সস্ত্রীক রিকশায় ঘুরে শেষ শুভেচ্ছা, জার্মান রাষ্ট্রদূতের অনন্য বিদায়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ৩০ ২১:৫৭:১১
সস্ত্রীক রিকশায় ঘুরে শেষ শুভেচ্ছা, জার্মান রাষ্ট্রদূতের অনন্য বিদায়

ঢাকাবাসীকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানানোর এক ব্যতিক্রমী উপায় বেছে নিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত অখিম ট্রস্টার। লুঙ্গি পরে, মাথায় গামছা বেঁধে, নিজ হাতে রিকশা চালিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার রাস্তায় ঘুরে শেষবারের মতো জানিয়ে দিলেন— ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতার বার্তা।

সোমবার (৩০ জুন) ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে রাষ্ট্রদূতের একটি আবেগঘন বিদায় ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাষ্ট্রদূত ট্রস্টার গায়ে সাধারণ বাঙালির পোশাক— লুঙ্গি ও গামছা পরে নিজেই রিকশার প্যাডেল ঘুরাচ্ছেন। রিকশার সিটে বসে আছেন তার স্ত্রী। পথচলতি মানুষ যেন তাকিয়েই থাকেন— একজন বিদেশি কূটনীতিক, যিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে এমন আন্তরিকভাবে ধারণ করেছেন।

শুভেচ্ছাবার্তায় রাষ্ট্রদূত বলেন,“বাংলাদেশে চার বছর খুব চমৎকার সময় কাটিয়েছি। এখানকার মানুষ, সংস্কৃতি, অতিথিপরায়ণতা আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এখন বার্লিনে ফিরছি— মাত্র সাত হাজার কিলোমিটার দূরে। আশা করছি, শীতকাল নাগাদ সেখানে পৌঁছাতে পারব। তবে আমার হৃদয়ের একটি বড় অংশ এই শহরেই থেকে যাবে।”

অখিম ট্রস্টারের এই ব্যতিক্রমী রিকশাভ্রমণ আর শুধুই বিনোদন বা প্রচারণা ছিল না— এটি ছিল বাংলাদেশের প্রতি এক হৃদয়স্পর্শী সম্মান, যা তার বিদায়বার্তায় দারুণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তার বিদায়ী এই রিকশা ভ্রমণের ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন— "এমন সম্মান আর শ্রদ্ধা খুব কমই দেখা যায় বিদেশি কোনো কূটনীতিকের কাছ থেকে।"

বিদায়ী এই রিকশা রাইড যেন হয়ে উঠেছে দুই দেশের সম্পর্কের এক বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি।


বিনামূল্যে প্রাথমিক-জরুরি চিকিৎসার অঙ্গীকার সরকারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১০:৫৭:০২
বিনামূল্যে প্রাথমিক-জরুরি চিকিৎসার অঙ্গীকার সরকারের
ছবি : সংগৃহীত

সবার জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, জনগণের স্বার্থ ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না। বিনামূল্যে প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে বিশেষায়িত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ৮টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘২য় ঢাকা আন্তর্জাতিক হাঁটু সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আর্থ্রোপ্লাস্টি সোসাইটির সহযোগিতায় বাংলাদেশ আর্থ্রোস্কোপি অ্যান্ড আর্থ্রোপ্লাস্টি একাডেমি আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে দেশের অর্থোপেডিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সামনে থাকা নতুন ও জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু অবকাঠামো কিংবা প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়; দক্ষ জনবল, হালনাগাদ চিকিৎসাজ্ঞান এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগ প্রয়োজন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার পরিধিও ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে চিকিৎসকদেরও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নতুন জ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তির সঙ্গে নিয়মিতভাবে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, রোবোটিক প্রযুক্তি, উন্নত ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থা এবং সুপার-স্পেশালাইজেশনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা এখন প্রযুক্তিনির্ভর নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে না পারলে ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ ও জটিল রোগের চিকিৎসা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হবে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা বিভাগ, পেশাজীবী সংগঠন এবং বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হাঁটু ও অস্থিসন্ধির চিকিৎসায়ও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এসেছে। আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি থেকে শুরু করে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট বা আর্থ্রোপ্লাস্টির মতো বিশেষায়িত চিকিৎসায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ বলে সম্মেলনে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ধরনের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন দেশের চিকিৎসকদের নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ খাতে এমন বড় বরাদ্দ আগে দেখা যায়নি। তবে শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না; বরাদ্দ করা অর্থের দক্ষ, স্বচ্ছ এবং ফলপ্রসূ ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বিশেষভাবে চিকিৎসাশিক্ষার মানোন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্প্রসারণ এবং রোগীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান ও দীর্ঘমেয়াদি ফল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্য খাতে বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ দেওয়াকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, পর্যাপ্ত বিনিয়োগের পাশাপাশি চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের রোগীদের বিদেশমুখিতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসাক্ষেত্রে দক্ষতা ও পেশাগত উন্নয়নে উৎসাহ দিতে ছয়জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ঢাকা আর্থ্রোপ্লাস্টি সোসাইটির পক্ষ থেকে ফেলোশিপ দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে হাঁটুর সুস্থতা, রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রকাশিত ‘সেভ ইয়োর নি’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আর্থ্রোপ্লাস্টি সোসাইটির সভাপতি ডা. এম. আলী।

-রফিক


আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১০:২০:৩০
আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ রোববার (২৩ আগস্ট) আনুষ্ঠানিক বাসভবন বঙ্গভবনে উঠছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে তাঁর আনুষ্ঠানিক বসবাস শুরু হচ্ছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করা মির্জা ফখরুল গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। সরকারি গেজেটেও ২১ আগস্ট তাঁর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

এর এক দিন আগে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মির্জা ফখরুল। নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। মির্জা ফখরুল পান ২৫৫ ভোট। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন মির্জা ফখরুলকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে।

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও মির্জা ফখরুলের নির্বাচন বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে স্থান পেয়েছে।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক নেতা ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং তার আগেও কয়েক বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার পর দলীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনটিও শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে আসা মির্জা ফখরুল দীর্ঘ সময় ধরে দেশের জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ। বিরোধী রাজনীতির দীর্ঘ পর্ব পেরিয়ে বিএনপি সরকারে আসার পর তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দলীয় রাজনীতির সক্রিয় নেতৃত্ব থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তাঁর যাত্রা শুরু হলো।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সামনে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রত্যাশাও রয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ মূলত সাংবিধানিক হলেও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই পদের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক আস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত ও ভূমিকার দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

আজ বঙ্গভবনে ওঠার মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যায় আরও পূর্ণতা পাচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির দীর্ঘকালীন মহাসচিব থেকে এখন তিনি রাষ্ট্রপ্রধান। ফলে আগামী দিনে বঙ্গভবন থেকে তাঁর সাংবিধানিক ভূমিকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সক্ষমতার ওপরও বিশেষ নজর থাকবে।

-রফিক


সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে ঢাকার ইতিবাচক অবস্থান, গুরুত্ব পাবে জাতীয় স্বার্থ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২১:৫২:৪২
সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে ঢাকার ইতিবাচক অবস্থান, গুরুত্ব পাবে জাতীয় স্বার্থ
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্পাদিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে এ ধরনের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার সুবিধা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করবে ঢাকা। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেন, সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে চলছে। ফলে যেকোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চ বা আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওঠানামাকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

একই সঙ্গে তিনি জানান, স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ ধরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে আরও দৃঢ় হচ্ছে। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুতই সৌদি আরব সফর করবেন বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এই উচ্চপর্যায়ের সফরের মধ্য দিয়ে রিয়াদের সঙ্গে ঢাকার দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


তীব্র গ্যাস সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২০:০১:৩০
তীব্র গ্যাস সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে দেশ
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে চলা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহের জটিলতায় অবশেষে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে নতুন একটি এলএনজিবাহী কার্গো জাহাজ এসে ভিড়েছে। এর ফলে স্থানীয় দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে ‘ফ্লেক্স কারেজেস’ নামের এলএনজিবাহী বিশেষায়িত জাহাজটি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে নোঙর করে। আন্তর্জাতিক খোলাবাজার বা স্পট মার্কেট থেকে সংগৃহীত এলএনজি বোঝাই করে জাহাজটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামেরন বন্দর থেকে বাংলাদেশে এসেছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে টার্মিনালে নতুন আসা এলএনজির সংযোগ সম্পন্ন হলে সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এর মাধ্যমে বিদ্যমান গ্যাস সংকট সাময়িকভাবে অনেকটাই প্রশমিত হবে।

তবে নতুন জাহাজের গ্যাস যুক্ত হওয়ার আগে থেকেই শনিবার দুপুর থেকে টার্মিনালে আগে থেকে জমা থাকা তরল গ্যাস রূপান্তর করে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। যার ফলে দুপুরের পর থেকেই দেশের সার্বিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

একই সময়ে মহেশখালীতে থাকা সামিট গ্রুপের অপর ভাসমান টার্মিনাল থেকেও প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে শনিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সচল ছিল।

আরপিজিসিএলের এলএনজি বিভাগের একজন উপমহাব্যবস্থাপক পদমর্যাদার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে দৈনিক মোট ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহের পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পেতে রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে শনিবার রাতের মধ্যেই এই সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালের বয়লারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই দেশে বড় ধরনের এলএনজি সরবরাহ সংকট তৈরি হয়। দুর্ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর টার্মিনালটি মেরামত করে চালু করা সম্ভব হলেও পরবর্তীতে নতুন এলএনজির অভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়নি। একই সাথে জ্বালানি সংকটের কারণে সামিটের টার্মিনালটিও বন্ধ হয়ে পড়েছিল।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রবিবার থেকে দুটি টার্মিনাল তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করতে শুরু করলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যমান ঘাটতি অনেকটাই মিটে যাবে। দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত গ্যাস রূপান্তর ও সরবরাহের সর্বোচ্চ দৈনিক সক্ষমতা রয়েছে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

/আশিক


অবসান হচ্ছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির: নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ১৯:২৮:২৭
অবসান হচ্ছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির: নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে নতুন মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এই অবকাঠামোগত উদ্যোগের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এই তথ্য অবহিত করেন।

তিনি জানান, ভোলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও বিভাগীয় শহর বরিশালের সরাসরি সড়ক সংযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সভায় তিনটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সার্বিক দিক বিবেচনা শেষে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা) রুটটি চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এই নতুন মহাসড়ক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ভোলা জেলা সরাসরি মূল জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে।

উচ্চপর্যায়ের এই সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রসারে একটি সুসমন্বিত সড়ক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে ভোলাকে দ্রুততম সময়ে জাতীয় মহাসড়ক ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন তিনি।

প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত এই রুটে বিদ্যমান রাস্তাগুলো প্রশস্ত করার পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন সড়ক নির্মাণ করতে হবে এবং একই সাথে তিনটি ছোট সেতু নির্মাণের প্রয়োজন হবে। পুরো প্রকল্পটির কারিগরি সম্ভাব্যতা ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের বাস্তবতা দ্রুত যাচাই করে দেখা হবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকা, বরিশালসহ সারা দেশের সঙ্গে ভোলার সরাসরি স্থল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে দীর্ঘদিনের নদী পারাপারের ঝামেলা দূর হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সময় ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

চারপাশ নদী দিয়ে ঘেরা হওয়ায় ভোলার বাসিন্দাদের যাতায়াতে এতদিন নৌপথের ওপরই পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকতে হতো। নতুন এই সড়ক সংযোগ চালু হলে সেই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও নৌপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নীতিনির্ধারকেরা উল্লেখ করেন, হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটের মূল সুবিধা হলো এর মাধ্যমে সড়কপথে দূরত্ব কমার পাশাপাশি সময় ও সার্বিক ব্যয়ের বড় ধরনের সাশ্রয় হবে। যার ফলে ঢাকা ও বরিশালের সঙ্গে যোগাযোগ সহজতর করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির বড় বিপ্লব: সরকারের নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ১৮:৫৮:৫৪
দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির বড় বিপ্লব: সরকারের নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমকে একটি একক তথ্যপ্রযুক্তি কাঠামোর অধীন নিয়ে আসতে ‘ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুরুতেই নির্দিষ্ট কিছু জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২২ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বাস্থ্যখাতে সমন্বিত তথ্যপ্রযুক্তি রূপরেখা নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। উচ্চপর্যায়ের এই পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই সভাপতিত্ব করেন।

উক্ত বৈঠকে ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের সম্ভাব্য পরিকাঠামো, পরিচালনা প্রক্রিয়া এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবায় এর প্রয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, দেশব্যাপী পুরোপুরি বাস্তবায়নের পূর্বে নির্বাচিত কয়েকটি জেলায় পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করে প্ল্যাটফর্মটির কার্যকারিতা, সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা, আর্থিক ব্যয় এবং সামগ্রিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে নেওয়া হবে।

পাইলট প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও ফলাফলের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ শেষেই পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পরিধি সম্প্রসারণের পথরেখা নির্ধারণ করবে সরকার।

চিকিৎসাসেবায় প্রযুক্তির সময়োপযোগী ব্যবহারের বিষয়ে আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেন, পুরো পরিকাঠামো এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যাতে নাগরিকরা নির্বিঘ্নে এর সুফল লাভ করতে পারেন এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির পথ আরও সহজ হয়।

বিশেষ করে রোগীর যাবতীয় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নথিপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা করে তা নিরাপদভাবে সংরক্ষণ এবং জরুরি মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের জন্য তা সহজলভ্য করার ওপর তিনি বিশেষ তাগিদ দেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই ডিজিটাল কাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে নাগরিকের তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিটি যেন সহজে ব্যবহারযোগ্য, কম ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। সেই সাথে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করেই পরবর্তী চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন।

বৈঠকের শুরুতে প্রকৌশলী জাকারিয়া স্বপন ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের সামগ্রিক রূপরেখা ও কার্যপ্রণালী নিয়ে একটি বিশদ তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও ড. শাকিরুল ইসলাম খান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব মো. মামুনুর রশীদসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


পদত্যাগ করলেন তথ্যমন্ত্রী স্বপন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ১৮:৫৪:৩৪
পদত্যাগ করলেন তথ্যমন্ত্রী স্বপন
ছবি : সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (২২ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করার মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষরিত ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাভ করে। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পর থেকেই এই পদত্যাগ কার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত পৃথক এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর রুল ৩বি(১) ও ৩বি(২)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমমর্যাদা, নির্ধারিত বেতন-ভাতা এবং আনুসঙ্গিক সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হবেন।

/আশিক


সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করল বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ১৮:৪৮:০৭
সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করল বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি দেশীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের মতে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে সরকার।

মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত ৭ আগস্ট সংশ্লিষ্ট তিন দেশ এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি সম্পন্ন করে। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, সদস্যভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র আগ্রাসন চালানো হলে তা বাকি সবকটি দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর ফলে বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় রাষ্ট্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়।

জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে নিজেদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে।

এর পাশাপাশি নিয়মিত কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে কার্যকর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিচ্ছে ঢাকা।

মাসে অনুষ্ঠিত ‘যৌথ প্রতিরক্ষার জন্য মক্কা আল-মুকাররমা শীর্ষ সম্মেলনে’ সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরাসরি উপস্থিতিতে এই সমঝোতা চুক্তি সই হয়।

এই চুক্তির মাধ্যমে অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে সামগ্রিক সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার যৌথ অঙ্গীকারও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরদিন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, কারিগরি দিক বিবেচনায় এই কাঠামোটি ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো হলেও এটি নির্দিষ্টভাবে ইরান বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিপক্ষে পরিচালিত নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিন বন্ধুভাবাপন্ন দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা সুরক্ষাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জোটটিকে আরও সম্প্রসারিত করতে আগ্রহী এবং সেই প্রেক্ষাপটে মিসরকে সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর ইসহাক দার গত ৯ আগস্ট জানান, জোটের মৌলিক নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল যে কোনো রাষ্ট্রের জন্যই মক্কা চুক্তির পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

তিনি নিশ্চিত করেন যে, এটি মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাপনা, যা দেশগুলোর পূর্ববর্তী কোনো দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক চুক্তিকে বাতিল করে না। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, কার্যকর সহযোগিতা এবং শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমস্যা সমাধানে আগ্রহী দেশগুলোর জন্য এটি একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির মূল কাঠামোর সাথে এই পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন এবং একটি নিরাপদ ও উন্নত ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে ইসলামাবাদ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

/আশিক


 মির্জা ফখরুলের জয়ে চীন ও যুক্তরাজ্যের অভিনন্দনবার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ২০:১৪:৪১
 মির্জা ফখরুলের জয়ে চীন ও যুক্তরাজ্যের অভিনন্দনবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকায় চীনা দূতাবাস ও ব্রিটিশ হাইকমিশন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই পৃথক বার্তায় নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানায় দুই দেশের কূটনৈতিক মিশন।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রায় ১৫ মিনিট পর ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর একইভাবে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানায় ব্রিটিশ হাইকমিশন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

ফলাফল ঘোষণার পর চীনা দূতাবাসের অভিনন্দন বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। নতুন যুগে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত চীন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীন এবং দুই দেশের জনগণ আরও বেশি উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

অন্যদিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের বার্তায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশন তাদের বার্তায় আরও জানায়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছে যুক্তরাজ্য।

/আশিক

পাঠকের মতামত: