সস্ত্রীক রিকশায় ঘুরে শেষ শুভেচ্ছা, জার্মান রাষ্ট্রদূতের অনন্য বিদায়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ৩০ ২১:৫৭:১১
সস্ত্রীক রিকশায় ঘুরে শেষ শুভেচ্ছা, জার্মান রাষ্ট্রদূতের অনন্য বিদায়

ঢাকাবাসীকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানানোর এক ব্যতিক্রমী উপায় বেছে নিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত অখিম ট্রস্টার। লুঙ্গি পরে, মাথায় গামছা বেঁধে, নিজ হাতে রিকশা চালিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার রাস্তায় ঘুরে শেষবারের মতো জানিয়ে দিলেন— ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতার বার্তা।

সোমবার (৩০ জুন) ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে রাষ্ট্রদূতের একটি আবেগঘন বিদায় ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাষ্ট্রদূত ট্রস্টার গায়ে সাধারণ বাঙালির পোশাক— লুঙ্গি ও গামছা পরে নিজেই রিকশার প্যাডেল ঘুরাচ্ছেন। রিকশার সিটে বসে আছেন তার স্ত্রী। পথচলতি মানুষ যেন তাকিয়েই থাকেন— একজন বিদেশি কূটনীতিক, যিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে এমন আন্তরিকভাবে ধারণ করেছেন।

শুভেচ্ছাবার্তায় রাষ্ট্রদূত বলেন,“বাংলাদেশে চার বছর খুব চমৎকার সময় কাটিয়েছি। এখানকার মানুষ, সংস্কৃতি, অতিথিপরায়ণতা আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এখন বার্লিনে ফিরছি— মাত্র সাত হাজার কিলোমিটার দূরে। আশা করছি, শীতকাল নাগাদ সেখানে পৌঁছাতে পারব। তবে আমার হৃদয়ের একটি বড় অংশ এই শহরেই থেকে যাবে।”

অখিম ট্রস্টারের এই ব্যতিক্রমী রিকশাভ্রমণ আর শুধুই বিনোদন বা প্রচারণা ছিল না— এটি ছিল বাংলাদেশের প্রতি এক হৃদয়স্পর্শী সম্মান, যা তার বিদায়বার্তায় দারুণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তার বিদায়ী এই রিকশা ভ্রমণের ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন— "এমন সম্মান আর শ্রদ্ধা খুব কমই দেখা যায় বিদেশি কোনো কূটনীতিকের কাছ থেকে।"

বিদায়ী এই রিকশা রাইড যেন হয়ে উঠেছে দুই দেশের সম্পর্কের এক বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি।


রোহিঙ্গা থেকে সেফ সিটি, ঢাকার পাশে ইসলামাবাদ?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১১:৪২:২৩
রোহিঙ্গা থেকে সেফ সিটি, ঢাকার পাশে ইসলামাবাদ?
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং মানবিক বিভিন্ন ইস্যুতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী। বৈঠকের তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে।

দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধ, মাদক পাচার রোধ, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা, নগর নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আলোচনার শুরুতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রীর ঢাকা সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই সফরের ধারাবাহিকতায় মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক পদার্থের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার প্রতিরোধে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ভবিষ্যতে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক পর্যায়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

বৈঠকে পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের বিভিন্ন মানবিক সমস্যার বিষয়ও তুলে ধরেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্র বা ‘ফ্যামিলি ট্রি’ না থাকায় অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবার পাকিস্তানের কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড (সিএনআইসি) সংগ্রহে জটিলতার মুখে পড়ছেন। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টির মানবিক সমাধানে পাকিস্তান সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

নগর নিরাপত্তা আধুনিকায়নের বিষয়েও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ প্রকল্পের প্রশংসা করে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ, লাহোর, মুলতান ও করাচির ‘সেফ সিটি’ প্রকল্প পরিদর্শন করেছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলোতেও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। আধুনিক অপরাধ দমন, সাইবার নিরাপত্তা এবং নগর পুলিশিংয়ের মতো বিষয়ে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে সৌদি আরবে অবস্থানরত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে দুই দেশের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তিনি পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করতে, যাতে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ সুবিধাজনক সময়ে ইসলামাবাদ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

-রফিক


জুলাইযোদ্ধার ২০০ আবেদন ভুয়া, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১১:০৫:২৯
জুলাইযোদ্ধার ২০০ আবেদন ভুয়া, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত হওয়ার দাবি করে জমা দেওয়া নতুন আবেদনগুলোর যাচাই-বাছাইয়ে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। সরকারি তদন্তে প্রায় ২০০টি আবেদন সরাসরি ভুয়া বলে শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬০০টি আবেদনে তথ্যগত অসঙ্গতি, একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন, শহীদের পরিচয়ে আহত হিসেবে আবেদন এবং বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন আবেদনগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো মোট ২ হাজার ৩৮৮টি আবেদন যাচাই করে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৯০ জনের তথ্য সঠিক পাওয়া গেছে। তাদের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান।

মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তিনটি ক্যাটেগরিতে মোট ১৪ হাজার ৩৭০ জন আহত জুলাইযোদ্ধা সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নতুন করে যাচাইয়ে উত্তীর্ণ ১ হাজার ৫৯০ জনের নাম যুক্ত হলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫ হাজার ৯৬০ জনে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম এখনও বন্ধ হয়নি। নতুন আবেদনগুলোও পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা মিললে তাদেরও সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, যাদের তথ্য মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হবে কিংবা পূর্বে ভুল তথ্য দিয়ে গেজেটভুক্ত হয়েছেন—তাদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শুরুতে জুলাই শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের প্রথম গেজেট প্রকাশের পর বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরে বিপুলসংখ্যক নতুন আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদনকারীরা নিজেদের আহত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান।

এর আগে প্রকাশিত গেজেট নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠার পর ১৩ জন শহীদ এবং ২১৯ জন আহত জুলাইযোদ্ধার নাম বাতিল করা হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার কোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গেজেট প্রকাশের পর মোট ৩ হাজার ৩১৬টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮৮টি আবেদন তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। যাচাই শেষে ১ হাজার ৫৯০টি আবেদন গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের মধ্যে ৭৮৯ জনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও ২৭৬ জনের এমআইএস অন্তর্ভুক্তির কাজ চলমান রয়েছে এবং ২১০ জনের তথ্য যাচাই শেষ হয়েছে।

তদন্তে শুধু ভুয়া আবেদনই নয়, বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির চিত্রও উঠে এসেছে। প্রায় ২০০টি আবেদন সরাসরি মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৬০০টি আবেদন নিয়ে দুই তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে একই ব্যক্তি একাধিকবার আবেদন করেছেন, শহীদের নামে আহত হিসেবে আবেদন করা হয়েছে, আবার কোথাও ব্যক্তিগত তথ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিতে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বিতর্কিত আবেদনগুলোর মধ্যে আরও প্রায় ১০০টির সত্যতা শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হতে পারে।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, অনেক আবেদনকারী আহত হওয়ার দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। কোথাও চিকিৎসার কাগজপত্র মিলেনি, কোথাও জমা দেওয়া ছবি ও তথ্য যাচাই করে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি একজন শহীদের পরিচয় ব্যবহার করে আহত হিসেবে আবেদন করার ঘটনাও তদন্তে ধরা পড়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেছেন, প্রকৃত আহত ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতেই প্রতিটি আবেদন কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। কোনো ভুয়া আবেদনকারী যাতে সরকারি সুবিধা বা গেজেটভুক্তির সুযোগ না পান, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে সরকারি গেজেট অনুযায়ী জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ৮৪৩ জন শহীদ এবং আহত তিন শ্রেণিতে মোট ১৪ হাজার ৩৭০ জন স্বীকৃতি পেয়েছেন। সরকারি নীতিমালা অনুসারে শহীদ পরিবারের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা, মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা, আবাসনসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে আহতদের জন্য ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী এককালীন আর্থিক সহায়তা, নিয়মিত ভাতা, চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণ সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে জুলাইযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। সরকারের লক্ষ্য হলো, কেবল প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদেরই সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে এই তালিকা নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক বা প্রশ্নের সুযোগ না থাকে।

-রফিক


সাইবার প্রযুক্তির পরীক্ষা জালিয়াতি রুখতে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের মেগা বিল পাস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ২১:৪৭:০৪
সাইবার প্রযুক্তির পরীক্ষা জালিয়াতি রুখতে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের মেগা বিল পাস
ছবি : সংগৃহীত

ডিজিটাল কারসাজি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল সনদ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সব ধরনের পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তির আইনি বিধান রেখে বহুল প্রতীক্ষিত ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ আজ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থার ঐতিহ্যগত স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরীক্ষা পদ্ধতির সুষ্ঠুতা বজায় রাখার বজ্রকঠিন লক্ষ্য নিয়েই এই যুগোপযোগী বিলটি প্রণয়ন ও পাস করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা উপস্থিত সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। এই নতুন বিলের মাধ্যমে সুদীর্ঘ ৪৫ বছর পুরোনো ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’-এর অচল ও দুর্বল বিধানগুলো সংশোধন করে বর্তমানের সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা জালিয়াতি এবং সিন্ডিকেটভিত্তিক নতুন ধরনের অনিয়ম কঠোরভাবে মোকাবিলার আইনি রাস্তা উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রায় সাড়ে চার দশক আগে প্রণীত বিদ্যমান আইনটি সনাতন পদ্ধতির নকল ও অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে আধুনিক সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পূর্বের আইনের বিধানগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

এই সংশোধনীতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো 'ডিজিটাল কারসাজি'-এর একটি আধুনিক আইনি সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে; যার আওতায় পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন, জালিয়াতির মাধ্যমে সংশোধন, রেজাল্ট মুছে ফেলা বা গোপন করাকে কঠোর অপরাধের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত ধারা ৫এ (5A) অনুযায়ী, ডিজিটাল কারসাজির এই অপরাধে অপরাধীকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের আইনি বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নকল প্রতিরোধে ধারা ৩এ (3A) সংযোজন করে পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের নিষিদ্ধ ঘোষিত যেকোনো ধরনের স্মার্ট বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে বা নেওয়ার চেষ্টা করে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করা এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত বৈধ নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাঁসের মরণব্যাধির শাস্তি আরও কঠোর করতে বিদ্যমান ধারা ৮ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এখন থেকে পরীক্ষার আগে যেকোনো উপায়ে প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্র নিজের কাছে অবৈধভাবে রাখা, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা অন্য উপায়ে প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও অনুমোদনহীন পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন বা পরিচালনাকে শক্ত হাতে রুখতে নতুন ধারা ৯এ (9A) যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে অবৈধ কেন্দ্র পরিচালনায় জড়িত ব্যক্তি এবং জেনেশুনে অবৈধ পরীক্ষার জন্য নিজস্ব স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া মালিকদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতা ও কারসাজি ঠেকাতে ধারা ১০এ (10A) সংযোজন করা হয়েছে; কোনো পরীক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বা কম নম্বর প্রদান কিংবা এ ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে পরীক্ষার ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের মুখোমুখি হবেন।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ধারা ১২এ (12A)-এর মাধ্যমে কোনো কোচিং সেন্টার, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা সেবাদানকারী সংস্থা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তা করলে বা কর্মীদের যথাযথ তদারকি করতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রাতিষ্ঠানিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বড় সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নতুন ধারা ১৩এ (13A)-তে বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে অভিযুক্ত কোনো শিশুর বিচার সাধারণ আদালতে নয়, বরং ‘শিশু আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী কিশোর বিচারব্যবস্থার বিশেষ আওতায় পরিচালিত হবে। এছাড়া নতুন ধারা ১৩বি (13B)-তে সৎ উদ্দেশ্যে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য ফাসকারী বা প্রকাশকারী তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) সব ধরনের দেওয়ানি, ফৌজদারি বা বিভাগীয় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা থেকে পূর্ণ আইনি সুরক্ষা দেওয়ার এক যুগান্তকারী বিধান রাখা হয়েছে।

সংশোধিত এই নতুন আইনে সব ধরনের পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধকে সম্পূর্ণ ‘আমলযোগ্য’ (কগনিজেবল) ও অ-জামিনযোগ্য করা হয়েছে, যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতের পূর্বানুমতি বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই অপরাধীদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে ব্যবস্থা নিতে পারে। ঢাকা ও অন্যান্য মহানগর এলাকায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা পর্যায়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুততম সময়ে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে (Summary Trial) এসব মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করবেন।

/আশিক


সংসদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ২১:৪২:৩২
সংসদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময়
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করতে আসা দেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে নিজেদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের মাগরিবের নামাজের বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনেই এসব শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

বর্তমান সরকারের বিশেষ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদ ভবনের ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী পরিদর্শন এবং সরাসরি সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই সংসদ ভবন পরিদর্শনে অংশ নেন।

দুপুরে জাতীয় সংসদে এসে তারা প্রথমে সংসদ ভবনের বিশ্ববিখ্যাত স্থাপত্যশৈলী ঘুরে দেখেন, সংসদীয় লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন এবং ভবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্মৃতিচারণমূলক ছবি তোলেন। পরবর্তীতে তারা মূল গ্যালারিতে বসে সরাসরি সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এরপর নামাজের বিরতি শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাদের সরাসরি সাক্ষাতের এক চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান, পরিদর্শনে আসা দলগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলিয়ে ৬৯ জন অংশ নেন।

এছাড়া ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নটর ডেম কলেজ থেকে ৪৩ জন শিক্ষার্থী ও ১০ জন শিক্ষক, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইডের (BLAST) মাধ্যমে আসা যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের (University of Oxford) চারজন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এবং সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের (CGS) ১৮ সদস্যের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলও এদিন সংসদ অধিবেশন সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য আলাপকালে তাদের পড়াশোনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদ জানতে চান এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও টেকসই অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে আধুনিক জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

/আশিক


শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও বর্ষায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত ছক জানালেন এ্যানি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১৯:৫৯:০১
শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও বর্ষায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত ছক জানালেন এ্যানি
ছবি : সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলের জীবন-মরণ সমস্যা তিস্তা নদীর টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়নে নেওয়া ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’র (Teesta Mega Plan) আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীশাসন, ১১০ কিলোমিটার ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন ও স্পার নির্মাণ-মেরামত এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার দীর্ঘ ভূমি পুনরুদ্ধারের মেগা প্রস্তাব করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজীর এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য জানান পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

জাতীয় সংসদে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণসহ নানা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ সামগ্রিক কৃষি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে উজানের অতিবৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গে আকস্মিক বন্যা ও তীব্র নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়। এই সংকট মোকাবিলায় তিস্তা অববাহিকার পাঁচটি জেলা—রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটে নদীভাঙন রোধে ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২২২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ইতোমধ্যে ৪২ দশমিক ১৭ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক এই টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Feasibility Study) সম্পন্ন হয়েছে। সেই সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নদীশাসন, ড্রেজিং, বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ, স্পার মেরামত এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের মতো বিশাল প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, সমীক্ষার কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই মেগা প্রকল্পটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ ও সেচসুবিধা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে, যা কৃষি উৎপাদন ও ফসলের বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করবে।

পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন রাস্তা, সেতু ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস, নৌযোগাযোগের আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের এক নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে বলে সমীক্ষা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

/আশিক


ঢামেকের ৮০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: আট দশকের অবদান জাতির গর্ব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১৮:৩৬:২৫
ঢামেকের ৮০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: আট দশকের অবদান জাতির গর্ব
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) গৌরবময় ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ও বর্তমান সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক বিশেষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, “বিগত আট দশকে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সেবায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের অনন্য অবদান সমগ্র জাতির জন্য এক পরম গর্বের বিষয়।”

শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “একটি জাতির সার্বিক অগ্রগতি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না; তা মূলত নির্ভর করে একটি সুস্থ, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠীর ওপর। আর সেই ভিত্তিটি মজবুতভাবে নির্মাণে মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণা ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার ভূমিকা অপরিসীম। এই ধারাকে আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ঐতিহাসিক পথচলার স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, “১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান প্রধান বাতিঘর হিসেবে গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ এই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য বিশ্বমানের দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক চিকিৎসক তৈরি করেছে, যাঁরা দেশে ও বিদেশে নিজেদের পেশাগত উৎকর্ষ, নেতৃত্ব এবং নিঃস্বার্থ সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদাকে বিশ্বমঞ্চে সমুন্নত রেখেছেন।”

জাতীয় ক্রান্তিলগ্নে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ প্রতিটি জাতীয় সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের অবিস্মরণীয় অবদান জাতি চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”

বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্র অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ তার গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধারণ করে আগামী দিনেও বিশ্বমানের চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্যনেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”

একই সাথে তিনি দেশে-বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত ঢামেকের সকল শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণ, বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা সহায়তা এবং জাতীয় ক্রান্তিলগ্নে সাধারণ রোগীদের সেবায় আরও নিবিড়ভাবে এগিয়ে আসুন। এতে এই মহান প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনাদের ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে।”

/আশিক


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত, সিলেট সার্কিট হাউসে সুখবর দিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১৮:০৬:৪৮
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত, সিলেট সার্কিট হাউসে সুখবর দিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সরকারের ধারাবাহিক ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই বিশাল অগ্রগতি এসেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে বিশ্বের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের শ্রমবাজারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এই সুখবর জানান।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং বিদ্যমান শ্রমবাজারগুলোর সংকট দূর করে তা সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জোরালো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই সফল ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে সিলেট সার্কিট হাউসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি—বিশেষ করে সিলেটি প্রবাসীদের অসামান্য অবদান, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের অত্যন্ত সুদৃঢ় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই কূটনৈতিক সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও বেশি শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করতে দুই দেশই অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং উন্নয়ন অংশীদারত্বকে আরও বেশি গতিশীল ও বেগবান করবে।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহাসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী ১০০ টাকায় লাঞ্চ করেন, আমরা মন্ত্রীরাও তাই করি: সখীপুরে আযম খান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১৯:৪৮:০৪
প্রধানমন্ত্রী ১০০ টাকায় লাঞ্চ করেন, আমরা মন্ত্রীরাও তাই করি: সখীপুরে আযম খান
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন শুরু করে দিয়েছেন এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক খাতকে একটি শক্ত ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চান বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। সোমবার (৬ জুলাই) টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা হলরুমে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সখীপুর উপজেলা শাখা আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন’ শীর্ষক এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, “আমি এটি বলবো না যে তিনি মাত্র ৫ বছরেই বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলবেন। তবে তিনি যদি রাষ্ট্র পরিচালনায় আরও কিছু সময় পান, তাহলে সত্যিকার অর্থেই নিজ দূরদর্শিতায় বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রে নিয়ে যাবেন।”

সরকারের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত ইতিবাচক পরিবর্তনের বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে দুপুর বেলা মাত্র ১০০ টাকার সাধারণ খাবার খান, যা বর্তমানে সখীপুরের মতো এলাকাতেও পাওয়া কঠিন। আমরা মন্ত্রীরাও এখন প্রত্যেকে দুপুর বেলা এই ১০০ টাকার খাবারই খাই। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল পৌনে ৯টার মধ্যে দপ্তরে চলে আসেন। পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে আমাদের ওপরেও; আমরা মন্ত্রীরা এখন প্রতিদিন পৌনে ৯টার মধ্যে যার যার অফিসে হাজির থাকি। এমনকি আমার দপ্তরে কোনো দিন সাড়ে ৮টা বা পৌনে ৯টায় গেলেও দেখবেন আমি উপস্থিত আছি। অর্থাৎ শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনটা একদম শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু হয়ে গেছে।”

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে যে ধস বা স্থবিরতা নেমে এসেছে, আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই ভগ্নদশা থেকে এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। শিক্ষক সমাজের কাছে বর্তমান নতুন জাতি ও রাষ্ট্রের অনেক বড় বড় প্রত্যাশা রয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের সুশৃঙ্খল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব বেগম নার্গিস সিদ্দিকা, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সখীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি খুরশিদ জাহান এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক টিটুসহ স্থানীয় শিক্ষা খাতের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


গুলশান-বনানী লেকের দূষণ রোধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১৮:৩৭:৫১
গুলশান-বনানী লেকের দূষণ রোধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশান-বনানী-বারিধারা ও নিকেতন লেকের সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষা, মারাত্মক পানি দূষণ রোধ এবং একটি সুশৃঙ্খল সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৬ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সভার বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানিয়ে বলেন, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার বহুতল ভবনগুলোর অভ্যন্তরীণ পয়ঃনিষ্কাশন (স্যুয়ারেজ) সংযোগ ব্যবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা এবং এই গুরুত্বপূর্ণ লেকগুলোকে সম্পূর্ণরূপে দূষণমুক্ত করার সার্বিক কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যেই মূলত এই জরুরি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লেকের তলদেশে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাগুলোকে এককভাবে কাজ না করে সম্পূর্ণ সমন্বিতভাবে মাঠে নামার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ঢাকার এই অভিজাত এলাকার লেকগুলোকে দূষণমুক্ত ও সচল করতে ইতিমধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বহুমুখী বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার প্রাথমিক ও জরুরি অংশ হিসেবে গুলশান-বনানী এলাকার যেসব আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের ক্ষতিকারক পয়ঃবর্জ্য সরাসরি পাইপের মাধ্যমে লেকের পানিতে গিয়ে পড়ছে, তা অবিলম্বে কঠোর হস্তে রোধ করা এবং ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন।

সভায় লেকের পরিবেশ আমূল বদলে দিতে সর্বাধুনিক স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) বা পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের বিষয়েও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কারিগরি আলোচনা করা হয়। এছাড়া লেক এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত চারপাশের সবকটি খাল যাতে পলিথিন ও অন্যান্য ময়লায় ভরাট না হয়, সেজন্য সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ এবং পানির প্রাকৃতিক প্রবাহ সচল রাখতে আধুনিক খনন বা ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীতো হয়। একই সঙ্গে কড়াইল বস্তির বিশাল জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন গৃহস্থালি বর্জ্য যাতে সরাসরি লেকের পানিতে মিশে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটাতে না পারে, সেজন্য সেখানে বিশেষ কী ধরনের টেকসই কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া যায়, তা নিয়েও সভায় পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়েছে বলে জানান উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

উচ্চপর্যায়ের এই নীতি-নির্ধারণী সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সচিব এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

/আশিক

পাঠকের মতামত: