আবার হামলা হলেই আরবের জ্বালানি খাত হবে ধ্বংস: ইরান

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। সংস্থাটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ইরানের জ্বালানি খাতে পুনরায় হামলা হলে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং সেই হামলা থামবে না যতক্ষণ না এসব অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষ ‘গুরুতর ভুল’ করেছে এবং এর প্রতিক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে আরও বড় ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে ইসরায়েলের হামলায়, যেখানে ইরানের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এই ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারে পৌঁছায়।
আইআরজিসি ইতোমধ্যে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনার নাম উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের সামরেফ রিফাইনারি ও জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাসক্ষেত্র এবং কাতারের মেসাইয়িদ ও রাস লাফান শিল্পাঞ্চল।
এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি সাউথ পার্সে ইসরায়েলের হামলাকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে।
সংঘাতের বিস্তার হিসেবে ইরান ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তেহরান ইরাকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, যা ইরাকের মোট জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে থাকে। এতে ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একা এই দায়িত্ব বহন করবে না এবং মিত্রদের এখনই সক্রিয় হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খোলা রাখতে ভূমিকা রাখতে হবে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ভেতরে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
-রফিক
মধ্যপ্রাচ্যে ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এখন ধ্বংসস্তূপ
পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এখন এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে। সিএনএন-এর এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত হামলায় এই অঞ্চলের অন্তত আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্র এবং উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্র বিশ্লেষণ করে সিএনএন দাবি করেছে, এর মধ্যে বেশ কিছু ঘাঁটি বর্তমানে কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একজন মার্কিন কংগ্রেসনাল এইড এই ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের যে কৌশলগত অবস্থান ছিল, এই হামলার ফলে তার একটি বড় অংশই এখন অচল হয়ে পড়েছে।
সিএনএন-এর তদন্তে কয়েক ডজন স্যাটেলাইট ছবি এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং দুষ্প্রাপ্য সরঞ্জামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো মূলত উন্নত রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোকে নির্ভুলভাবে আঘাত করেছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রাডার ব্যবস্থাগুলো ওই অঞ্চলে আমেরিকার সবচেয়ে দামি সম্পদ ছিল, যা প্রতিস্থাপন করা যেমন ব্যয়সাধ্য, তেমনি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। ক্ষয়ক্ষতির এমন নজিরবিহীন মাত্রা দেখে পেন্টাগনের ভেতরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং কিছু স্থাপনা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এই যুদ্ধের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও আকাশচুম্বী। পেন্টাগনের কমপট্রোলার জুলস জে হার্স্ট থ্রি আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে সিএনএন-এর নিজস্ব সূত্র দাবি করেছে, অভ্যন্তরীণ প্রকৃত হিসাব অনুযায়ী এই ব্যয়ের পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি)।
যুদ্ধের এই বিশাল আর্থিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। একজন সৌদি কর্মকর্তা সিএনএন-কে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতা কোনোভাবেই অভেদ্য নয়। অন্যদিকে, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের ওপর হামলার জন্য এসব ঘাঁটি ব্যবহৃত হওয়ায় তারা কেবল আত্মরক্ষার্থেই এই পাল্টা আঘাত হেনেছে।
সূত্র: সিএনএন
ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিনিদের রায়: ৬১ শতাংশ নাগরিকই বলছেন এই যুদ্ধ একটি ‘ভুল’
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা নিয়ে খোদ মার্কিনিদের মধ্যেই বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ওয়াশিংটন পোস্ট', 'এবিসি নিউজ' এবং 'ইপসোস'-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করা একটি ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত ছিল। শনিবার (২ মে ২০২৬) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধকালীন নীতির ওপর দেশের মানুষের তীব্র চাপের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জরিপটির ফলাফল মার্কিন ইতিহাসের অতীতের দুটি বিতর্কিত যুদ্ধের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, এই জনমতের সাথে ২০০৬ সালের ইরাক যুদ্ধ এবং ১৯৭১ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধের জনমতের এক ঐতিহাসিক মিল রয়েছে। ২০০৬ সালের মে মাসে এক জরিপে ৫৯ শতাংশ মার্কিনি ইরাক যুদ্ধকে ভুল বলেছিলেন।
অন্যদিকে, ১৯৭১ সালের গ্যালপ জরিপেও প্রতি ১০ জন মার্কিনির মধ্যে ৬ জনই ভিয়েতনাম যুদ্ধকে ভুল আখ্যা দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, বর্তমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষ এখন ভিয়েতনাম বা ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহতার সমপর্যায়ে পৌঁছেছে।
জরিপটিতে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতেও মতামতের বড় ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। এতে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই (প্রায় ৯০ শতাংশ) ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে ভুল মনে করছেন।
এছাড়াও ৭১ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার এবং ১৯ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থকও মনে করছেন যে, এই যুদ্ধ শুরু করা ওয়াশিংটনের জন্য সঠিক হয়নি। নিজ দলের একাংশসহ সাধারণ নাগরিকদের এই অনীহা ট্রাম্পের যুদ্ধকালীন কৌশলের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আগামী নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: সিএনএন
ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প: মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসনে ইরান যে নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, তা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান যে, তেহরানের দেওয়া প্রস্তাবে এমন কিছু দাবি রয়েছে যা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। যদিও প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট কোনো পয়েন্টের কথা তিনি প্রকাশ করেননি, তবে তাঁর অসন্তোষ থেকে এটা স্পষ্ট যে ইরানের শর্তগুলো ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তারা চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমি এতে সন্তুষ্ট নই। তারা এমন কিছু দাবি করছে যেগুলোতে আমি রাজি হতে পারি না।” ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাবের ফলে ইসলামাবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শান্তি আলোচনা এখন কার্যত ভেস্তে যাওয়ার উপক্রমে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ ছিল যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎবাণী। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, খুব দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ করা কৌশলগতভাবে ঠিক হবে না। তাঁর মতে, তড়িঘড়ি কোনো সমাধান আনলে কয়েক বছরের মধ্যেই আবার নতুন করে বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি হতে পারে। আলোচনা ভেঙে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে বলেও তিনি হুমকি দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
বর্তমানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চললেও ট্রাম্পের এই নতুন অবস্থানের ফলে স্থায়ী শান্তির আশা আরও সুদূরপরাহত হয়ে পড়ল। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘাচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ‘হুমকিমূলক ভাষা’ পরিবর্তন করে তবেই কেবল ফলপ্রসূ আলোচনা সম্ভব। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
/আশিক
যুদ্ধ শেষ নয়, ইরান হামলার ছক এখনো টেবিলে
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে সম্প্রতি যে বার্তা দিয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন, তার বিপরীতে এখন নতুন করে সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের ভেতরে এখনো ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা সক্রিয় রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্লুমেন্থাল বলেন, বিভিন্ন গোপন ব্রিফিং এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তিনি এমন ধারণা পেয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর বিকল্প এখনো পুরোপুরি বাতিল হয়নি। তার মতে, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ নতুন সংঘাত শুরু হলে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি এবং বড় ধরনের আঞ্চলিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, কিছু বৈঠক ও নিরাপত্তা ব্রিফিং গোপন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে এটুকু পরিষ্কার যে, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা এখনো ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী টেবিলে রয়েছে। যদিও সম্ভাব্য হামলার সময় বা ধরন সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কিছু জানাননি।
ব্লুমেন্থাল আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে কথা বলে আসছে। ফলে নতুন করে হামলার বিকল্প বিবেচনায় থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে হোয়াইট হাউজ ও পেন্টাগনের ভেতরেও ইরান প্রশ্নে আলোচনা জোরদার হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইরান-সংক্রান্ত নতুন সামরিক পরিকল্পনার বিস্তারিত শোনার কথা রয়েছে বলে মার্কিন সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন দ্বিমুখী কৌশল অনুসরণ করছে। একদিকে ইরানকে কূটনৈতিকভাবে চাপে রেখে নতুন কোনো চুক্তিতে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে সামরিক বিকল্প খোলা রেখে তেহরানের ওপর মানসিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকেও নমনীয়তার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। তেহরান এখনো তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং সামরিক অবস্থান নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা কমার পরিবর্তে আরও জটিল হয়ে উঠছে।
-রফিক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দামামা: হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও বিশ্ব অর্থনীতির চরম অস্থিরতা
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে আচ্ছন্ন। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের হুমকি, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব—সব মিলিয়ে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। একদিকে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক (OPEC) ত্যাগের সিদ্ধান্ত তেলের বাজারে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুব শীঘ্রই 'আমেরিকান উপস্থিতি থেকে মুক্ত' হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নতুন 'গ্লোবাল কোয়ালিশন' বা আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এক নজিরবিহীন দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হবে।
যুদ্ধের আকাশছোঁয়া ব্যয় ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি
সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। যেখানে পেন্টাগন প্রাথমিক ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছিল, সেখানে বর্তমান হিসাব বলছে এটি ৫০ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' চলাকালীন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ায় এই খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ECB) সতর্ক করেছে যে, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে, যা জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
আরব আমিরাতের নাটকীয় সিদ্ধান্ত
একটি অভাবনীয় পদক্ষেপে সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক (OPEC) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি তেলের দাম কমাতে সাহায্য করবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরবের সাথে আমিরাতের সম্পর্কের ফাটল এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল জোটে আমিরাতের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতাই এই প্রস্থানের মূল কারণ। ওপেক ত্যাগের ফলে আমিরাত এখন স্বাধীনভাবে তেল উৎপাদন বাড়িয়ে বিশ্ব বাজারে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।
লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি আগ্রাসন
Ceasefire বা সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি হামলা থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি সৈন্যরা লেবাননের ১০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে হিজবুল্লাহ ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে।
গাজা অভিমুখে মানবিক ত্রাণ ও ‘জলদস্যুতা’র অভিযোগ
গাজায় মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া 'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা' ইসরায়েলি নৌবাহিনী কর্তৃক আটকের ঘটনা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে। ইরান এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় 'জলদস্যুতা' বলে অভিহিত করেছে। তবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই ফ্লোটিলাকে 'প্রো-হামাস স্টান্ট' হিসেবে বর্ণনা করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘শান্তি পরিকল্পনা’ নষ্ট করার অপচেষ্টা বলে নিন্দা জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও শান্তির আহ্বান
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট প্রতি মুহূর্তে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরার এবং যুদ্ধের প্রান্তসীমা থেকে পিছিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সীমিত হওয়ার ফলে বৈশ্বিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা যেভাবে ভেঙে পড়ছে, তাতে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।
ইউরোপের অনাস্থা ও মার্কিন নীতির অস্থিরতা
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক নীতি পরিবর্তনের ফলে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জার্মান সংসদ সদস্য মারি-আগনেস স্ট্র্যাক-জিমারম্যান জানিয়েছেন যে, ওবামা বা বাইডেন প্রশাসনের সময় ওয়াশিংটনের ওপর বার্লিনের যে আস্থা ছিল, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের ওপর সেই আস্থা এখন আর নেই। ট্রাম্পের জার্মানি থেকে সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার হুমকি এবং ইতালি ও স্পেন থেকেও সৈন্য প্রত্যাহারের ইঙ্গিত ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর পুনরায় ভাবতে বাধ্য করছে। ইউরোপ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে 'স্বাধীন ও স্বাবলম্বী' হওয়ার পথ খুঁজছে। ২০২৬ সালের মে মাসের শুরুতেই বিশ্ব এক বিপজ্জনক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে ২ সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে, তা স্থায়ী কোনো সমাধানে পৌঁছাবে কিনা তা নিয়ে ট্রাম্প নিজেও সন্ধিহান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে যুদ্ধ আবার শুরু হবে কি না তা তিনি জানেন না।
এই সংঘাত কেবল মিসাইল বা ড্রোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন সাইবার যুদ্ধ, তথ্যযুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধের এক জটিল সংমিশ্রণ। তেহরানে অব্যাহতভাবে এয়ার ডিফেন্স সাইরেন বাজছে, যা যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরণের বিমান হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি এই সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের মানচিত্র ও ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। শান্তির পথ এখন আলোচনার টেবিলে নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক দাবার বোর্ডের চালের ওপর নির্ভর করছে।
সূত্রঃ Middle East Eye
যুদ্ধবিরতিতে গোপনে অস্ত্র উদ্ধার করছে ইরান?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে দ্রুত তৎপর হয়ে উঠেছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া স্থাপনার নিচে চাপা পড়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করতে গোপন ও দ্রুত অভিযান চালাচ্ছে তেহরান।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আবারও সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। বিশেষ করে ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং মোবাইল লঞ্চিং সিস্টেম পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা দলকে নিয়ে শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প। সেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো নিষ্ক্রিয় করা এবং সম্ভাব্য সামরিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্টকে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতি, ইরানি বন্দর অবরোধ এবং নতুন সম্ভাব্য অপারেশন নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করবেন বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফর। মে মাসের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ জ্বালানি ও কৌশলগত সম্পর্ক থাকায় এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে হোয়াইট হাউজ। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে একবার সফর পেছানো হয়েছিল, ফলে দ্বিতীয়বার তা পিছিয়ে দিতে চায় না ওয়াশিংটন।
গত ১৬ এপ্রিল পেন্টাগনে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করছে। তার ভাষায়, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চার উদ্ধার করা হলেও ইরানের সেই সক্ষমতা পুনর্গঠনের সামর্থ্য সীমিত।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলি দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী তাদের সামরিক লক্ষ্য পূরণে সফল হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো, উৎপাদন কেন্দ্র এবং নৌ সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এই দাবির সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্যের কিছু অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরান তাদের বহু অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলেছিল কিংবা ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় লুকিয়ে রেখেছিল। গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ইরানের বিমানবাহিনীর অর্ধেকের বেশি যুদ্ধবিমান এবং ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-এর উল্লেখযোগ্য নৌ সক্ষমতা এখনো অক্ষত রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে নৌ অবরোধ জোরদার করে। পরে ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমঝোতা হয়নি।
সূত্র:এনবিসি নিউজ
ইরানের জন্য কি বড় স্বস্তি? মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার ঘোষণা দিলো ইউএসএস ফোর্ড
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ দীর্ঘ ১০ মাসের রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষ করে অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে যাচ্ছে। গত বছরের জুন মাসে ভার্জিনিয়ার নরফোক নেভাল স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করার পর থেকে রণতরিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বজায় রাখা এবং ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের অভিযানে অংশ নেওয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রণতরিটি মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করবে এবং মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভার্জিনিয়ায় তার নিজস্ব বন্দরে পৌঁছাবে। সমুদ্রের বুকে টানা ২৯৫ দিনের বেশি সময় পার করার মাধ্যমে এটি ২০২০ সালে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের গড়া ২৯৪ দিনের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছে, যা গত ৫০ বছরে কোনো মার্কিন রণতরির ক্ষেত্রে দীর্ঘতম অভিযানের রেকর্ড।
ইউএসএস ফোর্ড বিদায় নিলেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি কমছে না। গত সপ্তাহে এই অঞ্চলে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এসে পৌঁছানোর ফলে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন রণতরি অবস্থান করছে। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম ইরানের সঙ্গে এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলাকালীন মার্কিন নৌবাহিনী এমন বিশাল শক্তির সমাবেশ ঘটিয়েছে।
এর আগে গত জানুয়ারি মাস থেকে তেহরানের সঙ্গে চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনও এই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউএসএস ফোর্ডকে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের ক্লান্তি দূর করার চেষ্টা করছে পেন্টাগন, তবে বাকি তিনটি রণতরির উপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন এখনো কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।
/আশিক
মানচিত্রে ‘ট্রাম্প প্রণালি’! হরমুজের নাম বদলে ট্রাম্পের নতুন চাল ও যুদ্ধের দামামা
বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে ডোনাল্ড ট্রাম্প মানেই একের পর এক চমকপ্রদ ঘটনা। এবার তিনি মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’র নাম পরিবর্তন করে ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ বা ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে অভিহিত করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ কোনো ক্যাপশন ছাড়াই হরমুজ প্রণালির একটি পরিবর্তিত মানচিত্র শেয়ার করেন তিনি, যেখানে ওই জলপথটির নাম লেখা ছিল ‘ট্রাম্প প্রণালি’।
এর আগে গত ২৭ মার্চ এক বক্তৃতায় তিনি প্রথমবার এই নামটি ব্যবহার করেছিলেন, যা তখন অনেকে রসিকতা হিসেবে ধরে নিলেও ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছিলেন যে তিনি ‘খুব কমই ভুল করেন’। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই ঘটনাকে ট্রাম্পের এক চরম মনস্তাত্ত্বিক চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তিনি ওই অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য ও তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাবের বিষয়টি বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিতে চাইছেন। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে, যা বর্তমানে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে, এই প্রতীকী মানচিত্র পরিবর্তনের আড়ালে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে দুই মাস ধরে চলা সংঘাত অবসানে ইরানের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটিও ফিরিয়ে দিয়েছেন। ইরানের প্রস্তাব ছিল—হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুদ্ধাবসান হবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যতে করা হবে। কিন্তু ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যতক্ষণ না তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করছে এবং ওয়াশিংটনের সব শর্ত মানছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তি হবে না এবং নৌ-অবরোধও অব্যাহত থাকবে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ওপর একটি ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ আকাশপথের হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। পেন্টাগনের লক্ষ্য হলো, এই হামলার মাধ্যমে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করা। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান এবং হরমুজের নাম পরিবর্তনের বিচিত্র প্রয়াস পুরো অঞ্চলকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র- এনডিটিভি
ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক শক্তি আমাদের জাতীয় মূলধন, কোনো আপস নয়: মোজতবা খামেনি
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের দুই মাসব্যাপী নজিরবিহীন সামরিক আগ্রাসন ও নৌ-অবরোধের পর ওয়াশিংটন ‘লজ্জাজনক ব্যর্থতার’ শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক শক্তির চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইরান দমে যায়নি, বরং আজ এই অঞ্চলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ১৬২২ সালে পর্তুগিজ বাহিনীকে এই অঞ্চল থেকে বিতাড়নের ঐতিহাসিক স্মৃতি স্মরণে পালিত এই দিবসে খামেনি মার্কিন উপস্থিতিকে এই অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ইরান তার পারমাণবিক সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে কোনো আপসের বস্তু নয়, বরং ‘জাতীয় মূলধন’ হিসেবে বিবেচনা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের জন্য ক্রমাগত চাপ ও অবরোধ জারি রাখছেন, তখন খামেনির এই বক্তব্যকে ওয়াশিংটনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের জনগণ যেভাবে তাদের ভূমি, পানি ও আকাশসীমা রক্ষা করে, ঠিক একইভাবে তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকেও যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে তিনি বলেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলো এই অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাঁর ভাষায়, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে আছে তারা আসলে ভুল পথে হাঁটছে, কারণ মার্কিন ঘাঁটিগুলো যেখানে নিজেদের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করতে অক্ষম, সেখানে তারা তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি করাটা স্রেফ ভিত্তিহীন।
খামেনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং ইরানের পাল্টা সামরিক প্রস্তুতির ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থান প্রমাণ করে যে, পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগের শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ‘সারেন্ডার’ বা আত্মসমর্পণের প্রস্তাব তারা কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- থানায় ওসির রুমে ঢুকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন: ‘দলের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নিলে দায়ী আপনি’
- উইলস লিটল ফ্লাওয়ারে বিচারপতির বিরুদ্ধে শিক্ষক হেনস্তার অভিযোগ: আইনমন্ত্রী যা বললেন
- মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই শাহজালালের দরগায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- গরমে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয়
- ৫ মিনিটে ইন্টারনেটের স্পিড দ্বিগুণ করার উপায়: রাউটার রাখুন সঠিক জায়গায়
- ফ্লোরিডায় মেধাবীদের খুনি কে? পুলিশের বিশেষ অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর মোড়
- পাম্পে গাড়ির লাইনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে: জ্বালানিমন্ত্রী
- ৮ হাজার মিটারের ৫টি পর্বত জয়: বাবর আলীর হাত ধরে বিশ্ব রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ
- আজকের টাকার রেট: জেনে নিন প্রবাসী ভাইদের জন্য বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার
- মধ্যপ্রাচ্যে ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এখন ধ্বংসস্তূপ
- ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিনিদের রায়: ৬১ শতাংশ নাগরিকই বলছেন এই যুদ্ধ একটি ‘ভুল’
- দেশের ৪ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা: ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি
- প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সিলেট সফরে তারেক রহমান: বিমানবন্দরে রাজকীয় সংবর্ধনা
- ক্রিকেটে ঠাসা সূচি; বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ ও আইপিএলের উত্তাপ আজ
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নাটকীয় মোড়: কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও বাড়ল দাম
- ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি রয়েছে: জেনে নিন দিনভর ব্যস্ততার তালিকা
- শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে
- ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প: মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জানুন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সঠিক সময়
- আজ টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যে এলাকায়
- বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
- সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে জামায়াত আমিরের আবেগঘন বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
- যুদ্ধ শেষ নয়, ইরান হামলার ছক এখনো টেবিলে
- সংসদে নাহিদ ইসলামের জ্বালাময়ী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দামামা: হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও বিশ্ব অর্থনীতির চরম অস্থিরতা
- যুদ্ধবিরতিতে গোপনে অস্ত্র উদ্ধার করছে ইরান?
- রাতজুড়ে ক্রিকেট উত্তেজনা, কোন ম্যাচ কখন দেখবেন জানুন সূচী
- শুক্রবারের নামাজের পূর্ণ সময়সূচি প্রকাশ
- সোনা কিনতে এখন কত টাকা লাগবে জানুন
- আজ যেসব এলাকায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
- দেবদ্বারে সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের কমিটি গঠন: সভাপতি বাবুল, সম্পাদক মাসুদ
- ৫ আগস্টের শহীদদের স্বপ্ন পূরণই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
- দর্শকদের কষ্ট কমাতে তামিমের বড় উদ্যোগ: বদলে যাচ্ছে মিরপুর স্টেডিয়াম
- ইরানের জন্য কি বড় স্বস্তি? মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার ঘোষণা দিলো ইউএসএস ফোর্ড
- শুক্রবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- মে থেকে জ্বালানি তেলের দাম কত হবে? জানিয়ে দিল সরকার
- রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন না থাকলে দেশ অরাজকতায় পড়ত: মির্জা ফখরুল
- মানচিত্রে ‘ট্রাম্প প্রণালি’! হরমুজের নাম বদলে ট্রাম্পের নতুন চাল ও যুদ্ধের দামামা
- আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে: সাকিব
- কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টে গেল সিদ্ধান্ত: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক শক্তি আমাদের জাতীয় মূলধন, কোনো আপস নয়: মোজতবা খামেনি
- আপনার প্রাইজবন্ডের নম্বরটি মিলেছে কি? জেনে নিন ১২৩তম ড্র-এর ফলাফল
- অতীতেও লুটপাটের সুযোগ দেয়নি বিএনপি, এবারও দেবে না: অর্থমন্ত্রী
- ইরানকে দমাতে গিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ধ্বংস করছেন ট্রাম্প: ইরানি স্পিকার
- রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর: নাহিদ ইসলাম
- ৩০ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৩০ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৩০ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ওজন অনুযায়ী প্রোটিন মেপে ডায়েট: সুস্থ থাকার সঠিক গাইডলাইন
- সোনার বাজারে খুশির আমেজ; বাজুসের নতুন মূল্যে বড় ছাড়
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম ডিজিটাল অসভ্যতা: গণতান্ত্রিক সংহতি রক্ষায় নতুন চ্যালেঞ্জ
- আবারও সস্তা হলো সোনা: আজ থেকেই নতুন মূল্য কার্যকর
- রেকর্ড দামের পর এবার কি কমছে স্বর্ণ? একনজরে আজকের বাজার দর
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ১ম টি-টোয়েন্টি: সময়সূচি ও সরাসরি দেখার উপায় একনজরে
- আজ থেকেই আদানির বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমতে পারে লোডশেডিং
- বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
- ২৬ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৬ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২৬ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- টানা ২ বার কমার রেকর্ড! স্বর্ণের বাজারে কী ঘটছে? জানাল বাজুস
- যুদ্ধবিরতিতে গোপনে অস্ত্র উদ্ধার করছে ইরান?
- জানুন রিজিক বৃদ্ধির শক্তিশালী আমল
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস: এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে দর








