ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে সই করল ইসরায়েল-হামাস

দুই বছর ধরে সংঘাতে লিপ্ত ইসরায়েল এবং গাজা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস—উভয়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষর করেছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন।
চুক্তি কী বলছে?
ট্রাম্প তার বার্তায় বলেছেন:
“আমি খুবই গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে ইসরায়েল এবং হামাস উভয়েই আমাদের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষর করেছে। খুব শিগগিরই সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং সমঝোতার ভিত্তিতে ইসরায়েলও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।”
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারও যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছেন, “আজ রাতে গাজায় শান্তি স্থাপন সংক্রান্ত নতুন পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের সমস্ত শর্ত ও বিধান বাস্তবায়নে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এই চুক্তি স্বাক্ষরের জেরে গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটবে, সমস্ত ইসরায়েলি জিম্মি ও ফিলিস্তিনি কারাবন্দিরা মুক্তি পাবে এবং গাজায় ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশে আর কোনো বাধা থাকবে না। তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।
আলোচনার প্রেক্ষাপট
গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত নতুন একটি পরিকল্পনার ব্যাপারে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, তার পরিকল্পনার কপি ইসরায়েল, হামাস এবং অপর দুই মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর ও কাতারকে পাঠানো হয়েছে এবং হামাস ব্যতীত বাকি সবাই তাতে সম্মতি দিয়েছে।
পরে ৩ অক্টোবর হামাস সম্মতি জানানোর পরদিন ৪ অক্টোবর ট্রাম্প ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বলেন। এরপর ৬ অক্টোবর মিসরের শারম আল শেখ-এ ইসরায়েল, হামাস, মিসর, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়। দুই দিনেরও বেশি সময়ের আলোচনার পর চুক্তির প্রাথমিক পর্যায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিতে ইসরায়েল-হামাস স্বাক্ষর করল।
এই চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তিনি ‘এ সপ্তাহের শেষের দিকে, সম্ভবত রোববার, মধ্যপ্রাচ্যে যেতে পারেন।’
সূত্র: এএফপি
স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
চলমান ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় মিত্রদেশ স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আয়োজিত নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে অংশীদারদের উপস্থিতিতে তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্ত জানান। বুধবার কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের উপস্থিতিতে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প স্পেনের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে যাবতীয় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি আদেশ জারি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হিসেবে স্পেনের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশটিকে একটি 'ভয়ানক অংশীদার' হিসেবে আখ্যায়িত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রতিরক্ষা খাতের এই চরম উত্তেজনার সূত্রপাত মূলত গত মার্চ মাসে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য স্পেনের অভ্যন্তরে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় মাদ্রিদ। শুধু তাই নয়, মার্কিন যুদ্ধবিমান চলাচলের জন্য নিজেদের আকাশসীমাও পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল স্পেনের সমাজতান্ত্রিক সরকার। মূলত ওয়াশিংটনের সামরিক পরিকল্পনায় সহযোগিতা না করার এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই ট্রাম্প প্রশাসন স্পেনের বিরুদ্ধে এমন নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে হাঁটল।
আঙ্কারার এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর তেহরানের সঙ্গে পূর্ববর্তী সমঝোতা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত আগের সেই সমঝোতা স্মারকটি এখন পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের তদারককারী সংস্থা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে তাদের সর্বশেষ বিমান হামলায় অন্তত ৮০টি সুনির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে মূলত ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্টেশন এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
সেন্টকমের দেওয়া সামরিক বিবরণী থেকে আরও জানা গেছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের আক্রমণ করার সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে তারা বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অন্তত ৬০টিরও বেশি ছোট ও দ্রুতগামী যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় তিনটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানি বাহিনীর আচমকা হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই জোরালো বিমান অভিযান চালানো হয়েছে। তবে মার্কিন এই ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপের বিপরীতে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
অবশ্য ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে নতুন করে বিকট বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির সন্নিকটে অবস্থিত পারস্য উপসাগরের অপর গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপেও একই ধরনের শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ৮ জুলাই মার্কিন-ইরান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা ট্রাম্পের
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারকটি ‘পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে’ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আয়োজিত ন্যাটোর (NATO) হাই-ভোল্টেজ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তেহরানের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে তিনি আর কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনায় যেতে চান না।
আঙ্কারার ন্যাটো সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘আমার মতে, এই চুক্তি এখন সম্পূর্ণ শেষ। এটা খুব আকর্ষণীয় একটা প্রশ্ন হলেও বাস্তবতা হলো—বিষয়টি এখানেই শেষ। আমি তাদের (ইরান) সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না, ওরা অসুস্থ লোক। ওদের যারা নেতৃত্ব দেয়, তারাও অসুস্থ। তাদের সাথে আলোচনা বা কাজ করাটা এখন শুধুই সময়ের অপচয়।’
এর আগে গত রাতে (মঙ্গলবার) আন্তর্জাতিক জলসীমায় তিনটি তেল ট্যাংকারে রহস্যময় হামলার কঠোর জবাবে সরাসরি ইরানের ওপর নতুন করে বিধ্বংসী সামরিক হামলা চালায় ওয়াশিংটন এবং তেহরানের আন্তর্জাতিক তেল বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বশেষ দফার এই বিমান হামলা সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই মূলত দুই দেশের সম্পর্ক চরম যুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিশেষ বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের অত্যাধুনিক ও নিখুঁত যুদ্ধাস্ত্রের সাহায্যে ইরানের অভ্যন্তরে আশিটিরও বেশি কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ভয়াবহ বিমান হামলার সরাসরি ও পাল্টা জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, আমেরিকার এই আগ্রাসনের প্রতিশোধ হিসেবে তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর আশিটিরও বেশি লক্ষ্যবস্তু তাক করে একযোগে শক্তিশালী ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, মার্কিন বিমান হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তাদের নৌ এবং বিমান বাহিনী যৌথভাবে এই বিশাল পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে; যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক নজিরবিহীন ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দামামা বাজছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরাকে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ, আজ কারবালায় শোকযাত্রা
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ ইরাকে পৌঁছেছে। তেহরানে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বিশেষ বিমানে তার মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কফিন বহনকারী বিমানটি নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সরকারি প্রতিনিধি, ধর্মীয় আলেম এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। বিমানবন্দরজুড়ে শোকাবহ পরিবেশের মধ্যেই মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
আজ বুধবার খামেনির মরদেহ নাজাফ থেকে পবিত্র নগরী কারবালায় নেওয়া হবে। সেখানে একাধিক ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের ধারণা, ইরাকের বিভিন্ন প্রদেশ ছাড়াও প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা লাখো মানুষ এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকের শিয়া মুসলিম সমাজে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ব্যাপক প্রভাব ছিল। বিশেষ করে নাজাফ ও কারবালার ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ক এবং শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বে তার অবস্থানের কারণে দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষ তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এই প্রেক্ষাপটে জানাজা উপলক্ষে ইরাকে বুধবার সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে খামেনির প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ওই নামাজে ইমামতি করেন ইরানের বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানী। একই জানাজায় খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের জন্যও দোয়া করা হয়, যাদের মধ্যে ছিলেন তার জামাতা ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাঘেরি-কানি, কন্যা জাহরা হাদ্দাদ-আদেল, ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী-গোলপায়েগানি এবং সাইয়েদেহ বুশরা হোসেইনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাজাফে ইমাম আলী (আ.)-এর পবিত্র মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মরদেহ কারবালায় নেওয়া হবে। সেখানে ইমাম হুসাইন (আ.) এবং হজরত আব্বাস (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণেও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এই সফরকে শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরবর্তীতে খামেনির নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ী মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আগামী ৯ জুলাই পবিত্র শহর মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করার কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেও খামেনির শেষ যাত্রাকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইরাকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও জানাজায় বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
-রফিক
মার্কিন হামলার পর ইরানের হুঁশিয়ারি, ‘আরও কঠোর জবাব দিব’
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এই অভিযানের পাল্টা জবাব হবে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও কঠোর ও শক্তিশালী। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।
বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে। সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এই হামলার যথাযথ ও কঠোর জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, এমন একটি সংবেদনশীল সময়ে এই হামলা চালানো হয়েছে, যখন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ ইরাকে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে হামলাকে রাজনৈতিক ও সামরিক উসকানি হিসেবেও বর্ণনা করেছে তেহরান।
ইরানের সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে আঞ্চলিক বিষয় এবং এতে বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের জন্য ইরান নির্ধারিত রুটই একমাত্র স্বীকৃত ও নিরাপদ পথ। এই অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো প্রশ্ন নেই বলেও স্পষ্ট করেছে দেশটি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ কারণেই সীমিত পরিসরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হামলার পর দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৪টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিক এলাকায় ১০টি এবং কেশম দ্বীপের মেইসিন গ্রামে আরও চারটি বিস্ফোরণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এসব বিস্ফোরণে হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
-রাফসান
বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষ
২০২৪ সালের আগস্ট বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঢাকার পররাষ্ট্রনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, চীনের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য কৌশলগত অংশীদারিত্ব—সব মিলিয়ে এক অত্যন্ত চতুর ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি পার করছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন ডেপুটি চিফ অব মিশন জন এফ ড্যানিলোভিচ বাংলাদেশের বর্তমান ভূ-রাজনীতি, ভারতের সাথে আইনি জটিলতা এবং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর সাথে ঢাকার ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেছেন।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও ‘আধিপত্যের’ অবসান
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত চেয়ে ঢাকার আনুষ্ঠানিক আবেদনের বিষয়টি প্রধান্য পায়। ড্যানিলোভিচ মনে করেন, শেখ হাসিনাকে দিল্লির আশ্রয় দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি করেছে। বর্তমান বিএনপি সরকার ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি 'ধীরে কিন্তু সুনির্দিষ্ট' নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র ও একপাক্ষিক আধিপত্যের দিন এখন স্পষ্টতই শেষ। শেখ হাসিনা এবং তাঁর সহযোগীদের ভারতে অবস্থান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়।” একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ নিয়ে সেখানে ছড়ানো বিভিন্ন অপপ্রচার ও ‘মিসইনফরমেশন’ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ।
চীন-মিয়ানমার করিডোর ও ওয়াশিংটনের ভারসাম্য
বাংলাদেশকে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরে যুক্ত করার গুঞ্জন নিয়ে সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। তাঁর মতে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং চীন একটি বড় উৎস। মিয়ানমারে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে দেশটির সাথেও অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো ঢাকার জন্য স্বাভাবিক পদক্ষেপ। তবে এটি ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কে কোনো ফাটল ধরাবে না বলে তিনি আশাবাদী। ড্যানিলোভিচ বলেন, বাংলাদেশ যদি চতুর ও দক্ষ কূটনীতির পরিচয় দিতে পারে, তবে চীনের সাথে এই অর্থনৈতিক যোগাযোগ ওয়াশিংটনের সাথে কোনো বিরোধের কারণ হবে না।
রোহিঙ্গা সংকট ও রাখাইন করিডোর
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে একটি মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশে চলমান বিতর্ককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন ড্যানিলোভিচ। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে আসায় দীর্ঘ মেয়াদে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশের পক্ষে এককভাবে সামলানো অসম্ভব। তাই রাখাইনে পরিস্থিতি উন্নত করা এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির জন্য মিয়ানমার সরকার ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো ঢাকার একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ।
‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি ও সার্কের স্থবিরতা
ভারত ও পাকিস্তানের বৈরিতার কারণে সার্ক (SAARC) অকার্যকর হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ এখন আসিয়ান (ASEAN) এবং ডি-৮ জোটের দিকে নজর দিচ্ছে, যাকে ড্যানিলোভিচ স্বাগত জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আসিয়ানের অংশীদার হওয়ার জন্য জোরালো লবিং শুরু করেছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঢাকার একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন তিনি।
ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
বিপ্লব-পরবর্তী ঢাকাকে ওয়াশিংটন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে উল্লেখ করে ড্যানিলোভিচ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) বা কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত গতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশি কমিউনিটি দুই দেশের মধ্যকার জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র: দ্যা ডেল্টাগ্রাম
গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারিতে মার্কিন নির্ভরতা: ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বড় দুর্বলতা ফাঁস
যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়, তবে জোটটি পুরোপুরি ভেঙে না পড়লেও ইউরোপের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক নজিরবিহীন ও দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন প্রশাসনের বিদায়ের পরও হয়তো ইউরোপীয় দেশগুলোর একক নেতৃত্বে ন্যাটো কোনোমতে টিকে থাকবে, তবে এই ঐতিহাসিক বিচ্ছেদ জোটটির মূল কার্যকারিতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে পঙ্গু করে দেবে।
বর্তমানে ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজস্ব প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে অত্যাধুনিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ (ইন্টেলিজেন্স), সার্বক্ষণিক ড্রোন নজরদারি ও পুনরুদ্ধার অভিযান, এবং স্যাটেলাইট ইন্টেলিজেন্সের মতো মহাকাশ-ভিত্তিক প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তিতে ইউরোপ অনেকটাই ওয়াশিংটন-নির্ভর।
এছাড়া যুদ্ধকালীন সামরিক রসদ সরবরাহ (লজিস্টিকস) এবং সমন্বিত অত্যাধুনিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত খাতগুলোতেও মার্কিন সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপীয় শক্তিগুলো কার্যত অসহায়।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র হুট করে ন্যাটো ছেড়ে চলে গেলে সামরিক খাতের এই বিশাল শূন্যতা নিজস্ব প্রযুক্তিতে পূরণ করতে ইউরোপের অন্তত এক দশক বা তারও বেশি সময় লেগে যাবে। শুধু মার্কিন সামরিক সক্ষমতার মূল কারিগরি উপাদানগুলো প্রতিস্থাপন করতেই ইউরোপীয় দেশগুলোকে এক ধাক্কায় প্রায় ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে।
কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইউরোপের স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্পগুলো এত বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে এবং দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। এর ওপর আরেকটি বড় সংকট হলো, ইউরোপের অনেক দেশের সেনাবাহিনীই এখন তাদের প্রয়োজনীয় নতুন সেনা নিয়োগ দিতে এবং বর্তমান দক্ষ সৈন্যদের ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না।
তবে তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিকভাবে এই বিপর্যয়কর আলোচনা যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে তা ঘটিয়ে ফেলা মার্কিন প্রশাসনের জন্য ততটা সহজ নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলেই তাঁর একক নির্বাহী আদেশে বা নিজের ইচ্ছামতো যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে বের করে নিতে পারবেন না। মার্কিন আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, ন্যাটো থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করতে হলে মার্কিন সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সরাসরি সমর্থন অথবা কংগ্রেসের একটি বিশেষ আইন পাসের প্রয়োজন হবে।
বর্তমান ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অদূর ভবিষ্যতে এমন নাটকীয় কিছু ঘটার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ; কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান) অধিকাংশ প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার মধ্যেই ন্যাটোর কৌশলগত উপস্থিতির প্রতি এখনও জোরালো ও নীতিগত সমর্থন রয়েছে।
/আশিক
‘ফিলিস্তিনের কষ্ট না বুঝলে মানুষ নন’
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মহারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ফুটবলকে ছাপিয়ে মানবিক সংকটের প্রসঙ্গ সামনে আনলেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি গাজা উপত্যকার চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ অনুভব করতে না পারলে তাকে প্রকৃত মানুষ বলা যায় না—সে আরব, ইউরোপীয় বা আমেরিকান যেই হোক না কেন।
হাসানের এই মন্তব্য বিশ্বকাপ ঘিরে ক্রীড়াঙ্গনের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মানবিক বিপর্যয়ের সময় ধর্ম, জাতি কিংবা ভূখণ্ডের পরিচয়ের চেয়ে মানুষের পরিচয়ই সবচেয়ে বড় হওয়া উচিত।
এর আগে নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেওয়ার পর সেই সাফল্য ফিলিস্তিনের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছিলেন মিসরের এই কোচ। বিজয়ের উদযাপনে মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শনের ঘটনাও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বার্তা নয়; বরং নির্যাতিত মানুষের প্রতি একজন মানুষের স্বাভাবিক সহমর্মিতার প্রকাশ।
হোসাম হাসান বলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কোনো প্রাণীর ওপর নির্যাতন হলেও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিবাদ হয়। অথচ হাজার হাজার নিরীহ মানুষের মৃত্যু ও মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনাকে অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে দেখা হচ্ছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার মতে, নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব, এটি কোনো জাতিগত বা ধর্মীয় অবস্থানের বিষয় নয়।
তিনি আরও বলেন, "আমি আরব হওয়ার আগে একজন মানুষ। ফুটবল আমাদের একে অপরকে সম্মান করতে শেখায়। যদি খেলাধুলা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধের কথা বলে, তবে মানুষের জীবন রক্ষার প্রশ্নেও একই মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা উচিত।"
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। বহু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজারেরও বেশি, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ নারী ও শিশু। লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক ক্রীড়াবিদ, কোচ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বও প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। হোসাম হাসানের বক্তব্যও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আবেগঘন মানবিক বার্তার পাশাপাশি মাঠের লড়াই নিয়েও আত্মবিশ্বাসী মিসরের কোচ। আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে খেলতে নামলেও তাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
তার ভাষায়, "আমাদের স্বপ্নের কোনো সীমা নেই। আমরা নিজেদের ছোট দল মনে করি না। সামনে মেসির মতো ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার থাকলেও আমরা বিশ্বাস করি নিজেদের সামর্থ্য দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব।"
হোসাম হাসান আরও বলেন, এই বিশ্বকাপে মিসর শুধু নিজেদের জন্য খেলছে না; তারা পুরো আরব বিশ্ব ও আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করছে। যদি আর্জেন্টিনাকে হারানো সম্ভব হয়, তাহলে সেটি হবে মিসরের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি। কারণ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগে মানবিক সংকট নিয়ে হোসাম হাসানের খোলামেলা অবস্থান বিশ্বকাপের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফুটবলকে শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিক মূল্যবোধের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেই তার এই বক্তব্যকে দেখছেন অনেকেই।
সূত্র: আল জাজিরা
‘অন্য ভাষায় জবাব পাবেন’ ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসি) সচিব মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর ট্রাম্পের বক্তব্যের কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ইরান কোনো ধরনের হুমকি বা অসম্মানজনক ভাষা মেনে নেবে না। প্রয়োজনে তার উপযুক্ত ও দৃঢ় জবাব দেওয়া হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে যুলঘাদর বলেন, ইরানের জনগণকে ভয় দেখিয়ে কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করেন, ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক ভাষায় কথা বলতে হবে, অন্যথায় তেহরান ভিন্ন ভাষায় জবাব দিতে প্রস্তুত।
এর আগে একই দিনে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সংঘাতে "যে কোনো উপায়ে জয়ী হবে"। তিনি আরও বলেন, "হয় একটি সমঝোতা হবে, নয়তো বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হবে, আর সেটি করা কঠিন নয়।" ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান তার বিবৃতিতে ট্রাম্পের বক্তব্যকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, কয়েক হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সভ্যতার অধিকারী একটি জাতিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা নতুন কিছু নয়। অতীতেও ইরানকে হুমকি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। বরং সেই ধরনের নীতির পরিণতি ছিল ব্যর্থতা, অচলাবস্থা এবং শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার প্রয়োজনীয়তা।
যুলঘাদরের ভাষায়, ইরানের জনগণ দীর্ঘ ইতিহাসে বহু সংকট ও বিদেশি চাপ মোকাবিলা করেছে। তাই বাইরের শক্তির ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করা তাদের স্বভাব নয়। তিনি দাবি করেন, ৯ কোটির বেশি ইরানিকে লক্ষ্য করে দেওয়া হুমকিমূলক বক্তব্য বাস্তবতা বিবর্জিত এবং তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সবসময় জাতীয় মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। যে কোনো আগ্রাসী আচরণ কিংবা অবমাননাকর বক্তব্যের জবাব দেওয়া হবে পরিস্থিতি বিবেচনায় "দৃঢ়, হিসাবকৃত ও উপযুক্ত উপায়ে"।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বাকযুদ্ধ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পারমাণবিক ইস্যু এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এখনও পুরোপুরি কাটেনি, ফলে উভয় পক্ষের এমন কঠোর বক্তব্য ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় দেশের রাজনৈতিক ভাষ্য আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারণ, কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: প্রেস টিভি
খামেনির জানাজার মাঠে ‘কিল ট্রাম্প’ স্লোগান, তেহরানে প্রতিশোধের আগুনে উত্তপ্ত লাখো জনতা
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় এবার সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার স্লোগান উঠেছে। রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে খামেনির কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে উপস্থিত হাজারো জনতা এই চরম প্রতিশোধের আহ্বান জানান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় খামেনি ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার পর, যুদ্ধের উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন দাফন প্রক্রিয়া থমকে ছিল। বর্তমানে ইরানজুড়ে তাঁর সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা চলছে।
গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত এই বিশাল জানাজা কেবল শোকের আবহে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা মার্কিন ও ইসরাইল বিরোধী তীব্র প্রতিশোধের আবেগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাজার হাজার সাধারণ মানুষ আগের রাত থেকেই মসজিদ চত্বরে অবস্থান নেন। শোকগ্রস্ত জনতা এ সময় ইরানের জাতীয় পতাকা, খামেনির ছবি এবং যুদ্ধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক ‘লাল পতাকা’ হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই জানাজা পড়ান কোম শহরের ৯৭ বছর বয়সী প্রবীণ ও শীর্ষ আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। খামেনির মরদেহের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যের জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছিলেন খামেনির পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়গানি। বিমান হামলায় নিহত নিষ্পাপ শিশুটির ছোট কফিনটি দেখে জানাজায় উপস্থিত আপামর জনতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর ঠিক আগে ইরানের প্রখ্যাত কবি মোহাম্মদ রাসুলি একটি শোক ও প্রতিবাদী কবিতা পাঠ করেন। তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, “এখন থেকে কাফনের কাপড়ই আমাদের একমাত্র পোশাক। হে নেতা, আপনার পবিত্র রক্তের কসম, ট্রাম্পকে হত্যা করা এখন আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের ইমামকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমরা কেন তাকে দায়ী করে খতম করব না? এটা না করা আমাদের জন্য চিরকালের কলঙ্ক।”
তাঁর এই ওয়ান-লাইন বক্তব্যের পর উপস্থিত লাখো জনতা তুমুল করতালি ও গগনবিদারী স্লোগান দিয়ে এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায়। এ প্রসঙ্গে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ) সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলকাদর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জনগণ এখন মূলত দুটি স্পষ্ট স্লোগান দিচ্ছেন—প্রথমটি শত্রুদের বিরুদ্ধে অবিচল প্রতিরোধ এবং দ্বিতীয়টি শহীদ নেতার রক্তের চূড়ান্ত প্রতিশোধ।”
পিতার মৃত্যুর পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত মোজতবা খামেনিকে অবশ্য এই জানাজায় প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে তাঁর বাকি তিন ভাই—মুস্তফা, মাসুদ ও মেসাম জানাজায় সামনের কাতারে উপস্থিত ছিলেন। সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ফেব্রুয়ারি মাসের ওই বিমান হামলার সময় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন, তবে বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত এবং তাঁর স্থায়ী কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি। জানাজায় আরও শরিক হন কুদস ফোর্সের প্রধান কমান্ডার জেনারেল ইসমাইল কানি, আইআরজিসি কমান্ডার আহমদ ওয়াহিদিসহ দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও বিপ্লবী গার্ডসের সামরিক কর্মকর্তারা।
প্রায় ৩০ হাজার ধারণক্ষমতার মোসাল্লা চত্বরটি ভোর হওয়ার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অনেক ইরানি নাগরিক নিজেদের শরীরজুড়ে সাদা কাফনের কাপড় জড়িয়ে সেখানে অংশ নেন। চারদিক থেকে তখন মুহুর্মুহু স্লোগান উঠছিল—‘কোনো আপস নয়, কোনো আত্মসমর্পণ নয়, শুধু প্রতিশোধ’। জানাজার মাঠের কিছু অংশে ইংরেজিতে ‘কিল ট্রাম্প’ (Kill Trump) লেখা প্ল্যাকার্ড ও বার্তাও প্রদর্শন করা হয়।
জানাজায় অংশ নেওয়া তেহরানের বাসিন্দা লায়লা আহমাদি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নেতার রক্তের বদলা নিতে প্রয়োজনে আমরা লাঠি-কোদাল নিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়ব।” হোসেন দেহঘান নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় আকাশপথে হত্যা করার পর মানুষের মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে। কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।”
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক জানাজার পর আজ সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানের প্রধান প্রধান রাজপথে একটি বিশাল রাষ্ট্রীয় শোকমিছিল বের করা হবে। এরপর আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ পর্যায়ক্রমে ইরানের ধর্মীয় শহর কোম, তারপর ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালা হয়ে সর্বশেষ তাঁর জন্মস্থান মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল জানাজা ও ট্রাম্পকে টার্গেট করে দেওয়া স্লোগান মূলত বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে ইরানের অভ্যন্তরীণ ইস্পাত-কঠিন ঐক্য এবং মার্কিন বিরোধী প্রতিরোধের শক্তির এক প্রচ্ছন্ন বার্তা দিয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
পাঠকের মতামত:
- এফবিআইয়ের কঠোর তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রশাসন
- আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয় নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তিরা
- মাঠের উত্তেজনা ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার জয়ে কাঠগড়ায় রেফারিং, জবাব দিলেন মেসি
- জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে নির্দিষ্ট এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধের ঘোষণা
- স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক ঘোষণায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস
- ঢাকার ট্রাফিক জট নিরসনে চার মাসের মেগা পরিকল্পনা কাঁচপুরে
- নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১১ দলকে হারানো হয়েছে: শফিকুর রহমান
- সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ঘোষণা: এবার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ ফ্রি
- দেশের ৬৫ হাজার সরকারি স্কুলের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ৮ জুলাই মার্কিন-ইরান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা ট্রাম্পের
- ৮ জুলাই ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৮ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৮ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রোহিঙ্গা থেকে সেফ সিটি, ঢাকার পাশে ইসলামাবাদ?
- আর্জেন্টিনার জয়ের পর ক্ষুব্ধ মিশর, ‘ম্যাচ পাতানো’ অভিযোগ
- বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল: কার প্রতিপক্ষ কে? দেখুন সূচি
- জুলাইযোদ্ধার ২০০ আবেদন ভুয়া, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ৮ জুলাইয়ের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- ইরাকে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ, আজ কারবালায় শোকযাত্রা
- এক ধাক্কায় কমল স্বর্ণের দাম, নতুন ভরি কত
- বুধবার কোথায় বন্ধ দোকান-মার্কেট? দেখে নিন তালিকা
- মার্কিন হামলার পর ইরানের হুঁশিয়ারি, ‘আরও কঠোর জবাব দিব’
- খেলা জিতে চোখের জলে মেসির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
- ফিলিস্তিনের কষ্ট যে বোঝে না সে মানুষই না: মিসরীয় কোচ
- সাইবার প্রযুক্তির পরীক্ষা জালিয়াতি রুখতে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের মেগা বিল পাস
- সংসদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময়
- পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি: অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো সাজেক ভ্যালি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ ভেন্যুতে বিশ্বকাপের খেলা সম্প্রচার সাময়িক বন্ধ
- ৭ বারের আফ্রিকা সেরা মিসরের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা: সতর্ক স্কালোনি
- এক দলের বদলে অন্য দলের লুটপাটের জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দেয়নি: নাহিদ ইসলাম
- বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিশ্চিত ৬ পরাশক্তি, কার সামনে কোন প্রতিপক্ষ?
- শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও বর্ষায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত ছক জানালেন এ্যানি
- বাবা হিসেবে সবকিছু আবারও করতে প্রস্তুত: ভেঙে পড়া নেইমারকে বাবার আবেগঘন চিঠি
- ঢামেকের ৮০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: আট দশকের অবদান জাতির গর্ব
- বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষ
- গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারিতে মার্কিন নির্ভরতা: ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বড় দুর্বলতা ফাঁস
- যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভের চেয়েও পিছিয়ে: বিশ্বের অন্যতম কম বাসযোগ্য শহর হিসেবে ঢাকার রেকর্ড
- মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত, সিলেট সার্কিট হাউসে সুখবর দিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী
- ৭ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৭ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২০৩০ বিশ্বকাপ কোথায়? জানুন সব ভেন্যু
- ঢাকাসহ ১৭ জেলায় বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস, সতর্কতা জারি
- আজ ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজকের ক্রীড়াসূচি: বিশ্বকাপ, উইম্বলডন ও টি-টোয়েন্টি
- মঙ্গলবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় প্রকাশ
- ‘ফিলিস্তিনের কষ্ট না বুঝলে মানুষ নন’
- ‘অন্য ভাষায় জবাব পাবেন’ ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- ক্রসবারে বাঁচল স্পেন, পরক্ষণেই বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড
- টানা বাড়তির পর বড় ধাক্কা, কমল স্বর্ণের দাম
- নরওয়ের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন? জানালেন আনচেলত্তি
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- এলপিজির নতুন দর নিয়ে বড় ঘোষণা আজ
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- ‘নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে’- ট্রাম্প
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা
- ‘অন্য ভাষায় জবাব পাবেন’ ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান
- তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু, এবার ঝড়-বন্যার নতুন শঙ্কা








