মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয় রুখতে ইউরোপের আল্টিমেটাম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত এবং জ্বালানি খাতের ওপর একের পর এক বিধ্বংসী হামলার প্রেক্ষাপটে এবার নড়েচড়ে বসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। গত বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের বৃহত্তম 'সাউথ পার্স' গ্যাস ফিল্ডে ইসরায়েলি হামলা এবং এর জবাবে কাতার ও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় তেহরানের পাল্টা আঘাতের পর বিশ্বজুড়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরুর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-এর বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই সংঘাতকে ‘বেপরোয়া উত্তেজনা’ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর নিন্দা জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেলে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী এবং দীর্ঘমেয়াদী, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে। ম্যাক্রোঁ সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান। একই সুরে সুর মিলিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কাল্লাস বলেন, কাতারের মতো শান্তিকামী দেশে ইরানের হামলা পরিস্থিতিকে আরও বিশৃঙ্খল করে তুলেছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের সরাসরি সুবিধাভোগী হচ্ছে রাশিয়া, যা ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
এদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস এক ইতিবাচক সংকেত দিয়ে জানিয়েছেন যে, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত বন্ধে আগ্রহী এবং শান্তি স্থাপনে উদ্যোগ নিতে পারে। অন্যদিকে, ন্যাটোর নতুন মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো 'হরমুজ প্রণালি'-র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে। ইউরোপীয় নেতাদের এই সম্মিলিত চাপ এবং ট্রাম্পের সম্ভাব্য মধ্যস্থতা কি পারবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন নেভাতে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।
/আশিক
কাতারের গ্যাসে ইরানের আগুন: অন্ধকারে ডুবতে পারে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ এলাকা
কাতারের জ্বালানি খাতের হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত রাস লাফান (Ras Laffan) ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এক মহাবিপর্যয়ের কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। গত বুধবার (১৮ মার্চ) এবং আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) মিলিয়ে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রটি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-এর বৃহস্পতিবারের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার ফলে কাতার থেকে এলএনজি আমদানিনির্ভর দেশগুলো—বিশেষ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত—এক নজিরবিহীন জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার (Kpler)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ তাদের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ সরাসরি কাতারের এই রাস লাফান কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল (S&P Global)-এর তথ্য বলছে, ভারতের মোট এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি আসে কাতার থেকে। যেহেতু কাতারের প্রায় সব তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই রাস লাফান থেকেই প্রক্রিয়াজাত ও জাহাজে তোলা হয়, তাই এই স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানার চাকা স্থবির হয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
শুধু জ্বালানি তেল বা গ্যাস নয়, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি বৈশ্বিক কৃষি ও প্রযুক্তি খাতের জন্যও অপরিহার্য। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সার (ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া) উৎপাদনকারী কেন্দ্র। এছাড়া, আধুনিক ইলেকট্রনিক্স ও মাইক্রোচিপ তৈরির জন্য অপরিহার্য উপাদান হিলিয়াম-এর বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশ আসে এই একটি মাত্র কেন্দ্র থেকে।
কাতার এনার্জি (QatarEnergy) জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরু থেকেই নিরাপত্তাজনিত কারণে উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল, কিন্তু এই সরাসরি মিসাইল হামলায় অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলার প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এর ফলে সারাবিশ্বে সার, জ্বালানি এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে।
/আশিক
আমেরিকায় হামলার সক্ষমতা গড়ে তুলছে ইরান: যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থা
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে নতুন করে মতপার্থক্য প্রকাশ পেয়েছে, যখন দেশটির শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান যুক্তিকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান নিকট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে এমন দাবি এখনও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বুধবার, ১৮ মার্চ সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ উভয়েই এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন। তারা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেননি যে, ইরান আগামী ছয় মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে পারবে।
গ্যাবার্ড তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, তেহরান যদি তাদের বিদ্যমান মহাকাশ প্রযুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেয়, তবে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম তৈরির প্রক্রিয়া ২০৩৫ সালের আগে শুরু হতে পারে। তবে তিনি এটিও পরিষ্কার করেন যে, এ ধরনের সক্ষমতা অর্জন তাৎক্ষণিক কোনো বিষয় নয় এবং এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রয়োজন।
সিনেটর জন অসফ যখন ইরানের সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে নির্দিষ্ট মূল্যায়ন জানতে চান, তখন গ্যাবার্ড সরাসরি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে অস্বীকৃতি জানান। তার মতে, কোন হুমকি আসন্ন এবং কোনটি দীর্ঘমেয়াদি—এই ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব গোয়েন্দা সংস্থার নয়; বরং এটি প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।
একই সুরে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফও ইরানের সক্ষমতা নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ থেকে বিরত থাকেন। তিনি বরং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব এবং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর সম্ভাব্য হুমকির দিকেই গুরুত্বারোপ করেন।
গ্যাবার্ড আরও উল্লেখ করেন, রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর কাছে এমন উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। কিন্তু ইরান এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত মাসে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান খুব শিগগিরই এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হবে যা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারে। তবে গোয়েন্দা সংস্থার এই সর্বশেষ মূল্যায়ন সেই দাবির সঙ্গে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেছে।
র্যাটক্লিফ বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ থাকলেও তা এখনও আন্তঃমহাদেশীয় পর্যায়ে পরিপক্ক নয়। তবে যদি ইরান ৩ হাজার কিলোমিটার পাল্লার মধ্যবর্তী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে তা ইউরোপীয় অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও জানান, ইরানের এই সম্ভাব্য সামরিক সক্ষমতা সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, এই সাক্ষ্য প্রমাণ করে যে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বক্তব্য ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণের মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবধান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
-রাফসান
মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়; কাতার-সৌদির পর এবার কুয়েতের তেল হাবে ভয়াবহ আগুন
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি যুদ্ধের আগুন এবার কুয়েতে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) ভোরের আলো ফোটার আগেই কুয়েতের দুটি প্রধান তেল শোধনাগারে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মিনা আবদুল্লাহ (Mina Abdullah) এবং মিনা আল-আহমাদি (Mina Al-Ahmadi) শোধনাগারের অপারেশনাল ইউনিটগুলোতে পর্যায়ক্রমে ড্রোন আঘাত হেনেছে। এই দ্বৈত হামলায় শোধনাগার দুটিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।
কুয়েত নিউজ এজেন্সির (KUNA) তথ্যমতে, প্রথমে মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে হামলা হয় এবং এর কিছু সময় পরেই মিনা আবদুল্লাহ শোধনাগারে ড্রোনটি আঘাত হানে। ৬টি অগ্নিনির্বাপক দল এবং জরুরি রেসপন্স টিমের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। কেপিসি জানিয়েছে, হামলায় স্থাপনাগুলোর ক্ষতি হলেও কোনো কর্মী হতাহত হননি।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার ইরানের বৃহত্তম গ্যাস ফিল্ডে ইসরায়েলি হামলার পর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছিল। কুয়েতের এই দুটি শোধনাগারই দেশটির অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং মিনা আল-আহমাদি প্রতিদিন ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল শোধন করার ক্ষমতা রাখে।
/আশিক
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ‘বড় ভুল’, কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান তার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক হামলাকে একটি গুরুতর কৌশলগত ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের এক মুখপাত্র এই বিষয়ে সরাসরি সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন।
আইএসএনএ বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি জানান, ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার প্রতিক্রিয়া এখনও চলমান এবং এটি শেষ হয়ে যায়নি। তার ভাষ্যমতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের আক্রমণ পুনরায় সংঘটিত হলে প্রতিক্রিয়ার মাত্রা হবে আরও ব্যাপক ও কঠোর।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষ একটি ‘বড় ভুল’ করেছে, যার কৌশলগত পরিণতি দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে যেকোনো আঘাতকে তারা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করছে।
মুখপাত্র আরও বলেন, যদি এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে ইরান কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকবে না; বরং প্রতিপক্ষ এবং তাদের মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও পাল্টা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে। তিনি সতর্ক করেন যে, এই পাল্টা আঘাত অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না প্রতিপক্ষের সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে সংঘাতের একটি নতুন মাত্রার ইঙ্গিত বহন করছে। কারণ, জ্বালানি খাত শুধু আঞ্চলিক অর্থনীতির নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ফলে এ ধরনের হুমকি আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ইরানের এই কঠোর বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যতে সংঘাতের পরিধি শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, বরং জ্বালানি অবকাঠামোকেও ঘিরে বিস্তৃত হতে পারে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
-রফিক
ইরানকে ঘিরে নতুন করে সমর্থনের বার্তা চীনের
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আলি লারিজানির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় চীন তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে এটিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে।
বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ কখনো টেকসই নয় এবং এটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ একাধিক উচ্চপদস্থ নেতা নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আলি লারিজানির মৃত্যু বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুকে দুর্বল করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীন এ পরিস্থিতিতে সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং দ্রুত সামরিক অভিযান বন্ধ করে কূটনৈতিক সংলাপের পথে ফিরে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। বেইজিংয়ের মতে, চলমান উত্তেজনা যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও চীন অতীতে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিসংবলিত দেশগুলোর ওপর তেহরানের হামলারও সমালোচনা করেছে। অর্থাৎ, বেইজিং একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চাচ্ছে।
এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি মাসে চীনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন বেসামরিক জনগণ এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর।
এদিকে মানবিক সংকট মোকাবিলায় চীন ইতোমধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত মঙ্গলবার বেইজিং ইরান, লেবানন, জর্ডান ও ইরাকের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দেয়, যা সংকট প্রশমনে তাদের সক্রিয় ভূমিকারই প্রতিফলন।
-রাফসান
আর হামলা চান না ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে আপাতত অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র ‘সাউথ পার্স’ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বুধবার, ১৮ মার্চ মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য নৌ চলাচল বিঘ্নিত করার প্রচেষ্টার জবাবে তেহরানকে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ওই ইসরায়েলি হামলাকে নীরব সমর্থন দিয়েছিল। মূলত এটি ছিল একটি কৌশলগত চাপ প্রয়োগের অংশ, যার লক্ষ্য ছিল ইরানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রাখা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এখন মনে করছে যে এই বার্তা আংশিকভাবে কার্যকর হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করে আপাতত সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি একটি স্থায়ী নীতি নয় বরং পরিস্থিতিভিত্তিক সাময়িক কৌশলগত বিরতি।
মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদি ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও দেশটির জ্বালানি স্থাপনায় হামলার অনুমোদন দিতে পারে। অর্থাৎ, সামরিক বিকল্প সম্পূর্ণভাবে টেবিল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট, যেখানে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের বড় অংশ সম্পন্ন হয়। এই রুটে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্ক অবস্থান মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার কৌশলের সঙ্গেও যুক্ত।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি সামরিক সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে কৌশলগত চাপ ও নিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি পরিচালনার চেষ্টা করছে। তবে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ভর করছে ইরানের আচরণ এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।
সূত্র:দ্য গার্ডিয়ান
ইরানে নেতৃত্বে ধস, হামলায় যেসব শীর্ষ নেতারা নিহত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত সামরিক অভিযানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোতে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এই ধারাবাহিক হামলা শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যকেই নড়বড়ে করেনি, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু। ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর বাসভবনে সংঘটিত বিমান হামলায় তিনি নিহত হন বলে জানা গেছে। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থাকা এই নেতা দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতি ইরানের শাসনব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যৎ ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।
একই দিনে তেহরানে নিহত হন আলি শামখানি, যিনি খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তা ও পারমাণবিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। একই হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হন, যা ইরানের সামরিক নেতৃত্বে একযোগে বড় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।
পরবর্তী সময়েও হামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। ১৭ মার্চ পারদিস এলাকায় হামলায় নিহত হন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রভাবশালী নেতা আলি লারিজানি। তাঁর সঙ্গে তাঁর ছেলে ও একজন সহযোগীও নিহত হন। লারিজানি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের কৌশলগত নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন এবং তিনি খামেনির অন্যতম বিশ্বস্ত উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
১৮ মার্চ ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব, যিনি দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতার কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। একইসঙ্গে ১৭ মার্চের আরেক হামলায় বাসিজ প্যারামিলিটারি বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হন, যার নেতৃত্বে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হতো।
এছাড়া, তেহরানে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সময় হামলায় নিহত হন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদোলরহিম মুসাভি। তাঁর মৃত্যু ইরানের সামগ্রিক সামরিক কমান্ড কাঠামোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
-রফিক
ইরান যুদ্ধে ২০০ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাবে আপত্তি
মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য যুদ্ধ তহবিল বরাদ্দের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন, যেখানে বলা হয় পেন্টাগন ইরান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি তহবিল চাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান হলেন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এমন একটি যুদ্ধের জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়, যা মার্কিন জনগণের সমর্থন পায় না এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতেও কার্যকর নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের ব্যয় দেশের সামগ্রিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করে তা বন্ধ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। তার মতে, তহবিল বন্ধ করে দেওয়াই হবে সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বেসামরিক প্রাণহানি কমানো এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কার্যকর উপায়। এ প্রসঙ্গে তিনি নিজের অবস্থানকে ‘কঠোর না’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন ইতোমধ্যে হোয়াইট হাউসের কাছে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যাতে কংগ্রেসে উপস্থাপনের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ অনুমোদনের অনুরোধ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে কত অর্থ চাওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
-রফিক
ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর মহাপ্রলয়ের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক চূড়ান্ত সংঘাতের রূপ নিয়েছে। কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) স্থাপনায় ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার প্রেক্ষিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি কাতারের ওপর আর কোনো হামলা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের একক সামরিক শক্তিতে ইরানের পুরো 'দক্ষিণ পার্স' (South Pars) গ্যাস ফিল্ড ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরায়েলের চালানো আগের হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কাতার কিছুই জানত না। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, ইরান যদি 'সম্পূর্ণ নির্দোষ' কাতারের ওপর হামলা বন্ধ রাখে, তবে ইসরায়েলও ওই গ্যাস ফিল্ডে আর নতুন কোনো আক্রমণ করবে না। কিন্তু কাতার যদি আবারও আক্রান্ত হয়, তবে ইসরায়েলের কোনো সাহায্য ছাড়াই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন প্রচণ্ড ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে যা ইরান আগে কখনো দেখেনি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান 'কাতার এনার্জি'র রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। দক্ষিণ পার্স গ্যাস ফিল্ডটি ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন এবং এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির প্রধান উৎস হওয়ায় ট্রাম্পের এই হুমকি তেহরানের জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
পাঠকের মতামত:
- মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয় রুখতে ইউরোপের আল্টিমেটাম
- ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও ধস: সোনার দামে বাজুসের ঐতিহাসিক রেকর্ড পতন
- কাতারের গ্যাসে ইরানের আগুন: অন্ধকারে ডুবতে পারে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ এলাকা
- বাড়তি ভাড়া নিলেই কড়া অ্যাকশন: সেতুমন্ত্রীর
- আমেরিকায় হামলার সক্ষমতা গড়ে তুলছে ইরান: যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থা
- মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়; কাতার-সৌদির পর এবার কুয়েতের তেল হাবে ভয়াবহ আগুন
- যমুনায় উঠছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ‘বড় ভুল’, কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের
- ৬ ঘণ্টায় সোনার দামে বড় পতন, নতুন রেকর্ড
- ইরানকে ঘিরে নতুন করে সমর্থনের বার্তা চীনের
- আর হামলা চান না ট্রাম্প
- ইরানে নেতৃত্বে ধস, হামলায় যেসব শীর্ষ নেতারা নিহত
- ১৯ মার্চ: কোন মুদ্রায় কত টাকা? বিস্তারিত তালিকা
- ইরান যুদ্ধে ২০০ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাবে আপত্তি
- ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর মহাপ্রলয়ের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
- তেল নয়, এবার সারের সংকটে কাঁপছে বিশ্ব; হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের চরম মূল্য
- স্বর্ণ কিনবেন? এখনই সেরা সময়! নতুন দাম কার্যকর করল জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন
- ইরানকে সৌদি আরবের শেষ হুঁশিয়ারি: এবার কি শুরু হচ্ছে সরাসরি যুদ্ধ?
- জ্বলছে কাতার: ইরানি হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি কেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন
- আজকের খেলার পূর্ণাঙ্গ সূচি ও সরাসরি টিভি চ্যানেলের তালিকা
- অমাবস্যা পেরিয়ে প্রতিপদ শুরু: আজ চাঁদ দেখার সম্ভাবনা নিয়ে যা জানালো জ্যোতির্বিজ্ঞান
- রোদ না কি বৃষ্টি? ঈদের কেনাকাটা ও ভ্রমণের আগে জেনে নিন আবহাওয়ার খবর
- আজ ১৯ মার্চ ২০২৬: ঢাকার নামাজের সঠিক সময়সূচি জেনে নিন
- ইসরায়েলের গভীরে নজিরবিহীন হামলা: পাল্টাঘাতে ইরানের বার্তা, যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা
- আবার হামলা হলেই আরবের জ্বালানি খাত হবে ধ্বংস: ইরান
- ইরানের হামলায় কাঁপলো চার মুসলিম দেশ
- ইরানি হামলার পর ইসরায়েলের বিমানবন্দরে তিন উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত
- ঈদ কি তবে শুক্রবার? সৌদি আরবের চাঁদ দেখা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল!
- নাসার ধাক্কায় বদলে গেল গ্রহাণুর পথ; মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস
- ইসরায়েলে ইরানি মিসাইলের তাণ্ডব; লারিজানি হত্যার বদলায় জ্বলছে তেল আবিব
- বায়তুল মোকাররমে ৫টি ও জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতের সময়সূচি
- ঢাকাসহ ৮ বিভাগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস
- পুতিনের গোপন চাল; মার্কিন রাডার ধ্বংস করতে ইরানকে সাহায্য করছে মস্কো!
- সৌদিতে আজ কি দেখা যাবে ঈদের চাঁদ? সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে
- ওয়াশিংটনের সাথে সব বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করল মালয়েশিয়া
- লারিজানি-সোলেইমানির পর ইরানের আরও এক শীর্ষ নেতার পতন
- লোহিত সাগরে মার্কিন রণতরীতে আগুনের তাণ্ডব: পিছু হটছে ইউএসএস ফোর্ড!
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনায় নতুন গাইডলাইন প্রকাশ
- জামায়াতে ইসলামীর আমীরের ঈদের বিশেষ কর্মসূচি প্রকাশ
- ছুটির দিনেও বিশ্রামে নেই প্রধানমন্ত্রী; গুলশানের বাসভবন থেকেই সামলাচ্ছেন দপ্তর
- উত্তরবঙ্গের সাথে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: নীলসাগর এক্সপ্রেসে বড় দুর্ঘটনা
- ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে চরম দুর্ভিক্ষ? ডব্লিউএফপির ভয়াবহ সতর্কবার্তা
- ভিসা থেকে ক্রিকেট: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মোড় ঘোরাবে যে ৫টি সূচক
- সুসংবাদ না কি অপেক্ষা? শাওয়ালের নতুন চাঁদ নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল
- ইরান থেকে ফিরছেন বাংলাদেশিরা
- নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার: জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ
- ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা; বুশেহরের আকাশপথে ‘বিস্ফোরক উড়ন্ত বস্তু’
- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেই চিরচেনা যানজট: স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ
- দুবাই ও আবুধাবিসহ সাত আমিরাতেই কার্যকর হবে অভিন্ন ঈদের নিয়ম
- নিজেকে ইরানের ‘মুক্তিদাতা’ সাজাতে চাইছেন নেতানিয়াহু
- সৌদিতে আজ কি দেখা যাবে ঈদের চাঁদ? সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে
- বিলাসবহুল ধাতু স্বর্ণ এখন আরও সস্তা: বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ঢাকায় যে ২৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল
- ‘৫০তম অভিযান’ ঘোষণা ইরানের, রণক্ষেত্র চার দেশে
- ঈদ কি তবে শুক্রবার? সৌদি আরবের চাঁদ দেখা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল!
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- টানা দুই দফায় কমল দাম; স্বর্ণের বাজারে বড় ধসের ইঙ্গিত!
- আজ ডিএসইর সেরা ১০ গেইনার কোনগুলো
- ঈদুল ফিতর ২০২৬: প্রধান জামাতের সময় ও জাতীয় ঈদগাহের সুযোগ-সুবিধা জেনে নিন
- কালিগঞ্জে ডেঙ্গু বিরোধী যুদ্ধ! মশা তাড়াতে রাস্তায় নামলেন চিকিৎসকরা
- ১৪৪৭ হিজরির রমজান কি ২৯ দিনে শেষ হবে? সৌদি সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- ঢাকায় আজ বিএনপি, জামায়াত ও সরকারের কর্মসূচি, জানুন এক নজরে
- পবিত্র রমজানের ২৫তম দিন; ১৫ মার্চের নামাজের সঠিক সময়সূচি জানুন
- ১৬ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত: জেনে নিন শবে কদরের করণীয় ও বর্জনীয়








