আবার হামলা হলেই আরবের জ্বালানি খাত হবে ধ্বংস: ইরান

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। সংস্থাটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ইরানের জ্বালানি খাতে পুনরায় হামলা হলে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং সেই হামলা থামবে না যতক্ষণ না এসব অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষ ‘গুরুতর ভুল’ করেছে এবং এর প্রতিক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে আরও বড় ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে ইসরায়েলের হামলায়, যেখানে ইরানের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এই ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারে পৌঁছায়।
আইআরজিসি ইতোমধ্যে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনার নাম উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের সামরেফ রিফাইনারি ও জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাসক্ষেত্র এবং কাতারের মেসাইয়িদ ও রাস লাফান শিল্পাঞ্চল।
এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি সাউথ পার্সে ইসরায়েলের হামলাকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে।
সংঘাতের বিস্তার হিসেবে ইরান ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তেহরান ইরাকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, যা ইরাকের মোট জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে থাকে। এতে ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একা এই দায়িত্ব বহন করবে না এবং মিত্রদের এখনই সক্রিয় হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খোলা রাখতে ভূমিকা রাখতে হবে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ভেতরে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
-রফিক
আর্জেন্টিনাকে ২০০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র চাপ মোকাবিলায় নতুন করে বড় ধরনের সহায়তা পেয়েছে আর্জেন্টিনা। দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে ২০০ কোটি ডলারের একটি বিশেষ ঋণ প্যাকেজ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশ্বব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঋণ সহায়তার অনুমোদন দেয়। বিশেষ ‘গ্যারান্টি-ব্যাকড ফিন্যান্সিং’ ব্যবস্থার আওতায় এই অর্থ ছাড় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই আর্থিক কাঠামো অনুযায়ী, কোনো কারণে ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে তৃতীয় পক্ষের কোনো প্রতিষ্ঠান তার হয়ে অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা দেবে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়নে এ ধরনের ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, দুটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টির ভিত্তিতে এই ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইবিআরডি) এবং মাল্টিল্যাটারাল ইনভেস্টমেন্ট গ্যারান্টি এজেন্সি (এমআইজিএ)।
এই ঋণের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় বছর। পাশাপাশি অতিরিক্ত তিন বছরের একটি গ্রেস পিরিয়ডও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত ছয় বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ সম্ভব না হলে আর্জেন্টিনা আরও তিন বছর সময় পাবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের নমনীয় ঋণ কাঠামো সংকটে থাকা দেশগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি করে। কারণ এতে তাৎক্ষণিক ঋণ পরিশোধের চাপ অনেকাংশে কমে যায়।
করোনা মহামারির পর থেকেই আর্জেন্টিনার অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে চাপের মুখে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া, ডলারের ঘাটতি এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেশটির আর্থিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
২০২৪ সালে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ১০০ শতাংশের সীমা অতিক্রম করে। এর ফলে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে শুরু করে।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই ক্ষমতায় আসার পর ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। সরকারি ব্যয় কমানো, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারভিত্তিক নীতি বাস্তবায়নের মতো বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও এখনো দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
সূত্র: রয়টার্স
ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? জবাব দিলেন জেডি ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নতুন সমঝোতা ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। তবে সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মঙ্গলবার দেওয়া এক ব্যাখ্যায় তিনি স্পষ্ট করে জানান, ওয়াশিংটন কোনোভাবেই ইরানকে সরাসরি অর্থ সহায়তা দিচ্ছে না। বরং ইরান যদি ভবিষ্যতে চুক্তির শর্তসমূহ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে, তাহলে অন্য দেশগুলোকে সেখানে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, অনেকেই ভুলভাবে ধারণা করছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে শত শত বিলিয়ন ডলার দিয়ে দিচ্ছে। বাস্তবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইরানের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এলে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল করা হতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা দেশটিতে ব্যবসা ও অবকাঠামোগত প্রকল্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
ভ্যান্স উদাহরণ দিয়ে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত যদি ভবিষ্যতে ইরানের কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে বর্তমানে বিদ্যমান আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটি সম্ভব নয়। তবে ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চললে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইরান তার নীতিগত অবস্থানে পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত কোনো ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ কার্যকর হবে না। তাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে অর্থ দিচ্ছে—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর।
এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য কাঠামোগত সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বেসরকারি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তহবিলের উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে পুরো পরিকল্পনাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
জানা গেছে, এই অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হবে না। বরং এটি হবে সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগভিত্তিক একটি অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।
সূত্রগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
এই অর্থ প্রধানত জ্বালানি, পরিবহন, শিল্প উৎপাদন, লজিস্টিকস এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো খাতে বিনিয়োগ করা হতে পারে।
‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ নামে আলোচিত এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
একটি ইরানি সূত্রের দাবি, আঞ্চলিক দেশগুলো সরাসরি অর্থ সহায়তা, ঋণ নিশ্চয়তা, ক্রেডিট লাইন এবং অবকাঠামো পুনর্গঠন প্রকল্পে অংশ নিতে পারে।
এর আওতায় স্টিল কারখানা, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দরসহ ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ চার দশকের নিষেধাজ্ঞা ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দিয়েছে। অথচ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল ও গ্যাস মজুদের মালিক দেশটি বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বহন করে।
প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ শিক্ষিত ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, শক্তিশালী শিল্পভিত্তি এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমঝোতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো তহবিল কার্যকর হবে না।
প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাঠামো, বিনিয়োগের খাত এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
-রফিক
আমি না থাকলে ইসরায়েল মানচিত্র থেকে মুছে যেত: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ও নিজের ব্যক্তিগত ভূমিকা না থাকলে অনেক আগেই ইসরায়েল রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যেত বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তিনি নিজে না থাকলে দেশটির কোনো অস্তিত্বই থাকত না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। চলমান জি-৭ (G7) সম্মেলনের সাইডলাইনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ট্রাম্প এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমর্থন না থাকলে ইসরায়েল টিকে থাকতে পারত না। তিনি ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ না করলে অন্য কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের সুরক্ষায় তার মতো এমন কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস দেখাতেন না। ট্রাম্পের মতে, তিনি মধ্যস্থতা না করলে অনেক আগেই ইসরায়েল মানচিত্র থেকে মুছে যেত।
ইসরায়েলের প্রতি নিজের এই একচ্ছত্র সমর্থনের কথা জানানোর পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর নিজের তীব্র অসন্তোষের কথাও লুকাননি ট্রাম্প। লেবানন ইস্যুতে তিনি নেতানিয়াহুকে চরম সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের ঘন ঘন ও অনবরত সামরিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি চুক্তিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
কথোপকথনে লেবাননের গৌরবময় অতীতের স্মৃতিচারণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, লেবানন একসময় মধ্যপ্রাচ্যের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ দেশ ছিল। এটি মূলত পরিচিত ছিল বিশ্বখ্যাত অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবীদের দেশ হিসেবে। মেধাবী ও সুশিক্ষিত মানুষের এক বড় কেন্দ্র ছিল লেবানন। কিন্তু চলমান যুদ্ধবিগ্রহের কারণে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এর আগে গত রবিবার বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত ও বিচারবোধ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্য ও গোপনে ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান নেতানিয়াহু সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
চীনের কিনহাই প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কিনহাই প্রদেশে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১ জন নিহত এবং চারজন আহত হওয়ার খবর জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেইজিং সময় বিকেল ৫টা ৬ মিনিটে প্রদেশের হাইশি অঞ্চলে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) জানিয়েছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূগর্ভের কম গভীরে উৎপত্তি হওয়ায় আশেপাশের এলাকায় বেশ ভালো ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। মূল ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পর ওই অঞ্চলে একাধিক আফটারশকও রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি আফটারশকের তীব্রতা রিখটার স্কেলে প্রায় ৫ মাত্রা ছিল বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে মাঠপর্যায়ে মূল্যায়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় উদ্ধার ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে কি আসলেই শান্তি ফিরবে নাকি নতুন সংকটের শুরু?
বন্দুকের গুলি থামলেও কাটছে না মধ্যপ্রাচ্যের সংকট: নতুন বাস্তবতায় ইরান ও বৈশ্বিক রাজনীতিমধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ সংঘাতের অবসানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এই চুক্তি বন্দুকের গুলি থামিয়ে দিলেও, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে তা মোটেও আশাব্যঞ্জক নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কূটনীতিক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নীতিনির্ধারকদের মতে, এই চুক্তি যুদ্ধের অবসান ঘটালেও সামগ্রিক শক্তির ভারসাম্য এবং নিরাপত্তা কাঠামোকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ওয়াশিংটনের কৌশলগত ব্যর্থতা ও তেহরানের আত্মবিশ্বাস
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের জন্য এই চুক্তি মূলত একটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাত থেকে সম্মানজনক ‘প্রস্থানপথ’ বা এক্সিট রুট। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা কিংবা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তা অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো ইরান রাজনৈতিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং অপরাজিত শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রবল সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখেও তারা নিজেদের কাঠামো ধরে রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক জলপথ ও জ্বালানি প্রবাহকে হুমকির মুখে ফেলার মতো কৌশলগত সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা সংকট ও নতুন সমীকরণ
এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বড় কৌশলগত ধাক্কা খেয়েছে সুন্নি আরব উপসাগরীয় দেশগুলো। তাদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা এখন কার্যত ভেঙে পড়ছে। উপসাগরীয় দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে যে ইরানকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ বা উৎখাত করার সামর্থ্য যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল—কারোই নেই। ফলে ইরানকে একটি ‘স্থায়ী আঞ্চলিক শক্তি’ হিসেবে মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের অস্তিত্ব ও স্থিতিশীলতার জন্য পশ্চিমাদের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমিয়ে, এখন উপসাগরীয় রাজধানীগুলো তেহরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সমঝোতার দিকে ঝুঁকছে।
ইসরায়েলের কৌশলগত উদ্বেগ ও ক্ষোভ
ইসরায়েলের জন্য এই চুক্তি একটি বড় কূটনৈতিক আঘাত। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র বিধিনিষেধের মতো ইসরায়েলের মূল দাবিগুলো এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় নেতানিয়াহু সরকারের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় বিরাজ করছে। ইসরায়েল মনে করছে, আলোচনার শর্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের ওপর তাদের প্রভাব এখন নামমাত্র। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও লেবানন ফ্রন্টেও ইসরায়েলের ওপর একই ধরনের ‘চুক্তি মেনে নেওয়ার’ আন্তর্জাতিক চাপ আসতে পারে।
চুক্তির ভবিষ্যৎ: শান্তির বার্তা নাকি কেবলই ‘আলোচনার টিকিট’?
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যা স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে তা কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি নয়, বরং সংঘাত সাময়িক স্তিমিত করার একটি প্রাথমিক কাঠামো মাত্র। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণের মতো মূল বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক অ্যারন ডেভিড মিলারের ভাষায়, "এটি কোনো সমাধান নয়, বরং কেবল ‘আলোচনার টিকিট’।" সামগ্রিকভাবে, এই সংঘাতের সাময়িক অবসান ঘটলেও মধ্যপ্রাচ্য এমন এক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে, যেখানে ইরান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি ভঙ্গুর।
/আশিক
ইইউর ‘রুশ সেনা প্রশিক্ষণ’ সংক্রান্ত বিস্ফোরক দাবি প্রত্যাখ্যান করল চীন
ইউক্রেন যুদ্ধে লিপ্ত রুশ সেনাদের চীনা সামরিক বাহিনী প্রশিক্ষণ দিচ্ছে—ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এমন গুরুতর অভিযোগকে সম্পূর্ণ 'ভিত্তিহীন' ও 'মানহানিকর' উল্লেখ করে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেইজিংয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান ইইউর এই দাবিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, "এই ধরনের দাবির কোনো বাস্তব বা যৌক্তিক ভিত্তি নেই। এটি চীনের বিরুদ্ধে অপবাদ এবং মানহানিকর বক্তব্য ছড়ানোর শামিল।" চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোও বেইজিংয়ের এই আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতির খবরটি বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে।
এর আগে লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক শেষে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস দাবি করেন, চীনা সামরিক সদস্যদের দ্বারা রুশ সেনাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিবেদন ইইউর হাতে এসেছে। গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক সূত্রে পাওয়া এই প্রতিবেদনগুলো তারা গুরুত্বের সাথে যাচাই করেছে এবং এর সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও নিরাপত্তা ঝুঁকি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে।
বৈঠক শেষে কাজা কালাস আরও একটি বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, রাশিয়ার সামরিক খাতকে পরোক্ষ সহায়তার অভিযোগে বৈঠকে উপস্থিত ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বেশ কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) আরোপের বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে কূটনৈতিক ও কৌশলগত কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বা নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত রূপরেখা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার প্রতি বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নমনীয় অবস্থান নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো ধারাবাহিক উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। যার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে বেইজিং শুরু থেকেই এই যুদ্ধে নিজেদের সম্পূর্ণ 'নিরপেক্ষ' দাবি করে আসছে এবং শান্তি আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে।
/আশিক
বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ভারতের বিশেষ কমিটি গঠনের নেপথ্যে কী
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চল, বড় বড় মহানগর এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে দ্রুত পরিবর্তিত জনসংখ্যাগত পরিস্থিতি মূল্যায়নে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। এ লক্ষ্যে বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের নেতৃত্বে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী এক বছরের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ প্যানেল অভিবাসন প্রবণতা, জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি, সামাজিক পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক প্রভাব বিশ্লেষণ করবে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৬ মে এই কমিটি গঠন করে। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গত বছরের ১৫ আগস্ট লাল কেল্লায় দেওয়া বক্তব্য, যেখানে তিনি দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ‘অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
ভারত সরকার এই বিষয়টিকে শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছে না। বরং তারা এটিকে জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি কৌশলগত ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই কমিটির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে কাজের গতি বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রথম বৈঠক সম্পন্ন করেছে এবং বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। আগামী কয়েক মাসে সদস্যরা বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় সরাসরি মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে যাবেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই জন্মহার, মৃত্যুহার, কর্মসংস্থান, নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ঘটে থাকে। তবে ভারত সরকারের মূল উদ্বেগ অবৈধ অনুপ্রবেশ, অনিয়ন্ত্রিত বহিরাগত প্রবেশ এবং অস্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির উৎস শনাক্ত করা।
কর্মকর্তাদের মতে, এই ধরনের পরিবর্তন সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। পাশাপাশি সরকারি সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় প্রশাসন এবং নাগরিক সেবাব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
এই তদন্তের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন জেলা। বিশেষ করে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত আলোচনা চলছে।
মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনের সময় কমিটির সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি জাতীয় আদমশুমারি, ভোটার তালিকা, অভিবাসন তথ্য এবং সরকারি ডেটাবেস বিশ্লেষণ করা হবে।
সীমান্ত অঞ্চলের বাইরে ভারতের বড় বড় মহানগর ও শিল্পাঞ্চলও এই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, নয়ডা, গুরুগ্রাম, আহমেদাবাদ এবং পুনের মতো শহরগুলো প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে আকৃষ্ট করে।
ভারত সরকার মনে করছে, দ্রুত নগরায়ণের ফলে এসব এলাকায় জনসংখ্যার চাপ বেড়ে স্থানীয় কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, নাগরিক সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকার পুরো বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও পর্যবেক্ষণ করছে। এর আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অবৈধ অনুপ্রবেশ, জাল পরিচয়পত্র তৈরি, ভোটার তালিকায় অননুমোদিত নাম অন্তর্ভুক্তি এবং অবৈধ বসতি স্থাপনের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, এসব কার্যক্রমের মূল কারণ শনাক্ত করে সময়মতো নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এতে জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখা এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।
বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ, নগর জনসংখ্যার চাপ এবং সামাজিক পরিবর্তনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করবে।
এ ছাড়া স্থানীয় সম্পদের ওপর চাপ, কর্মসংস্থান, সাংস্কৃতিক ভারসাম্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সুশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সুপারিশও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
-রফিক
যুদ্ধ থামলেও হরমুজ আর আগের অবস্থায় ফিরবে না
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের অবসান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি হলেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরবে না বলে সতর্ক করেছেন ইরানের শীর্ষ নৌ-পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও এই সংকট বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রেখে যাবে।
ইরানের মার্চেন্ট মেরিন ইউনিয়নের প্রধান এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের (আইটিএফ) অধিভুক্ত ইরানি মার্চেন্ট মেরিনার্স সিন্ডিকেটের মহাসচিব সামান রেজায়েই বলেছেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ করিডোর হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ সেই প্রতিষ্ঠিত কাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সংঘাত কেবল সামরিক উত্তেজনাই সৃষ্টি করেনি, বরং সমুদ্রপথে আস্থার সংকটও তৈরি করেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির পরও স্বাভাবিকতা ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
রেজায়েইর মতে, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ নতুন বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। পুরোনো নিরাপত্তা কাঠামোর পরিবর্তে উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে নতুন একটি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক শিপিং শিল্পের অধিকাংশ অংশীজন মনে করছে, হরমুজকে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না। বরং এটি একটি দীর্ঘ, জটিল এবং অনিশ্চিত পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পুনরুদ্ধার নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে স্থায়ী শান্তি বজায় রাখা, সামরিক হুমকি দৃশ্যমানভাবে কমে যাওয়া এবং কোনো ধরনের নতুন সংঘাত ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে একাধিক নিরাপদ জাহাজ চলাচল সম্পন্ন হওয়া।
ইরানের এই নৌ-বিশেষজ্ঞ জানান, যুদ্ধ চলাকালে বিপুলসংখ্যক জাহাজ বিকল্প রুট ব্যবহার করায় এখন সমুদ্রপথে জাহাজের বড় ধরনের জট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বহু নাবিকের শিফট পরিবর্তন এবং ক্রু রোটেশনের প্রয়োজনীয়তাও নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে আশাবাদী হিসাবেও অন্তত কয়েক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে।
তিনি আরও জানান, পারস্য উপসাগরের উভয় তীরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং পরিবহন ব্যবস্থার বেশ কিছু অংশ যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করতে বিপুল অর্থ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সময়ের প্রয়োজন হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
চুক্তির মধ্যেও যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদারের ঘোষণা ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সদ্য সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতার পথে হাঁটছে না ইরান। বরং দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র এই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা কার্যকর হলেও তা ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে কোনো ধরনের শৈথিল্য আনবে না।
সামরিক মুখপাত্র বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতির মাত্রা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখবে। একই সঙ্গে স্থল, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও অব্যাহত থাকবে।
তার ভাষায়, কূটনৈতিক সমঝোতা কখনোই জাতীয় নিরাপত্তার বিকল্প হতে পারে না। তাই আলোচনা চললেও সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের কার্যক্রম সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, চুক্তির প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো পক্ষ যদি শর্ত ভঙ্গ করে, তাহলে দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামরিক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সমঝোতা স্মারকের যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন বা বিচ্যুতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতিকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চুক্তির আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “যদি শত্রুপক্ষ এই সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করে, তাহলে আমরা দ্রুত ও শক্ত অবস্থানে ফিরে যাব এবং আঞ্চলিক সামরিক বাস্তবতা আগের পর্যায়ে পুনঃস্থাপন করব।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান একদিকে কূটনৈতিক সমঝোতায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত থাকার বিষয়টিও স্পষ্ট করছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইরান এখন ‘কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা দুই পথে সমান্তরাল অগ্রসর হওয়ার’ কৌশল গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ আলোচনার টেবিলে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি আঞ্চলিক উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমাতে সহায়তা করলেও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ফলে ইরান তার প্রতিরক্ষা অবকাঠামোকে দুর্বল করার কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
তাদের মতে, হরমুজ প্রণালি, লেবানন, সিরিয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। ফলে সামরিক প্রস্তুতি ধরে রাখাকে তেহরান কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
পাঠকের মতামত:
- ১৭ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আর্জেন্টিনাকে ২০০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
- মেটার বড় ঘোষণা, ব্যবহারকারীদের জন্য একগুচ্ছ নতুন ফিচার
- মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সুখবর দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- রোববার ১৮ ঘণ্টা পানি পাবে না যেসব এলাকা
- ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? জবাব দিলেন জেডি ভ্যান্স
- আজ ১ মহররম, জেনে নিন আজকের নামাজের সময়সূচি
- সোনার দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, রুপার বাজারেও পরিবর্তন
- কেমন থাকবে আজ রাজধানীর আবহাওয়া
- "মেসি এখন ফুটবলেরও ঊর্ধ্বে"
- ডলার ও ইউরোর দাম স্থিতিশীল, প্রবাসী আয়ে স্বস্তি
- আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির হ্যাটট্রিকে উড়ছে আর্জেন্টিনা
- দেশি-বিদেশি মদদে আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি: নাহিদ ইসলাম
- তীব্র সমালোচনার মুখে নতি স্বীকার করল ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা
- একজন মেসির জন্য পুরো দল প্রস্তুত করা অর্থহীন: হুঙ্কার আলজেরিয়া কোচের
- সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিন, ভালো কাজের পথ দেখান: প্রধানমন্ত্রী
- দেশের আকাশে মহররমের চাঁদ দেখা গেছে
- নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
- মৌলভীবাজারবাসীর প্রাণের ১০ দফা দাবি: প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে তাকিয়ে ২৫ লক্ষ মানুষ
- সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ: আলজেরিয়া ম্যাচের আগে বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে নিলেন মেসি
- আমি না থাকলে ইসরায়েল মানচিত্র থেকে মুছে যেত: ট্রাম্প
- চীনের কিনহাই প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
- জুলাই সনদ সংসদে নিষ্পত্তি না হলে রাজপথে আদায়ের হুঁশিয়ারি ডা. শফিকুরের
- প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া, কার পাল্লা ভারী?
- দিল্লি বিমানবন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল? মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে কি আসলেই শান্তি ফিরবে নাকি নতুন সংকটের শুরু?
- ইইউর ‘রুশ সেনা প্রশিক্ষণ’ সংক্রান্ত বিস্ফোরক দাবি প্রত্যাখ্যান করল চীন
- স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু? সংসদে পরিকল্পনা জানালেন মির্জা ফখরুল
- ১৬ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- দিল্লি ঘটনার ব্যাখ্যায় মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
- বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ভারতের বিশেষ কমিটি গঠনের নেপথ্যে কী
- যুদ্ধ থামলেও হরমুজ আর আগের অবস্থায় ফিরবে না
- মহররমের গুরুত্ব কী? জানুন আশুরার ফজিলত
- আজ যদি স্বর্ণ কিনতে যান, আপনার অতিরিক্ত কত টাকা লাগবে জানেন?
- আজ মাঠে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা, জেনে নিন জমজমাট পূর্ণ সূচি
- চুক্তির মধ্যেও যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদারের ঘোষণা ইরানের
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে বড় সংকটে নেতানিয়াহু?
- আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, দেখে নিন বিস্তারিত
- বেনজীরকে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ যেভাবে উঠল এমপি বন্ধুর বিরুদ্ধে
- পবিত্র আশুরা কবে
- আজ কোথায় কেনাকাটা করা যাবে না? দেখুন তালিকা
- রামিনের গোলে ম্যাচে ফিরল ইরান, জমে উঠল লড়াই
- ঢাকাসহ ১৫ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা
- যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ৮ জনের
- টেকনাফে বোটসহ ৭ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি!
- ডি-বক্স থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল, জাইমা রহমানের ফুটবল খেলার ভিডিও ভাইরাল!
- বিশ্বকাপ জিতলে চ্যাম্পিয়ন পাবে কত টাকা? জানুন প্রাইজমানির অঙ্ক
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন? জেনে নিন সেরা ৪ প্ল্যাটফর্ম, খরচ কত
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কি মুখোমুখি হবে? দেখে নিন দুই দলের বিশ্বকাপ সূচি
- স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম
- ট্রাম্পের দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলল ইরান
- আজ ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, জানুন কোথায়
- সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
- দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!
- ব্র্যাকের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে ১ হাজার হাঁসের বাচ্চা বিতরণ
- দুই দিনেই আবার বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের নতুন দর
- ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল, ভাতা ও সুবিধা বেড়ে বেতন হচ্ছে যত








