দুবাইয়ের রাজপথে এবার সোনার চমক: তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম গোল্ড স্ট্রিট

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহর বরাবরই তার আকাশচুম্বী অট্টালিকা এবং কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জের জন্য বিশ্বের মানচিত্রে অনন্য এক স্থান দখল করে আছে। তবে এবার তারা এমন এক প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে যা আক্ষরিক অর্থেই পৃথিবীকে চমকে দিয়েছে। মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ দুবাই মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র দুবাইয়ের ‘গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’-এ বিশ্বের প্রথম সোনায় মোড়ানো সড়ক বা ‘গোল্ড স্ট্রিট’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুবাইভিত্তিক প্রভাবশালী আবাসন প্রতিষ্ঠান ‘ইথরা’র পক্ষ থেকে এই ঘোষণাটি দেওয়া হয় গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর। যদিও সড়কটির নির্মাণশৈলী এবং নকশা সংক্রান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য এখনই প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্প সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিশ্ববাসীর সামনে আনা হবে। এই সড়কটি কেবল একটি যাতায়াতের পথ হিসেবে নয়, বরং পর্যটন শিল্পের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে পরিচিতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বর্ণ বাজারে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য আরও জোরালো করতেই দুবাইয়ে এই অত্যাধুনিক গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট গড়ে তোলা হচ্ছে। আরব আমিরাত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণের বাজার হিসেবে পরিচিত এবং এই নতুন ডিস্ট্রিক্টকে দেশটির ‘হোম অব গোল্ড’ বা স্বর্ণের নতুন ঘর হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এই বিশেষ অঞ্চলে স্বর্ণ ও গহনা সংশ্লিষ্ট পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসা থেকে শুরু করে বৃহৎ বিনিয়োগের সব সুবিধা এক ছাতার নিচে পাওয়া যাবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৫ হাজার ৩৪১ কোটি মার্কিন ডলারের স্বর্ণ রপ্তানি করেছে যা দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় এক বিশাল ভূমিকা রাখছে। সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত, হংকং ও তুরস্কের মতো দেশগুলো বর্তমানে আমিরাতের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। স্বর্ণ বাণিজ্যের এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুবাই এখন নিজেদের বিশ্বের প্রধান স্বর্ণ নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর।
দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট কেবল বাণিজ্যিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি দুবাইয়ের ‘ডি৩৩’ বা ইকোনমিক এজেন্ডার একটি বড় অংশ যা শহরটির খুচরা বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে। ইথরা ডিরেক্টরদের মতে, গোল্ড স্ট্রিট পর্যটকদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে তৈরি করা হবে এবং এটি ধাপে ধাপে বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হবে। ডিস্ট্রিক্টটিতে ইতিমধ্যে ১ হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতা তাঁদের কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য ছয়টি হোটেলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং সোনায় মোড়ানো সড়কের পরিকল্পনা প্রমাণ করে যে, দুবাই কেবল তেলনির্ভর অর্থনীতি নয় বরং বিশ্বমানের বাণিজ্যিক এবং পর্যটন হাব হিসেবে নিজেদের নেতৃত্ব বজায় রাখতে চায়। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ স্বর্ণ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে এই নতুন পদক্ষেপ আরব আমিরাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
৭ পাক সেনাকে আটক করে বিএলএ-র মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি
বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) দাবি করেছে যে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সাতজন সদস্য বর্তমানে তাদের কব্জায় রয়েছে। আটক এই সেনাদের মুক্তির বিনিময়ে গোষ্ঠীটি পাকিস্তান সরকারকে সাত দিনের একটি সময়সীমা বা আলটিমেটাম বেঁধে দিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বিএলএ-র গণমাধ্যম শাখা ‘হাক্কাল’ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে যদি পাকিস্তান সরকার বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনায় না বসে, তবে আটককৃত সেনাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। আলটিমেটামের পাশাপাশি একটি ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করেছে গোষ্ঠীটি, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে নির্ধারিত সময়ের আর মাত্র ছয় দিন বাকি আছে। তবে বিএলএ-র এই দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং পাকিস্তান সরকার বা দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিচ্ছিন্নতাবাদী এই গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, তাদের পরিচালিত ‘হেরফ অভিযানের’ দ্বিতীয় পর্যায়ে এই পাকিস্তানি সেনাদের আটক করা হয়। অভিযানের সময় তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোট ১৭ জনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। তবে এর মধ্যে ১০ জন জাতিগতভাবে বালুচ এবং স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, স্থানীয় পরিস্থিতি এবং বালুচ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনা করে ওই ১০ জনকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে বিএলএ-র হেফাজতে থাকা বাকি সাতজন সদস্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিয়মিত ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। বিএলএ-র ভাষ্যমতে, তাদের নিজস্ব ‘বালুচ ন্যাশনাল আদালতে’ এই সেনাদের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, বলপূর্বক অন্তর্ধান বা গুম করার কাজে সহায়তা এবং বালুচ জনগোষ্ঠীর ওপর ‘গণহত্যা’ চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গোষ্ঠীটি আরও দাবি করেছে যে, বিচারে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিচারে সাত সেনাই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে এবং তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তারা পাকিস্তানকে বন্দি বিনিময়ের একটি সুযোগ দিচ্ছে। বিএলএ-র প্রস্তাব অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার যদি তাদের হেফাজতে থাকা বালুচ বন্দিদের মুক্তি দেয়, তবে বিনিময়ে এই সাত সেনাকে ফেরত দেওয়া হতে পারে। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিএলএ এ ধরনের প্রস্তাব দিলেও পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ কখনোই আলোচনায় বসেনি বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার বরাবরই তাদের নিজস্ব সেনাদের জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে রাজনৈতিক অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
/আশিক
চিকেন্স নেকে ভূগর্ভস্থ রেলপথ: উত্তর-পূর্বে ভারতের বড় কৌশলগত চাল
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখা অতি গুরুত্বপূর্ণ সরু স্থলপথ শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেন্স নেক’ নামে পরিচিত, সেখানে ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে আসামে ব্রহ্মপুত্র নদ-এর নিচ দিয়ে দীর্ঘ রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পেও অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
শিলিগুড়ি করিডরে ৩৬ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ি হয়ে রাঙাপাণি পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্ব রেলের মুখপাত্র কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত হলেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। তবে কেন্দ্রীয় বাজেট-পরবর্তী সময়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রকাশ্যে প্রকল্পটির উল্লেখ করায় অনুমোদন এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে।
গড়ে মাত্র ২০–২২ কিলোমিটার চওড়া এই করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থলসংযোগ। পূর্বে বাংলাদেশ, উত্তরে চীন, পশ্চিমে নেপাল ও ভুটানের সান্নিধ্যে থাকায় এলাকা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই পথ ব্যবহৃত হয়।
নতুন পরিকল্পনায় প্রায় ৩৫.৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বৈত সুড়ঙ্গ নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সুড়ঙ্গ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান দুই লাইনের রেলপথ চার লাইনে উন্নীত করার উদ্যোগও রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি রুপি।
বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন বিহারের কিশানগঞ্জ ও পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ার কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুটি নতুন ঘাঁটি নির্মাণাধীন, যার পাশ দিয়েই যাবে এই প্রস্তাবিত সুড়ঙ্গপথ। তৃতীয় ঘাঁটি তৈরি হচ্ছে আসামের ধুবড়িতে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভূগর্ভস্থ রেলপথ এমনভাবে নির্মাণ করা হবে যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সম্ভাব্য আক্রমণের মধ্যেও যোগাযোগ সচল রাখা যায়। মোটা কংক্রিট কাঠামোয় নির্মিত সুড়ঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণেও টিকে থাকতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার প্রবীর সান্যালের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। তার ভাষায়, সুড়ঙ্গ চালু হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা শত্রুপক্ষের জন্য কঠিন হবে।
কৌশল বিশ্লেষক প্রতিম রঞ্জন বসু বলেন, বর্তমানে ভারতের অবকাঠামো পরিকল্পনায় সামরিক প্রয়োজন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। চিকেন্স নেক দিয়ে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট কেবল, তেল ও গ্যাস পাইপলাইন যাওয়ায় মাটির ওপর নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ঝুঁকিপূর্ণ; তাই ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থা বেশি নিরাপদ।
ব্রহ্মপুত্রের নিচে ভারতের প্রথম রেল–সড়ক সুড়ঙ্গ
১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বৈত সুড়ঙ্গ নির্মাণে অনুমোদন দেয়।
সমান্তরাল দুটি সুড়ঙ্গের একটিতে চলবে ট্রেন এবং অন্যটিতে থাকবে চার লেনের সড়ক। এতে গোহপুর ও নুমালিগড় সরাসরি যুক্ত হবে। বর্তমানে এই দুই এলাকার মধ্যে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দূরত্ব ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
মোট ৩৩.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ ব্যবস্থার মধ্যে প্রায় ১৫.৭৯ কিলোমিটার অংশ থাকবে ব্রহ্মপুত্রের নিচ দিয়ে। সরকারি বিবৃতিতে একে ভারতের প্রথম ভূগর্ভস্থ রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ প্রকল্প বলা হয়েছে।
এই সংযোগের মাধ্যমে বিশ্বনাথ ঘাট ও তেজপুর যুক্ত হবে। পাশাপাশি তেজপুর ও অরুণাচল প্রদেশের ইটানগর বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। তেজপুরের ভারতীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি চীন সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ; সেখানে সুকই যুদ্ধবিমানের বহর রয়েছে। সম্প্রতি ঘাঁটি সম্প্রসারণে ৩৮৩ একর জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে।
সরকারের দাবি, ব্রহ্মপুত্রের নিচে রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ নির্মাণ কেবল কৌশলগত নয়, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
মাত্র ১৩ বছরের কিম জু অ্য হতে পারেন উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী প্রধান
উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে পারিবারিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, কিম জং উনের কিশোরী কন্যা কিম জু অ্যকে দেশের পরবর্তী নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করার প্রস্তুতি চলছে। এ পদক্ষেপ ভবিষ্যতে তার প্রভাবশালী খালা কিম ইয়ো জং-এর সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) জানিয়েছে, আনুমানিক ১৩ বছর বয়সী কিম জু অ্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উত্তর কোরিয়া এ মাসের শেষে তাদের বৃহত্তম রাজনৈতিক সম্মেলনের আয়োজন করছে। সেখানে কিম জং উন নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন এবং নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করবেন।
এনআইএসের কর্মকর্তারা বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি কংগ্রেসে হাজারো প্রতিনিধির সামনে কিম জু অ্য তার বাবার সঙ্গে উপস্থিত হবে কি না, তা তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কিম জু অ্য প্রথমবার জনসমক্ষে আসেন ২০২২ সালের নভেম্বরে এক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায়। এরপর থেকে তিনি অস্ত্র পরীক্ষা, সামরিক কুচকাওয়াজ, কারখানা পরিদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিতভাবে বাবার সঙ্গে দেখা দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বর তিনি বেইজিং সফরে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে চীনের নেতার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।
আগে সিউলের কর্মকর্তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে, পুরুষ-প্রাধান্য ও রক্ষণশীল নেতৃত্বের দেশে কোনো মেয়েকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হবে কি না। তবে কিম জু অ্যের ঘন ঘন উপস্থিতি এই মূল্যায়নকে বদলে দিয়েছে। এনআইএস মনে করছে, চীনে নেওয়া সফর সম্ভাব্য উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় সহায়ক হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং-কে। ৩৮ বছর বয়সী তিনি দেশটির দ্বিতীয় সর্বাধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত এবং শক্ত রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন রয়েছে। বর্তমানে তিনি ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটিতে জ্যেষ্ঠ পদে রয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা রাহ জং ইল মনে করেন, কিম ইয়ো জং সুযোগ পেলে শীর্ষ পদ দখলের চেষ্টা করতে পারেন। তিনি বলেন, “নিজের রাজনৈতিক প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকার কোনো কারণ তার নেই।”
কিম ইয়ো জং দেশে ও বিদেশে কঠোর ভাষণের জন্য পরিচিত। ২০২২ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, সিউল “প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংসের সমান করুণ পরিণতি” ভোগ করতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক স্টিমসন সেন্টারের ওয়েবসাইট ৩৮নর্থ-এ সতর্ক করেছেন, কিম জং উনের হঠাৎ মৃত্যু হলে ক্ষমতার লড়াইয়ে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে কিম জু অ্য এবং তার দুই ভাইসহ অন্যান্য সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীরা এখনো খুবই অল্পবয়সী ও রাজনৈতিকভাবে অপ্রতিষ্ঠিত। কিম ইয়ো জং রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থনের কারণে তারাৎক্ষণিকভাবে অন্যদের ছাড়িয়ে যাওয়ার সুবিধা রাখেন।
উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে অভ্যন্তরীণ নির্মম শুদ্ধি অভিযানও ঘটেছে। ২০১১ সালে কিম জং উন তার চাচা ও পরামর্শদাতা জ্যাং সং থেককে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০১৭ সালে তার সৎভাই কিম জং নাওকেও মালয়েশিয়ায় হত্যা করা হয়।
আজ উত্তর কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে বিবেচিত। ২০২৪ সালের জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী দেশটির কাছে প্রায় ৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, এবং আরও ৭০–৯০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মতো পদার্থ মজুত আছে। পাশাপাশি দেশটির রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র কর্মসূচি উন্নত অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
জন্মহার কমায় রোবটনির্ভর উৎপাদনে ঝুঁকছে চীন
জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমে আসা এবং কর্মক্ষম জনশক্তি সংকুচিত হওয়ায় চীন এখন উৎপাদন খাতে রোবট ও অটোমেশনের ওপর দ্রুত নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন সস্তা শ্রমনির্ভর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা দেশটি এখন প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছে।
বিয়ে সহজ করা, নগদ সহায়তা বা কর ছাড়ের মতো বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়েও জন্মহার বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এই বাস্তবতায় শি জিনপিং প্রশাসন শিল্পখাতে রোবট ব্যবহারের গতি বাড়িয়েছে। লক্ষ্য—কম কর্মী দিয়েও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা এবং অর্থনীতির গতি সচল রাখা।
জনসংখ্যাগত এই পরিবর্তন চীনের পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক উৎপাদন কাঠামোর ওপর চাপ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো শ্রমনির্ভর মডেলে স্থির থাকলে পরিস্থিতি বড় অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের কার্যকর প্রয়োগ সেই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে।
Hong Kong University of Science and Technology–এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোবোটিক্স ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গেলে কম শ্রমশক্তি নিয়েও শিল্প উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব।
বর্তমানে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিল্প রোবট বাজার। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী যত শিল্প রোবট স্থাপন করা হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি বসানো হয়েছে চীনে। অনেক কারখানায় এখন মানুষের বদলে রোবোটিক বাহু দিয়ে ওয়েল্ডিং, রং করা ও যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানোর কাজ চলছে। এমনকি ‘ডার্ক ফ্যাক্টরি’ ধারণাও জনপ্রিয় হচ্ছে—যেখানে মানুষের উপস্থিতি প্রয়োজন না হওয়ায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলো পর্যন্ত জ্বালানো হয় না।
উচ্চমাত্রার অটোমেশনের ফলে চীন কম খরচে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সোলার প্যানেল তৈরি করে বিশ্ববাজারে সরবরাহ করতে পারছে। এতে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় দেশটি শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
শিল্প রোবটের পাশাপাশি মানবসদৃশ বা হিউম্যানয়েড রোবট উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে চীন। সরকারি সহায়তা নিয়ে দেশটির ১৪০টির বেশি কোম্পানি এই খাতে কাজ করছে। তবে ১৪০ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশে দ্রুত প্রযুক্তিগত রূপান্তর স্বল্পমেয়াদে কর্মসংস্থানে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই পরিবর্তন সামাল দেওয়া বেইজিংয়ের জন্য বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থা, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে চীন জনসংখ্যাগত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না।
সূত্র: সিএনএন
বুধবার না কি বৃহস্পতিবার থেকে রোজা? সৌদিতে চাঁদ দেখা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বার্তা
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এ লক্ষ্যে হিজরি ১৪৪৭ সালের পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখার জন্য দেশটির নাগরিকদের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়েছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। আজ সোমবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে যে, আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হিজরি ২৯ শাবান তারিখে রমজানের চাঁদ পর্যবেক্ষণের জন্য সুপ্রিম কোর্ট এই আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি সুপ্রিম কোর্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যদি রমজানের চাঁদ দেখা যায়, তবে পরদিন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। তবে যদি ওইদিন কোথাও চাঁদ দেখা না যায়, তবে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে এবং সে ক্ষেত্রে আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশটিতে প্রথম রোজা শুরু হবে। বিবৃতিতে আরও অনুরোধ করা হয়েছে যে, দেশের কোথাও কেউ যদি খালি চোখে বা দূরবীনের মাধ্যমে চাঁদ দেখতে পান, তবে তারা যেন অতিদ্রুত নিকটস্থ আদালতে গিয়ে তাঁদের সাক্ষ্য নথিভুক্ত করেন।
তবে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, এবার শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও মিসর অঞ্চলে চাঁদ দেখা প্রায় অসম্ভব হবে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এদিন চাঁদ সূর্যের আগেই অস্ত যাবে এবং সূর্য ও চাঁদের মধ্যকার কৌণিক দূরত্ব ‘ড্যানজন সীমার’ নিচে থাকবে। ফলে খালি চোখে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা একেবারেই নেই বললেই চলে।
এই কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোসহ যারা সরাসরি চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রমজান শুরু করে, তাদের জন্য বৃহস্পতিবারই রমজানের প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য, যা আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর জানা যাবে।
/আশিক
কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে ইমরান খানকে
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পিটিআই সমর্থকদের জোরালো দাবির মুখে পাকিস্তান সরকার এই ঘোষণা দেয়। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, ইমরান খান সম্প্রতি তাঁর দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলছিলেন, কিন্তু উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁর সমর্থকরা পার্লামেন্টের বাইরে বড় ধরনের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার নিশ্চিত করেছেন যে, ইমরান খানের চোখের সমস্যার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাঁকে বিশেষায়িত হাসপাতালে পরীক্ষা করবেন। তাঁর চিকিৎসার সব আপডেট বিস্তারিতভাবে সুপ্রিম কোর্টেও জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এদিকে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানিয়েছেন, একজন কারাবন্দি হিসেবে ইমরান খানকে মানবাধিকার অনুযায়ী সকল প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হবে এবং দ্রুতই তাঁকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে।
/আশিক
হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা: দক্ষিণ লেবাননে তুমুল উত্তেজনা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার দক্ষিণ লেবাননের বেসলায়া, হুমিন আল-তাহতা ও দেইর আল-জাহরানসহ বেশ কিছু এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বিশেষ করে মেইস আল-জাবাল এলাকায় একটি ইসরায়েলি ‘কোয়াডকপ্টার’ ড্রোনের আঘাতে একটি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে এই হামলার সত্যতা স্বীকার করে দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করছে।
গত বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে মার্কিন মধ্যস্থতায় সাময়িক অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান থামেনি। ইউএনআইএফআইএল (UNIFIL)-এর শান্তিরক্ষী সদস্যরা জানিয়েছেন, চুক্তির পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ১০ হাজারেরও বেশিবার যুদ্ধবিরতির নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৩৪০ জন নিহত এবং ৯৭০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে।
শান্তি চুক্তির তোয়াক্কা না করে বেইরুতের দক্ষিণাঞ্চল ও বাকা উপত্যকায় নিয়মিত ইসরায়েলি ড্রোন ও বিমান হামলা চলমান থাকায় পুরো অঞ্চলে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। লেবানন সরকার এখনো এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না দিলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মহলের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেই ইসরায়েল তাদের ‘টার্গেটেড অপারেশন’ চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
/আশিক
শপথে থাকছেন কি না মোদি জানা গেল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান আগামী মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বঙ্গভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কেবল দেশীয় নয়, আঞ্চলিক কূটনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রতিবেশী কূটনীতির প্রেক্ষাপটে এই শপথ অনুষ্ঠান তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Hindustan Times–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ–এর পূর্বনির্ধারিত ভারত সফরের সূচির কারণে মোদির ঢাকা সফর সম্ভব হচ্ছে না।
তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে মোদি ও ম্যাক্রোঁর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। পরবর্তীতে দিল্লিতে ‘এআই ইমপ্যাক্ট কনফারেন্স’সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট, যা ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। ফলে একই সময়ে ঢাকায় উপস্থিত থাকা মোদির পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
তবে নয়াদিল্লি শপথ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র বলছে, ভারতের উপরাষ্ট্রপতি অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে একজন বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। এটি নতুন সরকারের প্রতি কূটনৈতিক সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পরপরই মোদি টেলিফোনে বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান–কে অভিনন্দন জানান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, নির্বাচনে অনন্য বিজয়ের জন্য উষ্ণ শুভেচ্ছা এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মোদির বার্তায় প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথ অনুষ্ঠানে মোদির অনুপস্থিতি কৌশলগত দূরত্বের ইঙ্গিত নয়; বরং কূটনৈতিক সময়সূচির সমন্বয়জনিত বিষয়। একই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্তটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতীক।
দুই দেশের বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পগুলোর প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের শপথ দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
-রফিক
মোদি-তারেক ফোনালাপ ও মমতার ভাই’ ডাক: ওপার বাংলার মিডিয়ায় তোলপাড়!
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস জয় কেবল দেশের ভেতরেই নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক বিশাল কম্পন সৃষ্টি করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথাগত সৌজন্যের বাইরে গিয়ে একধাপ এগিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলায় পোস্ট দেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি টেলিফোন করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘আনন্দবাজার’ থেকে শুরু করে ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’—সবার হেডলাইনেই এখন তারেক রহমানের এই অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন। আনন্দবাজারের ভাষায়, ২০ বছর ধরে ক্রমশ পিছিয়ে পড়া বিএনপি এখন ‘সবার আগে’। আর অন্যদিকে, দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে দাবি করলেও বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন বার্তার ভিড়ে তাঁর সেই দাবি কার্যত ঢাকা পড়ে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পিছিয়ে নেই; তিনি তারেক রহমানকে ‘তারেকভাই’ সম্বোধন করে সুসম্পর্কের বার্তা পাঠিয়েছেন। তবে ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর একটি বড় অংশ জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। ‘সংবাদ প্রতিদিন’ বা ‘দ্য হিন্দু’-র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে—শফিকুর রহমানদের এই জয় কি দিল্লির জন্য কোনো বাড়তি চাপের কারণ হবে? পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিও তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতা প্রমাণ করছে যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের এই নতুন পথচলা ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক বিশাল প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোতে চীনের অবস্থান নিয়েও বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর দাবি, ড্রাগনের নজর এখন ভারতের ‘চিকেনস নেক’ করিডোরের দিকে, তাই বিএনপি জিততেই চীন দ্রুত তাদের সাথে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, ভারতীয় মিডিয়াগুলো এটিই প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে যে, বাংলাদেশে খালেদা-হাসিনা বলয়ের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা ছাত্ররা করলেও শেষ পর্যন্ত জনগণ চেনা ‘ধানের শীষের’ ওপরই আস্থা রেখেছে। এখন সবার নজর তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা গঠন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে তাঁর সম্পর্কের রসায়ন ঠিক করার দিকে।
পাঠকের মতামত:
- রমজানে স্বস্তি: কালিগঞ্জে টিসিবির স্মার্ট কার্ডে পণ্য সরবরাহ,সাশ্রয়ী মূল্যে চাল-ডাল-তেল
- কুমিল্লায় প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুকে গলা কেটে হত্যা
- রমজানের আগে কুমিল্লার বাজার ঊর্ধ্বমুখী: বেগুন, কাঁচামরিচ ও লেবু বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিভাবক হলেন এহসানুল হক মিলন
- তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন যারা
- ‘সেলফি’ ভবিষ্যদ্বাণী মিলল বাস্তবের সঙ্গে
- প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান
- সালাহউদ্দিন আহমদ ও মির্জা ফখরুল পাচ্ছেন যেসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন
- ১৭ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ার
- ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ গেইনার কারা
- বেতনের বাইরে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের কী কী সুবিধা
- তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগোবে দেশ: মির্জা ফখরুল
- নতুন মন্ত্রিসভায় শপথের আমন্ত্রণ পেলেন যাঁরা
- পুরানো দপ্তরেই ফিরছেন মির্জা আব্বাস: অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখলো নতুন সরকার
- যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল
- অর্থনীতির সংস্কারে অভিজ্ঞ আমীর খসরুর ওপর ভরসা রাখলো বিএনপি
- তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
- সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেবে না বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমেদ
- ৭ পাক সেনাকে আটক করে বিএলএ-র মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি
- দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন
- ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা
- রমজানের প্রস্তুতি: এক মাসের বাজার নিশ্চিন্তে গুছিয়ে রাখার উপায়
- শপথের প্রস্তুতিতে এমপিদের সংসদে আগমন
- সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান
- আবহাওয়া আপডেট: যেমন থাকবে রাজধানী
- অগ্নিমূল্য স্বর্ণের বাজার, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম বাড়লো ২২১৬ টাকা
- হাতে-পায়ে জ্বালাপোড়া কেন হয় জানুন কারণ
- সারা দেশে আজ থেকে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি; জেনে নিন নির্দিষ্ট পণ্যের দাম
- আজ কেনাকাটায় যাওয়ার আগে জেনে নিন রাজধানীর বন্ধ মার্কেটের তালিকা
- একই পরিবারের তিন সরকার প্রধান: বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল নজির
- অধীনতার চুক্তি করে বিদায় নিচ্ছেন ড. ইউনূস: আনু মুহাম্মদ
- আজ বিকেল থেকে দীর্ঘ সূর্যগ্রহণ, দৃশ্যমান হবে যেসব দেশে
- ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ আজ
- ফুটবল-ক্রিকেটে জমজমাট ক্রীড়া সূচি
- আজ টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- বৈশ্বিক বাণিজ্যে টাকার বিনিময় হার আপডেট
- ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের অংশবিশেষ
- নামাজ ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত সময় জানুন আজ
- প্রাথমিকে রোজার ছুটি নিয়ে নতুন তথ্য জানাল অধিদপ্তর
- ভিসা ছাড়াই ৩৭ দেশে ভ্রমণ সুবিধা বাংলাদেশিদের
- আজ নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াবেন যিনি
- শপথ ঘিরে ঢাকায় বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা
- মঙ্গলবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে এসেছি: প্রধান উপদেষ্টা
- দেশে আবার ভূমিকম্প অনুভূত
- সংসদীয় রাজনীতির নবযুগের অপেক্ষায় দেশ: জামায়াত আমির
- রাষ্ট্র সংস্কারের দলিলে চূড়ান্ত সই: নতুন সূর্যের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
- বিভেদ ভুলে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার শপথ নিলেন কালিগঞ্জের বিএনপি নেতারা
- মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্বের শক্তিশালী প্রমাণ পেল নাসা
- আবার বাড়ছে স্বর্ণের দাম, কী কারণ?
- ২০০৮–এর পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন: গণতন্ত্রের গুণগত মানের এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- নির্বাচনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে লন্ডনে উদ্বেগ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
- বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়ল দেশের স্বর্ণবাজারে: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- অগ্নিমূল্য স্বর্ণের বাজার, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম বাড়লো ২২১৬ টাকা
- এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান
- ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের শুভ সূচনা: প্রথম কেন্দ্রের ফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে
- কালিগঞ্জের ফতেপুরে দখলমুক্ত হল দুই দোকান, মালিক পরিবারের হাতে চাবি
- রুপা স্থির, তবে কেন অস্থির শুধু সোনা
- ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের দাপুটে সূচনা: প্রথম কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে লিড
- প্রাথমিকে রোজার ছুটি নিয়ে নতুন তথ্য জানাল অধিদপ্তর








