ইহুদি জাতি: ইতিহাসের অভিশপ্ত অধ্যায়

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ১৯ ১৯:০০:৪১
ইহুদি জাতি: ইতিহাসের অভিশপ্ত অধ্যায়

আল্লাহর নবী হজরত ইসহাক (আ.)-এর পুত্র হজরত ইয়াকুব (আ.) ছিলেন একজন সম্মানিত নবী, যিনি “ইসরাইল” নামেও পরিচিত ছিলেন। এই “ইসরাইল” নাম থেকেই তার বংশধররা পরিচিত হয় বনি ইসরাইল নামে, যা পরবর্তীতে ইহুদি জাতিতে রূপ নেয়। ইতিহাস ও ধর্মীয় সূত্র অনুযায়ী, বনি ইসরাইল এমন এক জাতি যারা আল্লাহর নেয়ামতপ্রাপ্ত হয়েও বারবার তার অবাধ্যতা করেছে। তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত নবীদের অমান্য করেছে, অনেক নবীকে হত্যা করেছে, এবং বারবার সীমালঙ্ঘন করেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাইলদের ব্যাপারে বারবার সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন এবং তাদের ওপর গজব, লাঞ্ছনা ও অপমান আরোপ করেছেন। সূরা আরাফের ১৬৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত তিনি এমন কিছু শক্তিকে তাদের ওপর চাপিয়ে দেবেন যারা তাদের উপর কঠোর শাস্তি দেবে। সূরা বাকারা, সূরা আল ইমরান ও সূরা মায়েদার বিভিন্ন আয়াতে বনি ইসরাইলদের অপরাধ, কাফের মনোভাব ও অন্যায় আচরণের জন্য শাস্তির বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনের এসব আয়াত শুধু ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্য এক সতর্ক বার্তা। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বনি ইসরাইল বারবার ধ্বংস ও লাঞ্ছনার সম্মুখীন হয়েছে। ফেরআউন শাইশাক যখন মিসর থেকে জেরুসালেম দখল করে নেয়, তখন ইহুদিদের বিতাড়িত করা হয়। পরবর্তীতে ব্যাবিলনের রাজা বখতে নসর ইহুদিদের বন্দি করে নিয়ে যায় এবং তাদের দাসে পরিণত করে। জেরুসালেম বারবার ধ্বংসের সম্মুখীন হয়, এবং ইহুদি জাতি পরিচিত হয়ে ওঠে এক বিতাড়িত, লাঞ্ছিত ও শাস্তিপ্রাপ্ত জাতি হিসেবে। ৬৬ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট তাইতুস জেরুসালেম আক্রমণ করে ইহুদিদের ব্যাপকহারে হত্যা করেন এবং শহরটি ধ্বংস করেন। ৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান বাহিনী হাজার হাজার ইহুদিকে দাস বানিয়ে রোমে নিয়ে যায়। এভাবে তাদের উপর ধারাবাহিকভাবে একের পর এক বিপর্যয় নেমে এসেছে।

ইতিহাসের আরেক ভয়াবহ অধ্যায় ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের নেতৃত্বে সংঘটিত ইহুদি গণহত্যা। আনুমানিক ৬০ লক্ষ ইহুদিকে ‘হলোকস্ট’ নামক পরিকল্পিত গণহত্যায় হত্যা করা হয়, যার একটি বড় অংশ গ্যাস চেম্বার, কনসেনট্রেশন ক্যাম্প ও নাৎসি বাহিনীর নির্যাতনে নিহত হয়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, হিটলার ইহুদিদের ঘৃণা করতেন কারণ তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের জন্য ইহুদিদের দায়ী মনে করতেন। তবে কিছু ইতিহাসবিদ ও গবেষকের মতে, এই ঘৃণার পেছনে ছিল আরও গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তাদের দাবি, ইহুদি নেতারা ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে হিটলারের সঙ্গে এক গোপন চুক্তি করেন। উদ্দেশ্য ছিল, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ইহুদিদের মধ্যে এমন ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করা, যাতে তারা স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করে ফিলিস্তিনে চলে যেতে বাধ্য হয়।

এই তথাকথিত গোপন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৪,৫০,০০০ ইহুদির মধ্যে মাত্র ৭,০০০ জনকে ইসরাইল পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় এবং অবশিষ্টদের হত্যার নীলনকশা করা হয়। গ্যাস চেম্বারে গণহত্যা মূলত একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয় যাতে বিশ্বব্যাপী ইহুদিদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এমনকি হাইফা বন্দরে ইহুদি বোঝাই এক জাহাজ পৌঁছানোর পরও যাত্রীরা জাহাজ থেকে নামতে রাজি না হওয়ায়, তাদের নেতা ডেভিড বেন গুরিওন নিজেই সেই জাহাজে বোমা মেরে সাগরে ডুবিয়ে দেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব তথ্য ঐতিহাসিকভাবে বিতর্কিত, তবে এতে বোঝা যায় ইসরাইল রাষ্ট্রের পেছনে শুধু নিপীড়ন নয়, বরং সুপরিকল্পিত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পদক্ষেপও কাজ করেছে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের ইঙ্গিত পাওয়া যায় হাদিসে। নবী করিম (সা.) হাদিসে বলেছেন, কিয়ামতের পূর্বে মুসলিমরা ইহুদিদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে। সে যুদ্ধে ইহুদিরা পাথর ও গাছের পেছনে লুকিয়ে পড়বে। তখন গাছ ও পাথর বলবে, “হে মুসলিম, হে আল্লাহর বান্দা! এ তো একজন ইহুদি, এসো তাকে হত্যা করো।” (সহিহ মুসলিম)। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, ভবিষ্যতে এক চূড়ান্ত যুদ্ধ হবে, যা আল্লাহর গজবের একটি দৃশ্যমান বাস্তবায়ন হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে সেই যুদ্ধ কখন সংঘটিত হবে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।

আজকের বাস্তবতায় দেখা যায়, সেই ইহুদি জাতি যারা এক সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত, বিতাড়িত ও গজবগ্রস্ত ছিল তারা এখন মধ্যপ্রাচ্যে একটি শক্তিশালী, অস্ত্র-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করেছে, যা পারমাণবিক শক্তিধর এবং পশ্চিমা পরাশক্তির মিত্র। তারা ফিলিস্তিনের মুসলিম জনগণকে দীর্ঘদিন ধরে দমন, দখল ও গণহত্যার মাধ্যমে জর্জরিত করে রেখেছে। এই বাস্তবতা অনেকের মনে প্রশ্ন তোলে কোরআনের গজব কি এখনও চলছে, নাকি তার চূড়ান্ত রূপ দেখা বাকি?

মুসলমানদের জন্য এখানে শিক্ষা নেওয়ার বিষয় হলো, আল্লাহর গজব কখন, কীভাবে এবং কোন রূপে নেমে আসে, তা সবসময় মানুষের দৃষ্টিতে দৃশ্যমান হয় না। কিন্তু আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অটল এবং চূড়ান্ত ন্যায়বিচার অনিবার্য। আমাদের করণীয় হলো ঈমানের ওপর অটল থাকা, সত্যের পক্ষে থাকা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। এই দুঃসময় আমাদের জন্য ধৈর্যের পরীক্ষা। আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে যেন তিনি আমাদের ধৈর্য দান করেন, নেতৃত্ব দান করেন এবং সহসাই বিজয় ও মুক্তির চূড়ান্ত সূর্য উদিত করেন।


৮ জুলাইয়ের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১০:৫৮:৪৩
৮ জুলাইয়ের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

আজ বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬। বাংলা তারিখ ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ এবং হিজরি ২২ মহররম ১৪৪৮। প্রতিদিনের মতো আজও মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সময় এবং বিভাগীয় শহরগুলোর জন্য সময়ের পার্থক্যও জানানো হয়েছে।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী, ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে। এরপর জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে। বিকেলে আসরের নামাজের সময় শুরু হবে ৪টা ৪৩ মিনিটে। মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিটে, আর এশার নামাজ শুরু হবে রাত ৮টা ১৯ মিনিটে।

এদিকে আজ ঢাকায় সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত ঘটবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৩টা ৫২ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বিভাগীয় শহরগুলোর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময়ের সঙ্গে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। সে অনুযায়ী চট্টগ্রামের জন্য ৫ মিনিট এবং সিলেটের জন্য ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে।

অন্যদিকে খুলনায় ৩ মিনিট, বরিশালে ১ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট এবং রংপুরে ৮ মিনিট যোগ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

ইসলামিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নামাজের ওয়াক্ত যথাসময়ে আদায় করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তাই প্রতিদিন হালনাগাদ সময়সূচি অনুসরণ করলে ওয়াক্ত সম্পর্কে বিভ্রান্তির সুযোগ থাকে না এবং নির্ধারিত সময়েই ইবাদত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন


মঙ্গলবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১০:২৫:৩৩
মঙ্গলবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই প্রতিদিনের নামাজের সময়সূচি জেনে রাখা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য প্রয়োজনীয়। আজ মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ (২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২১ মহররম ১৪৪৮ হিজরি) উপলক্ষে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

আজকের সূচি অনুযায়ী, জোহরের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৭ মিনিটে। এরপর আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে। দিনের শেষভাগে মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৪ মিনিটে, আর এশার সময় শুরু হবে রাত ৮টা ১৯ মিনিটে।

আগামী দিনের প্রস্তুতির জন্যও ফজরের সময় উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) ফজরের সময় শুরু হবে ভোর ৩টা ৫৩ মিনিটে। এছাড়া আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, নামাজ নির্ধারিত ওয়াক্তে আদায় করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তাই সময়সূচি অনুযায়ী ইবাদতের প্রস্তুতি নেওয়া এবং মসজিদে জামাতে অংশ নেওয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নামাজের সময় কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই নিজ নিজ এলাকার নির্ভরযোগ্য সময়সূচি অনুসরণ করা উত্তম।

সূত্র: ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


সহিহ হাদিসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত হওয়ার ১২ আমল

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১২:১৪:৩৩
সহিহ হাদিসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত হওয়ার ১২ আমল
ছবি : সংগৃহীত

মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা হলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাতে প্রবেশের সৌভাগ্য লাভ করা। পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসে এমন বহু আমলের কথা এসেছে, যেগুলো একজন মুসলিমকে জান্নাতের পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। কিছু আমল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ বিশেষ সুসংবাদ দিয়েছেন যে আমলের কারণে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে, জান্নাতের নির্দিষ্ট দরজা দিয়ে আহ্বান করা হবে অথবা জান্নাতে বিশেষ মর্যাদা লাভের আশা করা যায়।

১. পরিপূর্ণভাবে অজু করে শাহাদাত পাঠ

সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু সম্পন্ন করে এরপর শাহাদাতের দোয়া পাঠ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেন। সে ইচ্ছামতো যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করার সম্মান লাভ করবে।

২. আল্লাহর পথে আন্তরিক দান

সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে এসেছে, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে উদারভাবে দান করেন, কিয়ামতের দিন তাদের জান্নাতের বিভিন্ন দরজা থেকে আহ্বান করা হবে। ইসলামে দান শুধু সম্পদ ব্যয়ের বিষয় নয়; এটি ঈমান, তাকওয়া ও আত্মত্যাগেরও প্রতীক।

৩. নারীদের জন্য বিশেষ সুসংবাদ

রাসূল ﷺ বলেছেন, যে নারী নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন, রমজানের রোজা রাখেন, নিজের পবিত্রতা রক্ষা করেন এবং স্বামীর বৈধ বিষয়ে আনুগত্য করেন, তাকে জান্নাতের যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।

৪. রমজানের রোজা

সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জান্নাতে ‘রাইয়্যান’ নামে একটি বিশেষ দরজা রয়েছে। কিয়ামতের দিন এই দরজা দিয়ে কেবল রোজাদারদেরই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। অন্য কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।

৫. আল্লাহর পথে সংগ্রাম

সহিহ বুখারির বর্ণনায় রাসূল ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তাঁর পথে সংগ্রামকারীদের জন্য জান্নাতে একশত উচ্চ মর্যাদার স্তর প্রস্তুত করে রেখেছেন। আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বৈধ ও শরিয়তসম্মত সংগ্রামের মর্যাদা নির্দেশ করে।

৬. ফরজ ইবাদতের প্রতি অবিচল থাকা

এক সাহাবি যখন জানতে চাইলেন তিনি যদি ফরজ সালাত আদায় করেন, রমজানের রোজা রাখেন এবং হালাল-হারাম মেনে চলেন, তাহলে কি জান্নাতে প্রবেশ করবেন? তখন রাসূল ﷺ সংক্ষেপে উত্তর দেন, "হ্যাঁ।" এটি ফরজ বিধান পালনের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

৭. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণ

সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন। ইসলামে এটি একটি চলমান সদকার (সাদাকায়ে জারিয়া) অন্যতম উত্তম উদাহরণ।

৮. এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ

রাসূল ﷺ নিজের তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল পাশাপাশি রেখে বলেছেন, জান্নাতে তিনি এবং এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি এতটাই নিকটবর্তী অবস্থানে থাকবেন। এতিমদের দেখাশোনা ও লালন-পালনের গুরুত্ব ইসলামে অত্যন্ত বেশি।

৯. উত্তম চরিত্র

ইসলামের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো সুন্দর চরিত্র। রাসূল ﷺ জানিয়েছেন, যিনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী, তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে একটি ঘরের জামিন তিনি নিজেই।

১০. তাওহীদের ওপর জীবন শেষ করা

রাসূল ﷺ বলেছেন, যার জীবনের শেষ কথা হবে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ", সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, এটি এমন ব্যক্তির জন্য, যিনি ঈমানের ওপর অবিচল থেকে জীবন অতিবাহিত করেন।

১১. জান্নাতের জন্য নিয়মিত দোয়া

সুনান তিরমিজির বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি তিনবার আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করে, জান্নাত নিজেই আল্লাহর কাছে তার জন্য জান্নাত কামনা করে। এটি দোয়ার গুরুত্ব এবং আল্লাহর রহমতের প্রতি আশা রাখার শিক্ষা দেয়।

১২. ফজর ও আসরের সালাতের বিশেষ মর্যাদা

রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ফজর ও আসরের সালাত আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এই দুই সালাতকে হাদিসে "বারদাইন" বা দুই শীতল সময়ের সালাত বলা হয়েছে।

ইসলামের মূল শিক্ষা কী?

আলেমদের মতে, কোনো একটি আমলকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং ঈমান, ইখলাস, ফরজ বিধান পালন, হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ধারাবাহিক নেক আমলের সমন্বয়ই একজন মুমিনকে জান্নাতের পথে এগিয়ে নেয়। তাই এসব হাদিস একজন মুসলিমকে নেক আমলে উৎসাহিত করে এবং আল্লাহর রহমতের প্রতি আশাবাদী হতে শেখায়।

তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনান আবু দাউদ, সুনান আত-তিরমিজি, মুসনাদ আহমাদ।


৬ জুলাইয়ের নামাজের সময় প্রকাশ, জেনে নিন এখনই

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ০৯:৪৫:২৩
৬ জুলাইয়ের নামাজের সময় প্রকাশ, জেনে নিন এখনই
ছবি : সংগৃহীত

আজ সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬)। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জিতে ২০ মহররম ১৪৪৮। প্রতিদিনের মতো আজও মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের জন্য সময়ের প্রয়োজনীয় যোগ-বিয়োগও উল্লেখ করা হয়েছে।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী, ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে। এরপর জোহরের নামাজ দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে, আসরের নামাজ বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে, মাগরিবের নামাজ সন্ধ্যা ৬টা ৫৪ মিনিটে এবং ইশার নামাজ রাত ৮টা ২০ মিনিটে আদায় করা হবে।

আজ সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৬ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের এই সময়ের ভিত্তিতেই নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) ফজরের নামাজের সময় ভোর ৩টা ৫০ মিনিট এবং সূর্যোদয় সকাল ৫টা ১৬ মিনিটে হবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

তবে দেশের সব অঞ্চলে একই সময় প্রযোজ্য নয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিভাগভেদে নামাজের সময়ে সামান্য পার্থক্য দেখা যায়। চট্টগ্রামে ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটে ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনায় ৩ মিনিট, বরিশালে ১ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট এবং রংপুরে ৮ মিনিট যোগ করে স্থানীয় সময় অনুযায়ী নামাজ আদায় করতে হবে।

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।


আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় জেনে নিন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ১০:১৫:২৪
আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় জেনে নিন
ছবি : সংগৃহীত

আজ শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬)। বাংলা তারিখ ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ এবং হিজরি ১৮ মহররম ১৪৪৮। প্রতিদিনের ইবাদত যথাসময়ে আদায়ের সুবিধার্থে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সময় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের সময়ের পার্থক্যও জানানো হয়েছে, যাতে মুসল্লিরা নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী নামাজ আদায় করতে পারেন।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৪৯ মিনিটে। এরপর জোহরের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৪ মিনিটে, আর ইশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা ২০ মিনিটে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হয়েছে সকাল ৫টা ১৫ মিনিটে। আগামীকাল রোববার (৫ জুলাই) ফজরের সময় অপরিবর্তিত থেকে ভোর ৩টা ৪৯ মিনিটে শুরু হবে এবং সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৬ মিনিটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ঢাকা সময়ের সঙ্গে অন্যান্য বিভাগীয় শহরের নামাজের সময়ের কিছু পার্থক্য রয়েছে। সে অনুযায়ী চট্টগ্রামে ৫ মিনিট এবং সিলেটে ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনায় ৩ মিনিট, বরিশালে ১ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট এবং রংপুরে ৮ মিনিট সময় যোগ করে স্থানীয় নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।

-রফিক


জীর্ণ ও ছেঁড়া আল-কোরআন অপসারণের শরিয়তসম্মত বিধান: অবমাননা রোধে কী করণীয়?

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৩ ২১:৫৭:৩২
জীর্ণ ও ছেঁড়া আল-কোরআন অপসারণের শরিয়তসম্মত বিধান: অবমাননা রোধে কী করণীয়?

আল-কোরআন মহান আল্লাহ তাআলার চিরন্তন ও অলৌকিক কালাম। এর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন এবং এর পবিত্রতা রক্ষা করা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ঈমানী দায়িত্ব। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ওয়াকিয়াহ-এর ৭৭ থেকে ৭৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা এই কিতাবের উচ্চ মর্যাদা ঘোষণা করে বলেছেন, এটি এক সম্মানিত কোরআন, যা সুরক্ষিত কিতাবে লিপিবদ্ধ এবং পবিত্রগণ ব্যতীত কেউ তা স্পর্শ করে না। তবে দীর্ঘদিনের ব্যবহার, বার্ধক্য কিংবা অসাবধানতার কারণে অনেক সময় কোরআনের পাতা বা পুরো কপি ছিঁড়ে কিংবা জীর্ণ হয়ে পড়ার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অবমাননার হাত থেকে রক্ষা করতে শরিয়তসম্মত উপায়ে তা অপসারণের সুনির্দিষ্ট ও মর্যাদাপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে ইসলামে।

শরিয়ত বিশেষজ্ঞদের মতে, জীর্ণ কোরআনের অংশবিশেষ যেখানে-সেখানে ফেলে রাখলে তা পায়ে মাড়ানো বা ময়লা-আবর্জনার সংস্পর্শে আসার তীব্র ঝুঁকি থাকে, যা মারাত্মক গুনাহ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কুফরির শামিল। তাই যখন কোনো মুসহাফ বা কোরআনের অনুলিপি আর পাঠযোগ্য থাকে না, তখন তাকে সসম্মানে বিদায় দেওয়ার ফিকহী নীতিমালা রয়েছে। ইসলামী আইনবিদ তথা ফকীহগণ প্রধানত দুটি পদ্ধতিকে এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

সর্বোত্তম পদ্ধতি: মাটিতে সসম্মানে দাফন করা

হানাফী, শাফেঈ ও হাম্বলী মাযহাবের অধিকাংশ ইমামের মতে, জীর্ণ কোরআন অবমাননা থেকে বাঁচানোর সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম উপায় হলো মাটিতে দাফন করা। হানাফী মাযহাবের চূড়ান্ত প্রামাণ্য গ্রন্থ ‘ফাতাওয়া শামী’ (রদ্দুল মুহতার)-এ ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) স্পষ্টভাবে লিখেছেন, কোরআন মাজীদ যখন পুরোনো হয়ে যায় এবং তা পড়ার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে, তখন তা কোনো ময়লা বা ক্ষতিকর স্থানে ফেলার চেয়ে দাফন করা উত্তম। একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে মুসলিমের লাশের মতো করে তা সসম্মানে দাফন করতে হবে।

অনুরূপভাবে হাম্বলী মাযহাবের বিখ্যাত ফকীহ ইমাম ইবনে মুফলিহ তাঁর ‘আল-ফুরু’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.) জীর্ণ কোরআনের পাতা মাটিতে দাফন করাকেই সর্বোত্তম মনে করতেন। এক্ষেত্রে শরিয়তের শর্ত হলো, গর্তটি বেশ গভীর হতে হবে যেন বৃষ্টির পানিতে ওপরের মাটি সরে না যায় কিংবা কোনো হিংস্র পশু তা বের করতে না পারে। স্থান হিসেবে জনমানবহীন নির্জন জায়গা, মসজিদের আঙিনা বা কবরস্থানের মতো পবিত্র স্থান নির্বাচন করা উচিত।

বিশেষ পরিস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা

যদি কোনো কারণে দাফন করার মতো নিরাপদ স্থান খুঁজে পাওয়া না যায়, তবে অবমাননা রোধের উদ্দেশ্যে সতর্কতার সাথে পুড়িয়ে ফেলা শরিয়তে সম্পূর্ণ জায়েজ। ইসলামের ইতিহাসে এর শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে যখন পবিত্র কোরআনের প্রামাণ্য অনুলিপি তৈরি করা হয়, তখন উপভাষা ও উচ্চারণগত বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি সাহাবিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে (ইজমা) পূর্বের অন্যান্য অনুলিপিগুলো পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা সহীহ বুখারীর ৪৯৮৭ নম্বর হাদিসে প্রমাণিত।

বিখ্যাত কোরআন গবেষক আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) তাঁর ‘আল-ইতকান ফী উলূমিল কোরআন’ গ্রন্থে লিখেছেন, হযরত উসমান (রা.) যেহেতু পুড়িয়েছিলেন, তাই অবমাননা রোধে এটি সম্পূর্ণরূপে জায়েজ এবং এতে কোনো গুনাহ নেই। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-ও তাঁর ফতোয়াগ্রন্থে খলিফা উসমানের এই কাজকে সমর্থন করে একে কোরআনের সুরক্ষার অন্যতম উপায় বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হলো, পাতাগুলো যেন সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং পোড়ানোর পর সেই ছাই বাতাসে উড়িয়ে না দিয়ে মাটিতে পুঁতে দিতে হবে বা বড় কোনো নদী-সমুদ্রে বিসর্জন দিতে হবে।

আধুনিক যুগের প্রযুক্তি: কাগজ কুচি ও রিসাইকেলিং

বর্তমান শিল্পোন্নত ও যান্ত্রিক যুগে আধুনিক ফতোয়া বোর্ডগুলো (যেমন সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ফতোয়া বোর্ড ‘আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ’) জানিয়েছে, জীর্ণ কোরআনের পাতা যদি এমন আধুনিক মেশিনে (Cross-cut Shredder) কাটা হয় যা হরফ ও শব্দকে সম্পূর্ণ মিহি বা গুঁড়ো করে ফেলে এবং কোনো একক অক্ষরের অস্তিত্ব রাখে না, তবে তা জায়েজ (ফতোয়া নং ৪১৩৮)। তবে ফিতার মতো লম্বা করে কাটা সাধারণ অফিস শ্রেডার ব্যবহার করা নিষিদ্ধ, কারণ তাতে আল্লাহর নাম বা আয়াত অক্ষত থাকার ঝুঁকি থাকে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ একাডেমি-র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ বর্জ্যের সাথে মিলিয়ে কোরআনের কেমিক্যাল রিসাইকেলিং করা হারাম হলেও, যদি কোনো বিশেষায়িত কারখানা কেবল কোরআনের কাগজ আলাদা করে, সম্পূর্ণ পবিত্র প্রক্রিয়ায় নতুন মণ্ড তৈরি করে পুনরায় কোরআন বা ধর্মীয় কিতাব ছাপে, তবে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ ও প্রশংসনীয়।

যেসব প্রচলিত পদ্ধতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

অনেকে না বুঝে জীর্ণ কোরআনের পাতা সরাসরি নদী বা জলাশয়ে ভাসিয়ে দেন। ফকীহগণের মতে এটি অনিরাপদ পদ্ধতি। কারণ পানিতে ভাসমান হালকা পাতাগুলো স্রোতের টানে তীরে এসে আবর্জনার স্তূপে জমতে পারে বা নালায় আটকে যেতে পারে। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) তাঁর ফতোয়ায় লিখেছেন, সরাসরি পানিতে ফেলার চেয়ে যদি কোনো ভারী পাথরের সাথে কাপড় দিয়ে শক্ত করে বেঁধে পানির গভীর তলদেশে ডুবিয়ে দেওয়া হয় যাতে তা স্থায়ীভাবে থিতু হয়, তবে তা কিছুটা গ্রহণযোগ্য; অন্যথায় মাটিতে দাফন বা পুড়িয়ে ফেলাই একমাত্র নিরাপদ পথ। এছাড়া সাধারণ ডাস্টবিনে বা গৃহস্থালির বর্জ্যের সাথে কোরআনের আয়াতযুক্ত কোনো কাগজ ফেলা সম্পূর্ণ হারাম। ইমাম নওয়াবী (রহ.) তাঁর ‘আল-তিবয়ান’ গ্রন্থে এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সামষ্টিক উদ্যোগের আহ্বান

কোরআনের মর্যাদা রক্ষা করা শুধু ব্যক্তির নয়, সমাজেরও সম্মিলিত দায়িত্ব। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় প্রতিটি অঞ্চলের বড় বড় মসজিদ, মাদরাসা বা সরকারি উদ্যোগে ‘কোরআন কালেকশন বক্স’ বা বুথ স্থাপন করা সময়ের দাবি। সাধারণ মানুষ তাদের ঘরের ছেঁড়া পৃষ্ঠা বা পুরোনো কোরআন সেখানে জমা দিলে পরবর্তীতে ওলামাদের তত্ত্বাবধানে সমষ্টিগতভাবে তা গভীর মাটিতে দাফন বা শরিয়াহসম্মত উপায়ে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এর ফলে অসচেতনতাবশত আল্লাহর কালামের অবমাননা ও গুনাহের হাত থেকে উম্মাহ রক্ষা পাবে।


আজ শুক্রবারের নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৩ ০৯:৩৭:১১
আজ শুক্রবারের নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন
ছবি : সংগৃহীত

আজ শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬)। বাংলা তারিখ ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ এবং হিজরি ১৭ মহররম ১৪৪৮। মুসল্লিদের ইবাদত-বন্দেগি সঠিক সময়ে আদায়ে সহায়তার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ এই সময়সূচি অনুসরণ করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত যথাসময়ে আদায় করতে পারবেন।

আজ ঢাকায় ফজরের সময় ভোর ৩টা ৪৯ মিনিট, জোহরের সময় দুপুর ১২টা ০৬ মিনিট, আসরের সময় বিকেল ৪টা ৪২ মিনিট, মাগরিবের সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫৪ মিনিট এবং ইশার সময় রাত ৮টা ২০ মিনিট। এছাড়া আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হয়েছে সকাল ৫টা ১৫ মিনিটে।

আগামীকাল শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) ঢাকায় ফজরের সময় থাকবে ভোর ৩টা ৪৯ মিনিট এবং সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৫ মিনিটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ঢাকার সময়সূচিকে ভিত্তি ধরে অন্যান্য বিভাগীয় শহরে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে। সে অনুযায়ী চট্টগ্রামের জন্য ৫ মিনিট এবং সিলেটের জন্য ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনার জন্য ৩ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ৭ মিনিট, রংপুরের জন্য ৮ মিনিট এবং বরিশালের জন্য ১ মিনিট যোগ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, নামাজ ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের অন্যতম। তাই নির্ধারিত ওয়াক্ত অনুযায়ী নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শুক্রবারের জুমার নামাজ ইসলামে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ হওয়ায় এদিন সময়সূচি অনুসরণ করে যথাসময়ে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করে থাকে। ফলে মুসল্লিরা নিজ নিজ এলাকার সময়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগ-বিয়োগ করে সহজেই সঠিক ওয়াক্ত অনুযায়ী নামাজ আদায় করতে পারেন।

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।


আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন এক নজরে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ০৯:২৬:১৯
আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন এক নজরে
ছবি : সংগৃহীত

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন ২০২৬), ইংরেজি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ৩০ জুন, বাংলা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ এবং হিজরি ১৪ মহররম ১৪৪৮। প্রতিদিনের মতো রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার মুসল্লিদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। নির্ধারিত সময়ে ইবাদত আদায়ের সুবিধার্থে প্রকাশিত এই সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৪৮ মিনিটে। এরপর জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৬ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে। দিনের শেষভাগে মাগরিবের নামাজ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৪ মিনিটে, আর ইশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা ২০ মিনিটে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৪ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে। আগামীকাল বুধবার (১ জুলাই) ফজরের সময়ও ভোর ৩টা ৪৮ মিনিটে শুরু হবে এবং সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৪ মিনিটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকার সময়কে ভিত্তি ধরে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরে নামাজের সময় কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। সে অনুযায়ী চট্টগ্রামের জন্য ৫ মিনিট এবং সিলেটের জন্য ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনার জন্য ৩ মিনিট, বরিশালের জন্য ১ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ৭ মিনিট এবং রংপুরের জন্য ৮ মিনিট যোগ করতে হবে।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা জানান, নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তাই নিজ নিজ এলাকার সময়সূচি অনুযায়ী ইবাদত পালন করাই উত্তম। বিশেষ করে ভ্রমণ বা অন্য বিভাগে অবস্থান করলে সংশ্লিষ্ট এলাকার সময়ের পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন।


আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় জানুন এক নজরে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ০৯:৫৪:৫৬
আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় জানুন এক নজরে
ছবি : সংগৃহীত

আজ সোমবার (২৯ জুন ২০২৬), বাংলা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ এবং হিজরি ১৩ মহররম ১৪৪৮। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার মুসল্লিদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা। প্রতিদিনের ইবাদত যথাসময়ে আদায়ের সুবিধার্থে এই সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৬ মিনিটে। এরপর আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে। দিনের শেষভাগে মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিটে, আর এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা ২০ মিনিটে।

আগামী দিনের ইবাদতের প্রস্তুতির জন্য জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে। এছাড়া আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৪ মিনিটে।

ইসলামি বিশেষজ্ঞরা জানান, নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তাই স্থানীয়ভাবে ঘোষিত সময়সূচি অনুসরণ করে যথাসময়ে ইবাদত সম্পন্ন করা উচিত। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নামাজের সময় কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মুসল্লিদের জন্য এই সময়সূচি প্রযোজ্য।

-রফিক

পাঠকের মতামত: