ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান নতুন করে দাবি করেছে যে তারা ইসরাইলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানি সামরিক সূত্র জানায়, এই হামলা ছিল একটি পরিকল্পিত প্রতিক্রিয়া, যা সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ধারাবাহিকতায় পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিবের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ এবং ‘বীরদের রক্তের প্রতিদান’ হিসেবেই এই ড্রোন হামলা সংঘটিত হয়েছে। এ হামলার সঙ্গে ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’র নামও উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই অভিযানের প্রতীকী বার্তা বহন করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একইসঙ্গে, হামলার ফলে কোনো ধরনের প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দাবি কেবল সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতই নয়; বরং এটি মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত বার্তা দেওয়ার একটি অংশ। বিশেষ করে যখন সংঘাত ক্রমেই সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তু থেকে বেরিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোর দিকে বিস্তৃত হচ্ছে, তখন এই ধরনের হামলা বা হামলার দাবি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা শুধু সীমান্ত বা সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা শহুরে কেন্দ্র, কৌশলগত প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরেও বিস্তার লাভ করছে। এতে করে সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসর যেমন বাড়ছে, তেমনি এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবও বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে আর ছাড় নয়: ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই জ্বালানি অবকাঠামোকেন্দ্রিক এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে ইরান সরাসরি ঘোষণা দিয়েছে যে ভবিষ্যতে তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা হলে আর কোনো ধরনের সংযম দেখানো হবে না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, সাম্প্রতিক পাল্টা হামলায় ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার কেবল একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহার করেছে এবং এই সংযম ছিল কেবল উত্তেজনা কমানোর আন্তর্জাতিক আহ্বানের প্রতি সম্মান জানানো।
তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো আবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলে তেহরান ‘শূন্য সংযম’ নীতি অনুসরণ করবে। এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সংকেত হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।
ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র, যা দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটিতে ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলা সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে।
এরই ধারাবাহিকতায় কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানি হামলার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এই কমপ্লেক্সটি বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করে থাকে। হামলার ফলে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা তৈরি করেছে।
কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে। তিনি আরও জানান, দুটি এলএনজি উৎপাদন ইউনিট এবং একটি গ্যাস-টু-লিকুইডস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে প্রতিবছর প্রায় ১২.৮ মিলিয়ন টন উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।
আল-কাবি এই ঘটনাকে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বিশেষ করে রমজান মাসে একটি মুসলিম দেশের পক্ষ থেকে এমন হামলা গোটা অঞ্চলের জন্য গভীর হতাশার কারণ। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেকোনো পরিস্থিতিতেই তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে সংঘাতের বাইরে রাখা উচিত।
এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তাদের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। তিনি দাবি করেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সামরিক শিল্পভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং দেশটির কমান্ড কাঠামোকে বিশৃঙ্খল করে তুলছে।
তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলাটি ইসরাইল এককভাবে পরিচালনা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে আপাতত জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন হামলা থেকে বিরত রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলকে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পুনরায় হামলা না চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তার এই অবস্থান আসে যখন উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যেই ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের মহাসচিবও মন্তব্য করেছেন, এই হামলাগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।
সামগ্রিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন একটি পূর্ণাঙ্গ “জ্বালানি যুদ্ধ” পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
কাতারের জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতার সীমিত অংশ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন করে জ্বালানি খাতে তীব্র আকার ধারণ করেছে, যেখানে ইরান সরাসরি শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে। কাতারের রাস লাফান জ্বালানি কমপ্লেক্সে সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, এই অভিযানে তেহরান তাদের সামরিক সক্ষমতার কেবল একটি সীমিত অংশ ব্যবহার করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের এই সংযত অবস্থান মূলত আন্তর্জাতিক মহলের উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ফল। তবে তিনি একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, এই সংযম দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।
আরাগচি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্দেশে ইঙ্গিতপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ইরানের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর নতুন করে হামলা হলে তেহরান আর কোনো ধরনের সংযম প্রদর্শন করবে না। তার ভাষায়, ইরানের স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
এই উত্তেজনার মধ্যে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সে হামলার প্রভাব ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার ফলে কাতারের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, এই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না। তার মতে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুরোপুরি পুনর্গঠন ও উৎপাদন সক্ষমতা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের হামলা শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে।
আল-কাবি আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেন, তিনি কখনো কল্পনাও করেননি যে কাতার এমন হামলার মুখে পড়বে, বিশেষ করে একটি মুসলিম দেশের পক্ষ থেকে রমজান মাসে এই ধরনের আক্রমণ ঘটবে যা তার মতে অত্যন্ত হতাশাজনক।
বর্তমান পরিস্থিতির পটভূমিতে রয়েছে ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ। বুধবার ভোরে ইসরাইল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এই গ্যাসক্ষেত্রটি বিশ্বের বৃহত্তম হিসেবে পরিচিত এবং এর একটি অংশ কাতারের সঙ্গে যৌথভাবে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল এখন একটি বিস্তৃত জ্বালানি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের হামলায় ইসরাইলের তেল শোধনাগারে আগুন
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের হাইফা শহরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার পর ছড়িয়ে পড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, যা দ্রুত জ্বালানি স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তর ও মধ্য ইসরাইলসহ জেরুজালেম অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্ক সাইরেন বেজে ওঠার কিছুক্ষণ পরই এই ঘটনার খবর পাওয়া যায়, যা পুরো পরিস্থিতির তীব্রতা এবং সমন্বিত আক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র বা হতাহতের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি চলমান ইসরাইল-ইরান সংঘাতের একটি নতুন ধাপ, যেখানে সরাসরি জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর সংঘটিত ১২ দিনের ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষের সময়ও হাইফার এই একই তেল শোধনাগার হামলার শিকার হয়েছিল, যা এটিকে একটি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে।
এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে ইসরাইলের সাম্প্রতিক একটি বড় ধরনের হামলা। বুধবার ভোরে ইসরাইল ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র বিশ্বে সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এবং এর একটি অংশ কাতারের মালিকানাধীন হওয়ায় এই হামলার ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
এর জবাবে ইরান দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এই পাল্টা হামলার ফলে কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। এই কমপ্লেক্সটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত, ফলে এর ওপর হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সংঘাতের এই নতুন ধারা ‘এনার্জি ওয়ারফেয়ার’ বা জ্বালানি-কেন্দ্রিক যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করছে, যেখানে উভয় পক্ষ একে অপরের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডে আঘাত হানার কৌশল গ্রহণ করছে। এর ফলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ চেইন এবং অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
-রফিক
‘আমি বেঁচে আছি’- গুজব ভেঙে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নানা গুজব ও তথ্যযুদ্ধের আবহে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অবশেষে সরাসরি জনসমক্ষে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বৃহস্পতিবার জেরুজালেমে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বিরল সরাসরি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি শুরুতেই বলেন, “আমি বেঁচে আছি, এবং আপনারা সবাই তা দেখছেন,” যা সাম্প্রতিক গুজবকে সরাসরি খণ্ডন করার একটি স্পষ্ট বার্তা।
গত ৮ মার্চ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন এমন একটি গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গুজবের বিস্তার আরও ত্বরান্বিত হয় যখন তিনি পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি উপস্থিত না থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন এবং নিজের অবস্থান প্রকাশ করেননি।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ভিডিও প্রকাশ করলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। ভিডিওটির নিম্নমান এবং কিছু ভিজ্যুয়াল বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করে অনেকে দাবি করেন এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি। বিশেষ করে তার হাতে অতিরিক্ত আঙুল দেখা গেছে বলে অভিযোগ ওঠে, যা এই বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।
এই পরিস্থিতিতে গুজব থামানোর উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহু জেরুজালেমের উপকণ্ঠে একটি ক্যাফেতে উপস্থিত হয়ে কফি পান করার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তবে সেটিও বিতর্কমুক্ত ছিল না; ভিডিওতে থাকা একজন বারিস্তার স্বতঃস্ফূর্ত হাসি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়, যা পুরো ঘটনাটিকে আরও আলোচিত করে তোলে।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানান যে, নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবর ভিত্তিহীন। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুজব নিরসনে ভূমিকা রাখলেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।
তবে বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলন কেবল গুজব খণ্ডনের উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি ছিল রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ ঘরানার কিছু অংশ থেকে যে অভিযোগ উঠেছে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে ফেলছে তার জবাব দেওয়াও এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন জনমতের একটি অংশ এই যৌথ সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। এমনকি একজন সিনিয়র মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার পদত্যাগও এই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট দাবি করেছেন, ইসরাইলি পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
এই অভিযোগের জবাবে নেতানিয়াহু সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, কেউ কি সত্যিই বিশ্বাস করে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বাইরের কোনো শক্তি নির্দেশ দিতে পারে? তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময় নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যা তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে সঠিক মনে করেন।
-রাফসান
ইরান মিশনের পর জরুরি অবতরণ মার্কিন F-35, F-35 ক্ষতিগ্রস্ত?
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক F-35 যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। মার্কিন সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের আকাশসীমার ওপর পরিচালিত একটি যুদ্ধ মিশন শেষে বিমানটি মধ্যপ্রাচ্যের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নিরাপদে অবতরণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং পাইলটের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং এর পেছনের কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানটি ইরানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন বিমানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই F-35 যুদ্ধবিমান শত্রুপক্ষের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে এটি হবে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। কারণ ২০১৮ সাল থেকে এই স্টেলথ ফাইটার যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলেও শত্রুপক্ষের আঘাতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো নিশ্চিত ঘটনা এর আগে প্রকাশ্যে আসেনি।
এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির তালিকাও ধীরে ধীরে দীর্ঘ হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটি প্রায় ১২টি MQ-9 রিপার ড্রোন হারিয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের একটি ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচটি KC-135 রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে, যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
অন্যদিকে, যুদ্ধের শুরুতে একটি ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ দুর্ঘটনায় তিনটি মার্কিন F-15E যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়, যেখানে কুয়েতের একটি F/A-18 ভুলবশত সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল। তবে ওই ঘটনায় ছয়জন ক্রু নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
মানবিক ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকেও পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এই সংঘাতে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,৪৪৪ জন ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ।
যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা, প্রতিরক্ষা শিল্প দুর্বল করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ বন্ধ করাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য।
মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ইরানের ভেতরে প্রায় ৭ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ইরানের নৌ সক্ষমতা দুর্বল করতে ৪০টির বেশি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ এবং ১১টি সাবমেরিনে আঘাত হানার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বর্তমানে নতুন করে সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে আগাম কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে এবং প্রতিদিনই ইরানের ভেতরে আরও গভীরে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরান এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন প্রযুক্তিগত, সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে আরও জটিল হয়ে উঠছে, যেখানে প্রতিটি নতুন ঘটনা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
গ্যাস শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে ইরানের আঘাত: বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তার নতুন ঢেউ

ইসরাফিল আলম
স্টাফ রিপোর্টার, মধ্যপ্রাচ্য।
কাতারের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনা রাস লাফানে সাম্প্রতিক ইরানের হামলার ফলে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রটি কাতারের জ্বালানি রপ্তানির মূল ভিত্তি, যেখানে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশের উৎস নিহিত। হামলার ফলে এই বিশাল কমপ্লেক্সের ১৪টি উৎপাদন ইউনিটের মধ্যে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সামগ্রিক উৎপাদন ও রপ্তানিতে তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে, কারণ এই ধরনের এলএনজি স্থাপনাগুলো অত্যন্ত জটিল এবং প্রযুক্তিনির্ভর। এর অর্থ দাঁড়ায়, দীর্ঘমেয়াদে কাতারের মোট ক্ষতি ৬০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালের আনুমানিক ২২৫ বিলিয়ন ডলারের মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় এই ক্ষতি প্রতি বছর প্রায় ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক সংকোচনের সমান, যা একটি জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার কারণে এলএনজি রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও, কাতার এখন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক পরিস্থিতি ঘোষণা করার দিকে এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে বেলজিয়াম, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনের সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ চুক্তিতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বাড়াবে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে। বাহরাইন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তারা পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও দাবি করেছে যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ১৩৯টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৩৮টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তাদের মতে, বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে যে তারা পশ্চিম জেরুজালেমে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এটি সাম্প্রতিক হামলায় নিহত তাদের শীর্ষ কর্মকর্তা ও নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। যদিও এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে এটি সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, রাস লাফান হামলার অর্থনৈতিক অভিঘাত, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়া এবং পারস্পরিক পাল্টাঘাতের ধারাবাহিকতা মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। জ্বালানি অবকাঠামো ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো এখন এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও গভীরভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
যুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের মাস্টারপ্ল্যান
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মাঝেই বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম ধমনী 'হরমুজ প্রণালি' (Strait of Hormuz) নিয়ে এক বিস্ফোরক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান। তেহরানের ওয়ালিআসর স্কোয়ারে এক বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় দেশটির সংসদ সদস্য সোমায়ে রাফিয়ি জানান, এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য এখন থেকে ইরানকে 'টোল ও কর' দিতে হবে—এমন একটি আইন প্রণয়নের কাজ করছে দেশটির পার্লামেন্ট।
আইএসএনএ (ISNA) নিউজ এজেন্সির বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, সোমায়ে রাফিয়ি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান যে শ্রম ও শক্তি ব্যয় করে, তার বিনিময়ে এখন থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কর দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, ইরান তার শত্রুদের 'আরাম-আয়েশ' কেড়ে নিয়েছে এবং এই নতুন বাস্তবতা তারা মেনে নিতে পারছে না।
রাফিয়ি আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করেন যে, এই যুদ্ধে ইরানের 'চূড়ান্ত ও নিশ্চিত বিজয়' ঘটবে এবং এরপর থেকে এই নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করা ইরানের শত্রুদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান ছায়াযুদ্ধ এবং সরাসরি সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই প্রণালির ওপর নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত নেই: পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে ইরান ধ্বংসের নতুন নীল নকশা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিয়ে পেন্টাগন থেকে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানের ভয়াবহ চিত্র এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানালেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) পেন্টাগনে আয়োজিত এক হাই-ভোল্টেজ প্রেস ব্রিফিংয়ে তাঁরা নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকেই এগোচ্ছে। তবে এই যুদ্ধ ঠিক কবে শেষ হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি হননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বিবিসিতে প্রকাশিত এই খবর অনুযায়ী, ইরানের নৌবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং তেহরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে—সেটাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানের ৭ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন বাহিনী সফলভাবে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে, জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেন যে, তিন সপ্তাহব্যাপী একটানা যুদ্ধের পরেও ইরান এখনও উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানোর মতো কিছু সক্ষমতা বজায় রেখেছে। এই সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন অত্যন্ত আগ্রাসী এবং দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তিনি জানান, ইরানের ভূগর্ভস্থ বা বাংকার সদৃশ লক্ষ্যবস্তুগুলো ধ্বংস করতে ৫,০০০ পাউন্ড (২,২৭০ কেজি) ওজনের ‘পেনিট্রেটিভ’ (কংক্রিট ভেদকারী) বোমা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মাটির নিচে থাকা মজবুত স্থাপনাগুলোকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সর্বশেষ আপডেট দিতে গিয়ে জেনারেল কেইন আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনীর এ-১০ ওয়ারথগ (A-10 Warthog) বিমানগুলো এখন দক্ষিণ ইরানজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌযানগুলো লক্ষ্য করে আঘাত হানছে। পাশাপাশি এএইচ–৬৪ অ্যাপাচি (AH-64 Apache) হেলিকপ্টার ড্রোন শিকারে নেমেছে এবং ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর ওপরও মার্কিন হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন আরও পূর্বদিকে ইরানি আকাশসীমায় প্রবেশ করে একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোনগুলো ধ্বংস করার মিশন চালাচ্ছে।
/আশিক
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে ড্রোন হানা: ওয়াশিংটনের সামরিক ঘাঁটিতে আতঙ্ক
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ফোর্ট লেসলি জে. ম্যাকনেয়ার (Fort McNair)-এ বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট (The Washington Post)-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘাঁটির ওপর দিয়ে রহস্যময় এবং অজ্ঞাতনামা ড্রোন চক্কর দিতে দেখা গেছে, যা মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার কারণ হলো, ফোর্ট ম্যাকনেয়ার ঘাঁটিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি—পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সপরিবারে বসবাস করছেন। এছাড়া এখানে ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি অবস্থিত এবং পেন্টাগনের শীর্ষস্থানীয় অনেক সামরিক কর্মকর্তা ও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা (যেমন বিদায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম) এই ঘাঁটিতেই স্থানান্তরিত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস এবং ক্যাপিটল হিল থেকে মাত্র ২ মাইল (৩.২ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে এভাবে ড্রোন শনাক্ত হওয়া মানে সরাসরি মার্কিন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চ্যালেঞ্জ জানানো।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১০ দিনের মধ্যে এক রাতেই ওই ঘাঁটির আকাশে একাধিকবার ড্রোন দেখা গিয়েছে। বিষয়টি এতটাই গুরুতর যে, এটি নিয়ে আলোচনা করতে হোয়াইট হাউসে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এবং পেন্টাগন কর্মকর্তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ঘাঁটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই মন্ত্রী এখনও তাদের বাসভবন ছাড়েননি।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ড্রোনগুলো ঠিক কোথা থেকে এসেছিল বা কারা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে এই ড্রোন অনুপ্রবেশকে 'ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকি' হিসেবে দেখছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, রাজধানীর অন্য সামরিক ঘাঁটিগুলোর তুলনায় ফোর্ট ম্যাকনেয়ারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই, যার সুযোগ দুষ্কৃতিকারীরা নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে এবং আকাশপথ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
- জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে আর ছাড় নয়: ইরান
- চাঁদ দেখার পর যে দোয়া পড়তেন নবী (সা.)
- কাতারের জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতার সীমিত অংশ
- ইরানের হামলায় ইসরাইলের তেল শোধনাগারে আগুন
- ‘আমি বেঁচে আছি’- গুজব ভেঙে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু
- ইরান মিশনের পর জরুরি অবতরণ মার্কিন F-35, F-35 ক্ষতিগ্রস্ত?
- গ্যাস শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে ইরানের আঘাত: বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তার নতুন ঢেউ
- ‘কোরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই বদলে গেলাম’
- যুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের মাস্টারপ্ল্যান
- যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত নেই: পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে ইরান ধ্বংসের নতুন নীল নকশা
- মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে ড্রোন হানা: ওয়াশিংটনের সামরিক ঘাঁটিতে আতঙ্ক
- বৃষ্টির বাধায় কি ম্লান হবে ঈদের আনন্দ? আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট
- ২০২৬ সালে ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন
- এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছে দুই নতুন সংগঠন
- কুমিল্লা শেষ সময়ে জমজমাট আতর-টুপির বাজার
- ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা পেরিয়ে ঈদের ছুটিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার আনন্দ
- ‘আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে’: ইরানকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী
- ইরান হামলার নিন্দা, আমিরাতের পাশে মিশর
- কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- এক বছরে দুই রমজান ও তিন ঈদের অপেক্ষায় মুসলিম উম্মাহ
- জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত; শনিবারই উদযাপিত হবে ঈদ
- মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয় রুখতে ইউরোপের আল্টিমেটাম
- ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও ধস: সোনার দামে বাজুসের ঐতিহাসিক রেকর্ড পতন
- কাতারের গ্যাসে ইরানের আগুন: অন্ধকারে ডুবতে পারে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ এলাকা
- বাড়তি ভাড়া নিলেই কড়া অ্যাকশন: সেতুমন্ত্রীর
- আমেরিকায় হামলার সক্ষমতা গড়ে তুলছে ইরান: যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থা
- মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়; কাতার-সৌদির পর এবার কুয়েতের তেল হাবে ভয়াবহ আগুন
- যমুনায় উঠছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ‘বড় ভুল’, কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের
- ৬ ঘণ্টায় সোনার দামে বড় পতন, নতুন রেকর্ড
- ইরানকে ঘিরে নতুন করে সমর্থনের বার্তা চীনের
- আর হামলা চান না ট্রাম্প
- ইরানে নেতৃত্বে ধস, হামলায় যেসব শীর্ষ নেতারা নিহত
- ১৯ মার্চ: কোন মুদ্রায় কত টাকা? বিস্তারিত তালিকা
- ইরান যুদ্ধে ২০০ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাবে আপত্তি
- ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর মহাপ্রলয়ের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
- তেল নয়, এবার সারের সংকটে কাঁপছে বিশ্ব; হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের চরম মূল্য
- স্বর্ণ কিনবেন? এখনই সেরা সময়! নতুন দাম কার্যকর করল জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন
- ইরানকে সৌদি আরবের শেষ হুঁশিয়ারি: এবার কি শুরু হচ্ছে সরাসরি যুদ্ধ?
- জ্বলছে কাতার: ইরানি হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি কেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন
- আজকের খেলার পূর্ণাঙ্গ সূচি ও সরাসরি টিভি চ্যানেলের তালিকা
- অমাবস্যা পেরিয়ে প্রতিপদ শুরু: আজ চাঁদ দেখার সম্ভাবনা নিয়ে যা জানালো জ্যোতির্বিজ্ঞান
- রোদ না কি বৃষ্টি? ঈদের কেনাকাটা ও ভ্রমণের আগে জেনে নিন আবহাওয়ার খবর
- আজ ১৯ মার্চ ২০২৬: ঢাকার নামাজের সঠিক সময়সূচি জেনে নিন
- ইসরায়েলের গভীরে নজিরবিহীন হামলা: পাল্টাঘাতে ইরানের বার্তা, যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা
- আবার হামলা হলেই আরবের জ্বালানি খাত হবে ধ্বংস: ইরান
- ইরানের হামলায় কাঁপলো চার মুসলিম দেশ
- ইরানি হামলার পর ইসরায়েলের বিমানবন্দরে তিন উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত
- ঈদ কি তবে শুক্রবার? সৌদি আরবের চাঁদ দেখা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল!
- সৌদিতে আজ কি দেখা যাবে ঈদের চাঁদ? সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে
- বিলাসবহুল ধাতু স্বর্ণ এখন আরও সস্তা: বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ঢাকায় যে ২৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল
- ঈদ কি তবে শুক্রবার? সৌদি আরবের চাঁদ দেখা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল!
- ‘৫০তম অভিযান’ ঘোষণা ইরানের, রণক্ষেত্র চার দেশে
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- টানা দুই দফায় কমল দাম; স্বর্ণের বাজারে বড় ধসের ইঙ্গিত!
- কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- আজ ডিএসইর সেরা ১০ গেইনার কোনগুলো
- ঢাকায় আজ বিএনপি, জামায়াত ও সরকারের কর্মসূচি, জানুন এক নজরে
- ঈদুল ফিতর ২০২৬: প্রধান জামাতের সময় ও জাতীয় ঈদগাহের সুযোগ-সুবিধা জেনে নিন
- কালিগঞ্জে ডেঙ্গু বিরোধী যুদ্ধ! মশা তাড়াতে রাস্তায় নামলেন চিকিৎসকরা
- ১৪৪৭ হিজরির রমজান কি ২৯ দিনে শেষ হবে? সৌদি সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- পবিত্র রমজানের ২৫তম দিন; ১৫ মার্চের নামাজের সঠিক সময়সূচি জানুন
- ১৬ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ








