জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গনভোট প্রশ্নে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১৩ ১৫:৫১:৫৩
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গনভোট প্রশ্নে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

প্রিয় দেশবাসী, শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, নবীন-প্রবীণ সবাইকে আমার সালাম জানাচ্ছি।

আসসালামু আলাইকুম।

গত বছর আগস্ট মাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিবলে আমরা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছিলাম। এরপর আমরা এখন আমাদের মেয়াদে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছি।

আমাদের সরকারের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব ছিল মূলত তিনটি। হত্যাকাণ্ডের বিচার করা, একটি জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের আয়োজন করা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এই বিচারের উদ্দেশ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের প্রথম রায় শীঘ্রই দিতে যাচ্ছে।ট্রাইব্যুনালে আরও কয়েকটি মামলার বিচার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ ফৌজদারি আদালতগুলোতেও জুলাই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত কিছু বিচারকাজ শুরু হয়েছে। আমরা একইসাথে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুমের মতো নৃশংস অপরাধের বিচারকাজ শুরু করেছি।

আমি আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই যে সংস্কারের ক্ষেত্রেও আমরা ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছি। অন্তর্বর্তী সরকার নিজ উদ্যোগে বা বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেছে। কিছু প্রস্তাবিত সংস্কারের কাজ এখনও চলমান আছে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে বা বিদ্যমান আইন সংশোধন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিচার ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটালাইজেশন সম্প্রসারণ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভিন্ন সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সুশাসনের জন্য এসব সংস্কার বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। আশা করি, আগামী নির্বাচিত সরকার সংসদে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এসব সংস্কার গ্রহণ করবে।

আমাদের আরেকটি গুরুদায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান। আমি ঘোষণা করেছি যে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।

আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমরা সঠিকভাবে পালন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।

প্রিয় দেশবাসী,রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিরলসভাবে গত প্রায় নয় মাস ধরে কাজ করেছে। এসময় কমিশন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করেছে। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ধৈর্য্যসহকারে রাজনৈতিক দলগুলো কমিশন কর্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। মতের পার্থক্য থাকলেও তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। অনেক বিষয়েই ঐকমত্যে আসতে পেরেছেন। দেশবাসী সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই পুরো কার্যক্রম দেখতে পেরেছেন। এটি বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে তো বটেই, পৃথিবীর অনেক দেশের জন্য এক অভূতপূর্ব ঘটনা। এটি ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্যও আশাব্যঞ্জক। আমি ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দকে গণতান্ত্রিক চর্চার এই আসাধারণ আয়োজনকে সফল করার জন্য আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত জুলাই সনদে সংবিধান বিষয়ক ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। কিছু প্রস্তাবে সামান্য ভিন্নমত আছে। বাকি অল্প কিছু প্রস্তাবে আপাতদৃষ্টে মনে হয় অনেক দূরত্ব আছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে খতিয়ে দেখলে দেখা যায় যে, এসব প্রস্তাবগুলোর ক্ষেত্রেও আসলে মতভিন্নতা খুব গভীর নয়। কেউ সংস্কারটা সংবিধানে করতে চেয়েছেন, কেউ আইনের মাধ্যমে করতে চেয়েছেন। কিন্তু সংস্কারের প্রয়োজনীতা, নীতি ও লক্ষ্য নিয়ে কারো মধ্যে মতভেদ নেই। কাজেই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশ্য বক্তব্য যতখানি পরস্পরবিরোধী অবস্থান আছে বলে মনে হয়, জুলাই সনদ সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করলে ততখানি মত পার্থক্য দেখা যায় না। এটি আমাদের অনন্য অর্জন। এতে জাতি এগিয়ে যেতে সাহসী হবে।

এসব বিবেচনায় রেখে এবং রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক স্বাক্ষরিত জুলাই সনদকে মূল দলিল হিসেবে ধরে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার আজকের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুমোদন করেছে। এটি বিরাট খবর। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর শেষে এটি ইতোমধ্যে গেজেট নোটিফিকেশন করার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই আদেশে আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিধান গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে সনদের সংবিধান বিষয়ক সংস্কার প্রস্তাবণার ওপর গণভোট অনুষ্ঠান এবং পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত।

আমরা সকল বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।

জুলাই সনদের আলোকে আমরা গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও নির্ধারণ করেছি।আমি প্রশ্নটি এখন আপনাদের সামনে পাঠ করে শোনাচ্ছি। প্রশ্নটি হবে এরকম:“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”

ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।”

গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত জানাবেন।

গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হবার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটিও আজকে অনুমোদিত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রিয় দেশবাসী,অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব গ্রহণ করে অর্থনীতিকে গভীর গহ্বর থেকে উদ্ধার করা ছিল আমাদের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। গত ১৫ মাসে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ উৎরাতে সক্ষম হয়েছি। রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রিজার্ভসহ অর্থনীতির সবগুলো সূচকে দেশ ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। লুট হয়ে যাওয়া ব্যাংকিং খাত ইতোমধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী করতে নানামুখী পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রথম বছরে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ অর্থাৎ এফডিআই ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি বৈশ্বিক প্রবণতার বিপরীতে এক অনন্য অর্থনৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কভিত্তিক মায়ার্স্ক গ্রুপের মালিকানাধীন এপিএম টার্মিনালস বি.ভি.-এর সঙ্গে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় এই কোম্পানি ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এটি এযাবৎকালে বাংলাদেশে ইউরোপের সর্বোচ্চ একক বিনিয়োগ। লালদিয়া হবে দেশের প্রথম বিশ্বমানের গ্রিন পোর্ট।

প্রিয় দেশবাসী,প্রায় দেড় যুগ ধরে আমাদের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তাঁরা আজ আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে অভ্যুত্থানের স্বপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলিকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তা না হলে জাতি এক মহাবিপদের সম্মুখীন হবে। এ সম্পর্কে আমি আগেও একাধিকবার আমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছি।ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০২৪-এর জুলাইয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে দেশবাসী যে ঐক্য গড়ে তুলেছিল, আমরা জীবিতরা যেন অল্পস্বল্প ভিন্নমত ও লঘু বিবাদে জড়িয়ে তার মর্যাদা ক্ষুন্ন না করি।

১৩৩ শিশু, শত শত তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষের মৃত্যু, হাজার হাজার মানুষের অঙ্গহানির যে আত্মত্যাগ সেটিকে আমাদের সম্মান জানাতেই হবে।

দেশের আপামর জনগণ সামান্য যা চায় তা হচ্ছে, এই অগুনিত হতাহতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা সবাই যেন ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণুতা দেখাই। দলীয় স্বার্থ অতিক্রম করে, সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় চাওয়াকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরি। তাই আমি আশা করি আমাদের এই সিদ্ধান্ত জাতির বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নেবে। একটি উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচনের দিকে জাতি এগিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশে প্রবেশ করব।

আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছালাম।মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমাদের আশা মহান আল্লাহ পূরণ করুন।

আল্লাহ হাফেজ।সবাইকে ধন্যবাদ।


 মির্জা ফখরুলের জয়ে চীন ও যুক্তরাজ্যের অভিনন্দনবার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ২০:১৪:৪১
 মির্জা ফখরুলের জয়ে চীন ও যুক্তরাজ্যের অভিনন্দনবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকায় চীনা দূতাবাস ও ব্রিটিশ হাইকমিশন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই পৃথক বার্তায় নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানায় দুই দেশের কূটনৈতিক মিশন।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রায় ১৫ মিনিট পর ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর একইভাবে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানায় ব্রিটিশ হাইকমিশন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

ফলাফল ঘোষণার পর চীনা দূতাবাসের অভিনন্দন বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। নতুন যুগে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত চীন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীন এবং দুই দেশের জনগণ আরও বেশি উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

অন্যদিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের বার্তায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশন তাদের বার্তায় আরও জানায়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছে যুক্তরাজ্য।

/আশিক


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি ছয় সংসদ সদস্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ১৮:২৪:০৫
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি ছয় সংসদ সদস্য
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। ভোট দেননি ছয়জন সংসদ সদস্য। দেওয়া ৩৪৩টি ভোটই বৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

ফলাফল ঘোষণার সময় সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মোট ৩৪৯টি ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৪৩টি ব্যালটে ভোট পড়েছে এবং সবগুলো ভোটই বৈধ হয়েছে।

নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ভোটের ফল অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা ছয় সংসদ সদস্যের মধ্যে দুজনের বিষয়ে তথ্য জানা গেছে। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এ কারণে তিনি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। ফলে তিনিও ভোট দিতে পারেননি।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। তিনি বিএনপি কিংবা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের যেকোনো একজনকে ভোট দিতে পারতেন। তবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে ভোটকক্ষে দেখা যায়নি।

এ ছাড়া ভোট না দেওয়া বাকি তিন সংসদ সদস্যের নাম এখনো জানা যায়নি।

/আশিক


অলি আহমদকে হারিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ১৮:০৭:১৫
অলি আহমদকে হারিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোট গণনা প্রক্রিয়া শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাষ্ট্রপতির নাম ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকাল ৫টার পর ভোট গণনা সমাপ্ত করে তিনি এই আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, এবারের সংসদীয় নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ফলাফল প্রকাশের পরপরই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এই নির্বাচনে অধিকাংশ সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকলেও ছয়জন সদস্য ভোট দেননি। এর মধ্যে পাঁচজন সংসদ সদস্য কেন্দ্রে আসেননি। তারা হলেন—ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের রুমিন ফারহানা, সাতক্ষীরা-৪ আসনের গাজী নজরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক এবং চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা। এছাড়া দলীয় সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোটাধিকার প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকেন।

/আশিক


অশ্রুসিক্ত বিদায়ী বক্তব্যে দল ও দেশের প্রতি অঙ্গীকার মির্জা ফখরুলের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ২০:১১:০৭
অশ্রুসিক্ত বিদায়ী বক্তব্যে দল ও দেশের প্রতি অঙ্গীকার মির্জা ফখরুলের
বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনেছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছেন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আবেগঘন হয়ে পড়েন এবং দলের সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া চেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দলীয় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব দূর করার কঠোর নির্দেশনা দেন।

বৈঠকের শুরুতে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দিয়ে সংসদ সদস্যদের ভোটিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করেন এবং মির্জা ফখরুলের পক্ষে সমর্থন চান। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে। এরপর বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং দলীয় প্রধান তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা চান এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আজীবন অবিচল থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

পরবর্তীতে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দিনটিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেন, বহু ত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই অবস্থান তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মির্জা ফখরুলের অতীত ত্যাগ ও দুঃসময়ে দল পরিচালনার সাহসিকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলাকার তৃণমূলের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের কোনো ধরনের দূরত্ব তৈরি হতে দেওয়া যাবে না। এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতীকবিহীন হওয়ায় তা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, অতীতে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী হয়ে দলের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না। তৃণমূলের গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমর্থন দিয়ে বিজয়ী করতে এখন থেকেই কাজ শুরু করার তাগিদ দেন তিনি। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও দলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


১৮০ দিনের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অ্যাপ্রুভাল রেটিং প্রকাশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ১৯:৫০:৩৮
১৮০ দিনের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অ্যাপ্রুভাল রেটিং প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সার্বিক কার্যক্রমে দেশের ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলে এক জাতীয় জনমত জরিপে উঠে এসেছে। স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডপলার রিসার্চ বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনায় এবং ইনোভিশন কনসালটিংয়ের অর্থায়নে পরিচালিত ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বুধবার এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ অসন্তোষ জানিয়েছেন এবং ১২ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা কোনো মতামত প্রকাশ করেননি।

চলতি আগস্টে প্রাপ্তবয়স্কদের একটি প্যানেলের ওপর সরাসরি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে মোট ১০ হাজার ৪১৩টি কলের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপ অনুযায়ী, বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা ও আয়ভেদে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টির মাত্রা ৬১ দশমিক ৭ থেকে ৭০ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে এবং দেশের আটটি বিভাগেই এ হার ৬২ দশমিক ৩ শতাংশের ওপরে। বিরোধী দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যেও তাঁর ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা লক্ষ্য করা গেছে; যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ সমর্থক প্রধানমন্ত্রীর কাজের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

তবে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত রেটিংয়ের তুলনায় সরকারের সার্বিক কাজের মূল্যায়নে কিছুটা ব্যবধান দেখা গেছে। সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে ভালো বলেছেন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং খারাপ উল্লেখ করেছেন ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ। দেশ সঠিক পথে চলছে বলে মত দিয়েছেন ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা, বিপরীতে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করছেন দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে এবং ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ কোনো মন্তব্য করেননি।

নাগরিকরা প্রধান জাতীয় সংকট হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা (৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ) এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি (৫৯ দশমিক ১ শতাংশ)-কে চিহ্নিত করেছেন, যার প্রভাব পড়েছে সরকারি মূল্যায়নেও। সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ, জ্বালানি ও গ্যাসে ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রত্যাশা লক্ষ্য করা গেছে। এক বছর আগের তুলনায় পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়েছে বলে ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ জানালেও, আগামী এক বছরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ। এছাড়া সরকারের ফ্যামিলি কার্ডে ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ, করনীতিতে ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা সমর্থন জানিয়েছেন। জরিপে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কার্যক্রমকে ভালো বলেছেন ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কের কাজকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ। নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নিজ এলাকায় রাতে একা হাঁটার ক্ষেত্রে ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ নারী এবং ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ নিরাপদ বোধ করেন। সামগ্রিকভাবে এই জরিপের ফলাফলকে ‘সতর্ক আশাবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

/আশিক


জাতীয় পর্যায়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের ব্যাপক উদ্যোগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ১৮:১৯:৩৭
জাতীয় পর্যায়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের ব্যাপক উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে বিস্তারিত জাতীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছে সরকার। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৬ আগস্ট দেশজুড়ে দিবসটি উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী প্রদান করবেন। পাশাপাশি সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সশস্ত্র বাহিনীর স্থাপনাগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও ট্রাফিক আইল্যান্ডগুলো জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালিমা তাইয়্যিবা’ খচিত ব্যানারে সজ্জিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ সারা দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ নিজ নিজ এলাকায় আলোচনা সভা ও প্রার্থনার আয়োজন করবে।

দিবসটি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মাসব্যাপী বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টক শো সম্প্রচার এবং বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলার আয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং আরবিতে খুতবা লিখন প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে এবং বিশেষ স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি এবং ঢাকা ও জেদ্দার হজ অফিসসহ সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ, ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু একাডেমি শিশুদের জন্য রচনা ও হামদ-নাত প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।

এদিন দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশু পরিবার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং প্রবীণ নিবাসগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সকল দূতাবাস ও মিশনেও দিবসটি মর্যাদার সাথে উদযাপিত হবে। অনুষ্ঠান চলাকালীন দেশজুড়ে সার্বিক শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।

/আশিক


দীর্ঘ তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ১৮:১৪:২৮
দীর্ঘ তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতি
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় দলের বিশেষ বৈঠকে বসেছেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদ সদস্যগণ। বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংসদীয় দলের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় দলটির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।

আসন্ন তেইশতম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই প্রথম একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ। জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এবং সংসদ সভা কক্ষে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সভা কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তৎকালীন একাদশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর আবারও সংসদের ভোটাভুটিতে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

/আশিক


আইন পেশার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ২১:৫০:২৮
আইন পেশার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

আইন পেশাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় ও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনায় অবস্থিত বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে ঢাকা ব্যাংকের একটি নতুন সাব-ব্রাঞ্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আইনজীবীদের মানোন্নয়ন, কার্যকর পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং বার কাউন্সিলের কার্যক্রমে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই লক্ষ্য অর্জনের মূল পথ।

সরকারি কর্মকর্তা কিংবা বিচারকদের মতো আইনজীবীদেরও নিয়মতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, চলতি বছর আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে। তিনি বলেন, সাধারণত সনদ অর্জনের পর নবীন আইনজীবীরা মূলত সিনিয়রদের সঙ্গে কাজ করেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তবে কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জ্ঞান ও দক্ষতাকে আরও শাণিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।

বক্তব্যে দেশের ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী। সব ধরনের শর্ত পূরণের পরেও উদ্যোক্তাদের যথাসময়ে ঋণের অর্থ ছাড় না করে তাঁদের সম্পত্তি মর্টগেজ ও চেক আটকে রাখার প্রবণতাকে তিনি দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেন। পাশাপাশি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন এবং এই পদক্ষেপ যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেন। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঋণ প্রস্তাবের ফাইলে সই করে পরবর্তীতে আইনি জটিলতায় পড়া ব্যাংকের জুনিয়র কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দেওয়ার উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

বার কাউন্সিলের প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামোকে আরও জবাবদিহিমূলক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মো. আসাদুজ্জামান জানান, সংস্থায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার পাশাপাশি বহিরাগত অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বার কাউন্সিলকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা অনিয়মের ক্ষেত্র না বানিয়ে শিক্ষা, মেধা ও পেশাগত দক্ষতার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। আইন মন্ত্রণালয় স্বাধীন এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও অনুপ্রেরণাদায়ী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল এবং ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ২১:২৬:১০
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত হলে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই জানানো হবে।

এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম জানিয়েছিলেন, এই সম্ভাব্য সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। তবে বাংলাদেশ মনে করে, সফরের আগে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক আসামি এবং শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের দ্রুত ফিরিয়ে দিতে ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার ভারত তাদের অবস্থান তুলে ধরে জানিয়েছে যে তারা পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ভারতের নতুন করে কিছু বলার নেই এবং হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি কূটনৈতিক ও আইনি নিয়ম মেনেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশ ক্ষোভ প্রকাশ করলে ভারত স্পষ্ট করেছিল যে সেটি একটি বেসরকারি আয়োজন ছিল এবং এতে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দুই দেশই অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চায়। গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি সহযোগিতা, ভিসা সুবিধা ও বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে উভয় পক্ষই কাজ করছে। তবে দুই দেশের জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অগ্রগতি হলেও এই সফরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: