“আরেকবার লড়াই করার সুযোগ পাচ্ছি” - লিটন দাস

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ৩১ ১১:৪৩:২১
“আরেকবার লড়াই করার সুযোগ পাচ্ছি” - লিটন দাস

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে সিরিজ হারার পর পাকিস্তানের বিপক্ষেও একই পরিণতির শিকার হলো বাংলাদেশ। লাহোরে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতেই হেরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ হাতছাড়া করল টাইগাররা। দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৭ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে আবারও হতাশার রূপ নিয়েছে।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান তোলে ৩ উইকেটে ১৮২ রান। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রহীন লাইন ও লেংথের সুযোগ নিয়ে বাবর আজম, সাঈম আয়ুব, ও ফখর জামানরা খেলেন দাপুটে ইনিংস। বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র আলো ছড়ান তানভীর ইসলাম, যিনি দুটি উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। লিটন দাস ও সৌম্য সরকার দ্রুত সাজঘরে ফিরলে শুরুতেই ধস নামে ব্যাটিং লাইনআপে। মিডল অর্ডারে শান্ত, সাকিব, আফিফরাও সুবিধা করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থামে মাত্র ১২৫ রানে।

প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান তুলেছিল ১৯৯ রান, জবাবে বাংলাদেশ করতে পেরেছিল ১৬২ রান। দুই ম্যাচেই একইভাবে বাংলাদেশ হেরে গেছে অধারাবাহিক ব্যাটিং, নির্বিষ বোলিং এবং বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে।

ম্যাচ শেষে হতাশার সুরে হলেও অধিনায়ক লিটন দাস বললেন, “আমাদের এখনও একটা ম্যাচ বাকি আছে। এখন সময় একসঙ্গে বসে বিশ্লেষণ করার কীভাবে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়। এটা পুরোপুরি মানসিকতার বিষয়।”

রোববার (১ জুন) লাহোরে একই মাঠে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। পাকিস্তান সিরিজ জিতলেও বাংলাদেশকে এখনও হোয়াইটওয়াশ হওয়ার শঙ্কা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। লিটনের নেতৃত্বাধীন দল কি পারবে শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে কিছুটা সম্মান বাঁচাতে? নাকি হোয়াইটওয়াশের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়েই ফিরতে হবে দেশে এ প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সমর্থকদের মনে।

-রফিক, নিজস্ব প্রতিবেদক


মাত্র ৯ কোটির মোস্তাফিজের কারণে ৬ হাজার কোটির ক্ষতি!

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১১:১২:৫৭
মাত্র ৯ কোটির মোস্তাফিজের কারণে ৬ হাজার কোটির ক্ষতি!
ছবি : সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে বিশ্ব ক্রিকেটে এক চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আইপিএল থেকে টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়া এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত আইসিসিকে এক বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এনডিটিভি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হওয়ার শঙ্কা তৈরি হওয়ায় আইসিসির সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

মোস্তাফিজকে নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত

ঘটনার শুরু আইপিএলের নিলাম থেকে। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নিলামে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভিড়িয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)। তবে ভারতে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের পক্ষ থেকে মোস্তাফিজের নিরাপত্তার প্রশ্নে কড়া হুমকি আসার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। উগ্রপন্থী কিছু সংগঠনের পক্ষ থেকে স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির হুমকির মুখে বিসিসিআই কেকেআর-কে নির্দেশ দেয় মোস্তাফিজের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে। গত ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজকে আনুষ্ঠানিকভাবে দল থেকে ছেড়ে দেয় কলকাতা।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বর্জন ও আইসিসির ভূমিকা

একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটার ভারতের মাটিতে আইপিএলে নিরাপত্তা পাবেন না—বিসিসিআই-এর এমন অবস্থানের পর বিসিবি তাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিসিবি এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আইসিসি-র কাছে দাবি জানায় যেন বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হয়। তবে আইসিসি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে এবং বাংলাদেশ দলে কোনো ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই’ বলে রায় দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার জাতীয় দলকে ভারতে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৪ জানুয়ারি আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।

পাকিস্তানের সংহতি ও আর্থিক মহাধস

বাংলাদেশের এই বহিষ্কার মেনে নেয়নি প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। তারা ঘোষণা দিয়েছে যে, বাংলাদেশের ওপর করা অবিচারের প্রতিবাদে এবং সংহতি জানিয়ে তারা বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে অংশ নেবে না। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ এই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে ব্রডকাস্টার, স্পনসর এবং বিজ্ঞাপন স্বত্ব বাবদ আইসিসি এবং বিসিসিআই প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ৬ হাজার ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। শুধুমাত্র ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের স্লট থেকেই কয়েকশ কোটি টাকা আয় হওয়ার কথা ছিল, যা এখন অনিশ্চিত।

ক্রিকেট বিশ্বে এক নতুন সংকট

ক্রিকেট বোদ্ধারা মনে করছেন, মাত্র ৯ কোটি টাকার মোস্তাফিজ ইস্যুকে সঠিকভাবে সামলাতে না পেরে আইসিসি এবং বিসিসিআই এখন নিজেদের ইগোর লড়াইয়ে হাজার কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতি এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের রাজনীতিই মুখ্য হয়ে উঠেছে।


ক্রিকেট বিশ্ব যখন টালমাটাল, তখন ভারতকে নতুন আঘাত দিল পাকিস্তান

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৯:৪৫:২৪
ক্রিকেট বিশ্ব যখন টালমাটাল, তখন ভারতকে নতুন আঘাত দিল পাকিস্তান
ছবি : সংগৃহীত

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রিকেটীয় বৈরিতা এখন চরমে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচ বয়কটের ঘোষণার পর এবার ভারতের বাজার থেকে নিজেদের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ ‘পাকিস্তান সুপার লিগ’ (পিএসএল) সরিয়ে নেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। মূলত রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারতের সঙ্গে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পাল্টা জবাব হিসেবেই ভারতের সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি না করার পথে হাঁটছে পাকিস্তান।

ভারতের বাজারে পিএসএল নিষিদ্ধের পথে পিসিবি পিএসএলের গত আসরগুলোতে ভারতের সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ফ্যানকোড ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করত। তবে পাকিস্তানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে পিএসএলের ১১তম আসরের সম্প্রচার স্বত্ব ভারতের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় দর্শকরা এবার টিভিতে বা অনলাইনে পিএসএল উপভোগ করতে পারবেন না। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এই কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে আইসিসি এবং ভারতকে একটি বাণিজ্যিক বার্তা দিতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ বয়কট ও আইসিসির উদ্বেগ গত ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় যে, তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি খেলবে না। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ঘটনা এবং নিরাপত্তাজনিত ইস্যুতে পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থানের পর আইসিসি সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি সভা ডেকেছে। আইসিসি সতর্ক করে বলেছে, টুর্নামেন্টের মাঝে কোনো নির্দিষ্ট দলকে বয়কট করা বৈশ্বিক ক্রিকেটের চেতনা বিরোধী এবং এর ফলে পিসিবির ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও প্রেক্ষাপট ২০২৫ সালে পেহেলগামের একটি ঘটনার পর ভারতের সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মাঝপথেই পিএসএল সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল। এবার পিসিবি আগেভাগেই ভারতের সঙ্গে সব বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিল। বিশ্লেষকদের মতে, এতে পিসিবি আর্থিকভাবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পাকিস্তানের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তারা এই ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত। উল্লেখ্য, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল ভেন্যু ভারত হলেও পাকিস্তান তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পাকিস্তানে পিএসএল সম্প্রচার করে এ স্পোর্টস ও পিটিভি স্পোর্টস। বাংলাদেশে এর স্বত্ব রয়েছে টি স্পোর্টসের কাছে। তবে ভারতের বড় বাজারটি এবার পিসিবির স্বপ্রণোদিত সিদ্ধান্তের কারণে শূন্যই থাকছে।


পাক-ভারত ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে পিসিবি-কে আইসিসি-র কড়া সতর্কবার্তা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১০:১৫:২৬
পাক-ভারত ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে পিসিবি-কে আইসিসি-র কড়া সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা। পাকিস্তান সরকারের এই অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতে এবার মুখ খুলেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। রোববার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে পিসিবি-কে প্রচ্ছন্ন সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

আইসিসি তাদের বিবৃতিতে জানায়, একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে প্রতিটি দলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ক্রিকেটের প্রকৃত সৌন্দর্য। পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানালেও সংস্থাটি মনে করে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের এই অবস্থান বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক ভাবমূর্তির জন্য নেতিবাচক এবং কোটি কোটি ভক্তের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। আইসিসি আরও স্পষ্ট করেছে যে, পিসিবি বিশ্ব ক্রিকেট কাঠামোর একজন সদস্য ও নিয়মিত সুবিধাভোগী হিসেবে এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে তার দীর্ঘমেয়াদী এবং উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পাকিস্তানের ক্রিকেটের ওপরই পড়তে পারে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, একটি বিশ্বকাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা সব সদস্য দেশের যৌথ দায়িত্ব। এই অবস্থায় আইসিসি আশা করছে, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ দ্রুতই একটি সম্মানজনক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করবে, যা ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মর্যাদা রক্ষা করবে। মূলত বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানের এই অবস্থান ক্রিকেট বিশ্বে এখন বড় ধরনের আইনি ও বাণিজ্যিক জটিলতার আভাস দিচ্ছে।


ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা পাকিস্তানের

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ২১:২১:৫১
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা পাকিস্তানের
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে সবুজ সংকেত দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। পিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক শেষে বাবর আজম ও শাহিন আফ্রিদিদের বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি দেওয়া হলেও ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি বয়কট করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “পাকিস্তান সরকার ক্রিকেট দলকে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে। তবে ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না।” এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামীকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সাবেক চ্যাম্পিয়নরা তাদের বিশ্বকাপ ভেন্যু শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করবে।

আজ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সাথে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির বিশেষ বৈঠকে এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মূলত বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতেই পাকিস্তান শুরুতে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। উল্লেখ্য, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ইস্যু টেনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে ম্যাচ খেলতে আপত্তি জানিয়েছিল। বিসিবি ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন করলেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় এবং বদলি দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আইসিসির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সদস্য দেশগুলোর ভোটাভুটিতে কেবল পাকিস্তানই বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এমনকি নিজেরাও টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তবে কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে মাঠে না নামার অনড় অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি নিয়ে আইসিসি এখন বড় ধরনের আইনি ও বাণিজ্যিক জটিলতার মুখে পড়তে যাচ্ছে।


অল-ফরম্যাট ক্রিকেটারের আকাল: কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বড় রদবদল আনছে বিসিবি 

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ২০:৫২:০০
অল-ফরম্যাট ক্রিকেটারের আকাল: কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বড় রদবদল আনছে বিসিবি 
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নিয়মিত অল-ফরম্যাট ক্রিকেটারের অভাব বিবেচনায় ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত প্রায় নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই চুক্তিতে সব মিলিয়ে ২৭ জন ক্রিকেটারের নাম থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন চুক্তির তালিকা এবং সংশোধিত বেতন কাঠামো এখনো বোর্ড সভার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকলেও ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি বাতিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন। এর আগে ২০২৫ সালে যখন টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির জন্য আলাদা চুক্তির পরিবর্তে ৫টি ক্যাটাগরি (এ প্লাস, এ, বি, সি ও ডি) চালু করা হয়েছিল, তখন তিন ফরম্যাটে নিয়মিত খেলা ক্রিকেটারদের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে রাখা হয়েছিল এই বিশেষ ক্যাটাগরি। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় দলের কেউই তিন ফরম্যাটে নিয়মিত খেলছেন না বিধায় এই ক্যাটাগরি রাখার যৌক্তিকতা দেখছে না বোর্ড।

বিসিবির উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, তিন ফরম্যাটে নিয়মিত খেলা ছিল ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির প্রধান শর্ত, যা বর্তমানে পূরণ হচ্ছে না। বোর্ড ইতোমধ্যে ২৭ জন ক্রিকেটারের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। এবারের চুক্তিতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নাম না থাকা একটি বড় পরিবর্তন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ায় স্বভাবতই তিনি তালিকার বাইরে চলে গেছেন। তবে আগের চুক্তিতে থাকা বাকি ২১ জন ক্রিকেটার তাদের জায়গা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

নতুন চুক্তির সম্ভাব্য তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছেন উদীয়মান ও ঘরোয়া ক্রিকেটে সফল ৬ জন ক্রিকেটার। তারা হলেন— শামীম হোসেন পাটোয়ারী, পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, নাঈম হাসান, তানভীর ইসলাম ও হাসান মুরাদ। পারফরম্যান্স এবং ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাদের অন্তর্ভুক্তির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই ২৭ জনের তালিকায় রয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাওহিদ হৃদয়, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা, শাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, জাকের আলী অনিক, তানজিদ হাসান তামিম, শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ ও খালেদ আহমেদ। বোর্ড সভায় অনুমোদন পেলেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা প্রকাশ করবে বিসিবি।


বাংলাদেশ ইস্যু: অলিম্পিক আয়োজন হারাতে পারে ভারত

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১১:৫১:০১
বাংলাদেশ ইস্যু: অলিম্পিক আয়োজন হারাতে পারে ভারত
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দলের সরে দাঁড়ানোর আকস্মিক সিদ্ধান্ত ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্নকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রীড়াঙ্গনে ক্রমবর্ধমান রাজনীতিকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণে ভারতের অলিম্পিক 'বিড' বা আবেদনটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। মূলত বাংলাদেশের গ্রুপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ আইসিসি প্রত্যাখ্যান করার পরই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তাদের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আইসিসি-কে দিয়ে এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করিয়েছে। বর্তমানে আইসিসি-র শীর্ষ পদে থাকা জয় শাহ ও সঞ্জোগ গুপ্তের মতো ব্যক্তিত্বরা সরাসরি ভারতের স্বার্থরক্ষা করছেন বলে বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে।

গত এক মাসে উত্তর বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতা এবং আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনা দুই দেশের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কটের চিন্তা করছে বলে জানা গেছে। এমন অস্থিতিশীল পরিবেশ ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ভারত বর্তমানে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আহমেদাবাদে আয়োজন করার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী, ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে হয়। আইওসি-র একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলো যদি ভারতের মাটিতে খেলতে আসতে ভয় পায় বা বয়কট করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে ভারতকে অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

আইওসি অতীতেও খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েলি দলকে ভিসা না দেওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার অলিম্পিক বিড ও সংলাপ স্থগিত করেছিল সংস্থাটি। এখন ভারতকেও বিশ্বাসযোগ্য আয়োজক হিসেবে প্রমাণ দিতে হলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে ক্রিকেটীয় ও রাজনৈতিক সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বিশাল বাজারকে আকৃষ্ট করা। তবে আইওসি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাণিজ্যিক স্বার্থ থাকলেও তারা খেলাধুলার নিরপেক্ষতা এবং জিরো টলারেন্স নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না। ফলে আইসিসি-তে বিসিসিআই-এর নিরঙ্কুশ দাপট শেষ পর্যন্ত ভারতের অলিম্পিক আয়োজনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।


বিশ্বকাপের দুঃখ ভুলতে বিসিবির নতুন টুর্নামেন্ট অদম্য বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১০:০৫:১৭
বিশ্বকাপের দুঃখ ভুলতে বিসিবির নতুন টুর্নামেন্ট অদম্য বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ হারানো বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের দীর্ঘ বিরতি কাটাতে এবং খেলার ছন্দে রাখতে নতুন টুর্নামেন্টের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন উদ্দীপনা যোগ করতে মিরপুরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ ২০২৬’। টুর্নামেন্টটির বিশেষত্ব হলো, এটি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই সমাপ্ত হবে।

দল ও নেতৃত্ব বিসিবির ঘোষণা অনুযায়ী, এই প্রতিযোগিতায় মোট তিনটি দল অংশগ্রহণ করবে। দলগুলো হলো—ধূমকেতু একাদশ, দুর্বার একাদশ ও দুরন্ত একাদশ। ধূমকেতু একাদশের নেতৃত্ব দেবেন জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস। দুর্বার একাদশের অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং দুরন্ত একাদশের দায়িত্ব পালন করবেন আকবর আলী। প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রাইজমানি ও ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এই টুর্নামেন্টের জন্য।

কোচিং প্যানেল টুর্নামেন্টে দলগুলোর কোচিং প্যানেলেও রাখা হয়েছে দেশের পরিচিত মুখদের। ধূমকেতু একাদশের হেড কোচ হিসেবে থাকছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং সহকারী কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। দুর্বার একাদশের দায়িত্বে থাকছেন মিজানুর রহমান বাবুল ও তুষার ইমরান। অন্যদিকে, হান্নান সরকার ও রাজিন সালেহ যথাক্রমে দুরন্ত একাদশের হেড কোচ ও সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন নিয়ম ও সূচি ম্যাচে বাড়তি রোমাঞ্চ ও কৌশলগত বৈচিত্র্য আনতে এবারই প্রথম যুক্ত করা হয়েছে ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ কনসেপ্ট। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৫, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শেষে ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে মেগা ফাইনাল। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে দর্শকদের জন্য থাকবে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যা ৬টায় ম্যাচ শুরু হবে।

টিকিটের মূল্য সাধারণ দর্শকদের মাঠে আসার সুযোগ দিতে টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে হাতের নাগালেই। ইস্টার্ন গ্যালারির টিকিট পাওয়া যাবে ১০০ টাকায়। নর্দার্ন ও সাউদার্ন স্ট্যান্ডের টিকিট ২০০ টাকা এবং ক্লাব হাউজের জন্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে বসে খেলা দেখার জন্য দর্শকদের খরচ করতে হবে ১,০০০ টাকা।


বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়াকে বড় বার্তা দিল পাকিস্তান

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ৩১ ২১:০৭:৫০
বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়াকে বড় বার্তা দিল পাকিস্তান
ছবি : সংগৃহীত

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করল স্বাগতিক পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিল সালমান আঘার দল। আজ প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৯৮ রানের পাহাড় গড়ার পর অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১০৮ রানেই গুটিয়ে দেয় পাক বোলাররা।

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া পাকিস্তানের শুরুটা আশানুরূপ হয়নি। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান মাত্র ৫ রান করে দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। তবে দ্বিতীয় উইকেটে সাইম আইয়ুব এবং অধিনায়ক সালমান আলী আঘা ইনিংসের হাল ধরেন। সাইম ১১ বলে ২৩ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলে বিদায় নিলেও অপরপ্রান্তে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালান সালমান আঘা। বাবর আজম এদিন বড় রান করতে ব্যর্থ হলেও অধিনায়কের ৪০ বলে ৭৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৪টি ছক্কার মার। মধ্যভাগে উসমান খান ৩৬ বলে ৫৩ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন। শেষ দিকে শাদাব খানের অপরাজিত ২৮ ও মোহাম্মদ নওয়াজের ৯ রানের সৌজন্যে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৯৮ রানের সংগ্রহ পায় পাকিস্তান।

১৯৯ রানের বিশাল লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের বোলিং তোপের মুখে শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলে অজি ব্যাটাররা। পাওয়ার প্লের মধ্যেই ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শসহ তিন টপ অর্ডার ব্যাটার বিদায় নিলে চাপে পড়ে সফরকারীরা। মাঝপথে ক্যামেরন গ্রিন ২০ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও আবরার-শাদাবদের ঘূর্ণিতে তা স্থায়ী হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ ওভারে মাত্র ১০৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে বিধ্বংসী ছিলেন লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ; তিনি মাত্র ৩ ওভারে ১৪ রান দিয়ে শিকার করেন ৩ উইকেট। তাকে যোগ্য সহায়তা করে শাদাব খান ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে তুলে নেন ৩টি উইকেট। এছাড়া উসমান তারিক ২টি ও মোহাম্মদ নওয়াজ ১টি উইকেট লাভ করেন। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ৭৬ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন অধিনায়ক সালমান আঘা। এই জয়ের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বিশ্ব ক্রিকেটের শক্তিধর দলগুলোকে কড়া বার্তা দিয়ে রাখল পাকিস্তান।


মাঠের লড়াইয়ের আগেই আইনি যুদ্ধে মুখোমুখি আইসিসি ও ডব্লিউসিএ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ৩১ ১৭:৩৪:২৭
মাঠের লড়াইয়ের আগেই আইনি যুদ্ধে মুখোমুখি আইসিসি ও ডব্লিউসিএ
ছবি : সংগৃহীত

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর আগেই আইসিসি এবং ক্রিকেটারদের বৈশ্বিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ) এক বড় ধরনের আইনি ও নীতিগত দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে ডব্লিউসিএ-র কড়া সমালোচনার মুখে পড়া আইসিসি এবার নতুন করে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সত্তার অধিকার ও অংশগ্রহণের শর্তাবলি নিয়ে নতুন বির্তকের জন্ম দিয়েছে।

ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডব্লিউসিএ-র দাবি অনুযায়ী ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আইসিসি খেলোয়াড়দের কাছে যেসব শর্তাবলি পাঠিয়েছে, তা ২০২৪ সালে দুই পক্ষের সই করা চুক্তির সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। খেলোয়াড়দের সংগঠনের মতে, আইসিসির প্রস্তাবিত এই নতুন শর্তগুলো অত্যন্ত ‘শোষণমূলক’। ডব্লিউসিএ এ বিষয়ে আইসিসিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে আইসিসি পাল্টা জবাবে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ওই চুক্তিটি ছিল কেবল আটটি নির্দিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডের (এনজিবি) জন্য এবং বিশ্বকাপের বাকি দেশগুলো এই চুক্তির আওতায় পড়বে না।

আইসিসি যে আটটি বোর্ডের কথা উল্লেখ করছে, সেগুলো হলো—অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি না হওয়ায় এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই এবং সেই শূন্য স্থানে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদিকে বিশ্বকাপের বাকি ১২টি দেশের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান ও আরব আমিরাতের বোর্ডগুলো ডব্লিউসিএ-কে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে সেসব দেশের খেলোয়াড়েরা এই সংগঠনের সদস্য নন। অন্যদিকে ইতালি, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান, নামিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার খেলোয়াড় সংগঠন থাকলেও গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা আইসিসি থেকে কোনো শর্তাবলি পায়নি। ডব্লিউসিএ-র আশঙ্কা, তাদের কাছেও সেই বিতর্কিত ও শোষণমূলক শর্তগুলোই পাঠানো হবে।

ডব্লিউসিএ-র জোরালো দাবি হচ্ছে, ২০২৪ সালের চুক্তিটি ছিল সংগঠনের সব সদস্যের জন্য, তারা বিশ্বকাপে খেলুক বা না খেলুক। আইনিভাবে এই চুক্তি সবার জন্যই কার্যকর হওয়া উচিত। গত ১৫ জানুয়ারি খেলোয়াড়দের পাঠানো এক মেমোতে ডব্লিউসিএ-র প্রধান নির্বাহী টম মোফাট আটটি ক্ষেত্রে গুরুতর অসংগতির কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে গণমাধ্যমে উপস্থিতি, ড্রেসিংরুমে ঢোকার অনুমতি, খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার, বাণিজ্যিক লাইসেন্স এবং আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি।

মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলোয়াড়দের সম্মতির অধিকার। আগের চুক্তিতে বলা হয়েছিল, সব বিষয়ে খেলোয়াড়েরা নিজেরা বা সংগঠনের মাধ্যমে দর-কষাকষি করতে পারবেন। কিন্তু আইসিসির নতুন শর্ত অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের আলাদা কোনো সম্মতির প্রয়োজন নেই এবং বোর্ড যা বলবে তা-ই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ, খেলোয়াড়দের ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইসিসির নতুন শর্তে বলা হয়েছে, যেকোনো তৃতীয় পক্ষকে খেলোয়াড়েরা তাঁদের ছবি ব্যবহারের লাইসেন্স দিতে বাধ্য থাকবেন। এমনকি এক দলের তিনজনের ছবি ব্যবহার করে আইসিসির কোনো বাণিজ্যিক পার্টনার নিজেদের পণ্যের প্রচারও করতে পারবে। অথচ ২০২৪ সালের চুক্তিতে এই বিষয়টি ছিল অনেক বেশি সীমাবদ্ধ এবং ডব্লিউসিএ-র সঙ্গে আলোচনার ওপর নির্ভরশীল।

এছাড়াও খেলোয়াড়দের বায়োলজিক্যাল বা ব্যক্তিগত তথ্যের মালিকানা নিয়েও বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আইসিসি এই তথ্যের মালিকানা নিজেদের কাছে রাখতে চায়, যাতে তারা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে তা বাণিজ্যিক কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু ডব্লিউসিএ বলছে, তথ্যের মালিক একান্তই খেলোয়াড় নিজে এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া এটি কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। সব থেকে অদ্ভুত ও বিতর্কিত শর্তটি হলো, খেলোয়াড়রা যদি বিশ্বকাপে অংশ নেন, তবে ধরে নেওয়া হবে তিনি আইসিসির সব শর্ত মেনে নিয়েছেন—তাতে তিনি চুক্তিতে সই করুন আর নাই করুন। ডব্লিউসিএ এই ‘জোর করে চাপিয়ে দেওয়া’ পদ্ধতির ঘোর বিরোধী।

টম মোফাট সরাসরি অভিযোগ করে বলেছেন যে, আইসিসি ও সদস্য বোর্ডগুলো মিলে খেলোয়াড়দের প্রাপ্য সুরক্ষাগুলো সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে এবং তারা খেলোয়াড়দের ‘মালিক’ হতে চাইছে। তিনি মনে করেন, যেসব খেলোয়াড় অপেক্ষাকৃত কম বেতন পান বা অপেশাদার, তাঁদেরই এই চুক্তির মাধ্যমে শোষণের লক্ষ্য বানানো হয়েছে। মোফাট পরিষ্কার করেছেন যে, ডব্লিউসিএ বিশ্বকাপ পণ্ড করতে চায় না। তবে তিনি উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছেন, আইসিসির এই শর্তগুলো খেলোয়াড়দের অধিকারকে মারাত্মকভাবে খর্ব করছে, বিশেষ করে যাঁরা আর্থিকভাবে দুর্বল তাঁদের ওপর ভিন্ন শর্ত চাপিয়ে দেওয়াটা খুবই দুঃখজনক। অনেক খেলোয়াড়ের জন্য আইসিসি ইভেন্টই আয়ের প্রধান উৎস। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে পাঠানো ডব্লিউসিএ-র পরবর্তী চিঠির জবাব আইসিসি এখনো দেয়নি। এ বিষয়ে আইসিসির মন্তব্য জানতে ক্রিকইনফোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।

পাঠকের মতামত: