বিস্ফোরণে পুড়েছে মুখ, হারিয়েছেন পা: নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ১৯:৪৭:৪৭
বিস্ফোরণে পুড়েছে মুখ, হারিয়েছেন পা: নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের পর বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির রহস্যময় নীরবতা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত ৮ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত তাঁকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে বিমান হামলায় আলী খামেনি ও মোজতবার পরিবার নিহত হয়েছিল, সেই একই হামলায় মোজতবা খামেনি নিজেও গুরুতর জখম হয়েছেন।

প্রতিবেদনটির তথ্যমতে, মোজতবার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে বেশ আশঙ্কাজনক। তাঁর একটি পায়ে ইতিমধ্যে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তিনি একটি কৃত্রিম পা স্থাপনের অপেক্ষায় আছেন। শুধু তাই নয়, বিস্ফোরণে তাঁর মুখ ও ঠোঁট মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না, যার জন্য ভবিষ্যতে বড় ধরণের প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

এছাড়া তাঁর একটি হাতের কার্যক্ষমতা ফেরাতেও জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, শারীরিক আঘাত গুরুতর হলেও তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ও সক্রিয় রয়েছেন।

নিরাপত্তার স্বার্থে মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থান এবং চিকিৎসাকেন্দ্র অত্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে। এমনকি আইআরজিসি-র শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও সেখানে যাওয়ার অনুমতি নেই। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বয়ং এই চিকিৎসার তদারকি করছেন বলে জানা গেছে।

কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা না দিয়ে তিনি মূলত সেকেলে পদ্ধতিতে হাতে লেখা সিলগালা করা চিঠির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন, যা বিশ্বস্ত কুরিয়ার চেইনের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হচ্ছে। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতির সুযোগে ইরানের শাসনব্যবস্থায় আইআরজিসি জেনারেলদের প্রভাব ও ক্ষমতা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: উইওন


বর্তমান সংকটের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ২০:৩৩:৩০
বর্তমান সংকটের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্র: ইরান
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্বাহী বোর্ডের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তিনটি ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে ইরানের স্বার্থবিরোধী ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি।

আইএইএর নির্বাহী বোর্ডের জুন মাসের ত্রৈমাসিক বৈঠক উপলক্ষে পাঠানো ওই চিঠিতে আরাঘচি বলেন, বর্তমান সংকটের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্র। তিনি দাবি করেন, আইএইএর নির্বাহী বোর্ডকে ব্যবহার করে ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

চিঠিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্বেষমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর আইএইএর নির্বাহী বোর্ডে একটি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালায়। এতে বহু সাধারণ ইরানি নাগরিক নিহত হন বলে দাবি করেন তিনি।

আরাঘচি প্রশ্ন তোলেন, আইএইএ কি আবারও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলাকে ন্যায্যতা দেওয়ার একটি মাধ্যম হয়ে উঠতে যাচ্ছে? তিনি আরও বলেন, যে পক্ষগুলো বর্তমান সংকটের জন্য দায়ী, তারাই এখন সমাধানের দাবিদার হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করছে।

চিঠিতে গত বছর জুনের পর থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক হামলা এবং ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনাকে আইএইএর ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং বিশ্বশান্তির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।

আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্যদের প্রতি তিনি সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মূল্যায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সংস্থাটিকে যেন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।

চিঠির আরেক অংশে ২০১৮ সালে পরমাণু চুক্তি জেসিপিওএ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রত্যাহারের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন আরাঘচি। তিনি বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলাকালে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ এবং আইএইএর তত্ত্বাবধানে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবহেলার প্রমাণ।

এ অবস্থায় বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্যদের প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবের বিরোধিতা করার আহ্বান জানান এবং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরসের চলমান ত্রৈমাসিক সভায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানবিষয়ক একটি খসড়া প্রস্তাব সদস্য দেশগুলোর বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করেছে। এর পরপরই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে এই চিঠি পাঠিয়েছে তেহরান।

সূত্র: ইরনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: হরমুজ প্রণালির ইরানি কেশম দ্বীপে ফের বিকট বিস্ফোরণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ১৮:৩৩:৩২
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: হরমুজ প্রণালির ইরানি কেশম দ্বীপে ফের বিকট বিস্ফোরণ
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট ওমান উপসাগর সংলগ্ন ইরানের কেশম দ্বীপে (Qeshm Island) আবারও এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে। আজ বুধবার (১০ জুন ২০২৬) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে একই দ্বীপ ও তার আশেপাশের উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর বড় ধরনের হামলার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘মেহের নিউজ’ (Mehr News) এক জরুরি বুলেটিংয়ে জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে ঘটা সর্বশেষ এই রহস্যময় বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে দেশটির সরকার বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ভোররাত থেকেই ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশ এবং পারস্য উপসাগরসংলগ্ন বিভিন্ন স্পর্শকাতর সামরিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, মার্কিন আগ্রাসনের মুখে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডস (IRGC) বসে থাকেনি, তারা এসব হামলার অত্যন্ত দ্রুত ও পাল্টা দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে। মূলত গত সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ওমান আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সর্বাধুনিক ‘এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি’ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকেই এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দাবি করেছিলেন যে, ওই অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি কারিগরি ত্রুটিতে নয়, বরং ইরান অন্যায়ভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ভূপাতিত করেছে। এই ঘটনার পরপরই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে চড়া মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি দেন এবং এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের উপকূলীয় রাডার ও ড্রোন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তীব্র হামলা শুরু করে।

মার্কিন বাহিনীর এই অতর্কিত আক্রমণের জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর একযোগে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন প্রধান সামরিক ঘাঁটি ও স্ট্র্যাটেজিক ক্যাম্পগুলো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে আত্মঘাতী ড্রোন এবং দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই রক্তক্ষয়ী পাল্টাপাল্টি হামলার পর সাময়িকভাবে উভয় পক্ষই সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিলেও পরিস্থিতি এখনো চরম উত্তপ্ত।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডস (IRGC) মার্কিন প্রশাসনকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো মার্কিন ড্রোন বা মিসাইল হামলা হলে তার চূড়ান্ত জবাব আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি প্রলয়ংকরী ও কঠোর হবে। এদিকে উদ্ভূত এই যুদ্ধপরিস্থিতি নিয়ে আঞ্চলিক মিত্র দেশ সৌদি আরব এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। কূটনৈতিক আলোচনায় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ বিপজ্জনক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন আগ্রাসনের সার্বিক চিত্র তাঁদের কাছে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেছেন।

/আশিক


ইরান আলোচনায় অনেক বেশি সময় নিয়েছে, এখন মূল্য চুকাতে হবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ১৮:১৭:০২
ইরান আলোচনায় অনেক বেশি সময় নিয়েছে, এখন মূল্য চুকাতে হবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান তীব্র আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার আরও এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান অনেক বেশি সময় নষ্ট করেছে এবং এর জন্য দেশটিকে এখন চড়া ‘মূল্য চুকাতে হবে’। নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে অত্যন্ত কড়া মন্তব্য করেন।

তিনি সরাসরি দাবি করেন, মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানের পুরো সামরিক বাহিনী এখন সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কার্যত আর কোনো অস্তিত্বই অবশিষ্ট নেই। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চাঞ্চল্যকর পোস্টের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ওই পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের আঞ্চলিক শক্তির দম্ভকে নাকচ করে দিয়ে আরও বলেন, তারা (ইরান) কৌশলগতভাবে বর্তমানে পুরোপুরি পরাজিত হয়েছে। ইরান আসলে শুধু বন্ধ দরজার পেছনে বড় বড় কথাই বলে, কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই করতে পারে না; যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে দাদাগিরি করা শক্তির আজ চূড়ান্ত মৃত্যু ঘটেছে। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, হোয়াইট হাউজ বা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি পরমাণু চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ইরান অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক বেশি সময়ক্ষেপণ করেছে, অথচ এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে তা খোদ ইরানের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই খুবই ভালো ও লাভজনক হতে পারত।

যেহেতু তারা সুযোগ হাতছাড়া করেছে, তাই এখন তাদের এর চড়া মূল্য দিতে হবে। তবে নিজের পোস্টে ‘মূল্য চুকাতে হবে’ বলতে ট্রাম্প ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন—তা সামরিক কোনো পদক্ষেপ নাকি নতুন করে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউজ বা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।

/আশিক


উপকূলে ৫ নতুন পারমাণবিক কেন্দ্র গড়ছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ০৯:১৯:০১
উপকূলে ৫ নতুন পারমাণবিক কেন্দ্র গড়ছে ইরান
ছবি: সংগৃহীত

দেশটির ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পারমাণবিক শক্তির অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বড় ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ইরান। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপকূলীয় পাঁচটি নতুন স্থানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে তেহরান। ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের আলোকে এসব প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সংসদের জ্বালানি ও নির্মাণবিষয়ক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে ইসলামি বলেন, ২০২২ সালে অনুমোদিত পারমাণবিক শিল্পের সমন্বিত কৌশলগত নথি অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই পরিকল্পনার অধীনে পারস্য উপসাগর ও উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক জ্বালানির অবদান বাড়ানো এখন ইরানের অন্যতম অগ্রাধিকার। কারণ দীর্ঘমেয়াদে এটি তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

ইসলামি আরও জানান, বর্তমানে চালু থাকা বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ইতোমধ্যে ৮০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। তার দাবি, এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে প্রায় ১৩১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিংবা ২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের প্রয়োজন হয়নি। ফলে দেশের জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে ইরানের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক কেন্দ্র। তবে তেহরান এটিকে আর একক প্রকল্প হিসেবে রাখতে চায় না। বরং আগামী দশকে একাধিক পারমাণবিক কেন্দ্রের মাধ্যমে একটি বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে দেশটি।

ইরানের পারমাণবিক সংস্থার প্রধান জানান, প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বুশেহর কেন্দ্রের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট নির্মাণকাজও চলমান রয়েছে। তিনি এসব প্রকল্পকে দেশের বৃহত্তম অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মসূচির অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, নতুন ইউনিটগুলো চালু হলে জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটবে এবং শিল্প খাত আরও স্থিতিশীল জ্বালানি সুবিধা পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যেও ইরান পারমাণবিক শক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। দেশটি মনে করছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়ালে মূল্যবান তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সহায়ক হবে।

এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় বুশেহর পারমাণবিক স্থাপনাকে একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে এসব ঘটনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা কেন্দ্রের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

-রাফসান


মার্কিন হামলার জবাবে একযোগে পাল্টা আঘাত ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ০৯:০২:৫৫
মার্কিন হামলার জবাবে একযোগে পাল্টা আঘাত ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বিস্ফোরক রূপ নিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

বুধবার ভোরে বাহরাইনের আকাশে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার পর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সরকারি বার্তায় জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়। একই সময়ে বাহরাইনের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

এরপর আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত এই নৌবহর দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক কৌশলের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তবে হামলার ফলে কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, সামরিক অবকাঠামো বা সেনা সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। বাহরাইন সরকার কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

একই সময়ে কুয়েতেও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক লক্ষ্যবস্তু পর্যবেক্ষণ ও প্রতিহত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কুয়েতি কর্তৃপক্ষ জনগণকে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। যদিও সম্ভাব্য হামলার প্রকৃতি, উৎস কিংবা কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আল আজরাক এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর দূরপাল্লার সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘাঁটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল এবং হামলাটি ছিল সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের জবাব। তবে জর্ডান সরকার এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিস্ফোরণ বা বিমান হামলার সাইরেন বাজার ঘটনা নিশ্চিত করেনি। ফলে ইরানের এই দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনার সূচনা হয়েছিল, তা এখন দ্রুত বহুমাত্রিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকেই নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে একটি অনিশ্চিত নিরাপত্তা বাস্তবতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালির মাধ্যমে সরবরাহ হওয়ায় যেকোনো সামরিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। তবে মাঠের বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এখন আরও জটিল ও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করছে।

সূত্র: সিএনএন


হরমুজে বিস্ফোরণ, ইরানে ফের মার্কিন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ০৮:০০:২১
হরমুজে বিস্ফোরণ, ইরানে ফের মার্কিন হামলা
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার তারা ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করে। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির আশপাশে অবস্থিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভূমি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এ অভিযানে মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে একটি অ্যাপাচি যুদ্ধ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই সামরিক প্রতিক্রিয়া আসে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হেলিকপ্টারটি ইরানি বাহিনীর আক্রমণের শিকার হয়েছিল। যদিও ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারটিতে থাকা দুই পাইলট সমুদ্রে পড়ে গেলেও পরবর্তীতে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। আধুনিক সামুদ্রিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ধার অভিযান ভবিষ্যতের সামরিক কৌশলে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

এদিকে মার্কিন হামলার পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন আঞ্চলিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বন্দর আব্বাস, কিশম ও সিরিক অঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এসব স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হামলাকে ‘সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও তেহরান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষায়, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া দিতে দেশটি প্রস্তুত রয়েছে।

আরাগচি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের অবস্থান দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তবে তেহরান এ ধরনের কৌশলে নতি স্বীকার করবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি মার্কিন উপস্থিতিকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করে। ফলে অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, শিপিং রুট এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

-রাফসান


রাডারের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ২১ লাখ ব্যারেল তেলের গোপন প্রবাহ সচল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ২১:৫১:৩২
রাডারের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ২১ লাখ ব্যারেল তেলের গোপন প্রবাহ সচল
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের জের ধরে গত তিন মাস ধরে কার্যত অচল বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের ফুসফুসখ্যাত ‘হরমুজ প্রণালী’। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে জলপথটি বন্ধ থাকায় ইতিহাসে অন্যতম বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকটে পড়েছে বিশ্ব। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, এই মহাকটূক্তির মাঝেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম এবং তুলনামূলক শান্ত রয়েছে, যা বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় ধাঁধায় পরিণত হয়েছে।

বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের (JPMorgan) হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের আগের তুলনায় বর্তমানে এই রুটে দৃশ্যমান জাহাজ চলাচল মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে এলেও বাজার কেন এখনও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, তার নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটন করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকেরা।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর ওপর আরোপিত এই কঠোর সামরিক ও নৌ নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও বাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে মূলত একটি ‘গোপন প্রবাহ’ (Clandestine Flow)। কিছু তেলবাহী জাহাজ তাদের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বা ট্রান্সপন্ডার (Transponder) সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে, আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়িয়ে ‘ভূতের মতো’ অন্ধকারে হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছে। জেপি মরগানের তথ্যানুযায়ী, মে মাসের শেষ দুই সপ্তাহে প্রতিদিন প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল তেল এভাবে অলৌকিকভাবে পরিবহন হয়েছে।

যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এই পথে ১ কোটি ৫৬ লাখ ব্যারেল তেল যেতো; সেই তুলনায় এই গোপন প্রবাহ কম হলেও বৈশ্বিক বাজারে তাৎক্ষণিক বড় ধাক্কা সামলানোর ক্ষেত্রে এটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। জেপি মরগানের বৈশ্বিক পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান নাতাশা কানেভা এক নোটে বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন, “কঠোর নৌ অবরোধ সত্ত্বেও আশ্চর্যজনক পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এখনও হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে পার হচ্ছে।”

অন্যদিকে পাইপার স্যান্ডলারের বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতিবিদ জান স্টুয়ার্টের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসে প্রতিদিন মোট ২৯ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ দিয়ে বের হয়েছে, যার মধ্যে ৯ লাখ ব্যারেল ছিল সম্পূর্ণ ‘ভূতুড়ে’ বা অন্ধকারে চলাচল করা জাহাজ এবং বাকি ২১ লাখ ব্যারেল ইরানি সংস্থাকে ফি দিয়ে পার হয়েছে। র‍্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের সভাপতি বব ম্যাকন্যালিও স্বীকার করেছেন যে, এই গোপন প্রবাহের কারণে হরমুজ দিয়ে তেল চলাচল আমরা যতটা শূন্যের কোঠায় ভেবেছিলাম, বাস্তবে তার চেয়ে কিছুটা বেশি হচ্ছে।

গোপন প্রবাহের পাশাপাশি তেলের বাজার শান্ত থাকার পেছনে আরও কয়েকটি বড় কৌশলগত কারণ কাজ করছে। পাইপার স্যান্ডলারের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৪৫ লাখ ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগরের মূল রুট এড়িয়ে বিকল্প পথে বের করা হচ্ছে, যার বড় অংশ যাচ্ছে ‘সৌদি ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের’ মাধ্যমে—যা সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রগুলোকে সরাসরি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

এ ছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ চীন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানি এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে এবং তাদের বিশাল কৌশলগত মজুত (Strategic Reserve) থেকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের তীব্র চাপ অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। আর এসব কারণেই আন্তর্জাতিক তেলের মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ (Brent Crude) সম্প্রতি সর্বোচ্চ ১১৪ ডলারে ওঠার পর গত শুক্রবার প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলারে নেমে এসেছে, যা যুদ্ধের আগের ৭০ ডলারের চেয়ে বেশি হলেও বর্তমান যুদ্ধাবস্থার তুলনায় বেশ কম।

তবে এই আপেক্ষিক শান্তি সাময়িক এবং সামনে আরও ভয়াবহ বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বিশ্ববাজার বর্তমানে বিকল্প ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত ঝুঁকিটি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছে না। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক তেলের মজুত দ্রুত কমছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কৌশলগত তেলের মজুত (SPR) ১৯৮০-এর দশকের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। জান স্টুয়ার্ট অত্যন্ত কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, “পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে যাচ্ছে।” তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, আগামী জুলাই ও আগস্টের তীব্র গরমে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি একলাফে ১৩০ ডলারে উঠে যেতে পারে।

আর এমনটি হলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালন বর্তমানের ৪.২০ ডলার থেকে বেড়ে ৫ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। স্টুয়ার্টের মতে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যবহারের অপচয় কমাতে এবং মানুষকে ব্যবহারে বাধ্য করতে তেলের দাম দ্রুত বাড়া প্রয়োজন। ফলে হরমুজ প্রণালীর বর্তমান ‘গোপন বাণিজ্য’ সাময়িকভাবে বাজার ধরে রাখলেও, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যেকোনো মুহূর্তে এক প্রলয়ংকরী সুনামি আছড়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন


দুই ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান: চালকবিহীন স্পিডবোট ড্রোনে প্রাণ বাঁচল ২ মার্কিন পাইলটের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ২১:৩০:৩৪
দুই ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান: চালকবিহীন স্পিডবোট ড্রোনে প্রাণ বাঁচল ২ মার্কিন পাইলটের
ছবি : সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির কাছে ওমান উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি শক্তিশালী 'এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি' (AH-64 Apache) যুদ্ধবিমান সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনার চেয়েও বিশ্বজুড়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এর উদ্ধার অভিযানটি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো মানবহীন চালকবিহীন স্পিডবোট ড্রোনের (Unmanned Surface Vessel) সফল ব্যবহারের মাধ্যমে সাগরে ভাসমান দুই মার্কিন পাইলটকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সোমবারের এই রোমাঞ্চকর উদ্ধার অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ওমান উপকূলে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সাগরে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর দুই মার্কিন পাইলটকে মার্কিন যৌথ বাহিনী অত্যন্ত দ্রুততার সাথে উদ্ধার করে। তবে কীভাবে এবং কোন প্রযুক্তিতে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে সেন্টকমের মূল বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি এবং শুরুতে চালকবিহীন বিশেষ নৌযান ব্যবহারের বিষয়টিও তারা গোপন রেখেছিল।

সেন্টকম জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উদ্ধার অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ, হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই দুই সেনাসদস্যকে লাইফ জ্যাকেটসহ সমুদ্রের বুক থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে দুই পাইলটই মার্কিন সামরিক হাসপাতালে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল ও সুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের সামরিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তবে সেন্টকম বিস্তারিত না জানালেও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে (CBS News) জানিয়েছেন, এই ঐতিহাসিক উদ্ধারকাজে মূলত ব্যবহার করা হয়েছিল একটি সর্বাধুনিক চালকবিহীন স্পিডবোট ড্রোন। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (US Fifth Fleet) অধীনে পরিচালিত অত্যন্ত গোপনীয় ও বিশেষ প্রযুক্তিগত ইউনিট ‘টাস্ক ফোর্স ৫৯’ (Task Force 59) এই উদ্ধারকারী ড্রোনটি সফলভাবে চালনা করে।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে সাগরে ক্র্যাশ করা পাইলটদের জলপথ উদ্ধার অভিযানে সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রিমোট-কন্ট্রোলড ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও টাস্ক ফোর্স ৫৯-এর ২০২৩ সালের একটি সামরিক নথিতে বিভিন্ন ধরনের আত্মঘাতী ও গোয়েন্দা নৌ ড্রোনের উল্লেখ ছিল, তবে সোমবারের এই উদ্ধার অভিযানে ঠিক কোন মডেলের স্পিডবোট ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে, তা কৌশলগত কারণে এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বংসের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সম্পর্কে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত স্বস্তির সাথে বলেন, "আমাদের সাহসী পাইলটরা এখন সম্পূর্ণ ভালো আছে। সবচেয়ে বড় কথা, অলৌকিকভাবে কেউ গুরুতর আহত হননি।" উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান পরমাণু চুক্তির উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে এই মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনাটি নিয়ে চিরবৈরী ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

তবে তারা বিদেশি সংবাদমাধ্যমের তথ্য উদ্ধৃত করা ছাড়া নতুন কোনো নিজস্ব বা সামরিক তথ্য দিতে পারেনি। হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ও ড্রোনের মাধ্যমে পাইলট উদ্ধারের এই এক্সক্লুসিভ খবরটি বিশ্বে প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদপত্র 'নিউইয়র্ক টাইমস'।

/আশিক


ইরান ও ইসরায়েল বড় যুদ্ধ থামিয়ে বিষয়টি এখানেই চুকিয়ে দিয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ১৮:৩১:০৬
ইরান ও ইসরায়েল বড় যুদ্ধ থামিয়ে বিষয়টি এখানেই চুকিয়ে দিয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে এক ‘ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী’ চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অত্যন্ত কঠোর ও নিটোল চুক্তির একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছে, যা কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে; যা আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

এর আগে গতকাল সোমবার মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরবৈরী দেশ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর আজ নতুন করে এক বড় তথ্য দিলেন ট্রাম্প। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ইসরায়েল এবং ইরান অন্তত আগামী এক সপ্তাহের জন্য একে অপরের ওপর নতুন করে কোনো ধরনের সামরিক আক্রমণ করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকবে। গত রোববারের রক্তক্ষয়ী মিসাইল ও বিমান হামলার রেশ টেনে ট্রাম্প সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, "তিনি (নেতানিয়াহু) প্রথমে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং এর জবাবে তিনি পাল্টা আঘাত করেছেন; আর নিজের দেশের সুরক্ষায় নেওয়া এই পদক্ষেপের জন্য আমি তাকে কোনোভাবেই দোষ দিতে পারি না।"

মার্কিন প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে শান্ত দাবি করে আরও বলেন, "নেতানিয়াহু আক্রান্ত হওয়ার পর পাল্টা আঘাত করেছেন এবং এখন তারা (ইরান ও ইসরায়েল) বিষয়টি এখানেই চুকিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং, তারা অন্তত আরও এক সপ্তাহ বা এই রকম কিছু সময়ের জন্য একে অপরকে আর কোনোভাবে ঘাঁটাবে না বা আক্রমণ করবে না।" হোয়াইট হাউজের এই সর্বোচ্চ আশ্বাসের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যেমন স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে, তেমনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণায় বিশ্ব অর্থনীতিতেও স্বস্তির হাওয়া বইছে। ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এই বহুপ্রতীকিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি সই হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।

সূত্র: আলজাজিরা

পাঠকের মতামত: