ভারত ও পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ চলাকালীনই দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত মিলেছে। পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড হঠাৎ করেই ঘোষণা দেয়, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান। এই ঘোষণার পরপরই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের ক্রিকেট সূচি ও প্রতিযোগিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে।
পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত শুধু পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়েই দ্রুত আলোচনা শুরু হয় ক্রীড়াঙ্গনে। বিশেষ করে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মেয়েদের রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ ঘিরে প্রশ্ন ওঠে। কারণ টুর্নামেন্টের পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি ব্যাংককে মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের নারী ‘এ’ দলের।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তানের মূল জাতীয় দলের ম্যাচটি যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, তা প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। তবে মেয়েদের রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে দুই দেশের ‘এ’ দলের ম্যাচ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা সূচি পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়নি। ফলে নারী ক্রিকেটে এই দ্বৈরথ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই আপাতত জোরালো।
ক্রিকেট বিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী ‘এ’ দলের ম্যাচটি নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। লক্ষণীয় বিষয় হলো, বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা আসার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাদের নারী ‘এ’ দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড প্রকাশ করে। এতে বোঝা যাচ্ছে, নারী ক্রিকেটের সূচি নিয়ে পিসিবি এখনো কোনো পিছু হটার অবস্থানে নেই।
এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান নারী ‘এ’ দলের সঙ্গে রয়েছে ভারত নারী ‘এ’ দল ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নেপাল। ফলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য ও সূচি অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে আয়োজকরা আপাতত কোনো পরিবর্তনের পথে হাঁটছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরুষদের বিশ্বকাপে ম্যাচ বর্জনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব নারী ‘এ’ দলের ম্যাচে পড়ছে না। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটকে অনেক সময় আলাদা প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতায় বিবেচনা করা হয়, যার ফলেই এই ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।
এরই মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, নির্ধারিত ম্যাচ বর্জনের কারণে পিসিবির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে এই বিষয়টি এখনো পুরোপুরি গুঞ্জন পর্যায়েই রয়েছে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত International Cricket Council কোনো জরুরি বোর্ড সভা আহ্বান করেনি কিংবা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ফলে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বা ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, ভারত–পাকিস্তান ক্রিকেট দ্বৈরথ আবারও কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং রাজনীতি, কূটনীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের এক জটিল সমীকরণে পরিণত হয়েছে। সামনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্ব।
-রফিক