ইসরায়েলে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা: রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৮:৫৮:৩৩
ইসরায়েলে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা: রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল অভিমুখে বৃষ্টির মতো রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরান ও লেবানন থেকে পরিচালিত এই যৌথ হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, এসব হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বুধবার সন্ধ্যা থেকে উত্তর ইসরায়েলে ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই আক্রমণের ফলে উত্তর ইসরায়েলের লক্ষাধিক বাসিন্দাকে বাধ্যতামূলকভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে হয়েছে।

আইডিএফ-এর তথ্যমতে, হিজবুল্লাহ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে প্রায় ২০০টি রকেট নিক্ষেপ করে। যদিও সব রকেট সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি, তবে বেশ কিছু রকেট সরাসরি বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এতে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলায় একজন ৩৫ বছর বয়সী নারী এবং একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড আদম।

বিস্ফোরণের পর উড়ে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তারা আহত হন এবং পরবর্তীতে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া বিয়িনা শহরে একটি বাড়িতে রকেট আঘাত হানলে সেখানে অন্তত চারজন তীব্র আতঙ্কজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলার সময় উত্তর ইসরায়েলের গ্যালিলি অঞ্চল ও হাইফা এলাকায় বারবার সাইরেন বেজে ওঠে এবং লেবানন সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।

একই সময়ে ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এটি হিজবুল্লাহর সাথে তাদের একটি ‘সমন্বিত ও যৌথ অভিযান’। আইডিএফ দাবি করেছে যে, ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা সম্ভব হলেও কিছু স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত গ্লিলট সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। উল্লেখ্য, এই এলাকায় ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সদরদপ্তর অবস্থিত। মূলত ইরান ও হিজবুল্লাহর এই সাঁড়াশি আক্রমণে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যভাগে এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

/আশিক


জাতীয় সংসদে গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা উপস্থাপন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৯:৪২:০৬
জাতীয় সংসদে গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা উপস্থাপন
ছবি : সংগৃহীত

দেশে বিদ্যমান জ্বালানি সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারী ও বহুমুখী একগুচ্ছ নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই রূপরেখার আওতায় ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে মোট ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ২ডি ও ৩ডি সাইসমিক জরিপ পরিচালনা এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর ও অগভীর সমুদ্রাঞ্চলের মোট ২৬টি ব্লকে জোরালো হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের এসব জ্বালানি কৌশল তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে দেশের অভ্যন্তরে আকৃষ্ট করতে স্থলভাগের জন্য আধুনিক ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ প্রণয়নের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বর্তমানে দেশে কার্যকর থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে গড়ে দৈনিক ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্রমবর্ধমান ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে আরও একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি বৃহৎ আকারের স্থলভিত্তিক বা ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ পুরোদমে চলছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, কুতুবজোমের নতুন টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে এবং মাতারবাড়ীর স্থলভিত্তিক টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর পাশাপাশি দেশের শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে গ্যাস সঞ্চালন ও সরবরাহ নেটওয়ার্কে নতুন বৈচিত্র্য আনার কথা জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে একটি নতুন ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

একই সাথে ভোলা দ্বীপের প্রাকৃতিক গ্যাসকে কম্প্রেসড বা এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডের শিল্পকারখানায় দ্রুত সরবরাহের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ সাপেক্ষে অর্থনৈতিক অঞ্চল, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পপার্কগুলোতে কারখানা স্থাপনকারী শিল্পোদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

/আশিক


আন্তর্জাতিক চাপে পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্বের বড় সিদ্ধান্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ২২:০০:৫৩
আন্তর্জাতিক চাপে পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্বের বড় সিদ্ধান্ত
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের তীব্র চাপের মুখে পড়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা অবৈধ ইহুদি বসতিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সংশ্লিষ্ট দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। মূলত প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো কূটনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপের কারণেই নেতানিয়াহু এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিতে উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের ধারাবাহিক হামলা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক নিন্দার জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াই রাতারাতি দাঁড়িয়ে যাওয়া অন্তত ১০০টি অবৈধ চৌকি বা আউটপোস্ট উচ্ছেদের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তবে এই ভাঙার কাজ ঠিক কবে নাগাদ মাঠপর্যায়ে শুরু হবে, সে সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সময়সীমা এখনো খোলাসা করা হয়নি।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘পিস নাউ’-এর পরিসংখ্যান অনুসারে, পশ্চিম তীরে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অনুমোদিত ১৪৬টি বড় আকারের বসতির বাইরেও ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় জমিতে প্রায় ৩৪০টি অননুমোদিত আউটপোস্ট তৈরি করা হয়েছে। অস্থায়ী ও হালকা অবকাঠামো দিয়ে গড়ে তোলা এসব আস্তানায় মূলত উগ্রপন্থী কট্টর ইহুদিরা অবস্থান নিয়ে থাকে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) তাদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই এসব বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৬টি করে সহিংস হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ শিকার হয়ে এক হাজারের বেশি নিষ্পাপ শিশুসহ দুই হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিজেদের ভিটামাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

সংকটজনক এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তেল আবিবকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি উগ্র ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। আসন্ন অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তীব্র বিরোধ ও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।

/আশিক


সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে মধ্যরাতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১৮:০৯:০৯
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে মধ্যরাতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। রিয়াদের অভিযোগ, এসব হামলায় বেসামরিক আবাসিক এলাকা ও কৌশলগত অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে হামলার তীব্র নিন্দা জানান সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।

সৌদি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, রাতভর আভা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরকে লক্ষ্য করে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বিদ্রোহীরা। এসব হামলায় বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি নিশ্চিত করেছেন, এই হামলায় মোট ৭৩ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

বিপরীতে হুথি বিদ্রোহীদের দাবি, তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে সমন্বিত অভিযান চালিয়েছে। তাদের বিবরণ অনুযায়ী, জাজান, নাজরান, আভা এবং খামিস মুশাইতের সুনির্দিষ্ট কৌশলগত কেন্দ্রগুলোই ছিল তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য।

হামলার প্রত্যক্ষ প্রভাবে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি তেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এই পরিস্থিতির কারণে জাজান এলাকায় অবস্থিত দেশটির একটি বৃহৎ তেল শোধনাগারে সাময়িকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। সৌদি সামরিক জোট একে একটি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে চিহ্নিত করে হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুস্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

২০২২ সালের পর থেকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সংঘাত অনেকটাই শিথিল হয়ে এলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তজুড়ে সহিংসতা আবার নতুন মাত্রা পেয়েছে। সর্বশেষ এই বড় ধরনের হামলার ঘটনা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতটিকে পুনরায় এক ভয়াবহ সংঘাতের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এদিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন করে আঘাত হানার ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে, যা চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।

/আশিক


৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য: ইসরায়েলে রাজনৈতিক তোলপাড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১৮:০৬:০৫
৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য: ইসরায়েলে রাজনৈতিক তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নজিরবিহীন আক্রমণের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সম্ভাব্য বিপদের কথা জানিয়ে সতর্ক করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে সেই আগাম বার্তা পাওয়ার পরও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি দেশের নিরাপত্তা প্রধানদের অবহিত করেননি এবং কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।

মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছে। আসন্ন ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশিত এই তথ্যের জেরে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর অবিলম্বে পদত্যাগের জোরালো দাবি উঠেছে।

৭ অক্টোবরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে হারেৎজের সাংবাদিকদের আসন্ন একটি গবেষণামূলক গ্রন্থের অংশবিশেষ নিয়ে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান স্বয়ং নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট জানান যে হামাস অত্যন্ত বড় মাত্রার একটি সামরিক অভিযান পরিচালনার ছক কষছে।

সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, তৎকালীন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার ফিলিস্তিনের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে হামাস যোদ্ধাদের আসন্ন ‘ভূমিকম্পতুল্য’ অভিযানের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। ওই কর্মকর্তা ঘটনাটি আমিরাতের এক উপদেষ্টাকে জানালে তা প্রেসিডেন্ট নাহিয়ানের নজরে আসে এবং তিনি তৎক্ষণাৎ নেতানিয়াহুকে অবহিত করেন। তবে হারেৎজের দাবি, এত বড় সতর্কবার্তা পেয়েও নেতানিয়াহু দৃশ্যত উদাসীন ও শান্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর অবশ্য পুরো প্রতিবেদনটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে একে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য’ বলে আখ্যায়িত করেছে। হারেৎজকে বামপন্থী মনোভাবাপন্ন সংবাদমাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দাবি করেছে, ওই সময়ে আমিরাতি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নেতানিয়াহুর এমন কোনো সতর্কবার্তা সংক্রান্ত ফোনালাপই হয়নি। তবে বেনামি সূত্রের বরাতে তৈরি এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

দেশটির সাবেক সামরিক কমান্ডার গাদি আইজেনকট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করে লিখেছেন, দফায় দফায় সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় নেতানিয়াহু এই পদের যোগ্যতা হারিয়েছেন এবং হামলার সকালে যথাসময়ে ঘুম থেকে না ডাকার মতো দুর্বল অজুহাত দিয়ে নিজের নিরাপত্তা ব্যর্থতা এড়াতে পারেন না। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট মন্তব্য করেছেন, ৭ অক্টোবরের ব্যাপক প্রাণহানির জন্য নেতানিয়াহু সরাসরি ও ব্যক্তিগতভাবে দায়ী, ফলে তাঁর এক মুহূর্তের জন্যও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।

উল্লেখ্য, সীমান্ত অঞ্চলের একটি উন্মুক্ত সংগীত উৎসবসহ আশপাশের বসতিতে চালানো হামাসের সেই প্রাথমিক আক্রমণে ১ হাজার ২২১ জন ইসরায়েলি নিহত হন এবং প্রায় ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নেওয়া হয়, যাদের মধ্যে পরবর্তীতে ৪৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। এর প্রতিশোধ নিতে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী নির্বিচার সামরিক আগ্রাসনে পুরো ভূখণ্ডটি এখন ধ্বংসস্তূপে রূপ নিয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৬৫৮ জনে।

/আশিক


যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর বিল দিচ্ছে পুরো বিশ্ব: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১৯:৪৬:৩৫
যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর বিল দিচ্ছে পুরো বিশ্ব: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যুদ্ধ শুরু করে এখন সেই যুদ্ধের খরচের ‘বিল’ পুরো বিশ্বের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা।

বাঘায়ি উল্লেখ করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর আগপর্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ ছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে বেআইনি ও বর্বর যুদ্ধ শুরু করার ফলেই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাবে তেলের ট্যাংকার আটকে গেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইরানি মুখপাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও সংকটের সম্পূর্ণ দায় ইরানের ওপর চাপাতে চাইছে। ওয়াশিংটন যুদ্ধকে এমন একটি বয়ানে হাজির করছে যেন চলমান পরিস্থিতি তেহরানের পদক্ষেপেরই ফল। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ শুরু করেছে ওয়াশিংটন, অথচ সেই সংঘাতের যাবতীয় আর্থিক ও কৌশলগত খেসারত দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বিশ্ববাসীকে।

সূত্র : ইরনা


ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রিতে খামেনির নাম যেভাবে সামনে এল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১৮:৩৯:১৭
ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রিতে খামেনির নাম যেভাবে সামনে এল
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কেনসিংটন এলাকায় ইসরায়েলি দূতাবাসের মাত্র ৫০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সংশ্লিষ্ট দুটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডের সম্মিলিত ক্রয়মূল্যের এই সম্পত্তি দুটি বন্ধকী ঋণের কিস্তি খেলাপি হওয়ায় ব্রিটিশ সরকারের অনুমোদনে রিসিভারশিপের আওতায় নিলামে তোলা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সানডে টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, কেনসিংটনের প্যালেস গ্রিনের ৩-এ নম্বর ভবনের নিবন্ধিত মালিক ইরানি ব্যাংকার আলি আনসারি, যাঁকে মোজতবা খামেনির গোপন আন্তর্জাতিক সম্পদ নেটওয়ার্কের মূল অর্থদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ।

বিক্রির তালিকায় ওঠা পাঁচ বেডরুমবিশিষ্ট ৩ হাজার ৯৪৪ বর্গফুটের একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের বর্তমান দর চাওয়া হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের কিছু কম, যা ২০১৬ সালে আনসারি ১ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ডে কিনেছিলেন। অন্য অ্যাপার্টমেন্টটি এখনো প্রকাশ্যে তালিকায় না আসলেও দুটি ফ্ল্যাটের অবস্থান নিয়েই মূল কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

প্রিন্স অব ওয়েলসের সরকারি বাসভবনের কাছাকাছি এবং ইসরায়েলি দূতাবাসের পেছনের অংশের ঠিক মুখোমুখি হওয়ায় তাত্ত্বিকভাবে এই ফ্ল্যাটগুলো থেকে নজরদারি বা তথ্য সংগ্রহের ঝুঁকি ছিল বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন; যদিও এমন ব্যবহারের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া আনসারির আইনজীবী অবশ্য খামেনি বা আইআরজিসির সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক যোগাযোগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঋণদাতা ও সংশ্লিষ্ট বকেয়া পরিশোধের পর বিক্রির অবশিষ্ট অর্থ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত জব্দ থাকবে বলে জানা গেছে।

সূত্র : দ্য সানডে টাইমস


৩ ইরানি ট্যাংকারে আঘাতের পর মার্কিন ড্রোন জাহাজে হামলার দাবি তেহরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ২১:১১:৪৪
৩ ইরানি ট্যাংকারে আঘাতের পর মার্কিন ড্রোন জাহাজে হামলার দাবি তেহরানের
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করা একটি মার্কিন ড্রোন জাহাজে (চালকবিহীন জাহাজ) হামলার দাবি করেছে ইরান। তবে ইরানের এই দাবিকে পুরোপুরি ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এর মাত্র এক দিন আগেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার জবাবে তিনটি ইরানি তেলের ট্যাংকারে আঘাত হেনেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত জুনে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছালেও আলোচনা থমকে যাওয়ায় তা টেকসই হয়নি। এক মাস কিছুটা শান্ত থাকার পর সম্প্রতি সংঘাত আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে; সপ্তাহের শুরুতেই দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরানের অর্থ লেনদেনকারী আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও চাপ জোরদার করেছে।

বিপরীতে ইরানের নেতৃত্বও নতি স্বীকার না করে ‘ডার্ক ফ্লিট’ বা গোপন নৌবহরের মাধ্যমে তেল বিক্রি সচল রেখে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার চেষ্টা করছে। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলো (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি) যখন দেশটিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব খাটিয়েই কৌশলগত চাপ তৈরি করে চলেছে তেহরান।

/আশিক


আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি: আই২৪ নিউজে নেতানিয়াহুর দম্ভোক্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ২০:৫৪:২৩
আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি: আই২৪ নিউজে নেতানিয়াহুর দম্ভোক্তি
ছবি : সংগৃহীত

গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কাতারে সরাসরি বিমান ও বোমা হামলা চালানোর কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘আই২৪ নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত দম্ভভরে বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমা হামলাও চালিয়েছি। যুদ্ধের সময় তাদের ওপর হামলা করেছি। আর তারাও আমার ওপর হামলা করেছে।’ শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাক্ষাৎকারটির ভিডিও প্রকাশ করে কাতারকে একটি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র হিসেবেও আখ্যা দেন তিনি। নেতানিয়াহু দাবি করেন, যুদ্ধ চলাকালে তেল আবিবের নীতি ও সিদ্ধান্তে কাতার কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে বৈঠকে বসা হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। ওই হামলায় হামাসের পাঁচ নেতাসহ কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামলার প্রথম বার্ষিকীর মাত্র কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহুর এই স্বীকারোক্তিমূলক সাক্ষাৎকার প্রকাশ নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকট সমাধানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে কাতার; এমনকি ২০১২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই দেশটিতে হামাসের রাজনৈতিক দপ্তর পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে দোহার দাবি। গত বছর পরিচালিত ইসরায়েলি হামলাকে কাতারের পক্ষ থেকে ‘কাপুরুষোচিত’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ ইরান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো দেশগুলোও তখন কাতারের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের কঠোর নিন্দা জানিয়েছিল।

সূত্র: আলজাজিরা


চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বিপর্যয়: গিরং বন্দরে চলছে জটিল উদ্ধার তৎপরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ১৯:৩৮:০১
চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বিপর্যয়: গিরং বন্দরে চলছে জটিল উদ্ধার তৎপরতা
ছবি : সংগৃহীত

হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় চীন ও নেপাল সীমান্তের গিরং স্থলবন্দর কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দুর্যোগের পর রোববার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মীদের তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্ত এলাকাটি পরিদর্শনের অনুমতি দেয় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যস্ত এই বন্দরের প্রধান পাঁচতলা কাস্টমস ভবনটি পানির তোড়ে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে; পূর্বের বহু স্থাপনার মধ্যে কেবল একটি পানির ট্যাংকের ধ্বংসাবশেষ অবশিষ্ট রয়েছে। একসময়কার ২০ মিটার উঁচু প্রবেশদ্বারে এখন চীনের জাতীয় পতাকা টানিয়ে রাখা হয়েছে এবং চারপাশে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে উদ্ধারকর্মীরা ভারী খননযন্ত্র ও বেলচা নিয়ে নিখোঁজদের অনুসন্ধানে কাজ চালাচ্ছেন।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত গিরং স্থলবন্দর এলাকায় কাদামাটির পুরু স্তর, নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে তল্লাশি অভিযান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাটিতে প্রবেশের একমাত্র স্থলপথটি সম্প্রতি চালু হওয়ার পর অস্থায়ী খুঁটি দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর চেষ্টা চলছে। চীনা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটিকে সাতটি জোনে ভাগ করে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে, যার মধ্যে চারটি অংশের কাজ শেষ হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট সংঘটিত এই প্রলয়ংকরী বন্যায় চীন ও নেপাল মিলিয়ে প্রাণহানি ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৫ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে তিব্বত অংশে ৩১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিখোঁজ ৫৩১ জনের মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

তিব্বত ও নেপালের মধ্যকার এই সীমান্ত পথটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছাড়াও হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কৈলাস পর্বত তীর্থযাত্রার প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তিব্বত অংশে নিখোঁজ বিদেশিদের একটি বড় অংশই ছিলেন ভারতীয় হিন্দু তীর্থযাত্রী। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৯ জন ভারতীয়ের শনাক্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে, যাদের সন্ধানে পরিবারগুলো উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশের প্রাক্কালে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর)... বিস্তারিত