দ্য গার্ডিয়ানের সাথে সাক্ষাৎকার

“মানুষ এখনো সরকারকে শত্রু ভাবে” — প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ১৩ ১২:৫০:৩০
“মানুষ এখনো সরকারকে শত্রু ভাবে” — প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

এক বছর পেরিয়ে গেছে সেই ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার জাগরণ, যা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রবাসে পাঠিয়ে দেয়। সেই আন্দোলনের পথ বেয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এখন, আন্দোলনের এক বছর পরে, তিনি বলছেন—"এই দেশের মানুষ এখনো সরকারকে তাদের শত্রু মনে করে"।

দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিশদ সাক্ষাৎকারে ইউনূস বলেন, রাষ্ট্র এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক এতটাই বিষাক্ত হয়ে উঠেছে যে মানুষ সরকারের কাছে সুযোগ বা সেবা প্রত্যাশা করে না, বরং নিরাপদ দূরত্বে থাকতে চায়। তার ভাষায়, "সরকার যেন এক সর্বগ্রাসী শত্রু; যাকে মোকাবেলা না করে, এড়িয়ে চললেই বাঁচা যায়।"

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট: কোটা সংস্কার থেকে গণআন্দোলনে রূপান্তর

২০২৪ সালের জুন-জুলাই মাসে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে। কোটা সুবিধা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগপন্থী সংগঠন ও ব্যক্তিদের জন্য রক্ষা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে, যা সমতার নীতির পরিপন্থী বলে শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল।

কিন্তু অল্প সময়েই এই দাবির বাইরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে—জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, তরুণদের জন্য চাকরির সংকট, দুর্নীতির ব্যাপকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, এবং একটি স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের সামগ্রিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে, সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য মঞ্চ তৈরি করে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায় ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় প্রয়োজনে সম্মতিতে। এর নেতৃত্বে আসেন ড. ইউনূস, যাকে তখন পর্যন্ত বিতর্কিত ও প্রশংসিত দুই চরিত্রেই দেখা হচ্ছিল।

রাষ্ট্রব্যবস্থার অবক্ষয় ও জনগণের বিচ্ছিন্নতা

সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এমনভাবে দুর্নীতি ও সুবিধাবাদ জেঁকে বসেছিল যে, জনগণের মনে সরকারের প্রতি স্থায়ী অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন,

"পাসপোর্ট বানাতে চাইলে টাকা লাগে, ব্যবসা শুরু করতে চাইলে ঘুষ লাগে, এমনকি গরিব কৃষক যদি তার জমির দলিল হালনাগাদ করতে চায়, সেখানেও তাকে কারও পকেট ভারী করে দিতে হয়।"

"মানুষ মনে করে সরকার মানেই হয়রানি, সরকার মানেই শোষণ। এমন বাস্তবতায় রাষ্ট্র আর নাগরিকের সম্পর্কটা একটা যুদ্ধের মতো মনে হয়।"

তিনি আরও বলেন, এই অবিশ্বাস কাটাতে হলে শুধুমাত্র ব্যক্তি পরিবর্তন নয়, চাই পদ্ধতিগত সংস্কার। এবং সেটাই অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য।

অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ: সংস্কার কমিশন ও 'জুলাই সনদ'

ড. ইউনূস জানান, তার সরকার প্রথম ছয় মাসেই নির্বাচন ব্যবস্থা, প্রশাসন, দুর্নীতি দমন এবং সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে চারটি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এসব কমিশন জানুয়ারি ২০২৫-এ সুপারিশ জমা দেয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে একটি ঐকমত্যের নীতিপত্র তৈরি হচ্ছে, যার নাম 'জুলাই সনদ'

এই সনদে যে কয়েকটি মূল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা হচ্ছে: নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও পুনর্গঠন, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের জন্য মেয়াদ সীমা, দুর্নীতির জন্য স্বাধীন 'জাতীয় অডিট আদালত', ডিজিটাল আইনের সংস্কার এবং বাকস্বাধীনতা রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর প্রসার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়নে স্বচ্ছতা।

ড. ইউনূস চান, ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মধ্যেই এই সনদ চূড়ান্ত হোক এবং এপ্রিলের নির্বাচনের আগে তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হোক।

রাজনৈতিক সমঝোতা ও বাধা

সংসদীয় রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হচ্ছে বিএনপি। আন্দোলনের সময় তারা মাঠে সক্রিয় না থাকলেও, আওয়ামী লীগের পতনের পর তাদের জনপ্রিয়তা বাড়ে।

বিএনপি আগাম নির্বাচনের দাবি করছে এবং 'দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্ব' সীমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তবে ইউনূস বলছেন,

"এই দেশে আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো কনসেন্সাস ছিল না। এখন অন্তত সবাই টেবিলে বসছে, কথা বলছে। এটা ছোট অর্জন নয়।"

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ঐকমত্য ধরে রাখা এবং তা লিখিত রূপ দেওয়া হবে আসল পরীক্ষা।

অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যবসা: মাইক্রোক্রেডিট মডেল পুনর্গঠন

ড. ইউনূস তার বহু প্রশংসিত মাইক্রোক্রেডিট মডেলকে আরও প্রতিষ্ঠিত করতে চান একটি নতুন কাঠামোর মধ্য দিয়ে। বর্তমানে এনজিওরাই ক্ষুদ্রঋণ সেবা দেয়। কিন্তু তিনি চান মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হোক, যা অলাভজনকভাবে গরিব মানুষের ব্যবসায়িক উদ্যোগে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন,

"অনেকে এখন মাইক্রোক্রেডিটকে বলছে শোষণের মাধ্যম। কারণ, কিছু প্রতিষ্ঠান উচ্চ সুদে ঋণ দিচ্ছে। আমি বলছি, এটি একটি দুর্দান্ত সামাজিক মডেল, এবং এটি বিশ্বব্যাপী কপি করা হয়েছে। সমস্যা নয়, বরং এটি সমাধান।"

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিদায়ের প্রস্তুতি

ড. ইউনূস বলেছেন, তিনি নির্বাচনের পর আর সরকারের অংশ হতে চান না। তার ভাষায়,

"আগে শুধু আওয়ামী লীগ আমাকে গালাগাল দিত, এখন সবাই দেয়। এটা এই পদে থাকলে স্বাভাবিক। কিন্তু আমার কাজ হচ্ছে একটা ভিত্তি তৈরি করে দেওয়া, যাতে আমরা একটা সুস্থ, স্থিতিশীল রাষ্ট্রের দিকে যাত্রা শুরু করতে পারি।"

তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে যদি একটি গ্রহণযোগ্য সরকার আসে এবং 'জুলাই সনদ' কার্যকর হয়, তবে তবেই শুরু হবে 'নতুন বাংলাদেশের' বাস্তব পথচলা।

একটি যুগান্তকারী সন্ধিক্ষণ

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪-২৫ সাল একটি যুগান্তকারী সময়। গণজাগরণ, ক্ষমতা পরিবর্তন, এবং একটি অভূতপূর্ব অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পথচলা আজ ঐতিহাসিক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে এই সরকার যদি রাজনৈতিক ঐকমত্য, প্রশাসনিক সংস্কার, এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রেখে যেতে পারে, তাহলে ২০২৫ সালের নির্বাচন শুধু নতুন সরকারের সূচনা নয়, এক নতুন রাষ্ট্রচিন্তারও সূচনা হবে।


প্রত্যাশিত দেশ গড়তে দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ১৫:২৬:৫৮
প্রত্যাশিত দেশ গড়তে দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ও উৎসবের আমেজে দেশবাসীকে নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঈদ-পরবর্তী এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন, জনগণ যে ধরনের দেশ দেখতে চায়, সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই তাঁর সরকার নিরলস কাজ করে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "এই ঈদে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন আমরা সবার প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।" একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন দেশ গড়তে দল-মত নির্বিশেষে সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, দেশবাসীর সমর্থন থাকলে জনগণের চাওয়া অনুযায়ী দেশ গঠনে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে।

এদিন সকালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, আলেম-ওলামা এবং সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরে তাঁর বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি গুলশানের বাসভবনে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সময় কাটাবেন বলে জানানো হয়েছে।

/আশিক


নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রথম ঈদ: উৎসব, ঐক্য ও প্রত্যাশার বাংলাদেশ

রাফসান খান
রাফসান খান
স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ০৭:১৮:৩০
নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রথম ঈদ: উৎসব, ঐক্য ও প্রত্যাশার বাংলাদেশ

এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর আজ উদ্‌যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ত্যাগ, সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষায় উজ্জ্বল এই দিনটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য উপলক্ষ। রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদের প্রধান জামাত, আর শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। নতুন পোশাক, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলন এবং আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে মানুষ উদ্‌যাপন করছে বছরের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসব।

তবে এবারের ঈদ এসেছে এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পর এটি দেশের প্রথম ঈদুল ফিতর। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবারের ঈদকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ এক আবহ। রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ ও ইতিবাচক প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যেখানে ঈদের নামাজ পৃথকভাবে আদায় করা হয়েছিল, সেখানে রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের এই একসঙ্গে অংশগ্রহণকে অনেকেই ঐক্য ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

ঈদ উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী এবং বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, রমজানের সিয়াম সাধনা মানুষকে অন্যায় ও পাপাচার থেকে দূরে রেখে নৈতিক গুণাবলি অর্জনে সহায়তা করে এবং ঈদ সেই অর্জনেরই আনন্দঘন প্রকাশ। তিনি একটি শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে ঈদের শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বিত্তবানদের প্রতি দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় বলেন, ঈদুল ফিতর আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে এবং রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত করাই এই উৎসবের মূল তাৎপর্য। তিনি সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাজধানী ঢাকায় এবার ঈদুল ফিতরে ১২১টি ঈদগাহ এবং ১৫৯৯টি মসজিদে মোট ১৭৭১টি জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে আটটায়, আর প্রতিকূল আবহাওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে, পাশাপাশি সংসদ ভবন এলাকা এবং বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে ঈদের নামাজের আয়োজন করা হয়েছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জাতীয় ঈদগাহসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারে।

অবশেষে গতকাল সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে এক ফালি চাঁদ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে বেজে ওঠে সেই চিরচেনা সুর, ঈদের আগমনের আনন্দধ্বনি। কয়েক দিন ধরে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি ভুলে মানুষ ফিরে গেছে আপন ঠিকানায়, প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে।

রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র উৎসবের প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আতর, টুপি, সেমাই, নতুন পোশাক কেনার ভিড়, রাতভর মেহেদি আঁকার আয়োজন, বিউটি পারলারে দীর্ঘ লাইন, আর ঘরে ঘরে রান্নার প্রস্তুতি মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক রঙিন উৎসবমুখর পরিবেশ। ঈদের সকালে নামাজ শেষে কোলাকুলি, মিষ্টি বিতরণ এবং পরিবারকেন্দ্রিক আনন্দের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পাচ্ছে এই উৎসব।

সার্বিকভাবে এবারের ঈদুল ফিতর কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঐক্য, সহমর্মিতা এবং আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এটি স্মরণ করিয়ে দেয়, রমজানের শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত অনুশীলনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে প্রতিফলিত হলেই প্রকৃত অর্থে ঈদের তাৎপর্য পূর্ণতা পায়।


বিরোধী দলীয় নেতার ঈদের শুভেচ্ছা: সরকারি বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ০৬:৫৩:৫৩
বিরোধী দলীয় নেতার ঈদের শুভেচ্ছা: সরকারি বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২০ মার্চ) দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা জানান এবং রমজানের শিক্ষা ধারণ করে একটি নৈতিক ও মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির বার্তা নিয়ে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পবিত্র রমজান আগমন করেছিল। তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, এই মাসে রোজা রাখার তাওফিক লাভ করা মহান নিয়ামত। তিনি দোয়া করেন, আল্লাহ যেন এই সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষের গুনাহ মাফ করে দেন এবং সবাইকে তাঁর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তিনি জানান, চাঁদ দেখা যাওয়ায় ইনশা-আল্লাহ পরদিন ঈদ উদযাপিত হবে এবং এই উপলক্ষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও দোয়া জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, রমজান শুধু ক্ষুধা ও পিপাসার কষ্টের শিক্ষা দেয় না; বরং এটি মানুষকে আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং তাকওয়ার পথে পরিচালিত করে। মানুষ এই মাসে কতটুকু কল্যাণ অর্জন করতে পেরেছে তা আল্লাহই ভালো জানেন, তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল্লাহ যেন সবাইকে তাঁর অনুগ্রহে কবুল করেন।

জামায়াত আমির আরও বলেন, তাকওয়া মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি সৃষ্টি করে, যা ব্যক্তি ও সমাজকে সুশৃঙ্খল ও কল্যাণমুখী করে তোলে। যাদের অন্তরে আল্লাহভীতি নেই, তারা সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অনাচার সৃষ্টি করে। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালনকারীদের প্রতিও আহ্বান জানান, যেন তারা আল্লাহভীতি ধারণ করে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বলেন, আল্লাহ যেন বাংলাদেশের ওপর তাঁর রহমত নাজিল করেন এবং দেশবাসীকে রিজিক ও সম্মানের বরকত দান করেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, ঈদের দিন তিনি রাজধানীর মিন্টো রোডের বাসভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। সকালবেলায় নিজ নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫-এ ঈদের নামাজ আদায় করবেন এবং নামাজ শেষে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। পরে বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থানরত কূটনীতিকদের সঙ্গে এবং বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে।

সার্বিকভাবে তার এই বার্তায় ঈদকে কেন্দ্র করে শুধু শুভেচ্ছা নয়, বরং রমজানের শিক্ষা ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, সহমর্মিতাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের আহ্বান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

ইশরাত/২০২৬-৪৫৪৬


রমজানের শিক্ষা থেকে ঐক্যের ডাক: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ০৬:৪৩:১৫
রমজানের শিক্ষা থেকে ঐক্যের ডাক: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পবিত্র মাহে রমজানের ত্যাগ, তাকওয়া ও সংযমের শিক্ষা ধারণ করে ঈদুল ফিতরের আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি জাতির উদ্দেশে এই আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন-এ প্রচারিত বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর এসেছে মুসলিম উম্মাহর জন্য ঐক্য, সংহতি, সহমর্মিতা এবং অনাবিল আনন্দের বার্তা নিয়ে। তিনি সকলকে রমজানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখার আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, ঈদ কেবল উৎসবের আনন্দ নয়, বরং এটি সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঈদের আনন্দ দেশের প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি পরিবারে এবং প্রতিটি মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে যাবে। বিশেষ করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের পাশাপাশি বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতিও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, এই পবিত্র উৎসব যেন শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে। তিনি সকলকে ঈদ মোবারক জানিয়ে দেশের সার্বিক কল্যাণ ও অগ্রগতির জন্য দোয়া কামনা করেন।

সামগ্রিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা কেবল শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক আহ্বান, যেখানে রমজানের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমে একটি সহমর্মিতাপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

ইশরাত/২০২৬-৫৪৬৩


শ্রমিকদের বেতন-বোনাস শতভাগ পরিশোধ করছে সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১১:০৫:১৫
শ্রমিকদের বেতন-বোনাস শতভাগ পরিশোধ করছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

ঈদকে সামনে রেখে দেশের শ্রমবাজারে স্বস্তির বার্তা এসেছে। সরকার নিশ্চিত করেছে যে শ্রমিকদের বেতন ও উৎসব বোনাস সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করা হয়েছে, যার ফলে অতীতের মতো কোনো শ্রমিক অসন্তোষ এবার দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শাহী ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কেবল নিয়মিত বেতনই নয়, বরং ঈদ বোনাসও শতভাগ পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে শিল্পাঞ্চলগুলোতে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং শ্রমিকদের মধ্যে সন্তুষ্টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে সরকার প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। এই উদ্যোগের ফলে কারখানাগুলো সময়মতো শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে সক্ষম হয়েছে, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সফলতার পেছনে সরকারের সদিচ্ছা, নীতিগত অঙ্গীকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক সংকেত।

প্রবাসী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের ভেতরের শ্রমিকদের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও সহায়তায় সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের পর থেকেই এসব কারখানা চালুর কার্যক্রম শুরু হবে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বিদেশগামী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। আগামী মাস থেকে এই প্রশিক্ষণ উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা যায় এবং প্রবাসে গিয়ে শ্রমিকরা কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হন।

শ্রমিকদের প্রতারণা থেকে রক্ষার বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। দালালচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে অনেককে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবারকেও সচেতন করা হচ্ছে, কারণ কিছু প্রতারক চক্র বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের জিম্মি করে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে।

-রাফসান


বৃষ্টির বাধায় কি ম্লান হবে ঈদের আনন্দ? আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ২১:৪৫:০০
বৃষ্টির বাধায় কি ম্লান হবে ঈদের আনন্দ? আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আগামী ৫ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করায় সারা দেশেই ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে আগামী তিন দিন দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আজ সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতে সামান্য বাড়তে পারে।

আগামীকাল শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশের আট বিভাগেই ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং ওই দিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ওই দিনও শিলাবৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস। তবে রোববার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে শুরু করবে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা পুনরায় সামান্য বাড়তে পারে। মূলত সোমবারের পর থেকে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

/আশিক


২০২৬ সালে ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ২১:৩৯:৪১
২০২৬ সালে ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক চলাচলকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলছে।

ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো, ভ্রমণকারীদের কোনো ধরনের ভিসা আবেদন বা ফি প্রদানের প্রয়োজন হয় না। এক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্টই ভ্রমণের জন্য প্রধান এবং একমাত্র প্রয়োজনীয় নথি হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় করে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকরা বার্বাডোস, বাহামাস, ভুটান, মাইক্রোনেশিয়া, গ্রানাডা, গাম্বিয়া, হাইতি, জামাইকা, কুক আইল্যান্ডস, ডোমিনিকা, ফিজি, কিরিবাতি, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, মাদাগাস্কার, মন্টসেরাট, নিয়ু, ভার্জিন আইল্যান্ডস, রুয়ান্ডা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস এবং ভানুয়াতুসহ একাধিক দেশে ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবেন।

এছাড়াও কিছু দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ সুবিধা প্রদান করে, যেখানে ভ্রমণকারীরা গন্তব্যে পৌঁছানোর পরই ভিসা সংগ্রহ করতে পারেন। এই তালিকায় রয়েছে বলিভিয়া, বুরুন্ডি, কাবো ভার্দে, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, মালদ্বীপ, নেপাল, সিশেলস, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, তিমুর-লেসতে, টুভ্যালু ও সামোয়া।

অন্যদিকে, কিছু দেশে ভ্রমণের আগে অনলাইনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) গ্রহণ করতে হয়। কেনিয়া ও শ্রীলংকা এ ধরনের প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত, যেখানে আগাম অনুমোদন নিয়ে সহজেই ভ্রমণ করা সম্ভব।

ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ভিসা নীতির শিথিলতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পাসপোর্ট শক্তির একটি ইতিবাচক প্রতিফলন। একইসঙ্গে এটি পর্যটন, ব্যবসা এবং শিক্ষা বিনিময়ের সুযোগও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভিসা ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ থাকলেও প্রতিটি দেশের নিজস্ব প্রবেশ শর্ত, অবস্থানের সময়সীমা এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ রয়েছে, যা ভ্রমণের আগে জেনে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আরও সহজ, গতিশীল এবং বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে, যা বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

-রফিক


জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত; শনিবারই উদযাপিত হবে ঈদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১৯:২১:৫৬
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত; শনিবারই উদযাপিত হবে ঈদ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামীকাল শুক্রবার ৩০ রোজা পূর্ণ হবে এবং আগামী শনিবার (২১ মার্চ) সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি জানান, দেশের সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, আজ বাংলাদেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার নির্ভরযোগ্য খবর পাওয়া যায়নি।

ধর্মীয় নিয়মানুযায়ী রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করে শনিবার থেকে শাওয়াল মাস গণনা শুরু হবে এবং ওই দিনই মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর পালিত হবে। উল্লেখ্য, ১৭ সদস্যের এই জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি প্রতি আরবি মাসের ২৯ তারিখে বৈঠকে বসে চাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করে।

/আশিক


বাড়তি ভাড়া নিলেই কড়া অ্যাকশন: সেতুমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১৭:৩৭:০২
বাড়তি ভাড়া নিলেই কড়া অ্যাকশন: সেতুমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঘরমুখী যাত্রীদের ঢল সামলাতে এবং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে টার্মিনাল পরিদর্শনে এসে তিনি দাবি করেন, যাত্রীদের কাছ থেকে কোথাও বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না।

মন্ত্রী জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়াই পরিবহনগুলোতে আদায় করা হচ্ছে, তবে কাউন্টার থেকে বাস ছেড়ে যাওয়ার পর মাঝপথ থেকে যাত্রী তোলার সময় কিছু বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব বিচ্যুতি রোধে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ইতিমধ্যে মোবাইল কোর্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

সড়ক মন্ত্রী আরও জানান, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে সড়ক, সেতু ও নৌ মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যত্রতত্র গড়ে ওঠা বাস কাউন্টারগুলোর কারণে সড়কে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিরসনে আগামীতে এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিল করার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন কাউন্টার ঘুরে দেখেন এবং সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন। যেখানেই নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: