এশিয়া কাপে বাংলাদেশ কবে খেলছে জানুন বিস্তারিত

আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজন হতে যাচ্ছে অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপের নবতম আসর। যদিও টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক সূচি এখনো প্রকাশ করেনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল, তবে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পুরো সময়সূচি ও গ্রুপ বিন্যাস নিশ্চিত হয়েছে। যুব ক্রিকেটের ওয়ানডে ফরম্যাটে মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতা শুরু হবে আগামী ১২ ডিসেম্বর, যেখানে সরাসরি অংশ নেবে এশিয়ার শক্তিশালী পাঁচ দল বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তান।
এ ছাড়া বাছাইপর্ব শেষে তিনটি দল মূল টুর্নামেন্টে যোগ দেবে। বাছাইপর্বের শীর্ষস্থানীয় দল এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে রাখা হবে গ্রুপ এ তে, যেখানে অপেক্ষা করছে ভারত এবং পাকিস্তানের মতো দুই পরাশক্তি। অন্যদিকে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে গ্রুপ বি তে যুক্ত হবে বাছাইয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দল। ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই শুরু হবে সমান লড়াই এবং কৌশলগত ক্রিকেট যুদ্ধ।
১৩ ডিসেম্বর প্রথম ম্যাচেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে আজিজুল হাকিম তামিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দল। টুর্নামেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের দিকে নজর রাখবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ সমর্থকেরাও। ১৫ ডিসেম্বর কোয়ালিফায়ার ২ থেকে আসা দলের মুখোমুখি হবে লাল সবুজের যুবারা। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ১৭ ডিসেম্বর শক্তিশালী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ।
এশিয়া কাপের প্রস্তুতি সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার থেকেই অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশের উদীয়মান ক্রিকেটাররা। বরাবরের মতো এবারও বয়সভিত্তিক দলের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করছে বিসিবি। কোচিং স্টাফ এবং নির্বাচকেরা জানাচ্ছেন, প্রতিযোগিতায় শীর্ষ চার দলে থাকা এবং ফাইনাল নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ব্যাটিং টেকনিক, স্পিন মোকাবিলা এবং চাপের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনায়।
আরব আমিরাতের উইকেট সাধারণত ব্যাটসম্যান সহায়ক হলেও ধীরগতির স্পিন এবং ভ্যারিয়েশন এখানকার যুব ক্রিকেটে সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে দল নির্বাচনে স্পিন অ্যাটাক এবং মিডল অর্ডারের দৃঢ়তা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি বাংলাদেশের যুবাদের জন্য টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
-রফিক
বিশ্বকাপ ফাইনালে তারকাদের মহাউৎসব, জানুন বিস্তারিত
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু শিরোপা নির্ধারণের ম্যাচ হিসেবেই নয়, বিনোদনের দিক থেকেও ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। ফুটবল বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্যাপনের আবহে এবার প্রথমবারের মতো ফাইনালের বিরতিতে আয়োজন করা হচ্ছে সুপার বোলের আদলে বিশেষ হাফটাইম শো। ফিফার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে বিশ্বের জনপ্রিয় কয়েকজন সংগীত তারকা একই মঞ্চে পারফর্ম করবেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে নির্ধারিত ১১ মিনিটের বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে আন্তর্জাতিক পপ তারকা শাকিরা, জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটিএস-এর। ফুটবল ও সংগীত—দুই ভুবনের সবচেয়ে বড় তারকাদের একত্রে দেখা যাবে বলে ইতোমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ফিফা জানিয়েছে, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য কেবল দর্শকদের বিনোদন দেওয়া নয়; বরং ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন শিক্ষা তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষায় সহায়তার জন্য ১০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাফটাইম শোকে আরও বর্ণাঢ্য করে তুলতে থাকছেন আফ্রিকার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বার্না বয়, ভেনেজুয়েলার বিশ্বখ্যাত অর্কেস্ট্রা পরিচালক গুস্তাভো দুদামেল, ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লে-এর সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত পিএস বাইশ কোরাস এবং শিশুদের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান সিসেমি স্ট্রিট-এর বহুল পরিচিত মাপেট চরিত্রগুলো। ফলে এই পরিবেশনা সব বয়সী দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষ এই আয়োজনের সৃজনশীল পরিকল্পনার দায়িত্ব পালন করছেন কোল্ডপ্লে-এর প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন। ফিফার সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এমন একটি বৈশ্বিক মঞ্চ তৈরি করতে কাজ করছেন, যেখানে ফুটবল, সংগীত এবং মানবিক উদ্যোগ একসঙ্গে মিলিত হবে।
এ আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কানাডিয়ান পপ তারকা জাস্টিন বিবার। তিনি বলেন, “ফিফা বিশ্বকাপ এমন একটি আয়োজন, যা পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষকে একই আবেগে একত্রিত করতে পারে। খুব কম বৈশ্বিক আয়োজনেরই এমন শক্তি রয়েছে।”
স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে ‘Justice World Tour’ বাতিল করার পর চলতি বছরের বসন্তে ক্যালিফোর্নিয়ার কোচেলা মিউজিক ফেস্টিভ্যালে মঞ্চে ফেরেন বিবার। গত চার বছরে সেটিই ছিল তার সবচেয়ে বড় লাইভ পারফরম্যান্স। বিশ্বকাপের ফাইনালে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি আবারও বৈশ্বিক দর্শকের সামনে হাজির হতে যাচ্ছেন।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও দর্শকদের মাতিয়েছিলেন শাকিরা ও বার্না বয়। তাদের পরিবেশিত অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং বিভিন্ন স্টেডিয়ামে নিয়মিত বাজানো হচ্ছে। ফাইনালের মঞ্চেও তারা নতুন চমক নিয়ে হাজির হতে পারেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে মাঠের লড়াইও এখন পৌঁছে গেছে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও মরক্কো, স্পেন ও বেলজিয়াম, নরওয়ে ও ইংল্যান্ড, এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। চারটি ম্যাচ থেকেই নির্ধারিত হবে বিশ্বকাপের শেষ চারের লড়াই।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। শেষ ষোলোর পর গোলদাতার তালিকার শীর্ষে থাকা এই মহাতারকার গোলসংখ্যা এখন ৮। তার ঠিক পেছনে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ড, দুজনেরই গোল ৭টি। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন করেছেন ৬ গোল।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে শুধু ফুটবলের নয়, বৈশ্বিক বিনোদন জগতেরও অন্যতম বড় আয়োজন। বিশ্বসেরা ফুটবলারদের লড়াইয়ের পাশাপাশি শাকিরা, ম্যাডোনা, জাস্টিন বিবার, বিটিএস এবং আরও অনেক তারকার অংশগ্রহণে এই হাফটাইম শো বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। ফুটবল, সংগীত ও মানবিক উদ্যোগের এই অনন্য সমন্বয় কোটি কোটি দর্শকের জন্য স্মরণীয় এক বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হবে।
-রফিক
ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যেন লিওনেল মেসির জন্য আরেকটি অবিশ্বাস্য ইতিহাস রচনার মঞ্চে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচে নতুন নতুন কীর্তি গড়ে চলা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এবার চোখ রেখেছেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত রেকর্ডগুলোর একটির দিকে। শেষ ষোলো পর্ব শেষে গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসা মেসির সামনে এখন ১৯৫৮ সাল থেকে অক্ষত থাকা ফরাসি কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইনের এক আসরে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের বিশ্বরেকর্ড ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ।
মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর নাটকীয় ম্যাচে দুর্দান্ত এক ভলি থেকে গোল করে এবারের আসরে নিজের গোলসংখ্যা আটে উন্নীত করেছেন মেসি। সেই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। এখন ফন্টেইনের ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আরও পাঁচ গোল। আর্জেন্টিনা যদি ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, তাহলে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল—এই তিন ম্যাচেই সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ থাকবে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে ১৩ গোল করার রেকর্ডটি এখনও জাস্ট ফন্টেইনের দখলে। ১৯৫৮ সালে সুইডেন বিশ্বকাপে মাত্র ছয় ম্যাচে এই অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিলেন ফরাসি কিংবদন্তি। প্রায় সাত দশক পেরিয়ে গেলেও সেই রেকর্ড স্পর্শ করতে পারেননি বিশ্বের কোনো ফুটবলার। এবার সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন মেসি।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচেই শুরু থেকে খেলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এবং প্রতিবারই নির্বাচিত হয়েছেন ম্যাচসেরা। গোলের পাশাপাশি তার নেতৃত্ব, অ্যাসিস্ট এবং ম্যাচে প্রভাব বিস্তার আর্জেন্টিনাকে শিরোপার অন্যতম দাবিদারে পরিণত করেছে। গোলদাতাদের তালিকায় তার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নরওয়ের এরলিং হালান্ড, দুজনেরই গোল সাতটি করে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ঝুলিতে রয়েছে ছয় গোল। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইও এখন তুঙ্গে।
তবে মেসির গোলসংখ্যা আরও বড় হতে পারত। এবারের বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। সেই দুটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে তার গোলসংখ্যা এখনই ১০-এ পৌঁছে যেত এবং ফন্টেইনের রেকর্ড থেকে দূরত্ব কমে আসত মাত্র তিন গোলে। এরপরও আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল এবং জর্ডান, কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে একটি করে গোল করে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন এলএম১০।
এই বিশ্বকাপে আরও একটি অনন্য কীর্তি গড়েছেন মেসি। তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার নজির স্থাপন করেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করার পর এবার আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান, কেপ ভার্দে এবং মিশরের বিপক্ষেও গোল করে সেই ধারাবাহিকতা অটুট রেখেছেন।
শুধু চলতি আসর নয়, বিশ্বকাপের সর্বকালের পরিসংখ্যানেও নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন মেসি। ছয়টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে তিনি খেলেছেন ৩১টি ম্যাচ, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে ২১ গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও ধরে রেখেছেন তিনি। যদিও মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ খেলেই ১৯ ম্যাচে ১৯ গোল করে তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে এখন ফুটবল বিশ্বের সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মেসি। আর্জেন্টিনা যদি শিরোপার পথে এগিয়ে যেতে পারে এবং অধিনায়ক নিজের গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন, তাহলে ৬৮ বছর ধরে অক্ষত থাকা জাস্ট ফন্টেইনের কিংবদন্তিতুল্য রেকর্ডও ইতিহাসের পাতায় নতুন মালিক পেতে পারে। আর সেটি হলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্যক্তিগত অর্জনের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ই নিজের নামে লিখে ফেলবেন লিওনেল মেসি।
-রাফসান
এফবিআইয়ের কঠোর তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) যাবতীয় আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রম নিয়ে বড় ধরনের তদন্তে নেমেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। আর্জেন্টিনার শীর্ষস্থানীয় ও প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘লা নাসিওন’-এর একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রথম প্রকাশ করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিও নিশ্চিত করেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনটির দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে এএফএ-এর সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এই ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অর্থ পাচারের সম্ভাব্য গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে এফবিআই। সংস্থাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতকে ব্যবহার করে কীভাবে কোটি কোটি ডলার লেনদেন করেছে এবং এই সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার পেছনে কোনো ধরনের বড় অপরাধ বা আর্থিক জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে কিনা, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন মার্কিন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে মিশরের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার বিতর্কিত ও রোমাঞ্চকর জয়ের পর যখন বিশ্বজুড়ে রেফারিং নিয়ে তুমুল সমালোচনা চলছে, ঠিক সেই মূহূর্তেই দেশটির ফুটবল প্রশাসনের এমন দুর্নীতির খবর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
অনুসন্ধানের বিবরণ থেকে জানা গেছে, ফ্লোরিডায় নিবন্ধিত ‘ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি’ নামক একটি বেসরকারি কোম্পানি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এএফএ-এর যাবতীয় আর্থিক দায়বদ্ধতা ও তহবিল পরিচালনা করে আসছিল, যা বর্তমানে এফবিআইয়ের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
গত কয়েক মাসে লা নাসিওনের সংগ্রহ করা ২০২৫ সালের শেষভাগ ও চলতি ২০২৬ সালের শুরুর দিকের বিভিন্ন গোপন নথিপত্র ও ব্যাংক রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জিলেট এবং রিনিউয়াল ফ্রন্টের বুয়েনস আইরেসের সাবেক বিধায়ক ফারোনি যুক্তরাষ্ট্রের মোট পাঁচটি স্বনামধন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাউন্ট খুলে কয়েকশ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেন সম্পন্ন করেছেন। এই তালিকায় থাকা শীর্ষস্থানীয় মার্কিন ব্যাংকগুলো হলো—সিটিব্যাংক, সিনোভ্যাস, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগান এবং পিএনসি ব্যাংক।
প্রাপ্ত ব্যাংকিং নথির তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত ব্যাংক হিসাবগুলোর মাধ্যমে ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি নামক প্রতিষ্ঠানটি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অন্তত ২৬ কোটি (২৬০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের বিশাল রাজস্ব বা ফান্ড হ্যান্ডেল করেছে। তবে সবচেয়ে বড় অসংগতি প্রকাশ পেয়েছে এই ফান্ডের ব্যবহার নিয়ে।
লা নাসিওনের করা আর্থিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ তহবিলের অত্যন্ত সামান্য ও নগণ্য একটি অংশ সরাসরি তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন ফুটবল সংস্থার চেনা বা বৈধ পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। অন্যদিকে, বাকি প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ (৫৭ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিভিন্ন বেনামী কোম্পানি ও নির্দিষ্ট কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টে বণ্টন করা হয়েছে, যার কোনো স্পষ্ট কিংবা আইনসম্মত অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা সরকারি নথিতে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নথিপত্রে আরও দেখা গেছে, এই লেনদেনের বড় একটি অংশ এমন কিছু ভুঁইফোড় কোম্পানির কাছে আন্তর্জাতিক ওয়্যার ট্রান্সফারের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে, যারা বাস্তবে ফুটবল বা ক্রীড়া সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সেবাই প্রদান করে না। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, আর্জেন্টিনার সরকারি রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এসব ভুয়া বা কাগুজে কোম্পানিগুলো এমন কিছু সাধারণ মানুষের নামে ও নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধিত ছিল, যারা নিজেরা জীবিকার তাগিদে রাষ্ট্রীয় সমাজকল্যাণমূলক ভাতা গ্রহণ করতেন এবং বারিলোচে কিংবা বুয়েনস আইরেসের সাধারণ এলাকায় বসবাস করেন।
মূলত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, অনিয়ম তদন্ত এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাবগুলোর মালিকানা কাঠামো পরিবর্তনের নীতি নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলের সঙ্গে আগে থেকেই তীব্র ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত রয়েছেন এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। এর ফলে তিনি নিয়মিতই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক শিরোনামে আসছিলেন। এর আগে গত মার্চ মাসেও তাপিয়ার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কর ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছিল আর্জেন্টিনার জাতীয় রাজস্ব কর্তৃপক্ষ, যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের জালে জড়াল তাঁর প্রশাসন।
/আশিক
আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয় নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তিরা
মিশরের বিরুদ্ধে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও নাটকীয় ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ৩-২ ব্যবধানের এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের পর মাঠের খেলা ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে রেফারিং ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক।
এই ম্যাচ শেষে মিশরের জাতীয় দলের কোচ হোসাম হাসান সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, আর্জেন্টিনা এবং তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিতেই ম্যাচটিতে সুনির্দিষ্ট কারচুপি করা হয়েছে। মিশরের কোচের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পর বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে, যা নিয়ে মুখ খুলেছেন ফুটবলের সাবেক কয়েকজন কিংবদন্তি তারকাও।
বিশ্ব ফুটবলের এই মহাতারকাদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য সবার ক্ষেত্রে এক রকম ছিল না। ফ্রান্স ও আর্সেনালের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরি মিশরের এই চরম হতাশা ও ক্ষোভের কারণ বুঝতে পারলেও, ম্যাচটিতে কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে সরাসরি সমর্থন করেননি। তিনি বিষয়টিকে শান্তভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাঠের উত্তেজনায় সবাই হয়তো চিৎকার করছে, তবে প্রত্যেকে ঘটনাটিকে একই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে না।
তিনি নিজে কয়েকবার ভিডিও রিপ্লে পর্যবেক্ষণ করেছেন জানিয়ে উল্লেখ করেন, এখানে যেমন মিশরের হতাশ হওয়ার যৌক্তিক কারণ রয়েছে, ঠিক একইভাবে আর্জেন্টিনার কেন মনে হচ্ছে যে সিদ্ধান্তগুলো তাদের পক্ষেই সঠিক ছিল, সেই অবস্থানটিও ফেলে দেওয়ার মতো নয়।
থিয়েরি অঁরির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মূল সমস্যাটি সিদ্ধান্তের সঠিকতা বা ভুল নিয়ে নয়, বরং ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার স্পষ্ট অভাবই এই বড় প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, প্রথমার্ধে মিশরের গোলটি বাতিল করার সময় ভিএআর যেভাবে সূক্ষ্ম ও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছিল, পরবর্তী সময়ে পেনাল্টির আবেদনের ক্ষেত্রে সেই একই ধরনের নিখুঁত ও দীর্ঘ বিশ্লেষণ মাঠে দেখা যায়নি। এই দ্বিধাদ্বন্দ্বই মূলত সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের দানা বেঁধেছে।
ফুটবল মাঠে ভিএআর চালুর মূল উদ্দেশ্যই ছিল সব দলের জন্য সমান ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, কারণ সমর্থকরা কেবল নিখুঁত সিদ্ধান্ত চায় না, তারা চায় সবার জন্য যেন একই নিয়মের সুষম প্রয়োগ ঘটে। তবে এই প্রযুক্তিগত বিতর্কের বাইরে গিয়ে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও আর্জেন্টিনার যেভাবে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জিতেছে, সেই অদম্য মানসিক শক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন সাবেক এই ফরাসি তারকা।
অপরদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক অধিনায়ক ও কড়া সমালোচক রয় কিন মিশরের কোচের তোলা কারচুপির অভিযোগটি একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর সাধারণ সমর্থকরা আবেগের বশে এমন মন্তব্য করতেই পারে, কিন্তু জাতীয় দলের একজন প্রধান কোচের কাছ থেকে এই ধরনের অপেশাদার বক্তব্য কোনোভাবেই আশা করা যায় না।
ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে স্পষ্ট এগিয়ে থাকার পরও যদি কোনো দল শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হেরে মাঠ ছাড়ে, তবে অন্য কারো ওপর দায় চাপানোর আগে নিজেদের মাঠের ভুলগুলোর দিকে তাকানো উচিত। রয় কিন আরও যোগ করেন, লিওনেল মেসি কোনো ম্যাচ জিতলেই একশ্রেণির মানুষ ফুটবলের মূল সৌন্দর্য বাদ দিয়ে সব জায়গায় কৃত্রিম ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজতে শুরু করে, যা মূলত পরাজয় আড়াল করার একটি সহজ অজুহাত মাত্র। হারের পর সেটি মেনে নিয়ে নিজেদের ভুল বিশ্লেষণ করাই প্রকৃত ফুটবলীয় আচরণ।
সুইডেনের কিংবদন্তি ফুটবলার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও এই বিষয়ে প্রায় একই সুর মিলিয়ে কথা বলেছেন। লিওনেল মেসির অতি জনপ্রিয়তার কারণে আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে রেফারি বা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে—এমন বহুল প্রচলিত ধারণাকে তিনি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
ইব্রাহিমোভিচের মতে, মেসি বিশ্বমঞ্চে জয়ী হলেই প্রতিবার ষড়যন্ত্রের একটি মনগড়া গল্প সাজানো শুরু হয়, যা অত্যন্ত পুরোনো ও সস্তা একটি অজুহাত। কোনো দল যদি ম্যাচের দুই গোলের লিড ধরে রাখতে না পারে, তবে রেফারি কিংবা টুর্নামেন্ট কমিটিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আগে নিজেদের ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের দিকে নজর দেওয়া দরকার।
বিশ্বকাপে ভুলের মাশুল অনেক বড় উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন জাতীয় দলের কোচের মূল দায়িত্ব হলো হারের পর অজুহাত না দেখিয়ে নিজের কাঁধে দায় নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদাহরণ তৈরি করা। আর্জেন্টিনা মাঠে লড়াই করেই এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে, তাই পরাজয়কে মেনে নিয়ে তা থেকে শিক্ষা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এই তুমুল তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে নিজেদের অবস্থান শক্ত করলেও, মাঠের সেই রেফারিং বিতর্ক এখনো বিশ্ব ফুটবলের প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।
/আশিক
মাঠের উত্তেজনা ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার জয়ে কাঠগড়ায় রেফারিং, জবাব দিলেন মেসি
চলতি বিশ্বকাপে মিশরের বিরুদ্ধে এক অবিশ্বাস্য রূপকথা তৈরি করে ৩-২ গোলের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই রোমাঞ্চকর জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। তবে ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মাঝে মাঠের খেলা ছাড়িয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই রেফারির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করার জোরালো অভিযোগ তুলেছেন। এই বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং নিজের সুস্পষ্ট অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
রেফারিং নিয়ে ওঠা সব সমালোচনা ও অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়ে লিওনেল মেসি বলেন, মাঠের রেফারিং অত্যন্ত চমৎকার ও উচ্চমানের ছিল। তাঁর মতে, ম্যাচের প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তই রেফারি সম্পূর্ণ নিখুঁতভাবে নিয়েছেন। তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, কেউ কি সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতে পারবে যে রেফারি কোন সিদ্ধান্তটি ভুল নিয়েছেন? নিজের বক্তব্যে রেফারিদের ওপর পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এই তারকা।
মূলত ম্যাচের জয়সূচক তৃতীয় গোলের আগের একটি মুহূর্তকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। মিশরের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের দাবি ছিল, বক্সের ভেতরে তাদের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হয়েছিল। তবে ভিডিও রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা যায়, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকোর পা সালাহর পায়ে লাগার আগেই তিনি বল স্পর্শ করেছিলেন। এর পাশাপাশি ম্যাচের শুরুর দিকে মিশরের একটি গোল বাতিল করার সিদ্ধান্তও রেফারি সঠিক নিয়েছিলেন বলে প্রমাণ মেলে, কারণ ওই আক্রমণের শুরুতে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ফাউলের শিকার হয়েছিলেন।
ম্যাচে নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং একটি পেনাল্টি মিস করার চরম হতাশার কথাও অকপটে স্বীকার করেন মেসি। তিনি জানান, ম্যাচ জয়ের পর এক ধরনের স্বস্তি পেলেও পেনাল্টি মিস করার ঠিক পরপরই নিজের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ ও রাগ তৈরি হয়েছিল। যেভাবে তিনি শটটি নিয়েছিলেন, তা মোটেও সঠিক ছিল না এবং তাঁর মনে হচ্ছিল যে দলের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি সতীর্থদের হতাশ করেছেন।
তবে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত ভাগ্য তাঁর সহায় ছিল এবং দলের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করতে পেরে তিনি যে আনন্দ ও মানসিক স্বস্তি পেয়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মেসি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে পুরো ম্যাচ জুড়েই আর্জেন্টিনা জয়ের যোগ্য দাবিদার ছিল। পেনাল্টি থেকে গোলটি হলে ম্যাচের চিত্র অনেক আগেই বদলে যেত উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়ার পরও দল দুর্দান্ত ফুটবল খেলছিল। ম্যাচজুড়ে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও হুলিয়ান আলভারেজ বেশ কিছু চমৎকার সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু মিশরের গোলরক্ষক অসাধারণ কিছু সেভ করায় ব্যবধান বাড়েনি। শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত জয় পাওয়ায় দলের এই সাফল্যে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
/আশিক
আর্জেন্টিনার জয়ের পর ক্ষুব্ধ মিশর, ‘ম্যাচ পাতানো’ অভিযোগ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম নাটকীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে মিশর। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে রেফারিং এবং ভিএআর সিদ্ধান্ত। শেষ বাঁশি বাজার পর মিশর শিবির থেকে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে আসে। দলের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো সরাসরি দাবি করেন, ম্যাচ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ছিল না এবং পুরো লড়াইটি যেন আগেই আর্জেন্টিনার অনুকূলে চলে গিয়েছিল।
ম্যাচের প্রায় ৮০ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। সেই অবস্থায় উত্তর আফ্রিকার দলটি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে পরপর তিনটি গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করে আলবিসেলেস্তেরা। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোল নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।
মিশরের দাবি, ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে গেছে। প্রথমার্ধে মোস্তফা জিকোর করা একটি গোল ভিএআরের পর বাতিল করা হয়। রেফারির ব্যাখ্যায় বিল্ড-আপে ফাউলের অভিযোগ থাকলেও মিশরীয় খেলোয়াড় ও সমর্থকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং বিতর্কিত।
আরও বড় বিতর্ক তৈরি হয় ম্যাচের শেষ দিকে। মিশরের অভিযোগ, আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের ঠিক আগে পেনাল্টি বক্সে মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বিশ্লেষণে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ম্যাচ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি।
হারের পর আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়ায় মোস্তফা জিকো ফরাসি রেফারিকে ‘জালিম’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি পবিত্র কোরআনের আয়াত ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল’ তেলাওয়াত করে বলেন, আল্লাহই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক। এরপর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন, ম্যাচ পরিচালনায় শুরু থেকেই তাদের প্রতি সুবিচার করা হয়নি।
জিকোর ভাষ্য, যদি আর্জেন্টিনা নিজেদের ফুটবল দক্ষতায় জয় পেত, তাহলে মিশরের কোনো আপত্তি থাকত না। তবে তিনি দাবি করেন, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তার বক্তব্য, এসব সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।
তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, রেফারিং নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ম্যাচের শেষ ১০-১৫ মিনিটে মিশরের রক্ষণভাগের ভাঙনই তাদের বিদায়ের প্রধান কারণ। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও সেই লিড ধরে রাখতে না পারা এবং চাপের মুহূর্তে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা শেষ পর্যন্ত বড় মূল্য চোকাতে বাধ্য করেছে দলটিকে।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। একটি গোল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি পুরো ম্যাচে আক্রমণের ছন্দ ধরে রেখে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর রেফারিং নিয়ে বিতর্ক চললেও আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল বহাল রয়েছে এবং আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। এখন তাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ, আর মিশরের জন্য রয়ে গেল বিতর্ক, আক্ষেপ এবং শেষ মুহূর্তের এক হৃদয়ভাঙা বিদায়।
-রাফসান
বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল: কার প্রতিপক্ষ কে? দেখুন সূচি
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানটান উত্তেজনার রাউন্ড অব ১৬ শেষ হয়েছে। নাটকীয় প্রত্যাবর্তন, টাইব্রেকারের রোমাঞ্চ এবং কয়েকটি হাইভোল্টেজ লড়াই শেষে নির্ধারিত হয়েছে টুর্নামেন্টের শেষ আট দল। এখন শিরোপার পথে আর মাত্র তিন ধাপ দূরে আটটি দল, আর সেই লক্ষ্যেই শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালের মহারণ।
শেষ দিনের দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ড। ফলে বিশ্বকাপের শেষ আটের লাইনআপ এখন সম্পূর্ণ।
মিশরের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের এক পর্যায়ে পিছিয়ে পড়লেও শেষ দিকে দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে জয় ছিনিয়ে নেয় লিওনেল মেসির দল। অধিনায়কের নেতৃত্বে দলটির এই জয়ে সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন জেগেছে।
অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে সমতায় শেষ হয়। অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল ব্যবধান গড়তে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করে সুইসরা।
এবার কোয়ার্টার ফাইনালে সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি লড়াই। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সংগঠিত ফুটবলের জন্য পরিচিত সুইজারল্যান্ড কতটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে, তা নিয়েই এখন ফুটবলবিশ্বে চলছে আলোচনা।
অন্যদিকে, কোয়ার্টার ফাইনালের উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী প্রতিনিধি মরক্কো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মরক্কোর ধারাবাহিক উন্নতি এবং বড় দলগুলোর বিপক্ষে তাদের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
স্পেনের সামনে অপেক্ষা করছে ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী বেলজিয়াম। দুই দলেরই আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠ শক্তিশালী হওয়ায় ম্যাচটি কৌশলগত লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডকে ঘিরে নরওয়ের আক্রমণ এবং ইংল্যান্ডের ভারসাম্যপূর্ণ দল দুইয়ের সংঘর্ষে জমজমাট একটি ম্যাচের প্রত্যাশা করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
বিশ্বকাপ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে একটি ভুল কিংবা একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো টুর্নামেন্টের চিত্র। তাই কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিটি ম্যাচই ফাইনালের মতো গুরুত্ব বহন করবে।
কোয়ার্টার ফাইনালের পূর্ণ সূচি
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই), রাত ২টা
ফ্রান্স বনাম মরক্কো — বোস্টন স্টেডিয়াম
শুক্রবার (১০ জুলাই), রাত ১টা
স্পেন বনাম বেলজিয়াম — লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম
শনিবার (১১ জুলাই), রাত ৩টা
নরওয়ে বনাম ইংল্যান্ড — মায়ামি স্টেডিয়াম
রোববার (১২ জুলাই), সকাল ৭টা
আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড — কানসাস স্টেডিয়াম
-রাফসান
খেলা জিতে চোখের জলে মেসির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমন নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ফুটবল ইতিহাসে খুব কমই দেখা যায়। ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে মিশরকে। এই অবিশ্বাস্য জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি, যিনি একটি অ্যাসিস্ট, একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল এবং অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়ে দলকে টেনে তুলেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে প্রথমার্ধ থেকেই চাপে পড়ে যায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। মিশরের সংগঠিত আক্রমণ ও দ্রুতগতির ফুটবলের সামনে আর্জেন্টিনার রক্ষণ বারবার ভেঙে পড়ে। এর মধ্যেই পেনাল্টি থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন মেসি। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের মুখেই দাঁড়িয়ে আছে আলবিসেলেস্তারা।
কিন্তু বিরতির পর দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ ১৩ মিনিটে যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দলকে দেখা যায়। মেসির সৃজনশীলতা, মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং ফরোয়ার্ডদের ধারালো আক্রমণে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তিনটি গোল করে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি পাল্টে দেয় দক্ষিণ আমেরিকার জায়ান্টরা।
প্রথমে দুর্দান্ত এক পাস থেকে সতীর্থকে দিয়ে গোল করান মেসি। এরপর নিজের চেনা বাঁ পায়ের জাদুতে সমতাসূচক গোল করে পেনাল্টি মিসের আক্ষেপও ঘুচিয়ে দেন। শেষ মুহূর্তে আসে জয়সূচক গোল, আর তাতেই বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হয় ফুটবল বিশ্ব।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত মেসি বলেন, "আমি ভীষণ আনন্দিত। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার পর এভাবে ফিরে এসে জয় পাওয়া সত্যিই অবিশ্বাস্য অনুভূতি। এই দল কখনো হাল ছেড়ে দেয় না। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাই।"
তিনি আরও বলেন, "বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। এখানে ছোট-বড় কোনো দল নেই। আজ আমরা অনেক কষ্ট করেছি, কিন্তু লক্ষ্য থেকে একচুলও সরে যাইনি। এখন সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।"
বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচটি শুধু একটি জয় নয়; এটি আর্জেন্টিনার মানসিক দৃঢ়তা ও চ্যাম্পিয়নসুলভ চরিত্রেরও প্রতিচ্ছবি। পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে যেভাবে মেসি পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন, তা আবারও প্রমাণ করেছে কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নেওয়ার ঘটনা সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো আর্জেন্টিনার এই রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন। দলটির সমর্থকদের কাছে এটি শুধু একটি জয় নয়, বরং নতুন করে শিরোপা স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা।
-রফিক
ফিলিস্তিনের কষ্ট যে বোঝে না সে মানুষই না: মিসরীয় কোচ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মহাকাব্যিক ও ঐতিহাসিক জয়ের পর মাঠের বুকে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা ওড়ানো এবং সেই জয় নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করায় মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানের বিরুদ্ধে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার (FIFA) কাছে নিষেধাজ্ঞার নালিশ জানিয়েছিল একটি পক্ষ।
ফিফার অফিশিয়াল শৃঙ্খলা বিধিমালা ভঙ্গের বিতর্কিত অভিযোগ এনে মিসরীয় এই মাস্টারমাইন্ডকে চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে সরাসরি নিষিদ্ধ করার জোর দাবি জানানো হয়। তবে মানবতার পক্ষে থাকা বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা সেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও একপাক্ষিক অভিযোগ সাফ খারিজ করে দিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ (The Guardian) সহ আন্তর্জাতিক শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা তাদের অফিশিয়াল বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শনে কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক নিয়ম বা শৃঙ্খলা বিধি ভঙ্গ হয়নি।
ফিফার অফিশিয়াল স্বীকৃত ২১১টি স্বাধীন সদস্য দেশের একটি হলো ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটির নিজস্ব আইনি নিয়ম ও প্রবিধান অনুযায়ী, ফিফা সদস্যভুক্ত যেকোনো দেশের অফিশিয়াল জাতীয় পতাকা মাঠ, স্টেডিয়াম কিংবা গ্যালারিতে প্রদর্শন করার পূর্ণ আইনি অনুমতি রয়েছে। তাই হোসাম হাসানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ফিফা।
এদিকে ফিফার কাছে এই সংকীর্ণ অভিযোগ দায়েরের পরও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ও মজলুম মানুষের পক্ষে নিজের মানবিক অবস্থান আরও বেশি স্পষ্ট ও জোরালো করেছেন মিসরের প্রধান কোচ। আজ রাতে শেষ ষোলোর ম্যাচে পরাশক্তি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার ঠিক আগে আয়োজিত অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনিদের চলমান মানবিক দুর্দশা নিয়ে এক নজিরবিহীন আবেগঘন ও সাহসী বক্তব্য দেন তিনি।
বিশ্বের দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে হোসাম হাসান বলেন, ‘ফিলিস্তিনবাসীর এই অবর্ণনীয় দুর্দশা ও নির্মম কষ্ট যদি কেউ নিজের হৃদয়ে অনুভব করতে না পারেন, তবে তিনি মানুষই নন—হোক তিনি আরব, ইউরোপীয় কিংবা আমেরিকান।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘আজকের এই সভ্য বিশ্বে বিভিন্ন দেশে প্রাণীর অধিকার নিয়েও মানুষ রাজপথে সোচ্চার হয়, অথচ ফিলিস্তিনে প্রতিদিন হাজারো মানুষের নির্মম মৃত্যু অনেকের কাছে অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ঘটনায় পরিণত হয়েছে।’
মিসরের ফুটবল ইতিহাসের এই সাবেক মহাতারকা বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন, ফুটবল শুধু গোল করা কিংবা স্রেফ প্রতিযোগিতার একটি মাধ্যম নয়, এটি বিশ্বজুড়ে মানবতার শক্তিশালী বার্তা দেওয়ারও একটি অন্যতম আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। তাঁর মতে, চলমান বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে এই মুহূর্তে সমগ্র বিশ্বের কাছে প্রধান বার্তা হওয়া উচিত—ফিলিস্তিনের সাধারণ ও নিরীহ মানুষের শান্তিতে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার অবিলম্বে নিশ্চিত করা।
আজ রাতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বাঁচা-মরার লড়াইয়ে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ফিফার এমন ন্যায়সংগত ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তে বড় ধরনের স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে পুরো মিসরীয় শিবিরে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- সিলেটে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
- অনেক রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে: রিজভী
- শান্তি চুক্তি ভেঙে ইরানে দ্বিতীয় দিনের মতো আমেরিকার ব্যাপক বিমান হামলা
- শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় কোনো কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর মেগা পরিকল্পনা সরকারের
- ৯ জুলাই ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা, কোন ১০ শেয়ার সবচেয়ে দর বেশি কমল
- ডিএসইতে বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ল এই ১০ শেয়ার
- দেবিদ্বারের প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ উপহার প্রধানমন্ত্রীর, কী বলছেন বিএনপি নেতারা?
- বিশ্বকাপ ফাইনালে তারকাদের মহাউৎসব, জানুন বিস্তারিত
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, আবার কমল দেশের স্বর্ণের দাম
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা ৯ দিনের ছুটি ঘোষণা
- যুক্তরাষ্ট্রকে গালিবাফের হুঁশিয়ারি, ‘হামলার জবাব হবেই’
- ইরানে আরও ৯০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
- ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?
- ‘হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে’- ট্রাম্প
- মেসির পেনাল্টি মিস নিয়ে তর্ক, সংঘর্ষে নিহত ১
- কুমিল্লা আন্তঃজেলার ৭ ডাকাত সর্দার গ্রেফতার খুন, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ ১৫-২০টি করে মামলা
- ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের শীর্ষ পদ থেকে জাবের ও জুমার পদত্যাগ
- আজ রাতেও ইরানে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- এফবিআইয়ের কঠোর তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রশাসন
- আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয় নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তিরা
- মাঠের উত্তেজনা ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার জয়ে কাঠগড়ায় রেফারিং, জবাব দিলেন মেসি
- জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে নির্দিষ্ট এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধের ঘোষণা
- স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক ঘোষণায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস
- ঢাকার ট্রাফিক জট নিরসনে চার মাসের মেগা পরিকল্পনা কাঁচপুরে
- নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১১ দলকে হারানো হয়েছে: শফিকুর রহমান
- সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ঘোষণা: এবার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ ফ্রি
- দেশের ৬৫ হাজার সরকারি স্কুলের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ৮ জুলাই মার্কিন-ইরান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা ট্রাম্পের
- ৮ জুলাই ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৮ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৮ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রোহিঙ্গা থেকে সেফ সিটি, ঢাকার পাশে ইসলামাবাদ?
- আর্জেন্টিনার জয়ের পর ক্ষুব্ধ মিশর, ‘ম্যাচ পাতানো’ অভিযোগ
- বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল: কার প্রতিপক্ষ কে? দেখুন সূচি
- জুলাইযোদ্ধার ২০০ আবেদন ভুয়া, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ৮ জুলাইয়ের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- ইরাকে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ, আজ কারবালায় শোকযাত্রা
- এক ধাক্কায় কমল স্বর্ণের দাম, নতুন ভরি কত
- বুধবার কোথায় বন্ধ দোকান-মার্কেট? দেখে নিন তালিকা
- মার্কিন হামলার পর ইরানের হুঁশিয়ারি, ‘আরও কঠোর জবাব দিব’
- খেলা জিতে চোখের জলে মেসির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
- ফিলিস্তিনের কষ্ট যে বোঝে না সে মানুষই না: মিসরীয় কোচ
- সাইবার প্রযুক্তির পরীক্ষা জালিয়াতি রুখতে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের মেগা বিল পাস
- সংসদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময়
- পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি: অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো সাজেক ভ্যালি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ ভেন্যুতে বিশ্বকাপের খেলা সম্প্রচার সাময়িক বন্ধ
- ৭ বারের আফ্রিকা সেরা মিসরের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা: সতর্ক স্কালোনি
- নরওয়ের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন? জানালেন আনচেলত্তি
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- ‘নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে’- ট্রাম্প
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- ‘অন্য ভাষায় জবাব পাবেন’ ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু, এবার ঝড়-বন্যার নতুন শঙ্কা
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান
- ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?
- ২০০৬ সালের ভিসানীতিতে বড় সংস্কার








