এয়ার ফোর্সে ওয়ান থেকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: বিপাকে পড়তে পারে ভারতীয় পণ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১১:৩৮:৫৪
এয়ার ফোর্সে ওয়ান থেকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: বিপাকে পড়তে পারে ভারতীয় পণ্য
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জেরে ভারতের ওপর আবারও কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে তাঁর বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্সে ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নয়া দিল্লি যদি রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে ভারতীয় পণ্যের ওপর খুব দ্রুতই আরও বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ব্যক্তিগতভাবে ‘খুব ভালো মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিতে রাজি নন। ট্রাম্প বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী একজন চমৎকার মানুষ, তিনি জানতেন যে রুশ তেল আমদানির বিষয়ে আমি মোটেও খুশি নই। আর আমাকে খুশি রাখা তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।” ট্রাম্পের দাবি, তাঁর চাপের মুখেই ভারত ইতিমধ্যে রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারত এই আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করুক।

মার্কিন এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল যখন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর বিশ্ব তেলের বাজার নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ থাকা ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ এখন কার্যত মার্কিন নিয়ন্ত্রণে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারতকে রাশিয়ার বিকল্প হিসেবে অন্য বাজার খুঁজে নিতে বাধ্য করছে। উল্লেখ্য যে, গত বছরও রুশ তেল কেনার দায়ে ভারতীয় কিছু পণ্যের ওপর ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

ভারত শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা রাশিয়ার কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে তেল সংগ্রহ করছে। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারত যদি রাশিয়ার অর্থনীতি সচল রাখতে সাহায্য করা বন্ধ না করে, তবে মার্কিন বাজারে ভারতীয় চাল, টেক্সটাইল ও কেমিক্যাল পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক দ্রুত কার্যকর হবে। এই ঘোষণার ফলে ২০২৬ সালের শুরুতে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের মধ্যে এক নতুন সংকটের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি


আকাশের সুরক্ষায় পাকিস্তানের সাথে হাত মেলাচ্ছে বাংলাদেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ২০:০৩:২৬
আকাশের সুরক্ষায় পাকিস্তানের সাথে হাত মেলাচ্ছে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা আলোচনায় বসেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতে সহযোগিতার পাশাপাশি জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ‘সম্ভাব্য ক্রয়’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সফরকালে এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানকে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বৈঠকে পাক বিমান প্রধান সিধু বাংলাদেশের বিমান বাহিনীকে মৌলিক ও উন্নত উড্ডয়ন প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত কোর্সে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া বাংলাদেশের অর্ডার দেওয়া সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমানগুলো দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি টেকনিক্যাল সাপোর্টের আশ্বাসও দেন তিনি।

বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধান পাকিস্তান বিমান বাহিনীর গৌরবময় পরিচালনাগত অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেম একীভূতকরণে পাকিস্তানের কারিগরি সহায়তা চান। বিশেষ করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিদ্যমান পুরোনো যুদ্ধবিমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে এবং একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে বলে আশা করছে আইএসপিআর। প্রতিনিধি দলটি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিমান ঘাঁটি ও কারিগরি স্থাপনাও পরিদর্শন করেছে।

সূত্র: ডন


মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্পের নতুন টার্গেটে ৫ দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৮:৪৬:৩০
মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্পের নতুন টার্গেটে ৫ দেশ
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানে আটক করার নাটকীয়তার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির উচ্চাকাঙ্ক্ষা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ১৮২৩ সালের ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আদলে তিনি নিজের নতুন দর্শন ‘ডনরো ডকট্রিন’ (Donroe Doctrine) ঘোষণা করেছেন। এই নীতির লক্ষ্য হলো পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য নিশ্চিত করা। এই নীতির অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার পর এখন বিশ্বের আরও পাঁচটি দেশ বা অঞ্চল ট্রাম্পের বিশেষ নজরে রয়েছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ড ও কলম্বিয়া তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। বিরল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি কৌশলগতভাবে উত্তর আটলান্টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প দাবি করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড দখল করা প্রয়োজন, কারণ সেখানে রুশ ও চীনা জাহাজের আনাগোনা বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকায় ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে কলম্বিয়া। ভেনেজুয়েলার অভিযানের পরপরই ট্রাম্প কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করে বলেছেন, মাদক পাচারে সহায়তার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ইরান, মেক্সিকো ও কিউবা মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের নিশানায় রয়েছে ইরান। দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হামলা চালানো হলে কঠোর সামরিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। প্রতিবেশী মেক্সিকো সীমান্তে মাদক ও অভিবাসী প্রবাহ ঠেকাতে ট্রাম্প ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন এবং কার্টেল দমনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছেন। সবশেষে কিউবার ওপরও নজর রয়েছে ট্রাম্পের। তিনি মনে করেন, মাদুরোর পতনের পর কিউবার কমিউনিস্ট সরকার এমনিতেই ভেঙে পড়বে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের কথাকে যেন তারা হালকাভাবে না নেয়। ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো এখন ট্রাম্পের এই ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গভীর শঙ্কার মধ্যে রয়েছে।


মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের বাড়িতে হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ২০:১৬:৪৭
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের বাড়িতে হামলা
ক্ষতিগ্রস্ত বাসভবন ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ব্যক্তিগত বাসভবনে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার মধ্যরাতের পর ওহাইও অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত তাঁর বাড়িতে এই হামলা চালানো হয় বলে আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভ্যান্সের বাসভবনের জানলাসহ সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, হামলার সময় জেডি ভ্যান্স বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য ওই বাড়িতে ছিলেন না। একটি হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার কিছু সময় আগেই ভ্যান্স পরিবার ওহাইও শহর ত্যাগ করেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ভাইস প্রেসিডেন্টের বাসভবনের জানলাগুলো ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগেলমি জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ভাইস প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস, সিনসিনাটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস সমন্বিতভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। আটক ব্যক্তির নাম বা পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা না হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ আনার বিষয়ে কাজ চলছে। এক ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এই ব্যক্তি সরাসরি ভাইস প্রেসিডেন্ট বা তাঁর পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন পরবর্তী উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের ওপর এমন হামলা মার্কিন প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে সিক্রেট সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির উদ্দেশ্য এবং কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ওহাইওসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


ভেনেজুয়েলার পর এবার কি ইরান? ট্রাম্পের ‘শক্ত আঘাত’ হানার হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৮:০২:৫১
ভেনেজুয়েলার পর এবার কি ইরান? ট্রাম্পের ‘শক্ত আঘাত’ হানার হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক মার্কিন সামরিক অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন যদি আর কোনো প্রতিবাদকারী নিহত হন, তবে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর ‘খুব শক্ত আঘাত’ হানবে। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এই অস্থিরতার তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল রবিবার রাতে তাঁর বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্সে ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “আমরা ইরানের পরিস্থিতির ওপর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে নজর রাখছি। তারা যদি আগের মতো নির্বিচারে মানুষ হত্যা শুরু করে, তবে আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তারা খুব শক্ত আঘাত পাবে।” এর আগে শুক্রবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন যে, তাঁর দেশ ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ অবস্থায় রয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের রক্ষায় যেকোনো সময় হস্তক্ষেপ করতে পারে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার সকালে এক বিবৃতিতে তেহরান দাবি করেছে যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কট্টরপন্থি কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্য মূলত সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “জায়নবাদী সত্তা (ইসরায়েল) আমাদের জাতীয় ঐক্যে আঘাত হানার যেকোনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।” ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, বিদেশি শত্রুরা অর্থনৈতিক অসন্তোষকে পুঁজি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

ইরানে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ডিসেম্বর, যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে দোকানদাররা ধর্মঘট শুরু করেন। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই আন্দোলন রাজনৈতিক রূপ নিয়ে তেহরানসহ পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। আল জাজিরার তথ্যমতে, বিক্ষোভে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনার পর ইরানের ওপর ট্রাম্পের এই নতুন চাপ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৫:১৫:০০
ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার চলমান রাজনৈতিক সংকট ঘিরে আবারও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি ‘সমাধানে’ যুক্তরাষ্ট্র যে পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে, তাতে সহযোগিতা না করলে ভেনেজুয়েলার ওপর দ্বিতীয় দফা সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করা যায় না। এই বক্তব্য নতুন করে লাতিন আমেরিকাজুড়ে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো–কে যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে সাড়া না দিলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে এবং সামরিক বিকল্পও আলোচনার বাইরে নয়।

ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, যদি ভেনেজুয়েলা সরকার সহযোগিতা না করে, তাহলে দ্বিতীয় দফা হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অবস্থানের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুধু ভেনেজুয়েলা নয়, একই বক্তব্যে ট্রাম্প প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া ও মেক্সিকো–র বিরুদ্ধেও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন। যদিও এসব হুমকির পেছনে নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি বা পরিকল্পনার কথা তিনি প্রকাশ করেননি, তবুও মন্তব্যগুলো লাতিন আমেরিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এদিকে ট্রাম্প কিউবা প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, কিউবা–র কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ চাপে ভেঙে পড়ার পথে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছেন।

তবে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনে অবস্থিত কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর দূতাবাস থেকে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।

-রফিক


আজ সৌদি আরবে স্বর্ণের দাম কত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ২২:১৮:৫১
আজ সৌদি আরবে স্বর্ণের দাম কত
ছবি: সংগৃহীত

৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সৌদি আরবের স্বর্ণবাজারে দামের উল্লেখযোগ্য কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ওঠানামা না থাকায় স্থানীয় বাজারেও স্বর্ণের দর প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্থিতিশীলতার বার্তা পৌঁছেছে।

সর্বশেষ বাজারদর অনুযায়ী, সৌদি আরবে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি গ্রাম মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৫২২ দশমিক ৫১ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করলে দাঁড়ায় আনুমানিক ১৭ হাজার ২৭ টাকা। দিনভর দামের পরিবর্তন ছিল অত্যন্ত সীমিত, মাত্র ০ দশমিক ০১ রিয়াল, যা বাজারের শান্ত অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।

একই দিনে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি গ্রাম দাম দাঁড়িয়েছে ৪৭৯ দশমিক ৬৬ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৫ হাজার ৬৩৭ টাকা। অলংকার তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত এই ক্যারেটের স্বর্ণের দাম সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনপ্রিয় ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি গ্রামে ৪৫৭ দশমিক ২০ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৪ হাজার ৯০২ টাকা। দৈনন্দিন গহনা ও বিয়ের অলংকারের ক্ষেত্রে এই ক্যারেটের স্বর্ণের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।

অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি গ্রাম মূল্য ৩৯১ দশমিক ৮৮ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২ হাজার ৭৭০ টাকা। আধুনিক ও হালকা ডিজাইনের গহনার জন্য এই ক্যারেটের স্বর্ণ সৌদি বাজারে ক্রেতাদের একটি বড় অংশের পছন্দ।

কম ক্যারেটের স্বর্ণের দিকেও নজর দিলে দেখা যায়, ১৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি গ্রামে ৩০৫ দশমিক ৬৭ সৌদি রিয়াল, অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯ হাজার ৯৬৫ টাকা। পাশাপাশি ১০ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২১৭ দশমিক ৮৯ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৭ হাজার ১০২ টাকা) এবং ৬ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১৩০ দশমিক ৬৩ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৪ হাজার ২৫৮ টাকা)–এ স্থির রয়েছে।

স্বর্ণবাজার বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি রিয়ালের সঙ্গে মার্কিন ডলারের পেগ ব্যবস্থা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের গতিপ্রকৃতি সৌদি আরবে সোনার দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বর্তমানে বড় কোনো বৈশ্বিক আর্থিক অস্থিরতা না থাকায় সৌদি স্বর্ণবাজারে দামের এই স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।

-রাফসান


যৌথ অভিযানে কাঁপল সিরিয়া: আইএস নির্মূলে একজোট যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৮:২৬:৫৩
যৌথ অভিযানে কাঁপল সিরিয়া: আইএস নির্মূলে একজোট যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএল বা আইএসের পুনরুত্থানের ঝুঁকি মোকাবিলায় সিরিয়ায় বড় ধরণের যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সিরিয়ার ঐতিহাসিক পালমিরা অঞ্চলের এক জনশূন্য এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পালমিরার উত্তরে একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা আইএস গোষ্ঠী তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদের জন্য ব্যবহার করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) নিশ্চিত করেছে যে, ফ্রান্সের বিমান বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে পরিচালিত এই অভিযানে ‘দায়েশ’ বা আইএসের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে এলাকায় হামলাটি চালানো হয়েছে, তা প্রাচীন পালমিরা শহর থেকে কিছুটা দূরে এবং কোনো বেসামরিক বসতি নেই এমন স্থানে অবস্থিত। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, এই গোষ্ঠীর পুনরুত্থান কেবল সিরিয়ার জন্য নয়, বরং বিশ্ব নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরণের হুমকি, তাই এই সামরিক পদক্ষেপ অপরিহার্য ছিল।

সিরিয়ায় এই হামলা এমন এক সময়ে এল যখন অঞ্চলটিতে আন্তর্জাতিক সামরিক কার্যক্রম কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে ডিসেম্বরের শেষ দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ৯ দিনব্যাপী এক বিশেষ অভিযানে অন্তত ২৫ জন আইএস যোদ্ধাকে হত্যা ও আটক করে। গত ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ায় এক হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন দোভাষী নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে পেন্টাগন ওই অভিযান শুরু করেছিল। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ তুরস্কও তাদের সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১০০ জনেরও বেশি আইএস সন্দেহভাজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পরিবর্তনের সম্ভাব্যতা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে আইএস যাতে পুনরায় সংগঠিত হতে না পারে, সেজন্যই পশ্চিমা শক্তিগুলো এই আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে পালমিরার মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইএসের ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করাকে ব্রিটিশ ও ফরাসি বাহিনী বড় ধরণের কৌশলগত জয় হিসেবে দেখছে। এই হামলার পর সিরিয়ায় থাকা অন্যান্য বিদেশি শক্তির পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।


এক নজরে বিশ্বের শীর্ষ তেল মজুদধারী দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৭:০৫:৫৪
এক নজরে বিশ্বের শীর্ষ তেল মজুদধারী দেশ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের প্রমাণিত অপরিশোধিত তেল মজুদের একটি বড় অংশ এখনো অল্প কয়েকটি দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাগুলোর সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক প্রমাণিত তেল মজুদধারী রাষ্ট্র। দেশটির মজুদের পরিমাণ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বৈশ্বিক মোট তেল মজুদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমান।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরাশক্তি সৌদি আরব। দেশটির প্রমাণিত তেল মজুদ আনুমানিক ২৬৭ বিলিয়ন ব্যারেল। ওপেকের নেতৃত্ব এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরবের ভূমিকা এই মজুদকে আরও কৌশলগত গুরুত্ব দিয়েছে।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইরান, যার প্রমাণিত তেল মজুদ প্রায় ২০৯ বিলিয়ন ব্যারেল। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের বিশাল তেল ভাণ্ডার দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রাজনীতিতে একটি অপরিহার্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এরপর রয়েছে ইরাক, যার প্রমাণিত তেল মজুদের পরিমাণ প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ব্যারেল। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ইরাকের তেলসম্পদ দেশটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

উপসাগরীয় অঞ্চলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর প্রমাণিত তেল মজুদ আনুমানিক ১১৩ বিলিয়ন ব্যারেল। একই অঞ্চলের কুয়েত–এর তেল মজুদ প্রায় ১০২ বিলিয়ন ব্যারেল, যা দেশটির রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান ভিত্তি।

ইউরেশীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী রাষ্ট্র রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুদধারী দেশ। যদিও এর প্রমাণিত মজুদ মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ দেশগুলোর তুলনায় কিছুটা কম, তবু ইউরোপীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় রাশিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া–ও বৈশ্বিক তেল মজুদের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম জনসংখ্যা হলেও বিশাল তেল ভাণ্ডার লিবিয়াকে আফ্রিকার জ্বালানি মানচিত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই কয়েকটি দেশের হাতে বৈশ্বিক তেল মজুদের সিংহভাগ কেন্দ্রীভূত থাকায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি, যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক সংকট সরাসরি বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করে। ফলে তেল মজুদের পরিসংখ্যান এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যেরও গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

সূত্রঃ গুগল


মাদুরো আটক, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযানের নেপথ্য কাহিনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৫:০২:৩২
মাদুরো আটক, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযানের নেপথ্য কাহিনি
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস–কে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি কোনো আকস্মিক অভিযান নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters–এর তথ্য অনুযায়ী, এই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের পরিকল্পনা চলছিল কয়েক মাস ধরে এবং এর প্রতিটি ধাপ ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে প্রস্তুত।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী **কারাকাস**সহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একযোগে বড় পরিসরের অভিযান চালায়। সেই অভিযানের মধ্য দিয়েই প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে আটক করা হয়। অভিযানের পর মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক–এর একটি আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সিলিয়া ফ্লোরেসের বর্তমান অবস্থান নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় এই অভিযানকে ‘দুঃসাহসিক ও সফল’ বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর সমন্বয়ে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত সামরিক ইউনিট **Delta Force**সহ বিভিন্ন এলিট বাহিনী অংশ নেয়। জানা গেছে, মাদুরোর নিরাপদ আবাসস্থল বা ‘সেফ হাউস’–এর একটি নিখুঁত প্রতিরূপ তৈরি করে সেখানে বারবার মহড়া চালানো হয়েছিল। অত্যন্ত সুরক্ষিত ওই বাসভবনে কীভাবে প্রবেশ করা হবে এবং কোন পথে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানো যাবে, তা আগেই নির্ধারণ করা হয়।

রয়টার্সকে দেওয়া সূত্রগুলো জানায়, এই অভিযানের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ–এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ ‘কোর টিম’ গঠন করা হয়েছিল। এই দলটি কয়েক মাস ধরে নিয়মিত বৈঠক ও গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে অভিযানের অগ্রগতি পর্যালোচনা করছিল।

এ বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা CIA গত আগস্ট থেকেই ভেনেজুয়েলায় একটি ছোট কিন্তু দক্ষ টিম মোতায়েন করে রেখেছিল। ওই দলটি মাদুরোর দৈনন্দিন চলাফেরা, নিরাপত্তা রুটিন এবং অভ্যন্তরীণ অভ্যাস সম্পর্কে এমন বিশদ তথ্য সংগ্রহ করে, যা অভিযানের সফলতা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখে।

রয়টার্সকে দেওয়া আরও দুটি সূত্র জানায়, সিআইএর একজন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যদাতা ছিলেন, যিনি প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি নিয়মিত মাদুরোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতেন এবং অভিযানের সময় তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানাতে প্রস্তুত ছিলেন। এই মানব গোয়েন্দা তথ্যই শেষ পর্যন্ত অভিযানের সময় ও কৌশল নির্ধারণে निर्णায়ক ভূমিকা পালন করে।

-রফিক

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত