ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল, ১০০ শহরে বাজছে সতর্কসংকেত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১৯:২৬:১৬
ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল, ১০০ শহরে বাজছে সতর্কসংকেত
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল লক্ষ্য করে একযোগে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়েছে ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যৌথ হামলার সময় ইসরায়েলের অন্তত ১০০টিরও বেশি শহরে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে, যা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। মূলত লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর রকেট বর্ষণ এবং ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত আক্রমণ মোকাবিলায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ ও ইরানের এই দ্বিমুখী আক্রমণের ফলে দেশটির একটি বিশাল অঞ্চল জুড়ে সতর্কবার্তা জারি করতে হয়। যদিও এই শক্তিশালী হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হাইফা উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ায় সেখানকার কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী।

/আশিক


শত্রুর কল্পনাকেও হার মানাবে আমাদের গোপন শক্তি: ইরানি সেনা মুখপাত্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৩ ২১:৫৬:৩৫
শত্রুর কল্পনাকেও হার মানাবে আমাদের গোপন শক্তি: ইরানি সেনা মুখপাত্র
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের রেশ না কাটতেই মধ্যপ্রাচ্যের রণকৌশলে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামি নিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এক মুহূর্তের জন্যও পিছু হটবে না এবং তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

মাশহাদে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আকরামি নিয়া ইরানের নতুন সামরিক বিন্যাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কৌশলগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ ইউনিট এবং পূর্বাংশ রয়েছে নিয়মিত নৌবাহিনীর অধীনে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো সামরিক সরঞ্জাম বা যুদ্ধজাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না।

ইরানি এই জেনারেল দাবি করেন, যুদ্ধ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে এবং অনেক আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও এর সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি দেননি। তিনি আরও বলেন, “শত্রুপক্ষ আমাদের সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করেছিল। আমাদের এমন অনেক গোপন শক্তি রয়েছে যা তাদের কল্পনারও বাইরে।”

আকরামি নিয়ার দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ প্রস্তুতি বজায় রাখার মাধ্যমে তারা শত্রুর যেকোনো আগ্রাসন রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির এই নাজুক সময়ে ইরানের এমন কড়া বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও উত্তপ্ত করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরণের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

সূত্র: আল-জাজিরা


যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে চীনকে জামিনদার চায় ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৩ ২১:২০:২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে চীনকে জামিনদার চায় ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন তার গুরুত্বপূর্ণ এশীয় সফরে ব্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে ওয়াশিংটনের প্রতি এক প্রকার অনাস্থা জানিয়ে বেইজিংয়ের ওপর নিজেদের পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো চুক্তি বা সমঝোতার ক্ষেত্রে চীনকে ‘প্রধান জামিনদার’ বা গ্যারান্টর হিসেবে দেখতে চায় তারা।

ইরানের সরকার বর্তমানে বেইজিংয়ের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সমীকরণ নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চীনকে কেবল একটি দেশ নয়, বরং ‘কৌশলগত অংশীদার’ এবং ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরান মনে করছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার চেয়ে চীনের মতো পরাশক্তির মধ্যস্থতা ও নিশ্চয়তা থাকলেই কেবল দীর্ঘমেয়াদী শান্তি সম্ভব।

চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদুররেজা রহমানি ফাজলি এই সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে একটি কঠোর শর্ত দিয়েছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে তা অবশ্যই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করতে হবে। চুক্তির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হলে বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে, বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি থাকতে হবে।

রাষ্ট্রদূত ফাজলির মতে, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইরানের কাছে চীনের বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই অবস্থানের কারণে বেইজিং অনায়াসেই যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রধান জামিনদার হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে। তেহরান মূলত ওয়াশিংটনের একক আধিপত্য এড়াতে এবং চুক্তির ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বেইজিংকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।


১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ: ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কে নতুন ফাটল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৩ ১৭:৪৫:৩৫
১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ: ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কে নতুন ফাটল
ছবি : সংগৃহীত

বেইজিংয়ে আসন্ন ট্রাম্প-শি চিনপিং শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে সিউলে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ব্যবসায়িক বৈঠকটি ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিয়ে চীন তাদের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করায় দুই পরাশক্তির মধ্যকার উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিংয়ে ১৩-১৫ মে অনুষ্ঠেয় দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকের আগে তাইওয়ান ইস্যুকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র ঝাং হান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি এবং যেকোনো ধরনের সামরিক সম্পর্ক বজায় রাখার তীব্র বিরোধিতা করছে বেইজিং। তিনি ওয়াশিংটনকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তাইওয়ান কখনো আলাদা কোনো রাষ্ট্র ছিল না এবং ভবিষ্যতেও তা হতে দেওয়া হবে না।”

গত বছরের ডিসেম্বরে তাইওয়ানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ১১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অস্ত্র প্যাকেজ ঘোষণার পর থেকেই বেইজিং ক্ষুব্ধ। যদিও ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এক চীন’ নীতি অনুসরণ করে, তবুও তাইপের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে চীন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়টি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সামরিক বাজেট নিয়ে বড় ধরনের রদবদল লক্ষ্য করা গেছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের প্রস্তাবিত ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেটের মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে ড্রোনের মতো আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মসূচিগুলো কাটছাঁট করতে হয়েছে দেশটির সরকারকে, যা তাইওয়ানের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা কৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


পুতিনের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র: সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৩ ১১:৪৫:৫৩
পুতিনের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র: সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের রণকৌশলগত সমীকরণে বড় ধরনের কম্পন ধরিয়ে দিয়ে নতুন প্রজন্মের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সারমাত’-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই পরমাণু সক্ষম দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্রটিকে বিশ্বের “সবচেয়ে শক্তিশালী” অস্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ক্রেমলিনের দাবি, ৩৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম এবং একে ঠেকানোর মতো কোনো প্রযুক্তি বর্তমানে কারোর কাছে নেই।

পশ্চিমা বিশ্বের কাছে ‘স্যাটান-টু’ নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার কৌশলগত পরমাণু শক্তিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল। পুতিনের মতে, এর ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা পশ্চিমা দেশগুলোর সমমানের যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অন্তত চার গুণ বেশি। ২০১১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে উন্নয়নের পর এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি রুশ সামরিক বাহিনীর সক্রিয় অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

সারমাতের সবচেয়ে ভীতি জাগানিয়া বৈশিষ্ট্য হলো এর গতি ও গতিপথ। এটি সাব-অরবিটাল বা আংশিক মহাকাশপথে উড়তে সক্ষম, যা বিশ্বের বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (Missile Defense System) অকার্যকর করে দিতে পারে। পুতিন স্পষ্ট করেছেন যে, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর রাশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই হাইপারসনিক ও ব্যালিস্টিক সক্ষমতার আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছিল।

এই উৎক্ষেপণ এমন এক সময়ে হলো যখন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে দীর্ঘ ৫০ বছর পর বিশ্বের দুই প্রধান পারমাণবিক শক্তি কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল। ট্রাম্প প্রশাসন নতুন চুক্তিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানালেও বেইজিং তাতে কর্ণপাত করছে না। এর মাঝে সারমাত, অ্যাভানগার্ড এবং ওরেশনিকের মতো নতুন প্রজন্মের রুশ অস্ত্রসম্ভার ইউরোপ ও আমেরিকার সামরিক পরিকল্পনাবিদদের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


ধৈর্য হারাচ্ছেন ট্রাম্প: ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার ছক কষছে পেন্টাগন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৩ ১০:২৪:০০
ধৈর্য হারাচ্ছেন ট্রাম্প: ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার ছক কষছে পেন্টাগন
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কোনো সুরাহা না হওয়ায় এবার সামরিক শক্তি প্রয়োগের দিকে ঝুঁকছে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং আলোচনার টেবিলে তেহরানের অনড় অবস্থানের কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারকরা বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত। পেন্টাগনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছে, কেবল সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলার মাধ্যমেই ইরানকে নমনীয় করে পুনরায় আলোচনার টেবিলে আনা সম্ভব। অন্যদিকে, প্রশাসনের আরেকটি অংশ এখনো রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের শেষ সুযোগটুকু কাজে লাগাতে চাইছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর মনোভাব সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাকেই জোরালো করছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটনের অন্দরে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশের ধারণা, ইসলামাবাদ ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর বার্তাগুলো তেহরানের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিচ্ছে না। উল্টো ইরানের অনড় অবস্থানকে ওয়াশিংটনের কাছে নমনীয় বা আশাবাদী হিসেবে তুলে ধরে পাকিস্তান বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এর আগে সোমবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের পাঠানো জবাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘বোকামিপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের দাবিগুলো মোটেও অতিরঞ্জিত নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রই অযৌক্তিক অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি জটিল করছে। দুপক্ষের এমন অনড় অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি এখন কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

/আশিক


কূটনীতি না কি সামরিক হামলা? ইরানের অনড় অবস্থানে দোটানায় ট্রাম্প প্রশাসন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১২ ১৮:১৭:৫৩
কূটনীতি না কি সামরিক হামলা? ইরানের অনড় অবস্থানে দোটানায় ট্রাম্প প্রশাসন
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে না পেরে ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের অনড় অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় হোয়াইট হাউসের অন্দরে এখন যুদ্ধের দামামা বাজছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্য কি আবারও বড় কোনো সামরিক সংঘাতের দিকে যাচ্ছে—এ প্রশ্ন এখন বিশ্বজুড়ে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলোকে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ‘বোকামিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে এখন দুটি মেরু তৈরি হয়েছে। পেন্টাগনের একাংশ মনে করছে, লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলার মাধ্যমেই কেবল ইরানকে নমনীয় করা সম্ভব। অন্যদিকে, কূটনীতিবিদরা চাইছেন আলোচনার শেষ সুযোগটুকু ব্যবহার করতে। তবে ট্রাম্পের চীন সফরের আগে কোনো বড় সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম থাকলেও উত্তেজনার পারদ কমছে না।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল এখন পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। ওয়াশিংটনের সন্দেহ, ইসলামাবাদ ইরানের অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত ইতিবাচকভাবে তুলে ধরছে এবং ট্রাম্পের কড়া বার্তাগুলো তেহরানের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে না। যদিও পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সম্মিলিতভাবে ইরানকে ‘শেষ সুযোগ’ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে, কিন্তু কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করা ইরান এই চাপকে কতটা গুরুত্ব দেবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান অচলাবস্থা কেবল যুদ্ধের ঝুঁকিই বাড়াচ্ছে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার উপক্রম করেছে। সোমবার হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের বৈঠকের পর এটুকু স্পষ্ট যে, কূটনৈতিক পথ ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন পুনরায় সামরিক বা কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের দিকেই হাঁটবে।

/আশিক


পুতিনের প্রস্তাব না কি পাল্টা আঘাত? ইরানের পারমাণবিক হুঁশিয়ারিতে নতুন মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১২ ১৭:৪৬:১৭
পুতিনের প্রস্তাব না কি পাল্টা আঘাত? ইরানের পারমাণবিক হুঁশিয়ারিতে নতুন মোড়
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ববাসীকে চরম সতর্কবার্তা দিল ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি জানিয়েছেন, ইরান পুনরায় হামলার শিকার হলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হতে পারে। উল্লেখ্য, এই মাত্রাটি একটি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় স্তরের সমান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইব্রাহিম রেজায়ি স্পষ্ট করেন, ইরানের ওপর ফের আক্রমণ হলে তাদের পারমাণবিক তৎপরতা আর কোনো সীমাবদ্ধতায় থাকবে না। এই চরম মাত্রার সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ইরানের পার্লামেন্টে পর্যালোচনার পরিকল্পনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই তেহরানের পক্ষ থেকে এমন সরাসরি হুঁশিয়ারি এল।

ইরানের এই হুমকি আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় নিয়ে সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছিল। তবে তেহরানের বর্তমান অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা আত্মরক্ষার খাতিরে যেকোনো চরম সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবে না। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের এই পারমাণবিক কার্ড এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

/আশিক


ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ফাটল ধরাচ্ছে পাকিস্তান: নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১২ ১২:১৮:২৪
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ফাটল ধরাচ্ছে পাকিস্তান: নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বিশাল ‘বট ফার্ম’ এবং ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চলছে। রোববার (১০ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক অনুষ্ঠানে তিনি এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনেন।

আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সমালোচিত নেতানিয়াহু বলেন, বিভিন্ন দেশ পরিকল্পিতভাবে অনলাইনে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে, তবে এই অপপ্রচারে পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। তার দাবি, পাকিস্তানি অপারেটররা আমেরিকান নাগরিকদের পরিচয় ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ধারণা তৈরি করছে যে, সাধারণ মার্কিনিরা ইসরায়েলের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিচ্ছে।

নেতানিয়াহু একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, অনেক সময় টেক্সাসের নাগরিক পরিচয় দিয়ে বার্তা পাঠানো হয় যেখানে লেখা থাকে— “আমি সব সময় ইসরায়েলকে সমর্থন করেছি, কিন্তু এখন আর পারছি না।” অথচ এসব বার্তার উৎস অনুসন্ধান করলে দেখা যায় সেগুলো পাকিস্তানের কোনো এক বেজমেন্ট থেকে পাঠানো হচ্ছে। তার মতে, এর মূল উদ্দেশ্য হলো ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে কৃত্রিম দূরত্ব তৈরি করা।

নেতানিয়াহু এই গুরুতর অভিযোগ তুললেও এর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন বা অকাট্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ইস্যুতে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান জনরোষ এবং মার্কিন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাবকে আড়াল করতেই তিনি ‘বট ফার্ম’ তত্ত্ব সামনে নিয়ে আসছেন। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

/আশিক


যুদ্ধবিরতি এখন লাইফ সাপোর্টে:  ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১২ ১০:৪৮:২৩
যুদ্ধবিরতি এখন লাইফ সাপোর্টে:  ট্রাম্প
ছবি : রয়টার্স

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন খাদের কিনারায়। শান্তি স্থাপনের লক্ষে তেহরানের দেওয়া পাল্টা শর্তগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে পুরো শান্তি চুক্তিটি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।

শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এর পাশাপাশি তেলের বিশ্ববাজারের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চেয়েছে তারা। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দাবিগুলোকে সরাসরি ‘আবর্জনা’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের কারণে গত ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সাময়িক স্থিতিশীলতা এখন চরম হুমকির মুখে।

এই রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ছাড়িয়েছে। এটি গত কয়েক বছরের মধ্যে তেলের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির রেকর্ড। এরই মধ্যে চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর, যারা অবৈধভাবে ইরানি তেল চীনে পাঠাতে সহায়তা করছে।

ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের দাবিগুলো সম্পূর্ণ ন্যায্য এবং যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের জবাব দিতে তাদের বাহিনী প্রস্তুত। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে সমঝোতা না হলে তারা পুনরায় আরও কঠোর সামরিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপের দিকে হাঁটবে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের নজর এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

সূত্র : রয়টার্স

পাঠকের মতামত: