নারীপ্রধান পরিবারে খুশির জোয়ার: ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের নিম্নবিত্ত ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল সরকারের বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বনানীস্থ কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে উপকারভোগীরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি তাদের নিজস্ব মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই ভাতার অর্থ বুঝে নিতে পারবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই কর্মসূচিটি দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। প্রকল্পটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিবিড়ভাবে পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে জেলা, উপজেলা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে হতদরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
চূড়ান্ত তালিকায় উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। বিশেষ করে ‘ডাবল ডিপিং’ বা একই ব্যক্তির একাধিক সরকারি সুবিধা গ্রহণ রোধ করতে কড়া নজরদারি চালানো হয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এখানে কেবল ‘নারী প্রধান’ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান যে, সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের ফলে অর্থ লোপাট বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দুস্থরাই সরাসরি সুফল পাবেন। কড়াইল বস্তির মতো জনবহুল এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। সরকার আশা করছে, এই পরীক্ষামূলক পর্যায়ের সফল সমাপ্তির পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল যোগ্য দরিদ্র পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।
/আশিক
৩৭ হাজার পরিবারে পৌঁছাচ্ছে বিশেষ ভাতা: উদ্বোধন আজ সকালে
দেশের প্রান্তিক ও দুস্থ নারীদের স্বাবলম্বী করতে এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীস্থ কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিশেষ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করবেন। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন, যা সরাসরি উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে দ্বৈত ভাতা গ্রহণকারী ও সরকারি চাকরিজীবীদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি কার্ডে আধুনিক কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং একটি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে অতিরিক্ত কার্ড দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার ৬৬ শতাংশেরও বেশি সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে। তবে কোনো পরিবারের সদস্য যদি সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত হন অথবা নারী প্রধান নিজে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী হন, তবে তারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না। সরকার ভবিষ্যতে এই নগদ সহায়তার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য প্রদানের পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে।
এদিকে, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, সুবিধাভোগী নির্বাচনে কোনো ধরনের দলীয়করণ বা পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। তিনি জানান, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে দেশের অর্থনীতির সুফল প্রকৃত দরিদ্র মানুষের ঘরে পৌঁছানো যায়। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল নারীপ্রধান পরিবারকে এই সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
/আশিক
জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়াতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি শুরু
দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারতের আসাম রাজ্যে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ এই আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল পাঠানোর জন্য ইতোমধ্যে পাম্পিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ডিজেল বাংলাদেশে আসবে এবং মঙ্গলবারের মধ্যেই তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটাতে এবং আকস্মিক কোনো সংকট এড়াতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে এই উদ্যোগ দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এর আগে গত রবিবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাথে এক বৈঠকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেই বৈঠকে বিদ্যমান বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন ব্যবহার করে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ভারতের কাছে পেশ করা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
/আশিক
দেশের প্রধান সব তেল ডিপোর সুরক্ষায় নামছে সেনাবাহিনী
দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে সৃষ্ট অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরিভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এক জরুরি বার্তার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। মূলত ডিলারদের আকস্মিক অতিরিক্ত চাহিদা এবং ডিপোগুলোতে তেল পাওয়ার অনিশ্চয়তা থেকে তৈরি হওয়া উত্তেজনা প্রশমনেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনাগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় অবস্থিত প্রধান স্থাপনা ছাড়াও খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব স্থাপনা রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা 'কেপিআই' (Key Point Installation) ভুক্ত হওয়ায় এগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।
প্রেরিত বার্তায় জানানো হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপণন কোম্পানিগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং স্থাপনার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে যেন আতঙ্ক না ছড়ায় এবং জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ শৃঙ্খল যেন কোনো অসাধু চক্রের কারণে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকেও কড়া নজরদারি রাখা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
/আশিক
টাকা না কি খাদ্যপণ্য? ফ্যামিলি কার্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে দেশের প্রথম 'ফ্যামিলি কার্ড' বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হবে। আজ সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এই যুগান্তকারী প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এই কার্ড প্রবর্তন করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধাগুলো প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে 'প্রক্সি মিনস টেস্ট' (PMT) পদ্ধতিতে সম্পন্ন করায় এখানে দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি স্মার্ট কার্ডে আধুনিক কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী।
পাইলট পর্যায়ে প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা পাবে। তবে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, পরবর্তীতে নগদ টাকার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত কোনো নারী যদি আগে থেকেই অন্য কোনো সরকারি ভাতা পেয়ে থাকেন, তবে নতুন কার্ডের অন্তর্ভুক্তিতে সেই পুরনো সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের বিদ্যমান ভাতা গ্রহণ চালিয়ে যেতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মচারী, পেনশনভোগী বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না। এই পাইলট প্রকল্পের জন্য জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ (২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা) সরাসরি সাধারণ মানুষের নগদ সহায়তায় ব্যয় হবে এবং বাকি অংশ তথ্য সংগ্রহ ও সিস্টেম উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে। বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগকে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
/আশিক
হাদির খুনিদের ফেরত দিতে ভারতকে বলা হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সীমান্তে নিহত হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভারতকে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশে বিরাজমান ‘মব কালচার’ নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশে মব কালচারকে কখনো আর এগোতে দেবো না। এটি চিরতরে বন্ধ করতে হবে এবং ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ থেকে এটি বিলুপ্ত হবে।” জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধীকে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে দেওয়া হবে না। অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও প্রতিশ্রুতি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কক্সবাজারের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও পর্যটন নিয়ে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, একটি শক্তিশালী ‘বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে পূর্ণ শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শহর ব্যবস্থাপনায় পুরো কক্সবাজার শহরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি যানজট নিরসনে শহরে টমটম চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উখিয়া-টেকনাফ রুটে মাদক পাচার সম্পূর্ণ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে বলেও তিনি জানান।
/আশিক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজা চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
বাংলাদেশের রপ্তানি খাত ও শিল্প বিনিয়োগের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।
সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) সকালে রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোর বর্তমান কার্যক্রম, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল এবং শিল্পায়ন সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোর অবদান এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেপজার ভূমিকার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীকে বেপজার চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, নতুন শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা, শিল্প অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকে বেপজার অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোর ভূমিকা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্পাঞ্চল পরিচালনা করে আসছে, যেখানে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শিল্প স্থাপন করে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই শিল্পাঞ্চলগুলো দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পায়নের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
-শরিফুল
হাদি হত্যার আসামিদের দেশে আনতে পরিকল্পনার কথা জানালেন আইজিপি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। সোমবার (৯ মার্চ) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে উগ্রপন্থিদের পুনরুত্থান ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মহাসড়কগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদযাত্রার সময় ছিনতাই, ডাকাতি বা চাঁদাবাজির মতো অপরাধ যেন না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।
বেতন-ভাতা নিয়ে পোশাকশিল্প খাতে সম্ভাব্য শ্রমিক অসন্তোষের প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইজিপি। তিনি জানান, এ বিষয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পেছনে কিছু সদস্য দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না। সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়েই পুলিশ বাহিনী পরিচালিত হবে।
আইজিপি আরও জানান, অপরাধ তদন্তকে আরও কার্যকর করতে সিআইডিকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি থানাগুলোকে “জিরো কমপ্লেইন” ব্যবস্থায় রূপান্তর এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে থানায় ম্যাজিস্ট্রেসি সিস্টেম চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালানোর সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
-রফিক
মক্কা-মদিনায় আটকা ৩৫০০ বাংলাদেশি: যুদ্ধের কবলে ওমরাহ যাত্রীদের কান্না
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সাড়ে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট বাতিল করায় মক্কা ও মদিনায় আটকে পড়া এই মুতামিররা এখন অর্থ ও আবাসন সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকের হাতে খাবার ও হোটেলের খরচ দেওয়ার মতো টাকা নেই, আবার দেশে ফিরতে নতুন টিকিটের জন্য ট্রাভেল এজেন্সিগুলো অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা দাবি করছে।
মক্কার বাংলাদেশ হজ মিশন সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধের কারণে এয়ার অ্যারাবিয়া ও এমিরেটসের মতো প্রধান এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক দিনে সহস্রাধিক ওমরাহ যাত্রীর টিকিট বাতিল হয়েছে। রাজশাহীর মো. আজাদ ও মুন্সীগঞ্জের রিয়াজুল হায়দারের মতো শত শত মুতামির প্রতিদিন হজ মিশনে ভিড় করছেন সাহায্যের আশায়। অনেক ট্রাভেল এজেন্সি প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ার অজুহাতে থাকা-খাওয়ার দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করায় যাত্রীদের নিজ খরচে হোটেলে থাকতে হচ্ছে, যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে দরিদ্র মুতামিররা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
মক্কার বাংলাদেশ হজ মিশনের প্রধান কনসাল কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে পাঠাতে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও খরচ মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়েছে। জেদ্দা থেকে যাত্রী নিতে গেলে খালি বিমান পাঠানোর কারণে টিকিটের দাম ১ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেত। ফলে বর্তমানে যেসব নিয়মিত ফ্লাইট চালু আছে, সেগুলোতে ৫০-৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে নতুন টিকিট কেটে যাত্রীদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরতে হচ্ছে। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ভারতের ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সে কলকাতা হয়ে ট্রানজিট নিয়ে দেশে ফিরছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সাড়ে তিন হাজার যাত্রীকে নতুন করে টিকিট কাটতে অন্তত ১৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে। এ অবস্থায় ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর অসহযোগিতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। হজ মিশন থেকে এজেন্সি মালিকদের ভর্তুকি দিয়ে হলেও অসহায় যাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির দীর্ঘসূত্রিতা ও আকাশপথের অস্থিরতা ওমরাহ যাত্রীদের ওপর এই বাড়তি আর্থিক ও মানসিক দুর্ভোগের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।
/আশিক
ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় সেবকদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু, পাবেন যত টাকা
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের মাসিক সম্মানী প্রদান শুরু করা হবে।
এই কর্মসূচির আওতায় শুধু মুসলিম ধর্মীয় নেতারাই নন, অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। প্রথম পর্যায়ে ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩৯৬টি গির্জার পুরোহিত, অধ্যক্ষ ও যাজকদেরও এই সম্মানী দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
রোববার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সভা শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। সভায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচি প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও আগামী চার অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সারা দেশের সব মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার এবং গির্জাকে এর আওতায় আনা হবে।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, মাসিক সম্মানীর পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ভাতাও দেওয়া হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে এক হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব যেমন দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা এবং বড়দিন উপলক্ষে দুই হাজার টাকা করে বিশেষ ভাতা প্রদান করা হবে।
চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ মার্চের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে উপকারভোগীদের কাছে সম্মানীর অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।
এছাড়া এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামী ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করবেন বলে জানা গেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হলে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
সম্মানীর কাঠামো অনুযায়ী মসজিদের ইমামরা মাসে পাঁচ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনরা তিন হাজার টাকা এবং খাদেমরা দুই হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
একইভাবে মন্দিরের পুরোহিতরা পাঁচ হাজার টাকা এবং সেবায়েতরা তিন হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন।
বৌদ্ধবিহারের ক্ষেত্রে অধ্যক্ষরা পাঁচ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষরা তিন হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। অন্যদিকে গির্জার যাজকরা পাঁচ হাজার এবং সহকারী যাজকরা তিন হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সেবায় তাদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা।
-শরিফুল
পাঠকের মতামত:
- নারীপ্রধান পরিবারে খুশির জোয়ার: ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় আঘাত: তেলের সংকটে স্থবির হচ্ছে দেশ
- ২৪ ঘণ্টায় ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত
- এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেব না; আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি
- জ্বালানি রেশনিংয়ে স্থবির রাজধানী: গণপরিবহন সংকটে যাত্রী ভোগান্তি
- একের পর এক বিস্ফোরণে কাঁপছে তেহরান: নিহতের সংখ্যা বাড়ছে
- ইসরায়েলের ড্রোন ও সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু হামলা
- ইন্টারনেট ছাড়াই পাঠানো যাবে মেসেজ: আসছে জ্যাক ডরসির ‘বিটচ্যাট’
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আকাশচুম্বী দামের পর এবার কমছে স্বর্ণের ভরি: নতুন দর জানাল বাজুস
- যুদ্ধবিরতির আলোচনায় চীন ও রাশিয়া: তেহরানের পাশে তিন শক্তি
- ৩৭ হাজার পরিবারে পৌঁছাচ্ছে বিশেষ ভাতা: উদ্বোধন আজ সকালে
- রমজানের ২০তম দিনে নামাজের ওয়াক্ত ও ইফতারের সময়
- জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়াতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি শুরু
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেই গড়ব নতুন বাংলাদেশ: খুলনার ইফতারে শপথ এনসিপির
- দেশের প্রধান সব তেল ডিপোর সুরক্ষায় নামছে সেনাবাহিনী
- আমার অনুমোদন ছাড়া ইরানের কোনো সর্বোচ্চ নেতা টিকবেন না: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- মহাকাশে দানবীয় ডিম? নাসার হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়ল রহস্যময় নীহারিকা
- হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কোলেস্টেরল বশে রাখুন: বিশেষজ্ঞ টিপস
- টানা তিন হারে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ নারী দল: বাটলারে বিদায় ঘণ্টা?
- তুরস্ক লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা
- টাকা না কি খাদ্যপণ্য? ফ্যামিলি কার্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
- হাদির খুনিদের ফেরত দিতে ভারতকে বলা হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গঠিত ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রথম প্রসিকিউটরের বিদায়
- দেবিদ্বারে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপিত: যথাযোগ্য মর্যাদায় আলোচনা সভা
- কুরআনে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব, ফজিলত ও করণীয়
- ইরানের নতুন অধ্যায়ে রাশিয়ার সমর্থন; মোজতবা খামেনিকে পুতিনের বিশেষ বার্তা
- চান্দিনায় ৫টি ফুট ওভারব্রিজই অকেজো; জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার
- ডিজিটাল নীরবতায় ইরান: দশম দিনে পড়ল পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট
- ৯ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৯ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ
- ৯ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- টানা বাড়ার পর সোনার দামে রেকর্ড পতন, নতুন দর ঘোষণা
- পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার নতুন নীতিমালা প্রকাশ
- শিশুর টাং টাই কী? কখন চিকিৎসা জরুরি
- জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করতে জি৭র জরুরি পদক্ষেপ
- শত্রুপক্ষের সহযোগীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের হুঁশিয়ারি ইরানের
- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজা চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- হাদি হত্যার আসামিদের দেশে আনতে পরিকল্পনার কথা জানালেন আইজিপি
- মক্কা-মদিনায় আটকা ৩৫০০ বাংলাদেশি: যুদ্ধের কবলে ওমরাহ যাত্রীদের কান্না
- ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় সেবকদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু, পাবেন যত টাকা
- ক্ষমতা গ্রহণ করেই রণক্ষেত্রে নতুন নেতা: তেহরানের প্রথম বড় মুভমেন্ট
- বিনা হিসাবেই জান্নাতে প্রবেশ করবে যে ৭০ হাজার মানুষ
- অস্পষ্ট শব্দ ও ভিড়ে কথা শুনতে কষ্ট: জানুন শ্রবণশক্তি হ্রাসের লক্ষণ
- ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাত: উপসাগরীয় তিন দেশে ইরানের নজিরবিহীন আক্রমণ
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাবির নতুন সিদ্ধান্ত
- ঢাকার ৫টি বস্তিসহ দেশের ১৪ উপজেলায় পরীক্ষামূলক ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু
- কড়াইল বস্তি থেকে শুরু ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, আর যারা পাবে
- যুদ্ধের ময়দানে এবার মুখোমুখি সৌদি-ইরান? রিয়াদের কড়া সতর্কবার্তা
- ঈদের ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন যেসব কর্মী ও সেবাখাত
- বাজার অস্থিরতায় বাজুসের বড় সিদ্ধান্ত: কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম
- বিশ্ববাজারে উত্তেজনা থাকলেও দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন, ২ লাখ ১৯ হাজারে মিলবে এক ভরি
- ইরান যুদ্ধ, পরিচয়ের রাজনীতি এবং বৈশ্বিক সংকটের নতুন সমীকরণ
- টানা ছয় দফা বৃদ্ধির পর স্বর্ণের দামে বড় স্বস্তি, নতুন দর কার্যকর আজ
- রোববার থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- স্বর্ণের বাজারে বিশাল ধস! ২২ ক্যারেটের নতুন দাম জানাল জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন
- পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষিকাকে মারধর! সাতক্ষীরায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
- মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে আগুন: এক লাফে বাড়ল ৩ হাজার টাকা
- আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত: মার্কিন কমান্ডো শিবিরে লাশের পাহাড়
- আকাশচুম্বী দামের পর এবার কমছে স্বর্ণের ভরি: নতুন দর জানাল বাজুস
- খামেনি কি বেঁচে আছেন? সাহারা মরুভূমিতে থাকার ছবির আসল সত্য ফাঁস
- রামাদান মাসে কোরানের হাফেজ দের নিয়ে মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের সেহেরি আয়োজন
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৪ মার্চ ২০২৬
- টানা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বিশাল ধস: ভরিতে কমল ৯ হাজার টাকার বেশি








