বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোন আসনে লড়ছেন?

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ২৩৭টি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই গুরুত্বপূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেন।
স্থায়ী কমিটির বৈঠক ও শীর্ষ নেতাদের নাম
প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলে এই বৈঠক। বৈঠকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকের পরই বিএনপি মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, দলের মনোনয়ন পেয়েছেন—
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া: দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান: বগুড়া-৬ আসন।
মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: ঠাকুরগাঁও-১ আসন।
স্থায়ী কমিটি ও ভাইস চেয়ারম্যানদের আসন
খন্দকার মোশাররফ হোসেন: কুমিল্লা-১ আসন।
মির্জা আব্বাস: ঢাকা-৮ আসন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: ঢাকা-৩ আসন।
আবদুল মঈন খান: নরসিংদী-২ আসন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: চট্টগ্রাম-১০ আসন।
সালাহ উদ্দিন আহমদ: কক্সবাজার-১ আসন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু: সিরাজগঞ্জ-২ আসন।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ: ভোলা-৩ আসন।
এজেডএম জাহিদ হোসেন: দিনাজপুর-৬ আসন।
ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন:
আলতাফ হোসেন চৌধুরী: পটুয়াখালী-১ আসন।
বরকত উল্লাহ বুলু: নোয়াখালী-৩ আসন।
মোহাম্মদ শাহজাহান: নোয়াখালী-৪ আসন।
আবদুল আউয়াল মিন্টু: ফেনী-৩ আসন।
নিতাই রায় চৌধুরী: মাগুরা-২ আসন।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ: কুমিল্লা-৩ আসন।
আহমেদ আজম খান: টাঙ্গাইল-৮ আসন।
উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিবদের প্রার্থীতা
মনিরুর হক চৌধুরী: কুমিল্লা-৬ আসন।
আমান উল্লাহ আমান: ঢাকা-২ আসন।
মাহবুব উদ্দিন খোকন: নোয়াখালী-১ আসন।
জয়নুল আবদিন ফারুক: নোয়াখালী-৪ আসন।
জহির উদ্দিন স্বপন: বরিশাল-১ আসন।
মজিবুর রহমান সারোয়ার: বরিশাল-৫ আসন।
লুৎফুজ্জামান বাবর: নেত্রকোনা-৪ আসন।
তাজভীর উল ইসলাম: কুড়িগ্রাম-৩ আসন।
হাবিবুর রহমান হাবিব: পাবনা-৪ আসন।
মুশফিকুর রহমান: ব্রাক্ষণবাড়ীয়া-৪ আসন।
আফরোজা খান রিতা: মানিকগঞ্জ-৩ আসন।
মঈনুল ইসলাম খান: মানিকগঞ্জ-২ আসন।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির: সিলেট-১ আসন।
তাহমিনা রশদীর লুনা: সিলেট-২ আসন।
আবুল খায়ের ভুঁইয়া: লক্ষ্মীপুর-২ আসন।
এনামুল হক চৌধুরী: সিলেট-৬ আসন।
আবদুস সালাম পিন্টু: টাঙ্গাইল-২ আসন।
জয়নাল আবেদীন ভিপি জয়নাল: ফেনী-২ আসন।
ফজলুর রহমান: কিশোরগনজ-৪ আসন।
নাসের রহমান: মৌলভীবাজার-৩ আসন।
যুগ্ম মহাসচিবদের মধ্যে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন:
খায়রুল কবির খোকন: নরসিংদী-১ আসন।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি: লক্ষীপুর-২ আসন।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স: ময়মনসিংহ-১ আসন।
পরিবর্তনের সম্ভাবনা ও জোটের সমন্বয়
প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "আজকে ২৩৭ আসনে আমরা সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলাম।" তিনি স্পষ্ট করে জানান, "এরপরে আমাদের সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছেন সেই সমস্ত দলের সঙ্গে কথা বলে যে সমস্ত আসন আমরা ঘোষণা করিনি, তারা আসতে পারেন। অথবা আমাদের আসনও আমরা পরিবর্তন করতে পারি। এটা আমরা পরিস্কার করে জানিয়ে দিচ্ছি।" তিনি আরও বলেন, এটি তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা।
উল্লেখ্য, এর আগে চার মাস আগে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিশ, গণতন্ত্র মঞ্চ, এবি পার্টি, এলডিপি এবং সর্বশেষ লেবার পার্টিও আলাদা আলাদাভাবে প্রার্থী তালিকা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রস্তাবিত বাজেট চানাচুর মার্কার মতো শুনলে ভালো লাগে খেলে পেট খারাপ হয়: আমির হামজা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘লুটপাটের বাজেট’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। তিনি এই বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কার’ সাথে তুলনা করে বলেন, "এ বাজেট অনেকটা চানাচুর মার্কার মতো; শুনতে ভালো লাগলেও খেলে পেট খারাপ হয়।"
বুধবার (১৭ জুন) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, জাতীয় বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় বাড়াতে কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ না বাড়িয়ে নতুন আয়ের উৎস খুঁজে বের করার তাগিদ দেন তিনি। দেশের অন্যতম বড় সমস্যা বেকারত্ব মোকাবিলায় শিল্পায়নে আরও বেশি বিনিয়োগ ও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দের সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি দীর্ঘদিনের অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও মাদ্রাসাগুলো পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। তিনি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং প্রতিটি জেলা শহরে একটি করে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা জাতীয়করণের জোর দাবি জানান।
কৃষি খাতের উন্নয়নে কৃষকদের জন্য স্বল্পমূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত করার আহ্বান জানান আমির হামজা।
পাশাপাশি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। তাদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে রেললাইন চালুর উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও এ বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। আগামী বাজেটে যেন এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন হয়, সেই দাবি জানান তিনি।
বাজেট নিয়ে সরকারের আশাবাদী বক্তব্যের সমালোচনা করে আমির হামজা বলেন, "সরকার দাবি করছে বাজেটকে ঘিরে দেশে আনন্দের বন্যা বইছে। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের বাস্তব চিত্রও দেখা গেছে।"
/আশিক
দেশি-বিদেশি মদদে আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি: নাহিদ ইসলাম
দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশি মদদে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, এই চক্রটি জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের পরিকল্পিতভাবে হেনস্থা, নিপীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংসদ নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে বলেন, "এর মধ্য দিয়ে আবারও আওয়ামী সন্ত্রাসী রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও পাশবিক চরিত্র জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। হিংস্রতা ও নিষ্ঠুরতায় তারা সভ্যতার সব সীমা অতিক্রম করেছে।" তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির এই বর্বরতায় উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে এমন কিছু কুশীলবকে, যারা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ছিল এবং গত ১৭ বছর ধরে গুম, খুন ও দমনের পক্ষে নির্লজ্জ সাফাই গেয়েছে।
গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদের অর্থায়নের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশ থেকে লুটপাট ও পাচার করা অর্থ এখন গণমাধ্যমে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম কার্যক্রম শুরু করেছে দাবি করে এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট জবাব চান তিনি। একই সঙ্গে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু গণমাধ্যম সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ঘিরে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচার করে অপরাধ লঘু করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আদালতের নির্দেশনার আলোকে গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রচার অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার এবং ফ্যাসিবাদীদের পক্ষে সম্মতি তৈরিকারী তথাকথিত সুশীল ও দালালচক্রকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বর্তমান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, "পতিত সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর দুঃসাহসের দায় সরকার এড়াতে পারে না। নির্বাচনের পর জুলাই গণহত্যাসহ অন্যান্য গণহত্যায় অভিযুক্ত নেতাদের একের পর এক মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের প্রতি একধরনের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এর ফলেই তারা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।" তিনি জুলাই গণহত্যাসহ সব রাজনৈতিক নিপীড়নে জড়িতদের বিচারের পাশাপাশি গণহত্যা ও সন্ত্রাসে সম্পৃক্ত সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার অবিলম্বে শুরু করার জোর দাবি জানান। পরিশেষে, দেশে-বিদেশে সক্রিয় আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ করতে তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
/আশিক
জুলাই সনদ সংসদে নিষ্পত্তি না হলে রাজপথে আদায়ের হুঁশিয়ারি ডা. শফিকুরের
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় সংসদে নিষ্পত্তি না হলে তা রাজপথে আদায় করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, জনগণের দাবি থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ তাদের নেই। তিনি বলেন, 'উই আর কমিটেড। আমরা আমাদের কমিটমেন্ট ভায়োলেট করতে পারি না। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। এই দাবি আজ হোক, কাল হোক আদায় হবে ইনশা-আল্লাহ।'
সংবিধান সংশোধনে সরকারি দলের প্রস্তাবিত কমিটিতে বিরোধী দল কোনো প্রতিনিধি দেবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দেন জামায়াত আমির। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার এবং সেই লক্ষ্যেই দেশে রেফারেন্ডাম বা গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ৭২ শতাংশ মানুষ যেখানে ভোট দিয়েছে, সংসদের ভেতরে এসে সেই রায়কে তারা বদলাতে চান না। তিনি মনে করেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য কোনো বিশেষ কমিটির প্রয়োজন নেই, এটি একটি রুটিনওয়ার্ক যা ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বিল আকারে এলে সংসদে আলোচনা হতে পারে। তবে সরকার যদি সংবিধান সংস্কারের জন্য কোনো প্রস্তাব দেয়, তখন তারা তা বিবেচনা করে দেখবেন।
সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের বর্তমান কার্যক্রম ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নোটিশের প্রসঙ্গও সভায় তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া স্টক মার্কেট এবং গুঁড়া হওয়ার উপক্রম হওয়া ব্যাংক খাত নিয়ে তারা সংসদে জনগণের পক্ষে কথা বলেছেন। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে বিরোধী দলের দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে তা কার্যসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেনসিটিভ ইস্যু হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে তারা এ নিয়ে আলোচনা চেয়েছিলেন।
অতীতের সংসদীয় সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে দেশের স্বার্থে একটি ভিন্নধর্মী ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারা কোনো 'বগলদাবা' বা সরকারি দলের আজ্ঞাবহ বিরোধী দল হবেন না। আবার একই সাথে তারা কোনো অনর্থক 'গরম' বিরোধী দলও হতে চান না, বরং একটি যৌক্তিক বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে চান। কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সুযোগ না পেলে তারা সাময়িক ওয়াক আউট করবেন, কিন্তু জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন করে দীর্ঘমেয়াদে সংসদ বর্জন করবেন না। সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় প্রতি মিনিটে এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা খরচ হয় উল্লেখ করে তিনি স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন সংসদে ব্যক্তিগত বা দলীয় চরিত্রহনন এবং কারও মনোরঞ্জন বা প্রশংসা করা বন্ধ করা হয়।
মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
বেনজীরকে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ যেভাবে উঠল এমপি বন্ধুর বিরুদ্ধে
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমদকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নয়, বরং তার বাসার কাছাকাছি একটি শপিং মল থেকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। একই সঙ্গে দুবাইয়ে সরকারি ছুটি শেষে মঙ্গলবার (১৬ জুন) তাকে আদালতে হাজির করা হতে পারে এবং সেদিনই তার জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই বেনজীর আহমদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাস করছেন। গত ১২ জুন বাসায় অবস্থান করার সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক সংসদ সদস্য, যিনি তার ব্যবসায়িক সহযোগী ও দীর্ঘদিনের পরিচিত হিসেবে পরিচিত, তাকে নিকটবর্তী একটি শপিং মলে দেখা করার জন্য ফোন করেন।
পরিবারের ভাষ্যমতে, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া দুবাই পুলিশের সদস্যরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। তারা আরও অভিযোগ করেছেন, ওই সময় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
পরিবারের দাবি, তারা দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছেন যে স্থানীয়ভাবে বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তাদের মতে, বাংলাদেশ পুলিশের আবেদনের পর ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি ব্যক্তিগত উদ্যোগে রেড নোটিশসংক্রান্ত নথিপত্র দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগেরও কোনো স্বাধীন যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।
বেনজীর আহমদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, আটকের পর দুবাই কর্তৃপক্ষ তার ভিসার বৈধতা, অবস্থানের উদ্দেশ্য এবং তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করেছে। পরে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নোটিশ কার্যকর রয়েছে এই তথ্য বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও বাংলাদেশ পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
এদিকে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তার পক্ষে দুবাইয়ে একজন স্থানীয় আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চলমান মামলাগুলোর প্রয়োজনীয় নথিপত্রও আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, ১২ জুন সীমিত পরিসরে আদালতের কার্যক্রম চললেও সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে পরবর্তী কয়েকদিন স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল। মঙ্গলবার থেকে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর তাকে আদালতে হাজির করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে বেনজীর আহমদ বর্তমানে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতেই বিষয়টি বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে।
-রফিক
ব্যাংক ফাঁকা, আইএমএফের টাকা নাই, বাজেট কীভাবে হবে?: সংসদে রুমিন ফারহানা
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুর দশা এবং ক্রমবর্ধমান ঋণনির্ভরতার তীব্র সমালোচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত সম্পূরক বাজেটের বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা ঘাটতি বাজেটের সংস্কৃতি এবং তা পূরণে চড়া সুদে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা সামষ্টিক অর্থনীতিকে এক অবর্ণনীয় চাপের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সোমবার স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এসব তীক্ষ্ণ অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান ও নীতিগত প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান অর্থনীতির যে ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন, তার পেছনে কিছু গভীর কাঠামোগত সংকট ও সরকারের নীতিগত অন্ধবিন্দু রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের খেলাপি ঋণ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।
এর ফলে ব্যাংকিং খাতের মূলধনের পর্যাপ্ততা ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ব্যাংকিং খাতকে গত ১৫ বছর ধরে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দৃশ্যমান ব্যবসায়ী বহির্ভূত ও প্রভাবশালীদের হাতে ঋণ তুলে দেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, দেশের অর্থনীতিকে এখন তার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সরকার যদি বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে আরও ঋণ নেয়, তবে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি পুরোপুরি শূন্যে মিলিয়ে যাবে এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়বে, যা ইতিমধ্যে ২২ শতাংশ থেকে মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
পুঁজি পাচার ও ডলার সংকটের অন্ধকার অধ্যায় তুলে ধরে তিনি জানান, শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী বিগত ১৫ বছরে দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যার বার্ষিক গড় ১৪ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির মতে, কেবল আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমেই বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে বাইরে গেছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ডলারের দাম ধরে রাখার ভুল নীতির কারণে আরও ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার এই খাত থেকে চলে গেছে।
এই পুঁজি পাচার রোধ এবং কর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন না করে কেবল বাজেট সংশোধন করাকে তিনি জোড়াতালির অর্থনীতি বলে ইঙ্গিত করেন। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে, যা রপ্তানির হ্রাস এবং আমদানির আশঙ্কাজনক বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিকটি ছিল বৈদেশিক অর্থায়নের উৎস। আইএমএফ সম্প্রতি জানিয়েছে যে তারা পূর্ববর্তী চুক্তির পরবর্তী কিস্তিগুলো বর্তমান সরকারকে আর দেবে না এবং নতুন করে চুক্তি করার তাগিদ দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এডিবি বা বিশ্বব্যাংকের বাইরে গিয়ে চীন বা সমগোত্রীয় কোনো দেশের দ্বিপাক্ষিক ঋণের দিকে ঝুঁকতে হবে সরকারকে।
এই ধরণের ঋণে সুদের হার অনেক বেশি থাকে এবং অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধের কঠোর চাপ থাকে, যা দেশকে এক প্রকার ঋণের ফাঁদে ফেলতে পারে। জিডিপির আকার ৬৮ লাখ কোটি টাকা হলেও প্রবৃদ্ধি যেখানে মাত্র ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, সেখানে এই চড়া সুদের ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কোন জাদুমন্ত্রে এই বাজেট বাস্তবায়ন করবেন, সেই প্রশ্নটিই এখন দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সংশয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
/আশিক
বেনজীরকে গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ’ জানালেন বিরোধীদলীয় উপনেতা
দুর্নীতির মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের বিশেষ অনুমতিক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন যে, দুর্নীতির মামলার পরোয়ানাভুক্ত ও পলাতক আসামি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার পর, স্পিকারের নির্ধারিত অনুমতি নিয়ে ফ্লোর পেয়ে নিজের বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় উপনেতা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বেনজীর আহমেদের মতো হাই-প্রোফাইল আসামিকে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সফলভাবে গ্রেপ্তারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
/আশিক
আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের করা মানহানি মামলায় আজ রোববার সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা। রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচিত এই মামলাটি নতুন মোড়ে পৌঁছেছে তার আদালতে হাজিরার মধ্য দিয়ে।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পাওয়ার পর এবার নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করবেন তিনি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বিচারক।
সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম মল্লিক জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মুফতি আমির হামজা নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করবেন। এরপর মামলার বর্তমান অবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়া বিবেচনা করে আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন।
অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের নেতারাও নিশ্চিত করেছেন যে, সংসদ সদস্য আমির হামজা রোববার দুপুরে আদালতে হাজির হবেন। এ ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিদ্যুৎমন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে।
মামলা দায়েরের দিনই আদালত আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত দিনে তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরবর্তীতে একাধিকবার হাজিরার সুযোগ দেওয়া হলেও আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলাটি আরও গুরুত্ব পায়। গত ১৭ মে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন, যা মামলাটিকে নতুন মাত্রা দেয়।
আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের সমন ও পরবর্তী নির্দেশনা অমান্য করার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। তবে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পাওয়ার ফলে এখন তার আত্মসমর্পণ ও জামিন আবেদনের ওপরই মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করছে।
-রফিক
সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ গণ-অভ্যুত্থান ঘটাবে: নাহিদ ইসলাম
বর্তমান সরকার যদি পুনরায় স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষকে আবারও গণ-অভ্যুত্থানের পথ বেছে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম শহরের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত ১১–দলীয় ঐক্যের এক বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সমাবেশে বাজেট প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে এক অনুষ্ঠানে দেশের বিরোধী দলগুলো বাজেটের সমালোচনা করায় প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ ও মন খারাপ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এই বাজেটের প্রশংসা করার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের আর্থিক খাতের দুর্নীতি, অর্থ লুটপাট এবং ব্যাংক দখল প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা বা কার্যকর পদক্ষেপ রাখা হয়নি।
এই বাজেটের ঠিক কত অংশ সাধারণ মানুষের প্রকৃত কল্যাণে ও উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে, আর কত অংশ সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিগত স্বার্থে চলে যাবে, তার কোনো সঠিক ও স্বচ্ছ হিসাব নেই। এটি মূলত একটি বাস্তবতা-বিবর্জিত বাজেট, যা কার্যকর করতে সরকারকে বিভিন্ন বিদেশি উৎস থেকে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিতে হবে। দেশে সামগ্রিক সুশাসন, কাজের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সংস্কার নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে এই ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট কখনোই বন্ধ করা যাবে না।
আর্থিক খাতের অস্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, দেশে বর্তমানে নতুন করে ব্যাংক দখলের সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও বন্দোবস্তের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংককে আবারও বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অতীতে এস আলমের গাড়িতে চড়ে কারা সংবর্ধনা গ্রহণ করেছিলেন এবং বর্তমানে কারা তাকে পেছন থেকে আইনি ও রাজনৈতিক সুরক্ষা দিচ্ছেন, সেই তথ্য বাংলাদেশের সচেতন জনগণের অজানা নয়। দেশের মানুষ ব্যাংকিং খাতের এই নগ্ন দখলদারি কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।
জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসানকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে পূর্ববর্তী গণভোটের ম্যান্ডেট অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিচার বিভাগের আমূল সংস্কার করতে হবে।
অতি সম্প্রতি চট্টগ্রামে একজন জাতীয় স্তরের ক্রিকেটারকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে। পুলিশ বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন না হওয়ার কারণেই সাধারণ মানুষের ওপর আবারও এই ধরণের রাষ্ট্রীয় জুলুম ও নির্যাতন শুরু হয়েছে। সরকার যদি এই ধারা অব্যাহত রেখে স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটে, তবে জনগণ রাজপথে নেমে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।
সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক উল্লেখ করেন, ভারত থেকে নতুন হাইকমিশনার বাংলাদেশে আসার পরপরই মৌলভীবাজার সীমান্তে আবারও এক নিরীহ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই বিষয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া আর বুলেটের আঘাত দিয়ে কখনো প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে পারে না। বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান, আকাশ এবং মাটি সম্পূর্ণ আলাদা; যার চূড়ান্ত ফয়সালা ১৯৪৭ সালের দেশভাগের মাধ্যমেই হয়ে গেছে।
১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী বারবার এটিই প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধরনের আধিপত্যবাদী শক্তি বা বহিরাগত প্রভাব কখনো টিকে থাকতে পারবে না।
/আশিক
সরকারকে বেশি দিন সময় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক আলটিমেটাম দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, সরকারকে বেশি দিন সময় দেওয়া হবে না এবং সময় অত্যন্ত সীমিত ও ফুরিয়ে আসছে।
এই সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন না হলে সরকারকে যেকোনো পরিণতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তীব্র জনদুর্ভোগ নিরসন ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
সমাবেশে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারকে অবিলম্বে গণভোটের রায় মেনে নিতে হবে। সরকার যদি স্বেচ্ছায় এই জনদাবি মেনে না নেয়, তবে দেশে ১৯৯৬ সালের মতো ভয়াবহ এক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যখন তীব্র গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল আনতে বাধ্য হয়েছিল।
এবারও জনমতের প্রচণ্ড চাপে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, ভালোয় ভালোয় জনগণের দাবি মেনে নিন, দেশের মানুষকে অনর্থক রাজপথে ঠেলে দেবেন না। নেতা-কর্মীদের জেল-জুলুম ও ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে আমরা বারবার জেলে যেতে এবং জীবন দিতে প্রস্তুত, কারণ জেলের তালা বা চাবিওয়ালা কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়।
সরকারপ্রধানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসনে একজন ‘সর্ব বিষয় বিশারদ’ মন্ত্রী সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে রাজনৈতিকভাবে ভুল ও অসত্য তথ্য দিচ্ছেন। বিশেষ করে কক্সবাজারের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রধানমন্ত্রীর পদটি একটি সম্মানিত রাষ্ট্রীয় পদ এবং তাঁর মুখ দিয়ে বারবার এমন ভুল ও মিথ্যা তথ্য বের হওয়া পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক ও অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বাজেটের সমালোচনা করাকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ উল্লেখ করে তিনি রাগ না করে সরকারকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন এবং দাবি করেন যে, জাতীয় সংসদে বিরোধী মতের জন্য পর্যাপ্ত পরিবেশ না থাকায় তাঁরা জনগণের আসল সংসদ অর্থাৎ রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নতুন নির্বাচিত সরকার আসার পর মানুষ চাঁদাবাজি বন্ধের আশা করেছিল, কিন্তু বাস্তবে তা জ্যামিতিক হারে বেড়েছে এবং দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জাতীয়করণ করা হয়েছে।
তবে জামায়াত আমিরের এই কড়া বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কেবলই রাজপথের শক্তির মহড়া হিসেবে দেখছেন। দেশের মানুষ যখন দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সংস্কার চাইছে, তখন ১৯৯৬ সালের মতো আন্দোলনের ডাক দিয়ে "জনগণকে রাজপথে ঠেলে দেওয়ার" এই হুমকি সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগ কতটা লাঘব করবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।
নির্বাচিত সরকার আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের যে অভিযোগ উঠছে, তা বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় ব্যর্থতা হলেও, মাঠপর্যায়ে বিরোধী শিবিরের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের জড়িত থাকার অভিযোগও সংবাদমাধ্যমে আসছে। ফলে এককভাবে দুর্নীতিকে ‘জাতীয়করণ’ করার দায় সরকারের ওপর চাপালেও, মাঠের বিশৃঙ্খলার দায় কোনো পক্ষই এড়াতে পারে না।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- পর্তুগালের লাকি সিক্স ও ২০২৬ বিশ্বকাপ: ভাগ্য কি এবার রোনালদোর পাশে থাকবে?
- প্রস্তাবিত বাজেট চানাচুর মার্কার মতো শুনলে ভালো লাগে খেলে পেট খারাপ হয়: আমির হামজা
- জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর আই হ্যাভ এ প্লান এর ব্যাখ্যা: লক্ষ্য জলবায়ু-সহিষ্ণু স্মার্ট কৃষি
- ৯ম পে স্কেলের সবুজ সংকেত: জেনে নিন কোন গ্রেডের মূল বেতন কত
- অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে সরকার
- আমেরিকার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা: বিনিয়োগ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় আশাবাদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানকে ১৭০ কোটি ডলার নগদ ঘুষ দিয়েছিল ওবামা প্রশাসন: ট্রাম্প
- রাত ১টার মধ্যে দেশের ৮ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- ফুটবলপ্রেমী শিশুদের জন্য ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এক আদর্শ উদাহরণ
- মেসিই সর্বকালের সেরা, বিশ্ববাসীর এখন এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া উচিত: রোনালদো
- চট্টগ্রামে প্রথম টি-টুয়েন্টি হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের
- হামের টিকা সংগ্রহে গাফিলতি থাকলে কঠোর ব্যবস্থা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
- সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানের সঙ্গে সমঝোতা কাঠামোকে খুবই শক্তিশালী: ট্রাম্প
- ২ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষা; পরীক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা বোর্ডের একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা
- বিগত এক যুগের মতো জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী
- ১৭ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আর্জেন্টিনাকে ২০০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
- মেটার বড় ঘোষণা, ব্যবহারকারীদের জন্য একগুচ্ছ নতুন ফিচার
- মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সুখবর দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- রোববার ১৮ ঘণ্টা পানি পাবে না যেসব এলাকা
- ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? জবাব দিলেন জেডি ভ্যান্স
- আজ ১ মহররম, জেনে নিন আজকের নামাজের সময়সূচি
- সোনার দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, রুপার বাজারেও পরিবর্তন
- কেমন থাকবে আজ রাজধানীর আবহাওয়া
- "মেসি এখন ফুটবলেরও ঊর্ধ্বে"
- ডলার ও ইউরোর দাম স্থিতিশীল, প্রবাসী আয়ে স্বস্তি
- আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির হ্যাটট্রিকে উড়ছে আর্জেন্টিনা
- দেশি-বিদেশি মদদে আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি: নাহিদ ইসলাম
- তীব্র সমালোচনার মুখে নতি স্বীকার করল ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা
- একজন মেসির জন্য পুরো দল প্রস্তুত করা অর্থহীন: হুঙ্কার আলজেরিয়া কোচের
- সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিন, ভালো কাজের পথ দেখান: প্রধানমন্ত্রী
- দেশের আকাশে মহররমের চাঁদ দেখা গেছে
- নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
- মৌলভীবাজারবাসীর প্রাণের ১০ দফা দাবি: প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে তাকিয়ে ২৫ লক্ষ মানুষ
- সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ: আলজেরিয়া ম্যাচের আগে বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে নিলেন মেসি
- আমি না থাকলে ইসরায়েল মানচিত্র থেকে মুছে যেত: ট্রাম্প
- চীনের কিনহাই প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
- জুলাই সনদ সংসদে নিষ্পত্তি না হলে রাজপথে আদায়ের হুঁশিয়ারি ডা. শফিকুরের
- প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া, কার পাল্লা ভারী?
- দিল্লি বিমানবন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল? মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে কি আসলেই শান্তি ফিরবে নাকি নতুন সংকটের শুরু?
- ইইউর ‘রুশ সেনা প্রশিক্ষণ’ সংক্রান্ত বিস্ফোরক দাবি প্রত্যাখ্যান করল চীন
- স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু? সংসদে পরিকল্পনা জানালেন মির্জা ফখরুল
- ১৬ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- দিল্লি ঘটনার ব্যাখ্যায় মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
- বিশ্বকাপ জিতলে চ্যাম্পিয়ন পাবে কত টাকা? জানুন প্রাইজমানির অঙ্ক
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন? জেনে নিন সেরা ৪ প্ল্যাটফর্ম, খরচ কত
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম
- ট্রাম্পের দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলল ইরান
- আজ ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, জানুন কোথায়
- সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
- দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!
- দুই দিনেই আবার বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের নতুন দর
- ব্র্যাকের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে ১ হাজার হাঁসের বাচ্চা বিতরণ
- ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল, ভাতা ও সুবিধা বেড়ে বেতন হচ্ছে যত
- মদ ও সিগারেটের কর বৃদ্ধি নিয়েও আপত্তি বিরোধী দলের: প্রধানমন্ত্রী








