ইসলাম, জীবন ও বিজ্ঞান

নামাজে রুকু ও সিজদাহ: ধর্মীয় গুরুত্ব ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২৪ ০০:১৯:২২
নামাজে রুকু ও সিজদাহ: ধর্মীয় গুরুত্ব ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

নামাজ কেবল ধর্মীয় কর্তব্যই নয়, এটি একজন মুসলমানের জীবনে শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতার একটি পরিপূর্ণ পদ্ধতি। নামাজের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ—রুকু (নত হয়ে ঝুঁকে দাঁড়ানো) ও সিজদাহ (ভূমিতে ললাট ও নাক স্পর্শ করে সেজদা)—শুধু ইবাদতের অংশ নয়, আধুনিক বিজ্ঞানের আলোয় এগুলোর রয়েছে বিস্ময়কর স্বাস্থ্যগত ও মনস্তাত্ত্বিক উপকারিতা।

ইসলামী দৃষ্টিতে রুকু ও সিজদাহর তাৎপর্য

আল-কুরআনের বহু আয়াতে এবং সহীহ হাদীসসমূহে রুকু ও সিজদাহর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, "হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু করো, সিজদাহ করো এবং তোমার রবের ইবাদত করো" (সূরা হজ: ৭৭)। প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, "সেজদার সময়ই বান্দা তার প্রভুর সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়" (সহীহ মুসলিম)। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, রুকু একজন মুমিনের আত্মবিনয় এবং সিজদাহ আত্মসমর্পণের সর্বোচ্চ প্রকাশ।

ইমাম গাজ্জালী, ইবনে কাইয়্যিম প্রমুখ মনীষীদের মতে, সিজদাহ মানুষের অহংকার ভেঙে তাকে পরিপূর্ণ বিনয়ের শিক্ষায় দীক্ষিত করে। রুকু হল সেই মধ্যবর্তী অবস্থা যেখানে মানুষ নিজেকে নিচু করে বিনম্রভাবে আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়, এবং সিজদাহ হল সেই পরম বিনয়ের অবস্থা, যেখানে সে নিজের ললাট ও নাক আল্লাহর সামনে মাটিতে ঠেকিয়ে দেয়। প্রাচীনকাল থেকেই ইসলামি স্কলাররা রুকু ও সিজদাহর গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, এই অবস্থানগুলো একজন মুমিনের অন্তরে বিনয় ও খোদার প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের চেতনাকে জাগ্রত করে।

শারীরিক উপকারিতা: চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে

১. পেশী ও অস্থিসন্ধির নমনীয়তা ও শক্তিশালীকরণ

রুকু ও সিজদাহ এমন দুটি ভঙ্গি যা মানুষের প্রায় সবধরনের প্রধান পেশী—ঘাড়, পিঠ, হিপ, হাঁটু ও গোড়ালির পেশীকে সক্রিয় রাখে। নিয়মিত রুকু করলে পিঠ ও মেরুদণ্ডের সোজাভাব বজায় থাকে, সিজদাহ হাঁটু ও গোড়ালির নমনীয়তা বৃদ্ধি করে এবং দেহে একধরনের স্বাভাবিক স্ট্রেচিং হয়। বিশেষ করে সিজদার সময় পেটের নিম্নাংশের পেশীগুলো সক্রিয়ভাবে সংকুচিত-প্রসারিত হয়, যা পেটের মেদ কমাতে ও কেন্দ্রীয় শরীরকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই ধরণের ন্যূনতম ব্যায়াম প্রতিদিন ১৭ রাকাতের মাধ্যমে ৩৪ বার করলে তা হাড়, সন্ধি ও পেশীকে সক্রিয় ও স্বাস্থ্যবান রাখে।

২. রক্ত সঞ্চালন ও হরমোনাল ভারসাম্য

সিজদার সময় মস্তিষ্ক হৃদপিণ্ডের নিচে চলে আসে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বাড়ে। এটি অক্সিজেন সরবরাহের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যকারিতা বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ধরনের মাথা নিচু অবস্থান cerebral blood flow বাড়ায়, যা স্মৃতি, মনোযোগ ও বিশ্লেষণক্ষমতা উন্নত করতে কার্যকর। শুধু তাই নয়, সিজদার সময় বাড়তি রক্তপ্রবাহ চোখ ও কানসহ অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে ধারণা করা হয়।

৩. স্নায়ুতন্ত্রে প্রশান্তি ও হৃদপিণ্ডে ভারসাম্য

সিজদা করার সময় শরীর parasympathetic nervous system সক্রিয় করে—যেটি শান্তি, বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের জন্য দায়ী। নামাজের এই অংশে হার্ট রেট ও রক্তচাপ কমে আসে, স্নায়ুব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরে আসে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ব্যক্তিরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, তাদের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল-এর মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

৪. হজমতন্ত্র ও অন্ত্রের কার্যক্রম

সিজদার সময় পেটের উপর সামান্য চাপ পড়ে, যার ফলে হজমতন্ত্রে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং অন্ত্রের গতি নিয়মিত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, পেটের এই হালকা সংকোচন কোষ্ঠকাঠিন্য, অম্বল ও বদহজমের মতো সমস্যা দূর করতে সহায়তা করতে পারে।

মানসিক ও স্নায়ুবৈজ্ঞানিক প্রভাব

১. মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি

সালাত পড়ার সময় কুরআন তিলাওয়াত, প্রার্থনা ও ধারাবাহিক দেহভঙ্গিমা মস্তিষ্ককে প্রশিক্ষিত করে মনোযোগ ধরে রাখার জন্য। বিশেষ করে সিজদাহ ও বৈঠকের সময় মনোযোগ সম্পূর্ণরূপে কেন্দ্রীভূত হয়, যা কার্যত mindfulness মেডিটেশনের মত কাজ করে।

২. উদ্বেগ ও মানসিক চাপ হ্রাস

নামাজ আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের মাধ্যম। সিজদায় একজন মানুষ তার লজ্জা, দুঃখ, কৃতজ্ঞতা ও প্রার্থনা প্রকাশ করে—যা একটি মানসিক ভারমুক্তির অভিজ্ঞতা তৈরি করে। অনেক গবেষণা বলছে, নিয়মিত নামাজ মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে কার্যকর এবং এটি উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও অতিরিক্ত চিন্তা দূর করতে সহায়তা করে।

৩. আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মানসিক শৃঙ্খলা

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্দিষ্ট সময়ে রুকু ও সিজদার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার দৈনন্দিন জীবনকে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ কাঠামোয় আনেন। এতে করে তার আচরণ, আবেগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য তৈরি হয়।

আধুনিক গবেষণায় রুকু-সিজদাহ

ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়া, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়, এবং ইরানের ইসলামি মেডিকেল ইউনিভার্সিটির গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে সালাত একটি পূর্ণাঙ্গ বডি-মাইন্ড ব্যালেন্সিং পদ্ধতি। এতে হৃদপিণ্ড, স্নায়ু, পেশী, হরমোন ও মস্তিষ্ক একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং শরীর-মনকে একটি প্রশান্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যায়।

যোগব্যায়াম ও মেডিটেশনের সঙ্গে তুলনা

সিজদাহ যোগব্যায়ামের “বালাসন” বা “চাইল্ড পোজ”-এর মতো। রুকু অনেকটা “আর্ধ উত্তানাসন”-এর মতো। কিন্তু পার্থক্য হল, নামাজে এই ভঙ্গিমাগুলো আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ ও আধ্যাত্মিক মনোযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যেখানে যোগ বা মেডিটেশনে সাধারণত আত্মনির্ভরতার চর্চা হয়। এই অবস্থানগুলি মস্তিষ্কের সম্মুখপ্রান্ত (প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স) উদ্দীপিত করে এবং শরীর-মনের উপর এক ধরনের গ্রাউন্ডিং বা শান্ত প্রভাব ফেলে। ফলস্বরূপ শরীর থেকে মানসিক টক্সিন বা চাপ দূর হতে সাহায্য করে এবং অস্থিসন্ধির নমনীয়তা বৃদ্ধি, পেশীর দৃঢ়তা অর্জন, উচ্চ রক্তচাপ হ্রাসের পাশাপাশি স্ট্রেস-উদ্বেগ- মাথা ঘোরা ও ক্লান্তি কমাতেও অবদান রাখে। অর্থাৎ সালাতের শারীরিক ব্যায়ামপ্রধান দিকটি যোগব্যায়ামের মতোই দেহকে নমনীয়, দৃঢ় ও সুস্থ রাখতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও নামাজ ও মেডিটেশনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। নামাজে খুশু (পূর্ণ মনোযোগ ও বিনয় সহকারে প্রার্থনা) ধারণাটি mindfulness ধ্যানের অনুরূপ, যেখানে মন একাগ্র হয়ে যায় এবং বাহ্যিক চিন্তা দূরে সরে যায়। নামাজ পড়ার সময় কুরআন তিলাওয়াত ও নিরবচ্ছিন্ন ধ্যানে মগ্ন হওয়া মূলত একজন মুসল্লিকে ধ্যানস্থ অবস্থার মতোই নির্দেশনা ও প্রশান্তি দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, নামাজ আদায়ের সময় মস্তিষ্কে আলফা তরঙ্গের মাত্রা বৃদ্ধি পায় যা সচরাচর গভীর প্রশান্তি ও ধ্যানের সাথে সংশ্লিষ্ট (প্যারাসিম্পেথেটিক সক্রিয়তার ইঙ্গিত)। আসলে, যোগাসন ও মেডিটেশনের যেসব সুফল হাজার বছর ধরে পরিচিত – যেমন শারীরিক ফিটনেস, মানসিক প্রশান্তি ও আত্মিক উন্নতি – সেগুলোর অনেকটাই নামাজের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে সংযোজিত হয়ে যায়। একজন গবেষক তাই প্রস্তাব করেছেন, মুসলিম রোগীদের চিকিৎসায় মানসিক-শারীরিক থেরাপি হিসেবে সালাত ও যোগব্যায়ামের সমন্বয় একটি নবতর দৃষ্টিকোণ হতে পারে। তবে মুসলমানদের জন্য অতিরিক্ত কোন কৌশলের প্রয়োজন নেই – সঠিক নিয়মে নামাজ আদায়ই তাদের জন্য অন্তর্নিহিত ধ্যান ও যোগব্যায়ামের সুবিধা এনে দিতে সক্ষম। একই সঙ্গে শুদ্ধ সালাতে “স্ট্রেস হরমোন” বা উত্তেজক স্নায়ুবিক সক্রিয়তা হ্রাস পায় এবং হৃদযন্ত্রের ধকল কমে – ঠিক যেমনটি সুচিন্তিত মেডিটেশনের মাধ্যমে ঘটে থাকে। ফলে রুকু ও সিজদাহ শুধুই শরীর চর্চা নয়—এটি আত্মার প্রশান্তি ও আত্মিক শুদ্ধির পন্থা।

রুকু ও সিজদাহ নামাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ—যেখানে একদিকে লুকিয়ে আছে আত্মিক পরিশুদ্ধির উৎস, অন্যদিকে রয়েছে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অনন্য উপকারিতা। ইসলামের প্রতিটি নির্দেশনার মধ্যে যে বিজ্ঞান লুকিয়ে রয়েছে, রুকু ও সিজদাহ তার জ্বলন্ত উদাহরণ। আধুনিক গবেষণা এই প্রাচীন ইবাদতের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বিস্ময়কর স্বাস্থ্যসুবিধাকে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করছে। তাই রুকু ও সিজদাহ কেবল ইবাদত নয়—এটি মানুষের জীবনে আত্মশুদ্ধি, স্বাস্থ্য ও মানসিক শান্তির এক অমূল্য উপায়। নামাজের প্রতিটি রুকু ও সিজদাহ যেন হয় আমাদের আত্মশুদ্ধি, স্বাস্থ্য ও সুখের চাবিকাঠি—এটি শুধু আখিরাতের নয়, ইহজাগতিক কল্যাণেরও চাবিকাঠি।

তথ্যসূত্র: উপরের তথ্যাবলী IslamWeb এর প্রবন্ধ, জার্নাল অব অল্টারনেটিভ অ্যান্ড কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন, ইন্ডিয়ান জার্নাল অব সাইকিয়াট্রি, জার্নাল অব পাকিস্তান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং আন্তর্জাতিক যোগ ও ক্রীড়াবিজ্ঞান জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য নেয়া হয়েছে। '


আজ ০৮ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ০৯:৪৫:২৭
আজ ০৮ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম এবং ইমান বা বিশ্বাসের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। পরকালে প্রথম হিসাব নেওয়া হবে এই নামাজেরই। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য। আজ বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ (১৮ রজব ১৪৪৭ হিজরি) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য নামাজের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,

আজ ঢাকার জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২:০৭ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকাল ৩:৪৮ মিনিটে। মাগরিবের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা ৫:২৯ মিনিটে এবং এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৬:৪৬ মিনিটে। এছাড়া আগামীকাল শুক্রবারের ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫:২৩ মিনিটে।

তবে ভৌগোলিক অবস্থানভেদে দেশের বিভিন্ন বিভাগে এই সময়ের কিছুটা তারতম্য রয়েছে। চট্টগ্রামের মুসল্লিদের ঢাকার সময়ের চেয়ে ৫ মিনিট এবং সিলেটের মুসল্লিদের ৬ মিনিট বিয়োগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে। অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনায় ৩ মিনিট, বরিশালে ১ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট এবং রংপুরে ৮ মিনিট যোগ করে ওয়াক্ত নির্ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করে পরকালের পাথেয় সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে।


আজ ০৭ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ০৯:৪৩:৫৮
আজ ০৭ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে নামাজ দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজের মাধ্যমেই একজন মুমিন তার আনুগত্যের পরিচয় দেয়। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেবেন। তাই শত ব্যস্ততা থাকলেও সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬), ১৭ রজব ১৪৪৭ হিজরি।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ

জোহর: ১২.০৭ টা

আসর: ৩.৪৮ টা

মাগরিব: ৫.২৯ টা

এশা: ৬.৪৬ টা

ফজর (আগামীকাল বৃহস্পতিবার): ৫.২৩ টা

ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের ৫ মিনিট এবং সিলেটের বাসিন্দাদের ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, খুলনার ক্ষেত্রে ৩ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ৭ মিনিট, রংপুরের জন্য ৮ মিনিট এবং বরিশালের জন্য ১ মিনিট সময় যোগ করতে হবে। তীব্র শীতের এই সময়ে ওজু ও নামাজের মাধ্যমে আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পাওয়াই হোক মুমিনের লক্ষ্য।


সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠের বিস্ময়কর ফজিলত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৯:১৪:২৪
সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠের বিস্ময়কর ফজিলত
ছবি: সংগৃহীত

কোরআনুল কারিমে এমন কিছু আয়াত রয়েছে, যা ঈমানি বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত। আয়াতুল কুরসী তেমনই একটি আয়াত, যা আল্লাহ তায়ালার একত্ব, চিরঞ্জীবতা, জ্ঞান ও সার্বভৌম ক্ষমতাকে এক আয়াতেই সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এই আয়াতটি সূরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত এবং ইসলামের আলোকে এটি কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে স্বীকৃত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই আয়াতুল কুরসীকে কোরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সাহাবায়ে কেরামের মাধ্যমে বর্ণিত সহীহ হাদীসগুলোতে এই আয়াতের ফজিলত, নিরাপত্তা ও আত্মিক শক্তির দিকগুলো বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।

ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী: জান্নাতের প্রতিশ্রুতি

হযরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে একমাত্র বাধা হবে মৃত্যু। অর্থাৎ, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তার জন্য জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

এই হাদীস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর নিয়মিত আয়াতুল কুরসী পাঠ করা মুমিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৈনিক আমল। এটি কেবল ইবাদতের অংশ নয়, বরং জান্নাত লাভের একটি সুসংবাদও বটে।

ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসী: শয়তান থেকে অলৌকিক সুরক্ষা

সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর ঘটনাটি আয়াতুল কুরসীর ফজিলতের এক অনন্য প্রমাণ। রমজান মাসে সাদাকাতুল ফিতরের খাদ্য পাহারা দেওয়ার সময় তিনি তিন রাত ধরে এক রহস্যময় আগন্তুকের মুখোমুখি হন। শেষ রাতে সেই আগন্তুক তাকে জানায়, ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা সকাল পর্যন্ত একজন রক্ষাকর্তা নিযুক্ত করেন এবং শয়তান আর কাছে আসতে পারে না।

পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিশ্চিত করেন যে, ওই আগন্তুক ছিল এক শয়তান, যে মিথ্যাবাদী হলেও এই বিষয়ে সত্য কথা বলেছে। এটি প্রমাণ করে, আয়াতুল কুরসীর শক্তি এমন যে শয়তানও তা অস্বীকার করতে পারেনি।

সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী: জিনের স্বীকারোক্তি

আরেকটি সহীহ বর্ণনায় দেখা যায়, হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রা.)-এর খাদ্য ভাণ্ডার থেকে নিয়মিত খেজুর কমে যাচ্ছিল। পাহারা দিতে গিয়ে তিনি এক জিনের মুখোমুখি হন, যে স্বীকার করে নেয়—সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে জিন ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে।

এই ঘটনার সত্যতা রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই নিশ্চিত করেছেন। ফলে আয়াতুল কুরসীর মাধ্যমে সকাল-সন্ধ্যায় আত্মরক্ষার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।

আয়াতুল কুরসীর মূল শিক্ষা: তাওহীদের পরিপূর্ণ ঘোষণা

আয়াতুল কুরসীর প্রতিটি বাক্য আল্লাহর পরিচয়কে সুসংহতভাবে তুলে ধরে। এতে বলা হয়েছে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী, তাঁর ওপর কোনো তন্দ্রা বা ঘুম আসে না। আসমান ও জমিনের সবকিছু তাঁর অধীন, তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারে না।

এই আয়াতে আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতার এমন বিস্তৃত বর্ণনা রয়েছে, যা মানুষের ঈমানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দেয়।

মুফাসসিরদের দৃষ্টিতে আয়াতুল কুরসী

ইমাম কুরতুবি (রহ.) আয়াতুল কুরসীকে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, এই আয়াত আল্লাহর জীবন, জ্ঞান ও কুদরতের পূর্ণতার ঘোষণা।

ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন, এই আয়াতে উল্লেখিত ‘কুরসি’ আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছে, যা আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রতীক। ইবনুল কাইয়িম (রহ.) উল্লেখ করেন, আয়াতুল কুরসী তাওহীদের সর্বাধিক সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং এটি পাঠ করলে ঈমান দৃঢ় হয় ও অন্তর আল্লাহমুখী হয়।

কেন আয়াতুল কুরসী মুমিন জীবনে অপরিহার্য

আয়াতুল কুরসী কেবল একটি তিলাওয়াতযোগ্য আয়াত নয়, বরং এটি মুমিনের জন্য হেফাজতের ঢাল, আত্মিক প্রশান্তির উৎস এবং ঈমানের শক্ত ভিত্তি। নিয়মিত পাঠের মাধ্যমে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায় এবং হৃদয়ে আল্লাহর স্মরণ জাগ্রত থাকে।

কখন ও কীভাবে আয়াতুল কুরসী পড়া উচিত

ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি ফরজ নামাজের পর, ঘুমানোর আগে এবং সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। সন্তানদেরও ছোটবেলা থেকেই এই আয়াত শেখানো উচিত, যাতে তারা আল্লাহর হেফাজতে বড় হতে পারে।

আয়াতুল কুরসী কোরআনের এমন একটি আয়াত, যেখানে আল্লাহর পরিচয়, ক্ষমতা ও করুণার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে। কোরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে প্রমাণিত, এই আয়াত নিয়মিত পাঠ করলে ঈমান দৃঢ় হয়, শয়তান দূরে থাকে এবং জান্নাতের সুসংবাদ নিশ্চিত হয়।

অতএব, প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য হলো আয়াতুল কুরসীকে দৈনন্দিন জীবনের স্থায়ী অযীফা হিসেবে গ্রহণ করা এবং উপলব্ধিসহ পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করা।

সূত্রঃ মাসিক আল কাউসার


আখেরি যামানার ভয়াবহ বার্তা: দাব্বাতুল আরদের আগমন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৮:৫৯:৫৮
আখেরি যামানার ভয়াবহ বার্তা: দাব্বাতুল আরদের আগমন
ছবি: সংগৃহীত

কিয়ামতের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, ততই একের পর এক ভয়াবহ আলামত মানবজাতির সামনে প্রকাশ পেতে থাকবে। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এসব আলামতের মধ্যে কিছু হবে ছোট পরিসরের এবং কিছু হবে বৃহৎ ও চূড়ান্ত পর্যায়ের। শেষ যুগের বড় আলামতগুলোর অন্যতম হলো দাব্বাতুল আরদ নামক এক অদ্ভুত প্রাণীর আবির্ভাব, যা মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে এবং মুমিন ও কাফেরকে আলাদা করে চিহ্নিত করবে।

ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, দাব্বাতুল আরদের আবির্ভাব ঘটবে এমন এক সময়ে, যখন তাওবার দরজা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয়ের ঘটনার পর মানুষ আর ঈমান গ্রহণ বা তাওবা করার সুযোগ পাবে না। এই বাস্তবতাকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করার জন্যই আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী থেকে এই প্রাণীকে বের করবেন বলে সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

পবিত্র কুরআনে দাব্বাতুল আরদের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা নামলের ৮২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন, যখন কিয়ামতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময় আসবে, তখন ভূমি থেকে এমন এক প্রাণী বের করা হবে, যে মানুষের সঙ্গে কথা বলবে এবং তাদের জানিয়ে দেবে যে তারা আল্লাহর নিদর্শনে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেনি। আলেমদের মতে, এই আয়াত ভবিষ্যতে সংঘটিত একটি বাস্তব ঘটনাকেই নির্দেশ করে।

বিশিষ্ট মুফাসসির ইবনে কাছীর (রহ.) তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেন, শেষ যুগে মানুষ যখন প্রকাশ্যে পাপাচারে লিপ্ত হবে, আল্লাহর আদেশ অমান্য করবে এবং দ্বীনের মৌলিক কাঠামো বিকৃত করার চেষ্টা করবে, তখন আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে এই প্রাণীকে প্রকাশ করবেন। এটি হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অলৌকিক নিদর্শন।

সহীহ মুসলিমে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের দশটি বড় আলামতের কথা উল্লেখ করেন। সেখানে ধোঁয়া, দাজ্জাল, ঈসা ইবনে মারইয়ামের অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাবের সঙ্গে দাব্বাতুল আরদের কথাও সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায়, এই প্রাণীর আবির্ভাব কিয়ামতের একেবারে শেষ পর্যায়ের ঘটনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

হাদীস অনুযায়ী, দাব্বাতুল আরদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে মানুষকে চিহ্নিত করা। মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, এই প্রাণীর সঙ্গে থাকবে মূসা (আ.)-এর লাঠি এবং সুলাইমান (আ.)-এর আংটি। সে মুমিনদের চেহারা উজ্জ্বল করে দেবে এবং কাফেরদের নাকে বা কপালে বিশেষ চিহ্ন এঁকে দেবে, যাতে মানুষ পরস্পরকে দেখেই চিনে ফেলতে পারে কে মুমিন আর কে কাফের।

আরেকটি হাদীসে এসেছে, দাব্বাতুল আরদের চিহ্ন এতটাই স্পষ্ট হবে যে দৈনন্দিন লেনদেনের মধ্যেও মানুষ তা উল্লেখ করবে। এমনকি কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, কোনো পশু বা সম্পদ কার কাছ থেকে কেনা হয়েছে, উত্তরে বলা হবে—নাকে চিহ্নধারী একজন ব্যক্তির কাছ থেকে। এতে বোঝা যায়, ওই সময় মানুষের সামাজিক জীবনেও এই আলামতের প্রভাব সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে।

দাব্বাতুল আরদের প্রকৃতি কেমন হবে, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে নানা মত থাকলেও সহীহ দলিলভিত্তিক কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনা নেই। কেউ কেউ সালেহ (আ.)-এর উটনীর বাছুরের কথা উল্লেখ করেছেন, কেউ দাজ্জালের হাদীসে বর্ণিত জাস্সাসার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও মুফাসসির এসব মতকে দুর্বল বলেছেন, কারণ এগুলোর পক্ষে সহীহ সনদে প্রমাণ পাওয়া যায় না।

প্রখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ আহমাদ শাকের বলেন, কুরআন যেহেতু স্পষ্টভাবে একে দাব্বাতুল আরদ বলে উল্লেখ করেছে, তাই এর প্রকৃতি নিয়ে অতিরিক্ত কল্পনা বা ব্যাখ্যায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কুরআন ও সহীহ হাদীসে যা বলা হয়েছে, তা বিশ্বাস করাই ঈমানের দাবি।

এই প্রাণী কোথা থেকে বের হবে এ বিষয়েও বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, সাফা পাহাড় ফেটে দাব্বাতুল আরদ বের হবে। অন্য কিছু বর্ণনায় বলা হয়েছে, প্রথমে এটি দূরবর্তী স্থান থেকে বের হবে, পরে কিছু সময় লুকিয়ে থাকবে এবং শেষপর্যায়ে কাবা শরিফের আশপাশ থেকে প্রকাশ পাবে। আলেমদের সমন্বিত মত হলো, এর আবির্ভাব হবে মক্কা শরিফ থেকেই।

দাব্বাতুল আরদের মূল উদ্দেশ্য হবে মানুষের সামনে চূড়ান্ত সত্য উন্মোচন করা। এটি মানুষকে জানিয়ে দেবে যে আল্লাহর নিদর্শন অস্বীকার করার সময় শেষ হয়ে গেছে। ঈমান ও কুফরের পার্থক্য তখন আর গোপন থাকবে না, বরং প্রকাশ্যভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, দাব্বাতুল আরদ নিয়ে আলোচনার আসল শিক্ষা হলো ভয় সৃষ্টি নয়, বরং সতর্কতা। যতদিন তাওবার দরজা খোলা রয়েছে, ততদিনই মানুষের উচিত আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, ঈমান দৃঢ় করা এবং আমলের মাধ্যমে নিজের জীবন সংশোধন করা।

কিয়ামতের বড় আলামতগুলোর আলোচনা মুসলমানদের জন্য একটি আত্মসমালোচনার সুযোগ তৈরি করে। কারণ এসব আলামত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই পৃথিবী চিরস্থায়ী নয় এবং মানুষের প্রতিটি কাজের হিসাব একদিন আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা হবে।

সূত্রঃ হাদিসবিডি


আজ ০৬ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ০৯:২২:২১
আজ ০৬ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে নামাজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ইমানের পর এর স্থান সবার উপরে। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ২২ পৌষ ১৪৩২ বাংলা, ১৬ রজব ১৪৪৭ হিজরি)—এই পবিত্র দিনে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)

জোহর- ১২.০৭ টা

আসর: ৩টা ৪৮ মিনিট

মাগরিব: ৫টা ২৯ মিনিট

এশা: ৬টা ৪৬ মিনিট

ফজর (আগামীকাল বুধবার, ৭ জানুয়ারি): ৫টা ২৩ মিনিট

ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিভাগের সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের পার্থক্যে নামাজের সময়ও ভিন্ন হয়। নিচে বিভাগীয় সময় পরিবর্তনের তালিকা দেওয়া হলো।

বিভাগীয় সময় সমন্বয় ঢাকার সময়ের সঙ্গে যে সময়গুলো বিয়োগ করতে হবে:

চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট

সিলেট: ০৬ মিনিট

ঢাকার সময়ের সঙ্গে যে সময়গুলো যোগ করতে হবে:

খুলনা: ০৩ মিনিট

রাজশাহী: ০৭ মিনিট

রংপুর: ০৮ মিনিট

বরিশাল: ০১ মিনিট

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, নামাজের প্রথম হিসাব নেওয়ার মাধ্যমেই বান্দার পরবর্তী আমলগুলোর বিচার শুরু হবে। তাই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নামাজের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়া এবং জামাতের সাথে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করা জরুরি। বিশেষ করে ১৬ রজবের এই বরকতময় দিনে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই হোক প্রতিটি মুমিনের লক্ষ্য।


আজ ০৫ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ০৯:২৮:৪৭
আজ ০৫ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি রুকন বা স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অন্যতম প্রধান ইবাদত। মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনে এবং পরকালীন হিসাবের ময়দানে সফল হতে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। আজ সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ (২১ পৌষ ১৪৩২ বাংলা এবং ১৫ রজব ১৪৪৭ হিজরি)। আজকের দিনে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসলামিক বিধিবিধান অনুযায়ী, ইমানের পর নামাজই হচ্ছে ইসলামের সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ। কিয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। তাই কর্মব্যস্ততার মাঝেও সময়মতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যিক। ঢাকার সময়সূচি অনুযায়ী আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২.০৭ মিনিটে, আসর বিকেল ৩.৪৮ মিনিটে, মাগরিব সন্ধ্যা ৫.২৯ মিনিটে এবং এশার নামাজ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬.৪৬ মিনিটে। এছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫.২৩ মিনিটে।

ঢাকার সময়ের সঙ্গে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের বাসিন্দাদের ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনার বাসিন্দাদের ৩ মিনিট, রাজশাহীর ৭ মিনিট, রংপুরের ৮ মিনিট এবং বরিশালের বাসিন্দাদের ১ মিনিট যোগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নফল ও সুন্নত নামাজ রয়েছে। তবে যে কোনো পরিস্থিতিতেই নির্ধারিত ওয়াক্তের মধ্যে ফরজ নামাজ সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন আলেম সমাজ। বর্তমান শীতকালীন আবহাওয়ায় কুয়াশার কারণে ভোরের ফজরের জামাতের সময় স্থানীয় মসজিদের সূচি অনুযায়ী কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে, যা মুসল্লিদের নিজ নিজ এলাকায় যাচাই করে নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


আজ ০৪ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ০৯:২১:৪৩
আজ ০৪ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

আজ রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ২০ পৌষ ১৪৩২ এবং হিজরি ১৪ রজব ১৪৪৭। পবিত্র রজব মাসের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার (বসুন্ধরা, ঢাকা) আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। শীতকালীন এই সময়ে সময়ের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে নামাজের ওয়াক্তগুলো জেনে নেওয়া প্রতিটি মুমিনের জন্য জরুরি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৭ মিনিটে। আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৩টা ৪৮ মিনিটে। দিনের শেষে সূর্যাস্তের সাথে সাথে মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৮ মিনিটে এবং এশার জামাত বা ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে। আগামীকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৬ মিনিটে।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের তথ্য অনুযায়ী আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৪ মিনিটে। আগামীকাল ৫ জানুয়ারি সোমবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে। উল্লেখ্য যে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নামাজের সময় ঢাকা থেকে ১ থেকে ৭ মিনিট পর্যন্ত কম বা বেশি হতে পারে। তাই ঢাকার বাইরের মুসল্লিদের স্থানীয় সময় অনুযায়ী সমন্বয় করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সঠিক সময়ে সালাত আদায় করা ইমানি দায়িত্ব, তাই এই সময়সূচিটি আপনার দৈনন্দিন পরিকল্পনায় সহায়ক হবে।


আল্লাহ পশু-পাখিকে কী দিয়ে সৃষ্টি করেছেন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ০৭:১২:৫২
আল্লাহ পশু-পাখিকে কী দিয়ে সৃষ্টি করেছেন
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ যেমন আল্লাহ তায়ালার বিশেষ সৃষ্টি, তেমনি পশু ও পাখিও তাঁরই সৃষ্টিকর্মের অংশ। কিন্ত কখনও ভেবেছেন পশু পাখিকে আল্লাহ কি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন? পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা সেটা উল্লেখ করেছেন।

পবিত্র কোরআনুল কারিম-এ আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন যে, তিনি সকল জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। সূরা আন-নূরের ৪৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, প্রতিটি প্রাণীর সৃষ্টির মূল উপাদান হলো পানি। এই আয়াত মানবজাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জীবন ও পানির মধ্যে গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।

কোরআনের এই বক্তব্য আধুনিক বিজ্ঞানেও প্রতিফলিত হয়েছে। জীববিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা যায়, প্রাণীদের শরীরের বড় একটি অংশই পানি দিয়ে গঠিত। রক্ত সঞ্চালন, হজম, কোষের কার্যক্রম সবকিছুর জন্যই পানি অপরিহার্য। ফলে কোরআনের এই ঘোষণা শুধু আধ্যাত্মিক নয়, বৈজ্ঞানিক সত্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আল্লাহ তায়ালা পশু-পাখিকে বিভিন্ন আকৃতি, স্বভাব ও ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। কেউ চলে স্থলে, কেউ উড়ে আকাশে, আবার কেউ বাস করে পানিতে। এই বৈচিত্র্য মানুষের জন্য চিন্তা ও গবেষণার এক উন্মুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করে, যাতে মানুষ সৃষ্টিকর্তার মহিমা উপলব্ধি করতে পারে।

ইসলামি শিক্ষায় পশু-পাখির প্রতি দয়া ও দায়িত্ববোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তারা আল্লাহর সৃষ্টি, তাই তাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বা অবহেলা ইসলামে সমর্থিত নয়। কোরআন ও হাদিসে বারবার মানুষের ওপর অর্পিত হয়েছে সৃষ্টিজগতের প্রতি ভারসাম্য ও ন্যায়বিচার রক্ষার দায়িত্ব।

এই আয়াত মানুষকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় জীবনের উৎস যখন পানি, তখন পরিবেশ ও পানিসম্পদ রক্ষা করা ধর্মীয় দায়িত্বের অংশ। পানির অপচয়, দূষণ কিংবা প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করা শুধু মানবজাতির জন্যই নয়, সমগ্র প্রাণিজগতের জন্য ক্ষতিকর।

সব মিলিয়ে, সূরা আন-নূরের এই আয়াত মানুষের সামনে আল্লাহর সৃষ্টির বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে। মানুষ, পশু, পাখি সবাই একই সৃষ্টিকর্তার অধীন এবং একই প্রাকৃতিক নিয়মের অংশ। এই উপলব্ধি মানুষকে বিনয়ী করে, দায়িত্বশীল করে এবং সৃষ্টিজগতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।


জান্নাতে সব থাকলেও যেসব জিনিস নাই

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১২:০৫:৪৯
জান্নাতে সব থাকলেও যেসব জিনিস নাই
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী জান্নাত হলো আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুত চিরস্থায়ী শান্তি ও সুখের আবাস। দুনিয়ার জীবনে যারা ঈমানের সঙ্গে নেক আমল করেন, ধৈর্য ধারণ করেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানান তাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত পুরস্কার। কোরআন ও সহিহ হাদিসে জান্নাতের সৌন্দর্য, প্রশান্তি ও নিয়ামতের বিস্তারিত বর্ণনার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে দুনিয়ার কষ্টকর ও নেতিবাচক বিষয়গুলোর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।

জান্নাতে দুঃখ, শোক ও মানসিক অশান্তি নেই

কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, জান্নাতবাসীদের জন্য কোনো ভয় বা দুঃখ থাকবে না। সেখানে কান্না, হতাশা কিংবা মানসিক অস্থিরতার অবসান ঘটবে। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, জান্নাতিরা সেখানে কোনো ক্লান্তি বা কষ্ট অনুভব করবেন না (সূরা আল-বাকারা: ৬২; সূরা আল-হিজর: ৪৮)। ইসলামি ব্যাখ্যাকারদের মতে, এটি জান্নাতের পরিপূর্ণ মানসিক শান্তিরই প্রতিফলন।

মৃত্যু নেই, জীবন চিরস্থায়ী

জান্নাতে মৃত্যুর কোনো ধারণা নেই। জান্নাতিরা চিরকাল সেখানে অবস্থান করবেন। কোরআনে বলা হয়েছে, তারা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকবে (সূরা আল-বাইয়্যিনা: ৮)। সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, জান্নাতে এক ঘোষক ঘোষণা করবেন “হে জান্নাতবাসীরা, তোমরা চিরকাল জীবিত থাকবে, আর কখনো মরবে না” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৭)।

রোগ-ব্যাধি ও বার্ধক্যের অবসান

ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী জান্নাতে কোনো রোগ, ব্যথা বা শারীরিক দুর্বলতা থাকবে না। জান্নাতিরা কখনো অসুস্থ হবে না, বৃদ্ধও হবে না। তারা সর্বদা তরুণ ও সুস্থ থাকবে এমন তথ্য এসেছে হাদিসে (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৫৪৫)।

অপবিত্রতা ও দুর্গন্ধের অনুপস্থিতি

জান্নাত হবে সম্পূর্ণ পবিত্র এক জগৎ। সেখানে মল-মূত্র, ঘাম বা কোনো অপবিত্র বর্জ্য থাকবে না। হাদিসে বলা হয়েছে, জান্নাতিরা যা খাবে, তা শরীর থেকে সুগন্ধি হিসেবে নির্গত হবে (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৫)। ফলে জান্নাতের পরিবেশ হবে পরিচ্ছন্ন ও মনোরম।

হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতার অবসান

কোরআনে আল্লাহ তাআলা জানাচ্ছেন, জান্নাতিদের অন্তর থেকে সব বিদ্বেষ দূর করে দেওয়া হবে এবং তারা ভাইয়ের মতো পরস্পরের মুখোমুখি বসবাস করবে (সূরা আল-হিজর: ৪৭)। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, জান্নাতবাসীদের অন্তর হবে এক ব্যক্তির অন্তরের মতো তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ বা হিংসা থাকবে না (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৪৬)।

ক্লান্তি ও পরিশ্রমহীন জীবন

দুনিয়ার জীবনের পরিশ্রম, কাজের চাপ ও ক্লান্তির কোনো কিছুই জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, জান্নাতবাসীরা সেখানে কোনো ক্লান্তি অনুভব করবেন না (সূরা ফাতির: ৩৫)। ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, এটি জান্নাতের আরামদায়ক ও পরিপূর্ণ জীবনের প্রতীক।

অভাব ও অপূর্ণতার অস্তিত্ব নেই

জান্নাতে কোনো চাহিদা অপূর্ণ থাকবে না। আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জান্নাতিরা যা চাইবে, তাই পাবে; বরং তাঁর কাছে রয়েছে আরও বেশি (সূরা কাফ: ৩৫)। হাদিসে এসেছে, জান্নাতবাসীরা যা চাইবে, তা সঙ্গে সঙ্গেই দেওয়া হবে (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৫০১)।

অশ্লীলতা ও অসৌজন্যহীন পরিবেশ

কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, জান্নাতে কোনো অশ্লীল বা মন্দ কথা শোনা যাবে না; সেখানে থাকবে কেবল শান্তির বাক্য (সূরা মারিয়াম: ৬২)। ইসলামি ব্যাখ্যায় এটিকে জান্নাতের নৈতিক ও ভাষাগত পবিত্রতার নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়।

শয়তান ও পাপের প্রলোভন নেই

জান্নাতে শয়তানের প্রবেশাধিকার নেই। কোরআনে বলা হয়েছে, শয়তান জান্নাতবাসীদের কাছে পৌঁছাতে পারবে না (সূরা আল-হিজর: ৪২)। ফলে সেখানে পাপের আহ্বান বা বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ থাকবে না।

চরম আবহাওয়ার কষ্ট নেই

জান্নাতে গরম বা ঠান্ডার কোনো অস্বস্তি থাকবে না। কোরআনে জানানো হয়েছে, জান্নাতবাসীরা ছায়ার নিচে থাকবে এবং তাদের জন্য ফলমূল ও পানীয় প্রস্তুত থাকবে (সূরা আল-মুরসালাত: ৪১–৪৩)।

কোরআন ও সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, জান্নাত এমন এক পরিপূর্ণ জগৎ যেখানে দুঃখ, মৃত্যু, রোগ, বিদ্বেষ ও অভাবের কোনো স্থান নেই। হাদিসে এসেছে, জান্নাতে এমন সব নিয়ামত রয়েছে, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয় কল্পনাও করতে পারেনি (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৪৪)। ইসলামের দৃষ্টিতে জান্নাত আল্লাহ তাআলার রহমত ও ন্যায়বিচারের সর্বোচ্চ প্রতিফলন।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত