লন্ডনে তারেক-ইউনূসের বৈঠকের পরে পর পর ২টি স্ট্যাটাসে কি বললেন পিনাকী? 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ১৩ ১৮:৩৮:২৫
লন্ডনে তারেক-ইউনূসের বৈঠকের পরে পর পর ২টি স্ট্যাটাসে কি বললেন পিনাকী? 

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত একান্ত বৈঠককে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতি এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পরে শুধু রাজনৈতিক মহলে নয়, সামাজিক মাধ্যমে বিশেষ করে বিভিন্ন প্রভাবশালী অ্যাকটিভিস্ট ও ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রতিক্রিয়াও ছড়িয়ে পড়ছে।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ে বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য একটি স্ট্যাটাস দেন, যা বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নিচে তাঁর স্ট্যাটাসটি অবিকৃতভাবে তুলে ধরা হলো:

"তারেক রহমানের সাথে প্রফেসর ইউনুসের একান্ত বৈঠক প্রায় দেড় ঘন্টা স্থায়ী হইছে।ইন্ডিয়ারে আপাতত পরাজিত করা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের একটি প্রগতিশীল মুসলিম রাষ্ট্র আজকের মিটিং এর ফলাফলে পৌছাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। আজকে ইরানে হিজ / রায়েলের আগ্রাসনের পর আমাদের শংকা আর গভীর বেদনার প্রেক্ষাপটে এই সংবাদ আমাদের ভরসা জোগায় যে ইসলামী দুনিয়া আমাদের কনসার্ন বুঝতে পারছে। আমাদের পাশে আইস্যা দাড়াইছে। আমরাও একটা ফিলিস্তিনের মতো হিন্দুত্ববাদি ভারতের বিপদজনক ঘেরাটোপে আছি। সেই ভারতের সাথে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের কোন আন্ডারগ্রাউন্ড বুঝাপড়া বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য বিপদজনক।ম্যাডাম নিজে ইন্টারভেইন করছেন। এইটাও আমাদের বড় পাওয়া। একটা প্রতিবেশী দেশ আর একটি আঞ্চলিক পরাশক্তি আমাদের পাশে দাড়াইছে। যাদের রাষ্ট্রিয় স্বার্থের জন্যও বাংলাদেশে ভারতের উপস্থিতি বিপদজনক।সকল অন্ধকার কাটে নাই। যখন পুরা দেশ এক হয় তখন ইন্ডিয়া অন্য চাল দেয়। আপনাদের মনে আছে কীভাবে ইসকনকে নামানো হইছিলো এই সরকারের শুরুর দিকে।বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে প্রফেসর ইউনুসের সরকারের দুরত্ব কমছে। কিন্তু বিএনপির মধ্যে ইন্ডিয়াপন্থীরা আছে, তারা তাদের পজিশন গেইন করার চেষ্টা করবে।আমরা জানিনা ওয়াকার সাপ কী চাল চালবে। উনারে ইন্ডিয়া কী পানি পড়া দিবে। দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহবান জানাই। বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের সকল শক্তিকে দুর্বল ও সম্পুর্ন ভাবে পরাভুত করতে না পারা পর্যন্ত আমাদের শান্তি নাই।আমরা আর ভারতের দাসত্ব করবো না। কথা ক্লিয়ার।ইনকিলাব জিন্দাবাদ।"

jj

এর কিছুক্ষন পরেই পিনাকী কিছুটা মজার ছলে আর একটি স্ট্যাটাস দেন। যেখানে তিনি বলেন,

"আইজকার মিটিং ভালোভাবে কইরা জাতির আকাশের অহেতুক শংকা দূর করার জন্য একসময়ের সহযোদ্ধাদের জেসচার অব গুড উইল হিসাবে দুইটা শ্লোগান লিখে দিলাম।
১/ গণতন্ত্র ফেরে, ফেব্রুয়ারির ভোরে!
২/ বিএনপির জয়, ফেব্রুয়ারিতেই হয়!
ভুইলেন না ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চাওয়ার ভুদ্দিটা এই দুই টেকার ইউটিউবারের কাছে থিকাই পাইছিলেন। তাই লিখে রেখো এক বিন্দু দিছিলাম শিশির।"

jjযাই হোক, পিনাকী ভট্টাচার্যের স্ট্যাটাসটি এই বার্তাই বহন করে যে, তারেক রহমান ও অধ্যাপক ইউনূসের মধ্যে অনুষ্ঠিত দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকটি নিছক রাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়—বরং এটি এক কৌশলগত কূটনৈতিক মুহূর্ত, যার পেছনে রয়েছে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ভূমিকা ও সমন্বয়। স্ট্যাটাসে মধ্যপ্রাচ্যের একটি প্রগতিশীল মুসলিম রাষ্ট্রের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বৈঠকটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ, যেখানে ভারতের প্রভাব প্রতিহত করতে একটি বিকল্প সমীকরণ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

তিনি এই প্রক্রিয়ায় ইসলামী বিশ্বের বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক রাষ্ট্রগুলোর সমর্থনের কথা তুলে ধরে বলেন, এই সমর্থন বাংলাদেশের জনগণের “ভরসা” হয়ে উঠেছে। ইরানে ইসরায়েল-সমর্থিত হামলার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জনগণের বেদনা ও উদ্বেগ তুলে ধরে তিনি আন্তর্জাতিক মুসলিম সংহতির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেন। তার বক্তব্যে ‘আমরাও ফিলিস্তিনের মতো হিন্দুত্ববাদী ভারতের বিপদজনক ঘেরাটোপে আছি’—এই উপমাটি মূলত ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিরোধপূর্ণ দিককে ফোকাসে নিয়ে আসে। পিনাকী এটিকে শুধু কূটনৈতিক দূরত্ব নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আগ্রাসনের রূপ হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন।

স্ট্যাটাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো “ম্যাডামের হস্তক্ষেপ”–যা ধারণা দেয়, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বয়ং এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। এটি দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও নেতৃত্বের দৃঢ় অবস্থান নির্দেশ করে। একই সঙ্গে পিনাকী দাবি করেন, একটি প্রতিবেশী আঞ্চলিক পরাশক্তিও এই অবস্থানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে—যা ভারতের স্বার্থের পরিপন্থী। যদিও তিনি দেশটির নাম প্রকাশ করেননি, তবুও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এটিকে চীন বা তুরস্কের দিকে ইঙ্গিত বলে ধরে নেওয়া যায়।

স্ট্যাটাসে ভারতবিরোধী বক্তব্য স্পষ্ট ও উগ্র; তিনি সরাসরি বলেন, “আমরা আর ভারতের দাসত্ব করবো না”—এবং একে জাতীয় আত্মমর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করেন। বিএনপি’র ভেতরে থাকা তথাকথিত ‘ইন্ডিয়াপন্থীদের’ নিয়ে তাঁর আশঙ্কা এই রাজনৈতিক সমীকরণে বিভাজন সৃষ্টির সম্ভাবনাও নির্দেশ করে। তাঁর মতে, ভারতবিরোধী অবস্থানকে দুর্বল করতে এই অংশটি সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। এমন মন্তব্য বিএনপির রাজনৈতিক অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দেয়, যা ভবিষ্যতে দলের কৌশলগত দিক নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

সবশেষে, স্ট্যাটাসটি একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ এখন কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়—বরং এটি একটি জাতীয় মুক্তির লড়াইয়ের রূপ নিচ্ছে। পিনাকীর মতে, এই লড়াইয়ে সমর্থন দিচ্ছে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো। তাঁর স্ট্যাটাস রাজনৈতিক আবেগ, বৈদেশিক কূটনীতি এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নকে একসূত্রে গেঁথে, আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্কের খোরাক হয়ে উঠেছে। এটা স্পষ্ট যে, এই ধরনের ভাষ্য বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিকে আরও বেশি আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবাধীন করে তুলছে।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল-ল্যাপটপ চুরি বাড়বে: রাশেদ খাঁন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ২০:৪০:২২
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল-ল্যাপটপ চুরি বাড়বে: রাশেদ খাঁন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভবিষ্যতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরির ঘটনা বেড়ে যাবে বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। Monday (২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগকে ভয় দেখিয়ে এনসিপি তাদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি করছে। এই চাঁদাবাজির প্রমাণ হিসেবে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং তাদের দেওয়া গাড়ি ও টাকা ব্যবহার করছেন, অথচ প্রকাশ্যে এসে গরম গরম বক্তব্য দিচ্ছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াত ও এনসিপির আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হুংকার ছাড়ার একমাত্র কারণ হলো দলটিকে সতর্ক করা। আওয়ামী লীগকে তারা বোঝাতে চায় যে, নিয়মিত অনুদান ও চাঁদা দেওয়া বন্ধ করলে এবং পেছন থেকে সহযোগিতা না করলে তাদের পরিণতি খারাপ হবে।

এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়েও তীব্র মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি করার সময় ল্যাপটপ চুরি এবং জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর ছাগল চুরি করাটাই পাটওয়ারীর প্রধান অভিজ্ঞতা। এই ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এর জের ধরেই রাশেদ খাঁন যোগ করেন, পাটওয়ারী দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে সারা দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরির উপদ্রব বহুগুণ বেড়ে যাবে।

/আশিক


জামায়াতের ‘বিপ্লব’ মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা রুহুল কবীর রিজভীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৮:৪৭:১৬
জামায়াতের ‘বিপ্লব’ মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা রুহুল কবীর রিজভীর
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা নেতাদের আলোচনার মাধ্যমে শুধু জনপ্রিয়তা ও জয়ের সম্ভাবনার ভিত্তিতেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেটে এক সংবাদিক মতবিনিময় সভায় এই কথা জানান তিনি।

চলমান শ্রমিক আন্দোলন ও দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রিজভী বলেন, পরাজিত শক্তি ও প্রতিবেশী দেশ থেকে উসকানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে। শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে রাজপথে নামানোর এই ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে দাবি করে তিনি জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী রয়েছে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক নেতাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর দায় স্বীকার করেছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লবের কড়া নাড়ার’ বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাত্র আট মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া একটি সরকারের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য বোধগম্য নয় এবং সংসদের বাইরে লংমার্চের মাধ্যমে মানুষকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি তাদেরকে ‘গুপ্ত সংগঠন’ বলেও আখ্যায়িত করেন।

সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী এবং সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল মালিক চৌধুরী প্রমুখ।

/আশিক


শ্রমিকদের কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৭:৪৮:০২
শ্রমিকদের কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমানে শ্রমিকদের কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলন চলছে না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যারা বর্তমানে আন্দোলনের নামে সহিংসতা চালাচ্ছে, তাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই কথা জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ডের দাবিতে শ্রমিকরা কখনো সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে না। গ্রেপ্তার হওয়া মুখোশধারী নাশকতাকারীরা ঘটনাস্থলে রাজনৈতিক স্লোগান দিয়েছে। এর আগে সকালে গার্মেন্টস মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে রোববারই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং আজ সোমবারই এই বোর্ডের প্রথম সভা বা খুব দ্রুত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, জীবনমানের উন্নয়ন এবং তাদের বিষয়গুলো অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে বাস্তবসম্মতভাবে মজুরি নির্ধারণ করা হবে।

বৈঠকে মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, কিছু কারখানা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কিছু শ্রমিক নেতা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে—এমনকি এ ধরনের অভিযুক্ত কারখানা ও নির্দিষ্ট কিছু সংগঠনের তালিকার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সাধারণ শ্রমিক বা কোনো শ্রমিক সংগঠন কখনো শ্রমিকের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকতে পারে না বলে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন।

/আশিক


পোশাক খাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ২০:৫০:০৭
পোশাক খাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

দেশের তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে পোশাক শিল্প ও এর সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের সুরক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জামায়াত আমির এই মন্তব্য করেন।

স্ট্যাটাসে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হিসেবে তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমানে কঠিন সংকটময় সময় পার করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব, জ্বালানির চড়া মূল্য, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিল বা কমে যাওয়ার কারণে এই খাত তীব্র চাপে পড়েছে। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রাও অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের রপ্তানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত টেকসই সমাধানের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদনের গতি বাড়াতে পারলে অন্যান্য সংকটগুলোও যৌক্তিকভাবে সমাধান করা সম্ভব। ‘শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে’—এই কথা উল্লেখ করে তিনি শিল্পমালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এ ছাড়া বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়ে কালক্ষেপণ করার কোনো অবকাশ নেই।

/আশিক


বিএনপি মাঠে নামলে পালানোর পথ পাবেন না: মির্জা আব্বাস

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ২০:৪২:৫১
বিএনপি মাঠে নামলে পালানোর পথ পাবেন না: মির্জা আব্বাস
ছবি : সংগৃহীত

সরকার ও বিএনপিকে তথাকথিত বিরোধী দলগুলো অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিব্রত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, বিএনপি এখনো পুরোপুরি মাঠে নামেনি; মাঠে নামলে অনেকেই পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহজাদপুরে ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন থানা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শাহজাহানপুর, মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ ও রমনা থানা বিএনপি এই সভার আয়োজন করে।

মির্জা আব্বাস বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ এখনও অর্থনৈতিক ও কাঠামোগতভাবে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে পারেনি। তাই অমূলক ও অযথা বিরোধিতা না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার এবং গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এক শ্রেণির দল নিজেদের শক্তি বা জনসমর্থন না পেয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন স্থানে মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো বাধা না থাকলেও কোনো ধরনের অপকর্ম বরদাস্ত করা হবে না এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা তা শক্ত হাতে প্রতিহত করবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

ভারত থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাদের ফিরে এসে লুকিয়ে থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আর বিএনপির ভেতর কিছু লোভী ব্যক্তি অর্থের লোভে তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দোসর বা শত্রুপক্ষের মিত্রদের সঙ্গে আঁতাতকারীদের বিএনপিতে কোনো স্থান হবে না। এমনকি ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর যারা ভোল পাল্টে বিএনপি সাজতে চাইছে, তাদেরও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে একযোগে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম প্রমুখ।

/আশিক


আইন না মেনে গায়ের জোরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৮:৩৪:৩৬
আইন না মেনে গায়ের জোরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী
বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: কালবেলা

আইন ও সংবিধানের তোয়াক্কা না করে বিরোধী দল বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হলেও বিরোধীরা তা উপেক্ষা করে গায়ের জোরে তা কার্যকর করতে চায়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মান্ডা এলাকায় হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অবিভক্ত সবুজবাগ থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম শামসুল হুদার স্মরণে মুগদা থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এই সভার আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই সনদে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট আপত্তি বা 'নোট অব ডিসেন্ট' রয়েছে। বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানানো হলেও বিরোধী পক্ষ তা আমলে নিচ্ছে না। তিনি ১৯৭ স্বাধীনতাত্তপরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে সংবিধান সংশোধনের নানা ঐতিহাসিক উদাহরণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার এবং বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশ-বিদেশ সফর করছেন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ঋণ ও অনুদান চুক্তি করছেন। বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টোয়েটার কারখানা বাংলাদেশে স্থাপনসহ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া প্রান্তিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য চালু করা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের দারিদ্র্যের হার অন্তত পাঁচ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মরহুম শামসুল হুদাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে রিজভী বলেন, তিনি প্রায় চার দশকের এক পরীক্ষিত, বিনয়ী ও শান্তস্বভাবের রাজনীতিক ছিলেন যিনি কখনোই কোনো ধরনের সংঘাতে জড়াননি। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপনের যুগে তার মতো অভিভাবকতুল্য ও আদর্শনিষ্ঠ নেতার অভাব গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।

এদিকে একই দিন সকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট কোনো অভ্যন্তরীণ কারণে সৃষ্টি হয়নি, বরং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার ফল এটি। সরকার এরই মধ্যে মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আমদানি করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ফলে এই সংকটের অজুহাতে লংমার্চ কর্মসূচির কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং জনগণও এর কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সরকারের ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা ও জনমুখী কার্যক্রমে বিরোধী দলের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যার কারণে লোকদেখানো এই কর্মসূচির অবতারণা করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ ইউনুস মৃধা এবং দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন প্রমুখ।

/আশিক


সারাদেশের কোমর ভাঙা, তাই দেশ মেরামত করতে হবে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৮:২৪:৪২
সারাদেশের কোমর ভাঙা, তাই দেশ মেরামত করতে হবে: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের গাড়িবহর পথিমধ্যে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এসে পৌঁছালে সেখানে এক জমকালো পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ভাঙ্গা পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে লংমার্চের বহর থামিয়ে উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ভাঙ্গার স্থানীয় জনতাকে উদ্দেশ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির অত্যন্ত রূপক ও তাৎপর্যপূর্ণ এক বক্তব্যে বলেন, ‘ভাঙ্গাবাসী কেমন আছেন? আপনাদের এলাকার নাম ভাঙ্গা। কিন্তু সারাদেশেরই কোমর ভাঙা। তাই দেশকে মেরামত ও সংস্কার করতে হবে।’ তিনি তাঁর বক্তব্যে দেশ থেকে সব ধরনের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির চিরতরে মূলোৎপাটন করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের এই দুঃশাসন ও জিম্মিদশা থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি পেতেই হবে। এটি কেবল রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের লড়াই ও মুক্তির লড়াই।

রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে জামায়াত আমির আরও বলেন, বর্তমান জনদুর্ভোগ লাঘব ও একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট ৭ দফা দাবি নিয়ে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। ভাঙ্গার সাধারণ মানুষ যেভাবে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে লংমার্চের এই গাড়িবহরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন এবং সংহতি প্রকাশ করেছেন, তার জন্য তিনি স্থানীয়বাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সব ভেদাভেদ ভুলে একটি মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান।

/আশিক


ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৮:৩৩:৫৪
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার
ছবি : সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি ফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার জন্য পেশিশক্তি ও প্রভাব ব্যবহার করছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি করেন।

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, ভোটের দিন সাধারণ ভোটারদের বিভিন্নভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং পুরো নির্বাচনী এলাকায় একধরনের ভীতি ও ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া ভোটের আগের দিন থেকেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও একধরনের মনস্তাত্ত্বিক ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন।

গোলাম পরওয়ার আরও দাবি করেন, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে যে তথ্য দিচ্ছেন, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা মাত্র। এই উপনির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুনির্দিষ্ট বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থীর বড় ভাই রাষ্ট্রপতি পদে আসীন থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করছেন।

ভোটগ্রহণে নানা ধরনের প্রশাসনিক ও কারচুপির অনিয়মের অভিযোগ এনে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ব্যালট পেপারের মুড়িতে আগেই সিল ও স্বাক্ষর মেরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই বা পরীক্ষা ছাড়াই পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসাররা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা বিসর্জন দিয়ে একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছেন। উল্লেখ্য, এই উপনির্বাচনে সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে এবং এর আগে গত বুধবার দুপুর থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছিল।

/আশিক


তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছিল, পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জাতিকে জানাতে হবে: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৮:২০:১৯
তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছিল, পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জাতিকে জানাতে হবে: নাহিদ ইসলাম
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও নিহত বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি। ছবি : সংগৃহীত

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সাবেক এই কর্মকর্তার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জাতির সামনে স্পষ্ট করার পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকে দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জোরালো তাগিদ দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই দাবি তুলে ধরেন।

ফেসবুক পোস্টে গভীর শোক ও বিস্ময় প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম লেখেন, নিখোঁজ হওয়ার পরদিন বুধবার ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় বিস্ময় ও সমবেদনা জানিয়ে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাঁর রুহের মাগফিরাতের জন্য প্রার্থনা করেন। এর পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত এই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কোনো ধরনের বিলম্ব না করে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত প্রক্রিয়া চালুর আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় এই শীর্ষনেতা।

এর আগে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর তুরাগ থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল। জানা গেছে, সাবেক এই ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ নামক ভবনে নিজের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামের এক পরিচিত ছোট ভাই তাহসিফকে কথা বলার জন্য বাসার নিচে ডেকে নিয়ে যায়। দ্বীপের সঙ্গে দেখা করে দ্রুতই ঘরে ফিরে আসবেন বলে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ, কিন্তু এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ মেলেনি। পরদিন নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হলে পুরো এলাকায় শোক ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়।

/আশিক

পাঠকের মতামত: