হরমুজ প্রণালীতে মাইন, উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রস্থলে আবারও উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালী। ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন, পারস্য উপসাগরে ইরানি বাহিনী ইতোমধ্যে সামুদ্রিক মাইন (naval mine) প্রস্তুত ও সংরক্ষণে নিয়োজিত হয়েছে। যদিও এগুলো এখনো হরমুজ প্রণালীতে স্থাপন করা হয়নি, তথাপি বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র বলছে, ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা ইরানি মাইন মোতায়েনের পরিকল্পনা শনাক্ত করে। তবে কখন, কোথায় এবং কীভাবে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। সাধারণত এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ, রেডিও ইন্টারসেপশন অথবা অভ্যন্তরীণ গোপন উৎসের (HUMINT) মাধ্যমে পাওয়া যায়।
বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রধান পথ এটি। একইভাবে, ইরানও তার বৈদেশিক আয়ের বৃহৎ অংশ আসে এই রুটে রপ্তানি করা তেল ও গ্যাস থেকে। ফলে ইরান নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থের দিক থেকেও অত্যন্ত সচেতনভাবে এই প্রণালী ব্যবহারে কৌশলগত হিসাব করে চলে।
হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২১ মাইল চওড়া এবং তাতেও মাত্র ২ মাইল প্রশস্ত দুটি শিপিং লেন রয়েছে একটি প্রবেশপথ, অন্যটি বহির্গমন। এতটাই সঙ্কটাপন্ন ভূ-অবস্থান যে, একটি মাইনই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে।
২৩ জুন ইরানের পার্লামেন্ট একটি প্রতীকী বিল পাস করে, যাতে হরমুজ প্রণালী অবরোধের সম্ভাবনা উত্থাপন করা হয়। যদিও এই বিল বাধ্যতামূলক ছিল না এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের হাতে, তথাপি এটি স্পষ্টভাবে প্রতীকী বার্তা দেয় ইরান একধরনের কৌশলগত প্রতিশোধের পথ বেছে নিচ্ছে, যা সরাসরি সামরিক সংঘাতে না গিয়ে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিতে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কৌশল “স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসিমেট্রি” নীতিরই একটি অংশ, যার মাধ্যমে তারা ব্যয়বহুল যুদ্ধ নয় বরং হাইব্রিড কৌশলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (DIA) জানায়, ইরানের হাতে ৫,০০০টির বেশি নৌমাইন রয়েছে, যা দ্রুতগতির ছোট নৌযানের মাধ্যমে মুহূর্তেই স্থাপন করা সম্ভব। এসব মাইন অল্প সময়ে গোটা শিপিং লেন স্থবির করে দিতে পারে।
এই সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বাহরাইন-ভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর হরমুজ অঞ্চলে সজাগ নজর রাখছে। যদিও সেখানে চারটি মাইন অপসারণকারী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় এগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিমুখী চাপে রয়েছে একদিকে মিত্র ইসরায়েলকে সমর্থন, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীর মতো একটি বিশ্বমুখী রুটের নিরাপত্তা রক্ষা করা। ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় বা আংশিকভাবে মাইন স্থাপন করে, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলবে এবং বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
বিশ্লেষকরা একমত, ইরান বাস্তবিক অর্থে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে গেলে নিজেকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কারণ ইরানের তেল রপ্তানির অন্যতম রুট এটি। তবু একে অবরোধের হুমকি হিসেবে ধরে রাখার মধ্য দিয়ে তেহরান কৌশলগতভাবে একটি শক্তিশালী দরকষাকষির অবস্থানে থাকতে চায়। এধরনের উত্তেজনা বজায় রেখে, একদিকে তারা পশ্চিমা চাপের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান মজবুত করে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ জনসমর্থনও অর্জন করে।
বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বাধা না আসার কারণে সম্প্রতি জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে দামের কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও, পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যেতে পারে। একটি সফল মাইন হামলা বা সামান্য অবরোধ পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে যথেষ্ট।
হরমুজ প্রণালী এখন আর শুধু একটি সমুদ্রপথ নয়, বরং এক বিস্ফোরণসঙ্কুল কৌশলগত বোর্ড যেখানে সামরিক কৌশল, অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানির ভূরাজনীতি এবং আঞ্চলিক আধিপত্যের লড়াই প্রতিনিয়ত ঘুঁটি চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরায়েল এই সংকীর্ণ জলপথকে কেন্দ্র করে এক অপার সম্ভাবনার পাশাপাশি অপূরণীয় বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী দিনে উত্তেজনা কী পথে মোড় নেয় তা নির্ধারণ করবে কেবল এই অঞ্চল নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক স্নায়ুতন্ত্রের গতি ও স্থিতি।
-ইসরাত, নিজস্ব প্রতিবেদক
যুদ্ধ বন্ধে ঐতিহাসিক চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
দীর্ঘদিনের চরম সামরিক উত্তেজনার পর অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের বরফ গলার আভাস মিলছে। চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত চিরতরে বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তির একেবারে শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে বিশ্বের দুই বৈরি পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
তবে বড় ধরনের এই সমঝোতা প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হতে চললেও, এর আওতা থেকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হচ্ছে ইরানের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুটি। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) ইরানের একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে এই বিশেষ ও সংক্ষেপিত তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্সকে দেওয়া ওই বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানি সূত্রটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তেহরান প্রশাসন তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করতে বা দেশের বাইরে পাঠাতে সম্মত হয়নি। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের সামগ্রিক পারমাণবিক কর্মসূচি বা ইউরেনিয়াম ইস্যুটি বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সই হতে যাওয়া প্রাথমিক এই শান্তি চুক্তির কোনো অংশ বা এজেন্ডা নয়।
ইরানি ওই শীর্ষ কর্মকর্তা আলোচনার ভেতরের কৌশলগত বিষয় ব্যাখ্যা করে বলেন, পারমাণবিক শক্তি ও ইউরেনিয়ামের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এটিকে চূড়ান্ত বা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির জন্য ভবিষ্যতের কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার ফলে বর্তমান খসড়া চুক্তিতে এটি কোনো ধরনের প্রভাব ফেলছে না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক রাজনৈতিক বোঝাপড়ার বিষয়ে নিবিড় ও গোপন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই তেহরানের পক্ষ থেকে এমন অনমনীয় অবস্থান প্রকাশ করা হলো।
তেহরানের নীতি-নির্ধারক ও শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার পুনর্ব্যক্ত করছেন যে, বর্তমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মূল ফোকাস এবং প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটানো, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো—কোনোভাবেই নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সংকুচিত করা নয়।
সূত্র: রয়টার্স
আলোচনার টেবিলেও শত্রুর সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করবে ইরান
ইরানের ঐতিহাসিক খোররামশাহর মুক্তি দিবস এবং জাতীয় প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ ও বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ কৌশলগত বার্তায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সর্বাধিনায়ক মার্কিন ও ইসরায়েলি অক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের সাম্প্রতিক সামরিক বিজয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) খোররামশাহর মুক্ত করার ৪৪ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক দিনে সিপাহ প্রধান এই বার্তা দেন। তিনি তাঁর বার্তায় জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার পরিবেশেও সচেতন ইরানি জাতি তাদের জাতীয় ঐক্য ও প্রজ্ঞাকে আরও গভীর করবে। একই সঙ্গে চুক্তিভঙ্গকারী ও প্রতারক শত্রুদের প্রতিটি গতিবিধি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের সমস্ত গোপন ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে।
প্রকাশিত বার্তায় সিপাহ প্রধান নওরোজ ক্যালেন্ডারের ৩রা খোরদদ তারিখের ঐতিহাসিক তাৎপর্য স্মরণ করে বলেন, ৫৭৮ দিন সাদ্দাম বাহিনীর দখলে থাকার পর খোররামশাহর মুক্ত করার মধ্য দিয়ে ইরানি তরুণরা ‘আমরা পারি’ স্লোগানের বাস্তব রূপ দিয়েছিল। তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর ‘খোররামশাহরকে আল্লাহ মুক্ত করেছেন’—এই ঐতিহাসিক উক্তিটি ঐশী ইচ্ছা ও ঔপনিবেশিকতাবিরোধী জাতীয় শক্তির এক বিস্ময়কর বহিঃপ্রকাশ ছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, ৪৪ বছর আগের সেই গৌরবময় ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ইরানি জাতি আজ আবারও একটি ‘তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধে’র মুখোমুখি হয়েছে, যা মূলত ইসরায়েলি ও মার্কিন শত্রুদের সন্ত্রাসী আক্রমণ এবং ইরানের এক মহান নেতার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল। শত্রুপক্ষ ইরানের দীর্ঘ ৪০ দিনের তীব্র প্রতিরোধ ও বিধ্বংসী পাল্টা জবাবের মুখে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি ভিক্ষা করতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে তারা শহীদ নেতার রক্তের প্রতিশোধে ইরানিদের উত্তাল ও মারমুখী অবস্থানের সাক্ষী হচ্ছে।
ঐতিহাসিক খোররামশাহরের শিক্ষা, পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের শহীদ এবং সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি (রহ.)-এর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সিপাহ প্রধান ইরানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ৫টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এজেন্ডা ঘোষণা করেছেন।
প্রথমত, তিনি এই সাম্প্রতিক সংঘাতকে একটি সম্মিলিত বা ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এবং সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর জবাবের কারণে শত্রুর মূল লক্ষ্য ভেস্তে গেছে।
দ্বিতীয়ত, খোররামশাহরের মূল শিক্ষাই হলো অভ্যন্তরীণ শক্তির বিকাশ এবং সক্রিয় প্রতিরোধ; যার প্রমাণ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা খাতের অভাবনীয় অগ্রগতি আজ শত্রুদের নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য করছে।
তৃতীয়ত, ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তি হলো দেশের জনগণের দৃঢ় উপস্থিতি, যা যে কোনো আন্তর্জাতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল।
চতুর্থ কৌশলগত অবস্থান হিসেবে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরানের স্থল, আকাশ, নৌ, মহাকাশ এবং সাইবার—প্রতিরক্ষার এই পাঁচটি খাতের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ যুদ্ধপ্রস্তুতি ও প্রতিরোধ ক্ষমতায় রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের নতুন আগ্রাসনের জবাব হবে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক এবং তা আঞ্চলিকভাবে বিস্তৃত হবে।
পঞ্চমত এবং পরিশেষে তিনি উল্লেখ করেন, খোররামশাহরের এই ঐতিহাসিক বিজয় হলো মূলত ভবিষ্যতের চূড়ান্ত বিজয়ের একটি স্থায়ী আদর্শ, যা একদিন পবিত্র আল-কুদস (জেরুজালেম) মুক্তি এবং বিশ্ব ইসলামি প্রতিরোধের হাত ধরে ইসরায়েলি শাসনের সম্পূর্ণ পতনের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত রূপ নেবে। সিপাহ প্রধান ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ ও শহীদদের রক্তের সঙ্গে পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পবিত্র কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ় রাখবেন।’
সূত্র: ফার্সনিউজ
ইসরায়েলি জেনারেলের চাঞ্চল্যকর দাবি: সংঘর্ষে জয়ী হয়েছে ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতিতে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এক চাঞ্চল্যকর মূল্যায়ন সামনে এনেছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গিওরা আইল্যান্ড। ইসরায়েলের প্রভাবশালী টিভি চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, এই সামরিক সংঘর্ষে ইসরায়েল নয়, বরং জয়ী হয়েছে ইরান। তাঁর মতে, চলমান পরিস্থিতি ও এর ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরান কেবল সফলই হয়নি, বরং তারা এই যুদ্ধের পরিণামে ইসরায়েলের চেয়ে বেশি সন্তুষ্ট।
মেজর জেনারেল আইল্যান্ড তাঁর বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, সামরিক অভিযানের তীব্রতা ও পাল্টা হামলার পরেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ অটুট ও অক্ষত রয়েছে। বিপরীতে, এই সংঘাতের ফলে ইসরায়েল বর্তমানে এক গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। তাঁর মতে, যুদ্ধের এই ফলাফলে যুক্তরাষ্ট্রও এখন একটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছে।
সাবেক এই জেনারেলের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ওয়াশিংটন বর্তমানে তাদের পুরনো অবস্থান থেকে সরে এসে কেবল সংঘাত বন্ধের দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে। আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক মিত্রদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার টেবিলে চাপ সৃষ্টি করতে চাইত। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মার্কিন প্রশাসন এখন কেবল হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো সহজ ও নমনীয় পন্থায় ফিরে যেতে চাইছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে ইরান কঠোর পাল্টা জবাব দেয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও, গিওরা আইল্যান্ডের এই মন্তব্য ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
/আশিক
১ মাসে ৩ বার ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা! হোয়াইট হাউসে আত্মঘাতী হামলা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতি-সুরক্ষিত ও সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কেন্দ্র হোয়াইট হাউসের (White House) প্রধান নিরাপত্তা চৌকির সামনে এক বন্দুকধারীর আকস্মিক আত্মঘাতী হামলা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে লাইভ গোলাগুলির ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতিতে চরম আতঙ্ক ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৩ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসির পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের (Secret Service) তাৎক্ষণিক ও বিধ্বংসী পাল্টা গুলিতে ওই হামলাকারী স্পটেই নিহত হয়েছে এবং এ সময় ক্রসফায়ারে পড়ে এক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম সিবিসি নিউজ (CBC News)-এর সাম্প্রতিক এক মেগা প্রতিবেদনে এই নাটকীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিবিসি নিউজের অফিশিয়াল নথিমতে, রক্তক্ষয়ী এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরেই ওভাল অফিসে অবস্থান করছিলেন এবং সিক্রেট সার্ভিসের কঠোর বেষ্টনীতে তিনি সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর ১৭ নম্বর স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউর সংযোগস্থলের একটি মেগা সিকিউরিটি চেকপোস্টের দিকে এক সন্দেহভাজন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি ব্যাগ হাতে এগিয়ে আসে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সে তার ব্যক্তিগত ব্যাগের ভেতর অত্যন্ত সংবেদনশীল অটোমেটিক আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে এনেছিল।
চেকপোস্টের কাছাকাছি পৌঁছেই ওই ব্যক্তি আকস্মিক ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে দায়িত্বরত সিক্রেট সার্ভিস অফিসারদের বুক লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায়। সঙ্গে সঙ্গে সিক্রেট সার্ভিসের কাউন্টার-অ্যাসাল্ট টিম (CAT) পাল্টা ভারী গুলি বর্ষণ করলে হামলাকারী বুক ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ জর্জ ওয়াশিংটন হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই আকস্মিক মেগা হামলার পরপরই পুরো হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণ এবং নর্থ লন (North Lawn) এলাকায় যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ঘটনার সময় লনে থাকা আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকর্মীরা চিৎকার করে ‘গুলি চলছে, নিচু হোন’ বলে দ্রুত ব্রিফিং রুমে লকডাউন (Lockdown) করে দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (FBI)-এর নবনিযুক্ত পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, এফবিআই-এর বিশেষ ক্রাইম সিন ইউনিট ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিক্রেট সার্ভিসকে ঘটনার নেপথ্যের আন্তর্জাতিক যোগসূত্র খুঁজতে মেগা ব্যাকআপ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন এবং হাউস মেজোরিটি লিডার স্টিভ স্ক্যালিস এই নজিরবিহীন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।
তবে হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চিউং আজ সকালে স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাম্প এই হামলায় বিন্দুমাত্র বিচলিত নন এবং রাত ৮টাতেও তিনি স্বাভাবিকভাবে তাঁর দাপ্তরিক মেগা দায়িত্ব পালন করছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল ওয়াশিংটনের একটি হোটেলে এবং মে মাসের ৪ তারিখে হোয়াইট হাউসের বাইরে ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার পর—মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এটি ট্রাম্পের ওপর তৃতীয় মেগা জীবননাশের হামলা, যা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা ব্যর্থতাকে বিশ্বমঞ্চে নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে।
/আশিক
ইরানের আঘাতে মার্কিন ড্রোন বহরে মেগা বিপর্যয়
ইরানের সাথে চলমান রক্তক্ষয়ী ও ব্যয়বহুল সামরিক সংঘাতে মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অত্যাধুনিক চালকবিহীন ড্রোন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) বহরে বড় ধরণের বিপর্যয় ঘটেছে। পেন্টাগনের যুদ্ধপূর্ববর্তী মোট রিপার ড্রোন মজুদের প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশই ইতিমধ্যে ধ্বংস করে দিয়েছে তেহরান। প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ (Bloomberg)-এর সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই (Middle East Eye) আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) এই মেগা সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্যটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ইরান এ পর্যন্ত আকাশ ও মাটিতে প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের মোট ৩০টি সংবেদনশীল এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ড্রোনকে উড্ডয়নরত অবস্থায় ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুলি করে ভূপাতিত করেছে, আর বাকিগুলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়ে মাটিতেই ধ্বংস হয়েছে।
মার্কিন ‘কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর চলতি মাসের শুরুর দিকের ডেটার (২৪টি ড্রোন) চেয়েও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির এই সংখ্যাটি অনেক বেশি। মে মাসে রয়টার্সকে দেওয়া পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গোপন তথ্যমতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের মোট মার্কিন সামরিক ব্যয় ইতিমধ্যেই রেকর্ড ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
হোয়াইট হাউসে বসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ‘বিধ্বস্ত’ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেও, একের পর এক রিপার ড্রোন এবং গত এপ্রিলের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল (F-15E Strike Eagle) ফাইটার জেট ভূপাতিত করে তেহরান প্রমাণ করেছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো কতটা শক্তিশালী।
নিউ ইয়র্ক টাইমস (NYT)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ইরানি সামরিক কমান্ডাররা সম্ভবত ওই অঞ্চলে মার্কিন ফাইটার জেট ও বোমারু বিমানগুলোর নিয়মিত ওড়ার পথ বা ‘ফ্লাইট প্যাটার্ন’ (Flight Pattern) নিখুঁতভাবে ম্যাপ করতে সক্ষম হয়েছেন। এই জটিল প্যাটার্ন ম্যাপিংয়ের পেছনে ক্রেমলিনের প্রত্যক্ষ ভূ-রাজনৈতিক হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে; কারণ দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়া মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সেনাদলের রিয়েল-টাইম স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করে ইরানকে ব্যাকআপ দিচ্ছে।
মূলত ইরান নিজস্ব প্রযুক্তির পাশাপাশি রুশ ও চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি মারাত্মক মিশ্রণ (Hybrid Air Defense) ব্যবহার করছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় আকস্মিক বোমা হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে এই পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সেই মেগা হামলার পরেই চীন ইরানকে তাদের অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য) মিসাইল ব্যাটারি সরবরাহ করে, যা এখন মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য পারস্য উপসাগরে এক বড় কৌশলগত মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
আচেহ প্রদেশে শরিয়া আইন লঙ্ঘন: প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন নারী
ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে কঠোর শরিয়া আইন লঙ্ঘনের দায়ে এক অবিবাহিত নারী ও তাঁর পুরুষ সঙ্গীকে একটি মঞ্চে প্রকাশ্যে ১০০ বার করে বেত্রাঘাত করার মধ্যযুগীয় বর্বর শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে।
শাস্তি কার্যকরের একপর্যায়ে তীব্র যন্ত্রণায় ওই নারী অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) আচেহ প্রদেশের রাজধানী বান্দা আচেহের একটি মসজিদের সামনে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে এই মেগা শাস্তি কার্যকর করে স্থানীয় ইসলামিক ধর্মীয় পুলিশ।
যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-এর এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ অবিবাহিত অবস্থায় একই ছাদের নিচে একসঙ্গে বসবাস ও রাত কাটানোর (লিভ-ইন টুগেদার) অপরাধে এই যুগলকে শরিয়া আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শাস্তি কার্যকরের সময় ওই যুগলের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
পুরো শরীর ঢাকা বাদামি ওভ্যারল পোশাক ও সাদা মুখোশ পরা একজন পেশাদার জল্লাদ (শরিয়া এনফোর্সার) বেতের লাঠি দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকলে পুরুষটিকেও তীব্র যন্ত্রণায় কাতর হতে দেখা যায়। একই দিনে আচেহ প্রদেশে অনলাইন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানো এবং জুয়া খেলার অপরাধে আরও বেশ কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে ২৫ থেকে ১০০ বার পর্যন্ত বেত্রাঘাতের পৃথক শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৪ কোটিরও বেশি মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র আচেহ প্রদেশেই সরকারি ও আইনি পর্যায়ে স্বাধীনভাবে নিজস্ব শরিয়া আইন কার্যকর রয়েছে; যেখানে সমকামিতা, মদ্যপান ও অবিবাহিত নারী-পুরুষের ডেটিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতা ও অতিরিক্ত দাবির কারণেই সংলাপে অচলাবস্থা: ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের বারবার প্রকাশ্য বিশ্বাসঘাতকতা, নীতিহীন পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার কারণেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান দ্বিপাক্ষিক শান্তিসংলাপে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
শুধু তা-ই নয়, ওয়াশিংটন একদিকে আলোচনার টেবিলে কূটনীতির ভণ্ডামি করছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে জোট বেঁধে ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। গতকাল শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক জরুরি ও উচ্চপর্যায়ের টেলিফোন সংলাপে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক তেহরানের এই কড়া ও নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
টেলিফোনে আলাপকালে আব্বাস আরাগচি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বারবার লিখিত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা এবং আলোচনা চলাকালীন সময়ে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধের মতো অবাস্তব শর্ত তোলাই বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের মূল কারণ।
ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের গভীর ও ঐতিহাসিক অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ইরান একটি ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসংগত সমাধানে পৌঁছাতে অত্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে এই সংলাপে অংশ নিচ্ছে বলে তিনি জাতিসংঘকে আশ্বস্ত করেন। এর জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যেকোনো স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা মেনে কূটনৈতিক উপায়ে এই আঞ্চলিক সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।
এদিকে একই দিন শুক্রবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি টেলিভিশনে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে চলমান সংলাপে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। তবে পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তেহরান সফরের পর আলোচনাটি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র : প্রেস টিভি
যুক্তরাষ্ট্র হাউসে নাটকীয় মোড়: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাঁচাতে ইরান সংক্রান্ত ভোট বাতিল
ভোটাভুটিতে নিশ্চিত হারের আশঙ্কা এবং নিজের দলের আইনপ্রণেতাদের বড় ধরণের অনুপস্থিতির মুখে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসে (House of Representatives) ইরান যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি অতি সংবেদনশীল ভোট মাঝপথেই আকস্মিক বাতিল করেছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং ইরান সংঘাত বন্ধে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি এনেছিলেন বিরোধী ডেমোক্র্যাট পার্টির হাউস মেম্বাররা। একই সাথে এই প্রস্তাবে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দাসূচক মন্তব্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত পরশু বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) মেমোরিয়াল ডে-র ছুটির ঠিক আগে মার্কিন হাউসে এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে।
হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসে এই বিশেষ ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ (War Powers Resolution) প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেছিলেন নিউ ইয়র্কের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি এবং বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক হাউস কমিটির শীর্ষ সদস্য গ্রেগরি মিকস। ভোট চলাকালীন রিপাবলিকান পার্টির অন্তত ১০ জন সদস্য অনুপস্থিত থাকায় এবং ডেমোক্র্যাটদের সাথে বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য যোগ দেওয়ায় প্রস্তাবটি পাস হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এই ভরাডুবি এড়াতে ট্রাম্প অনুগামী ও হাউসের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতারা তড়িঘড়ি করে ভোট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে হাউসের তিন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা—সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস, হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক এবং ককাস চেয়ার পিট অ্যাগুইলার একটি কড়া যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে তাঁরা রিপাবলিকান নেতৃত্বকে ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত হাউস এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের (Wholly-owned subsidiary) মতো আচরণ করে চলেছে।” তবে হাউস মেজরিটি লিডার স্টিভ স্ক্যালিস দাবি করেছেন, অনুপস্থিত সদস্যদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই এই বিলম্ব। অন্যদিকে, হাউস স্পিকার মাইক জনসন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এড়িয়ে গেলেও আগামী জুন মাসের শুরুতে ছুটির পর হাউস পুনরায় বসলে এই ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ইরানের পরমাণু ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে পেন্টাগন (Pentagon) ও ইসরায়েল যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) শুরু করেছিল। ১৯৭৩ সালের মার্কিন যুদ্ধ ক্ষমতা আইন (War Powers Act) অনুযায়ী, কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন (এবং সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন) তা চালিয়ে যেতে পারেন; যার সময়সীমা ইতিমধ্যেই পার হয়ে গেছে।
গত ৫ মে সামরিক অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে একটি যুদ্ধবিরতি চললেও, কাঙ্ক্ষিত চুক্তি না হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় ইরানে বড় ধরণের হামলার গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পেন্টাগন সূত্রে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে। তবে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় হু হু করে বাড়তে থাকায় ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকানেরBrian Fitzpatrick এবং Thomas Massie-র মতো শীর্ষ আইনপ্রণেতারাও এখন এই অন্তহীন যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার মার্কিন সেনেটেও চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সাথে সুর মিলিয়ে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা খর্ব করার পক্ষে ভোট দেওয়ায় হোয়াইট হাউস এখন বড় ধরণের আইনি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার
নারায়ণগঞ্জের গোলাপি মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার শিরোনাম
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর হাটে শত শত মেগা গরুর চিরাচরিত আকর্ষণকে এক নিমেষেই ম্লান করে দিয়ে দেশজুড়ে এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের এক অবিশ্বাস্য ও ব্যতিক্রমী গোলাপি মহিষ। রেকর্ড ৭০০ কেজি ওজনের এই বিরল মহিষটির অদ্ভুত রাজকীয় চেহারা এবং কপালে ঝুলে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো সোনালি-লালচে চুলের কারণে শখ করে তার নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
শুধু দেশীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই নয়, নিজের বিচিত্র নামকরণের জোরে এই মহিষটি এখন বিশ্বের বাঘা বাঘা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মূল পাতায়ও জায়গা করে নিয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স (Reuters) এই মহিষটিকে নিয়ে একটি বিশেষ এক্সক্লুসিভ সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার শিরোনাম ছিল— “বাংলাদেশের বিরল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ এখন ঈদের সেনসেশন।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কুচকুচে কালো রঙের মহিষ দেখতেই অভ্যস্ত। তবে এই বিশেষ ‘অ্যালবিনো’ (Albino) জাতের মহিষটির গায়ের রং সম্পূর্ণ আলাদা—হালকা গোলাপি বা ক্রিমের মতো। মহিষটির সবচেয়ে চোখ ধাঁধানো আকর্ষণ হলো তার কপালে থাকা একগুচ্ছ সোনালি চুলের স্টাইল, যা দেখতে হুবহু বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিগনেচার হেয়ারস্টাইলের অবিকল নকল। এই অদ্ভুত ও নিখুঁত মিল দেখেই খামারিরা মজার ছলে মহিষটির নাম ট্রাম্পের নামে নামকরণ করেন। মহিষটির অবস্থান নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় অবস্থিত বিখ্যাত ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’।
খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর ছোট ভাই প্রথমে শখের বশে মহিষটির চুলের কাটিং দেখে ট্রাম্পের নাম দেন; কিন্তু পরবর্তীতে এটি যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হবে তা তাঁরা স্বপ্নেও ভাবেননি। বর্তমানে রয়টার্স ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, দ্য টেলিগ্রাফ, ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস ও নিউজ এইট্টিনসহ বিশ্বের অন্তত ডজনখানেক মেগা মিডিয়া এই ‘গোলাপি ট্রাম্প’কে নিয়ে বিশেষ ফিচার প্রকাশ করেছে, যার ফলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ খামারে ভিড় করছেন স্রেফ একটি সেলফি তোলার জন্য।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- শিশু রামিসা হত্যা: ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রীর বিচার শুরুর দিন ধার্য
- শিশু রামিসা হত্যা মামলা বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি
- পাইপলাইন মেরামত: সোমবার ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না বেশ কিছু এলাকায়
- যুদ্ধ বন্ধে ঐতিহাসিক চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
- ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় মেহেরপুরে যুবকের মৃত্যুদণ্ড
- ২৪ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২৪ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৪ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সিলেটের বিশ্বনাথে জমে উঠেছে পশুর হাট
- তথ্যের জগৎ আর প্রথাগত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই: তথ্যমন্ত্রী
- আলোচনার টেবিলেও শত্রুর সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করবে ইরান
- আগামীকাল থেকে নামছে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন: রেলমন্ত্রী
- মিরপুরের শিশু রামিসা হত্যায় ডিএনএ রিপোর্টে মিলল ধর্ষণের অকাট্য প্রমাণ
- আজকের টাকার রেট: জেনে নিন প্রবাসী মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার
- ইসরায়েলি জেনারেলের চাঞ্চল্যকর দাবি: সংঘর্ষে জয়ী হয়েছে ইরান
- রাজধানীতে আজ সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচির ব্যস্ততা
- দেশের চার জেলায় দুপুর ১টার মধ্যে ধেয়ে আসছে ঝড়-বৃষ্টি: আবহাওয়া অফিসের মেগা অ্যালার্ট
- তেজাবি সোনার বাজারে ধস: ৩ দিন আগের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করলো বাজুস
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- ১ মাসে ৩ বার ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা! হোয়াইট হাউসে আত্মঘাতী হামলা
- কুমিল্লা সরানো হলো ১৩১ বছরের স্কুল আঙিনার কবরস্থানের সাইনবোর্ড
- রামিসা হত্যা ও ফারিয়া ধর্ষণের প্রতিবাদ: চট্টগ্রামে ফুলেশ্বরী অ্যাসোসিয়েশনের মিছিল
- নিসাব কার বেশি? জেনে নিন ঠিক যেসব নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জের: ফেঁসে গেলেন ২২ এনসিপি নেতা
- তেলাপোকা’র আতঙ্কে মোদী সরকার, টুইটারের পর বন্ধ হলো সিজেপির ওয়েবসাইট
- লাশ উদ্ধারের ৫ দিনের মাথায় চূড়ান্ত অভিযোগপত্র: রামিসা হত্যায় দ্রুততম বিচারের রেকর্ড
- এটাই এনসিপির মূল বসন্ত, মামলা খেয়ে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর রহস্যময় অভিনন্দন
- আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশুর পরিবহন এবার মেগা চ্যালেঞ্জ: সেতুমন্ত্রী
- কালিগঞ্জে পোস্ট অফিসের চোরাই গ্রিল উদ্ধার: ভাঙারি ব্যবসায়ী ও নাইটগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ
- আগামীকাল টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- চব্বিশের শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেবো না: মির্জা ফখরুল
- রামিসা হত্যার খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- ইরানের আঘাতে মার্কিন ড্রোন বহরে মেগা বিপর্যয়
- শাহজালাল বিমানবন্দরে বেক্সিমকোর হেলিকপ্টার গায়েব করে সাবেক উপদেষ্টার তুঘলকি কাণ্ড!
- পতিত স্বৈরাচারের সাথে ভেতরের গোষ্ঠীর গোপন যোগাযোগ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
- আচেহ প্রদেশে শরিয়া আইন লঙ্ঘন: প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন নারী
- ঈদের আগে উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক পেতে রূপবিশেষজ্ঞদের বিশেষ রূপচর্চা গাইড
- সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই, ভারতে আত্মপ্রকাশ করল তেলাপোকা জনতা পার্টি
- স্ত্রীর দেনমোহর বাকি রেখে কি কোরবানি দেওয়া যাবে? জেনে নিন ইসলামের স্পষ্ট ব্যাখ্যা
- যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতা ও অতিরিক্ত দাবির কারণেই সংলাপে অচলাবস্থা: ইরান
- ত্রিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- যুক্তরাষ্ট্র হাউসে নাটকীয় মোড়: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাঁচাতে ইরান সংক্রান্ত ভোট বাতিল
- সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন বৈষম্য কমাতে নতুন পে স্কেলে বড় উদ্যোগ
- দেশের অর্থনীতি সচল রাখা প্রবাসীদের জন্য আজকের মুদ্রার দর
- নারায়ণগঞ্জের গোলাপি মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার শিরোনাম
- কোরবানির ঈদের আগে জুয়েলারি পাড়ায় বড় ধস: নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ
- বৃষ্টির পরও কমেনি গরম; আজ সকালের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা
- ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি রয়েছে, দিনের শুরুতেই একনজরে
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- আমেরিকায় গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় কড়াকড়ি: সাময়িক ভিসাধারীদের দেশ ছাড়ার তাগিদ
- ১৮ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রামিসা থেকে আবদুল্লাহ: শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরবতার অবসান হোক
- ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
- দ্রুতই মাথা উঁচু করে দেশে ফিরব: আনন্দবাজারের সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা
- টয়লেটে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যা: পল্লবীর শিশু খুনের রোমহর্ষক জবানবন্দি
- যে ৫ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ের আশঙ্কা
- ঘরেই বানান মজাদার কাঁচা আমের ঝাল আচার
- আবারও কমলো সোনার দাম, ভরিতে বড় পতন
- ২১ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রামিসার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে আজ রাতেই পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- ঈদের দিনে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া








