ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল, ১০০ শহরে বাজছে সতর্কসংকেত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১৯:২৬:১৬
ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল, ১০০ শহরে বাজছে সতর্কসংকেত
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল লক্ষ্য করে একযোগে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়েছে ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যৌথ হামলার সময় ইসরায়েলের অন্তত ১০০টিরও বেশি শহরে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে, যা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। মূলত লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর রকেট বর্ষণ এবং ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত আক্রমণ মোকাবিলায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ ও ইরানের এই দ্বিমুখী আক্রমণের ফলে দেশটির একটি বিশাল অঞ্চল জুড়ে সতর্কবার্তা জারি করতে হয়। যদিও এই শক্তিশালী হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হাইফা উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ায় সেখানকার কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় হাজার হাজার মার্কিন মেরিন সেনা,বাড়ছে আঞ্চলিক সংঘাতের শঙ্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১৮:১২:০৪
মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় হাজার হাজার মার্কিন মেরিন সেনা,বাড়ছে আঞ্চলিক সংঘাতের শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দায়িত্বের এলাকায় নতুন করে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’তে এক সেনার সতর্ক অবস্থান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর পেন্টাগনের গৃহীত নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাজার হাজার মার্কিন নৌ ও মেরিন সেনা ইতিমধ্যে এই অঞ্চলে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই বিশেষ মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে সামরিক কৌশল ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিশাল সেনাবহর ঠিক কোন কোন অবস্থানে মোতায়েন করা হয়েছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ তার পূর্বনির্ধারিত দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছেছে। এই রণতরীটির পরিচালনার আওতাধীন এলাকার মধ্যে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএসএস ত্রিপোলির নেতৃত্বে একটি বিশেষ ‘অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’ এই অঞ্চলে অবস্থান নিয়েছে। এই বহরটিতে প্রায় ৫ হাজার দক্ষ নাবিক ও মেরিন সেনা রয়েছে যারা যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম। উল্লেখ্য যে, এই যুদ্ধজাহাজটি এর আগে জাপানের জলসীমায় অবস্থান করছিল, যেখান থেকে এটিকে জরুরি ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, ফ্রান্সে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। সেখানে তিনি ওয়াশিংটনের আগামী দিনের রণকৌশল সম্পর্কে একটি ধারণা প্রদান করেন। রুবিও দাবি করেন যে, ইরানে সরাসরি কোনো স্থলবাহিনী মোতায়েন করার প্রয়োজন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তার কাঙ্ক্ষিত সামরিক লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে। আরও জটিল করে তুলতে পারে।

/আশিক


এবার রণক্ষেত্র থেকে আলোচনার টেবিলে ইরান: তবে জুড়ে দিল এক কঠিন শর্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১১:৫৮:১৩
এবার রণক্ষেত্র থেকে আলোচনার টেবিলে ইরান: তবে জুড়ে দিল এক কঠিন শর্ত
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে এক বিস্ফোরক শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। দীর্ঘ এক মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে দাবি করে তেহরান এখন এই নৌপথের ওপর তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চাইছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান পরিকল্পনা করছে এই সরু জলপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে নিয়মিত টোল আদায় করার, যা পূরণ হলে দেশটির অর্থনীতিতে প্রতি বছর কয়েকশ কোটি ডলারের নতুন জোয়ার আসবে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি জানিয়েছেন, ইরান এখন খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে যে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করা কতটা সহজ এবং লাভজনক। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে এই টোল আদায়ের পরিকল্পনাকে তেহরান তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। ইরানের এই দাবি মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এক ধরনের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা।

তবে ইরানের এই নজিরবিহীন শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই এই ‘অবৈধ ও বিপজ্জনক’ দাবি মেনে নেবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। ফলে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বড় অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করছে।

/আশিক


ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মুখে বিশ্ব! লোহিত সাগরে ইরানের নতুন মাস্টারপ্ল্যান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১১:৫৪:০৮
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মুখে বিশ্ব! লোহিত সাগরে ইরানের নতুন মাস্টারপ্ল্যান
ছবি : সংগৃহীত

লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট সাবমেরিন ক্যাবল বা অপটিক্যাল ফাইবার তার কেটে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে ইরান। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো যদি তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখে, তবে ইরান এই চরম পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর চাউর হয়েছে। যদিও ইরানের কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা গোয়েন্দা সংস্থা এখন পর্যন্ত বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেনি, তবে এই হুমকিতে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের ডিজিটাল বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লেবানিজ-অস্ট্রেলিয়ান উদ্যোক্তা মারিও নাওফাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, লোহিত সাগরের এই তারগুলো বৈশ্বিক ইন্টারনেট ট্র্যাফিকের প্রায় ১৭ শতাংশ বহন করে। বিশেষ করে আমাজন, মাইক্রোসফট এবং গুগল সমর্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কেন্দ্রগুলোর সংযোগ এই তারের ওপর নির্ভরশীল। যদি এই তারগুলো কেটে দেওয়া হয়, তবে ইন্টারনেট বিভ্রাট কয়েক ঘণ্টা নয়, বরং মাসের পর মাস স্থায়ী হতে পারে। বৈশ্বিক আর্থিক লেনদেন, ক্লাউড সেবা এবং ভিডিও কলিংয়ের মতো জরুরি পরিষেবাগুলো সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ফরাসি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান 'আলকাটেল সাবমেরিন নেটওয়ার্কস' ইতিমধ্যে তাদের গ্রাহকদের 'ফোর্স ম্যাজিউর' বা অনিবার্য পরিস্থিতিজনিত নোটিশ পাঠিয়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির তার স্থাপনকারী জাহাজ 'ইল দ্য বাৎজ' বর্তমানে সৌদি আরবের দাম্মাম উপকূলে আটকা পড়ে আছে। এমনকি প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা-ও এই মাসের শুরুর দিকে সমুদ্রের তলদেশে তাদের ক্যাবল স্থাপনের কাজ স্থগিত করেছে। লোহিত সাগরের নিচে বিছানো এই তারগুলো এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের ইন্টারনেট সংযোগের প্রাণকেন্দ্র, যা এখন ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন টার্গেটে পরিণত হয়েছে।

সূত্র- টাইমস অফ ইন্ডিয়া


ইরানের ইতিহাসে ভয়াবহতম দিন: এক রাতেই তছনছ রাজধানী তেহরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১১:৪৬:০২
ইরানের ইতিহাসে ভয়াবহতম দিন: এক রাতেই তছনছ রাজধানী তেহরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানজুড়ে স্মরণকালের ভয়াবহতম তাণ্ডব চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে দেশজুড়ে অন্তত ৭০১টি শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে। বিবিসি এবং হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (HRANA) তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে এত বিপুল সংখ্যক হামলার ঘটনা এটিই প্রথম।

এই বিধ্বংসী হামলার প্রায় ৭৪ শতাংশই পরিচালিত হয়েছে রাজধানী তেহরানকে লক্ষ্য করে। ফলে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির শিকার হয়েছে এই শহরটি। এইচআরএএনএ-র সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর মাত্র এক মাসে নিহত বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যা ১ হাজার ৫৫১ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ২৩৬ জনই নিষ্পাপ শিশু। তেহরানের আকাশজুড়ে এখনো ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং ধ্বংসস্তূপের চিত্র এই যুদ্ধের নির্মমতাকে ফুটিয়ে তুলছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনি পরিস্থিতিতে নতুন ঘি ঢেলেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে তারা দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা পুরো অঞ্চলকে এক মহাযুদ্ধের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, হুথিরা যদি লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে। অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৩ জন সাংবাদিক নিহতের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। যদিও ইসরায়েলের দাবি, নিহতদের একজন হিজবুল্লাহর সদস্য ছিলেন।

/আশিক


ইসরায়েলে হুথিদের মিসাইল রেইন: ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় দফায় কাঁপল তেল আবিব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১০:৫২:৫৭
ইসরায়েলে হুথিদের মিসাইল রেইন: ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় দফায় কাঁপল তেল আবিব
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে দ্বিতীয় দফায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক ভিডিও বার্তায় এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন। ইরানি বাহিনীর পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হুথিদের এই দ্বিতীয় দফার আক্রমণ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্তেজনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইয়াহিয়া সারি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ‘আগ্রাসন ও হামলা’ বন্ধ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইয়েমেনের এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। হুথিদের দাবি অনুযায়ী, তারা ইসরায়েলের বেশ কিছু ‘গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা’ লক্ষ্য করে আধুনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও একঝাঁক ড্রোন ব্যবহার করেছে।

মূলত লেবানন, ইরান ও ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই এই ড্রোন ও মিসাইল রেইন চালানো হয়েছে। হুথি মুখপাত্র আরও বলেন, "দখলকৃত পশ্চিম তীরেও আমরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছি। যদি অন্য কেউ এই যুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষ নেয়, তবে আমাদের আঙুল সবসময় বন্দুকের ট্রিগারেই থাকবে।"

এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, তাদের অ্যারো-ডিফেন্স সিস্টেম এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হুমকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই বিধ্বংসী যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার পর ইয়েমেনের সরাসরি অংশগ্রহণ যুদ্ধের পরিধিকে আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ করে তুলছে। লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত এখন হুথিদের এই ‘ট্রিগার হ্যাপি’ মনোভাব বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

/আশিক


সৌদি যুবরাজ এখন আমার পেছনে ঘুরছেন: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১০:৪৮:২২
সৌদি যুবরাজ এখন আমার পেছনে ঘুরছেন: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের প্রভাবশালী ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) এখন যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে ঘুরছেন এবং ওয়াশিংটনের প্রতি নমনীয় আচরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন—এমনটাই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার মিয়ামিতে সৌদি সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের বার্ষিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ত্রিমুখী সংঘাতের মাঝেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ট্রাম্প সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সউদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, ৯০ বছর বয়সী সৌদি বাদশাহ তাঁকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। তবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রসঙ্গে ট্রাম্পের সুর ছিল কিছুটা আক্রমণাত্মক।

ট্রাম্প দাবি করেন, এক বছর আগে যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মৃতপ্রায় দেশ’ বলে মনে করলেও এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, "তিনি (এমবিএস) ভেবেছিলেন আমি একজন ব্যর্থ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হবো এবং দেশ রসাতলে যাবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টো, তাই তাঁকে আমার সাথে ভালো আচরণ করতেই হচ্ছে।"

এর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, সৌদি যুবরাজ ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দিচ্ছেন এবং একে মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনের একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পও যুবরাজকে একজন ‘যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন যে তিনি আমেরিকার পাশেই আছেন।

তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। রিয়াদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা শুরু থেকেই এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়ে আসছে। ট্রাম্পের এমন দম্ভোক্তি এবং রিয়াদের অস্বীকার—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের পর্দার আড়ালের সম্পর্ক এখন বিশ্ব রাজনীতির টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: আরটি


আরব আমিরাত ও বাহরাইনে ইরানের মিসাইল হামলা: তছনছ মার্কিন স্বার্থের দুই কারখানা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১০:৩৮:০৯
আরব আমিরাত ও বাহরাইনে ইরানের মিসাইল হামলা: তছনছ মার্কিন স্বার্থের দুই কারখানা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দুটি বিশাল অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় এক ভয়াবহ সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) এক বিবৃতিতে তারা এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ইমারেটস অ্যালুমিনিয়াম (ইমাল)’ এবং বাহরাইনের ‘অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন (আলবা)’ কারখানায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্স ও নৌবাহিনী যৌথভাবে এই হামলা পরিচালনা করে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেছে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে যে, মার্কিন-জায়োনিস্ট শত্রুরা পারস্য উপসাগরের উপকূলীয় দেশগুলোকে ব্যবহার করে ইরানের শিল্প অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এর কঠোর জবাব দিতেই এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইমাল কারখানাটি বিশ্বের দীর্ঘতম অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন লাইনের অধিকারী এবং আলবা কারখানায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বিনিয়োগ ও শেয়ার রয়েছে। এই কারখানা দুটি মার্কিন সেনাবাহিনীর সামরিক-শিল্প উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে দাবি করেছে ইরান।

এই হামলার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের শিল্প ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আইআরজিসি এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বলে বর্ণনা করলেও, এখন পর্যন্ত ইমাল বা আলবা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির কোনো আনুষ্ঠানিক বিবরণ পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানের এই সরাসরি হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত ও ভয়াবহ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক


আমেরিকার রাজপথে লাখো মানুষের গর্জন: কাঁপছে হোয়াইট হাউস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ০৯:৩১:৪২
আমেরিকার রাজপথে লাখো মানুষের গর্জন: কাঁপছে হোয়াইট হাউস
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর ঠিক এক মাসের মাথায় আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ‘নো কিংস’ (No Kings) আন্দোলনের তৃতীয় দফার এই কর্মসূচিতে শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) রাজপথে নামেন লাখ লাখ বিক্ষোভকারী।

আন্দোলনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি স্থানে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন ডিসির পাশাপাশি এবার রোম, প্যারিস এবং বার্লিনের মতো বিশ্বসেরা শহরগুলোতেও সমান্তরাল কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

এবারের আন্দোলনের মূল বিশেষত্ব ছিল রক্ষণশীল এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করা। তবে সবচেয়ে বিশাল জনসমাবেশ দেখা গেছে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকায়। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্পের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তি ও রেনি নিকোল গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, শনিবারের সমাবেশে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।

এই সমাবেশে প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমরা এই দেশকে কর্তৃত্ববাদ বা ধনকুবেরদের শাসনে ডুবে যেতে দেব না।” রক কিংবদন্তি ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও জোয়ান বায়েজ তাঁদের সংগীতের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান এবং অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো ভিডিও বার্তায় বিক্ষোভকারীদের বীরত্বকে স্যালুট জানান।

ওয়াশিংটন ডিসির লিঙ্কন মেমোরিয়াল এলাকায় জমায়েত হওয়া হাজার হাজার মানুষের হাতে ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং অভিবাসনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লেখা প্ল্যাকার্ড। ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবরের পর এটিই ছিল ‘নো কিংস’ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শো-ডাউন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই গণবিক্ষোভ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধস নামাতে পারে, যা ডেমোক্র্যাটদের জন্য কংগ্রেসে আসন বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।

/আশিক


ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্ফোরক তথ্য: ইরানে শুরু হচ্ছে যুদ্ধের নতুন ধাপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ০৯:১৩:০৮
ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্ফোরক তথ্য: ইরানে শুরু হচ্ছে যুদ্ধের নতুন ধাপ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ওপর টানা কয়েক সপ্তাহব্যাপী বড় ধরনের স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মার্কিন সেনাকে জড়ো করা হয়েছে, যাদের মূল লক্ষ্য হবে ইরানের ভেতরে সরাসরি স্থল অভিযান চালানো। তবে এই হামলা প্রথাগত যুদ্ধের মতো হবে না; বরং এটি হবে স্পেশাল ফোর্স এবং কামান সেনাদের সমন্বয়ে তৈরি এক বিশেষ ‘রেইড’ বা ঝটিকা অভিযান।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, এই নতুন ধাপটি মার্কিন সেনাদের জন্য যুদ্ধ শুরুর সময়ের চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ, ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে সেনাদের ড্রোন, মিসাইল এবং সরাসরি ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এ বিষয়ে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সব সময় প্রস্তুতি নিয়ে রাখে যাতে কমান্ডার ইন চিফ (প্রেসিডেন্ট) সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে পারেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনই চূড়ান্ত স্থল হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।

কোথায় হতে পারে হামলা?

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলার প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ। হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত এই দ্বীপটি থেকেই ইরান তাদের ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপটিকেই প্রধান টার্গেট হিসেবে বিবেচনা করছে। এই স্থল হামলার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: