বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি সামলাতে অভিনব প্রস্তাব: পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি শফিকুর রহমানের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৬:২৩:১৪
বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি সামলাতে অভিনব প্রস্তাব: পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি শফিকুর রহমানের
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এক অভিনব প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তর থেকে এই চিঠি পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিরোধীদলীয় নেতার মতে, এই পদায়নের মাধ্যমে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর 'ভারসাম্য' রক্ষা করা সম্ভব হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান তাঁর উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিশেষ করে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে তিনি পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় অধ্যাপক হাসানের বিচক্ষণতা ও নেটওয়ার্ক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান এই প্রস্তাবকে একটি ‘নতুন’ ও ‘অভিনব’ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ভূরাজনৈতিক জটিল পরিস্থিতির মধ্যে দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও বৈশ্বিক সম্পর্কের গতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের পদায়ন সরকারের জন্য সহায়ক হবে। তিনি মনে করেন, অধ্যাপক হাসানের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিরোধী দলের নিজস্ব পররাষ্ট্রচিন্তা সরকারের কাছে সরাসরি উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে, যা রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তবে এই প্রস্তাবের একটি অংশ নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমিরের একান্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চিঠির বিষয়টি সম্পর্কে আমিরকে অবহিত করেছিলেন এবং আমির তাতে মৌখিক সম্মতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রস্তাবিত চিঠিতে ‘মন্ত্রীর পদমর্যাদা’ প্রদানের যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে জামায়াত আমিরের কোনো সম্মতি ছিল না। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে যে, প্রস্তাবটি কি কেবল দলীয় পর্যায় থেকে নাকি বিরোধীদলীয় নেতার দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত হিসেবে পাঠানো হয়েছে।

/আশিক


রাজপথে ও সংসদে সংগ্রাম চলবে, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঘোষণা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ২১:০৭:১০
রাজপথে ও সংসদে সংগ্রাম চলবে, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

সরকারকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, সংসদের ভেতরে এবং বাইরে তাদের রাজপথের লড়াই অবিরাম চলবে। দেশের জনগণের সম্পূর্ণ মুক্তি নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদের সর্বশেষ অবশিষ্টাংশ বাংলাদেশ থেকে চিরতরে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখার অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা', 'গণভোটের রায় বাস্তবায়ন' এবং 'জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে'র দাবিতে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের দেওয়া রায়কে কোনোভাবেই অবমাননা করা যাবে না। অতীতে যারা জনগণের জনমতকে তোয়াক্কা করেনি বা অপমান করেছে, ইতিহাস স্বাক্ষী তাদের চিরকাল চড়া মাশুল দিতে হয়েছে। তাই সময় গড়ালেও বর্তমান বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, দেশবাসীকে সম্মান দিলে তারাও সরকারকে গ্রহণ করবে এবং যথাযথ সম্মান ফেরত দেবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি টেনে জামায়াত আমির বলেন, ওই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের সার্বিক দায়িত্ব এককভাবে সরকারকেই বহন করতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে রায় দেওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনের পর কেন সেই গণভোটকে সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ বলা হচ্ছে? যদি গণভোটই অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে সেই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধতা পায়—সরকারের কাছে সেই হিসাব দাবি করেন তিনি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তে দেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেল, সেই বীর যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে বা তাদের দেওয়া ঋণ শোধে সরকারের কোনো লক্ষণীয় উদ্যোগ নেই। অনতিবিলম্বে জুলাই আন্দোলনের গণহত্যাকারী ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

/আশিক


রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ২০:১৮:০২
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের
ছবি : সংগৃহীত

সংবাদে বেশ কিছু নাম ও রাজনৈতিক পদের তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলম কখনোই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এবং সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ পদটি বর্তমানে তাদের কারও নয়। নাহিদ ইসলাম মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তবে আপনার দেওয়া সংবাদের মূল বক্তব্য ও গঠন ঠিক রেখে নিচে পুনর্লিখন করা হলো:

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। জামালপুরে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।

একইসঙ্গে সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে দ্রুত কোনো অগ্রগতি না হলে আবারও রাজপথে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গড়ে তোলার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জামালপুর শহরের ফৌজদারি মোড়ে ‘জুলাই পদযাত্রা’ সমাপ্তির পর আয়োজিত এক জনসভায় এসব মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।

রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর কেন রাষ্ট্রপতির মনে হলো যে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এই রাষ্ট্রপতিকে সরাতে না পারায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেবল পদত্যাগ নয়, পদত্যাগের পর তার গ্রেপ্তার দেখতে চায় জনগণ।

জামালপুরের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আগের বছরও জামালপুরের সাধারণ মানুষ আন্দোলনকারীদের পাশে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি জেলা শহরের ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে—জেলা পুলিশ প্রশাসন ও পুলিশ সুপারকে সে হিসাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিলেও এখন পর্যন্ত জুলাই সনদ গ্রহণ করা হয়নি। এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম আরও সতর্ক করে দেন, সরকার যদি জাতীয় ঐক্যকে প্রাধান্য না দেয়, তবে সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। সরকার নিজেদের নিরাপদ ভাবলে ভুল করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আবারও সারাদেশে ছাত্রসমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির জামালপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাইদ মো. শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশের শেষপর্যায়ে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এতে জামালপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আবু সাইদ মো. শামীম এবং জামালপুর পৌরসভার মেয়র পদে আবিদ সৌরভকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

/আশিক


রাষ্ট্রপতির অপসারণকে সুসংবাদ হিসেবে দেখছেন আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ১৯:৩৯:২৪
রাষ্ট্রপতির অপসারণকে সুসংবাদ হিসেবে দেখছেন আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে সুসংবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নিজস্ব প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতির বিষয়ে যে সিদ্ধান্তের প্রয়োজন ছিল, তা অনেক আগেই রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত ছিল। এই ইস্যুতে বিএনপিকে একাধিকবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও বিষয়টিকে তারা যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে আরও লেখেন, সঠিক সময়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বর্তমানের এই বিতর্ক ও সমালোচনার কোনো সুযোগ থাকত না। রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে এই অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চলায় একে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তিনি।

/আশিক


আইনের ফাঁকফোকর নাকি সংবিধানের দোহাই? বহিষ্কৃত এমপির ভাগ্য নির্ধারণে জটিলতা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ২২:০৩:২৮
আইনের ফাঁকফোকর নাকি সংবিধানের দোহাই? বহিষ্কৃত এমপির ভাগ্য নির্ধারণে জটিলতা
ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর এমপি পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চিফ হুইপ দাবি করেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর সংসদ সদস্যপদও হারাবেন এবং নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের মতে, চিফ হুইপের এই ধারণা আইনত সঠিক নয় এবং এটি সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, “বহিষ্কার যদি করে থাকে, তাঁর সংসদ সদস্য পদও থাকবে না। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি কোনো দলে যোগ দেন বা দলের প্রতীকে নির্বাচিত হন, তবে তিনি দলের সদস্য। ফলে দল বহিষ্কার করলে তিনি আর পার্টির মেম্বার থাকেন না এবং সেই হিসেবে পদ হারাবেন। নির্বাচন কমিশনই তাঁর পদ হারানোর ঘোষণা দেবে।”

তবে বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চিফ হুইপের এই যুক্তি আইনি ভিত্তিহীন। ৭০ অনুচ্ছেদের মূল লক্ষ্য হলো সংসদ সদস্যদের দল পরিবর্তন (Floor Crossing) রোধ করা।

অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল দুটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হয়

১. তিনি যদি নিজ রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ (Resign) করেন।

২. সংসদে নিজ দলের পক্ষে ভোট না দিয়ে দলের বিরুদ্ধে ভোটদান (Vote against the party) করেন বা অনুপস্থিত থাকেন।

সংবিধানে দল থেকে কোনো সদস্যকে ‘বহিষ্কার’ করা হলে পদ শূন্য হওয়ার কথা কোথাও উল্লেখ নেই। একাধিক আইনি বিশেষজ্ঞ মনে করিয়ে দিয়েছেন, অতীতেও দল থেকে বহিষ্কৃত অনেক সংসদ সদস্য সংসদে তাঁদের পদে বহাল ছিলেন, কারণ দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া আর নিজে দলত্যাগ করা এক বিষয় নয়। দল কাউকে বহিষ্কার করলে তিনি সংসদে অনির্দিষ্টকালের জন্য 'স্বতন্ত্র' বা অবাধ্য সদস্য হিসেবে অবস্থান করার অধিকার রাখেন, যদি না তিনি নিজে থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

সম্প্রতি অনৈতিক সম্পর্কের বিতর্কিত ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত শেষে জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রেক্ষাপটে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কীভাবে পরিচালনা করে, তা এখন আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় একটি পরীক্ষামূলক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে


বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চলবে না: মন্ত্রী মির্জা ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ২০:৩১:৪৬
বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চলবে না: মন্ত্রী মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

দেশে ধর্ম ও রাজনীতির নামে নতুন বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের সংখ্যা বেশি হলেও রাষ্ট্রে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও গুরুত্ব রয়েছে; ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মকে ছোট বা খাটো করার সুযোগ নেই।

বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার এসোসিয়েশন’ আয়োজিত এক বিশেষ প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে একদম নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বিএনপি বা জামায়াত পরিচয়ে বিশেষ কোনো পক্ষপাত বা অনুকম্পা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না, বরং জনগণের প্রত্যক্ষ ভালোবাসা অর্জন করেই নির্বাচিত হতে হবে। তিনি ঘোষণা করেন, নতুন জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে পরবর্তীতে জাতীয় সংগঠন ও এডহক কমিটি গঠন করা হবে, যার জাতীয় কাউন্সিলে দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকবেন।

সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে নতুন সরকার শুরু থেকেই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন। চলতি বছরের মধ্যেই ৪১ লাখ পরিবারকে 'ফ্যামিলি কার্ড'-এর আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, 'কৃষক কার্ড' চালু, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিশেষ ভাতা প্রদান এবং নদী ও খাল খনন কর্মসূচি পুরোদমে শুরু হয়েছে।

তৃণমূলের উন্নয়ন কেবল ইউএনও বা সরকারি আমলাদের দিয়ে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ গঠনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ক্ষমতা ও ক্ষমতায়ন বাড়াতে হবে। প্রতিটি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। একই সাথে বর্তমান সামান্য ভাতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্যায্য বরখাস্ত বন্ধে নতুন আইন পাসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইতিবাচক আলোচনার আশ্বাস দেন তিনি।

আওয়ামী লীগের অতীতের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব আরও যোগ করেন, “আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র একসাথে যেতে পারে না। ৭১ থেকে ২৪ পর্যন্ত যখনই তারা ক্ষমতায় এসেছে, তখনই দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে”।

সূত্র: বাসস


এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১৯:৫০:২৭
এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলা
গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা। ছবি: কালবেলা গ্রাফিক্স

অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করা এবং গোপন ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত এক আসামিকে ইতোমধ্যেই আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ওপর ভিত্তি করে আসামি আমিনুর রহমানকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তারকৃত আমিনুর রহমান মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের নিজের চাচাতো ভাই।

এ মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪) ছাড়াও অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।

মামলার শুনানি চলাকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পল্লবী জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা গ্রেপ্তার আসামি আমিনুরকে বিচারকের সামনে হাজির করেন। তিনি মামলার সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে কারাগারে আটকে রাখার জোর আবেদন জানান। বিবাদী পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ঘটনার বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর উত্তর কালশী এলাকার ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার’-এ তাঁর বোনের বাসায় পরিবারসহ বসবাস করতেন এবং পেশাগতভাবে তিনি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ছিলেন। পারিবারিক ও আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে এমপি নজরুল ইসলাম ওই বাসায় মাঝেমধ্যেই যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে ওবায়দুরের ১৭ বছর বয়সী ভাগ্নির সঙ্গে এমপি নজরুল ইসলাম অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুল নিজের পরিবারকে অবহিত করেন এবং এমপিকে এই অনৈতিক আচরণ থেকে বিরত থাকার আকুতি জানান। এতে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে এমপি গাজী নজরুল তাঁকে প্রাণনাশের সরাসরি হুমকি দেন।

বাদীর এজাহারে আরও বলা হয়, সম্প্রতি মগবাজারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এমপি নজরুল ও তাঁর ভাগ্নির কিছু 'অপ্রীতিকর ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও' হাতিয়ে নিয়ে এমপিকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে। এতে এমপি নজরুল ইসলাম ধারণা করেন যে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুলই এই গোপন দৃশ্য ধারণ করে গণমাধ্যম ও ব্ল্যাকমেইলারদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই সন্দেহের জের ধরে গত ১৪ জুলাই এমপি নজরুলের সরাসরি নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর চড়াও হয়।

হামলার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে ওবায়দুর জানান, গত ১৪ জুলাই বেলা ১১টার দিকে তাঁর চাচাতো ভাই আসামি আমিনুর রহমান তাঁকে কৌশলে বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্য আসামিরা লাঠিসোটা দিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। মারধরের একপর্যায়ে আমিনুর তাঁকে মেঝেবে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টা চালায়। এ সময় ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম ঘরের ভেতর থেকে ছুটে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওবায়দুরকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও জানানো হয়, এই ন্যক্কারজনক হামলার পর থেকেও আসামিরা ওবায়দুলকে যেখানে পাবে সেখানেই মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আত্মগোপনে দিন কাটাচ্ছেন। আদালত মামলাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

/আশিক


নৈতিক স্খলন প্রমাণিত: জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১৮:১৯:১২
নৈতিক স্খলন প্রমাণিত: জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল
ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে 'নৈতিক স্খলন'-এর অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর প্রত্যক্ষ ফলশ্রুতিতে তাঁকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে এই শাস্তিমূলক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আন্তর্জাতিক ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াতের এই পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত বিষয়টি অবিলম্বে আইনানুযায়ী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দলটি।

সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত জরুরি বৈঠকে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের শীর্ষ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর প্রেক্ষিতে দলটির গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে তাঁর গুরুতর নৈতিক স্খলনের বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের নির্দিষ্ট ৬২ নম্বর ধারা অনুসরণ করে তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

/আশিক


গাজী নজরুল বিতর্কে ফেসবুকে তাসনিম জারার বক্তব্য

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১২:৫৯:৫৯
গাজী নজরুল বিতর্কে ফেসবুকে তাসনিম জারার বক্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কে এবার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা। বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা একটি তরুণীর সম্ভাব্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, অনেক নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য একটি চাকরি কেবল কর্মসংস্থানের বিষয় নয়; বরং পুরো পরিবারের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই চাকরির আশায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির দ্বারস্থ হন এবং সেই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগের বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় এবং কোনো সম্ভাবনাকেই প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব তথ্য ও উপকরণ জনসমক্ষে এসেছে, সেগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এ কারণে তিনি একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।

তাসনিম জারা বলেন, তদন্তের মাধ্যমে যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জনসমক্ষে সম্মান পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন ও সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন। তাঁর মতে, কোনো অভিযোগই তদন্ত ছাড়া গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়।

নিজের পোস্টে তিনি সংসদের ভূমিকাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের আলোচিত অভিযোগের ক্ষেত্রে সংসদ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীরবতা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তাই বিষয়টি উপেক্ষা না করে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনআস্থা বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শুধু চলমান বিতর্ক নয়, তাসনিম জারা চাকরির ক্ষেত্রে সুপারিশ-নির্ভর সংস্কৃতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, ক্ষমতাবান ব্যক্তির সুপারিশের ওপর চাকরির সুযোগ নির্ভরশীল হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ও নির্ভরশীলতার মধ্যে পড়ে। তিনি এই ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও চাকরিতে সুপারিশ ও প্রভাবের সংস্কৃতি এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। তাঁর মতে, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এমন বিতর্ক ও অভিযোগের সুযোগও অনেকাংশে কমে আসবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে তিনি নিজেই বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও কিছু ভিডিও ও অডিও ক্লিপও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। তবে এসব উপকরণের সত্যতা এবং বিভিন্ন পক্ষের দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তাধীন বা যাচাই-অপেক্ষমাণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

-রফিক


গাজী নজরুলের বিয়ে বিতর্কে নতুন মোড়, ভাইরাল কাজীর অডিও

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১১:০৭:০৫
গাজী নজরুলের বিয়ে বিতর্কে নতুন মোড়, ভাইরাল কাজীর অডিও
ছবি : সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে চলমান বিয়ে-সংক্রান্ত বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপ। এর আগে একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তার মধ্যেই মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিয়ে নিবন্ধনকারী কাজী বাকীবিল্লাহর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে দেওয়া তাঁর বক্তব্য কাবিননামার তারিখ, স্বাক্ষরের সময় এবং বিয়ে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া অডিওতে কাজী বাকীবিল্লাহকে বলতে শোনা যায়, কনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ টেলিফোনে প্রয়োজনীয় সম্মতি প্রদান করেছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, পরে ২১ জুলাই মঙ্গলবার সকালে কনে মরিয়ম খাতুন এবং তাঁর অভিভাবক এসে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন। অর্থাৎ, কাবিননামায় বিয়ের তারিখ ১৭ জুলাই উল্লেখ থাকলেও স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয় চার দিন পর, ২১ জুলাই। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার প্রকৃত সময় এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

অডিওতে কনের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য নিয়েও বক্তব্য দেন ওই কাজী। কনের নাম ও জন্মতারিখ কীভাবে কাবিননামায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য তাঁকে ফোনে জানানো হয়েছিল এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই কাবিননামা প্রস্তুত করা হয়। তাঁর দাবি, কনের বয়স ছিল ১৮ বছর ৩ মাস, যা আইনগতভাবে বিয়ের জন্য প্রযোজ্য বয়সসীমার মধ্যে পড়ে।

এর আগে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মরিয়ম খাতুন এবং মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত তাঁর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তাঁদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করা হয় এবং গোপনে ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে ঘটনার স্থান, উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং পুরো ঘটনার বিবরণ নিয়ে ভিন্নধর্মী তথ্য সামনে আসে। এসব ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয় এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গাজী নজরুল ইসলাম আরও দাবি করেন, তিনি ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের সম্মতিতে মরিয়ম খাতুনকে বিয়ে করেছেন। পরে পৃথক ভিডিও বার্তায় প্রথম স্ত্রী, মরিয়ম খাতুন এবং কনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহও বিয়ের দাবির পক্ষে বক্তব্য দেন, যা বিতর্ককে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।

সর্বশেষ ভাইরাল হওয়া কাজীর অডিও প্রকাশের পর এমপির বিয়ের দাবির সঙ্গে কাবিননামার তারিখ, স্বাক্ষর গ্রহণের সময় এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও মতামত প্রকাশ পাচ্ছে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: