বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, পাল্টা হামলার ভয়ে ইসরায়েলে হাই অ্যালার্ট জারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১৭:০২:১৪
বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, পাল্টা হামলার ভয়ে ইসরায়েলে হাই অ্যালার্ট জারি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবথেকে বড় সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলন এখন এক রক্তক্ষয়ী মোড় নিয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েল তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে। রয়টার্স জানিয়েছে যে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক দিন ধরে ইরানি শাসকদের বারবার সতর্ক করেছেন যেন তাঁরা বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো ধরণের বলপ্রয়োগ না করেন। শনিবার এক ভাষণে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন যে, নিপীড়িত ইরানি জনগণের ‘সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত’।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত বছর (জুন ২০২৫) ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যে ১২ দিনব্যাপী ভয়াবহ যুদ্ধ হয়েছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি। সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষে বিমান হামলায় অংশ নিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যদি মনে করে বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে, তবে তারা পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালাতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই মূলত নেতানিয়াহু প্রশাসন কোনো ধরণের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। গতকাল শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দীর্ঘ সময় ফোনে কথা বলেছেন। যদিও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে সেখানে ইরানের ভেতরে সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানের ছক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সম্প্রতি ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ার করেছেন। তিনি বলেছেন, “ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর কোনো ধরণের হামলা চালানোর চেষ্টা করে, তবে তার পরিণতি হবে অকল্পনীয় ও ভয়াবহ।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, ইসরায়েল বর্তমানে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যে ইরানের ভেতরে আসলে কী ঘটছে। যদিও ইসরায়েল এখনো সরাসরি ইরানে হামলার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি, তবে তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ এই উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ সালের এই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের গতিপথ।


ইন্দোনেশিয়ার গুহায় মিলল বিশ্বের প্রাচীনতম শৈল্পিক স্বাক্ষর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১১:৪৫:৫৯
ইন্দোনেশিয়ার গুহায় মিলল বিশ্বের প্রাচীনতম শৈল্পিক স্বাক্ষর
ছবি: আল জাজিরা

কল্পনা করুন আজ থেকে প্রায় ৬৭ হাজার ৮০০ বছর আগের এক অন্ধকার চুনাপাথরের গুহা, যেখানে আদিম মানুষের হাতের ছোঁয়ায় জন্ম নিচ্ছে পৃথিবীর প্রথম শিল্পকলা। ইন্দোনেশিয়ার মুনা দ্বীপের গহীনে আবিষ্কৃত এই প্রাচীন হাতের ছাপগুলো কেবল পাথরের গায়ের কোনো নকশা নয়, বরং এটি মানব সভ্যতার শৈল্পিক ইতিহাসের এক নতুন ও বিস্ময়কর দিগন্ত উন্মোচন করেছে যা আগের সকল প্রত্নতাত্ত্বিক রেকর্ডকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। গত বুধবার ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক নিশ্চিত করেছেন যে, এই সুনিপুণ ‘হ্যান্ড স্টেনসিল’গুলোই এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রাচীনতম স্বীকৃত গুহাচিত্র। গুহার দেয়ালে হাত রেখে তার ওপর রঞ্জক পদার্থ বা পিগমেন্ট ফুঁ দিয়ে তৈরি করা এই নকশাগুলো প্রমাণ করে যে, আমাদের আদিম পূর্বপুরুষরা কেবল প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করা শিকারিই ছিলেন না, বরং তারা ছিলেন অত্যন্ত নিপুণ ও ভাবুক শিল্পী। এই আবিষ্কারটি কেবল সুলাওয়েসি অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বকেই বাড়িয়ে দেয়নি, বরং আদিম মানুষের শিল্পবোধের সূচনা ঠিক কবে হয়েছিল, সেই সময়কালকে আরও কয়েক হাজার বছর পিছিয়ে দিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন এজেন্সির (বিআরআইএন) প্রত্নতাত্ত্বিক আধহি অগাস ওক্তাভিয়ানা দীর্ঘ এক দশক ধরে এই সুলাওয়েসি ও মুনা দ্বীপ অঞ্চলে প্রাচীন শিল্পের সন্ধান করছিলেন। অবশেষে ২০১৫ সালে মুনা দ্বীপের একটি চুনাপাথরের গুহায় অপেক্ষাকৃত নতুন কিছু চিত্রের নিচে তিনি এই বিস্ময়কর ছাপগুলোর হদিস পান। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই প্রাচীন হাতের ছাপগুলো সরাসরি দৃশ্যমান ছিল না; বরং এগুলো ঢাকা পড়ে ছিল ঘোড়ায় চড়া মানুষ কিংবা মুরগির মতো আধুনিক কিছু ছবির নিচে। প্রাথমিকভাবে এই অস্পষ্ট ছাপগুলোকে মানুষের হাতের আঙুল হিসেবে প্রমাণ করা গবেষকদের জন্য বেশ কঠিন ছিল। তবে নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর সেখানে আঙুলের সূক্ষ্ম অংশগুলো খুঁজে পাওয়া যায়, যেখানে প্রাচীন শিল্পীরা হাতের আঙুলের ডগাগুলোকে অত্যন্ত যত্ন সহকারে পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। এই বিশেষ শৈলীটি গবেষকদের মধ্যে নতুন কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে, কারণ আঙুলের ডগাগুলো মানুষের সাধারণ আকৃতির চেয়ে কিছুটা তীক্ষ্ণ বা সূক্ষ্ম ছিল, যা হয়তো সেই সময়ের কোনো বিশেষ সাংস্কৃতিক প্রতীক বহন করত।

অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ম্যাক্সিম অ্যাবার্ট এবং অ্যাডাম ব্রামের মতে, এই হাতের ছাপগুলো সুলাওয়েসি অঞ্চলের এক স্বতন্ত্র শিল্পশৈলীকে প্রতিনিধিত্ব করে। গবেষকদের ধারণা, প্রাচীন মানুষেরা হয়তো মানুষের হাতের ছবিটিকে সচেতনভাবেই অন্য কোনো কিছুতে, যেমন পশুর শক্তিশালী নখরে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করেছিলেন। এর পেছনে পশুপাখির সঙ্গে আদিম মানুষের জটিল সম্পর্ক কিংবা কোনো আধ্যাত্মিক বিশ্বাস কাজ করে থাকতে পারে। এই চিত্রগুলোর সঠিক বয়স নির্ধারণ করতে গবেষকরা ‘ইউরেনিয়াম সিরিজ ডেটিং’ নামক এক অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। গুহার দেয়ালে পিগমেন্টের ওপর কয়েক হাজার বছর ধরে জমে থাকা ক্যালসাইটের স্তর থেকে লেজারের মাধ্যমে ইউরেনিয়ামের ক্ষয়ের হার বিশ্লেষণ করে এই ৬৭ হাজার ৮০০ বছরের সময়কালটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি ২০২৪ সালে আবিষ্কৃত পূর্ববর্তী রেকর্ডের চেয়েও প্রায় ১৫ হাজার বছর বেশি পুরোনো।

এই আবিষ্কারটি সুলাওয়েসি হয়ে আদিম মানুষের অভিবাসনের তত্ত্বকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। গবেষক আধহি অগাস ওক্তাভিয়ানার মতে, এই চিত্রগুলো প্রমাণ করে যে আমাদের পূর্বপুরুষরা কেবল সাগর পাড়ি দেওয়া দক্ষ নাবিকই ছিলেন না, বরং তারা তাঁদের যাপিত জীবনের গল্প দেয়ালে ধরে রাখার মতো নিপুণ শিল্পবোধের অধিকারী ছিলেন। এই আবিষ্কারের সঙ্গে প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের এক গভীর যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, কারণ উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মুরুজুগাতেও প্রায় ৫০ হাজার বছরের পুরোনো প্রস্তর খোদাই পাওয়া গেছে। মুনা দ্বীপের এই নতুন সন্ধানটি আদিম মানুষের শৈল্পিক বিকাশের ইতিহাসকে আরও সুপ্রাচীন এবং সমৃদ্ধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল, যা আগামীর নৃবিজ্ঞানীদের জন্য গবেষণার এক নতুন দ্বার খুলে দেবে।

সূত্র: আল জাজিরা


পাকিস্তানে তেলের নতুন খনি: এক কূপেই মিলল বড় সাফল্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১১:৩৬:০৭
পাকিস্তানে তেলের নতুন খনি: এক কূপেই মিলল বড় সাফল্য
ছবিসূত্র : রয়টার্স

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের এই চরম মুহূর্তে জ্বালানি খাতে এক অভাবনীয় ও জাদুকরী সাফল্যের গল্প লিখেছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট কম্পানি লিমিটেড (ওজিডিসিএল)। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট জেলায় অবস্থিত একটি মাত্র অনুসন্ধান কূপ থেকে পরপর তিনবার তেলের সন্ধান পাওয়ার ঘটনা কেবল বিরলই নয়, বরং দেশটির অভ্যন্তরীণ তেল উৎপাদনের প্রায় ১৪.৫ শতাংশ এখন জোগান দেবে এই একটি ক্ষেত্রই। বারাগজাই এক্স-০১ নামের এই অনুসন্ধান কূপটি পাকিস্তানের আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতিকে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে স্বনির্ভরতার নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মাঝে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তেলের এই 'হ্যাটট্রিক' আবিষ্কার দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে পাকিস্তানের ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিতে এক নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে ওজিডিসিএল জানিয়েছে যে, কোহাট জেলার বারাগজাই এক্স–০১ (স্লান্ট) নামক অনুসন্ধান কূপটি থেকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৮.১৫ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফিট প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়েছে। মাটির গভীর স্তরে অবস্থিত সামানা সুক এবং শিনাওয়ারি নামক দুটি স্তরে সফল কারিগরি পরীক্ষার পর এই বিশাল মজুতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। কম্পানির প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন যে, কূপটি অত্যন্ত উচ্চচাপে তেল ও গ্যাস উৎপাদন করছে, যা দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। এই আবিষ্কারের ফলে ওজিডিসিএল-এর পাশাপাশি এর অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলো এবং সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানের হাইড্রোকার্বন মজুত এক লাফে অনেকটা বেড়ে গেল।

এই সাফল্যের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এর ধারাবাহিকতা। ওজিডিসিএল-এর তথ্যমতে, গত এক মাসের মধ্যে বারাগজাই কূপটি থেকে এটি তৃতীয়বারের মতো বড় ধরণের আবিষ্কার। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ডাটা স্তর থেকে এবং গত মাসে প্রথমবার এই কূপে তেলের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। এই তিনটি পর্যায় মিলিয়ে বারাগজাই কূপটি থেকে প্রতিদিন মোট ৯ হাজার ৪৮০ ব্যারেল তেল জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। বর্তমান পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, পাকিস্তানে প্রতিদিনের অভ্যন্তরীণ তেল উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ৬৬ হাজার ব্যারেল, যার প্রায় ১৪.৫ শতাংশ এখন একা এই একটি কূপ থেকেই পাওয়া সম্ভব হবে। এটি পাকিস্তানের জ্বালানি ঘাটতি মেটানোর পাশাপাশি মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করবে যা আমদানিকৃত তেলের পেছনে ব্যয় হতো।

পাকিস্তানের বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। গত বছর থেকেই সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পাঁচটি নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে নতুন ব্লক নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই প্রকল্পগুলোতে ইতিমধ্যেই বড় অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে, যা পাকিস্তানের জ্বালানি খাতের আধুনিকায়নে সহায়ক হবে। বারাগজাই কূপের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, যথাযথ প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে পাকিস্তানের মাটির নিচ থেকেই দেশের প্রয়োজনীয় জ্বালানির বড় অংশ সংগ্রহ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওজিডিসিএল-এর এই হ্যাটট্রিক আবিষ্কার সামনের দিনগুলোতে নতুন ব্লক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আরও আগ্রহী করে তুলবে।


গাজা শান্তি উদ্যোগে বড় মোড়; ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’ ৯ মুসলিম দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ০৯:৫৩:২৬
গাজা শান্তি উদ্যোগে বড় মোড়; ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’ ৯ মুসলিম দেশ
ছবি : সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ৯টি প্রভাবশালী মুসলিম দেশ। বুধবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, পাকিস্তান, মিসর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং কাতার এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই শান্তি উদ্যোগে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পরবর্তীতে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বুধবার ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য তাদের সম্মতির কথা জানায়। এসব দেশ গাজায় একটি স্থায়ী ও টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি টেকসই শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনার একটি অংশ হিসেবে এই ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বোর্ডটির মূল লক্ষ্য হবে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সুসংহত করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার নিশ্চিত করে একটি ন্যায়সঙ্গত শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। এছাড়া গাজায় দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটি গঠন করা হবে, যা এই বোর্ড সরাসরি তত্ত্বাবধান করবে। শান্তি বোর্ডের সদস্য দেশগুলো মনে করে, এই উদ্যোগ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পথ প্রশস্ত করবে এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমে বিশেষ সহায়তা প্রদান করবে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের আওতায় প্রণীত গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিতে এই শান্তি বোর্ডে যোগ দিচ্ছে। পাকিস্তান আশা প্রকাশ করেছে যে, এই বোর্ড গঠনের মাধ্যমে গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। পাকিস্তান বরাবরই একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থক এবং তাদের অবস্থান হলো ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার ভিত্তিতে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যার রাজধানী হবে পবিত্র জেরুজালেম শহর। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনে পাকিস্তান সদস্য হিসেবে অত্যন্ত গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গাজা সংকটের নিরসনে একটি নতুন কূটনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক আইন এবং ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারের বিষয়টি এই শান্তি প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৯টি মুসলিম দেশের এই অংশগ্রহণ ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার গ্রহণযোগ্যতা যেমন বাড়িয়ে দিয়েছে, তেমনি এটি ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে কতটুকু কার্যকর হয় সেদিকেই এখন বিশ্ববাসীর নজর। গাজা পুনর্গঠন এবং সেখানে টেকসই প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির যে লক্ষ্য এই বোর্ড নির্ধারণ করেছে, তা সফল হলে পুরো অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


দুই বিশ্বনেতার ব্যক্তিগত মেসেজ প্রকাশ করলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ০৯:৫১:৩৮
দুই বিশ্বনেতার ব্যক্তিগত মেসেজ প্রকাশ করলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর অংশে অবস্থিত ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক আলোচনার পর ট্রাম্প এখন প্রকাশ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড না পাওয়া গেলে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার শাস্তিস্বরূপ ইউরোপের আটটি দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০ শতাংশ শুল্কও আরোপ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোর মধ্যে চরম অস্বস্তি ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউরোপের প্রভাবশালী নেতারা এখন ট্রাম্পের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রচলিত রীতিনীতি উপেক্ষা করে ইউরোপীয় নেতাদের পাঠানো সেই সব ব্যক্তিগত বার্তা বা মেসেজের স্ক্রিনশট নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ প্রকাশ করে দিয়েছেন। গত ১৯ জানুয়ারি তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর একটি বার্তা প্রকাশ করেন এবং এর পরদিনই অর্থাৎ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নেটো প্রধান মার্ক রুট্টোর পাঠানো আরেকটি ব্যক্তিগত চিঠি জনসমক্ষে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত শিষ্টাচার ভঙ্গ করে এভাবে বার্তা প্রকাশ করার ঘটনায় কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠলেও ট্রাম্প তাঁর অবস্থানে অনড় রয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর পাঠানো সেই বার্তায় দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত হৃদ্যতার সাথে ট্রাম্পকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছেন। মাখোঁ লিখেছিলেন— “আমার প্রিয় বন্ধু (ট্রাম্প), আমরা সিরিয়া নিয়ে সঠিক পথে আছি। ইরান নিয়েও আমরা বড় কিছু করতে পারি। তবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আপনি কী করছেন, তা আমি বুঝতে পারছি না। চলুন ভালো কিছু গড়ার চেষ্টা করি।” এই বার্তায় মাখোঁ দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। প্রথমত, ডাভোস অর্থনৈতিক সম্মেলনের পর প্যারিসে একটি জি-৭ বৈঠক আয়োজন করা, যেখানে ইউক্রেন, ডেনমার্ক, সিরিয়া ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, ডাভোস থেকে ফেরার পথে প্যারিসে ট্রাম্পের সাথে একান্ত নৈশভোজে বসার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে, নেটো প্রধান মার্ক রুট্টোর পাঠানো বার্তাটি ছিল আরও বেশি প্রশংসাসূচক এবং নমনীয়। তিনি ট্রাম্পকে ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট’ ও ‘প্রিয় ডোনাল্ড’ সম্বোধন করে লিখেছেন— “আজ সিরিয়ায় আপনি যা অর্জন করেছেন, তা অসাধারণ। আমি মিডিয়ার মাধ্যমে সিরিয়া, গাজা ও ইউক্রেন নিয়ে আপনার কাজগুলো তুলে ধরব।” গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের কঠোর মনোভাবের প্রেক্ষিতে রুট্টো কিছুটা সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি সমাধান খুঁজে বের করতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি। আপনার প্রিয় মার্ক।” নেটো প্রধানের এই বার্তা থেকে এটি স্পষ্ট যে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সামরিক হুমকির মুখে ইউরোপীয় শক্তিগুলো এক ধরণের সমঝোতা বা আত্মসমর্পণের পথ খুঁজছে। তবে ট্রাম্প যেভাবে একের পর এক গোপন বার্তা ফাঁস করছেন, তাতে ডেনমার্ক এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি


২০২৬-এই গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার: ট্রাম্পের রহস্যময় ছবি ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে জল্পনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৮:৪৭:০৩
২০২৬-এই গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার: ট্রাম্পের রহস্যময় ছবি ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে জল্পনা
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত উদ্দীপক ও ইলাস্ট্রেটেড ছবি পোস্ট করার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশিত ওই ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের তুষারাবৃত ভূমিতে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা স্থাপন করছেন। তাঁর ঠিক পাশেই রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবিটির সামনের অংশে একটি বিশেষ প্ল্যাকার্ড স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে—‘গ্রিনল্যান্ড : মার্কিন অঞ্চল, প্রতিষ্ঠিত ২০২৬’। এই পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্প কেবল গ্রিনল্যান্ডের ছবিই নয়, বরং ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের একটি সম্পাদিত (Edited) ছবিও শেয়ার করেছেন। ওই মূল ছবিটি ছিল ওয়াশিংটনে সফররত ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি বৈঠকের। সেই সময় ইউরোপের নেতারা মূলত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি ফোনালাপ নিয়ে আলোচনা করতে ওয়াশিংটনে গিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পুরোনো ছবি এডিট করে পুনরায় শেয়ার করার উদ্দেশ্য হলো ইউরোপীয় ও রুশ ইস্যুতে তাঁর শক্ত অবস্থানের জানান দেওয়া। তবে গ্রিনল্যান্ডকে সরাসরি মার্কিন অঞ্চল হিসেবে দাবি করার এই ইলাস্ট্রেটেড ছবি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই উত্তেজনার মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে (যা আগে ‘থুলে এয়ার ফোর্স বেস’ নামে পরিচিত ছিল) সামরিক বিমান মোতায়েন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নর্থ আমেরিকান এয়ারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জানিয়েছে যে, তারা উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রিনল্যান্ডের এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে শীঘ্রই বিমান মোতায়েন করবে। আনাদোলু এজেন্সির মঙ্গলবারের (২০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ সংক্রান্ত পোস্টের পর এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পরিসরে বাড়তি মনোযোগ আকর্ষণ করছে। নোরাড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, এই মোতায়েন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি আগে থেকেই পরিকল্পিত বিভিন্ন কার্যক্রমের অংশ।

নোরাড আরও জানিয়েছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই কার্যক্রম মূলত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ডেনমার্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিকতা। সংস্থাটি বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেছে যে, ডেনমার্কের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করেই এই মোতায়েন সম্পন্ন হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরণের কূটনৈতিক অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এমনকি গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষকেও এই সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে আগেভাগেই অবহিত করা হয়েছে। নোরাডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মোতায়েনটি নিয়মিত ‘ডিসপার্সড অপারেশনস’-এর অংশ হিসেবে পরিচালিত হবে, যা উত্তর আমেরিকার আকাশসীমা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত পিটুফিক স্পেস বেস আমেরিকার জন্য একটি কৌশলগত সুরক্ষা কেন্দ্র। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ কেন্দ্র রয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘২০২৬ সালে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ’ সংক্রান্ত বিতর্কিত পোস্ট এবং পিটুফিক ঘাঁটিতে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির এই ঘটনা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে ডেনমার্কের ওপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেক বিশ্লেষক।


৩৪ মিনিটে বিয়ে ও ৭৫ মিনিটে তালাক: সম্পদশালী দেশে পারিবারিক জীবনের অস্থির চিত্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৮:২৮:০৬
৩৪ মিনিটে বিয়ে ও ৭৫ মিনিটে তালাক: সম্পদশালী দেশে পারিবারিক জীবনের অস্থির চিত্র
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোর এক গভীর পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটিতে বিয়ের আয়োজনের পাশাপাশি বিবাহবিচ্ছেদের হারও সমানভাবে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিচার মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও গবেষণা বিভাগের এই প্রতিবেদনটি মূলত শরিয়া নোটারাইজেশন বিভাগের মাসিক কার্যসম্পাদন প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এতে বিয়ে, তালাক, দম্পতিদের পুনর্মিলন, আইনি নোটিশ এবং ইসলাম গ্রহণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিচারিক লেনদেনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে কুয়েতে মোট ১ হাজার ২৫২টি বিয়ে ও পুনর্মিলনসংক্রান্ত লেনদেন নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মানে হলো, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ৪২টি করে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে শুধু নতুন বিয়ের চুক্তির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৪৩টি, যা দৈনিক গড়ে ৩৮টি বিয়ের সমান। সময়ের হিসাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কুয়েতে প্রতি ৩৪ মিনিটে একটি নতুন বিয়ে অথবা বিচ্ছেদ হওয়া দম্পতির পুনর্মিলন নথিভুক্ত হচ্ছে। এই বিয়ের পরিসংখ্যানের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে কুয়েতি দম্পতিরা। মোট বিয়ের ৭৩ দশমিক ৩ শতাংশই ছিল কুয়েতি নাগরিকদের মধ্যে। এছাড়া অ-কুয়েতি দম্পতিদের বিয়ের হার ছিল ১৬ দশমিক ২ শতাংশ। কুয়েতি পুরুষ ও অ-কুয়েতি নারীর মধ্যে বিয়ের হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ এবং অ-কুয়েতি পুরুষ ও কুয়েতি নারীর মধ্যে বিয়ের হার রেকর্ড করা হয়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

বিয়ের এই উৎসবমুখর পরিস্থিতির উল্টো পিঠেই রয়েছে বিচ্ছেদের করুণ চিত্র। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, একই মাসে কুয়েতে মোট ৫৯৫টি বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাকের মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই হিসাবে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ২০টি সংসার ভেঙে যাচ্ছে, অর্থাৎ প্রতি ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে (৭৫ মিনিটে) একটি করে তালাকের ঘটনা ঘটছে। কুয়েতি দম্পতিদের মধ্যে বিচ্ছেদের হার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে, যা মোট বিচ্ছেদের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যেই পারিবারিক ভাঙনের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, ওই মাসে ১০৯টি বিয়ের সত্যায়ন চুক্তি নিবন্ধিত হয়েছে, যার দৈনিক গড় ৩ দশমিক ৬টি। এই চুক্তির ক্ষেত্রে কুয়েতি স্বামী এবং অ-কুয়েতি স্ত্রীর মধ্যে চুক্তির হারই ছিল সর্বাধিক, যা প্রায় ৫৪ শতাংশ। তবে মজার বিষয় হলো, কুয়েতি দম্পতিদের মধ্যে এ ধরনের কোনো বিয়ে সত্যায়ন চুক্তি করার নজির ওই মাসে পাওয়া যায়নি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিয়েসংক্রান্ত প্রায় ৭৪ শতাংশ লেনদেনই সম্পন্ন হয়েছে আদালতের সুনির্দিষ্ট রায়ের ভিত্তিতে। এছাড়া কুয়েতের বাইরে অর্থাৎ বিদেশে বিয়ের চুক্তি নথিভুক্ত করার হার ছিল প্রায় ৮২ শতাংশ, যেখানে সরাসরি শরিয়া নোটারাইজেশন বিভাগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ কার্যক্রম। এই পরিসংখ্যানগুলো কুয়েতের পরিবর্তিত সামাজিক মূল্যবোধ এবং বৈবাহিক আইনি প্রক্রিয়ার একটি স্পষ্ট রূপরেখা প্রদান করে।

সূত্র: গালফ নিউজ


ফরাসি প্রেসিডেন্টের ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ: ২০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৭:১১:০১
ফরাসি প্রেসিডেন্টের ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ: ২০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রস্তাবিত বৈশ্বিক শান্তি পর্ষদ বা ‘বোর্ড অব পিস’-এ ফ্রান্সের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন ও আগ্রাসী কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁকে এই উদ্যোগে যোগ দিতে বাধ্য করতে ট্রাম্প এখন সরাসরি অর্থনৈতিক চাপের পথ বেছে নিয়েছেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ফ্রান্স যদি তাঁর এই শান্তি পর্ষদে যোগ না দেয়, তবে ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেইনের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংঘাত, বিশেষ করে গাজা সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ট্রাম্প এই বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিলেও ফ্রান্সের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় তিনি এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট মাখোঁর প্রতি বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করে বলেন যে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট সম্ভবত খুব শীঘ্রই ক্ষমতা হারাতে পারেন এবং এই কারণেই অনেকে তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ বোর্ডে দেখতে ইচ্ছুক নন। এরপরই তিনি শুল্ক আরোপের প্রসঙ্গটি সামনে এনে বলেন, “ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেইনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসানো হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।” যদিও তিনি পরে যোগ করেন যে, এই বোর্ডে যোগ দেওয়া কোনো দেশের জন্যই বাধ্যতামূলক নয়, তবে তাঁর বক্তব্যের সুর থেকে এটি পরিষ্কার যে তিনি ফ্রান্সকে এই পর্ষদের অন্যতম অংশীদার হিসেবে দেখতে চান। অন্যদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে, এলিসি প্যালেস আপাতত ট্রাম্পের এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্রান্সের মতে, ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত উদ্যোগে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তারা এখনই কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দিতে আগ্রহী নয়।

ট্রাম্পের এই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের পরিকল্পনাটি প্রথম সামনে আসে গত বছরের সেপ্টেম্বরে, যখন তিনি গাজা যুদ্ধ বন্ধের একটি বিশেষ রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলেন। বর্তমানে এই উদ্যোগটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়ার পথে রয়েছে এবং মার্কিন প্রশাসন বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের কাছে এ সংক্রান্ত একটি খসড়া সনদ পাঠিয়েছে। রয়টার্সের হাতে আসা নথিপত্র অনুযায়ী, এই বোর্ডের সদস্য হওয়া কোনো সাধারণ বিষয় নয়; বরং এর জন্য একটি বিশাল অঙ্কের আর্থিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। কোনো রাষ্ট্র যদি তিন বছরের বেশি সময়ের জন্য এই শান্তি পর্ষদের সদস্য হিসেবে থাকতে চায়, তবে সেই দেশকে চাঁদা বাবদ নগদ ১০০ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে। এই আকাশচুম্বী সদস্য ফি এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদদের মধ্যে ব্যাপক সংশয় তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই নতুন উদ্যোগকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের একটি বিকল্প শান্তি পর্ষদ গঠন মূলত জাতিসংঘের বৈশ্বিক ভূমিকা ও কার্যকারিতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার শামিল। জাতিসংঘের বর্তমান কাঠামোকে দুর্বল করার মাধ্যমে ট্রাম্প বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন আধিপত্যের একটি নতুন সমান্তরাল বলয় তৈরি করতে চাইছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের ওপর শুল্ক আরোপের এই হুমকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে পুনরায় উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ শেষ পর্যন্ত সফল হবে নাকি এটি কেবল এক মেরুকেন্দ্রিক ক্ষমতার মহড়া হিসেবেই রয়ে যাবে—তা এখন সময়ের অপেক্ষায়।


মানবাধিকার সংস্থার চেয়েও বড় সংখ্যা; ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে লাশের পাহাড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ০৯:৪৩:৪৪
মানবাধিকার সংস্থার চেয়েও বড় সংখ্যা; ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে লাশের পাহাড়
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং তার পরবর্তী দমন-পীড়নের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দেশটির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই ভয়াবহ প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক নিহতের মধ্যে অন্তত পাঁচশত জন ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন যে, বিক্ষোভ চলাকালীন তথাকথিত সশস্ত্র দাঙ্গাবাজ এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিরীহ ইরানি নাগরিকদের ওপর এই হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি পরবর্তীতে দ্রুত রাজনৈতিক মোড় নেয় এবং আন্দোলনকারীরা সরাসরি সরকার পতনের ডাক দেয়। বিক্ষোভ চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলে গত ৮ জানুয়ারি ইরানজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং আন্দোলনকারীদের দমনে মাঠে নামানো হয় বিশেষ শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে সেই সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো মাঠপর্যায়ের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য ও লাশের সংখ্যা সঠিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।

ইরানি ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, বিক্ষোভ চলাকালীন সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের ঘটনাগুলো ঘটেছে ইরানের উত্তর-পশ্চিমের কুর্দিশ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এবং সেখানেই সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের এই পাঁচ হাজার নিহতের সংখ্যাটি সম্ভবত চূড়ান্ত এবং এটি আর খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে এই বিপুল প্রাণহানির জন্য ইরান সরাসরি বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপকে দায়ী করছে। ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, ইসরাইলসহ বেশ কিছু বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী বিক্ষোভকারীদের সরাসরি অর্থ ও মারণাস্ত্র সরবরাহ করে এই অস্থিরতা উসকে দিয়েছে। এর আগে শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি অভিযুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন যে, দেশের মানুষের এই রক্তপাতের নেপথ্যে থাকা বিদেশি অপরাধীদের কোনোভাবেই বিনা শান্তিতে পার পেতে দেওয়া হবে না।

ইরানের পক্ষ থেকে নিহতের এই সংখ্যা স্বীকার করার আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) তাদের নিজস্ব তদারকির ভিত্তিতে একটি হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছিল। শনিবার তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ৩ হাজার ৩০৮ জনের মৃত্যু সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পেরেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছিল যে, আরও ৪ হাজার ৩৮২ জনের মৃত্যুর খবর তাদের কাছে রয়েছে যা তারা বর্তমানে নিবিড়ভাবে যাচাই করে দেখছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তুলনায় ইরানের সরকারি সূত্রের দেওয়া নিহতের এই সংখ্যা আরও অনেক বড় এবং এটি আন্দোলনের সময়কার ব্যাপক সহিংসতার এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলছে। মূলত দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও সামাজিক স্বাধীনতার দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি এখন ইরানের বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক বড় ধরণের অস্তিত্ব সংকটে রূপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


স্পেনে দুই ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ: প্রাণ হারালেন অন্তত ২১ যাত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ০৯:০৪:২০
স্পেনে দুই ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ: প্রাণ হারালেন অন্তত ২১ যাত্রী
ছবি : সংগৃহীত

স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কর্দোবার উপকণ্ঠে দুটি দ্রুতগামী বা হাই-স্পিড ট্রেনের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২১ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়। সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আহতদের মধ্যে অন্তত ৩০ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, যার ফলে নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে সোমবার সকালে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যদিও দুর্ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা ২৫ বলে দাবি করা হয়েছিল, তবে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভয়াবহ এই ঘটনার সূত্রপাত হয় স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে। মালাগা থেকে মাদ্রিদ অভিমুখে যাত্রা করা ৩১৭ জন যাত্রী বোঝাই একটি হাই-স্পিড ট্রেন কর্দোবা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে আদামুজ নামক এলাকার কাছে পৌঁছালে অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ করে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। দুর্ভাগ্যবশত, লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনটি পাশের লাইন দিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মাদ্রিদ-হুয়েলভাগামী আরেকটি হাই-স্পিড ট্রেনের গতিপথে চলে যায় এবং দুই ট্রেনের মধ্যে প্রচণ্ড সংঘাত ঘটে। এই শক্তিশালী ধাক্কার ফলে দ্বিতীয় ট্রেনটিও তাৎক্ষণিকভাবে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে এবং বগিগুলো দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্দালুসিয়া অঞ্চলের জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে স্থানীয় বাসিন্দারাও এগিয়ে আসেন এবং পরবর্তীতে স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিট উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়ে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে যাত্রীদের বের করে আনার কাজ শুরু করে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার কারণে সমগ্র স্পেন আজ গভীর বেদনায় আচ্ছন্ন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি তিনি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। স্পেনের রাজপরিবারও পৃথক এক বার্তায় এই শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। উদ্ধার অভিযান বর্তমানেও চলমান থাকায় কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে যে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কর্দোবার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি স্পেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার আগে ২০১৩ সালে এক ট্রেন দুর্ঘটনায় ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং তদন্তের স্বার্থে ওই রুটে অন্তত মঙ্গলবার পর্যন্ত সকল প্রকার ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পাঠকের মতামত: