বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, পাল্টা হামলার ভয়ে ইসরায়েলে হাই অ্যালার্ট জারি

ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবথেকে বড় সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলন এখন এক রক্তক্ষয়ী মোড় নিয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েল তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে। রয়টার্স জানিয়েছে যে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক দিন ধরে ইরানি শাসকদের বারবার সতর্ক করেছেন যেন তাঁরা বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো ধরণের বলপ্রয়োগ না করেন। শনিবার এক ভাষণে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন যে, নিপীড়িত ইরানি জনগণের ‘সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত’।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত বছর (জুন ২০২৫) ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যে ১২ দিনব্যাপী ভয়াবহ যুদ্ধ হয়েছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি। সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষে বিমান হামলায় অংশ নিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যদি মনে করে বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে, তবে তারা পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালাতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই মূলত নেতানিয়াহু প্রশাসন কোনো ধরণের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। গতকাল শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দীর্ঘ সময় ফোনে কথা বলেছেন। যদিও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে সেখানে ইরানের ভেতরে সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানের ছক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সম্প্রতি ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ার করেছেন। তিনি বলেছেন, “ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর কোনো ধরণের হামলা চালানোর চেষ্টা করে, তবে তার পরিণতি হবে অকল্পনীয় ও ভয়াবহ।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, ইসরায়েল বর্তমানে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যে ইরানের ভেতরে আসলে কী ঘটছে। যদিও ইসরায়েল এখনো সরাসরি ইরানে হামলার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি, তবে তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ এই উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ সালের এই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের গতিপথ।
এবার মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে কঠোর বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সতর্কতা দিয়ে স্পষ্ট করেছে যে, বিদেশি সামরিক পদক্ষেপকে তারা যুদ্ধঘোষণার সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করবে।
রবিবার এক বক্তব্যে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে সামরিকভাবে জড়ায়, তাহলে শুধু ইসরায়েল নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
তিনি আরও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার জবাব দেওয়া হবে বহুমাত্রিকভাবে এবং তা কেবল দেশের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তেহরানের প্রতিক্রিয়া হবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে কেন্দ্র করেই।
আন্তর্জাতিক গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী সংস্থা Council on Foreign Relations–এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত কয়েকটি ঘাঁটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি আঞ্চলিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে।
ইরানে সাম্প্রতিক অস্থিরতার সূচনা হয় তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং জাতীয় মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে। প্রথমে সীমিত পরিসরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তেহরানের এক চিকিৎসক টাইম ম্যাগাজিনকে জানান, রাজধানীর অন্তত ছয়টি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ২১৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। অধিকাংশ মৃত্যুই ঘটেছে সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়ে।
ইরানের চলমান বিক্ষোভ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি তেহরানকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং সতর্ক করেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে যুক্তরাষ্ট্র নীরব থাকবে না।
শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আন্দোলনকারীদের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজনে তাদের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এই মন্তব্য তেহরানের সন্দেহ আরও গভীর করেছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ এবং তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুমকির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির নিরাপত্তা মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ইসরায়েলও সরাসরি এর প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারে।
সূত্র:আল-জাজিরা
আইএসের ওপর মার্কিন বাহিনীর বড় হামলা
মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে যে, সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে পরিচালিত শনিবারের এই হামলাটি ছিল ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’-এর একটি ধারাবাহিক অংশ। গত ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর ওপর আইএসের একটি প্রাণঘাতী হামলার পর এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই সামরিক অভিযানের তীব্রতা বর্ণনা করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আমরা কখনো ভুলব না, কখনো থামব না।” প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার পরিণাম হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং আইএসের যেকোনো ধরণের পুনরুত্থান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের এই অভিযানে ২০টিরও বেশি বিমান অংশ নিয়েছে যা ৩৫টিরও বেশি আইএস লক্ষ্যবস্তুতে ৯০টিরও বেশি নির্ভুল অস্ত্র বা প্রিসিশন উইপন নিক্ষেপ করে। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই, এ-১০, এসি-১৩০জে এবং এমকিউ-৯ ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি জর্ডানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় আইএসের অস্ত্রাগার, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং পরিচিত অবকাঠামোগুলোকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়াই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। যদিও এই হামলায় আইএসের কতজন সদস্য নিহত হয়েছে বা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কত, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ আরও জানিয়েছেন যে, এই সামরিক অভিযান কোনো যুদ্ধের সূচনা নয় বরং এটি একটি প্রতিশোধের ঘোষণা। গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের প্রথম ধাপে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলের ৭০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ১০০টির বেশি বোমা বর্ষণ করা হয়েছিল। সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ইতিমধ্যে অন্তত ২৫ জন আইএস সদস্যকে হত্যা বা আটক করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তেহরানে ড্রেনে পড়ে আছে লাশ! ৪৮ ঘণ্টায় ভয়াবহতম রক্তপাত ইরানে
ইরানের রাজপথ এখন আক্ষরিক অর্থেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের হঠাতে কোনো ধরণের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে। দক্ষিণ তেহরানের কাহরিজাক এলাকা থেকে আসা কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সেখানে যত্রতত্র মানুষের নিথর দেহ পড়ে আছে এবং অনেকগুলো মরদেহ বডি ব্যাগে বন্দি করে রাখা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কেবলমাত্র একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল শেডের কাছেই কয়েক ডজন মরদেহ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এই ধরণের ভয়াবহ দৃশ্য নির্দেশ করছে যে, দেশটির কর্তৃপক্ষ আন্দোলন দমনে ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম পথ বেছে নিয়েছে।
ইন্টারনেট পরিসেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় ইরানের প্রকৃত পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে প্রযুক্তিবিদ ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সহায়তায় কিছু সাহসী নাগরিক দেশটির অভ্যন্তরীণ চিত্র ও ভিডিও বাইরে পাঠাতে সক্ষম হচ্ছেন। এই ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফারদিস, কারাজ এবং পূর্ব তেহরানের আলঘাদির হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। উত্তরাঞ্চলীয় শহর রাশতের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র তাঁর হাসপাতালেই গত দুই দিনে অন্তত ৭০টি মরদেহ আনা হয়েছে। বিক্ষোভ যেখানেই দানা বাঁধছে, সেখানেই স্নাইপার ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বর্তমানে এক ধরণের ব্ল্যাকআউট বা তথ্যহীন পরিস্থিতি বজায় রেখে সুপরিকল্পিতভাবে দমন-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে তেহরানের কেন্দ্রস্থল এবং কারাজের ফাদরিস এলাকায় সবচেয়ে বেশি সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। সাধারণ নাগরিকদের ওপর এমন নির্বিচার গুলি বর্ষণের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। যদিও ইরান সরকার এই তথ্যগুলো অস্বীকার করে আসছে, তবে স্টারলিংকের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া ভিডিওগুলো এই ভয়াবহ গণহত্যার অকাট্য প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মানবাধিকার কর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
ইরানে আইআরজিসির রেডলাইন ঘোষণা
ইরানে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন গণ-আন্দোলন দমনে এবার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস বা আইআরজিসি। আজ শনিবার এক বিশেষ বিবৃতিতে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা তাদের জন্য একটি ‘রেডলাইন’ এবং কোনোভাবেই এই সীমারেখা লঙ্ঘন করতে দেওয়া হবে না। আইআরজিসি দাবি করেছে যে কিছু ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনীও ঘোষণা করেছে যে তারা দেশের কৌশলগত অবকাঠামো এবং জনসম্পত্তি রক্ষায় সব ধরণের কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অর্জন রক্ষা করা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার বলে বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয়েছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হুঁশিয়ারি উত্তেজনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরান সরকার গুলি চালালে যুক্তরাষ্ট্রও চুপ করে বসে থাকবে না এবং প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক জবাব দেওয়া হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের প্রতিবাদী জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এই সাহসী মানুষের পাশে আছে। ওয়াশিংটনের এমন প্রকাশ্য সমর্থন এবং তেহরানের অনড় অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে যে ইরান কি তবে একটি বড় ধরণের যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে ইরানের মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংঘাতময় এবং করুণ। তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে একটি পৌর ভবনে অগ্নিসংযোগের পর সেখানে ব্যাপক উত্তজনা বিরাজ করছে। সরকারি টেলিভিশনগুলোতে বিভিন্ন শহরে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজার দৃশ্য সম্প্রচার করা হলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে বিপুল সংখ্যক সাধারণ বিক্ষোভকারীও গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। বিক্ষোভ ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে রেখেছে। পশ্চিম ইরানের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন যে তাঁর এলাকায় বিপ্লবী গার্ডস সদস্যরা সরাসরি গুলি চালাচ্ছে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে জানা না গেলেও পরিস্থিতি যে হাতের বাইরে চলে গেছে তা স্পষ্ট।
এদিকে নির্বাসিত ইরানি শাহের ছেলে রেজা পাহলভি এই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তাঁরা শুধু রাস্তায় না থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো দখল করে রাখেন। তিনি দেশটির তেল, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। যদি এই খাতের শ্রমিকরা ধর্মঘটে শামিল হন, তবে ইরান সরকারের জন্য অর্থনীতি পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। ট্রাম্পের ‘গুলি চালালে পাল্টা গুলি’ নীতির বিপরীতে খামেনির প্রশাসন কীভাবে বিক্ষোভ সামাল দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক গণজাগরণের ভবিষ্যৎ।
খামেনির ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা বনাম ট্রাম্পের হুমকি: গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে কি ইরান ?
ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা দমনে দেশটির প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে এবার সরাসরি সামরিক হামলার কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান বর্তমানে এক বড় ধরণের বিপদের মধ্যে রয়েছে এবং দেশটির সাধারণ মানুষ এখন এমন সব শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে যা কয়েক সপ্তাহ আগেও ভাবা অসম্ভব ছিল। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে বিক্ষোভকারীদের শহর দখলের দৃশ্য দেখে ওয়াশিংটন এই কঠোর অবস্থানে পৌঁছেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি ইরান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি না চালানোই তাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে, “তোমরা যদি গুলি চালানো শুরু করো, তবে আমরাও পাল্টা গুলি চালানো শুরু করব।” ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ইরান বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গায় পরিণত হয়েছে এবং তিনি আন্তরিকভাবে আশা করেন যে বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকবেন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি এই প্রকাশ্য সমর্থন এবং সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত ইরানজুড়ে উত্তেজনাকে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সরাসরি হুমকির বিপরীতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও তাঁর অবস্থান অত্যন্ত কঠোরভাবে ব্যক্ত করেছেন। আজ সকালে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে খামেনি চলমান এই গণআন্দোলনকে ‘বিদেশি শত্রুর সাজানো চক্রান্ত’ এবং ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র এই বিক্ষোভ উসকে দিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে। খামেনি সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাত ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত এবং এই বিক্ষোভকারীরা মূলত বিদেশিদের হয়ে কাজ করা ভাড়াটে সৈন্য। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদে হামলা চালাচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাদের কোনো ধরণের ছাড় দেওয়া হবে না।
বর্তমানে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত সংঘাতময় এবং রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে যে, গত দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪ জন সদস্য এবং ৪৮ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এবং তেহরানের নাগরিকদের মোবাইলে সতর্কবার্তা পাঠানো হচ্ছে যেন তাঁরা সহিংসতা কবলিত এলাকাগুলো এড়িয়ে চলেন। বিশেষ করে বেলুচ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জাহেদান শহরে জুমার নামাজের পর বড় ধরণের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে গুলিবর্ষণে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কিছুটা নমনীয় হয়ে জনগণের অভিযোগ শোনার আহ্বান জানিয়েছেন, তবে কট্টরপন্থী নেতাদের অনড় অবস্থান দেশটিকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও ইরানে হামলার সম্ভাবনা কম: আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, দেশটির সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আন্দোলন মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণেই সহিংস রূপ নিয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) লেবানন সফরকালে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই দুই দেশ প্রকাশ্যেই বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের প্ররোচনাতেই আন্দোলনের চরিত্র বদলে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে।
আরাগচির মতে, শুরুতে ইরানের জনগণ অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। কিন্তু বিদেশি শক্তি এই স্বাভাবিক অসন্তোষকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেলআবিব ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে কাজ করছে, যাতে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের হুমকি প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, এসব বক্তব্য সত্ত্বেও ইরানে সরাসরি বিদেশি হামলার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ হিসেবে তিনি অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের কৌশলগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানে চলমান এই সংকটের সূচনা হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। ওই দিন তীব্র মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং জাতীয় মুদ্রার রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে তেহরানের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটে নামেন। কয়েক দিনের মধ্যেই সেই আন্দোলন দেশটির ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে সরকারের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ গণআন্দোলনের রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত করে দেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র ও মার্কিন সাময়িকী টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ১৩ দিনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০০ ছাড়িয়েছে, যদিও সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানালেও ইসরাইল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি সরকার যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে বৈরুত থেকে দেওয়া বক্তব্যে আরাগচি জানান, ইরান যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত এবং দেশের জনগণের মনোবল দৃঢ় রয়েছে। তার ভাষায়, বিদেশি হুমকি বা চাপ ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ভাঙতে পারবে না।
-রফিক
খামেনিকে চরম হুমকি! ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প
ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা দমনে দেশটির প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে এবার সরাসরি সামরিক হামলার কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরান বর্তমানে এক বড় ধরণের সংকটে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে তিনি সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষ এখন এমন সব শহরের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ কল্পনা করতে পারেনি। ট্রাম্পের এই কঠোর হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল যখন ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবকটিতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুমকির বিপরীতে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি চলমান বিক্ষোভকে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিদেশি শত্রু—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র—এই বিক্ষোভ উসকে দিয়ে ইরানের জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। খামেনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিযুক্ত করে বলেন যে ট্রাম্পের হাত ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত এবং বিক্ষোভকারীরা বিদেশি শক্তির ‘ভাড়াটে’ হিসেবে কাজ করছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে যারা জনসম্পদে হামলা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে।
বর্তমানে ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংঘাতময় এবং রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪ জন সদস্য এবং ৪৮ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ইরানের কুর্দি ও বালুচ অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে উত্তেজনা এখন চরমে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বেলুচ-অধ্যুষিত জাহেদানে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে বেশ কয়েকজন আহত ও নিহতের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি গোপন রাখতে এবং আন্দোলনকারীদের সমন্বয় রুখতে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।
ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার ও জনগণের মধ্যে এক বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কিছুটা সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সরকারের প্রতি জনগণের প্রকৃত অভিযোগ শোনার কথা বলেছেন, কিন্তু প্রশাসনের উচ্চমহলের কঠোর মনোভাবে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। তেহরানের বহু নাগরিক ইতিমধ্যেই পুলিশ থেকে সতর্কতামূলক বার্তা পেয়েছেন যেন তাঁরা সহিংসতা প্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ‘গুলি ফর গুলি’ নীতি এবং খামেনির অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ও ভয়াবহ যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।
গ্রিনল্যান্ড দখল না নিলে রাশিয়া-চীন আসবে: ট্রাম্প
আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ আরও স্পষ্ট করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো না কোনোভাবে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় এবং প্রয়োজনে কঠোর পথেও এগোতে প্রস্তুত।
রুশ সংবাদমাধ্যম তাস–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৈঠকে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়ে। জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, অর্থনৈতিক আলোচনার চেয়ে কৌশলগত বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র না এগোলে সেখানে রাশিয়া বা চীন প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা ওয়াশিংটনের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
গ্রিনল্যান্ডকে কেন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনতে চান এই প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে মালিকানা প্রয়োজন। লিজ বা অস্থায়ী ব্যবস্থায় কোনো ভূখণ্ডকে পূর্ণভাবে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, শান্তিপূর্ণ সমাধানই তার অগ্রাধিকার, তবে সে পথে অগ্রগতি না হলে বিকল্প পন্থাও বিবেচনায় থাকবে।
এর আগেও ট্রাম্প একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত। ২০২৫ সালের মে মাসে এনবিসি নিউজ–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক বক্তব্যে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীনতা অর্জন করলে শান্তিপূর্ণ উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সে ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে রয়টার্স–কে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস উল্লেখ করেছে, প্রেসিডেন্টের হাতে সব ধরনের বিকল্প সবসময়ই থাকে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, গ্রিনল্যান্ড কেনার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ১৯৫১ সালে ন্যাটোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী দ্বীপটির নিরাপত্তার বড় দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।
-রফিক
তরুণদের রক্তে ভাসছে তেহরান! মেশিনগানে ব্রাশফায়ার ও গণকবর? জ্বলছে ইরান
ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত মাসে তেহরানে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে দেশটির সকল অর্থাৎ ৩১টি প্রদেশেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই গণআন্দোলন দমনে ইরান সরকারের নেওয়া কঠোর অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার জন্ম দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই গত বৃহস্পতিবার এক রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২০০-এর বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরানে আন্দোলনের তীব্রতা চরমে পৌঁছায়। বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে উঠলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কোনো ধরণের সতর্কতা ছাড়াই সরাসরি গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনের ওই প্রতিবেদনে তেহরানের এক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, রাজধানীর ছয়টি হাসপাতালে অন্তত ২০৬ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর ছোঁড়া বুলেটের আঘাতে।
ইরানে এই রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়ন এমন এক সময়ে ঘটছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি খামেনি সরকারকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালায় বা হত্যা করে, তবে এর জন্য দেশটিকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে। যদি এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে এটি স্পষ্ট যে তেহরান প্রশাসন হোয়াইট হাউসের সতর্কতাকে সরাসরি উপেক্ষা করেই রাজপথ রক্তে রাঞ্জিত করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এমন কঠোর অবস্থান হিতে বিপরীত হতে পারে এবং আন্দোলনকে আরও চরমপন্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
টাইম ম্যাগাজিনের সাথে কথা বলা চিকিৎসক নাম গোপন রাখার শর্তে এক লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, শুক্রবার ভোরে হাসপাতালগুলো থেকে এসব মরদেহ দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়েছে। উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। সেখানে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হন। নিহতদের মধ্যে বড় একটি অংশই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি, যারা দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন।
টাইম ম্যাগাজিন উল্লেখ করেছে যে, ইরানের অভ্যন্তরে তথ্য আদান-প্রদানের ওপর কড়াকড়ি থাকায় হতাহতের এই বিশাল সংখ্যা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে শুক্রবার রাতেও তেহরানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে জড়ো হতে দেখা গেছে। গুলির মুখেও রাজপথ না ছাড়ার এই জেদ প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে ইরানে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সেখানে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
সূত্র: টাইমস ম্যাগাজিন
পাঠকের মতামত:
- বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, পাল্টা হামলার ভয়ে ইসরায়েলে হাই অ্যালার্ট জারি
- আইসিসিকে নতুন শর্ত দিয়েছে বিসিবি: বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
- প্রধান বোর্ডে আজ লেনদেন ও ট্রেডের পূর্ণ চিত্র প্রকাশ
- জুলাই বিপ্লব ইস্যুতে ইবিতে আবারও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু
- বিগ ব্যাশে রিশাদের দাপট, প্লে-অফে হোবার্ট
- এবার মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের
- ঝালকাঠিতে শতাধিক হিন্দু নাগরিকের জামায়াতে যোগদান
- ১১ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ
- ১১ জানুয়ারি ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১১ জানুয়ারি ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- বাগেরহাটে এনসিপির শীর্ষ ১২ নেতার একযোগে পদত্যাগ
- উৎপাদন বন্ধ একাধিক তালিকাভুক্ত কোম্পানির, ডিএসইর পরিদর্শন
- ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ফান্ডগুলোর হালনাগাদ এনএভি বিশ্লেষণ
- দুই ১০ বছর মেয়াদি বন্ডে কুপন রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- আগের দিনের উত্থান মুছে দিল আজকের দরপতন
- বোমার বিস্ফোরণে কাঁপছে সীমান্ত: বাসিন্দাদের কান্নায় ভারী বাতাস
- রেমিট্যান্স ও ডলার বাজার: আজকের বৈদেশিক মুদ্রার দর
- নাসাল স্প্রে কি নাকের বারোটা বাজাচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের বড় সতর্কতা
- বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন তাহসান
- শীতের সবজিতে নাস্তায় বৈচিত্র্য: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল ললিপপ
- লিংকডইনে শুধু চাকরি নয়, ক্যারিয়ার গড়তে আরও যা করবেন
- সুস্থ থাকতে পানির পাত্র নির্বাচনে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
- পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন: জামায়াত আমির
- বাংলাদেশ ইস্যুতে আজ ভারত-আইসিসি বৈঠকে যা থাকছে
- টানা ২৬ দিন বন্ধ থাকবে কলেজ! ২০২৬ সালের বড় ছুটির তালিকা জানুন
- আইএসের ওপর মার্কিন বাহিনীর বড় হামলা
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১১ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ ১১ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- তেহরানে ড্রেনে পড়ে আছে লাশ! ৪৮ ঘণ্টায় ভয়াবহতম রক্তপাত ইরানে
- বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত: ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ইরানে আইআরজিসির রেডলাইন ঘোষণা
- মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ায় বিপাকে আইসিসি: জয় শাহর জরুরি বৈঠক
- জেগে উঠেছে মিল্কিওয়ের দানব! নাসার মহাকাশযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ঠান্ডা না কি বিষাক্ত বাতাস? শীতকালীন কাশির নেপথ্যের কারণ
- বয়স অনুযায়ী কার কতটা প্রোটিন দরকার? সঠিক তথ্য জানুন
- পাবনা-১ ও ২ আসনে নির্বাচন স্থগিত করল ইসি
- টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি
- জিয়া ও খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান: জি এম কাদের
- এক গুলশানেই তিন শক্তি! তারেক রহমানের সাথে কূটনীতিকদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- ভাঙছে তাহসান খানের দ্বিতীয় সংসার
- খামেনির ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা বনাম ট্রাম্পের হুমকি: গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে কি ইরান ?
- প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল কবে, যা বলছে অধিদপ্তর
- ঢাকা-৯ আসনে বড় চমক! যে প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চান তাসনিম
- ১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, এখন ভারতের: আসিফ নজরুল
- বিএনপি জাতিকে সঠিক পথ দেখাবে: তারেক রহমান
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ছুটি ঘোষণা
- বুধবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- ০৫ জানুয়ারি আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- দৈনিক এনএভিতে কী বার্তা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা
- শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি, শীর্ষ ২০ শেয়ারের তালিকা বিশ্লেষণ
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- দুই কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ, বাজারে প্রতিক্রিয়া
- ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
- এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার
- এপেক্স ফুটওয়্যারের ডিভিডেন্ড আপডেট
- যেসব এলাকায় তাপমাত্রা নামতে পারে ৭ ডিগ্রিতে
- সরকারি সিকিউরিটিজে লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা








