ইসলাম, জীবন ও বিজ্ঞান

নামাজে রুকু ও সিজদাহ: ধর্মীয় গুরুত্ব ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২৪ ০০:১৯:২২
নামাজে রুকু ও সিজদাহ: ধর্মীয় গুরুত্ব ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

নামাজ কেবল ধর্মীয় কর্তব্যই নয়, এটি একজন মুসলমানের জীবনে শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতার একটি পরিপূর্ণ পদ্ধতি। নামাজের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ—রুকু (নত হয়ে ঝুঁকে দাঁড়ানো) ও সিজদাহ (ভূমিতে ললাট ও নাক স্পর্শ করে সেজদা)—শুধু ইবাদতের অংশ নয়, আধুনিক বিজ্ঞানের আলোয় এগুলোর রয়েছে বিস্ময়কর স্বাস্থ্যগত ও মনস্তাত্ত্বিক উপকারিতা।

ইসলামী দৃষ্টিতে রুকু ও সিজদাহর তাৎপর্য

আল-কুরআনের বহু আয়াতে এবং সহীহ হাদীসসমূহে রুকু ও সিজদাহর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, "হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু করো, সিজদাহ করো এবং তোমার রবের ইবাদত করো" (সূরা হজ: ৭৭)। প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, "সেজদার সময়ই বান্দা তার প্রভুর সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়" (সহীহ মুসলিম)। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, রুকু একজন মুমিনের আত্মবিনয় এবং সিজদাহ আত্মসমর্পণের সর্বোচ্চ প্রকাশ।

ইমাম গাজ্জালী, ইবনে কাইয়্যিম প্রমুখ মনীষীদের মতে, সিজদাহ মানুষের অহংকার ভেঙে তাকে পরিপূর্ণ বিনয়ের শিক্ষায় দীক্ষিত করে। রুকু হল সেই মধ্যবর্তী অবস্থা যেখানে মানুষ নিজেকে নিচু করে বিনম্রভাবে আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়, এবং সিজদাহ হল সেই পরম বিনয়ের অবস্থা, যেখানে সে নিজের ললাট ও নাক আল্লাহর সামনে মাটিতে ঠেকিয়ে দেয়। প্রাচীনকাল থেকেই ইসলামি স্কলাররা রুকু ও সিজদাহর গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, এই অবস্থানগুলো একজন মুমিনের অন্তরে বিনয় ও খোদার প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের চেতনাকে জাগ্রত করে।

শারীরিক উপকারিতা: চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে

১. পেশী ও অস্থিসন্ধির নমনীয়তা ও শক্তিশালীকরণ

রুকু ও সিজদাহ এমন দুটি ভঙ্গি যা মানুষের প্রায় সবধরনের প্রধান পেশী—ঘাড়, পিঠ, হিপ, হাঁটু ও গোড়ালির পেশীকে সক্রিয় রাখে। নিয়মিত রুকু করলে পিঠ ও মেরুদণ্ডের সোজাভাব বজায় থাকে, সিজদাহ হাঁটু ও গোড়ালির নমনীয়তা বৃদ্ধি করে এবং দেহে একধরনের স্বাভাবিক স্ট্রেচিং হয়। বিশেষ করে সিজদার সময় পেটের নিম্নাংশের পেশীগুলো সক্রিয়ভাবে সংকুচিত-প্রসারিত হয়, যা পেটের মেদ কমাতে ও কেন্দ্রীয় শরীরকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই ধরণের ন্যূনতম ব্যায়াম প্রতিদিন ১৭ রাকাতের মাধ্যমে ৩৪ বার করলে তা হাড়, সন্ধি ও পেশীকে সক্রিয় ও স্বাস্থ্যবান রাখে।

২. রক্ত সঞ্চালন ও হরমোনাল ভারসাম্য

সিজদার সময় মস্তিষ্ক হৃদপিণ্ডের নিচে চলে আসে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বাড়ে। এটি অক্সিজেন সরবরাহের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যকারিতা বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ধরনের মাথা নিচু অবস্থান cerebral blood flow বাড়ায়, যা স্মৃতি, মনোযোগ ও বিশ্লেষণক্ষমতা উন্নত করতে কার্যকর। শুধু তাই নয়, সিজদার সময় বাড়তি রক্তপ্রবাহ চোখ ও কানসহ অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে ধারণা করা হয়।

৩. স্নায়ুতন্ত্রে প্রশান্তি ও হৃদপিণ্ডে ভারসাম্য

সিজদা করার সময় শরীর parasympathetic nervous system সক্রিয় করে—যেটি শান্তি, বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের জন্য দায়ী। নামাজের এই অংশে হার্ট রেট ও রক্তচাপ কমে আসে, স্নায়ুব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরে আসে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ব্যক্তিরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, তাদের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল-এর মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

৪. হজমতন্ত্র ও অন্ত্রের কার্যক্রম

সিজদার সময় পেটের উপর সামান্য চাপ পড়ে, যার ফলে হজমতন্ত্রে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং অন্ত্রের গতি নিয়মিত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, পেটের এই হালকা সংকোচন কোষ্ঠকাঠিন্য, অম্বল ও বদহজমের মতো সমস্যা দূর করতে সহায়তা করতে পারে।

মানসিক ও স্নায়ুবৈজ্ঞানিক প্রভাব

১. মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি

সালাত পড়ার সময় কুরআন তিলাওয়াত, প্রার্থনা ও ধারাবাহিক দেহভঙ্গিমা মস্তিষ্ককে প্রশিক্ষিত করে মনোযোগ ধরে রাখার জন্য। বিশেষ করে সিজদাহ ও বৈঠকের সময় মনোযোগ সম্পূর্ণরূপে কেন্দ্রীভূত হয়, যা কার্যত mindfulness মেডিটেশনের মত কাজ করে।

২. উদ্বেগ ও মানসিক চাপ হ্রাস

নামাজ আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের মাধ্যম। সিজদায় একজন মানুষ তার লজ্জা, দুঃখ, কৃতজ্ঞতা ও প্রার্থনা প্রকাশ করে—যা একটি মানসিক ভারমুক্তির অভিজ্ঞতা তৈরি করে। অনেক গবেষণা বলছে, নিয়মিত নামাজ মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে কার্যকর এবং এটি উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও অতিরিক্ত চিন্তা দূর করতে সহায়তা করে।

৩. আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মানসিক শৃঙ্খলা

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্দিষ্ট সময়ে রুকু ও সিজদার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার দৈনন্দিন জীবনকে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ কাঠামোয় আনেন। এতে করে তার আচরণ, আবেগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য তৈরি হয়।

আধুনিক গবেষণায় রুকু-সিজদাহ

ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়া, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়, এবং ইরানের ইসলামি মেডিকেল ইউনিভার্সিটির গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে সালাত একটি পূর্ণাঙ্গ বডি-মাইন্ড ব্যালেন্সিং পদ্ধতি। এতে হৃদপিণ্ড, স্নায়ু, পেশী, হরমোন ও মস্তিষ্ক একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং শরীর-মনকে একটি প্রশান্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যায়।

যোগব্যায়াম ও মেডিটেশনের সঙ্গে তুলনা

সিজদাহ যোগব্যায়ামের “বালাসন” বা “চাইল্ড পোজ”-এর মতো। রুকু অনেকটা “আর্ধ উত্তানাসন”-এর মতো। কিন্তু পার্থক্য হল, নামাজে এই ভঙ্গিমাগুলো আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ ও আধ্যাত্মিক মনোযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যেখানে যোগ বা মেডিটেশনে সাধারণত আত্মনির্ভরতার চর্চা হয়। এই অবস্থানগুলি মস্তিষ্কের সম্মুখপ্রান্ত (প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স) উদ্দীপিত করে এবং শরীর-মনের উপর এক ধরনের গ্রাউন্ডিং বা শান্ত প্রভাব ফেলে। ফলস্বরূপ শরীর থেকে মানসিক টক্সিন বা চাপ দূর হতে সাহায্য করে এবং অস্থিসন্ধির নমনীয়তা বৃদ্ধি, পেশীর দৃঢ়তা অর্জন, উচ্চ রক্তচাপ হ্রাসের পাশাপাশি স্ট্রেস-উদ্বেগ- মাথা ঘোরা ও ক্লান্তি কমাতেও অবদান রাখে। অর্থাৎ সালাতের শারীরিক ব্যায়ামপ্রধান দিকটি যোগব্যায়ামের মতোই দেহকে নমনীয়, দৃঢ় ও সুস্থ রাখতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও নামাজ ও মেডিটেশনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। নামাজে খুশু (পূর্ণ মনোযোগ ও বিনয় সহকারে প্রার্থনা) ধারণাটি mindfulness ধ্যানের অনুরূপ, যেখানে মন একাগ্র হয়ে যায় এবং বাহ্যিক চিন্তা দূরে সরে যায়। নামাজ পড়ার সময় কুরআন তিলাওয়াত ও নিরবচ্ছিন্ন ধ্যানে মগ্ন হওয়া মূলত একজন মুসল্লিকে ধ্যানস্থ অবস্থার মতোই নির্দেশনা ও প্রশান্তি দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, নামাজ আদায়ের সময় মস্তিষ্কে আলফা তরঙ্গের মাত্রা বৃদ্ধি পায় যা সচরাচর গভীর প্রশান্তি ও ধ্যানের সাথে সংশ্লিষ্ট (প্যারাসিম্পেথেটিক সক্রিয়তার ইঙ্গিত)। আসলে, যোগাসন ও মেডিটেশনের যেসব সুফল হাজার বছর ধরে পরিচিত – যেমন শারীরিক ফিটনেস, মানসিক প্রশান্তি ও আত্মিক উন্নতি – সেগুলোর অনেকটাই নামাজের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে সংযোজিত হয়ে যায়। একজন গবেষক তাই প্রস্তাব করেছেন, মুসলিম রোগীদের চিকিৎসায় মানসিক-শারীরিক থেরাপি হিসেবে সালাত ও যোগব্যায়ামের সমন্বয় একটি নবতর দৃষ্টিকোণ হতে পারে। তবে মুসলমানদের জন্য অতিরিক্ত কোন কৌশলের প্রয়োজন নেই – সঠিক নিয়মে নামাজ আদায়ই তাদের জন্য অন্তর্নিহিত ধ্যান ও যোগব্যায়ামের সুবিধা এনে দিতে সক্ষম। একই সঙ্গে শুদ্ধ সালাতে “স্ট্রেস হরমোন” বা উত্তেজক স্নায়ুবিক সক্রিয়তা হ্রাস পায় এবং হৃদযন্ত্রের ধকল কমে – ঠিক যেমনটি সুচিন্তিত মেডিটেশনের মাধ্যমে ঘটে থাকে। ফলে রুকু ও সিজদাহ শুধুই শরীর চর্চা নয়—এটি আত্মার প্রশান্তি ও আত্মিক শুদ্ধির পন্থা।

রুকু ও সিজদাহ নামাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ—যেখানে একদিকে লুকিয়ে আছে আত্মিক পরিশুদ্ধির উৎস, অন্যদিকে রয়েছে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অনন্য উপকারিতা। ইসলামের প্রতিটি নির্দেশনার মধ্যে যে বিজ্ঞান লুকিয়ে রয়েছে, রুকু ও সিজদাহ তার জ্বলন্ত উদাহরণ। আধুনিক গবেষণা এই প্রাচীন ইবাদতের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বিস্ময়কর স্বাস্থ্যসুবিধাকে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করছে। তাই রুকু ও সিজদাহ কেবল ইবাদত নয়—এটি মানুষের জীবনে আত্মশুদ্ধি, স্বাস্থ্য ও মানসিক শান্তির এক অমূল্য উপায়। নামাজের প্রতিটি রুকু ও সিজদাহ যেন হয় আমাদের আত্মশুদ্ধি, স্বাস্থ্য ও সুখের চাবিকাঠি—এটি শুধু আখিরাতের নয়, ইহজাগতিক কল্যাণেরও চাবিকাঠি।

তথ্যসূত্র: উপরের তথ্যাবলী IslamWeb এর প্রবন্ধ, জার্নাল অব অল্টারনেটিভ অ্যান্ড কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন, ইন্ডিয়ান জার্নাল অব সাইকিয়াট্রি, জার্নাল অব পাকিস্তান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং আন্তর্জাতিক যোগ ও ক্রীড়াবিজ্ঞান জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য নেয়া হয়েছে। '


আজ ৪ রমজান: জেনে নিন আজকের ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ০৯:৩৫:৫৬
আজ ৪ রমজান: জেনে নিন আজকের ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের ৫টি রুকনের মধ্যে নামাজ অন্যতম এবং পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য স্তম্ভ। কিয়ামতের দিন বান্দার আমলনামার মধ্যে প্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজের। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরেও ইসলামে ওয়াজিব, সুন্নত ও কিছু নফল নামাজ রয়েছে। শত ব্যস্ততা ও জাগতিক কাজের মাঝেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যিক কর্তব্য। আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ০৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা, ৪ রমজান ১৪৪৭ হিজরি) পবিত্র রমজানের এই দিনে ইবাদতের গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।

রাজধানী ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে।

আসরের নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বিকেল ৪টা ১৭ মিনিট।

মাগরিবের আজান ও ইফতারের সময় হবে ৫টা ৫৯ মিনিটে এবং এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিটে।

এছাড়া আগামীকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টা ১৩ মিনিটে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে। উল্লেখ্য যে, সূর্যের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই সময়ের কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

ঢাকার সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন বিভাগের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা যোগ বা বিয়োগ করতে হবে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ৫ মিনিট এবং সিলেটের জন্য ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে।

অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনার জন্য ৩ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ৭ মিনিট, রংপুরের জন্য ৮ মিনিট এবং বরিশালের জন্য ১ মিনিট সময় যোগ করে নামাজের সঠিক সময় নির্ধারণ করতে হবে। ইসলামের এই মহান স্তম্ভটি যথাযথ সময়ে পালনের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব।

/আশিক


রমজানে রাসুলের ৮ গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১২:৩৩:০৩
রমজানে রাসুলের ৮ গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের দৃষ্টিতে রমজান মাস এক অনন্য মর্যাদাপূর্ণ সময়। এই মাসেই মানবজাতির জন্য পথনির্দেশক হিসেবে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন:

شَهۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡهِ الۡقُرۡاٰنُ هُدًی لِّلنَّاسِ...“রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে, সে যেন রোজা পালন করে।”(আল-কুরআন, সুরা আল-বাকারা: ১৮৫)

এই আয়াত রমজানের তাৎপর্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। রোজা কেবল সংযমের অনুশীলন নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং কুরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের মাস।

রমজানে ইবাদতের বহুগুণ সওয়াব

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রমজানে নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজের সমতুল্য হয়ে যায় এবং একটি ফরজ ইবাদতের প্রতিদান অন্য সময়ের সত্তরটি ফরজের সমান হয়। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন:

“রমজানের একটি রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।”(বায়হাকি)

রমজানের ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল

রমজানের রাতগুলো বিশেষত তারাবি, কিয়ামুল লাইল ও দোয়ার মাধ্যমে বরকতময় হয়ে ওঠে। সহিহ হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে ইবাদতে দাঁড়ায়, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি)

১. কুরআন তিলাওয়াত বৃদ্ধি

রমজান কুরআনের মাস। এ সময় নবীজি (সা.) অধিক হারে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি)

২. দান-সদকা বৃদ্ধি

রমজানে তাঁর দানশীলতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাত। (সহিহ বুখারি)

৩. দ্রুত ইফতার করা

সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা সুন্নত। (সহিহ বুখারি)

৪. ইফতারের দোয়া পাঠ

ذهب الظمأ وابتلت العروق وثبت الأجر إن شاء اللهঅর্থ: তৃষ্ণা দূর হয়েছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ প্রতিদান নিশ্চিত হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ)

৫. সাহরি গ্রহণ

“সাহরি করো, সাহরিতে বরকত রয়েছে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

৬. তারাবি ও রাতের ইবাদত

রাত জেগে ইবাদত গুনাহ মোচনের অন্যতম মাধ্যম। (সহিহ বুখারি)

৭. মিসওয়াক ব্যবহার

প্রতি নামাজে মিসওয়াক করা সুন্নত এবং রোজায় এটি বৈধ। (সহিহ বুখারি)

৮. রোজাদারকে ইফতার করানো

যে রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। (সুনানে তিরমিজি)

রমজান কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা দমনের মাস নয়; এটি চরিত্র গঠন, সামাজিক সহমর্মিতা ও আত্মিক উৎকর্ষ সাধনের সুবর্ণ সুযোগ। এই মাসে কুরআনের আলোয় জীবনকে পুনর্গঠনের আহ্বান জানানো হয়। তাই রমজানকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সময় হিসেবে নয়, বরং আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের মাস হিসেবে গ্রহণ করাই মুসলিম উম্মাহর জন্য সর্বোত্তম পথ।


রমজানের তৃতীয় দিনের ইফতার ও নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ০৯:০৭:৪৯
রমজানের তৃতীয় দিনের ইফতার ও নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসের রহমতের দশক চলছে। আজ শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বঙ্গাব্দ ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ এবং হিজরি ০৩ রমজান ১৪৪৭। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য সময়মতো নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রমজান মাসে ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা থেকে আজকের দিন ও আগামীকালের ফজরের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে।

এরপর আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে।

দিনের শেষভাগে মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিটে, যা ইবাদতকারীদের জন্য অত্যন্ত প্রতীক্ষিত একটি সময়।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এশার নামাজের সময় শুরু হবে ৭টা ১৪ মিনিটে, যার পরপরই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তারাবিহর নামাজ আদায় করবেন। আগামীকাল রোববার ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫টা ১৪ মিনিটে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে বিকেল ৫টা ৫৭ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয়ের সম্ভাব্য সময় ভোর ৬টা ২৮ মিনিট। সঠিক সময়ে ইবাদত সম্পন্ন করতে এই সময়সূচিটি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।

/আশিক


শুক্রবারের পূর্ণ নামাজ সূচি, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ০৯:২৫:৪০
শুক্রবারের পূর্ণ নামাজ সূচি, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। বাংলা সন অনুযায়ী ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জিতে ০২ রমজান ১৪৪৭। পবিত্র রমজানের দ্বিতীয় দিনে রাজধানী ঢাকা ও সংলগ্ন অঞ্চলের মুসল্লিদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে জুমা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি।

আজ জুমার নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে। শুক্রবারের জুমা ইসলামে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ায় মসজিদগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইমামদের খুতবার আগে যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে শুরু হবে আসরের নামাজ। রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য এই সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আসরের পর থেকেই ইফতারের প্রস্তুতি শুরু হয়।

আজ মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৬টা ০০ মিনিটে। এ সময়েই রোজাদাররা ইফতার গ্রহণ করবেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে রোজা ভাঙার নির্দেশনা রয়েছে।

এশার নামাজ শুরু হবে রাত ৭টা ১৪ মিনিটে। রমজান মাস হওয়ায় এশার পর তারাবিহ নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা।

আগামীকাল শনিবার ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে। সেহরির সময় নির্ধারণে মুসল্লিদের এই সময়ের আগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জ্যোতির্বিদ্যা তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ঘটবে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৩১ মিনিটে। এই সময়ের ওপর ভিত্তি করেই নামাজের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এসব সময় প্রণয়ন করা হয়, যা সাধারণত স্থানীয় পর্যবেক্ষণ ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়। মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে, নিজ নিজ এলাকার মসজিদের ঘোষণার সঙ্গে মিলিয়ে সময় নিশ্চিত করে নেওয়ার জন্য।

রমজানের পবিত্র এই মাসে সময়মতো নামাজ আদায় ও ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আলেম সমাজ।

-রাফসান


আজ পবিত্র ১ রমজান: জেনে নিন আজকের ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ০৯:১১:৩৭
আজ পবিত্র ১ রমজান: জেনে নিন আজকের ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ইমানের পর এটিই মুমিনের প্রধান ইবাদত। পরকালে সর্বপ্রথম এই ইবাদতেরই হিসাব নেওয়া হবে। বিশেষ করে রমজান মাসে নামাজের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। আজ বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, অর্থাৎ ১ রমজান ১৪৪৭ হিজরির জন্য ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের একটি সঠিক সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

সময়সূচি অনুযায়ী, আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে।

দিনের শেষে মাগরিবের আজান ও ইফতারের সময় নির্ধারিত হয়েছে ৫টা ৫৬ মিনিটে, যার ঠিক এক মিনিট আগে অর্থাৎ ৫টা ৫৫ মিনিটে সূর্য অস্ত যাবে।

রাতের প্রধান ইবাদত এশার নামাজ শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে। এই রমজানে সিয়াম সাধনার পাশাপাশি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। ব্যস্ততার মাঝেও সঠিক সময়ে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আত্মিক শান্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব।

আগামীকাল শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (২ রমজান)-এর জন্য সেহরি ও ফজরের সময়সূচিও জানানো হয়েছে।

তাহাজ্জুদ ও সেহরির শেষ সময় ভোর ৫টা ১৩ মিনিট নির্ধারিত করা হয়েছে, আর ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ৫টা ১৪ মিনিটে।

সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে এবং দিনের নফল ইবাদত ইশরাক ও চাশতের সময় শুরু হবে যথাক্রমে ৬টা ৪৬ মিনিট ও সকাল ৭টা ০৬ মিনিটে। পবিত্র এই মাসে সময়মতো ইবাদত পালনই মুমিনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

/আশিক


১৮ ফেব্রুয়ারির নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন আপনার এলাকার ওয়াক্ত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ০৯:১৪:০৯
১৮ ফেব্রুয়ারির নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন আপনার এলাকার ওয়াক্ত
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অন্যতম এবং ঈমানের পর এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। পরকালে হাশরের ময়দানে বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব গ্রহণ করা হবে। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ ছাড়াও ইসলামে ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজের বিধান রয়েছে, যা মুমিনের আধ্যাত্মিক উন্নতিতে সহায়ক। পার্থিব জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি ও বাধ্যতামূলক একটি কর্তব্য।

আজ বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি; বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ০৫ ফাল্গুন ১৪৩২ এবং হিজরি ২৮ শাবান ১৪৪৭। রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূচি অনুযায়ী, জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে এবং আসরের নামাজ শুরু হবে বিকেল ৪টা ১৬ মিনিটে।

মাগরিবের সময় নির্ধারিত হয়েছে সন্ধ্যা ৫টা ৫৮ মিনিটে এবং এশার নামাজ আদায় করা যাবে রাত ৭টা ১১ মিনিট থেকে।

আগামীকালের অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের ফজর নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময়ের সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নামাজের সময়ের কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। ঢাকার সময়ের সাথে কিছু জেলায় সময় বিয়োগ করতে হবে, আবার কিছু জেলায় সময় যোগ করতে হবে।

বিয়োগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের জন্য ০৫ মিনিট এবং সিলেটের জন্য ০৬ মিনিট সময় কমিয়ে হিসাব করতে হবে।

অন্যদিকে, সময় যোগ করার ক্ষেত্রে খুলনার জন্য ০৩ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ০৭ মিনিট, রংপুরের জন্য ০৮ মিনিট এবং বরিশালের জন্য ০১ মিনিট বাড়িয়ে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নিজ নিজ এলাকার সঠিক সময় জেনে জামাতের সাথে নামাজ আদায়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


সৌদি আরবে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে: প্রথম রোজা বুধবার

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ২১:২০:০৩
সৌদি আরবে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে: প্রথম রোজা বুধবার
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র মাহে রমজানের আগমনে বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে খুশির জোয়ার বইতে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ায় দেশটিতে শাবান মাস ২৯ দিনে শেষ হচ্ছে। এর ফলে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আগামীকাল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান।

চাঁদ দেখার এই বিশেষ সংবাদটি আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইনসাইড দ্য হারামাইনের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, সৌদি আরবের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এবং স্থানীয় মানমন্দিরগুলো মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আকাশে রমজান মাসের এক ফালি নতুন চাঁদ দেখার বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে। এর ফলে আগামীকাল বুধবার হবে সৌদিতে পবিত্র রমজানের প্রথম দিন। আজ রাত থেকেই দেশটিতে তারাবির নামাজ শুরু হবে এবং আগামীকাল শেষ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা সাহ্‌রি গ্রহণের মাধ্যমে প্রথম রোজা পালন করবেন।

ভৌগোলিক নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত সৌদি আরবের এক দিন পর বাংলাদেশে রোজা শুরু হয়ে থাকে। তবে আজ সৌদিতে চাঁদ দেখা যাওয়ায় মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র এই মাসের আমেজ এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসবে এবং যদি দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়, তবে বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশেও রোজা শুরু হবে। সৌদি আরবের এই চাঁদ দেখার সংবাদের পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোও একে একে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাচ্ছে।

/আশিক


নামাজ ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত সময় জানুন আজ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ০৮:১০:১১
নামাজ ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত সময় জানুন আজ
ছবি: সংগৃহীত

আজ মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ এবং হিজরি সনের হিসেবে ২৮ শাবান ১৪৪৭। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব ও ইসলামিক ফিকহের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসারে।

আজ জোহরের নামাজ শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে। বিকেলের আসরের সময় শুরু হবে ৪টা ১৭ মিনিটে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ আদায়ের সময় নির্ধারিত হয়েছে সন্ধ্যা ৫টা ৫৮ মিনিটে। রাতের এশার নামাজ শুরু হবে ৭টা ১২ মিনিটে।

আগামীকাল বুধবার ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ঘটবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৪ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৩১ মিনিটে।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, শাবান মাসের শেষভাগে সময়ের এই পরিবর্তন রমজান আগমনের পূর্বাভাস বহন করে। ফলে নামাজের সময়সূচি নিয়মিত অনুসরণ এবং সঠিক সময়ে ইবাদত পালনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজধানীবাসীকে নিজ নিজ এলাকার মসজিদের ঘোষিত সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে, কারণ স্থানীয় পর্যায়ে সময়ের সামান্য তারতম্য হতে পারে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


মুসলিমদের জন্য রমজান মাসের সূচনা: চাঁদ দেখার নিয়ম ও তারিখ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৮:৫২:১১
মুসলিমদের জন্য রমজান মাসের সূচনা: চাঁদ দেখার নিয়ম ও তারিখ
ছবি : সংগৃহীত

মক্কা, সৌদি আরব অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন হতে পারে ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি। রমজানের সূচনাটি চাঁদদর্শনের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়, তাই বিভিন্ন দেশে রমজান শুরু হওয়ার তারিখ ভিন্ন হতে পারে। কিছু দেশ চাঁদের অবস্থান গণনা করে সিদ্ধান্ত নিলে, অনেকে স্থানীয় চাঁদদর্শনের ঐতিহ্য অনুসরণ করে ঘোষণা দেয়।

ইসলামী চন্দ্র ক্যালেন্ডারের ভিত্তিতে রমজান মাস শুরু হয়। সৌদি আরবে চাঁদদর্শনের সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়। চাঁদ দেখা হলে রমজান শুরু হয় এবং মুসলিমরা পরবর্তী দিন থেকে রোজা পালন শুরু করেন। যদি চাঁদ দেখা না যায়, তবে শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হলে পরের দিন রমজান শুরু হয়।

চাঁদদর্শনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা হয়

অন্তরাল (Elongation): সূর্য থেকে চাঁদ যথেষ্ট দূরে থাকতে হবে।

উচ্চতা (Altitude): চাঁদ যত বেশি উচ্চতায় থাকবে, তত সহজে দেখা যাবে।

সময় ব্যবধান (Lag time): সূর্যাস্তের পর চাঁদ অস্ত হওয়ার সময় পর্যাপ্ত হতে হবে, সাধারণত ৪৫ মিনিটের বেশি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ

মধ্যপ্রাচ্য: সম্ভবত ১৮ ফেব্রুয়ারি

উত্তর আমেরিকা: ১৮ ফেব্রুয়ারি

ইউরোপ ও তুরস্ক: ১৯ ফেব্রুয়ারি

এশিয়া: ১৯ ফেব্রুয়ারি সম্ভাবনা বেশি

আফ্রিকা ও ওসিওনিয়া: ১৯ ফেব্রুয়ারি

রমজান মাস মুসলিমদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এই মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মুসলিমরা উপবাস পালন করেন এবং খাবার, পানীয়, ধূমপান ও যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেন। এটি আল্লাহর ভীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এবং ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম।

/আশিক

পাঠকের মতামত: