অর্থনীতি, রাজনীতি ও প্রযুক্তির চাপ বিশ্বে অনিশ্চয়তা, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১৪:০৯:৩৪
অর্থনীতি, রাজনীতি ও প্রযুক্তির চাপ বিশ্বে অনিশ্চয়তা, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরে বৈশ্বিক অর্থনীতি ২.৭ শতাংশ হারে সম্প্রসারিত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ, যা ২০২৫ সালের তুলনায় সামান্য কম। সংস্থাটির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কনীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং একাধিক অঞ্চলে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এই ধীরগতির প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছে।

জাতিসংঘের অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ২.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে এই হার এখনও কোভিড-১৯ মহামারির আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির গড় প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৩.২ শতাংশ, যা বর্তমান পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি।

এ বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, অর্থনৈতিক চাপ, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব বিশ্ব ব্যবস্থাকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে। তার মতে, এই পরিবর্তনগুলো অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক ঝুঁকিও তীব্র করছে।

তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা বেশি স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমে আসায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। যদিও সংস্থাটি সতর্ক করেছে, কাঠামোগত দুর্বলতা এখনো বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক সিচুয়েশন অ্যান্ড প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে। তবে অঞ্চলভেদে প্রবৃদ্ধির গতি ভিন্ন হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ২.৮ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে কমে ১.৯ শতাংশে নেমে আসে। শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ থাকলেও আবাসন এবং বাণিজ্যিক নির্মাণ খাতে দুর্বলতা দেশটির প্রবৃদ্ধিকে সীমিত করেছে। জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি সামান্য বেড়ে ২ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২.২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

জাপানের অর্থনীতি চলতি বছরে ০.৯ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ১ শতাংশ হারে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২৫ সালের আনুমানিক ১.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় কম। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কনীতি এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে জাপানের গাড়ি রপ্তানি বিশেষভাবে চাপের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ১.৫ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ১.৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে ২০২৭ সালে তা আবার বেড়ে ১.৬ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘ জানায়, চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বড় উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকবে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বিনিয়োগ এসব অর্থনীতিকে সহায়তা করবে।

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে চিত্র তুলনামূলকভাবে আশাব্যঞ্জক। ২০২৫ সালে এসব দেশের গড় প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশ থাকলেও ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৪.৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া ও তানজানিয়ার অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে ভালো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্ব এশিয়ায় চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা আগের বছরের ৪.৯ শতাংশের চেয়ে কম। চীনের অর্থনীতি ২০২৬ সালে ৪.৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪.৫ শতাংশ হারে বাড়তে পারে, যা ২০২৫ সালের ৪.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির নিচে থাকবে।

আফ্রিকার অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ালেও উচ্চ ঋণ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি বড় বাধা হয়ে থাকছে। অঞ্চলটির প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ৩.৯ শতাংশ থেকে ২০২৭ সালে ৪.১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। একইভাবে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও ২০২৭ সালে তা আবার বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ।

-রফিক


ইরানে মার্কিন হামলার পর বিশ্ববাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১২:১৪:৩২
ইরানে মার্কিন হামলার পর বিশ্ববাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকস্মিক বিমান হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের তেলের দামেই বড় উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা লিখিত চুক্তি সই না হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে।

আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৪০ ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৭ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে; যদিও এর আগের সেশনে ব্রেন্টের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৭ শতাংশ কমে গিয়েছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম আজ ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ২৫ ডলারে স্থিতু হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আজ বৃদ্ধি পেলেও তা গত শুক্রবারের মূল্যের তুলনায় এখনো প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত তাদের সেনাদের সুরক্ষায় ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে সোমবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং পারস্য উপসাগরে মাইন পেতে রাখা কয়েকটি ইরানি নৌযানে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে, সোমবার কৌশলগত হরমুজ প্রণালির অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত বন্দর আব্বাস ও উপকূলীয় এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

মূলত ৩ মাস আগে মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কার্যত উপসাগরীয় অঞ্চলে অ-ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ সীমিত ও অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ (২০ শতাংশ) পথেই বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এক লাফে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। এই মেগা সংকট থেকে উত্তরণে এবং যুদ্ধ বন্ধে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার কাতারের রাজধানী দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকের (MoU) বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির প্রধান শর্ত অনুযায়ী, ইরান আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে তাদের পেতে রাখা সব সামুদ্রিক মাইন সরিয়ে নেবে, যার ফলে সব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ও সুপারট্যাঙ্কার নিরাপদে চলাচল করতে পারবে এবং ইরান অবৈধভাবে ট্রানজিট ফি আদায়ও বন্ধ করবে।

বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, "বিনিয়োগকারীরা গভীর আশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন যে, এই সমঝোতা সফল হলে দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেল ও গ্যাস দায়ী জাহাজগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে।" আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী লাইভ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাকিস্তান, চীন ও ভারতের উদ্দেশ্যে কয়েকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (LNG) জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরে প্রায় তিন মাস অবরুদ্ধ থাকার পর ইরাকি তেলবাহী একটি বিশালাকার সুপারট্যাঙ্কারও অবশেষে চীনের উদ্দেশ্যে তাদের যাত্রা শুরু করেছে।

সূত্র: রয়টার্স


বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ওলটপালট আন্তর্জাতিক বাজার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১০:৩৪:২৮
বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ওলটপালট আন্তর্জাতিক বাজার
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে তীব্র রূপ নেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ ইরানে সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা এবং এর জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণ ও রুপার দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সংকটের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কাই এখন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৫৪৪.৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে জুনের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৪,৫৪৫.৬০ ডলারে পৌঁছেছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বাজারের এই অস্থিরতার নেপথ্যে রয়েছে ইরান ও আমেরিকার সরাসরি সামরিক সংঘাত। তিন মাস ধরে চলমান যুদ্ধাবস্থা অবসানে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দোহায় বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই এই হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান দ্রুত কোনো অগ্রগতির আশা নাকচ করে দিলেও পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছিল। তবে আলোচনার টেবিল গরম থাকতেই মার্কিন বাহিনী সোমবার দক্ষিণ ইরানে মাইন বসানোর চেষ্টায় লিপ্ত থাকা নৌযান এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে বোমাবর্ষণ করে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ লাইনে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এটিকে সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করলেও এই চরম উত্তেজনার সরাসরি প্রভাবে আজ মঙ্গলবার এশীয় বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে গেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম বাড়লে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়, যার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বা ‘সেফ হ্যাভেন’ হিসেবে দেখা হয়, তবে উচ্চ সুদের হারের কারণে এই অনুৎপাদনশীল ধাতুর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয় এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, বাজার এখন চলতি বছরের শেষ দিকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আবারও বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা প্রায় ৫৪ শতাংশ ধরে নিয়েছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও আজ বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৭.৪২ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১,৯৫৮.১৮ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১,৩৮৯.৬৮ ডলারে ঠেকেছে। এর মাঝেই খনি শিল্পে ঘানার সরকার গোল্ড ফিল্ডসের টার্কওয়া খনির ইজারা নবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও নবায়নের আগে কোম্পানির সামগ্রিক পরিকল্পনা নতুন করে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও যেকোনো সময় স্বর্ণ ও রুপার দাম কমতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটির সূত্রমতে, বিশ্ববাজারের এই ধারাবাহিক পতনের প্রভাব দেশের বাজারে পড়তে বাধ্য।

এর আগে সর্বশেষ গত ২৫ মে সকালে দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতু দুটির দাম ভরিতে যথাক্রমে ২,১৫৮ টাকা ও ১১৭ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, যার ফলে বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম রেকর্ড ২ লাখ ৩৮,১২১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২৭,৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৪,৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৮,৬৮৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। আর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫,৭৭৪ টাকায়।

/আশিক


১১ থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন দ্বিগুণ করার প্রস্তাব: স্বস্তিতে লাখ লাখ সাধারণ কর্মচারী

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১৯:৪৮:৩০
১১ থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন দ্বিগুণ করার প্রস্তাব: স্বস্তিতে লাখ লাখ সাধারণ কর্মচারী
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকার অবশেষে বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘নবম পে-স্কেল’ (৯ম বেতন কাঠামো) কার্যকরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তাবিত এই নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন (বেসিক) সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বড় পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে সবচেয়ে কম বেতন পাওয়া ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সরাসরি দ্বিগুণ (১০০ শতাংশ বৃদ্ধি) করার বিষয়েও নীতিগত আলোচনা চলছে।

সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, এই নতুন ও বর্ধিত পে-স্কেলের সুবিধার আওতায় সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার লাখ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক অনটন ও বেতন বৈষম্যের শিকার শিক্ষকমণ্ডলীর মধ্যে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে।

আসন্ন পে-কমিশনের সুপারিশের খসড়া অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত বিভিন্ন গ্রেডের শিক্ষকদের বেতন যেভাবে বাড়তে পারে তার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো

উচ্চতর গ্রেড (৪র্থ থেকে ১০ম)

বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডভুক্ত এমপিও কলেজের অধ্যক্ষদের মূল বেতন ৫০ হাজার টাকা, যা ৫০ শতাংশ বেড়ে হবে ৭৫ হাজার টাকা। ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক বেড়ে দাঁড়াবে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকায়। সপ্তম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের ২৯ হাজার টাকার মূল বেতন বেড়ে হবে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা। নবম গ্রেডের কলেজ প্রভাষকদের ২২ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ৩৩ হাজার টাকা এবং দশম গ্রেডের বিএডধারী সহকারী শিক্ষকদের ১৬ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে দাঁড়াবে ২৪ হাজার টাকায়।

নিম্নতর গ্রেড (১১তম থেকে ২০তম)

এই গ্রেডগুলোর কর্মচারীদের জন্য ৫০ শতাংশ এবং ১০০ শতাংশ (দ্বিগুণ)—উভয় সম্ভাব্য হিসাবই টেবিলে রয়েছে। ১১তম গ্রেডের বিএডবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা; এটি ৫০ শতাংশ বাড়লে ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা এবং দ্বিগুণ হলে ২৫ হাজার টাকা হবে। ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার বেসিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধিতে ১৩ হাজার ৯৫০ টাকা এবং দ্বিগুণে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা হবে। ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী ও আয়াদের বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার বেসিক ৫০ শতাংশ বাড়লে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা এবং শতভাগ বৃদ্ধিতে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের মহাসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান লাগামহীন বাজার পরিস্থিতিতে বিদ্যমান সরকারি বেতনে শিক্ষক-কর্মচারীদের পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈষম্যের শিকার। তাই আসন্ন বাজেটে সরকার এই বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে চূড়ান্ত ও ইতিবাচক ঘোষণা দেবে এবং নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্তদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে বলে পুরো শিক্ষক সমাজ আশাবাদ ব্যক্ত করছে।

/আশিক


আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে সোনা-রুপার নতুন আকাশচুম্বী দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১০:৪৩:৫৮
আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে সোনা-রুপার নতুন আকাশচুম্বী দাম
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম একলাফে অনেকটা বাড়ানোর বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার সব ধরনের ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড গড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে আজ সকাল ১০টা থেকেই এই নতুন মূল্য তালিকা কার্যকর করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস উল্লেখ করেছে, স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে খাঁটি বা তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) সরবরাহ সংকট ও ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। তাই আসন্ন ঈদের বাজার পরিস্থিতি ও সার্বিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে স্বর্ণের এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হবে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ Shorifী হাজার ৬৮৯ টাকা। এর আগে, সর্বশেষ গত ২৩ মে বাজুস স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়েছিল, যা মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও সমান অঙ্কে বাড়িয়ে পূর্বের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল। এই দাম সমন্বয়ের মাধ্যমে চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৬৯ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হলো, যার মধ্যে ৩৭ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩২ বার কমানো হয়েছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য দুঃসংবাদ এনে দেশের বাজারে এবার রুপার দামও একলাফে অনেকটা বাড়িয়েছে বাজুস। রুপার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ১১৭ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫,৭৭৪ টাকা। এছাড়া নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫,৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪,৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩,৫৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৪০ বার রুপার দাম ওলটপালট বা সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২২ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং বাকি ১৮ বার কমানো হয়েছে। ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে সোনা-রুপার এই আকাশচুম্বী দামের কারণে উৎসবের কেনাকাটায় সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

/আশিক


আজকের টাকার রেট: জেনে নিন প্রবাসী মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১১:৫২:৪৭
আজকের টাকার রেট: জেনে নিন প্রবাসী মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি অবস্থান করছেন, যাদের প্রেরিত রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক লেনদেন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে প্রতিদিন বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার জানা প্রবাসীদের পরিবার এবং ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) লেনদেনের সুবিধার্থে বিশ্বের বিভিন্ন প্রধান প্রধান দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সরকারি ও বেসরকারি ক্রয়-বিক্রয়ের বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। আজকের বাজার দর অনুযায়ী, আমেরিকান ইউএস ডলারের ক্রয় মূল্য ১২২ টাকা ১৫ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ১২৩ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ইউরোপীয় ইউরোর ক্রয় মূল্য ১৩৯ টাকা ৮৯ পয়সা ও বিক্রয় মূল্য ১৪৪ টাকা ৭৫ পয়সা এবং ব্রিটেনের পাউন্ডের ক্রয় মূল্য ১৬২ টাকা ১৮ পয়সা ও বিক্রয় মূল্য ১৬৭ টাকা ২৯ পয়সা দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় এশীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের মুদ্রাগুলোর মধ্যে জাপানি ইয়েন ক্রয় ০.৭৬ টাকা ও বিক্রয় ০.৭৮ টাকা, সিঙ্গাপুর ডলার ক্রয় ৯৫.০৩ টাকা ও বিক্রয় ৯৬.৬৩ টাকা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ক্রয় ৩৩.২৫ টাকা ও বিক্রয় ৩৩.৫৪ টাকা এবং সৌদি রিয়ালের ক্রয় মূল্য ৩২ টাকা ৫৩ পয়সা ও বিক্রয় মূল্য ৩২ টাকা ৮৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ক্রয় ৮৬.৪১ টাকা ও বিক্রয় ৮৮.৪২ টাকা, সুইস ফ্রাঁ ক্রয় ১৫৪.১৭ টাকা ও বিক্রয় ১৫৮.৩৫ টাকা, চাইনিজ ইউয়ান ক্রয় ১৭.৮৭ টাকা ও বিক্রয় ১৮.২৩ টাকা এবং ভারতীয় রুপির ক্রয় মূল্য ১ টাকা ২৭ পয়সা ও বিক্রয় মূল্য ১ টাকা ২৯ পয়সা চলছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী এই বিনিময় হার যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে।

/আশিক


তেজাবি সোনার বাজারে ধস: ৩ দিন আগের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করলো বাজুস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১০:৩৯:০২
তেজাবি সোনার বাজারে ধস: ৩ দিন আগের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করলো বাজুস
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ঠিক আগমুহূর্তে দেশের বাজারে আকাশচুম্বী সোনার দামে কিছুটা স্বস্তির মেগা পতন ঘটেছে। মাত্র তিন দিন আগে রেকর্ড দামে পৌঁছানোর পর, গতকাল শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দেশের বাজারে সোনার দাম এক ধাক্কায় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এর অফিশিয়াল সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন থেকে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা, যা শনিবার দুপুর থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর করা হয়েছে।

বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করেছে যে, স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবি সোনা (Pure Gold)-এর সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাওয়ার কারণেই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

বাজুসের নতুন মেগা প্রাইস লিস্ট অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন থেকে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনা কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হবে ২ লাখ ৩৫ thousand ৯৬৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা মিলবে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকায়।

অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২১ মে সকালে বাজুস আন্তর্জাতিক বাজারের অযুহাত দিয়ে ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায় নিয়ে গিয়েছিল।

তবে মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই বর্ধিত দাম পুরোপুরি প্রত্যাহার করে আগের অবস্থানে ফিরে আসায় বিয়ের বাজার এবং ঈদ উৎসবে গয়না কিনতে যাওয়া মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভিত্তিক খামখেয়ালি দাম নির্ধারণ নিয়ে বাজারে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

/আশিক


সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন বৈষম্য কমাতে নতুন পে স্কেলে বড় উদ্যোগ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১১:৪২:০৭
সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন বৈষম্য কমাতে নতুন পে স্কেলে বড় উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ও তীব্র মূল্যস্ফীতির চাপ অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল (9th National Pay Scale)। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরাসরি সরকারি চাকুরিজীবীদের পাশাপাশি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও বড় ধরণের আর্থিক সুখবর আসতে যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির চূড়ান্ত সভায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের বেতন ও পেনশনের বৈষম্য কমিয়ে আনার বিষয়ে বেশ কিছু মেগা ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সচিবালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলে সমাজের নিম্ন স্তরের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে; যার ফলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে এক ধাক্কায় ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার জোর সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব আসায় এবারই প্রথম সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনা হচ্ছে। নতুন এই স্কেলের আওতায় সরকারি চাকুরিজীবীসহ শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সুবিধা পাবেন।

এছাড়া পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনে যাদের মাসিক পেনশন বর্তমানে ২০ হাজার টাকার নিচে, তাদের পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বিশাল বাজেট তৈরি করতে পুরো পে স্কেলটি একযোগে নয়, বরং আগামী তিন অর্থবছরে মোট তিনটি পৃথক ধাপে (প্রথম দুই বছর মূল বেতনের অর্ধেক ও তৃতীয় বছর ভাতা) মাঠপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হবে।

/আশিক


দেশের অর্থনীতি সচল রাখা প্রবাসীদের জন্য আজকের মুদ্রার দর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১১:০৫:৩৩
দেশের অর্থনীতি সচল রাখা প্রবাসীদের জন্য আজকের মুদ্রার দর
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি দিন দিন ব্যাপক সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি দেশের প্রায় কোটিরও বেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন। প্রবাসীদের পাঠানো এই কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার শক্তিতেই মূলত সচল রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চাকা। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুবিধার্থে আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন দেশের প্রধান প্রধান মুদ্রার আনুষ্ঠানিক বিনিময় হার (Exchange Rate) নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল তথ্য অনুসারে, আজ দেশের মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের ক্রয় এবং বিক্রয় উভয় মূল্যই সমানভাবে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে; যার গড় বিনিময় হারও ১২২.৭৫ টাকা। অন্যদিকে ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরো কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো দাম দিচ্ছে ১৪২ টাকা ৭২ পয়সা এবং সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে দাম ধরা হয়েছে ১৪২ টাকা ৭৪ পয়সা। উল্লেখ্য, এই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তালিকায় ২১ মে-এর সর্বশেষ বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী দরগুলো সমন্বয় করা হয়েছে এবং বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী যেকোনো সময় এই বিনিময় হার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

আজকের মুদ্রা বিনিময় হারের চূড়ান্ত তালিকা (২৩ মে ২০২৬)

ইউএস ডলার: ক্রয় মূল্য ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

যুক্তরাজ্য পাউন্ড: ক্রয় মূল্য ১৬৪ টাকা ৮৬ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ১৬৪ টাকা ৯৫ পয়সা।

ইউরো: ক্রয় মূল্য ১৪২ টাকা ৭২ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ১৪২ টাকা ৭৪ পয়সা।

জাপানি ইয়েন: ক্রয় মূল্য ০.৭৭ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ০.৭৭ টাকা।

অস্ট্রেলিয়ান ডলার: ক্রয় মূল্য ৮৭ টাকা ৭৫ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ৮৭ টাকা ৮০ পয়সা।

সিঙ্গাপুর ডলার: ক্রয় মূল্য ৯৬ টাকা ৪১ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ৯৬ টাকা ৪৭ পয়সা।

কানাডিয়ান ডলার: ক্রয় মূল্য ৮৯ টাকা ২৮ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ৮৯ টাকা ২৯ পয়সা।

ইন্ডিয়ান রুপি: ক্রয় মূল্য ১ টাকা ২৬ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ১ টাকা ২৬ পয়সা।

সৌদি রিয়াল: ক্রয় মূল্য ৩২ টাকা ৭৫ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ৩২ টাকা ৭৬ পয়সা।

/আশিক


কোরবানির ঈদের আগে জুয়েলারি পাড়ায় বড় ধস: নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১০:৪৮:৫৫
কোরবানির ঈদের আগে জুয়েলারি পাড়ায় বড় ধস: নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে দেশের বাজারে সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের বড় ধরণের স্বস্তি দিয়ে সব ধরণের স্বর্ণের দাম এক ধাক্কায় একচেটিয়া কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ শনিবার সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের (Pure Gold) দাম আকস্মিক কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আজ সকাল ১০টা থেকেই এই নতুন মূল্যতালিকা দেশজুড়ে কার্যকর করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত নতুন অফিশিয়াল চার্ট অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট ছাড়াও এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণ ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকায়, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকায়। উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ গত ২১ মে স্বর্ণের দাম রেকর্ড বাড়িয়েছিল বাজুস; যেখানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বাজারে রেকর্ড মোট ৬৮ বার স্বর্ণের দামের এই মেগা সমন্বয় বা ওঠানামা করা হয়েছে; যার মধ্যে ৩৬ দফা দাম বাড়ানো হলেও ৩২ দফা দাম কমানোর নজির রয়েছে।

অন্যদিকে, গত বিগত ২০২৫ সালে সারা বছরে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল, যার মাঝে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং মাত্র ২৯ বার কমানো হয়েছিল। তবে স্বর্ণের বাজারে এই বড় ধস নামলেও অলঙ্কার তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনেনি বাজুস; ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা আগের মতোই ৫ হাজার ৬৫৭ টাকাতেই বহাল রয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: