ইসরায়েল ফার্স্ট নীতিতে ক্ষুব্ধ মার্কিনিরা: নিজ দেশেই তোপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৯:৫৭:৫০
ইসরায়েল ফার্স্ট নীতিতে ক্ষুব্ধ মার্কিনিরা: নিজ দেশেই তোপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলমান “নো কিংস” বিক্ষোভ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি বিদ্ধ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই বিক্ষোভে লাখো মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে, মার্কিন নাগরিকরা বর্তমান প্রশাসনের “ইসরায়েল ফার্স্ট” (ইসরায়েল আগে) নীতিতে চরম ক্ষুব্ধ।

পেজেশকিয়ান মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের উচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই বিক্ষোভের প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে সজাগ করা। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন জনগণ তাদের গণতন্ত্রের ওপর “ইসরায়েলি রাজাদের” ক্রমাগত প্রভাব বিস্তারে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। একই সুরে কথা বলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফও। তিনি বিক্ষোভকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইরান ৪৭ বছর আগে যে ‘রাজতন্ত্র বিরোধী’ আন্দোলন শুরু করেছিল, আজ মার্কিন জনতা সেই পথেই হাঁটছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তা এখন পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধের প্রতিবাদে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতির তীব্র নিন্দা জানান এবং ইরানের বিরুদ্ধে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেন।

মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের দেশের স্বার্থের চেয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী। এদিকে ইরানও দমে নেই; তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না ব্রিটেন, সাফ জানালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৯:৪২:৫৫
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না ব্রিটেন, সাফ জানালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই সংঘাত থেকে যুক্তরাজ্য নিজেকে দূরে রাখবে। স্টারমারের ভাষায়, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়, এবং আমরা এতে জড়িয়ে পড়ব না।”

সোমবার এক বিবৃতিতে স্টারমার জানান, যুক্তরাজ্য বর্তমানে কেবল ‘প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণ করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন রক্ষা, ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষা এবং ওই অঞ্চলে থাকা মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে ব্রিটেন সব ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সহায়তা চালিয়ে যাবে। তবে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের নেই।

অবশ্য সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে ব্রিটেন। হরমুজ প্রণালীতে হুমকির মুখে থাকা ইরানি স্থাপনায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এছাড়া ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝ আকাশে প্রতিহত করতে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্টারমার একদিকে সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে চাইছেন, অন্যদিকে মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও বজায় রাখছেন।

সূত্র: আল জাজিরা


খার্গ দ্বীপে হামলার চূড়ান্ত হুমকি ট্রাম্পের: রণক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে হরমুজ প্রণালি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৮:৫৮:৩৪
খার্গ দ্বীপে হামলার চূড়ান্ত হুমকি ট্রাম্পের: রণক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে হরমুজ প্রণালি
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকি এবং এর বিপরীতে ইরানের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনা ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র এবং খার্গ দ্বীপ লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। যদিও তিনি দাবি করেছেন আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই যুক্তরাষ্ট্রের এই ১৫ দফা পরিকল্পনাকে ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকার সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি; যা কিছু হচ্ছে তা পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান। বাঘেই যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, অন্য পক্ষ বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছে, যা আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলছে।

ইরানি মুখপাত্র আরও জানান, তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে শত্রু মনে করে না এবং সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ইরানের সামরিক পদক্ষেপ কেবল সেইসব ঘাঁটি ও স্থাপনার ওপর চালানো হবে যেখান থেকে ইরানের ওপর হামলা করা হয়েছে। এছাড়া চলমান এই সংকটের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ বা প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রসঙ্গ টেনে আঞ্চলিক দেশগুলোকে সংঘাতে জড়ানোর প্রচেষ্টারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

/আশিক


হরমুজ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ ট্যাংকারে তেল পাঠাচ্ছে ইরান: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৪:১৭:২০
হরমুজ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ ট্যাংকারে তেল পাঠাচ্ছে ইরান: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে জ্বালানি কূটনীতি ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণ। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার পাঠাচ্ছে, যা চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এক নতুন ইঙ্গিত বহন করছে।

রোববার ওয়াশিংটনের পথে প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকেই এসব জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই তেলবাহী জাহাজ পাঠানোকে তিনি ‘শ্রদ্ধার নিদর্শন’ হিসেবে দেখবেন কি না তা নিশ্চিত নন, তবে এটি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটন বর্তমানে একটি ‘অনুকূল অবস্থানে’ রয়েছে। তার মতে, কূটনৈতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

তবে সম্ভাবনার কথা বললেও ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, এই আলোচনা সফল নাও হতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘চুক্তি হতে পারে, আবার নাও হতে পারে’ যা আলোচনার অনিশ্চয়তাকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরোক্ষ উভয় ধরনের আলোচনাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই বহুমাত্রিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার একটি কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্থল অভিযানের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ‘বহু বিকল্প’ খোলা রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে সামরিক অপশন এখনো পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, আলোচনার অগ্রগতি নির্ধারিত সময়সূচির তুলনায় দ্রুত হয়েছে এবং একটি নতুন আলোচনাকারী দল এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে, যারা তুলনামূলকভাবে ‘যুক্তিসঙ্গত’ আচরণ করছে।

তবে এই ইতিবাচক ইঙ্গিতের বিপরীতে ইরানের অবস্থান বেশ কঠোর। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, যে কোনো যুদ্ধবিরতি তাদের নিজস্ব শর্ত ও সময়সূচি অনুযায়ীই হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের সম্ভাবনা এবং আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত একদিকে যেমন উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে তা কৌশলগত দরকষাকষির অংশও হতে পারে।

কারণ হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট, যার ওপর নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ভূমিকা রাখে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


খার্গ দ্বীপ আসলে কী? কেন এই ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ দখল করতে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১০:৫১:০৪
খার্গ দ্বীপ আসলে কী? কেন এই ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ দখল করতে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইরানের ‘লাইফলাইন’খ্যাত এই দ্বীপটির দখল নিতে চায়। এই রণকৌশলকে তিনি ভেনেজুয়েলার ‘তেল রাজনীতির’ সঙ্গে তুলনা করেছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো দ্বীপটি দখল বা অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে বাধ্য করা এবং দেশটির আয়ের প্রধান উৎস চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া।

ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে খার্গ দ্বীপ ইরানের জন্য এক অপরিহার্য ভূখণ্ড। মূল ভূখণ্ডের উপকূলীয় এলাকা সুপারট্যাঙ্কার চলাচলের জন্য অত্যন্ত অগভীর হওয়ায় ইরানের উৎপাদিত প্রায় সমস্ত অপরিশোধিত তেল সমুদ্রতলের পাইপলাইনের মাধ্যমে এই দ্বীপে পাঠানো হয়। ১৯৫০-এর দশকে তেল স্থাপনা হিসেবে গড়ে ওঠা এই দ্বীপে বর্তমানে বিশালাকার স্টোরেজ ট্যাঙ্ক এবং জেটি রয়েছে, যেখান থেকে মূলত চীনে তেল রপ্তানি করা হয়। অন্তত ৮ হাজার বাসিন্দার এই ‘নিষিদ্ধ দ্বীপে’ সাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকলেও স্যাটেলাইট চিত্রে সেখানে পাইপলাইনের এক বিশাল জাল ও শক্তিশালী অবকাঠামো দেখা যায়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দ্বীপটিকে ‘অরক্ষিত’ বলে বর্ণনা করলেও সামরিক বিশেষজ্ঞরা একে দখলের অভিযানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। ১৯৮৮ সাল থেকেই ট্রাম্পের নজর এই দ্বীপটির ওপর থাকলেও বর্তমানে ওই অঞ্চলে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপার এবং উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ মোতায়েন করায় সংঘাতের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মাইকি কে-র মতে, এই দ্বীপটি দখল করা হলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাবে, যা তাদের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তবে এই সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান এমেরি সতর্ক করেছেন যে, দ্বীপটি মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২০ মাইলের কম দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় এটি সহজেই ইরানি রকেট, গোলন্দাজ বাহিনী ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

পারস্য উপসাগরের গভীরে অবস্থিত হওয়ায় মার্কিন রসদ সরবরাহের পথটিও সবসময় ঝুঁকির মুখে থাকবে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, খার্গ দ্বীপ দখল করা কোনো চূড়ান্ত বিজয় আনার বদলে যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী করার ঝুঁকি তৈরি করবে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরান ও তার মিত্ররা কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট করেছেন যে, তারা মার্কিন বাহিনীর প্রতিটি গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করবেন না। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এই দখলের পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খার্গ দ্বীপে কোনো অভিযান চালানো হলে ইরান তীব্র পাল্টা আঘাত হানতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে এক চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

/আশিক


হরমুজ ছাড়িয়ে ওমান উপসাগরও এখন ইরানের কবজায়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১০:৩২:১৪
হরমুজ ছাড়িয়ে ওমান উপসাগরও এখন ইরানের কবজায়
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির পর এবার ওমান উপসাগরের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। দেশটির নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে এই অঞ্চলের জলসীমায় ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে ওই অঞ্চলে মোতায়েনরত মার্কিন বাহিনীর ওপর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, ইরানি কমান্ডার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে মার্কিন সেনারা বর্তমানে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। আমেরিকার কোনো রণতরী বা সামরিক যান সীমার মধ্যে এলেই উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে তিনি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নতুন করে যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে।

ওই কমান্ডার আরও দাবি করেন, ইরানের শক্তিশালী সামরিক তৎপরতা ও মহড়ার মুখে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইরানি জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চল এবং ওমান উপসাগর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই কৌশলগত আধিপত্যের ফলে ওই অঞ্চলের নৌ-চলাচল ও সামরিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আলজাজিরা


১৫ দফার বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিয়েছে ইরান : ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১০:২১:৩৫
১৫ দফার বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিয়েছে ইরান : ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা শর্তের অধিকাংশ মেনে নিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ট্রাম্প জানান, ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে চলেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ইরান তাদের অধিকাংশ শর্ত মেনে নিতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনা সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কেন তারা আমাদের শর্ত মেনে নেবে না? সবকিছুই এখন ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, ইরান তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে তেল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে ২০টি জাহাজভর্তি তেল উপহার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে, যা মঙ্গলবার থেকেই যাত্রা শুরু করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া এই ১৫ দফা শর্তের মধ্যে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা মিসাইল প্রোগ্রামে সীমাবদ্ধতা আরোপ, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা বন্ধ করা এবং ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো অত্যন্ত কঠোর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও ইরান বেশিরভাগ শর্তে সায় দিয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করছেন, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নিয়ে এখনো দরকষাকষি ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। এই সমঝোতা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের অস্থিরতায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


তেল, মিসাইল ও কূটনীতি: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে যাচ্ছে?

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ০৮:৩৪:০১
তেল, মিসাইল ও কূটনীতি: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে যাচ্ছে?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এখন এমন এক জটিল ও বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে, যা আর কোনোভাবেই সীমিত সামরিক উত্তেজনা হিসেবে বিবেচিত করা যায় না। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত হচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় সামরিক শক্তি, অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৌশলগত নৌপথ এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। এই সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তৃতি যেমন বাড়ছে, তেমনি এর প্রভাবও ক্রমেই বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও কূটনীতির ওপর গভীর ছাপ ফেলছে।

দক্ষিণ ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত নেউত হোভাভ শিল্পাঞ্চলে একটি রাসায়নিক সংরক্ষণাগারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনা এই সংঘাতের প্রকৃতি পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিস্ফোরণের পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং সম্ভাব্য বিষাক্ত পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন জরুরি সতর্কতা জারি করে। বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে, জানালা-দরজা বন্ধ রাখতে এবং আক্রান্ত এলাকা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে বড় ধরনের রাসায়নিক লিকেজ ঘটেনি, তবুও এই হামলা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে সংঘাত এখন কেবল সামরিক ঘাঁটি বা প্রতিরক্ষা স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং শিল্প ও বেসামরিক অবকাঠামোও সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এই ধরনের হামলা কেবল তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে না, বরং পরিবেশগত বিপর্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য সংকটের সম্ভাবনাও সৃষ্টি করে।

একই সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে পাল্টা হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে মেহরাবাদ বিমানবন্দর, ব্যাংকিং অবকাঠামো এবং শিল্প স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে । পাশাপাশি ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে পুনরায় হামলা চালানো হয়েছে, যা চলতি সপ্তাহে একই প্রতিষ্ঠানের ওপর দ্বিতীয় আঘাত। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত চারজন কর্মী আহত হয়েছেন। এই ধরনের হামলা কেবল সামরিক নয়, বরং জ্ঞান ও গবেষণাকেন্দ্রিক অবকাঠামোকেও টার্গেট করছে, যা সংঘাতের চরিত্রকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এই ধরনের বিবৃতি সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার একটি সুস্পষ্ট সংকেত, যা একে কেবল সামরিক নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর ওপরও আঘাত হানার সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো এর বহু-ফ্রন্টে বিস্তার। ইয়েমেনভিত্তিক হুথি গোষ্ঠীর যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের ঘোষণা এই সংঘাতকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে। এর ফলে ইসরায়েলকে এখন কেবল ইরান বা লেবাননের হিজবুল্লাহ নয়, বরং দক্ষিণ দিক থেকেও নতুন হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের স্থল অভিযান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে । ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেও এই সংঘাতের প্রভাব ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। কুয়েতে বিদ্যুৎ ও পানি উৎপাদন কেন্দ্রে হামলার ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন । একই সঙ্গে সৌদি আরব, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা দেখায় যে সংঘাত এখন গোটা উপসাগরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোকেও সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

এই সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রতিফলন পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার অতিক্রম করেছে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে । ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে তেলের দাম ৬০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি, সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি বাড়ছে।

কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই সংকীর্ণ নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই প্রণালী আংশিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে । তবুও এই নৌপথে যেকোনো ধরনের বাধা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক ও ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

কূটনৈতিক পর্যায়ে পরিস্থিতি সমানভাবে জটিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে দাবি করছেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে এবং তেহরান তার প্রস্তাবিত বেশ কিছু শর্ত মেনে নিয়েছে , অন্যদিকে তিনি সামরিক বিকল্পও খোলা রাখছেন। এমনকি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখলের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানে কার্যত শাসন পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সহজতর হচ্ছে । তবে এই দাবির বাস্তবতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার এই সমান্তরাল কৌশল পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে এবং স্থায়ী সমাধানের পথকে জটিল করছে।

মানবিক দিক থেকেও পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। লেবাননে গত চার সপ্তাহে ১,২০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু এবং হাজার হাজার মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা এই সংঘাতের গভীর মানবিক সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে । জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি একটি জটিল, বহুমাত্রিক এবং ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রতিচ্ছবি, যেখানে সামরিক শক্তি, কৌশলগত সম্পদ, জ্বালানি রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। প্রতিটি নতুন হামলা এবং পাল্টা হামলা শুধু সংঘাতের পরিধিই বাড়াচ্ছে না, বরং একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক বা এমনকি বৈশ্বিক যুদ্ধের সম্ভাবনাকেও বাস্তব করে তুলছে।

এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই সংঘাত কি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব, নাকি এটি আরও বিস্তৃত হয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নতুন এক অস্থিতিশীলতার যুগে প্রবেশ করাবে। বর্তমান বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিশ্ব এখন এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও অনিশ্চিত সময়ের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব বহুমাত্রিক এবং দীর্ঘমেয়াদি।


ইরানী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ইসরায়েলে রাসায়নিক বিপর্যয়: আতঙ্কে ঘরে বন্দি লাখো মানুষ

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ২২:৪৫:০০
ইরানী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ইসরায়েলে রাসায়নিক বিপর্যয়: আতঙ্কে ঘরে বন্দি লাখো মানুষ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে একটি শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সম্ভাব্য রাসায়নিক বিপদের আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে, জানালা-দরজা বন্ধ রাখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কাছাকাছি না যেতে নির্দেশ দিয়েছে।

ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত নেউত হোভাভ শিল্পাঞ্চলের একটি রাসায়নিক সংরক্ষণাগারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে জানানো হয়েছে। হামলায় সংরক্ষণ ইউনিটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিপজ্জনক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, শিল্প এলাকায় আঘাতের কারণ সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নাও হতে পারে, বরং বিস্ফোরণের ফলে ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষ বা শার্পনেল থেকেও এই ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে ইরানের ভেতরেও পাল্টা হামলার চিত্র দেখা যাচ্ছে। রোববার ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে একটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যা চলতি সপ্তাহে একই প্রতিষ্ঠানের ওপর দ্বিতীয় আঘাত। ইসফাহান প্রাদেশিক প্রশাসনের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক উপপ্রধান আকবর সালেহি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত চারজন কর্মী আহত হয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবারও একই স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দেশের শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে তারা অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এই ধরনের হুমকি সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অন্যদিকে, জেরুজালেমকে কেন্দ্র করেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইসরায়েলি পুলিশের একটি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন, যেখানে জেরুজালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক কার্ডিনাল পিয়ারবাতিস্তা পিজ্জাবাল্লাকে পাম সানডের প্রার্থনা পরিচালনা করতে বাধা দেওয়া হয়। ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, জেরুজালেমে সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে উপাসনার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা লঙ্ঘনের একটি উদ্বেগজনক ধারাবাহিকতার অংশ।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে বহুমাত্রিক রূপ দিচ্ছে—একদিকে সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলা, অন্যদিকে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

Source: Middle East Eye


কুয়েতে সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানল ইরান, বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির কবলে প্রতিরক্ষা বিভাগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ২২:০০:৩৭
কুয়েতে সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানল ইরান, বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির কবলে প্রতিরক্ষা বিভাগ
ছবি : সংগৃহীত

কুয়েতের একটি সেনাক্যাম্পে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো খবর প্রকাশ করেছে। এই হামলায় সামরিক বাহিনীর অন্তত ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আহত সেনাসদস্যরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার ফলে সেনাক্যাম্পের ভেতরে উল্লেখযোগ্য ‘বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে কুয়েতের আকাশসীমায় গত ২৪ ঘণ্টার ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়েছে যে, এ সময়ের মধ্যে মোট ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন কুয়েত লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীলতার মধ্যে কুয়েতের ওপর এমন ধারাবাহিক হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কাতারের ওপরও ইরানের এই হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ড্রোন কাতারকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে। তবে কাতারের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা সফলভাবে ধেয়ে আসা সমস্ত ড্রোন মাঝ আকাশেই প্রতিহত এবং নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে, যার ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

পাঠকের মতামত: