বীর উত্তম এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে মির্জা ফখরুলের শোকবার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২০ ১৫:৫৭:৩৪
বীর উত্তম এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে মির্জা ফখরুলের শোকবার্তা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান বীর সেনানী ও সাবেক মন্ত্রী এ কে খন্দকার বীর উত্তম আর নেই। বার্ধক্যজনিত কারণে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

এ কে খন্দকারের ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে জাতি একজন পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাহসী সামরিক নেতৃত্বকে হারাল।

শোকবার্তায় মির্জা ফখরুল বলেন, শোকাহত পরিবার-পরিজনের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছেন এবং এই অপূরণীয় ক্ষতিতে তিনি নিজেও গভীরভাবে ব্যথিত। তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধে এ কে খন্দকারের অবদান ছিল অসামান্য ও ঐতিহাসিক।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মরহুম এ কে খন্দকার মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান তথা ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একজন দক্ষ এয়ার ভাইস মার্শাল হিসেবে দেশগঠনে অবদান রাখেন।

শোকবার্তায় আরও বলা হয়, গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এ কে খন্দকার সাহসিকতা ও নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয় এবং ২০১১ সালে তিনি স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৯৭১ সালে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য এ কে খন্দকার যে ত্যাগ, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার আজীবন নিবেদিতপ্রাণ ভূমিকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এ কে খন্দকারের চিরবিদায়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে মর্মাহত। এই বীর সেনানীর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

শোকবার্তার শেষাংশে বিএনপি মহাসচিব মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান রাব্বুল আলামিন যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন সেই দোয়া করেন। একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের ধৈর্য ধারণের শক্তি কামনা করেন।

-রফিক


তারেক রহমানের সিলেট সফর, আজকের কর্মসূচি কী কী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১০:৩৭:২৫
তারেক রহমানের সিলেট সফর, আজকের কর্মসূচি কী কী
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দুই দশক আগে, ২০০৫ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে সিলেটে কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় পর এবার ভিন্ন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায়, দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে আবারও সিলেটের মাটিতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভাকে কেন্দ্র করেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে তারেক রহমানের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা।

নির্বাচনি সফরের অংশ হিসেবে বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা থেকে একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সিলেট পৌঁছান বিএনপি চেয়ারম্যান। রাত ৯টা ১৮ মিনিটে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জিয়ারত করেন এবং এরপর মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী-এর কবরে শ্রদ্ধা জানান। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বহনকারী এসব স্থান থেকে নির্বাচনি সফরের সূচনা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বিরাহিমপুর গ্রামে নিজ শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে পৌঁছান তারেক রহমান। তাঁর শ্বশুর প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান এবং এটি তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের পৈতৃক নিবাস। সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর স্মরণে আয়োজিত একটি সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচি শেষে তিনি রাতেই নগরীর গ্র্যান্ড হোটেলে ফিরে যাবেন।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়েই বৃহস্পতিবার থেকে তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। বুধবার রাত থেকেই সিলেটের বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের জেলা থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বৃহস্পতিবার সকালেই সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এই সমাবেশকে ঘিরে সিলেট বিএনপি সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্মিত মঞ্চটি প্রায় ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের, যেখানে প্রায় ৩০০ অতিথি বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে তোরণ, বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীরা শত শত ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়েছেন। আজকের জনসভায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বিভিন্ন আসনের বিএনপি প্রার্থী, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সকালে সিলেট বিমানবন্দর এলাকার গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তারেক রহমান। জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেটের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীকে এই মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই সংলাপকে ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও তরুণ প্রজন্মের ভাবনা বোঝার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছে দলটি।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে বেলা ১১টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। এরপর দুপুর ২টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর আইনপুর খেলার মাঠে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেবেন তিনি। সেখান থেকে তিনি হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদ মাঠে আরেকটি সমাবেশে অংশ নেবেন। ধারাবাহিক এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সিলেট বিভাগজুড়ে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারে গতি আসবে বলে আশা করছে দলীয় নেতৃত্ব।

-রফিক


যানজটমুক্ত ঢাকা ও স্যাটেলাইট সিটি; উন্নয়ন রূপরেখা দিলেন তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১০:০৫:৫৫
যানজটমুক্ত ঢাকা ও স্যাটেলাইট সিটি; উন্নয়ন রূপরেখা দিলেন তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

সবাইকে নিয়ে আগামী দিনে একটি নতুন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়ন থেকে গণমানুষের মুক্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য শান্তির আবাসভূমি গড়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। বৈঠকে সাতটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী এবং ন্যাপ-ভাসানীসহ অন্যান্য জোটের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হক জানান যে, তাঁরা একটি উদার ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন।

রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি গতকাল দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যনির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গেও এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তারেক রহমান। সেখানে তিনি দেশের প্রচলিত কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতির পরিবর্তে নীতি বা পলিসিনির্ভর রাজনীতি চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন যে, দলগুলোর মধ্যে উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধান নিয়ে গঠনমূলক বিতর্ক হওয়া উচিত, তবেই দেশ প্রকৃত উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে তিনি রাজধানীর চারপাশে আধুনিক স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান। এসব শহর থেকে ট্রেনের মাধ্যমে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় যাতায়াত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া লন্ডনের টেমস নদীর আদলে বুড়িগঙ্গাকে সংস্কার করার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন যে, নদীর তলদেশের পলিথিন সরিয়ে দুই ফুট খনন করা গেলে নদীটি তার স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে তারেক রহমান শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা জানান। তিনি ঘোষণা করেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে, যা মূলত দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ সহায়ক হবে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের ব্যবস্থা করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, কোনো কোনো দল গ্রামের নারীদের কাছ থেকে বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি একটি সুন্দর ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে চায় যেখানে প্রতিটি নাগরিক যথাযোগ্য মর্যাদা পাবে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে গণমাধ্যম পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই দিনে তারেক রহমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উল্লেখ্য যে, গত ২১ জুলাই একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ৩৫ জন নিহত হয়েছিলেন। গুলশানে বিএনপি কার্যালয়ে অপেক্ষমাণ শোকার্ত পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে তিনি তাদের সান্ত্বনা দেন এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার আশ্বাস দেন। ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হলে তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি ভবিষ্যতে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে এসব পরিবারের দাবি পূরণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। এই সাক্ষাত শেষে ডিআরইউর প্রতিনিধিরা তাঁকে আগামী ৩০ জানুয়ারি তাঁদের পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।


জীবনের নিরাপত্তায় গানম্যান চাইলেন আব্দুল হান্নান মাসউদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ০৯:৪৮:৩২
জীবনের নিরাপত্তায় গানম্যান চাইলেন আব্দুল হান্নান মাসউদ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ তাঁর জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে গানম্যান চেয়ে আবেদন করেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পরপরই একজন প্রার্থীর পক্ষ থেকে এমন নিরাপত্তার আবেদন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আব্দুল হান্নান মাসউদ তাঁর আবেদনে বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।

নিরাপত্তা চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, হাতিয়া উপজেলায় এখনো অবৈধ অস্ত্রের অস্তিত্ব রয়ে গেছে, যা নির্বাচনী পরিবেশের জন্য বড় ধরণের হুমকি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, নির্বাচনী মাঠে কাজ করতে গিয়ে যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নির্বিঘ্নে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং নিরাপদভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থেই তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এই বিশেষ নিরাপত্তা সহায়তা চেয়েছেন। মাসউদ আরও উল্লেখ করেছেন যে, এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং তিনি চান সব ভোটার যেন কোনো ধরণের ভয়ভীতি ছাড়া নিরাপদ পরিবেশে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রশাসন তাঁর এই আবেদনটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

নোয়াখালীর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, আব্দুল হান্নান মাসউদের আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেটি জেলা পুলিশ সুপার বরাবর পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনের এই সময়ে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব, তাই বিধি মোতাবেক সব ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানিয়েছেন যে, তাঁরা আবেদনটি হাতে পেয়েছেন। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাতিয়া দ্বীপ অঞ্চলের বিশেষ ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রার্থীর এই নিরাপত্তা আবেদনের বিষয়টি প্রশাসন বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে।


বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহীদের তালিকা প্রকাশ; তালিকায় শীর্ষ নেতারাও

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ২১:৩৬:৪৬
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহীদের তালিকা প্রকাশ; তালিকায় শীর্ষ নেতারাও
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেও যারা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি, তাদের সবাইকে একযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই গণবহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নেতাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সারা দেশের বিভিন্ন বিভাগ অনুযায়ী বহিষ্কৃত নেতাদের একটি সুদীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নিচে বিভাগীয় ভিত্তিতে বহিষ্কৃত নেতাদের বিস্তারিত তালিকা তুলে ধরা হলো:

রংপুর বিভাগ

রংপুর বিভাগে বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন দিনাজপুর-২ আসনের আ ন ম বজলুর রশিদ, দিনাজপুর-৫ আসনের এ জেড এম রেজওয়ানুল হক এবং নীলফামারী-৪ আসনের রিয়াদ আরাফান সরকার রানা।

রাজশাহী বিভাগ

এই বিভাগে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন নওগাঁ-৩ এর পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি, নাটোর-১ এর তাইফুল ইসলাম টিপু ও ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন, নাটোর-৩ এর দাউদার মাহমুদ, রাজশাহী-৫ এর ইসফা খাইরুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম। এছাড়াও পাবনা-৩ এর কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং পাবনা-৪ এর জাকারিয়া পিন্টুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, নাটোর-১ এর ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার মাত্র ১০ মিনিট পরে আবেদন করায় তা গৃহীত হয়নি।

খুলনা ও বরিশাল বিভাগ

খুলনা বিভাগে কুষ্টিয়া-১ এর নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, নড়াইল-২ এর মনিরুল ইসলাম, যশোর-৫ এর অ্যাড. শহিদ ইকবাল, সাতক্ষীরা-৩ এর ডা. শহীদুল আলম এবং বাগেরহাটের ইঞ্জি. মাসুদ ও খায়রুজ্জামান শিপনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগে বহিষ্কৃত হয়েছেন বরিশাল-১ এর আব্দুস সোবহান এবং পিরোজপুর-২ এর মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন।

ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগ

ঢাকা বিভাগে নারায়ণগঞ্জের মোহাম্মাদ দুলাল হোসেন, মো. আতাউর রহমান খান আঙ্গুর ও অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম পদ হারিয়েছেন। টাঙ্গাইলের অ্যাড. মোহাম্মাদ আলী, লুৎফর রহমান খান আজাদ (চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা) এবং অ্যাড. ফরহাদ ইকবালকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জেরও একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফরিদপুর বিভাগে মাদারীপুরের লাভলু সিদ্দিকী, কামাল জামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা ও মিল্টন বৈদ্যসহ রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জের প্রার্থীরা বহিষ্কৃত হয়েছেন।

ময়মনসিংহ, সিলেট ও কুমিল্লা বিভাগ

ময়মনসিংহ বিভাগে কিশোরগঞ্জের রেজাউল করিম চুন্নু ও শেখ মজিবুর রহমান ইকবালসহ ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার একাধিক নেতা বহিষ্কৃত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সুনামগঞ্জের আনোয়ার হোসেন ও দেওয়ান জয়নুল জাকেরীনসহ সিলেট-৫ এর মামুনুর রশীদ (চাকসু) এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের প্রার্থীরা রয়েছেন। কুমিল্লা বিভাগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অ্যাড. কামরুজ্জামান মামুন, কাজী নাজমুল হোসেন তাপস ও কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামালসহ কুমিল্লা ও চাঁদপুরের প্রার্থীরা বহিষ্কৃত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগ

চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রামের অ্যাড. মিজানুল হক চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম রাহী ও লিয়াকত আলী চেয়ারম্যানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নোয়াখালীর কাজী মফিজুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল আজীম এবং ইঞ্জিনিয়ার তানবীর উদ্দীন রাজীব এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।


হাঁস চোরকে জেলেও ভরেছি, প্রতীক চোরকেও ছাড়ব না: রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৯:৩১:০৩
হাঁস চোরকে জেলেও ভরেছি, প্রতীক চোরকেও ছাড়ব না: রুমিন ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই আজ বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে লড়াইয়ের জন্য তাঁকে ‘হাঁস’ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আজ জেলার মোট ছয়টি সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রতীক পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের কাছে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই ‘হাঁস’ প্রতীকটি কেবল তাঁর নয়, বরং এটি তাঁর এলাকার সাধারণ ভোটারদের প্রতীক। ভোটারদের সঙ্গে নিজের নিবিড় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি আমার ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। তাঁরাই আমাকে আজকের এই জায়গায় এনেছেন। ছোট ছোট বাচ্চারাও এখন চিৎকার করে আমাদের হাঁস মার্কার কথা বলছে।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সতর্ক করেন। তিনি জানান, আগে তিনি নিজে হাঁস পালন করতেন এবং সেই হাঁসগুলো চুরি হওয়ার পর তিনি চোরকে ক্ষমা করেননি। রুমিন বলেন, “আমি হাঁস পালতাম। আমার হাঁসগুলো যখন চুরি হয়েছিল, আমি চোরকে ছাড়িনি। মামলা করেছি, জেলেও ভরেছি। আমার এই হাঁস প্রতীক যদি এখন কেউ চুরি করার চিন্তাও করে, তবে আমি আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”

নিজেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সাধারণ মানুষের প্রার্থী হিসেবে দাবি করে রুমিন ফারহানা বলেন, ভোটাররা যদি তাঁকে নির্বাচিত করেন, তবে তিনি এলাকার মানুষের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করবেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ভোটাররা যেভাবে চাইবেন এবং যেভাবে এলাকাকে দেখতে চাইবেন, সেভাবেই তিনি কাজ করবেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য এখন নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন মোট ৪৮ জন প্রার্থী।

একই দিনে জেলার অন্যান্য আসনেও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন। এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিকে তাঁর দলীয় প্রতীক ‘মাথাল’ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সাকির এই প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার মধ্য দিয়ে ওই এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে।


বিএনপিতে বড় চমক: আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৮:২৯:২৩
বিএনপিতে বড় চমক: আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বড় ধরণের চমক সৃষ্টি করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানী গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগদান করেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি তাঁর এই নতুন রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা করেন। দলটির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এই হেভিওয়েট নেতার যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

অধ্যাপক আবু সাইয়িদের এই যোগদানকে কেন্দ্র করে গুলশান কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান সাংবাদিকদের এই যোগদানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হলেন। বিএনপি মহাসচিব তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং দলের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরিচিত মুখ। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী পরিষদে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা নিভৃতে ছিলেন। ফলে হঠাৎ করে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিতে তাঁর এই যোগদানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিতে এই ধরণের অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিকের যোগদান দলের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অধ্যাপক আবু সাইয়িদ কেন বা কোন প্রেক্ষাপটে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, সে বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর এই দলবদল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আরও বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা এই যোগদানকে দলের সাংগঠনিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন।


আওয়ামী লীগ কর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের: ফয়জুল করীম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৭:৩৭:৪৬
আওয়ামী লীগ কর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের: ফয়জুল করীম
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। ছবি: ইত্তেফাক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসন থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের নাগরিক অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেই দলের সাধারণ কর্মীদের নাগরিকত্ব সরকার বাতিল করেনি।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, “আওয়ামী লীগ যারা করেন, সরকার তাদের নাগরিকত্ব তো বাতিল করেনি। সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যদি আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি অন্যায় না করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে যদি কোনো মামলা না থাকে, তবে তাঁর জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি সরকারের।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে অপরাধী না হওয়া সত্ত্বেও কাউকে হয়রানি করা আইনত ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোট প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে ফয়জুল করীম একটি কৌশলগত বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাঁদের ভোটটি এমন ব্যক্তিদের দেবেন, যাঁদের মাধ্যমে তাঁদের জানমাল, ইজ্জত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে। মূলত ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রধান্য দেওয়ার পরামর্শ দেন।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোট বা সমঝোতা প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম এক নতুন তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জামায়াতের আমিরের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করে তাঁর নির্বাচনি আসনে ইসলামী আন্দোলন কোনো প্রার্থী দেয়নি। একইভাবে জামায়াতের আমিরও ইসলামী আন্দোলনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাঁদের প্রার্থী তুলে নিয়েছেন। এই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের রাজনীতির জন্য তিনি জামায়াত আমিরকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনো রাজনৈতিক জোটে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স তৈরি করা। এখন ইসলামের পক্ষে হাতপাখার বাক্স রয়েছে।” তবে ভবিষ্যতে যদি কেউ ইসলামী শরীয়াহর ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করতে চায়, তবে আবারও জোট গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

নির্বাচনের পরিবেশ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে ফয়জুল করীম বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর কোনো প্রার্থী বা কর্মীকে বিনা কারণে হয়রানি করা যাবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি হয়রানি অব্যাহত থাকে তবে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় থাকবে না। বরিশালের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আসনের প্রার্থী হিসেবে তিনি একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান, যেখানে সব দলের কর্মী ও সমর্থকরা নির্বিঘ্নে তাঁদের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার চর্চা করতে পারবেন।


নির্বাচনি প্রচারে ত্যাগী নেতাদের সফরসঙ্গী করবেন তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৪:৪৯:৫৯
নির্বাচনি প্রচারে ত্যাগী নেতাদের সফরসঙ্গী করবেন তারেক রহমান
নেতাদের সাথে তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাদের প্রতি সাংগঠনিক স্বীকৃতি দিতে নির্বাচনি প্রচারণায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নির্বাচনি প্রচারে তার সফরসঙ্গী হিসেবে পর্যায়ক্রমে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করবেন।

এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় আজ বুধবার সকালে রাজধানীর গুলশান-এ অবস্থিত বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে দলের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা যে অনন্য ও অভূতপূর্ব অবদান রেখেছেন, তা বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাদের ত্যাগ ও ভূমিকার প্রতি সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ড. মাহদী আমিন জানান, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমানের প্রতিটি সফরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সংগঠনের অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতাদের সফরসঙ্গী করা হবে। এর মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সংযোগ আরও দৃঢ় হবে এবং নির্বাচনি প্রচারে সাংগঠনিক ঐক্য ও উদ্দীপনা বাড়বে বলে দলটি আশা করছে।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারেক রহমানের আসন্ন সিলেট সফরে কয়েকজন তরুণ ও তৃণমূল নেতা তার সঙ্গে থাকবেন। তারা হলেন—আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, মামুন হাসান, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ এবং রকিবুল ইসলাম রাকিব। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই এই তালিকা বাছাই করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী তারেক রহমানের সিলেট সফরের মধ্য দিয়েই বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে তিনি আকাশপথে সিলেটে পৌঁছাবেন। সেখানে পৌঁছে গভীর রাতে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন।

ড. মাহদী আমিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব রাজনৈতিক দল ইতিবাচক ও সহনশীল মনোভাব নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবে এবং আচরণবিধি মেনে চলার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে যে সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে এই নির্বাচন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। সে লক্ষ্যে দলটি শান্তিপূর্ণ প্রচারণা এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নির্বাচনি প্রচারণার সূচনালগ্নে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নির্বাচনি থিম সং উন্মোচন করা হবে। আজ রাত ১২টা ১ মিনিটে, অর্থাৎ ২২ জানুয়ারির প্রথম প্রহরে, ঢাকার লেকশোর হোটেলে থিম সংটি উদ্বোধন করবেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিউল্লাহসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

-রফিক


কোন আসনে কে, ইসলামী আন্দোলনের পূর্ণ তালিকা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৪:২১:২৫
কোন আসনে কে, ইসলামী আন্দোলনের পূর্ণ তালিকা
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ২৫৯টি সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি দলটির প্যাডে প্রকাশিত এই তালিকায় সারাদেশের প্রায় সব অঞ্চল থেকেই প্রার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসার পর এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে এই তালিকাকে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পঞ্চগড়-২ আসনে মো. কামরুল হাসান প্রধান, ঠাকুরগাঁও-১ মো. খাদেমুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-২ মো. রেজাউল করীম, ঠাকুরগাঁও-৩ মো. আল আমিন, দিনাজপুর-১ অ্যাডভোকেট মো. চাঁন মিঞা, দিনাজপুর-২ হা. মাও. মুহা. রেদওয়ানুল করীম রাবিদ, দিনাজপুর-৩ অধ্যক্ষ মুফতি মুহা. খাইরুজ্জামান, দিনাজপুর-৪ মাওলানা আনোয়ার হোসেন নদভী, দিনাজপুর-৬ ডা. নূরে আলম সিদ্দিকী, নীলফামারী-১ মুহামাদ আব্দুল জলিল, নীলফামারী-২ অ্যাডভোকেট হা. মাও. হাছিবুল ইসলাম, নীলফামারী-৩ মো. আমজাদ হোসেন সরকার, নীলফামারী-৪ মো. শহিদুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ মুফতি মুহা. ফজলুল করীম শাহারিয়া, লালমনিরহাট-২ মুফতি মো. মাহফুজুর রহমান, লালমনিরহাট-৩ আমিনুল ইসলাম এবং রংপুর-১ আসনে এ টি এম গোলাম মোস্তফা।

রংপুর বিভাগের অন্যান্য আসনে প্রার্থী হিসেবে আছেন রংপুর-২ মাওলানা মো. আশরাফ আলী, রংপুর-৩ মো. আমিরুজ্জামান পিয়াল, রংপুর-৪ মুহাম্মদ জাহিদ হোসেন, রংপুর-৫ অধ্যক্ষ মো. গোলজার হোসেন, রংপুর-৬ মাওলানা সুলতান মাহমুদ, কুড়িগ্রাম-১ মুহাম্মদ হারিসুল বারী, কুড়িগ্রাম-২ মুহাম্মদ নুর বখত, কুড়িগ্রাম-৩ ডা. আক্কাছ আলী সরকার, কুড়িগ্রাম-৪ অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, গাইবান্ধা-১ মুহাম্মদ রমজান আলী, গাইবান্ধা-২ প্রভাষক মুহা. আব্দুল মাজেদ, গাইবান্ধা-৩ এ টি এম আওলাদ হোসেন, গাইবান্ধা-৪ সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন এবং গাইবান্ধা-৫ অ্যাডভোকেট মো. আজিজুল ইসলাম।

রাজশাহী ও বগুড়া অঞ্চলে প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বগুড়া-১ এ বি এ মোস্তফা কামাল পাশা, বগুড়া-২ অ্যাডভোকেট মো. জামাল উদ্দিন, বগুড়া-৩ মুহা. শাহজাহান আলী তালুকদার, বগুড়া-৪ মাওলানা মুহা. ইদ্রিস আলী, বগুড়া-৫ মীর মুহা. মাহমুদুর রহমান (চুন্নু), বগুড়া-৬ আ ন ম মামুনুর রশিদ, বগুড়া-৭ প্রভাষক মুহা. শফিকুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ মো. মনিরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ডা. মো. ইব্রাহীম খলীল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ ডা. মো. মনিরুল ইসলাম, নওগাঁ-১ মাওলানা আব্দুল হক শাহ, নওগাঁ-৩ মুফতি নাসির বিন আছগর, নওগাঁ-৪ মাওলানা সোহরাব হোসেন, নওগাঁ-৫ মাওলানা আব্দুর রহমান এবং নওগাঁ-৬ মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

খুলনা, বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলের আসনগুলোতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে আছেন খুলনা-১ মাওলানা আবু সাঈদ, খুলনা-২ মুফতি আমানুল্লাহ, খুলনা-৩ মাওলানা আব্দুল আউয়াল, খুলনা-৪ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহম্মেদ শেখ, খুলনা-৬ হাফেজ মুহাম্মদ আছাদুল্লাহ আল-গালিব, সাতক্ষীরা-১ মাওলানা রেজাউল করীম, সাতক্ষীরা-২ মুফতি রবীউল ইসলাম, সাতক্ষীরা-৩ কাজী মো. ওয়েজ কুরনী, সাতক্ষীরা-৪ মোস্তফা আল মামুন মনির, বরগুনা-১ মাওলানা মাহমুদুল হাসান উলীউল্লাহ, বরগুনা-২ মুফতি মিজানুর রহমান, পটুয়াখালী-১ মো. ফিরোজ আলম, পটুয়াখালী-২ মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারী, পটুয়াখালী-৩ মু. আবু বক্কর ছিদ্দিকী, পটুয়াখালী-৪ ডা. অধ্যাপক মোস্তফিজুর রহমান, ভোলা-১ মাওলানা ওবায়দুর রহমান বিন মোস্তফা, ভোলা-৩ মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন এবং ভোলা-৪ আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দিন।

ঢাকা ও মধ্যাঞ্চলে দলটির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-২ হাফেজ মাও. মুফতি জহিরুল ইসলাম, ঢাকা-৩ সুলতান আহমদ খাঁন, ঢাকা-৪ মাও. সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আন মাদানী, ঢাকা-৫ মো. ইবরাহীম খলিল, ঢাকা-৭ আব্দুর রহমান, ঢাকা-৮ মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, ঢাকা-৯ শাহ ইফতেখার আহসান তারিক, ঢাকা-১০ আব্দুল আউয়াল মজুমদার, ঢাকা-১১ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ঢাকা-১২ মাওলানা মাহমুদুল হাসান মোমতাজী, ঢাকা-১৪ মাওলানা নুরুল ইসলাম ও আবু ইউসুফ, ঢাকা-১৬ প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম, ঢাকা-১৭ মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ আনসারী, ঢাকা-১৮ আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা-১৯ মুহাম্মদ ফারুক খান।

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে আছেন চট্টগ্রাম-১ অ্যাডভোকেট ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ মোহাম্মদ জুলফিকার আলী মান্নান, চট্টগ্রাম-৩ প্রভাষক আমজাদ হোসেন, চট্টগ্রাম-৪ মো. দিদারুল মাওলা, চট্টগ্রাম-৫ মুফতি মতিউল্লাহ নূরী, চট্টগ্রাম-৭ অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল হারুন, চট্টগ্রাম-৮ মুহাম্মদ নুরুল আলম, চট্টগ্রাম-৯ অ্যাডভোকেট আব্দুস শুক্কর (মাহমুদ), চট্টগ্রাম-১০ জান্নাতুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১১ মুহাম্মদ নুর উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১২ এস এম বেলাল নুর আজিজী, চট্টগ্রাম-১৪ মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, চট্টগ্রাম-১৫ শরীফুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ হাফেজ রুহুল্লাহ, কক্সবাজার-১ মাওলানা ছরওয়ার আলম কুতুবী, কক্সবাজার-২ মাওলানা জিয়াউল হক, কক্সবাজার-৩ মাওলানা আমিরুল ইসলাম মীর, কক্সবাজার-৪ হাফেজ নুরুল হক, খাগড়াছড়ি মাওলানা কাউসার আজিজী, রাঙ্গামাটি জসীম উদ্দিন এবং বান্দরবান মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

দলীয় সূত্র জানায়, এর আগে ১৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান ১১ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন এবং সে সময় ২৬৮ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা বৈধতা এবং পারস্পরিক সম্মান ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কয়েকটি আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার করে শেষ পর্যন্ত ২৫৯ আসনের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

-রফিক

পাঠকের মতামত: