ডিএসইতে মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কারা এগিয়ে

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১২:৫৩:৪৫
ডিএসইতে মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কারা এগিয়ে
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত একাধিক মিউচুয়াল ফান্ড ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের কার্যক্রম শেষে দৈনিক নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) প্রকাশ করেছে। ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ফান্ডের বর্তমান বাজারদামভিত্তিক এনএভি ইউনিটপ্রতি ফেস ভ্যালু ১০ টাকার নিচে অবস্থান করছে, যা বাজারে ফান্ড ইউনিটগুলো ডিসকাউন্টে লেনদেন হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে কিছু ফান্ডে বাজারদামে এনএভি ফেস ভ্যালুর ওপরে উঠে এসেছে, ফলে সেখানে প্রিমিয়াম দেখা যাচ্ছে।

কোন ফান্ডে ইউনিটপ্রতি এনএভি সবচেয়ে বেশি

প্রকাশিত তালিকায় বাজারদামভিত্তিক এনএভির দিক থেকে গ্রামীণ সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড (GRAMEENS2) শীর্ষে রয়েছে। ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি বাজারদামভিত্তিক এনএভি ১৫.৭১ টাকা, যা ফেস ভ্যালুর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একইসঙ্গে ফান্ডটির মোট নেট সম্পদ বাজারদামে ২,৮৬৫.২৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ নয়, বরং ২,৮৬৫,২২৯,৭৯৪ টাকা দেখানো হয়েছে, অর্থাৎ বড় আকারের তহবিল হিসেবে এর অবস্থান স্পষ্ট।

আরেকটি ব্যতিক্রম হিসেবে রিলায়েন্স ওয়ান (RELIANCE1) ফান্ডের বাজারদামভিত্তিক এনএভি ১০.৬৯ টাকা, অর্থাৎ ফেস ভ্যালু ১০ টাকার ওপরে থেকে প্রিমিয়াম ধরে রেখেছে। এই ফান্ডের মোট নেট সম্পদ বাজারদামে ৬৪৬,৯০৯,৪৫১ টাকা।

ফেস ভ্যালুর নিচে থাকা ফান্ডগুলোতে কী বার্তা দিচ্ছে বাজার

বাজারদামে এনএভি ১০ টাকার নিচে থাকা ফান্ডগুলো সংখ্যায় বেশি। উদাহরণ হিসেবে, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১ (NCCBLMF1) এর বাজারদামভিত্তিক এনএভি ৯.০১ টাকা, এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড-১ (LRGLOBMF1) এর ৮.৩৮ টাকা, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড (MBL1STMF) এর ৮.৩৪ টাকা এবং এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড (AIBL1STIMF) এর ৮.৭৬ টাকা রিপোর্ট করা হয়েছে। সাধারণভাবে, এ ধরনের ডিসকাউন্ট বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি, বাজারে তরলতার চাপ, অথবা ফান্ডের পোর্টফোলিওতে নির্দিষ্ট শেয়ারের পারফরম্যান্সজনিত প্রভাবকে নির্দেশ করতে পারে।

এ তালিকায় আরও দেখা যায়, কিছু ফান্ডে বাজারদামে এনএভি তুলনামূলক কম অবস্থানে রয়েছে। যেমন ওয়ান জনতা মিউচুয়াল ফান্ড (1JANATAMF) এর বাজারদামভিত্তিক এনএভি ৫.৯৬ টাকা, ট্রাস্ট ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড-১ (TRUSTB1MF) এর ৬.৪৯ টাকা, এবং পপুলার মিউচুয়াল ফান্ড-১ (POPULAR1MF) এর ৬.৯৭ টাকা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এসব ফান্ডে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ইউনিটপ্রতি মূল্য স্বল্প থাকার কারণে আকর্ষণ অনুভব করেন, কিন্তু সিদ্ধান্তের আগে পোর্টফোলিও গুণগত মান এবং বাজার ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

বাজারদাম বনাম কস্ট প্রাইস এনএভি, ব্যবধান কেন গুরুত্বপূর্ণ

দৈনিক এনএভি প্রকাশে প্রতিটি ফান্ড একইসঙ্গে কস্ট প্রাইসভিত্তিক এনএভিও জানিয়েছে। এখানে একটি সুস্পষ্ট চিত্র দেখা যায় যে কস্ট প্রাইসভিত্তিক এনএভি প্রায় সব ফান্ডেই ১১ থেকে ১৬ টাকার মধ্যে রয়েছে, অর্থাৎ ফান্ডগুলোর হিসাবপত্রে ক্রয়মূল্য ধরে সম্পদের মূল্যায়ন তুলনামূলক বেশি। যেমন ১এসটি প্রাইম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড (1STPRIMFMF) এর কস্ট প্রাইসভিত্তিক এনএভি ১৬.৭২ টাকা, কিন্তু বাজারদামে এনএভি ৮.২৬ টাকা। এ ধরনের বড় ব্যবধান সাধারণত বোঝায় যে বাজারে ফান্ডের অন্তর্নিহিত সম্পদের বর্তমান মূল্যায়ন কস্ট ভ্যালুর তুলনায় দুর্বল, অথবা বাজারে ইউনিটের চাহিদা পর্যাপ্ত নয়।

তবে কিছু ফান্ডে ব্যবধান তুলনামূলক কম। উদাহরণ হিসেবে রিলায়েন্স ওয়ান (RELIANCE1) এর কস্ট প্রাইসভিত্তিক এনএভি ১১.২৯ টাকা এবং বাজারদামে ১০.৬৯ টাকা, অর্থাৎ ব্যবধান সীমিত। এ ধরনের ক্ষেত্রে বাজারের মূল্যায়ন তুলনামূলক স্থিতিশীল বলে মনে করা হয়।

মোট নেট সম্পদের আকারে কারা এগিয়ে

মোট নেট সম্পদ বিবেচনায় সবচেয়ে বড় তহবিলগুলোর একটি হিসেবে ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড (FBFIF) এর অবস্থান উল্লেখযোগ্য। ফান্ডটির বাজারদামে মোট নেট সম্পদ ৫,৪৪৪,০৬২,৬০১ টাকা, এবং কস্ট প্রাইসে ৮,৮৩৬,৫০৯,৫৪৬ টাকা দেখানো হয়েছে। একইভাবে, ট্রাস্ট ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড-১ (TRUSTB1MF) এর মোট নেট সম্পদ বাজারদামে ১,৯৭১,০৯১,৪১৬ টাকা, যা আকারে বড় তহবিল হিসেবে এটিকেও সামনে আনে।

অন্যদিকে, তুলনামূলক ছোট আকারের তহবিল হিসেবে ১এসটি প্রাইম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড (1STPRIMFMF) এর বাজারদামে মোট নেট সম্পদ ১৬৫,১১৫,০৯৬.৬৭ টাকা রিপোর্ট করা হয়েছে। আকারের এই পার্থক্য বাজারে ইউনিটের তারল্য, চাহিদা ও বিনিয়োগকারীর আগ্রহে বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রাসঙ্গিক সতর্কতা

দৈনিক এনএভি তথ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও শুধু এনএভি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সাধারণভাবে, ফান্ডের পোর্টফোলিও কাঠামো, ফান্ড ম্যানেজমেন্টের পারফরম্যান্স, ইউনিটের বাজারদর, লেনদেনের তারল্য এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়াই অধিক বাস্তবসম্মত। বিশেষ করে যেসব ফান্ড দীর্ঘ সময় ধরে ডিসকাউন্টে থাকে, সেখানে ঝুঁকি ও সুযোগ উভয়ই থাকতে পারে।

-রফিক


৭ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৫:০৪:১৬
৭ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বুধবারের লেনদেন শেষ হয়েছে মিশ্র প্রবণতার মধ্য দিয়ে। মোট ৩৮৮টি শেয়ার ও সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে ১৯৩টির দর বেড়েছে, ১৩১টির দর কমেছে এবং ৬৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একইসঙ্গে আশাবাদ ও সতর্কতার মনোভাব কাজ করেছে।

ক্যাটাগরি ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২০৫টি শেয়ারের মধ্যে ১০৬টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, বিপরীতে ৬৫টির দর কমেছে। এটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দেয়। বি ক্যাটাগরিতে ৮০টি শেয়ারের মধ্যে ৪১টি বেড়েছে এবং ২৬টি কমেছে, যা মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোতেও আগ্রহ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত বহন করে।

অন্যদিকে, জেড ক্যাটাগরিতে ১০৩টি শেয়ার লেনদেন হলেও সেখানে উত্থান ও পতনের সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি ছিল। ৪৬টি শেয়ারের দর বাড়লেও ৪০টির দর কমেছে, যা আর্থিকভাবে দুর্বল বা অনিয়মিত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের দ্বিধাগ্রস্ত মনোভাবকে তুলে ধরে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে আজ কিছুটা চাপ লক্ষ্য করা গেছে। মোট ৩৪টি ফান্ড লেনদেনে অংশ নিলেও এর মধ্যে মাত্র ৫টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ৯টির দর কমেছে এবং ২০টি অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদি মুনাফা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইউনিট দামের স্থবিরতা এ খাতে প্রভাব ফেলেছে।

লেনদেন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আজ মোট ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। মোট শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৭০ লাখ, আর আর্থিক মূল্যে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪৬৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এই পরিসংখ্যান সাম্প্রতিক দিনের তুলনায় বাজারে সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।

বাজার মূলধনের দিক থেকে ডিএসইতে সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। ইকুইটি সেগমেন্টে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, এবং ডেট সিকিউরিটিজে প্রায় ৩৫ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট বাজার মূলধন অতিক্রম করেছে ৬৮ লাখ কোটি টাকা, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থার জায়গা তৈরি করে।

আজকের ব্লক মার্কেট লেনদেনে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শেয়ারে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। বিশেষ করে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওরিয়ন ইনফিউশন, গ্রামীণফোন এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকের শেয়ার ব্লক ট্রানজ্যাকশনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। মোট ২৪টি সিকিউরিটিজে ৬৯টি ব্লক ট্রেড সম্পন্ন হয়ে প্রায় ২৫৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, আজকের ডিএসই বাজারচিত্রে স্পষ্ট হয় যে বাজারে গতি থাকলেও বিনিয়োগকারীরা এখনো পুরোপুরি ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নন। শক্তিশালী কোম্পানি ও ব্লক মার্কেটের শেয়ারে আগ্রহ বাড়লেও দুর্বল খাতগুলোতে সতর্কতা বজায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনগুলোতে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও কর্পোরেট পারফরম্যান্স বাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।

-রফিক


ডিএসইতে আজ  দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৫:০০:২৯
ডিএসইতে আজ  দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বুধবারের লেনদেন শেষে কয়েকটি শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের দর তুলনায় দেখা যায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগ তহবিলভিত্তিক শেয়ারগুলোতেই সবচেয়ে বেশি বিক্রিচাপ তৈরি হয়েছে, যা বাজারে সতর্ক মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দিনের সর্বোচ্চ দরপতনকারী শেয়ারের তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে ফেয়ারইস্ট ফাইন্যান্স এবং আইএলএফএসএল। উভয় কোম্পানির শেয়ারই আগের দিনের ৫৭ পয়সা থেকে কমে ৫১ পয়সায় নেমে আসে, যা শতকরা প্রায় ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ দরপতনের প্রতিফলন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের আর্থিক দুর্বলতা ও আস্থার সংকট এই পতনের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে ৫৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। একইভাবে প্রিমিয়ার লিজিং–এর শেয়ার প্রায় ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ দর হারিয়ে ৪৯ পয়সায় নেমে এসেছে।

তালিকার পঞ্চম স্থানে থাকা প্রাইম ফাইন্যান্স–এর শেয়ারদর ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ১ টাকা ১০ পয়সায় সীমাবদ্ধ থাকে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এই দরপতনের অন্যতম কারণ।

ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে পিপলস লিজিং। দিন শেষে শেয়ারটির দর প্রায় ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমে ৪৭ পয়সায় দাঁড়ায়। এর পাশাপাশি শিল্প খাত থেকে আরএসআরএম স্টিল–এর শেয়ারও উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে পড়ে প্রায় ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ দর হারিয়েছে।

এছাড়া আর্থিক খাতের আরও দুটি শেয়ার বিআইএফসি এবং জিএসপি ফাইন্যান্স উভয়ই প্রায় ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ দরপতন নিয়ে তালিকায় উঠে এসেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বাড়ায় এসব শেয়ারে বিক্রি বেড়েছে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।

দশম অবস্থানে থাকা ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড–এর ইউনিট দরও প্রায় ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ কমে ৩ টাকা ১০ পয়সায় নেমে আসে, যা মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও স্বল্পমেয়াদি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, আজকের শীর্ষ দরপতনকারী শেয়ারগুলোর তালিকা বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয় যে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগ তহবিলভিত্তিক কোম্পানিগুলোর ওপরই বিক্রির চাপ সবচেয়ে বেশি ছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছতা, আর্থিক পুনর্গঠন ও আস্থার উন্নতি না হলে এসব শেয়ারে স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।

-রফিক


শেয়ারবাজারে আজকের শীর্ষ লাভবান ১০ কোম্পানি

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৪:৫৮:০৬
শেয়ারবাজারে আজকের শীর্ষ লাভবান ১০ কোম্পানি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বুধবার লেনদেন শেষে নির্বাচিত কিছু শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের দর তুলনায় বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংকিং ও শিল্প খাতের কয়েকটি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে এসেছে, যার ফলে এসব শেয়ারের দামে শক্তিশালী উত্থান ঘটে।

দিনের শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক। কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিনের ৫ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়ায়, যা শতকরা প্রায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। ব্যাংক খাতে বিনিয়োগকারীদের নতুন করে আগ্রহ বৃদ্ধির প্রতিফলন হিসেবে এই উত্থানকে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আনোয়ার গ্যালভানাইজিং–এর শেয়ারদর ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯১ টাকা ৫০ পয়সায় বন্ধ হয়। দিনভর শেয়ারটির লেনদেন পরিসরে ওঠানামা থাকলেও শেষ পর্যন্ত শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে এসবিএসি ব্যাংক এবং এবি ব্যাংক। এসবিএসি ব্যাংকের শেয়ার প্রায় ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং এবি ব্যাংকের শেয়ার প্রায় ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে দিন শেষ করে, যা ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক ইতিবাচক সেন্টিমেন্টের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্যাংক খাতের আরেকটি শেয়ার রূপালী ব্যাংক পঞ্চম স্থানে উঠে আসে। শেয়ারটির দর ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে ২০ টাকা ২০ পয়সায় পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

শিল্প খাত থেকে রাক সিরামিক এবং লাভেলো–এর শেয়ারও শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারীদের তালিকায় জায়গা করে নেয়। রাক সিরামিকের শেয়ার ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং লাভেলোর শেয়ার ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা শিল্প খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে, উচ্চ দামের শেয়ার হিসেবে পরিচিত জিকিউ বলপেন–এর শেয়ারদরও ৪ শতাংশ বেড়ে ৫০৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে সমতা লেদার এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক যথাক্রমে প্রায় ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ ও ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষ দশে অবস্থান নিশ্চিত করেছে।

সার্বিকভাবে, আজকের শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংকিং খাতের শেয়ারগুলোর আধিপত্য বজায় থাকলেও শিল্প ও ভোগ্যপণ্য খাতের কিছু কোম্পানিও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক সেন্টিমেন্ট অব্যাহত থাকলে এসব শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়তে পারে।

-রফিক


অলিম্পিক ও কেডিএসের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৩:০৮:৩৬
অলিম্পিক ও কেডিএসের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
ছবি: সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই প্রতিষ্ঠান Olympic Industries Limited এবং KDS Accessories Limited তাদের ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ যথাসময়ে বিতরণ সম্পন্ন করেছে। কোম্পানি সূত্রে জানানো হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড সংশ্লিষ্ট সব শেয়ারহোল্ডারের মধ্যে ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে।

বাজারে পাঠানো পৃথক প্রকাশনায় অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড জানিয়েছে, নির্ধারিত রেকর্ড ডেট অনুযায়ী যেসব বিনিয়োগকারী লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তাদের ব্যাংক বা বিও হিসাবের মাধ্যমে নগদ অর্থ হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশ প্রাপ্তির অপেক্ষায় থাকা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

একই দিনে প্রকাশিত আরেক ঘোষণায় কেডিএস অ্যাকসেসরিজ লিমিটেডও নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ সফলভাবে বিতরণ করা হয়েছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লভ্যাংশ পরিশোধে কোনো ধরনের জটিলতা হয়নি এবং সব যোগ্য বিনিয়োগকারী সময়মতো অর্থ পেয়েছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষিত লভ্যাংশ বাস্তবে পরিশোধ করা বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন অনেক প্রতিষ্ঠান সময়মতো লভ্যাংশ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, সেখানে অলিম্পিক ও কেডিএসের এই উদ্যোগ করপোরেট শাসনব্যবস্থার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, নিয়মিত নগদ লভ্যাংশ প্রদান একটি কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা, নগদ প্রবাহের শক্তি এবং শেয়ারহোল্ডারবান্ধব নীতির প্রতিফলন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, লভ্যাংশ বিতরণ সম্পন্ন হওয়ার খবরে আগামী লেনদেন দিবসগুলোতে অলিম্পিক ও কেডিএসের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের নজর বাড়তে পারে। বিশেষ করে আয়ভিত্তিক বিনিয়োগকারীরা এই ধরনের কোম্পানিকে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

-রাফসান


ডিএসইতে বন্ড আপডেট, চার ট্রেজারি বন্ডের রেকর্ড ডেট

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১২:৫৯:৫৯
ডিএসইতে বন্ড আপডেট, চার ট্রেজারি বন্ডের রেকর্ড ডেট
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগকারী ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি জানিয়েছে, চারটি দীর্ঘমেয়াদি সরকারী ট্রেজারি বন্ডের কুপন পেমেন্ট পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখকে রেকর্ড ডেট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই তারিখে যেসব বিনিয়োগকারীর নামে সংশ্লিষ্ট বন্ড নিবন্ধিত থাকবে, কেবল তারাই নির্ধারিত কুপন পেমেন্ট পাওয়ার অধিকারী হবেন।এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে Dhaka Stock Exchange PLC।

ডিএসইর ঘোষণায় বলা হয়েছে, ১৫ বছর মেয়াদি 18/07/2027 মেয়াদপূর্তির বাংলাদেশ সরকার ট্রেজারি বন্ড (TB15Y0727)-এর কুপন পেমেন্টের রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ জানুয়ারি। একই সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি 18/01/2027 মেয়াদপূর্তির ট্রেজারি বন্ড (TB15Y0127)-এর ক্ষেত্রেও একই তারিখ প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, এই দুই দীর্ঘমেয়াদি বন্ডে বিনিয়োগকারীরা যদি নির্ধারিত রেকর্ড ডেটের মধ্যে মালিকানা বজায় রাখেন, তবেই তারা পরবর্তী কুপন আয়ের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবেন।

এছাড়া, সরকারী সিকিউরিটিজ বাজারে বহুল আলোচিত ১০ বছর মেয়াদি 18/01/2027 ট্রেজারি বন্ড (TB10Y0127)-এর কুপন পেমেন্টের ক্ষেত্রেও একই রেকর্ড ডেট ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি বন্ড বিনিয়োগকারীদের জন্যও জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

একই ধারাবাহিকতায়, ১৫ বছর মেয়াদি 16/01/2028 মেয়াদপূর্তির ট্রেজারি বন্ড (TB15Y0128)-এর কুপন পেমেন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রেও ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখকেই রেকর্ড ডেট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। চারটি বন্ডের ক্ষেত্রেই একক রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করায় সরকারী বন্ড বাজারে কুপন ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত ও পূর্বানুমানযোগ্য কাঠামো তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রেকর্ড ডেট ঘোষণার ফলে বন্ড বাজারে স্বল্পমেয়াদি লেনদেনে কিছুটা গতিশীলতা দেখা দিতে পারে। কারণ অনেক বিনিয়োগকারী কুপন পাওয়ার উদ্দেশ্যে রেকর্ড ডেটের আগেই বন্ড ধারণ নিশ্চিত করতে চান, আবার কেউ কেউ রেকর্ড ডেটের পর বিক্রির পরিকল্পনা করে থাকেন। ফলে নির্ধারিত তারিখের আগে ও পরে বন্ডের চাহিদা ও দামে স্বাভাবিক ওঠানামা লক্ষ্য করা যেতে পারে।

বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের ভাষায়, সরকারী ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগকারীদের জন্য রেকর্ড ডেট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। কারণ এই তারিখ মিস করলে কুপন পেমেন্ট থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যদিও বন্ডটি পরবর্তীতে ধারণে থাকলেও। তাই বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, নিজ নিজ ডিপোজিটরি অ্যাকাউন্ট ও ব্রোকারেজ হিসাব সময়মতো যাচাই করে মালিকানা নিশ্চিত করার জন্য।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখটি সরকারী ট্রেজারি বন্ড বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। একাধিক মেয়াদের বন্ডে একই দিনে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ বিনিয়োগ পরিকল্পনা সহজ করার পাশাপাশি বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

-রাফসান


সূচক বাড়ছে, ভলিউম ৯ কোটির বেশি, কী বোঝায়

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১২:৫৩:৩০
সূচক বাড়ছে, ভলিউম ৯ কোটির বেশি, কী বোঝায়
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বুধবার ৭ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪ মিনিট পর্যন্ত বাজারচিত্রে স্পষ্টভাবে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী প্রধান সূচকগুলো একযোগে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে, যা বাজারে ক্রেতা-পক্ষের সক্রিয় উপস্থিতি নির্দেশ করে।

ডিএসইএক্স সূচক দাঁড়িয়েছে ৪,৯৯৮.৯৩ পয়েন্টে। আগের দিনের তুলনায় সূচক বেড়েছে ৪৫.৩৩ পয়েন্ট, শতাংশ হিসাবে প্রায় ০.৯১৫ শতাংশ। একই সময়ে ডিএসইএস সূচক ৬.১৮ পয়েন্ট বেড়ে ১,০১১.৬৫ পয়েন্টে উঠেছে, যা প্রায় ০.৬১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। ব্লু-চিপ শেয়ারসমৃদ্ধ ডিএস৩০ সূচকও ১৭.১২ পয়েন্ট বেড়ে ১,৯১২.৬৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে, শতাংশ হিসাবে প্রায় ০.৯০৩ শতাংশ।

দুপুর ১২:৪৪ মিনিট পর্যন্ত মোট লেনদেন (ট্রেড) হয়েছে ৭২,১১২টি। মোট ভলিউম দাঁড়িয়েছে ৯০,৪৭৪,৪২৩ শেয়ার বা ইউনিটে। আর লেনদেনের মোট মূল্য হয়েছে ২,৩০৮.৯৭২ মিলিয়ন টাকা, অর্থাৎ প্রায় ২,৩০৯ কোটি টাকার কাছাকাছি পরিমাণের নগদ প্রবাহ বাজারে ঘুরেছে বলে তথ্য বলছে।

একই সঙ্গে লক্ষ্যণীয়, সূচকের উত্থানের তুলনায় লেনদেন মূল্য মাঝারি পর্যায়ে আছে। এই ধরনের পরিস্থিতি সাধারণত ইঙ্গিত দেয় যে বাজারে কিছু নির্বাচিত শেয়ার বা খাতে ক্রয়চাপ বেশি কাজ করছে, পাশাপাশি আগের দিনের তুলনায় বিক্রেতার চাপ সীমিত থাকায় সূচক তুলনামূলকভাবে শক্ত থাকতে পারছে।

বাজারের সামগ্রিক স্বাস্থ্য বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো ব্রেডথ, অর্থাৎ কতটি শেয়ার বেড়েছে আর কতটি কমেছে। আজকের আপডেটে দেখা যাচ্ছে ২৩০টি কোম্পানি বা ইস্যুর দাম বেড়েছে, ৮৬টির দাম কমেছে এবং ৬৮টি অপরিবর্তিত রয়েছে।

এই সংখ্যাগুলো দেখায়, উত্থানটি কেবল কয়েকটি শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত ভিত্তিতে বাজারে ইতিবাচকতা ছড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীর মনোভাবের দিক থেকে এটি সাধারণত স্বস্তিদায়ক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।

দুপুর ১২:৪৪ পর্যন্ত সূচকের অবস্থান ৫০০০ পয়েন্টের খুব কাছাকাছি। এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক স্তর বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ অনেক বিনিয়োগকারী এই পর্যায়ে লাভ তুলে নেওয়া বা নতুন করে পজিশন নেওয়ার সিদ্ধান্তে যায়। ফলে পরবর্তী লেনদেন পর্বে সূচক এই স্তরের ওপরে স্থিতি গড়ে তুলতে পারে কি না, সেটি বাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশ সম্পর্কে ইঙ্গিত দিতে পারে।

-রাফসান


০৬ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৮:২২:৪১
০৬ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ

মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারি ২০২৬ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে মিশ্র প্রবণতায়। দিনজুড়ে বেশিরভাগ শেয়ারের দামে পতন দেখা গেলেও কিছু শেয়ারে দরবৃদ্ধি হয়েছে। লেনদেন শেষে দেখা যায়, দর কমেছে বেশি সংখ্যক শেয়ারের, যা বাজারে নেতিবাচক চাপের ইঙ্গিত দেয়।

শেয়ার দর পরিস্থিতি (সব ক্যাটাগরি)

দিনের লেনদেনে মোট ৩৯১টি সিকিউরিটিজ অংশ নেয়। এর মধ্যে—

দর বেড়েছে ১০৮টির

দর কমেছে ২২৭টির

দর অপরিবর্তিত ছিল ৫৬টির

ক্যাটাগরি অনুযায়ী চিত্র

A ক্যাটাগরিতে মোট ২০৪টি শেয়ার লেনদেন হয়।

দর বেড়েছে: ৭৬টি

দর কমেছে: ৯৬টি

অপরিবর্তিত: ৩২টি

B ক্যাটাগরি মোট ৮১টি শেয়ার লেনদেন হয়।

দর বেড়েছে: ২২টি

দর কমেছে: ৪৩টি

অপরিবর্তিত: ১৬টি

N ক্যাটাগরি এদিন মাত্র ১টি শেয়ার লেনদেন হয়, যার দর অপরিবর্তিত ছিল।

Z ক্যাটাগরি এই ক্যাটাগরিতে চাপ বেশি ছিল। মোট ১০৫টি শেয়ার লেনদেন হয়।

দর বেড়েছে: ১০টি

দর কমেছে: ৮৮টি

অপরিবর্তিত: ৭টি

মিউচুয়াল ফান্ড, বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজ

মিউচুয়াল ফান্ড (MF)মোট ৩৩টি ফান্ড লেনদেন হয়।

দর বেড়েছে: ৬টি

দর কমেছে: ৯টি

অপরিবর্তিত: ১৮টি

করপোরেট বন্ড (CB)

দর কমেছে: ১টি

অপরিবর্তিত: ২টি

সরকারি সিকিউরিটিজ (G-Sec)

দর বেড়েছে: ১টি

দর কমেছে: ২টি

লেনদেনের সারসংক্ষেপ

দিনটিতে ডিএসইতে মোট—

১,৪৫,৯৬০টি ট্রেড সম্পন্ন হয়

লেনদেন হওয়া শেয়ারের পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি ৮ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৯টি

মোট লেনদেনের মূল্য দাঁড়ায় ৪৫৪ কোটি ৬৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯৭২ টাকা

বাজার মূলধন

লেনদেন শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে—

ইকুইটি: ৩২ লাখ ৫১ হাজার ১৮ কোটি টাকা

মিউচুয়াল ফান্ড: ২ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা

ঋণপত্র (ডেট সিকিউরিটিজ): ৩৫ লাখ ২০ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা

সব মিলিয়ে মোট বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৬৭ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য পরিবর্তিত হয়েছে।

ব্লক মার্কেটের চিত্র

দিনটিতে ব্লক মার্কেটে ৩০টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে।মোট—

১০৫টি ট্রেড

৩৬ লাখ ৮২ হাজার ৭১১টি শেয়ার

লেনদেন মূল্য ৩৩৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা

ব্লক মার্কেটে বড় অঙ্কের লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ফাইন ফুডস, গ্রামীণফোন, রেনাটা, স্কয়ার ফার্মা, জিকিউ বলপেন, ওরিয়ন ইনফিউশন ও সিটি ব্যাংক।

সার্বিক মূল্যায়ন

দিনের লেনদেনে Z ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোর বড় দরপতন এবং মোট পতনশীল শেয়ারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাজারে কিছুটা নেতিবাচক চাপ দেখা গেছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ ও মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বজায় ছিল।


৬ জানুয়ারির ডিএসই লেনদেনে টপ টেন গেইনার তালিকা প্রকাশ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৮:১৩:৩৭
৬ জানুয়ারির ডিএসই লেনদেনে টপ টেন গেইনার তালিকা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারি ২০২৬ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। দিন শেষে ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইস (YCP) বিবেচনায় প্রকাশিত টপ টেন গেইনার তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে জিকিউ বলপেন (GQBALLPEN)।

ক্লোজিং প্রাইস ও YCP অনুযায়ী শীর্ষ ১০ গেইনার

এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে জিকিউ বলপেন (GQBALLPEN) শেয়ারের। কোম্পানিটির শেয়ার দিনের সর্বোচ্চ ৪৮৮ টাকা ৯০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ৪৫৩ টাকা ৭০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। দিন শেষে শেয়ারটির ক্লোজিং প্রাইস দাঁড়ায় ৪৮৭ টাকা ৫০ পয়সা, যা আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইস ৪৫৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৭.৪৫ শতাংশ বেশি।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা টেকনো ড্রাগস (TECHNODRUG) শেয়ারের দর বেড়েছে ৬.৫০ শতাংশ। শেয়ারটি দিন শেষে ৩১ টাকা ১০ পয়সায় বন্ধ হয়, আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইস ছিল ২৯ টাকা ২০ পয়সা।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে এনভয় টেক্সটাইল (ENVOYTEX)। শেয়ারটির দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ৫০ পয়সা, যা আগের দিনের তুলনায় ৪.৪৬ শতাংশ বেশি।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা ১ জনতা মিউচুয়াল ফান্ড (1JANATAMF) শেয়ারের দর বেড়েছে ৪ শতাংশ, ক্লোজিং প্রাইস ছিল ২ টাকা ৬০ পয়সা।

পঞ্চম স্থানে রয়েছে এসপি সিরামিকস (SPCERAMICS), যার শেয়ারদর বেড়েছে ৩.৮৫ শতাংশ। এরপর ধারাবাহিকভাবে তালিকায় রয়েছে:

ফার্স্ট প্রাইম মিউচুয়াল ফান্ড (1STPRIMFMF) – ৩.৫০%

মতিন স্পিনিং (MATINSPINN) – ৩.২৮%

বিডিকম অনলাইন (BDCOM) – ৩.০৭%

রহিম টেক্সটাইল (RAHIMTEXT) – ২.৭৭%

শাশা ডেনিম (SHASHADNIM) – ২.৫২%

ওপেন প্রাইস ও LTP অনুযায়ী শীর্ষ ১০ গেইনার

ওপেনিং প্রাইসের তুলনায় দর বৃদ্ধির হিসাবে গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে তামিজউদ্দিন টেক্সটাইল (TAMIJTEX)। শেয়ারটির ওপেনিং প্রাইস ছিল ১১১ টাকা, যা বেড়ে সর্বশেষ লেনদেনে দাঁড়ায় ১২১ টাকা ৫০ পয়সা। ফলে দর বৃদ্ধি হয়েছে ৯.৪৬ শতাংশ।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আল-হাজ টেক্সটাইল (AL-HAJTEX)। শেয়ারটির দর ওপেনিং প্রাইসের তুলনায় বেড়েছে ৮.৮৮ শতাংশ।

এরপর তালিকায় রয়েছে—

জিকিউ বলপেন (GQBALLPEN) – ৭.৪৫%

টেকনো ড্রাগস (TECHNODRUG) – ৬.৫০%

মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স (MERCINS) – ৬.০৩%

এনআরবি ব্যাংক (NRBBANK) – ৪.৫৫%

ক্যাপিটাল মার্কেট ডিবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড (CAPMBDBLMF) – ৪.৩০%

পপুলার ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড (POPULAR1MF) – ৪.১৭%

এনভয় টেক্সটাইল (ENVOYTEX) – ৪.০৪%

এসপি সিরামিকস (SPCERAMICS) – ৩.৮৫%


মধ্যদুপুরে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা: টপ টেন লুজারে কারা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৫:৫৩:২০
মধ্যদুপুরে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা: টপ টেন লুজারে কারা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ২টা ৫৩ মিনিট ২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত লেনদেনে স্পষ্টভাবে বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে। দিনের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, আগের দিনের সমাপনী দর (YCP) ও আজকের উদ্বোধনী দরের (Open Price) তুলনায় একাধিক শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা ও অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে।

আগের দিনের সমাপনী দরের সঙ্গে তুলনায় শীর্ষ ১০ দরহারানো শেয়ারের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে PLFSL। শেয়ারটি ১০.৫৩ শতাংশ কমে ৫১ পয়সায় নেমে আসে। APOLOISPAT, FASFIN, PREMIERLEA এবং REGENTTEX সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ দরপতনের সীমায় পৌঁছায়, যা বাজারে প্রবল বিক্রিচাপের ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া SHYAMPSUG প্রায় ১০ শতাংশ কমে ১২০ টাকা ৮০ পয়সায় এবং STANCERAM প্রায় ৯.৯২ শতাংশ কমে ৬৪ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়। তালিকার বাকি শেয়ারগুলোর মধ্যে KPPL, BDWELDING এবং FAREASTFIN–এর দরও ৯ শতাংশের বেশি কমে যায়।

অন্যদিকে, আজকের উদ্বোধনী দর ও সর্বশেষ লেনদেন দর (LTP) বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি ধস নামে APOLOISPAT–এ। শেয়ারটি উদ্বোধনী দরের তুলনায় ১৮.১৮ শতাংশ কমে যায়, যা দিনের সবচেয়ে বড় ইনট্রাডে পতন। SHYAMPSUG ও STANCERAM এখানেও প্রায় ১০ শতাংশ দরপতন নিয়ে শীর্ষ লুজারদের তালিকায় রয়েছে। PLFSL, PDL এবং MEGHNAPET–ও উদ্বোধনী দরের তুলনায় ৮ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে। পাশাপাশি METROSPIN, FIRSTFIN, RSRMSTEEL এবং HFL উল্লেখযোগ্য ইনট্রাডে চাপের মুখে পড়ে।

দুই তালিকায়ই আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতভুক্ত কোম্পানিগুলোর আধিক্য স্পষ্ট। বিশেষ করে লিজিং ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ধারাবাহিক দরপতন বাজারে তারল্য সংকট ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে চিনি, সিমেন্ট ও ইস্পাত খাতের শেয়ারেও বিক্রির চাপ দেখা যাচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে চাহিদা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের প্রতিফলন।

সামগ্রিকভাবে, আজকের মধ্যদুপুরের চিত্র বাজারে একটি ঝুঁকিভিত্তিক ও রক্ষণশীল মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। ইতিবাচক অর্থনৈতিক সংকেত বা করপোরেট পর্যায়ের শক্তিশালী তথ্য না এলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত