হরমুজ প্রণালি কি এবার রণক্ষেত্র? ট্রাম্পের অবরোধের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ২১:২১:৩৩
হরমুজ প্রণালি কি এবার রণক্ষেত্র? ট্রাম্পের অবরোধের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক ও অর্থনৈতিক অ্যাকশনে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যেসব জাহাজ ইরানকে টোল দেবে, সেগুলোকে যেন সরাসরি আটক করা হয়।

ট্রাম্পের মতে, ইরান মাইন পাতার ভয় দেখিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং বিশ্বজুড়ে এক ধরনের ‘চাঁদাবাজি’ শুরু করেছে। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা তেহরানকে অবৈধভাবে টোল দেবে, তারা সমুদ্রে কোনো ধরনের নিরাপত্তা পাবে না।

এই ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আদায়ের প্রচেষ্টাকে নসাৎ করতে চাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, ইরান যেখানেই মাইন পেতে থাকুক না কেন, তা অপসারণের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র শুরু করবে এবং যদি কোনো ইরানি বাহিনী মার্কিন বা শান্তিপূর্ণ জাহাজে হামলা চালায়, তবে তার জবাব হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ইতিমধ্যে তাদের সামরিক শক্তির বড় অংশ হারিয়েছে এবং এই বিপর্যয়ের জন্য দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিই দায়ী। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, খুব শিগগিরই ইরানের ওপর একটি বিশাল নৌ-অবরোধ (Blockade) শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও অংশ নেবে। এই ঘোষণার ফলে পারস্য উপসাগরে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থার মাঝেই ওমানে মুখোমুখি হচ্ছে আমেরিকা ও ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১৮:৩৪:২২
মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থার মাঝেই ওমানে মুখোমুখি হচ্ছে আমেরিকা ও ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র সামরিক উত্তেজনার পারদ কিছুটা নামিয়ে আনতে অত্যন্ত আকস্মিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনার পথ বেছে নিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ওমানের মাটিতে ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।

মার্কিন শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই স্পর্শকাতর আলোচনার জন্য তাঁর একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের হাই-প্রোফাইল প্রতিনিধি দল গঠন করেছেন। এই বিশেষ দলের নেতৃত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবিলম্বে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার (১১ জুলাই) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে এই অত্যন্ত গোপন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক উদ্যোগের সমান্তরালে তেহরানও তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA) এক বিশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, ওমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর বর্তমান বিপজ্জনক পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে জরুরি আলোচনার উদ্দেশ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ ওমান সফরে যাচ্ছেন।

তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ওমান সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আড়ালে মূলত মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পর্দার অন্তরালে সরাসরি সংলাপে বসাই এই সফরের মূল লক্ষ্য। মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীর ওপর একক নিয়ন্ত্রণই এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মূল ও প্রধান এজেন্ডা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের বিরুদ্ধে একযোগে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ওই ঐতিহাসিক ও বিধ্বংসী বিমান হামলায় ইরানের তত্কালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হন, যা দুই পক্ষকে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে দাঁড় করিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে সেই সময় দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের মধ্যে সফল ও ফলপ্রসূ আলোচনাও সম্পন্ন হয়।

তবে সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত শান্তি প্রক্রিয়া বিশ্বমঞ্চে বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেনি। গত ৮ জুলাই রাতে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দায় ও চুক্তি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে ওপার থেকে আকস্মিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেন এবং পুনরায় ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী।

এর চরম জবাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি ইরানও; তারা জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টারগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এমন এক চরম ও ভয়াবহ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই আজ ওমানের মাটিতে ফের মুখোমুখি কূটনৈতিক টেবিলে বসতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই শীর্ষ প্রতিনিধিরা। রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে এই বৈঠক কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করতে পারবে কিনা, এখন সেদিকেই গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে সমগ্র বিশ্ববাসী।

সূত্র: সিবিএস


ট্রাম্পের হুমকি, ‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র’

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১১:৫৮:৪১
ট্রাম্পের হুমকি, ‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র’
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানকে ঘিরে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যদি তার বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের গুপ্তহত্যার চেষ্টা করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন সামরিক জবাব দেবে যা দেশটির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। একই সময়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, কোনো চাপ বা সামরিক হুমকির মুখে তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না।

শনিবার (১১ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তার নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা হত্যাচেষ্টা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র পূর্বনির্ধারিত সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ধারাবাহিকভাবে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই নির্দেশ এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন দেখা দিলে ইরানের যেকোনো অংশে বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা রাখে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আবারও টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের এমন কঠোর ভাষার বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান কখনোই কোনো বিদেশি শক্তির কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।

গালিবাফ বলেন, তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাব্য সব ধরনের সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি ধরে রেখেছে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সমঝোতা থেকে সরে দাঁড়ায় কিংবা নতুন করে আগ্রাসী অবস্থান নেয়, তাহলে ইরান আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সংঘাতের অবসান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইরানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে কখনোই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। বরং পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতেই টেকসই সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, সামরিক প্রস্তুতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ সংকুচিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও পড়তে পারে।

-রফিক


যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? ইরান-মার্কিন চরম উত্তেজনার মাঝে তেহরানে কাতার, টেবিলে কঠিন শর্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১০:৫২:৪৯
যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? ইরান-মার্কিন চরম উত্তেজনার মাঝে তেহরানে কাতার, টেবিলে কঠিন শর্ত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে জোরদার হয়েছে। থমকে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছে। কাতারের এই দলটি ইরানি নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে একটি বৃহত্তর ও ফলপ্রসূ আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা। তবে এই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই আমেরিকার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং সদিচ্ছা নিয়ে গভীর সংশয় ও চরম অবিশ্বাস প্রকাশ করেছে তেহরান। বিশেষ করে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পূর্বে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন ইরানি কর্মকর্তারা।

তেহরানের এই অনীহা ও গভীর সংশয়ের পেছনে রয়েছে অতি সাম্প্রতিক কিছু নজিরবিহীন সামরিক ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ। সম্প্রতি ইরানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে আকস্মিক ও ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী। এই হামলায় ইরানের বেশ কিছু কৌশলগত সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু ইরানি নাগরিক হতাহত হন। এই রক্তক্ষয়ী সামরিক আগ্রাসনের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সেই সমঝোতা স্মারকটি সম্পূর্ণ বাতিলের ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও একমুখী পদক্ষেপের ফলেই ওয়াশিংটনের ওপর থেকে তেহরান সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়েছে, যার ফলে কাতারের মধ্যস্থতা মিশন এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

মার্কিন বিমান হামলা ও চুক্তি বাতিলের জবাবে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বিশেষ বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন চাপ বা যেকোনো ধরনের জবরদস্তিমূলক কূটনীতির কাছে ইরান কখনই মাথা নত বা আত্মসমর্পণ করবে না। উল্টো পরিস্থিতি যদি আরও অবনতির দিকে যায়, তবে দেশ রক্ষায় ইরান এখন ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের’ (Full-scale war) জন্য সামরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলছেন যে, কোনো ধরনের হুমকি বা ব্ল্যাকমেইলের মুখে তারা আলোচনার টেবিলে বসবেন না।

বর্তমান অচলাবস্থা কাটিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে পুনরায় আলোচনা শুরু করার জন্য তেহরান অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর কিছু শর্তারোপ করেছে। ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, যেকোনো আলোচনার পূর্বে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই পূর্বে বাতিলকৃত সমঝোতা স্মারকের মূল ধারাগুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। এই শর্তগুলোর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো—সমঝোতা স্মারকের ১ নম্বর ধারা অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। এর পাশাপাশি ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ ব্যবস্থাপনায় ইরানের সার্বভৌম অধিকারকে পূর্ণ স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল রপ্তানির বৈধ ও অবাধ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই মৌলিক শর্তগুলো পূরণ না হলে আমেরিকার সাথে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা সম্ভব নয়।


জ্বলছে দক্ষিণ স্পেন: এক রূপকথার অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের নারকীয় তাণ্ডব, নেপথ্যে কী?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১০:৩১:০২
জ্বলছে দক্ষিণ স্পেন: এক রূপকথার অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের নারকীয় তাণ্ডব, নেপথ্যে কী?
স্পেনের পর্যটন স্বর্গ হিসেবে পরিচিত আন্দালুসিয়া অঞ্চল এখন এক জ্বলন্ত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ছবি- সংগৃহীত।

দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহের মধ্যে স্পেনের পর্যটন স্বর্গ হিসেবে পরিচিত আন্দালুসিয়া অঞ্চল এখন এক জ্বলন্ত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই দাবানলে এ পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের নির্মম মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২৩ জন। আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক নেতা হুয়ানমা মোরেনো এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা রাতদিন অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একটি বড় অংশই বিদেশী নাগরিক, যার মধ্যে অন্তত চারজন ব্রিটিশ পর্যটক থাকতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করে হুয়ানমা মোরেনো জানিয়েছেন যে, এই আকস্মিক দুর্যোগে তাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত এবং তারা শোকে স্তব্ধ। বর্তমানে আগুনে গুরুতর দগ্ধ ৪ জনসহ মোট ৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের চিকিৎসা চলছে নিবিড় পর্যবেক্ষণে।

এই নারকীয় অগ্নিকাণ্ডের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত, যা মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে তুলেছে। আন্দালুসিয়ার স্বাস্থ্য ও জরুরি বিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও সাঞ্জ জানান যে, আগুন খুব দ্রুত এবং অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করেছিল। উদ্ধারকর্মীরা লস গ্যালার্দোসের নিকটবর্তী বেদার নামক একটি ছোট গ্রাম থেকে একটি ডান-হ্যান্ড ড্রাইভ কার উদ্ধার করেন, যার ভেতর থেকে চারজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তারা ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাকি আটটি মরদেহ উদ্ধার করা হয় বনাঞ্চল ও রাস্তার বিভিন্ন স্থান থেকে, যা দেখে প্রতীয়মান হয় যে তারা মূলত আগুন থেকে বাঁচতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। মন্ত্রী সাঞ্জ একে আন্দালুসিয়ার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী দাবানল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রশাসনের নির্ধারিত নিরাপদ ও সঠিক এক্সিট রুট ব্যবহারের পরিবর্তে ভিন্ন পথ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করায় সরাসরি আগুনের মরণফাঁদে পড়ে যান।

ভয়াবহ এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল আন্দালুসিয়ার আলমেরিয়া প্রদেশের লস গ্যালার্দোস এলাকার বনাঞ্চল থেকে, তবে এর নেপথ্য কারণ নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তীব্র দ্বিমুখী বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক নেতা মোরেনো জানান, প্রাথমিক আলামত ও তদন্ত অনুযায়ী একটি বৈদ্যুতিক লাইনের খুঁটি ভেঙে পড়ার কারণে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ থেকেই এই আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'এনদেসা' (Endesa) প্রশাসনের এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ভেঙে পড়া বিদ্যুৎ লাইনটি দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ছিল এবং সেটি কোনোভাবেই তাদের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো লাইন নয়। এই নিয়ে তদন্ত চলমান থাকলেও আগুনের প্রকৃত উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি।

চলতি গ্রীষ্মে সমগ্র দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১০৪ ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেছে, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী এই তাপদাহের কারণে ফ্রান্স, পর্তুগাল ও স্পেনের বিভিন্ন বনাঞ্চল একেকটি বারুদের বাক্সে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পেনের সরকার সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করছে এবং ইতিমধ্যে উপদ্রুত এলাকা থেকে অন্তত এক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ও বেশ কয়েকটি প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে স্পেনের মিলিটারি ইমার্জেন্সি ইউনিট ২২০ জন সেনা ও ৭০টি বিশেষ যান মোতায়েন করেছে। এর পাশাপাশি সিভিল গার্ডের আরও ১৬০ জন সদস্য ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের অনুসন্ধানের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। ১২ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এটি স্পেনের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবানলে পরিণত হয়েছে, যা ২০০৫ সালে রিবা দে সায়েলিসেস গ্রামে ১১ জন দমকলকর্মীর মৃত্যু এবং ১৯৭৯ সালে লরেত দে মারের দাবানলে ২১ জনের প্রাণহানির মর্মন্তুদ স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র দাবানল ও চরম তাপদাহের এই ভয়াবহ রূপ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি সরাসরি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইউরোপীয় জলবায়ু সংস্থা ‘কোপারনিকাস’-এর দেওয়া তথ্যমতে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে। একই সুর শোনা গেছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’ গ্রুপের এক গবেষণাতেও। তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, কার্বন নিঃসরণ ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে এই ধরণের প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও ঘনঘন এবং আরও মারাত্মক আকারে আঘাত হানবে।


যুদ্ধ থামেনি, আরও বড় হামলার বার্তা দিল ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ১১:০০:৪১
যুদ্ধ থামেনি, আরও বড় হামলার বার্তা দিল ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানকে ঘিরে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এখনো শেষ হয়নি এবং সামনে আরও কঠিন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক নেতৃত্বও জানিয়েছে, পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে আরও বড় পরিসরের অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইসরায়েলের হাতজেরিম বিমানঘাঁটিতে বিমানবাহিনীর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকাশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা ইসরায়েলের কৌশলগত অগ্রাধিকার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ভারসাম্য রক্ষায় এই সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন যে, চলমান সংঘাতকে সমাপ্ত বলে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং সামনের সময়কে আরও জটিল বলে উল্লেখ করে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ধরে রাখার আহ্বান জানান।

একই অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। তার দাবি, নতুন পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও বিস্তৃত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি সেনাসদস্যদের সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশনাও দেন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, প্রয়োজন দেখা দিলে ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বা তৃতীয় দফার সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা ইসরায়েলি বাহিনীর রয়েছে। তিনি দাবি করেন, সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় বিমানবাহিনীসহ পুরো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। এর আগে পাকিস্তরের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে গেছে। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার খবর সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন এসব অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরলেও তেহরান সেগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং আগ্রাসী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সেই সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছিল।

-রাফসান


ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার দাবি, কী বলছে ইসরাইল?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ১০:১৮:৪৩
ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার দাবি, কী বলছে ইসরাইল?
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা করছে ইরান—এমন দাবি করেছে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা। বিষয়টি নিয়ে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে আগেই সতর্ক করেছে বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার কিংবা ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, ফলে অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছে, যার ভিত্তিতে তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে অবহিত করেছে। ওই তথ্যে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এদিকে সিএনএন-এর এক পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের শেয়ার করা গোয়েন্দা তথ্যটি শুধু সাধারণ হুমকি নয়; বরং ট্রাম্পকে হত্যার একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মূল্যায়ন করছেন। তবে ওই পরিকল্পনার প্রকৃতি, সম্ভাব্য বাস্তবায়ন পদ্ধতি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস, মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থা কিংবা তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না আসায় অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এর আগেও ওয়াশিংটন একাধিকবার অভিযোগ করেছিল যে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে কয়েকটি হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা করেছিল এবং মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সেসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। যদিও ইরান অতীতেও এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্ক সফরকালে ট্রাম্প নিজেও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান তাকে তাদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এ কারণে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতি এবং ইসরাইলকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই নতুন দাবি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযোগ সামনে এলে কূটনৈতিক যোগাযোগ, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হতে পারে।

তবে এ মুহূর্তে প্রকাশিত তথ্যের বেশিরভাগই গোয়েন্দা সূত্রভিত্তিক দাবি। যেহেতু সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি, তাই ঘটনাটির প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হতে আরও সরকারি তথ্য ও স্বাধীন যাচাইয়ের অপেক্ষা করতে হবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিএনএন।


শান্তি চুক্তি ভেঙে ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলা চালাল আমেরিকা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২২:০২:১৭
শান্তি চুক্তি ভেঙে ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলা চালাল আমেরিকা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সংঘাতকে আরও বিধ্বংসী রূপ দিয়ে ইরানের ওপর বোমাবর্ষণের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। টানা দ্বিতীয় রাতের মতো পরিচালিত এই ব্যাপক ও সুনির্দিষ্ট বিমান অভিযানে গত ৪৮ ঘণ্টায় ইরানের অভ্যন্তরে অন্তত ১৭০টি সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানার আনুষ্ঠানিক দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতার ইতিহাসে এটিকে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ একতরফা বিমান হামলা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।

বুধবার (৮ জুলাই) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম তদারককারী প্রধান সংস্থা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক জরুরি বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক সাধারণ নাবিকদের ওপর তেহরানের নিয়মিত হামলা চালানোর যে সক্ষমতা রয়েছে, তা চিরতরে অবশ ও দুর্বল করে দিতেই এই জোরালো সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেন্টকমের এই দাবির মধ্য দিয়েই মূলত বুধবার গভীর রাতেও ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো উপর্যুপরি বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখে।

মার্কিন এই ভয়াবহ আগ্রাসনের বিপরীতে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগপ্রধান হোসেন কেরমানপোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ৭ ও ৮ জুলাই দেশের মোট পাঁচটি বড় প্রদেশে চালানো এই মার্কিন হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ জন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও অন্তত ৭৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থাতেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মার্কিন বাহিনী এই কাপুরুষোচিত হামলা শুরু করেছে।

এদিকে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তেহরানের সঙ্গে সংযুক্ত দেশের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত রেলসেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে সামরিক রসদ সরবরাহের প্রধান রুট ইরান-তেহরান রেল করিডরের একটি বড় অংশ মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি ইরানের অত্যন্ত স্পর্শকাতর বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের আশপাশের এলাকাগুলো লক্ষ্য করেও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

অথচ এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও বৃদ্ধি করতে এবং একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছিল। তবে বর্তমানের এই নজিরবিহীন ও ভয়াবহ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় দুই দেশের সেই দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি ভেস্তে গিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এই যুদ্ধাবস্থার সূত্রপাত মূলত হরমুজ প্রণালিতে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি নৌবাহিনীর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে বিশ্বমঞ্চে একতরফা ঘোষণা দেন। আর এই ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর এই ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে।

আক্রমণের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প সরাসরি লেখেন, আগের দিন মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জাহাজে ইরানি আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও বিধ্বংসী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদিও এই আগ্রাসী বার্তার ঠিক আগেই তিনি এক ভাষণে বলেছিলেন, এই অভিযানটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নেবে না এবং খুব দ্রুতই তা শেষ হয়ে আসবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই অতর্কিত ও ভয়াবহ হামলার জবাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি ইরানও; তারাও সমপরিমাণ পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পারস্য উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) মূল সদর দপ্তরকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে গোটা বাহরাইন জুড়ে মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিকবার রেড সাইরেন বেজে ওঠে এবং সেনারা বাঙ্কারে আশ্রয় নেয়। একই সময়ে কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকেও ইরান একযোগে বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে জর্ডানের রাজকীয় সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব আকাশসীমা ভেদ করে মার্কিন ঘাঁটির দিকে ধেয়ে যাওয়া ইরানের কয়েকটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডান—এই চারটি দেশেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত বড় ও কৌশলগত সামরিক স্থাপনা ও বিমানঘাঁটি রয়েছে, যা এখন সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

/আশিক


রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট: জার্মানিতে গরমে মৃত্যুর রেকর্ড

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২১:৩৮:১৯
রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট: জার্মানিতে গরমে মৃত্যুর রেকর্ড
ছবি : সংগৃহীত

চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু থেকে জুন মাসের শেষ নাগাদ ইউরোপের দেশ জার্মানিতে তীব্র ও ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কারণে ৫ হাজার ১২০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বার্লিনভিত্তিক জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) তাদের সর্বশেষ বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

আরকেআই-এর প্রকাশিত বার্ষিক তাপজনিত মৃত্যুবিষয়ক এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের গ্রীষ্মে রেকর্ড হওয়া মৃত্যুর সংখ্যা দেশটির বিগত বছরগুলোর বার্ষিক গড় মৃত্যুর হারকে অনেক বড় ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে। পূর্ববর্তী ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী বছরগুলোতে জার্মানিতে তীব্র গরমে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৯০০ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যার তুলনায় এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি বিধ্বংসী। দেশটির ফেডারেল পরিসংখ্যান অফিসের মৃত্যুর রেকর্ড এবং জার্মান আবহাওয়া অধিদপ্তরের (ডিডব্লিউডি) সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গবেষণা সংস্থাটির গাণিতিক অনুমান অনুযায়ী, মূলত গত ২২ থেকে ২৮ জুনের সপ্তাহটিতেই জার্মানিতে সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যায় এবং কেবল ওই এক সপ্তাহেই মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ৩১০ জনে গিয়ে ঠেকে। ওই নির্দিষ্ট সময়ে ইউরোপের এই দেশটির বেশ কিছু অঞ্চলের তাপমাত্রা ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পার হয়ে গিয়েছিল। এর আগে এপ্রিলের শুরু থেকে ২১ জুন পর্যন্ত প্রাথমিক সময়ে রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট আনুমানিক ৮১০ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট করেছেন যে, ওই মৃত্যুর প্রায় সবগুলো ঘটনাই মূলত ১৫ থেকে ২১ জুনের মধ্যবর্তী চরম বৈরী সপ্তাহে রেকর্ড করা হয়েছিল।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বয়োবৃদ্ধ ও প্রবীণ ব্যক্তিরাই এই চরম ও অনাকাঙ্ক্ষিত আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত ২৮ জুন পর্যন্ত তীব্র গরমে মৃতদের মধ্যে ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক ছিলেন প্রায় ২6 হাজার ৯৫০ জন। এ ছাড়া বয়স বৃদ্ধির অন্যান্য ধাপে ৭৫ থেকে ৮৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ১ হাজার ৩২০ জন, ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৫show শত ৫০ জন এবং ৬৫ বছরের কম বয়সী অপেক্ষাকৃত তরুণ ও যুবকদের মধ্যে আনুমানিক ৩০০ জন গরমে মারা গেছেন।

জার্মান আবহাওয়া অধিদপ্তর (ডিডব্লিউডি) জানিয়েছে, আবহাওয়ার নিয়মতান্ত্রিক রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে ২০১৯ সালের ঐতিহাসিক জুনের পর ২০২৬ সালের জুন মাসটি ছিল দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় উষ্ণতম ও উত্তপ্ত জুন। জুনের শেষের দিকে তীব্র দাবদাহের কারণে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত অতিক্রম করেছিল। এমনকি গত ২৭ জুন দেশটির ৪৬টি প্রধান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা একযোগে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে নথিবদ্ধ করা হয়েছিল, যা দেশটির সামগ্রিক জনজীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি


মার্কিন হামলার জবাবে এবার সরাসরি পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২১:৩২:২৯
মার্কিন হামলার জবাবে এবার সরাসরি পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তেহরান কোনোভাবেই চুপ করে থাকবে না, বরং মার্কিন বাহিনীকে সমপরিমাণ পাল্টা আঘাত করা হবে বলে জোরালো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের জাতীয় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। একই সঙ্গে তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি কেবল এবং কেবলই ইরানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই উন্মুক্ত থাকবে, এখানে ওয়াশিংটনের কোনো ধরনের সামরিক হুমকি বা দাদাগিরি বরদাশত করা হবে না।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে তেহরানের এই অনমনীয় ও কঠোর অবস্থানের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় সরাসরি মার্কিন প্রশাসন ও পেন্টাগনকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার গালিবাফ লিখেছেন, ওয়াশিংটন এখনো হয়তো অনুধাবন করতে পারেনি যে তাদের একতরফা দাদাগিরি, আন্তর্জাতিক আইন অমান্য ও শান্তি চুক্তি ভঙ্গের নীতি আর কখনো জবাবহীন বা পার পেয়ে যাবে না।

মার্কিন সামরিক ভীতি প্রদর্শনকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে ইরানি স্পিকার সরাসরি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন যে, আঘাত করলে পাল্টা আঘাত পেতে হবে—এটাই তেহরানের বর্তমান নীতি। তিনি ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে অযথা উসকানি ও ছটফটানি বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, অন্যথায় মার্কিন বাহিনী এই অঞ্চলে এমন এক গভীর ও অন্তহীন সংকটে নিমজ্জিত হবে যা থেকে বের হওয়ার পথ তারা খুঁজে পাবে না। পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত সমুদ্রপথের ওপর ইরানের একক ও সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা কেবল ইরানের নিজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনার অধীনেই সচল থাকবে এবং সেখানে মার্কিনদের কোনো অন্যায্য দাবি খাটবে না।

এই কূটনৈতিক বাদানুবাদ ও উত্তেজনার মধ্যেই মাঠপর্যায়ে সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করেছে তেহরান। জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক জোটের কৌশলগত আজরাক বিমান ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এই ভয়াবহ ও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইরানের এলিট সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির দেওয়া বিশেষ বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, জর্ডানের ওই ঘাঁটিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের মূল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার বা প্রধান সামরিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে আইআরজিসি মার্কিন প্রশাসনকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে আরও যোগ করেছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে যদি হামলা অব্যাহত রাখা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বাকি সব সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ক্রমান্বয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

তারা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী যদি ইরানের ভূখণ্ড বা স্বার্থে আবারও কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানোর ধৃষ্টতা দেখায়, তবে এই অঞ্চলের অন্য কোনো মার্কিন সামরিক ছাউনিই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আওতা ও ভয়াবহ আঘাত থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারবে না।

/আশিক

পাঠকের মতামত: