দ্য গার্ডিয়ানের সাথে সাক্ষাৎকার
“মানুষ এখনো সরকারকে শত্রু ভাবে” — প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

এক বছর পেরিয়ে গেছে সেই ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার জাগরণ, যা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রবাসে পাঠিয়ে দেয়। সেই আন্দোলনের পথ বেয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এখন, আন্দোলনের এক বছর পরে, তিনি বলছেন—"এই দেশের মানুষ এখনো সরকারকে তাদের শত্রু মনে করে"।
দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিশদ সাক্ষাৎকারে ইউনূস বলেন, রাষ্ট্র এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক এতটাই বিষাক্ত হয়ে উঠেছে যে মানুষ সরকারের কাছে সুযোগ বা সেবা প্রত্যাশা করে না, বরং নিরাপদ দূরত্বে থাকতে চায়। তার ভাষায়, "সরকার যেন এক সর্বগ্রাসী শত্রু; যাকে মোকাবেলা না করে, এড়িয়ে চললেই বাঁচা যায়।"
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট: কোটা সংস্কার থেকে গণআন্দোলনে রূপান্তর
২০২৪ সালের জুন-জুলাই মাসে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে। কোটা সুবিধা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগপন্থী সংগঠন ও ব্যক্তিদের জন্য রক্ষা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে, যা সমতার নীতির পরিপন্থী বলে শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল।
কিন্তু অল্প সময়েই এই দাবির বাইরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে—জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, তরুণদের জন্য চাকরির সংকট, দুর্নীতির ব্যাপকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, এবং একটি স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের সামগ্রিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে, সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য মঞ্চ তৈরি করে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায় ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় প্রয়োজনে সম্মতিতে। এর নেতৃত্বে আসেন ড. ইউনূস, যাকে তখন পর্যন্ত বিতর্কিত ও প্রশংসিত দুই চরিত্রেই দেখা হচ্ছিল।
রাষ্ট্রব্যবস্থার অবক্ষয় ও জনগণের বিচ্ছিন্নতা
সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এমনভাবে দুর্নীতি ও সুবিধাবাদ জেঁকে বসেছিল যে, জনগণের মনে সরকারের প্রতি স্থায়ী অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন,
"পাসপোর্ট বানাতে চাইলে টাকা লাগে, ব্যবসা শুরু করতে চাইলে ঘুষ লাগে, এমনকি গরিব কৃষক যদি তার জমির দলিল হালনাগাদ করতে চায়, সেখানেও তাকে কারও পকেট ভারী করে দিতে হয়।"
"মানুষ মনে করে সরকার মানেই হয়রানি, সরকার মানেই শোষণ। এমন বাস্তবতায় রাষ্ট্র আর নাগরিকের সম্পর্কটা একটা যুদ্ধের মতো মনে হয়।"
তিনি আরও বলেন, এই অবিশ্বাস কাটাতে হলে শুধুমাত্র ব্যক্তি পরিবর্তন নয়, চাই পদ্ধতিগত সংস্কার। এবং সেটাই অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ: সংস্কার কমিশন ও 'জুলাই সনদ'
ড. ইউনূস জানান, তার সরকার প্রথম ছয় মাসেই নির্বাচন ব্যবস্থা, প্রশাসন, দুর্নীতি দমন এবং সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে চারটি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এসব কমিশন জানুয়ারি ২০২৫-এ সুপারিশ জমা দেয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে একটি ঐকমত্যের নীতিপত্র তৈরি হচ্ছে, যার নাম 'জুলাই সনদ'।
এই সনদে যে কয়েকটি মূল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা হচ্ছে: নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও পুনর্গঠন, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের জন্য মেয়াদ সীমা, দুর্নীতির জন্য স্বাধীন 'জাতীয় অডিট আদালত', ডিজিটাল আইনের সংস্কার এবং বাকস্বাধীনতা রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর প্রসার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়নে স্বচ্ছতা।
ড. ইউনূস চান, ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মধ্যেই এই সনদ চূড়ান্ত হোক এবং এপ্রিলের নির্বাচনের আগে তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হোক।
রাজনৈতিক সমঝোতা ও বাধা
সংসদীয় রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হচ্ছে বিএনপি। আন্দোলনের সময় তারা মাঠে সক্রিয় না থাকলেও, আওয়ামী লীগের পতনের পর তাদের জনপ্রিয়তা বাড়ে।
বিএনপি আগাম নির্বাচনের দাবি করছে এবং 'দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্ব' সীমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তবে ইউনূস বলছেন,
"এই দেশে আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো কনসেন্সাস ছিল না। এখন অন্তত সবাই টেবিলে বসছে, কথা বলছে। এটা ছোট অর্জন নয়।"
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ঐকমত্য ধরে রাখা এবং তা লিখিত রূপ দেওয়া হবে আসল পরীক্ষা।
অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যবসা: মাইক্রোক্রেডিট মডেল পুনর্গঠন
ড. ইউনূস তার বহু প্রশংসিত মাইক্রোক্রেডিট মডেলকে আরও প্রতিষ্ঠিত করতে চান একটি নতুন কাঠামোর মধ্য দিয়ে। বর্তমানে এনজিওরাই ক্ষুদ্রঋণ সেবা দেয়। কিন্তু তিনি চান মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হোক, যা অলাভজনকভাবে গরিব মানুষের ব্যবসায়িক উদ্যোগে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন,
"অনেকে এখন মাইক্রোক্রেডিটকে বলছে শোষণের মাধ্যম। কারণ, কিছু প্রতিষ্ঠান উচ্চ সুদে ঋণ দিচ্ছে। আমি বলছি, এটি একটি দুর্দান্ত সামাজিক মডেল, এবং এটি বিশ্বব্যাপী কপি করা হয়েছে। সমস্যা নয়, বরং এটি সমাধান।"
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিদায়ের প্রস্তুতি
ড. ইউনূস বলেছেন, তিনি নির্বাচনের পর আর সরকারের অংশ হতে চান না। তার ভাষায়,
"আগে শুধু আওয়ামী লীগ আমাকে গালাগাল দিত, এখন সবাই দেয়। এটা এই পদে থাকলে স্বাভাবিক। কিন্তু আমার কাজ হচ্ছে একটা ভিত্তি তৈরি করে দেওয়া, যাতে আমরা একটা সুস্থ, স্থিতিশীল রাষ্ট্রের দিকে যাত্রা শুরু করতে পারি।"
তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে যদি একটি গ্রহণযোগ্য সরকার আসে এবং 'জুলাই সনদ' কার্যকর হয়, তবে তবেই শুরু হবে 'নতুন বাংলাদেশের' বাস্তব পথচলা।
একটি যুগান্তকারী সন্ধিক্ষণ
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪-২৫ সাল একটি যুগান্তকারী সময়। গণজাগরণ, ক্ষমতা পরিবর্তন, এবং একটি অভূতপূর্ব অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পথচলা আজ ঐতিহাসিক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে এই সরকার যদি রাজনৈতিক ঐকমত্য, প্রশাসনিক সংস্কার, এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রেখে যেতে পারে, তাহলে ২০২৫ সালের নির্বাচন শুধু নতুন সরকারের সূচনা নয়, এক নতুন রাষ্ট্রচিন্তারও সূচনা হবে।
৫ আগস্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচির নির্দেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আগামী ৫ আগস্ট দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, ইতিহাস এবং জাতীয় গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা সভা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করে। চিঠিটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় পালনের অংশ হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত কর্মসূচি আয়োজন করতে হবে। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাসচর্চা, দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় চেতনা বিকাশের লক্ষ্যেই এসব কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণি ও বয়সভিত্তিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হবে, যাতে তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করতে পারে। একই সঙ্গে আবৃত্তি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশাত্মবোধক ও প্রাসঙ্গিক সাহিত্যকর্ম উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করতে বলা হয়েছে।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেও দিবসটির ভাবনা ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে প্রতিফলিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় ইতিহাস ও গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে আরও অর্থবহভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শুধু প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের গুরুত্ব, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং জাতীয় জীবনে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা সভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে, যাতে দিবসটির তাৎপর্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাস, নাগরিক দায়িত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক চর্চা জোরদার করার লক্ষ্যেই এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই সরকারের অন্যতম উদ্দেশ্য।
-রফিক
শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতকেই অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে: শামা ওবায়েদ
ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখান থেকে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন কি না এবং দিল্লিতে প্রস্তাবিত ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানের প্রতি ভারত সরকারের সমর্থন আছে কি না, সে বিষয়ে নয়াদিল্লিকেই অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ, সার্বভৌম সমতা ও ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। তবে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশবিরোধী বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো হলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার একটি আয়োজনে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার সরাসরি আয়োজন করছে না উল্লেখ করেও শামা ওবায়েদ বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেহেতু ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন, তাই অনুষ্ঠানটির প্রতি দিল্লির আনুষ্ঠানিক অবস্থান কী, সেটি ভারত সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য বা রাজনৈতিক দাবির জবাব দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব নয়। বাংলাদেশের অবস্থান হলো, বিদেশে অবস্থানরত সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন পলাতক ব্যক্তিরা কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক উসকানি কিংবা অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করলে আশ্রয়দাতা দেশের দায়িত্বও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা অতীতের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও কূটনৈতিক যোগাযোগে এই উদ্বেগ ভারতকে লিখিত ও মৌখিকভাবে একাধিকবার জানিয়েছে।
ভারত সরকার আগে জানিয়েছিল, তাদের ভূখণ্ডে অবস্থানরত কোনো পলাতক ব্যক্তি রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন কিংবা বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন, এমনটি তারা প্রত্যাশা করে না—এ কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, এখন আলোচিত অনুষ্ঠানটির ক্ষেত্রেও দিল্লি একই অবস্থানে আছে কি না, সেটিই পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক পথে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করতে পারে বলেও জানান তিনি।
দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান গতি নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়েছে এবং উভয় পক্ষই সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলক পথে এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাই এমন কোনো কর্মকাণ্ড কাম্য নয়, যা পারস্পরিক আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ভারতের হাইকমিশনারও সম্প্রতি পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী অংশীদারত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা শুধু অনুষ্ঠানটির বিষয়বস্তু নয়, ভারতের ভূখণ্ড থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার বৃহত্তর প্রশ্নটিও সামনে আনছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত করার দায়িত্ব উভয় পক্ষের। ফলে কোনো পলাতক রাজনৈতিক নেতা ভারতে বসে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে দিল্লির ভূমিকা ও প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে ভারতের একটি সংসদীয় কমিটির উদ্বেগের প্রসঙ্গও আসে। এর জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং নিজের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর নীতি বজায় থাকবে। কোনো তৃতীয় দেশের উদ্বেগের ভিত্তিতে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক নির্ধারিত হবে না বলেও তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনো পর্যালোচনাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পৃথক আমন্ত্রণও এসেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচি থাকায় সব বিষয় বিবেচনা করেই সফরের সিদ্ধান্ত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে সম্ভাব্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়েও সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান শামা ওবায়েদ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো প্রস্তাব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে সরকার সেটি এগিয়ে নেবে। তবে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে না।
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন মুসলিম দেশগুলোর সামরিক সহযোগিতা কাঠামোতে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার নীতিগতভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। তবে বাংলাদেশ কী মাত্রায় বা কোন কাঠামোয় সম্পৃক্ত হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি এটিকে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নয়, বরং বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় বহুপক্ষীয় সহযোগিতার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।
সব মিলিয়ে সোমবারের ব্রিফিংয়ে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির তিনটি প্রধান দিক স্পষ্ট হয়েছে। প্রথমত, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ঢাকা আগ্রহী হলেও দেশটির ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না। দ্বিতীয়ত, ভারত ও চীনসহ সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনায় জাতীয় স্বার্থই হবে প্রধান বিবেচনা। তৃতীয়ত, ব্রিকস, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা কিংবা মুসলিম দেশগুলোর বহুপক্ষীয় জোট—প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার নিজস্ব প্রয়োজন ও সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অগ্রসর হবে।
-রফিক
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রটনা নাকি সত্য? নতুন বিজ্ঞপ্তিতে যা জানাল মন্ত্রণালয়
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিষয়াবলি নিয়ে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রক্রিয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই সংক্রান্ত প্রাপ্ত অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নিরসন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয় যে, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো ধরনের অসত্য তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তিকর পরিবেশ তৈরির সুযোগ নেই। তবে যদি কোনো গ্রাহকের বিলে অতিরিক্ত টাকা যোগ হওয়া সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বা প্রমাণসম্মত কোনো অভিযোগ থাকে, তবে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ধরণের অভিযোগের সত্যতা মিললে কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রতিকার ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেবে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে যে, সুস্পষ্ট কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি ছাড়া কেবল বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ভুয়া তথ্য প্রচার করা হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে।
/আশিক
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করার কড়া নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য বজায় রেখে দেশের সব অর্থনৈতিক অঞ্চলকে আধুনিক, সবুজ ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
উক্ত সভায় অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিধি বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) বৈঠকের বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, সরকারের দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) মোট ১ লাখ ২৫ হাজার গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। মূলত পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল তৈরি ও টেকসই সবুজায়ন নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের গত ৯ম সভার গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন কতটুকু হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হয়। এর পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সার্বিক মূল্যায়ন এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদকে আধুনিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও গভীর আলোচনা হয়।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের মালিকানাধীন জমি ও বর্তমান অবকাঠামো ব্যবহার করে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প স্থাপনের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হয়। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বমানের শিল্প গড়ে তুলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করা। এছাড়া বেসরকারি খাতে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আবেদন ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গাইডলাইন কঠোরভাবে অনুসরণ এবং হালনাগাদ নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বিডা-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ প্রশাসনিক শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
পুরো পুলিশ টিম একসঙ্গে চা-বিশ্রামে যাওয়া নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া সতর্কতা
পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনকালে পুরো টিম যেন একই সময়ে একসঙ্গে চা খাওয়া বা বিশ্রামে না যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি জানান, পুলিশের ব্যবহৃত গাড়ি বা টহল যান কোনো অবস্থাতেই অরক্ষিত বা নিরাপত্তাহীন রাখা যাবে না। টহলে থাকা সদস্যদের মধ্যে সবাই একসঙ্গে বিশ্রামে না গিয়ে অন্তত একজনকে সার্বক্ষণিক গাড়ির প্রহরায় নিশ্চিত থাকতে বলা হয়েছে।
বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়া বা নিয়মিত সতর্কতার অংশ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একে অন্য কোনো দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে বোমাসদৃশ বস্তু ও পরিত্যক্ত ব্যাগ উদ্ধারের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মতিঝিলে মেট্রোরেলের পিলারের কাছে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার এবং আশুলিয়ায় দুষ্কৃতকারীদের রেখে যাওয়া ব্যাগ উদ্ধারের ঘটনায় কোনো আন্তঃসম্পর্ক বা একই গোষ্ঠীর সংযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
রথযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে উল্টো রথযাত্রার দিনে মতিঝিল এলাকায় বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের নেপথ্যে কোনো মহল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র করছিল কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে উগ্রবাদী তৎপরতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের রাজপথের তৎপরতা বা নাশকতামূলক সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, দলটির সে ধরনের কোনো বড় নাশকতার সক্ষমতা আছে বলে মনে হয় না; রাজনীতিতে নিষিদ্ধ থাকার কারণে বিদেশ থেকে মাঝে মাঝে তাদের ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতি ছাড়া মাঠে কোনো বড় তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত সমাবেশে হামলার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
/আশিক
বয়স্ক ও বিধবা ভাতার আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য নতুন আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। অনলাইনভিত্তিক এই কার্যক্রম ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন উপকারভোগী নির্বাচনের লক্ষ্যে আবেদন গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। নির্দেশনাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তির পাশাপাশি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতাভুক্ত বিভিন্ন সুবিধার জন্যও আবেদন করা যাবে। এর মধ্যে হিজড়া, বেদে ও অন্যান্য অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং চা-শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আগ্রহী ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা তথ্যব্যবস্থার অনলাইন আবেদন প্ল্যাটফর্মে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানা যে ইউনিয়ন, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন এলাকায়, সেই ঠিকানার ভিত্তিতেই আবেদন দাখিল করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর এবং ট্র্যাকিং আইডি ব্যবহার করে আবেদনের অগ্রগতিও অনলাইনে দেখা যাবে।
প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদনকারীর জন্য প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ ব্যবস্থার আওতায় ইস্যু করা সুবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। ভাতার অর্থ গ্রহণের জন্য আবেদনকারীর নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাব অথবা ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রয়োজন হবে। ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হলে যোগাযোগের জন্য সক্রিয় মোবাইল নম্বরও আবেদনে উল্লেখ করতে হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, যারা ইতোমধ্যে সরকারের অন্য কোনো নিয়মিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে একই ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন, তারা নতুন করে এই কর্মসূচির উপকারভোগী হিসেবে বিবেচিত হবেন না। একই ব্যক্তির নামে একাধিক সরকারি ভাতা গ্রহণ ঠেকাতে আবেদনকারীর তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হবে।
আগে অনলাইনে আবেদন করে যাদের নাম অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে, তাদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। আগের অপেক্ষমাণ আবেদন এবং নতুনভাবে জমা পড়া আবেদন একসঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হবে। তবে আবেদনকারীকে নিজের তথ্য সঠিক ও হালনাগাদ আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবেদন করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাতার জন্য নির্বাচিত হবেন না। প্রথমে আবেদনকারীর বয়স, আর্থিক অবস্থা, প্রতিবন্ধিতার তথ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, স্থায়ী ঠিকানা এবং অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণ করছেন কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হবে। এরপর প্রচলিত নীতিমালা, স্থানীয় যাচাই কমিটির সুপারিশ এবং বরাদ্দসংখ্যার ভিত্তিতে চূড়ান্ত উপকারভোগীর তালিকা প্রস্তুত হবে।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ব্যক্তিরা বরাদ্দ ও প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে ১ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট ভাতা বা শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তবে আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর যাচাই, অনুমোদন এবং অর্থ ছাড়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছু সময় লাগতে পারে।
আবেদন করার সময় নাম, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং আর্থিক হিসাবের তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে। ভুল তথ্য, অন্যের মোবাইল হিসাব, অস্পষ্ট কাগজপত্র কিংবা ঠিকানায় অসামঞ্জস্য থাকলে আবেদন বাতিল বা যাচাইয়ে বিলম্ব হতে পারে। আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর পাওয়া ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ করাও জরুরি।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক আবেদন ও কর্মসূচির তথ্য রয়েছে। আবেদনকারীদের কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তিকে অর্থ না দিয়ে প্রয়োজনে নিকটস্থ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-রাফসান
মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির জোরালো প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ
মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির কূটনৈতিক ও কৌশলগত প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। নিকটবর্তী প্রতিবেশী হিসেবে রাখাইন রাজ্য বা মিয়ানমার থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে ঢাকা। রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এইচই ইউকাউ সো মো এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলে বাংলাদেশের এই আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বাংলাদেশে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় প্রতিবেশীদের সঙ্গে সহযোগিতার অংশ হিসেবে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংগ্রহের প্রস্তাব বিবেচনায় এনেছে বাংলাদেশ। জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেন এবং সরাসরি পাইপলাইনের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আকারেও সরবরাহের নানাবিধ সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব প্রকাশ করেন।
আলোচনায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত সংযোগ পাইপলাইন স্থাপনের পূর্বে স্থগিত হওয়া প্রস্তাবটিকে পুনরায় গতিশীল করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরের কাঠামোগত প্রস্তাব স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দ্বিপাক্ষিক পাইপলাইন সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে তা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পরিধি বিস্তারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে জ্বালানি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র উন্মোচনের সুযোগ নিয়ে বিস্তৃত মতামত বিনিময় হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
হাইকোর্টে জোড়া মামলায় জামিন পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
আদালতের পৃথক দুটি মামলায় জামিন পেয়েছেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর, হামলা ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় তার জামিন সংক্রান্ত রুলের ওপর শুনানি শেষে রোববার (২ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। তবে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা বিচারাধীন থাকায় এখনই তিনি কারামুক্তি পাচ্ছেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার নিযুক্ত আইনজীবী।
এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর এই দুই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন প্রশ্নে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। সেই রুলের শুনানি শেষে গত ২৬ জুলাই আদালত রায়ের তারিখ হিসেবে ২ আগস্ট দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত দিনে শুনানি শেষে জারি করা রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে রায় দেন উচ্চ আদালত। আদালতে আসামি পক্ষে আইনি পরিচালনা করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের জানান, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যা সংক্রান্ত মামলাটির বিচার কাজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রক্রিয়াধীন এবং রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলায় তার জামিন আদেশ স্থগিত রয়েছে। বাকি চারটি মামলার মধ্যে দুটি মামলায় হাইকোর্ট জামিনের আদেশ দিয়েছেন এবং অবশিষ্ট দুটি মামলার রুল শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।
উলেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি দায়ের করা হয়, যার ভিত্তিতে একই বছরের ২৫ নভেম্বর তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর তার জামিন আবেদনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সৃষ্ট সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হন। উক্ত হত্যার ঘটনায় নিহত আইনজীবীর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে পুলিশ ও সংক্ষুব্ধ পক্ষ থেকে আরও চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা নিয়ে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
/আশিক
হুতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌদি জোটে বাংলাদেশ, জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। রবিবার (২ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, হুতিদের উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দিয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, এই পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান বা দেশটিকে উপেক্ষা করার অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ তেহরানের সঙ্গেও বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে অংশগ্রহণের পেছনের প্রেক্ষাপট ও কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, রিয়াদের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও বহুমাত্রিক। এই সম্পর্ককে কেবল হজ, ওমরাহ বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি শক্তিশালী কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ। তিনি উল্লেখ করেন, পবিত্র দুই মসজিদের রক্ষক দেশ হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের এক ধরণের সুদৃঢ় আত্মিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধ জড়িত। তাই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনে সহায়তা চাওয়া হলে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে তাতে সাড়া দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
একই সংবাদ সম্মেলনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জামিন পাওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, সাবেক এই কর্মকর্তাকে ফেরত আনার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে মূল উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এ সংক্রান্ত আইনগত ও কূটনৈতিক আলোচনা চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত কোনো অগ্রগতি হলে তা স্বরাষ্ট্র বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- মঙ্গলবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি
- স্বর্ণ কিনবেন আজ? দেখে নিন বাজুসের সর্বশেষ দর
- ৫ আগস্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচির নির্দেশ
- স্বর্ণের সঙ্গে বাড়ল রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম
- আজ মঙ্গলবার বন্ধ যেসব মার্কেট, বের হওয়ার আগে দেখুন
- ফের বাড়ল তেলের দাম
- শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতকেই অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে: শামা ওবায়েদ
- শেষ মুহূর্তে ইউক্রেনে হামলা থামাল ইরান, কেন?
- সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও কাড়তে পারবে না অধিকার: সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন খসড়া
- জীবনহানি এড়াতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল: হরমুজ প্রণালি নিয়ে কী চুক্তি হতে যাচ্ছে?
- বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রটনা নাকি সত্য? নতুন বিজ্ঞপ্তিতে যা জানাল মন্ত্রণালয়
- মঙ্গলবার সকালে বিদ্যুৎহীন থাকছে যেসব এলাকা
- শতাধিক মানুষের মাঝে গোল্ডেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিনামূল্যে চশমা বিতরণ।
- সমকামিতা কি মানসিক ব্যাধি? আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতামত
- সেপ্টেম্বরের মেগা টুর্নামেন্টে বড় চমক: কাকে উড়িয়ে আনা হচ্ছে ঢাকায়?
- ভারতের পূর্ব সীমান্তে ২৫০টি চিনা হাউইটজার মোতায়েন করল পাকিস্তান
- নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার নেপথ্যে যেসব মূল কারণ!
- তেলের দাম কমায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণের দর
- ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার গুজব উড়িয়ে দিল তেহরান: নেপথ্যে কী কারণ?
- অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করার কড়া নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- ৫ আগস্ট নতুন রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী?
- পুরো পুলিশ টিম একসঙ্গে চা-বিশ্রামে যাওয়া নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া সতর্কতা
- মঞ্চের পর্দার আড়াল থেকে ব্যান্ডেজ চোখে ফিরে এলেন এনসিপি সমন্বয়ক!
- বয়স্ক ও বিধবা ভাতার আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
- ‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প
- ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বদলে গেল তেলের বাজার
- দুই বছর পর প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা, কী বলবেন?
- তেলের দাম কমতেই লাফ দিল স্বর্ণের বাজার
- যেসব দেশে দিনদুপুরে নেমে আসবে রাতের অন্ধকার!
- মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির জোরালো প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ
- ৪০ মিলিয়ন ইউরোয় ইতালি পাড়ি জমাচ্ছেন আর্জেন্টাইন তারকা
- এমপি লুনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ‘ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর ট্রাস্টিবৃন্দ
- সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত বল্লভপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা
- কীভাবে এলো এই বিশেষ দিন: বন্ধু দিবসের অজানা কথা
- এশিয়ান গেমস ফুটবলের সূচি প্রকাশ, কোন গ্রুপে বাংলাদেশ?
- হাইকোর্টে জোড়া মামলায় জামিন পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
- ভারতের গণতান্ত্রিক উদাহরণ টেনে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য
- হুতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌদি জোটে বাংলাদেশ, জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- অপারেশন শরতের তুফান: ৮ বছর পর ট্রাইব্যুনালে উঠে এল কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য?
- সাবেক সরকারের মতো একই আচরণ ধারণ করছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী: জামায়াত আমির
- ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প
- আরব আমিরাতে জামিন পেলেন সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ
- ফের পরিবর্তন এলপিজি গ্যাসের দামে: রোববার সন্ধ্যা থেকে নতুন রেট কার্যকর
- টানা সাড়ে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে কারওয়ান বাজারে প্রতিবাদী কর্মসূচি: কঠোর আলটিমেটাম এনসিপির
- আগস্ট জুড়ে আবহাওয়া কেমন থাকবে? দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বিডব্লিউওটির বিশেষ বার্তা
- ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার রূপরেখা পেশ
- সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন ইউকে নবগঠিত (আংশিক) কমিটি ঘোষণা
- অন্যায়ের অবসান ও নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বদলে গেল তেলের বাজার
- বিশ্ব-ব্যবস্থা তত্ত্ব: পুঁজিবাদী বিশ্ব-অর্থনীতি, নির্ভরতা ও বাংলাদেশের অবস্থান
- ‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প
- মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির জোরালো প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ
- তেলের দাম কমতেই লাফ দিল স্বর্ণের বাজার
- ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে
- গোপন ভিডিও কাণ্ডে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে গাড়িচালকের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
- সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের
- ছাত্রদলের পদ থাকাটাই এখন চাকরির প্রধান কোয়ালিফিকেশন
- দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ বার্তা পাঠাল সরকার
- পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বদলাতে পারে, ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা ইসরায়েলের
- যানজট নিরসন ও যাতায়াত সহজ করতে সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্কের পথে বাংলাদেশ
- বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে বাহুবল পুলিশ ফাঁড়িতে এনসিপির লিখিত অভিযোগ
- জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক হামলা, ভূপাতিত করল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
- পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর








