পানির উপস্থিতি নেই, যা প্রকৃত ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অবশ্যম্ভাবী হতো। বরং মুখমণ্ডলে চিহ্নিত আঘাত এবং চোয়াল ও গালে আঘাতের নিদর্শন তার শ্বাসরোধের মাধ্যমে মৃত্যুর দিকেই ইঙ্গিত করে।

এছাড়া, আরিয়ার পেটে খাবারের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যদিও তার মা দাবি করেছিলেন মৃত্যুর অন্তত ছয় ঘণ্টা আগে অর্থাৎ রাত ৯টার দিকে মেয়েটি রাতের খাবার খেয়েছিল। এই বৈসঙ্গিকতা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো করে তোলে।

ডা. গুপ্তার আইনজীবী রিচার্ড কুপার জানান, ওই রাতে রাত ১২:৩০ মিনিটে মা-মেয়ে একই বিছানায় ঘুমাতে যান। পরে ভোর ৩:২০ মিনিটে অদ্ভুত শব্দে ঘুম ভেঙে গুপ্তা দেখতে পান, আরিয়া বিছানায় নেই এবং পুলে ভাসছে। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, গুপ্তা সাঁতার জানতেন না, তাই একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে প্রায় ১০ মিনিট পর ৯১১-এ ফোন করেন।

তবে তদন্তকারী সংস্থা এই বিবরণকেও সন্দেহের চোখে দেখছে। তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, ঘটনাস্থলের প্রমাণ এবং শারীরিক আলামত গুপ্তার ভাষ্যকে সমর্থন করে না।

ডা. নেহা গুপ্তা পেশাগত জীবনে একজন সফল শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ওকলাহোমা সিটিতে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ শুধু চিকিৎসা জগতেই নয়, ভারতীয় অভিবাসী সমাজেও গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ঘটনায় শোক ও বিস্ময় প্রকাশ করছেন, আবার অনেকে চাইছেন ঘটনার পূর্ণ তদন্তের আগে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য না করতে।

বর্তমানে ডা. নেহা গুপ্তা কারাগারে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে ‘প্রথম-ডিগ্রি হত্যার’ অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি এখন মায়ামি-ডেইড কাউন্টি শেরিফ অফিসের তত্ত্বাবধানে তদন্তাধীন। আইনজীবী রিচার্ড কুপার বলেন, “একজন শোকাহত মাকে এখন খুনের দায়ে বন্দি করা হয়েছে এটি হৃদয়বিদারক। আমরা আত্মবিশ্বাসী, পুরো সত্য সামনে আসবে এবং প্রকৃত বিচার নিশ্চিত হবে।”

এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী সপ্তাহে, যেখানে আদালতে ময়নাতদন্ত, পুলিশি তদন্ত এবং অন্যান্য প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হবে। সমাজের চোখ এখন সেই সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে।

-রফিক, নিজস্ব প্রতিবেদক


ট্রাম্পের হালকা চালের বক্তব্য ও ইরানের কড়া জবাব: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২১:২৭:৫৭
ট্রাম্পের হালকা চালের বক্তব্য ও ইরানের কড়া জবাব: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ভয়াবহতাকে কার্যত গুরুত্বহীন হিসেবে উপস্থাপন করে একে ‘একটি ছোট বিচ্যুতি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সাউথ ক্যারোলাইনায় আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সমাবেশে ট্রাম্প তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ও হালকা মেজাজে দেওয়া বক্তব্যে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, শুক্রবারের এই রাতে তাদের হাতে যথেষ্ট অবসর সময় রয়েছে। তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রশ্ন তোলেন, তার কি এখন অন্য কোনো কাজ বাকি আছে, নাকি তার আবার গিয়ে ইরানে কিছুটা বোমা বর্ষণ করা উচিত।

সংঘাতের বিষয়টিকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে হালকাভাবে তুলে ধরলেও ইরানের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করতে বড় ধরনের প্রস্তুতির পথে এগোচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। দেশটির ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও কঠোর কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আনুষ্ঠানিক রূপরেখা ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই লাগাতার অর্থনৈতিক হুমকিকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ওয়াশিংটনের দিক থেকে আসা তথাকথিত ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণাকে পুরোপুরি ‘ব্যর্থ ক্লাসিক উপনিবেশবাদে প্রত্যাবর্তনের ব্যর্থ রেসিপি’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান।

সূত্র: সিএনএন


ট্রাম্প সীমা ছাড়লে রক্ষা পাবে না ইউরোপের লক্ষ্যবস্তুও: তেহরানের বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ২০:০৩:১১
ট্রাম্প সীমা ছাড়লে রক্ষা পাবে না ইউরোপের লক্ষ্যবস্তুও: তেহরানের বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি চলমান সংঘাতের পরিধি আরও বাড়িয়ে দেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপ মহাদেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালানোর চিন্তাভাবনা করছে ইরান। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

তেহরানের উচ্চপর্যায়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রগুলো ইতোমধ্যেই মূল্যায়ন করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় বুলগেরিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর নাম রয়েছে, যারা সম্প্রতি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের জন্য নিজেদের বেজমিয়ার বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। এছাড়া সাইপ্রাসকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে চলতি বছরের মার্চে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

কেবল ইউরোপের সামরিক স্থাপনাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে, যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা ফাইবার-অপটিক ক্যাবলগুলোতে আঘাত হানার পরিকল্পনাও খতিয়ে দেখছে ইরানি বাহিনী।

ইরানের সংশ্লিষ্ট সূত্রটি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি ইরানের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুমকি কার্যকর করেন, তবে আত্মরক্ষার্থে সংঘাত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছে তেহরান। তাদের স্পষ্ট বার্তা—যুক্তরাষ্ট্র সীমা অতিক্রম করলে আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে ইউরোপ পর্যন্ত পাল্টা আঘাত হানা হবে।

এমন এক প্রেক্ষাপটে এই তথ্য প্রকাশ্যে এলো যখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত থমকে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন যে, তেহরানের সঙ্গে এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা চলছে না এবং অদূর ভবিষ্যতেও বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।

অপরদিকে ইরান আগেই ঘোষণা দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে যেসব ঘাঁটি ব্যবহার করা হবে, সেগুলোকেই সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের ভাণ্ডারে রয়েছে। উল্লেখ্য, সংঘাত নিরসনে গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পারস্পরিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে তা ভেঙে পড়ে এবং নতুন কোনো সমঝোতার পথও তৈরি হয়নি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


পাঁচ দশকের সব রেকর্ড ভাঙল হরমুজ সংকট, জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ২০:০০:৫৫
পাঁচ দশকের সব রেকর্ড ভাঙল হরমুজ সংকট, জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের মার্চে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্ব তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কার সৃষ্টি হয়েছে। ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের প্রকাশিত তালিকার বরাতে ইরাকি বার্তা সংস্থা শাফাক নিউজ জানিয়েছে, এ সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হ্রাস পায়।

গত পাঁচ দশকের বড় বড় যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংকটের তুলনায় বর্তমান হরমুজ সংকটের মাত্রা অনেক বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭৮-৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সময় দৈনিক সরবরাহ কমেছিল প্রায় ৫৬ লাখ ব্যারেল, যা তালিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম সংকট। এছাড়া ১৯৭৩ সালের আরব তেল অবরোধ ও ১৯৯০ সালে কুয়েতে ইরাকের হামলার সময় দৈনিক সরবরাহ কমেছিল ৪৩ লাখ ব্যারেল করে। ১৯৮০-৮১ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধে ৪১ লাখ, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধে ২৩ লাখ এবং ২০১১ সালের লিবিয়া গৃহযুদ্ধের সময় প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল দৈনিক তেল সরবরাহ হ্রাস পেয়েছিল।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর ইরানের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। মাঝে ১৮ জুন সাময়িক সমঝোতায় নৌপথটি কিছুটা সচল হলেও সামরিক উত্তেজনা পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। তেহরান অবশ্য জোর দিয়ে দাবি করেছে, কৌশলগত এ জলপথটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই রয়েছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ


মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে কিম জং উনের প্রতি ট্রাম্পের বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৯:৩৭:৪০
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে কিম জং উনের প্রতি ট্রাম্পের বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার নতুন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক অবস্থানের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিমের প্রশংসা করার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নির্ধারিত ১১ দিনের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে সিউলের অস্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ঘোষিত ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। একই সময়ে তিনি কিমের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে ফেরার স্পষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

তবে বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করছেন। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রবার্ট লিটওয়াক ও জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিক্টর চা উল্লেখ করেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দ্বারপ্রান্তে থাকা ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন যখন যুদ্ধে লিপ্ত, তখন সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম পারমাণবিক শক্তিধর উত্তর কোরিয়ার নেতাকে তোষণের চেষ্টা করা চরম বৈপরীত্য।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাবেক কূটনীতিকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সমর্থনে সেনা পাঠানো এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া বর্তমান কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নন। বরং ইরানের ওপর চলমান হামলা দেখে পিয়ংইয়ং এটিই বার্তা পাচ্ছে যে, আত্মরক্ষার জন্য পারমাণবিক শক্তি জোরদার করাই তাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

/আশিক


নেতাদের জুয়ার মূল্য নগদে শোধ করছে মার্কিন পরিবারগুলো: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ২১:৫০:৪৬
নেতাদের জুয়ার মূল্য নগদে শোধ করছে মার্কিন পরিবারগুলো: ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নেওয়া বৈরী নীতির আর্থিক বোঝা ও মার্কিন নেতাদের ভুল সিদ্ধান্তের মূল্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পরিবারগুলোকে দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির আন্তর্জাতিকবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ভূরাজনৈতিক ও আঞ্চলিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে কথা বলেন ভেলায়াতি। তিনি উল্লেখ করেন, একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ নিয়ে গর্ব করছেন, অন্যদিকে স্বয়ং মার্কিন সিনেটর জন কর্নিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

১৯৫৩ সালের ১৯ আগস্ট (ইরানি ক্যালেন্ডারে ২৮ মোরদাদ) ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানের—যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল—৭৩তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে ভেলায়াতি এ মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, সাত দশকেরও বেশি সময় পর আজ আঞ্চলিক ক্ষমতার সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে এবং মার্কিন নেতাদের ঝুঁকিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির আর্থিক মাশুল সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদেরই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সরাসরি পরিশোধ করতে হচ্ছে।

সুত্র : আইআরএনএ


অবিলম্বে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করুক ইরান: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৯:৩৪:৩২
অবিলম্বে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করুক ইরান: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে দেশটিকে কালবিলম্ব না করে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত না করে তেহরানের উচিত দ্রুত ‘আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা’ তুলে ধরা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক ভূরাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে ট্রাম্প জানান, বিদ্যমান বাস্তবতায় সংঘাত বাড়িয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং সংকট নিরসনে তেহরানের আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বার্তা বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে, যা বিশ্লেষকদের মতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা।


বরফ গলে নতুন রুট: সুয়েজ ও হরমুজকে কি টেক্কা দিতে পারবে চীন-রাশিয়া?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৮:২৪:৫৪
বরফ গলে নতুন রুট: সুয়েজ ও হরমুজকে কি টেক্কা দিতে পারবে চীন-রাশিয়া?
ছবি : সংগৃহীত

সুয়েজ খাল ও হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং দীর্ঘ দূরত্বের বিকল্প হিসেবে আর্কটিক অঞ্চলের ‘নর্দার্ন সি রুট’ (এনএসআর) দিয়ে নিয়মিত বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনা শুরু করেছে চীন। বরফাচ্ছাদিত রাশিয়ার উত্তর উপকূল ঘেঁষা ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নৌপথটি চীন ও ইউরোপের মধ্যকার সমুদ্রযাত্রার সময় প্রায় অর্ধেকে কমিয়ে আনলেও এর বিপরীতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও নানামুখী পরিচালন ঝুঁকির প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

চীনের শিপিং প্রতিষ্ঠান ‘সি লেজেন্ড’ সম্প্রতি এই পথে নিয়মিত কনটেইনার পরিবহন শুরু করেছে। প্রচলিত সুয়েজ খাল রুটে চীনের নিংবো-ঝৌশান বন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো পৌঁছাতে যেখানে ৪০ দিনের বেশি সময় লাগে, সেখানে এই আর্কটিক রুটে সময় লাগছে মাত্র ১৮ দিন। যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এটি বিশেষ করে চীনের প্রধান রপ্তানি পণ্য—যেমন বৈদ্যুতিক যান (ইভি), লিথিয়াম ব্যাটারি ও সৌর প্যানেলের মতো তাপমাত্রাসংবেদনশীল পণ্যের দ্রুত সরবরাহে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

২০১৭ সালে ঘোষিত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘পোলার সিল্ক রোড’ রূপরেখার অংশ হিসেবে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় থাকা রাশিয়ার সাথে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির ফলে রুটটির ব্যবহার গতি পেয়েছে। রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা 'রোসাটম' এই জলপথে জাহাজ চলাচলের অনুমতি ও পারমাণবিক শক্তিচালিত বরফভাঙা জাহাজের সহায়তা দিচ্ছে।

তবে সময় ও কার্বন নিঃসরণ কমার সুবিধার বিপরীতে পরিবেশবিদরা মারাত্মক আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। আর্কটিকের অতি সংবেদনশীল পরিবেশে কোনো জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তেল ছড়িয়ে পড়লে তা অপসারণ প্রায় অসম্ভব। ভারী জ্বালানি থেকে নির্গত কালো কার্বন বরফে জমে সূর্যের আলো শোষণ বাড়ায়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বরফ গলার গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

এছাড়া যথাযথ বিমা ও তদারকিহীন রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা নিষেধাজ্ঞা এড়ানো প্রায় ১০০টি জাহাজের এই রুটে চলাচল ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, উদ্ধারকাজে দীর্ঘসূত্রতা ও সীমিত মৌসুমের কারণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—সম্ভাবনা থাকলেও এই মুহূর্তে নর্দার্ন সি রুট সুয়েজ খাল বা হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ বিকল্প হতে পারছে না।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


ট্রাম্পের মেয়াদে আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি: মার্কিন জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ২১:৪৩:১৮
ট্রাম্পের মেয়াদে আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি: মার্কিন জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির অর্ধেকেরও বেশি নাগরিকের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সহায়তায় লন্ডনভিত্তিক অরাজনৈতিক গবেষণা সংস্থা ফোকালডাটা এই জরিপটি পরিচালনা করে।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার জানিয়েছেন যে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশ নির্দলীয় ভোটার এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ রিপাবলিকান সমর্থক রয়েছেন। এছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন মার্কিন অর্থনীতি বর্তমানে ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন এটি সঠিক পথে রয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর্মসংস্থান মোকাবিলার ক্ষেত্রে ভোটাররা ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকায় ৬৪ শতাংশ ভোটার সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সামগ্রিকভাবে প্রেসিডেন্টের কাজের প্রতি ৫৫ শতাংশ মানুষ অনাস্থা জানিয়েছেন এবং তাঁর নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ৮ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে কাকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে ৪৪ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৯ শতাংশ রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। জরিপের বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা দলটির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

মূল্যস্ফীতি ও প্রকৃত মজুরি হ্রাসের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই। তিনি দাবি করেন, সরকার প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানো, দেশে কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা এবং কর হ্রাসের মাধ্যমে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বলেও তিনি জানান।

গত ৭ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৯১৩ জন নিবন্ধিত ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে এই জরিপটি পরিচালিত হয়।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।


ইরানকে পরমাণু অস্ত্রহীন রাখতে বাড়তি তেলের দামও মেনে নেওয়া যায়: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ১৮:২৫:২৪
ইরানকে পরমাণু অস্ত্রহীন রাখতে বাড়তি তেলের দামও মেনে নেওয়া যায়: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য মেনে নেওয়ার জন্য আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে ‘ভীষণ শয়তান’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নস্যাৎ করাই চলমান সামরিক অভিযানের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে ওয়াশিংটনকে পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার বার্তা দিয়েছে তেহরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং এই জলপথ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ইরানবিরোধী সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করলেও শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ এ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার কোনোটিতেই অপরিশোধিত তেল ছিল না।

নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় গ্যাসোলিনের জন্য কিছুটা বাড়তি ব্যয় করা অযৌক্তিক নয়। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ৪.০৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। এই মূল্যবৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। একই সময়ে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক সপ্তাহে ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৫.৪ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানেও অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভ্যন্তরীণ উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য মার্কিন বন্দর অবরোধ ও তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছেন। বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আগামী সপ্তাহেই তেহরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সার্বিকভাবে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় জুনে যুদ্ধ বন্ধের যে আলোচনা চলছিল, তা এখন পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।

সূত্র : রয়টার্স।

পাঠকের মতামত: