ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: 'আক্রমণ করলে নজিরবিহীন জবাব'

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ১৫ ১১:৫১:৪৮
ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: 'আক্রমণ করলে নজিরবিহীন জবাব'

টানা কয়েকদিন ধরে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে সামান্য উত্তেজনাও বৃহৎ যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে। এই সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তেহরানে বা ইরানের অন্যান্য অংশে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনও সম্পৃক্ততা নেই। তবে একইসঙ্গে তিনি ইরানকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ হলে, এমন প্রতিশোধ আসবে যা ইতিহাসে ‘অভূতপূর্ব’ হয়ে থাকবে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প রোববার (১৫ জুন) তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “আমরা ইরান বা ইসরায়েলের কোনো সরাসরি সংঘাতে জড়িত নই। কিন্তু যদি ইরান আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে, তবে আমাদের প্রতিক্রিয়া এমন হবে যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি।”

এছাড়াও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই ‘ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি’ করাতে সক্ষম এবং এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতি টানা সম্ভব।

গত শুক্রবার ভোরে ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এরপরই ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ডজনখানেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয় ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায়, যার মধ্যে তেলআবিব ও হাইফাও রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ এখন শুধু ইরান-ইসরায়েল সীমাবদ্ধ নেই, বরং এতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তি কৌশলগত অবস্থান নিচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি, তবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলোর প্রস্তুতি জোরদার করছে এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত থেকে নিজেদের দূরে রাখতে চাইলেও, তাদের কৌশলগত অবস্থান ও নিরাপত্তা জাল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত। যেকোনো সময় পরিস্থিতি পাল্টে গেলে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় হতে বাধ্য হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা শান্তি চাই, তবে আত্মরক্ষায় কখনো পিছপা হব না।”

মধ্যপ্রাচ্য এখন অগ্নিসংযোগের দ্বারপ্রান্তে। ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি গোটা বিশ্বের কূটনৈতিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এখন দেখার বিষয় এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ আলোচনার দিকে মোড় নেয়, নাকি আরও ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নেয়।

-রাফসান, নিজস্ব প্রতিবেদক


সার্বভৌমত্বে ছাড় নেই: বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে শির চূড়ান্ত সতর্কবার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ১২:২৯:৪৭
সার্বভৌমত্বে ছাড় নেই: বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে শির চূড়ান্ত সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমা নিয়ে আবারও কড়া বার্তা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাইওয়ান ইস্যুই দুই পরাশক্তির সম্পর্কের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর প্রশ্ন।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শি জিনপিং বৈঠকে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “তাইওয়ান প্রশ্ন সঠিকভাবে সামাল দেওয়া গেলে সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকবে। কিন্তু এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে তা সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করবে।” শি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন যে, এই ইস্যুটি যথাযথভাবে পরিচালিত না হলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর সংকটে পড়তে পারে, যা সরাসরি বিরোধের পথে ঠেলে দেবে বিশ্বকে।

তাইওয়ান নিয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান কতটা অনড়, তা বোঝাতে শি জিনপিং একটি কঠোর রূপক ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, “তাইওয়ানের স্বাধীনতা এবং তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি—এই দুই বিষয় আগুন ও পানির মতো পরস্পরবিরোধী।” অর্থাৎ তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টা এবং এই অঞ্চলের শান্তি কখনোই একসাথে চলতে পারে না বলে তিনি হুশিয়ারি দিয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে চীন। শি জিনপিং পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, দ্বীপটির স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টাকে চীনের সার্বভৌমত্বের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ট্রাম্পের সঙ্গে এই আলোচনায় শির এমন স্পষ্ট অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাণিজ্যিক বা অন্যান্য ক্ষেত্রে সমঝোতা হলেও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে চীন কোনো প্রকার ছাড় দিতে রাজি নয়।

/আশিক


শি জিনপিংকে মহান নেতা অভিহিত করলেন ট্রাম্প: বেইজিংয়ে সম্পর্কের নতুন মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ১১:১২:১৮
শি জিনপিংকে মহান নেতা অভিহিত করলেন ট্রাম্প: বেইজিংয়ে সম্পর্কের নতুন মোড়
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী—যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বৈরী সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি প্রস্তাব করেছেন যে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার বদলে একে অপরের সহযোগী হওয়া উচিত। শি জিনপিংয়ের এই ইতিবাচক বার্তার জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘একজন মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্তের ঘোষণা দিয়েছেন।

২০১৭ সালের পর প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেইজিং সফর করছেন ট্রাম্প। শি জিনপিং তাকে লাল গালিচায় স্বাগত জানান এবং সামরিক বাহিনীর চৌকস দল ট্রাম্পকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই নেতার উষ্ণ করমর্দন এবং সৌজন্য বিনিময় ইশারা করছে যে, অন্তত আলোচনার টেবিলে তারা সংঘাতের চেয়ে সমঝোতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিশ্বের দুই পরাশক্তির মধ্যকার সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আরও ভালো হবে।

চমকপ্রদ ও ইতিবাচক বক্তব্যের আড়ালে এই বৈঠকে বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও জটিল ইস্যু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে শুল্কনীতি (Tariff), প্রযুক্তিগত আধিপত্যের প্রতিযোগিতা, তাইওয়ান ইস্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে গভীর দরকষাকষি চলছে। বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার প্রশ্নে এই আলোচনার ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্পের এই সফরে বাণিজ্য ও প্রযুক্তির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে তার সফরসঙ্গীদের তালিকায়। মার্কিন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার (Nvidia) প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং। প্রযুক্তি বিশ্বের এই দুই শীর্ষ নেতার উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মার্কিন চিপ শিল্প এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার নিয়ে চীনের সঙ্গে বড় কোনো সমঝোতা বা চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের শেষভাগে দুই নেতার একটি রাজকীয় রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

/আশিক


ইরান ইস্যুতে অগ্রগতির দাবি জেডি ভ্যান্সের: ট্রাম্পের রেড লাইন কি পূরণ হবে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ১০:৪২:১৫
ইরান ইস্যুতে অগ্রগতির দাবি জেডি ভ্যান্সের: ট্রাম্পের রেড লাইন কি পূরণ হবে?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যেই হোয়াইট হাউস থেকে কিছুটা ইতিবাচক কিন্তু সতর্ক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বুধবার (১৩ মে) তিনি দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

ভ্যান্সের অগ্রগতি বনাম ট্রাম্পের অনড় অবস্থান

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা অগ্রগতি করছি, কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো—এই অগ্রগতি কি প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট?” তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের প্রধান শর্ত হলো ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া। এর আগে অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবকে সরাসরি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যা ভ্যান্সের এই ‘অগ্রগতি’র দাবিকে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ইরানের পাঁচ কঠোর শর্ত

এদিকে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার আগে ওয়াশিংটনের সামনে পাঁচটি কঠোর শর্ত বা ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ ছুড়ে দিয়েছে তেহরান। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই শর্তগুলো পূরণ না হলে তারা কোনো আলোচনাতেই অংশ নেবে না।

শর্তগুলো হলো

১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা।

২. ইরানের ওপর আরোপিত সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

৩. বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা।

৪. যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান।

৫. কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকারের স্বীকৃতি।

কূটনৈতিক টানাপোড়েন

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই পাঁচটি শর্তের মধ্যে বিশেষ করে ‘ক্ষতিপূরণ’ এবং ‘হরমুজ প্রণালির সার্বভৌম অধিকার’ মেনে নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স আলোচনার অগ্রগতির কথা বললেও হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে ইরান নীতি নিয়ে যে দ্বিধাবিভক্তি বা কঠোর অবস্থান রয়েছে, তা এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।

/আশিক


বেইজিংয়ে মুখোমুখি ট্রাম্প ও শি জিনপিং: বিশ্ব তাকিয়ে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ১০:১৫:০২
বেইজিংয়ে মুখোমুখি ট্রাম্প ও শি জিনপিং: বিশ্ব তাকিয়ে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির দুই প্রধান পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যেই শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ট্রাম্প-শি’ শীর্ষ সম্মেলন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটন-বেইজিং টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেট হল অব দ্য পিপলের বিশাল কনফারেন্স রুমে অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে দুই বিশ্বনেতার এই আলোচনা শুরু হয়। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং অন্যদিকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও তাইওয়ান নিয়ে চীনের কঠোর অবস্থানের কারণে এই বৈঠকের ফলাফল পুরো বিশ্বের স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনা সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নীতিনির্ধারক। এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেটে হেগসেথ, বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এবং বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি ইশারা করছে যে, বাণিজ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এই আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। তবে শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে কারা এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে বেইজিং এখনো বিস্তারিত কোনো তালিকা প্রকাশ করেনি।

ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানাবে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, চীন তাদের ‘এক চীন’ নীতি এবং তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করবে। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধ ও প্রযুক্তি খাতের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বড় ধরণের দরকষাকষি হতে পারে এই হাইভোল্টেজ সম্মেলনে।

/আশিক


শত্রুর কল্পনাকেও হার মানাবে আমাদের গোপন শক্তি: ইরানি সেনা মুখপাত্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৩ ২১:৫৬:৩৫
শত্রুর কল্পনাকেও হার মানাবে আমাদের গোপন শক্তি: ইরানি সেনা মুখপাত্র
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের রেশ না কাটতেই মধ্যপ্রাচ্যের রণকৌশলে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামি নিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এক মুহূর্তের জন্যও পিছু হটবে না এবং তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

মাশহাদে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আকরামি নিয়া ইরানের নতুন সামরিক বিন্যাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কৌশলগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ ইউনিট এবং পূর্বাংশ রয়েছে নিয়মিত নৌবাহিনীর অধীনে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো সামরিক সরঞ্জাম বা যুদ্ধজাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না।

ইরানি এই জেনারেল দাবি করেন, যুদ্ধ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে এবং অনেক আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও এর সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি দেননি। তিনি আরও বলেন, “শত্রুপক্ষ আমাদের সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করেছিল। আমাদের এমন অনেক গোপন শক্তি রয়েছে যা তাদের কল্পনারও বাইরে।”

আকরামি নিয়ার দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ প্রস্তুতি বজায় রাখার মাধ্যমে তারা শত্রুর যেকোনো আগ্রাসন রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির এই নাজুক সময়ে ইরানের এমন কড়া বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও উত্তপ্ত করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরণের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

সূত্র: আল-জাজিরা


যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে চীনকে জামিনদার চায় ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৩ ২১:২০:২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে চীনকে জামিনদার চায় ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন তার গুরুত্বপূর্ণ এশীয় সফরে ব্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে ওয়াশিংটনের প্রতি এক প্রকার অনাস্থা জানিয়ে বেইজিংয়ের ওপর নিজেদের পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো চুক্তি বা সমঝোতার ক্ষেত্রে চীনকে ‘প্রধান জামিনদার’ বা গ্যারান্টর হিসেবে দেখতে চায় তারা।

ইরানের সরকার বর্তমানে বেইজিংয়ের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সমীকরণ নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চীনকে কেবল একটি দেশ নয়, বরং ‘কৌশলগত অংশীদার’ এবং ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরান মনে করছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার চেয়ে চীনের মতো পরাশক্তির মধ্যস্থতা ও নিশ্চয়তা থাকলেই কেবল দীর্ঘমেয়াদী শান্তি সম্ভব।

চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদুররেজা রহমানি ফাজলি এই সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে একটি কঠোর শর্ত দিয়েছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে তা অবশ্যই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করতে হবে। চুক্তির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হলে বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে, বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি থাকতে হবে।

রাষ্ট্রদূত ফাজলির মতে, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইরানের কাছে চীনের বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই অবস্থানের কারণে বেইজিং অনায়াসেই যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রধান জামিনদার হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে। তেহরান মূলত ওয়াশিংটনের একক আধিপত্য এড়াতে এবং চুক্তির ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বেইজিংকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।


১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ: ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কে নতুন ফাটল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৩ ১৭:৪৫:৩৫
১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ: ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কে নতুন ফাটল
ছবি : সংগৃহীত

বেইজিংয়ে আসন্ন ট্রাম্প-শি চিনপিং শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে সিউলে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ব্যবসায়িক বৈঠকটি ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিয়ে চীন তাদের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করায় দুই পরাশক্তির মধ্যকার উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিংয়ে ১৩-১৫ মে অনুষ্ঠেয় দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকের আগে তাইওয়ান ইস্যুকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র ঝাং হান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি এবং যেকোনো ধরনের সামরিক সম্পর্ক বজায় রাখার তীব্র বিরোধিতা করছে বেইজিং। তিনি ওয়াশিংটনকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তাইওয়ান কখনো আলাদা কোনো রাষ্ট্র ছিল না এবং ভবিষ্যতেও তা হতে দেওয়া হবে না।”

গত বছরের ডিসেম্বরে তাইওয়ানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ১১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অস্ত্র প্যাকেজ ঘোষণার পর থেকেই বেইজিং ক্ষুব্ধ। যদিও ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এক চীন’ নীতি অনুসরণ করে, তবুও তাইপের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে চীন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়টি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সামরিক বাজেট নিয়ে বড় ধরনের রদবদল লক্ষ্য করা গেছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের প্রস্তাবিত ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেটের মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে ড্রোনের মতো আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মসূচিগুলো কাটছাঁট করতে হয়েছে দেশটির সরকারকে, যা তাইওয়ানের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা কৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


পুতিনের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র: সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৩ ১১:৪৫:৫৩
পুতিনের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র: সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের রণকৌশলগত সমীকরণে বড় ধরনের কম্পন ধরিয়ে দিয়ে নতুন প্রজন্মের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সারমাত’-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই পরমাণু সক্ষম দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্রটিকে বিশ্বের “সবচেয়ে শক্তিশালী” অস্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ক্রেমলিনের দাবি, ৩৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম এবং একে ঠেকানোর মতো কোনো প্রযুক্তি বর্তমানে কারোর কাছে নেই।

পশ্চিমা বিশ্বের কাছে ‘স্যাটান-টু’ নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার কৌশলগত পরমাণু শক্তিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল। পুতিনের মতে, এর ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা পশ্চিমা দেশগুলোর সমমানের যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অন্তত চার গুণ বেশি। ২০১১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে উন্নয়নের পর এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি রুশ সামরিক বাহিনীর সক্রিয় অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

সারমাতের সবচেয়ে ভীতি জাগানিয়া বৈশিষ্ট্য হলো এর গতি ও গতিপথ। এটি সাব-অরবিটাল বা আংশিক মহাকাশপথে উড়তে সক্ষম, যা বিশ্বের বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (Missile Defense System) অকার্যকর করে দিতে পারে। পুতিন স্পষ্ট করেছেন যে, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর রাশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই হাইপারসনিক ও ব্যালিস্টিক সক্ষমতার আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছিল।

এই উৎক্ষেপণ এমন এক সময়ে হলো যখন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে দীর্ঘ ৫০ বছর পর বিশ্বের দুই প্রধান পারমাণবিক শক্তি কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল। ট্রাম্প প্রশাসন নতুন চুক্তিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানালেও বেইজিং তাতে কর্ণপাত করছে না। এর মাঝে সারমাত, অ্যাভানগার্ড এবং ওরেশনিকের মতো নতুন প্রজন্মের রুশ অস্ত্রসম্ভার ইউরোপ ও আমেরিকার সামরিক পরিকল্পনাবিদদের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


ধৈর্য হারাচ্ছেন ট্রাম্প: ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার ছক কষছে পেন্টাগন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৩ ১০:২৪:০০
ধৈর্য হারাচ্ছেন ট্রাম্প: ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার ছক কষছে পেন্টাগন
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কোনো সুরাহা না হওয়ায় এবার সামরিক শক্তি প্রয়োগের দিকে ঝুঁকছে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং আলোচনার টেবিলে তেহরানের অনড় অবস্থানের কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারকরা বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত। পেন্টাগনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছে, কেবল সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলার মাধ্যমেই ইরানকে নমনীয় করে পুনরায় আলোচনার টেবিলে আনা সম্ভব। অন্যদিকে, প্রশাসনের আরেকটি অংশ এখনো রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের শেষ সুযোগটুকু কাজে লাগাতে চাইছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর মনোভাব সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাকেই জোরালো করছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটনের অন্দরে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশের ধারণা, ইসলামাবাদ ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর বার্তাগুলো তেহরানের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিচ্ছে না। উল্টো ইরানের অনড় অবস্থানকে ওয়াশিংটনের কাছে নমনীয় বা আশাবাদী হিসেবে তুলে ধরে পাকিস্তান বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এর আগে সোমবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের পাঠানো জবাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘বোকামিপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের দাবিগুলো মোটেও অতিরঞ্জিত নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রই অযৌক্তিক অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি জটিল করছে। দুপক্ষের এমন অনড় অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি এখন কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: