পে স্কেলে ১৪০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, কতটা বিপদে পড়বে বেসরকারি খাত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৩:৫২:৪১
পে স্কেলে ১৪০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, কতটা বিপদে পড়বে বেসরকারি খাত
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনী প্রচারণা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কথা, ঠিক সেই সংবেদনশীল মুহূর্তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আমলেই জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।

গত বুধবার কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। যদিও আগের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে, তবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত কমিয়ে ১ঃ৮ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১ঃ৯.৪। নতুন কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন ধাপে বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান–এর নেতৃত্বে গঠিত ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করে। ওই সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা একে “দীর্ঘদিনের অপেক্ষার ফল” এবং “সৃজনশীল প্রয়াস” হিসেবে আখ্যা দেন।

তবে কমিশন প্রধান নিজেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বাৎসরিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকায়।

বেতন কাঠামোর প্রতিটি ধাপেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে মূল বেতন ৬৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, তৃতীয় ধাপে ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং চতুর্থ ধাপে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ রয়েছে। একইভাবে পঞ্চম থেকে ঊনবিংশ ধাপ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই প্রায় দ্বিগুণ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেসামরিক কর্মচারীদের বেতন কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পর সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য পৃথক কমিশন গঠন করা হবে। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, মুখ্য সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য ২০ ধাপের বাইরে বিশেষ গ্রেড প্রবর্তনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের সময় নির্বাচনকে সামনে রেখে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক এখতিয়ার নিয়ে। আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কোনো সরকার নীতিগতভাবে কেবল রুটিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করতে পারে। একটি অনির্বাচিত বা অন্তর্বর্তী সরকারের এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। অনেকের মতে, এ ধরনের মৌলিক সিদ্ধান্ত কেবল নির্বাচিত সরকারেরই নেওয়া উচিত।

অর্থনীতিবিদরা আরও আশঙ্কা করছেন, এই ঢালাও বেতন বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে। সরকারি বেতন বাড়লে বেসরকারি খাতেও অনিবার্যভাবে একই ধরনের চাপ তৈরি হয়। অথচ বর্তমানে বেসরকারি খাত গভীর সংকটে রয়েছে। গত দেড় বছরে বহু শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, রপ্তানি আয় কমেছে, নতুন বিনিয়োগ কার্যত স্থবির এবং অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে।

এর ওপর গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট শিল্প উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। উচ্চ সুদহার, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও নীতিগত অনিশ্চয়তা মিলিয়ে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এই বাস্তবতায় সরকারি বেতন বৃদ্ধির চাপ বেসরকারি শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসতে পারে শ্রমঘন খাতগুলোতে, বিশেষ করে পোশাক শিল্পে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে শ্রমিকদের মধ্যেও মজুরি বৃদ্ধির দাবি জোরালো হবে। এর ফলে শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ, আন্দোলন এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনিতেই সংকটে থাকা গার্মেন্টস শিল্প এই চাপ সামাল দিতে না পেরে অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।

এ ছাড়া অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, প্রতিবার নতুন পে স্কেল ঘোষণার পর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তিন ধাপে বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ক্ষেত্রে পণ্যমূল্য ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এবারের পে স্কেল কার্যকর হলে মূল্যস্ফীতি ২০ থেকে ২৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা। বর্তমানে ৮ শতাংশের বেশি মুদ্রাস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জন্য এটি হবে চরম দুঃসংবাদ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো রাজস্ব আয়ের দুর্বল অবস্থা। চলতি অর্থবছরে সরকার গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন রাজস্ব আদায়ের মুখোমুখি হয়েছে। বেতনসহ নির্বাহী ব্যয় মেটাতে সরকার ইতোমধ্যেই ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। ভ্যাট ও অন্যান্য পরোক্ষ কর বাড়ানো হলে তার বোঝা সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে।

অতীতে ঘুস-দুর্নীতি কমানো ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর যুক্তিতে বেতন বাড়ানো হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বরং অনির্বাচিত সরকারের এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করবে বলে মত বিশ্লেষকদের। সংকটাপন্ন অর্থনীতিতে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই “মরার ওপর খাঁড়ার ঘা” হিসেবে দেখছেন।

-রফিক


মহাসড়কে চাঁদাবাজদের সরাসরি যুদ্ধের হুমকি সেতুমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৯:৫৩:৩৭
মহাসড়কে চাঁদাবাজদের সরাসরি যুদ্ধের হুমকি সেতুমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। সোমবার জেলা প্রশাসক সম্মেলন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঈদযাত্রায় মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

মন্ত্রী বলেন, "আগামী ঈদে সড়কে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। তবে আমরা মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি।" তিনি ঘোষণা করেন, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ ও সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এর ফলে অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

সড়ক খাতের উন্নয়ন নিয়ে মন্ত্রী একটি বড় অংকের হিসাব তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত দুই মাসে সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে যে পরিমাণ রাস্তা প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নের চাহিদাপত্র জমা পড়েছে, তা বাস্তবায়নে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন। তবে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম (৪০ হাজার কোটি টাকা) হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করবে সরকার। সীমিত বাজেটেও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

/আশিক


বিগত ১৬ বছর ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিল জনগণ: হাফিজ উদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৯:৪৪:০৩
বিগত ১৬ বছর ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিল জনগণ: হাফিজ উদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

বিগত সরকারের আমলে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “বিগত ১৬ বছরের নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আবারও সমুন্নত হয়েছে।” সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কার্যালয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে স্পিকার বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি হজ পালন করতে মক্কা ও মদিনায় গমন করেন, যা দুই দেশের জনগণের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসংসদীয় সম্পর্ক জোরদারকরণ এবং সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে স্পিকার ও রাষ্ট্রদূত চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বিশেষ করে ইরান ও আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় স্পিকার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসি-কে (OIC) আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রস্তাব করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সৌদি আরব এই মানবিক সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকবে। অনুষ্ঠানে সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সৌদি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বদলে প্রভাব পড়বে না ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে: শামা ওবায়েদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৯:৩০:৪০
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বদলে প্রভাব পড়বে না ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে: শামা ওবায়েদ
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা এবং তৃণমূলের সম্ভাব্য পরাজয়ের খবরের মাঝেই বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চালিয়ে যাব।" উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশেও নতুন সরকার (বিএনপি নেতৃত্বাধীন) দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ভারতের কোনো বড় রাজ্যে প্রথম নির্বাচন।

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে এবং বাংলাদেশ একটি ন্যায়সংগত ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের বিষয়ে আশাবাদী।" এছাড়া সীমান্ত দিয়ে ‘পুশইন’ বা অনুপ্রবেশের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

গত কয়েকমাস ধরে ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তিতে বাংলাদেশিদের যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, তা দ্রুতই কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, "ভারতের সঙ্গে শিগগিরই ভিসা প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আমরা আশা করছি।" উল্লেখ্য যে, মে মাসের শুরু থেকেই ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো তাদের কার্যক্রম পুনরায় পুরোদমে শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা দুই দেশের মানুষের যাতায়াত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও চাঙ্গা করবে।

/আশিক


হামে মৃত্যু ও আক্রান্তের রেকর্ড: আতঙ্কে অভিভাবকরা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৭:৫৯:৪৪
হামে মৃত্যু ও আক্রান্তের রেকর্ড: আতঙ্কে অভিভাবকরা
ছবি : সংগৃহীত

সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে হাম। সোমবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ২ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৫ জনসহ মোট ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সময়ে নিশ্চিত হামে ৫২ জন এবং হাম সন্দেহে ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশই শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ৩০২ জন নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৭৯৩ জনে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৪৬৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৮ হাজার ৮৪২ জন ভর্তি রয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৫ হাজার ১৫১ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বমুখী হার প্রতিরোধে শিশুদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় জ্বর ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

/আশিক


মাদক ও চাঁদাবাজদের দিন শেষ! সারাদেশে বিশেষ যৌথ অভিযানের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৭:২১:১৭
মাদক ও চাঁদাবাজদের দিন শেষ! সারাদেশে বিশেষ যৌথ অভিযানের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার সচিবালয়ে ‘বলপ্রয়োগ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’র সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে সংস্থাগুলোকে পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় লাগলেও সরকার এখন সঠিক পথেই আছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান এবং মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের ধরতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং নিয়মিত রুটিন কার্যক্রম। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া চিহ্নিত অপরাধীদের বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। মন্ত্রী জানান, আদালত থেকে জামিন পাওয়া আইনি বিষয় হলেও তারা যাতে পুনরায় অপরাধ করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নভঙ্গ! পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহবাহী বিমান এখন ঢাকায়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১০:১৮:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নভঙ্গ! পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহবাহী বিমান এখন ঢাকায়
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর শোকের ছায়া মাড়িয়ে দেশে ফিরল ফ্লোরিডায় খুন হওয়া ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ। সোমবার সকালে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। এর আগে গত শনিবার রাতে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁর মরদেহ দেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল। লিমনের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিমানবন্দরে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

মরদেহ দেশে পাঠানোর আগে গত বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকার ইসলামি সোসাইটিতে লিমনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তাঁর সহপাঠী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নিয়ে প্রিয় মেধাবী মুখটিকে চোখের জলে বিদায় জানান।

গেল ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর ২৪ এপ্রিল জামিল লিমনের এবং ৩০ এপ্রিল নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করে ফ্লোরিডা পুলিশ। লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘেরহেকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, লিমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত হিশামের বিরুদ্ধে দুটি ‘ফার্স্ট-ডিগ্রি’ অর্থাৎ পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, খুনের আগে সে এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে হত্যার উপায় খুঁজেছিল।

এদিকে নিহত অন্য শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। আগামী বুধবার (৬ মে) যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পরিবারের অনুরোধ অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস। প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা জানিয়েছেন, দূতাবাস এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

/আশিক


কওমি শিক্ষার্থীরা আলাদা থাকবে না, মূলধারায় ফেরাতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১৯:২৬:০৩
কওমি শিক্ষার্থীরা আলাদা থাকবে না, মূলধারায় ফেরাতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মূলধারার জাতীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, কওমি শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার সমমান প্রদানের জন্য সরকার একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে।

রোববার ডিসি সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কার্য-অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “কওমি মাদ্রাসার পক্ষ থেকে আমাদের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে—তাদের কোন স্তরটি এসএসসি, কোন স্তরটি এইচএসসি, ডিগ্রি বা দাওরায়ে হাদিসের সমমান হবে। এই স্তরগুলো নির্ধারণের বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে আমাদের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।”

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, কেবল সমমান দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য নয়, বরং কওমি শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কিছু কারিগরি শিক্ষা (Technical Education) অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই না কওমি শিক্ষার্থীরা জাতীয় মূলধারা থেকে আলাদা থাকুক। তারা যা চায়, সরকার তা দিতে প্রস্তুত।

লেভেলগুলো ঠিক হয়ে গেলেই তাঁরা সাধারণ শিক্ষার মতোই স্বীকৃতি পাবেন।” সরকারের এই উদ্যোগের ফলে কওমি মাদ্রাসা থেকে পাস করা বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার পথ আরও সুগম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক


ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়: আবহাওয়া অফিসের দীর্ঘমেয়াদী সতর্কতা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১৭:৫০:৫০
ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়: আবহাওয়া অফিসের দীর্ঘমেয়াদী সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

তীব্র তাপপ্রবাহের অসহনীয় দহনের পর দেশজুড়ে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি শুরু হওয়ায় জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, কৃষিখাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে মে মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস বলছে, আবহাওয়া আরও চরম রূপ নিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে অন্তত একটি নিম্নচাপ অথবা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলেও ৫ থেকে ৮ দিন হালকা বা মাঝারি ধরনের শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত হতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার সাথে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি কৃষি ও জানমালের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা মে মাসে সাধারণত স্বাভাবিক থাকার কথা থাকলেও তাপপ্রবাহের পূর্বাভাসে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

বৃষ্টির এই ধারা স্থায়ী হবে না। মে মাসে দেশে ১ থেকে ৩টি মৃদু বা মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এছাড়া মাসের কোনো এক সময়ে দেশের ওপর দিয়ে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ বৃষ্টি ও ঝড়ের মাঝেই আবার প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অস্থির হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে আপাতত স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকলেও বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি সমতল সময় বিশেষে বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে এই অঞ্চলগুলোতে আকস্মিক পানির চাপ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

/আশিক


সরকার বা পদ কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়: জনপ্রশাসনকে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১২:৪৫:২০
সরকার বা পদ কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়: জনপ্রশাসনকে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং দেশের যেকোনো প্রান্তে দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সরকার বা প্রশাসনের কোনো পদই চিরস্থায়ী নয়।

বর্তমান দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকার জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে টেকনিক্যাল ও কৌশলগত উপায়ে সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এছাড়া বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি জেলা প্রশাসকদের একটি বিশেষ নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, রাত ৭টার পর মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং এ বিষয়ে ডিসিদের নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে।

এদিন সকাল ১০টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। তিনি সচিবালয়ে নিজ দফতর থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনস্থলে যান। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আইন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের ডিসি সম্মেলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কৃচ্ছ্রসাধন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় এবার সম্মেলনের বাজেট উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে মাত্র ৭১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম।

সচিব আরও বলেন, একটি দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের পর দেশে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। তাই জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে বোঝাপড়া বাড়াতেই এবারের সম্মেলনের সময় একদিন বাড়িয়ে চার দিন করা হয়েছে।

আগামীকাল সোমবার ডিসিরা জাতীয় সংসদ চত্বরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে এবং মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে সাক্ষাৎ করবেন। আজ রাত সাড়ে ৮টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তাঁদের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

৪ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

৪ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

দেশের পুঁজিবাজারে সপ্তাহের শুরুতে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে একাধিক শেয়ার দামের উল্লেখযোগ্য উত্থান বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। সোমবারের লেনদেনে... বিস্তারিত