ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে সই করল ইসরায়েল-হামাস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ০৯ ০৯:৩৭:২৩
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে সই করল ইসরায়েল-হামাস
ছবি: সংগৃহীত

দুই বছর ধরে সংঘাতে লিপ্ত ইসরায়েল এবং গাজা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস—উভয়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষর করেছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন।

চুক্তি কী বলছে?

ট্রাম্প তার বার্তায় বলেছেন:

“আমি খুবই গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে ইসরায়েল এবং হামাস উভয়েই আমাদের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষর করেছে। খুব শিগগিরই সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং সমঝোতার ভিত্তিতে ইসরায়েলও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।”

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারও যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছেন, “আজ রাতে গাজায় শান্তি স্থাপন সংক্রান্ত নতুন পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের সমস্ত শর্ত ও বিধান বাস্তবায়নে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, এই চুক্তি স্বাক্ষরের জেরে গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটবে, সমস্ত ইসরায়েলি জিম্মি ও ফিলিস্তিনি কারাবন্দিরা মুক্তি পাবে এবং গাজায় ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশে আর কোনো বাধা থাকবে না। তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।

আলোচনার প্রেক্ষাপট

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত নতুন একটি পরিকল্পনার ব্যাপারে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, তার পরিকল্পনার কপি ইসরায়েল, হামাস এবং অপর দুই মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর ও কাতারকে পাঠানো হয়েছে এবং হামাস ব্যতীত বাকি সবাই তাতে সম্মতি দিয়েছে।

পরে ৩ অক্টোবর হামাস সম্মতি জানানোর পরদিন ৪ অক্টোবর ট্রাম্প ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বলেন। এরপর ৬ অক্টোবর মিসরের শারম আল শেখ-এ ইসরায়েল, হামাস, মিসর, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়। দুই দিনেরও বেশি সময়ের আলোচনার পর চুক্তির প্রাথমিক পর্যায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিতে ইসরায়েল-হামাস স্বাক্ষর করল।

এই চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তিনি ‘এ সপ্তাহের শেষের দিকে, সম্ভবত রোববার, মধ্যপ্রাচ্যে যেতে পারেন।’

সূত্র: এএফপি


যুক্তরাষ্ট্রের চাপে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় পাকিস্তান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৩:১৩:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রের চাপে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র কৌশলগত চাপে পড়েছিলেন। এই অবস্থায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আকস্মিকভাবে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার ঘোষণা আসে, যা প্রথমে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপিত হলেও পরে এর পেছনের বাস্তবতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম ফিনানসিয়াল টাইমস-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই মধ্যস্থতা পাকিস্তানের স্বতন্ত্র কূটনৈতিক উদ্যোগ ছিল না। বরং ওয়াশিংটন থেকেই ইসলামাবাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল এই ভূমিকা গ্রহণের জন্য। ফলে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীন অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সম্ভাব্য বিঘ্ন যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু রাখা ছিল এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু, কারণ বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানকে একটি কার্যকর যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ইসলামাবাদ সরাসরি কোনো চুক্তির শর্ত নির্ধারণ করেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুত করা বার্তা তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা পাঠালে তা ইরানের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে—এমন ধারণা থেকেই এই কৌশল গ্রহণ করা হয়।

ফলে পাকিস্তানের ভূমিকা মূলত মধ্যস্থতার কাঠামো নির্ধারণে নয়, বরং পূর্বনির্ধারিত প্রস্তাব উপস্থাপন ও সমন্বয়ে সীমাবদ্ধ ছিল। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়ানো এড়িয়ে গিয়ে একই সঙ্গে চাপ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই গোপন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন, যার মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তবে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সহজ ছিল না। ইরানের অভ্যন্তরে ক্ষমতার বিভিন্ন কেন্দ্র, বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ভেতরে মতবিরোধ আলোচনাকে জটিল করে তোলে। পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়, যা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ভুলবশত একটি খসড়া বার্তা প্রকাশ করে ফেলায় পুরো প্রক্রিয়ার সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এতে বোঝা যায় যে, কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল এবং পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছিল।

-রাফসান


চুক্তির শর্ত না মানলে ইরানে আরও শক্তিশালী হামলার সতর্কবার্তা ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১২:৫৬:১২
চুক্তির শর্ত না মানলে ইরানে আরও শক্তিশালী হামলার সতর্কবার্তা ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি কমানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরেন, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন রণতরী, যুদ্ধবিমান এবং হাজার হাজার সেনা সদস্য এখনই প্রত্যাহার করা হবে না। বরং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এসব বাহিনী কৌশলগত অবস্থানে থেকেই নজরদারি ও প্রস্তুতি বজায় রাখবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি চুক্তির শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন মাত্রার সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে, যা অতীতে কখনো প্রত্যক্ষ করা হয়নি। তার ভাষায়, সম্ভাব্য হামলা হবে আগের যেকোনো অভিযানের তুলনায় আরও বড়, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর এবং শক্তিশালী।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, ইরানকে ঘিরে থাকা সমুদ্র ও আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা প্রস্তুত রেখেছে। এতে অতিরিক্ত গোলাবারুদ, আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থা এবং কৌশলগত যুদ্ধ সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা প্রয়োজন হলে দ্রুত মোতায়েন করা সম্ভব।

চুক্তি বাস্তবায়নের প্রশ্নে ট্রাম্প বিশেষভাবে দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রথমত, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে; দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবশ্যই খোলা ও নিরাপদ রাখতে হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে এবং পরবর্তী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তারা কৌশলগতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার বক্তব্যে ‘আমেরিকা ফিরে এসেছে’ এই বার্তাটি শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক উপস্থিতির ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল-জাজিরা


ইরানকে অস্ত্র দিলে ৫০% শুল্ক, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ০৭:৫৯:০৮
ইরানকে অস্ত্র দিলে ৫০% শুল্ক, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই এক নতুন অর্থনৈতিক চাপের কৌশল সামনে এনেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, যেসব দেশ তেহরানকে সামরিক সরঞ্জাম বা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহ করবে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড়, ব্যতিক্রম বা আলোচনার সুযোগ থাকবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’।

যদিও তিনি সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন এই বার্তার মূল লক্ষ্য চীন এবং রাশিয়া। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা বিভিন্নভাবে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ডুয়াল-ইউজ (দ্বৈত ব্যবহারের) প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে।

তবে বেইজিং ও মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ থাকলেও, ইরান-সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়টি এখনো আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবেই রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক আরোপের হুমকি মূলত একটি বহুমাত্রিক কৌশল। একদিকে এটি ইরানকে সামরিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা, অন্যদিকে সম্ভাব্য সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে তাদের অবস্থান বদলাতে বাধ্য করার উদ্যোগ। অর্থাৎ, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞাকেও কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন।

এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা কেবল প্রতিরক্ষা খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন ও যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

-রাফসান


ডলারে নয়, ইউয়ানে টোল! হরমুজ প্রণালিতে ইরান-চীনের বড় চাল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ২১:৪২:০৫
ডলারে নয়, ইউয়ানে টোল! হরমুজ প্রণালিতে ইরান-চীনের বড় চাল
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে মার্কিন ডলারের আধিপত্য কমাতে বড় এক চালে নামছে ইরান ও চীন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তেহরান ও বেইজিং ‘পেট্রো-ইউয়ান’ ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। ২০২৩ সালের তথ্যমতে, বৈশ্বিক তেলের বাজারের ৮০ শতাংশ লেনদেন ডলারে হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র একে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করে এই দেশ দুটি।

এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’। জানা গেছে, ইরান এই প্রণালিতে কার্যত একটি ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে টোল বা ফি আদায় করা হচ্ছে। শিপিং খাতের বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত মার্চ মাসেই অন্তত দুটি বড় জাহাজ ইউয়ানে এই ফি পরিশোধ করেছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও পরোক্ষভাবে এই উদ্যোগের কথা স্বীকার করেছে। এর ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ডলারের বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল তেহরান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২১ সালে সই হওয়া ২৫ বছর মেয়াদী কৌশলগত চুক্তির ফলে ইরান ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন অন্য উচ্চতায়। বর্তমানে ইরানের উৎপাদিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই কিনে নিচ্ছে চীন, যার বড় অংশই লেনদেন হচ্ছে ইউয়ানে। বিনিময়ে ইরান চীন থেকে যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি করছে। তবে ডলারের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইউয়ানে স্থিতি পাওয়া এখনো কঠিন, কারণ চীনের কঠোর মূলধন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে এটি এখনো অবাধে বিনিময়যোগ্য নয়। তবুও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের এই নতুন কৌশল বৈশ্বিক তেল বাজারে নতুন সমীকরণের জন্ম দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা: হামলা, পাল্টা হুমকি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা

আরিফুল ইসলাম
আরিফুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ২১:২৮:১০
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা: হামলা, পাল্টা হুমকি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কোনো স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি; বরং তা দ্রুতই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা, পাল্টা হামলা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতায় পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হচ্ছে যে, যুদ্ধবিরতি এখানে একটি কৌশলগত বিরতি মাত্র, যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠন ও পরবর্তী সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বাস্তবতা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তববাদী ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে ক্ষমতা, নিরাপত্তা ও স্বার্থের প্রতিযোগিতা সংঘাতকে অব্যাহত রাখে।

যুদ্ধবিরতির পরই তেল পাইপলাইনে হামলা

যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলা সংঘাতের প্রকৃত চরিত্রকে উন্মোচন করে। এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি রুট হওয়ায় এর ওপর আঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে যে, তারা অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ইয়ানবুর তেল স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত। যদিও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনও পরিষ্কার নয়, এই হামলা জ্বালানি অবকাঠামোকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন প্রতিরোধ

সংঘাতটি দ্রুত আঞ্চলিক মাত্রা অতিক্রম করেছে। কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে, যা একটি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত দেয়। ড্রোন প্রযুক্তির এই ব্যবহার যুদ্ধের প্রকৃতি পরিবর্তন করছে, যেখানে কম খরচে এবং উচ্চ গতিশীলতায় আঘাত হানা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার করছে, যা নিরাপত্তা দ্বিধাকে আরও তীব্র করে তুলছে।

লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা

ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। ৬০টিরও বেশি স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং এতে শতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছে। একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় হামলার মতো ঘটনাগুলো সংঘাতের মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। বৈরুতের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, সংঘাত এখন কেবল সামরিক সীমারেখায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিচ্ছে।

দক্ষিণ লেবাননে বাস্তবতা: যুদ্ধবিরতির বাইরে এক অঞ্চল

দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় জনগণের মধ্যে একটি শক্তিশালী ধারণা তৈরি হয়েছে যে, তারা কার্যত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আওতার বাইরে রয়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বহু মানুষ পরিবারে ফিরে যাওয়ার আশা করলেও ইসরায়েলের নতুন হামলায় সেই আশাগুলো ভেঙে গেছে। ইতোমধ্যে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা এই সংঘাতকে একটি বৃহৎ মানবিক সংকটে পরিণত করেছে। এই বাস্তবতা দেখায় যে, কাগুজে যুদ্ধবিরতি এবং মাঠের বাস্তবতার মধ্যে একটি গভীর ব্যবধান বিদ্যমান।

ইরানের পাল্টা প্রতিশোধের হুমকি

ইসরায়েলের হামলার পর ইরান সরাসরি প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই হামলার “শাস্তি” দেওয়া হবে এবং তারা উপযুক্ত জবাব প্রস্তুত করছে। IRGC ইতোমধ্যে একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে এবং বিদেশি বিমান তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে বলে সতর্ক করেছে। এই অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে, ইরান সংঘাতকে প্রতিরোধ ও প্রতিশোধের ভাষায় উপস্থাপন করছে, যা তাদের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করার একটি প্রচেষ্টা।

কূটনৈতিক আহ্বান: পাকিস্তানের ভূমিকা

এই উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, এই ধরনের ঘটনা শান্তি প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেয়। তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো পক্ষের নাম উল্লেখ না করলেও পুরো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অন্তত দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, কূটনীতিকে সুযোগ না দিলে শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। এই আহ্বান একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান নির্দেশ করলেও বাস্তব পরিস্থিতি কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য খুব বেশি অনুকূল নয়।

পাকিস্তানে সম্ভাব্য আলোচনা: কূটনীতির নতুন জানালা?

এই সংঘাতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে আলোচনার জন্য আসার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুক্রবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিছু সূত্রে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পারেন এবং ইসলামাবাদে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভ্যান্স উপস্থিত নাও থাকতে পারেন, যদিও শিগগিরই সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এই অনিশ্চয়তা দেখায় যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হলেও তা এখনও ভঙ্গুর ও অনির্দিষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: “যুদ্ধবিরতি মানে বিরতি, সমাপ্তি নয়”

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; বরং এটি একটি সাময়িক বিরতি। তাদের মতে, প্রয়োজন হলে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করা হবে এবং বাহিনী সেই প্রস্তুতি রেখেই অবস্থান করছে। এই অবস্থান বাস্তববাদী আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি ক্লাসিক উদাহরণ, যেখানে সামরিক সক্ষমতা ও শক্তির প্রদর্শন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যুদ্ধবিরতি কি ব্যর্থ হচ্ছে?

এই যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতার পেছনে কয়েকটি মৌলিক কারণ কাজ করছে। প্রথমত, পক্ষগুলোর মধ্যে গভীর অবিশ্বাস কোনো স্থায়ী চুক্তিকে কার্যকর হতে দিচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, নিরাপত্তা দ্বিধা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে অন্য পক্ষের কাছে হুমকি হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে। তৃতীয়ত, এই সংঘাত বহুপাক্ষিক এবং প্রক্সি-নির্ভর হওয়ায় এর নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। চতুর্থত, জ্বালানি ভূরাজনীতি এই সংঘাতকে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে, ফলে এর প্রভাব আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে, যুদ্ধবিরতি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়; বরং এটি একটি অন্তর্বর্তী পর্যায়, যেখানে সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত না রাজনৈতিক সমাধান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো এবং পারস্পরিক আস্থা গড়ে ওঠে, ততক্ষণ এই ধরনের যুদ্ধবিরতি বারবার ভেঙে পড়বে। বর্তমান বাস্তবতা ইঙ্গিত করছে যে, এই সংঘাত ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে, যদি না কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।


ইরানকে রাজি করাল চীন? ট্রাম্পের ইঙ্গিতে বিশ্বজুড়ে নতুন তোলপাড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১৭:৪৪:০৪
ইরানকে রাজি করাল চীন? ট্রাম্পের ইঙ্গিতে বিশ্বজুড়ে নতুন তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর নেপথ্যে চীনের অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো বলছে, শেষ মুহূর্তে বেইজিংয়ের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই তেহরান শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে।

তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে চীন এই সংকট নিরসনে আড়ালে থেকে কলকাঠি নেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেন, “আমি যা শুনেছি তা হলো, হ্যাঁ”। অর্থাৎ চীনের এই ভূমিকার বিষয়টি তিনি সরাসরি অস্বীকার করেননি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বেইজিং সরাসরি সামনে না এলেও পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিসরের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইরানকে শান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে। পুরো যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রতিটি ধাপে চীনা কর্মকর্তারা ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই তৎপরতার পেছনে একটি বড় কারণ হলো আগামী মে মাসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক।

যুদ্ধাবস্থার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছিল, যা বেইজিং কোনোভাবেই চাচ্ছিল না। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে চীন এই সফলতার কৃতিত্ব দাবি করেনি, তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে যে তারা শুরু থেকেই শান্তির জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আনা ওই প্রস্তাবটি সম্পর্কে চীনা প্রতিনিধি ফু কং বলেন, এই মুহূর্তে এমন প্রস্তাব ভুল বার্তা দিতে পারে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সব পক্ষকে আন্তরিকতা দেখিয়ে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল হুমকি। সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই সাময়িক সমঝোতায় চীনের ‘পর্দার আড়ালের কূটনীতি’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক


ট্রাম্প ও খামেনি উভয়েরই ‘বিজয়’ দাবি: কার কৌশলে এল এই ঐতিহাসিক সমঝোতা?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১২:১২:৩৪
ট্রাম্প ও খামেনি উভয়েরই ‘বিজয়’ দাবি: কার কৌশলে এল এই ঐতিহাসিক সমঝোতা?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান, আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত দুই সপ্তাহের ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আশঙ্কার মাঝেই শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার টেবিলে ফিরল বিবদমান পক্ষগুলো।

এই যুদ্ধবিরতিকে উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ‘বিজয়’ হিসেবে দাবি করেছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই মার্কিন বাহিনী তাদের অভিযান বন্ধ করেছে।

ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অনুরোধে এবং ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করতে সম্মত হওয়ার শর্তে তিনি এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন।

অন্যদিকে, তেহরানও আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব গ্রহণ করে বড় ধরনের কূটনৈতিক বিজয়ের দাবি তুলেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা বন্ধ রাখলে ইরানও তাদের ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ স্থগিত রাখবে। ইরান দাবি করছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ১০ দফা পরিকল্পনা মেনে নিতে বাধ্য করেছে, যার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের স্বীকৃতির মতো বিষয়গুলো রয়েছে।

তেহরান আরও স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সমন্বয় করলেও এই কৌশলগত পথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। এছাড়া এই সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্তির মতো দাবিগুলোও আলোচনার টেবিলে উঠে এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই তাদের সমস্ত সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছে বলেই তিনি এই যুদ্ধবিরতিতে সায় দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবটি একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য অত্যন্ত কার্যকর ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

ট্রাম্পের মতে, এই বিরতি দুই দেশকে অতীতের অমীমাংসিত বিরোধগুলো চিরতরে মিটিয়ে ফেলার একটি অনন্য সুযোগ করে দিয়েছে। বিশ্ব রাজনীতিতে এই যুদ্ধবিরতি এক বড় স্বস্তি বয়ে আনলেও, এটি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে কি না, এখন তা নির্ভর করছে আগামী দুই সপ্তাহের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর।

সূত্র: আল জাজিরা


হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১১:৫২:১১
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

রাতভর বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পর অবশেষে শর্তসাপেক্ষে ১৪ দিনের ঐতিহাসিক এক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন শুরু হয়েছে এবং তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি আগামী দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে সব ধরনের বোমা হামলা ও সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে অবিলম্বে এবং পুরোপুরিভাবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে হবে যাতে বিশ্ব বাণিজ্য ও তেলবাহী জাহাজগুলো নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান আলোচনার জন্য একটি ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যা সমঝোতার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং বার্তাসংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ব্যক্তিগতভাবে অনুমোদন করেছেন। ইরানের সুপ্রিম কাউন্সিল এই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার জানিয়েছে যে, ইসরায়েলও এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তারা এই সমঝোতায় সায় দিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই যুদ্ধবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ বিজয় এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন সেনাবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে ইরানের সরকারি মিডিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি তুলে ধরেছে; তাদের মতে, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইরানের অনড় অবস্থানের কাছে নতি স্বীকার করে প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মর্যাদাহানিকর এবং ইরানের একটি বড় বিজয়।

/আশিক


প্রেসিডেন্ট অসুস্থ ও উন্মাদ,ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নাগরিক অধিকার সংগঠনের ডাক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১০:১৯:১১
প্রেসিডেন্ট অসুস্থ ও উন্মাদ,ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নাগরিক অধিকার সংগঠনের ডাক
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপি (NAACP) বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবিলম্বে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ এবং অভিশংসনের (Impeachment) দাবি জানিয়েছে। ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি তাদের ১১৭ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন কঠোর এবং নজিরবিহীন অবস্থান নিল।

বুধবার (৮ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এনএএসিপির এই দাবির মূলে রয়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে ইরানকে ‘পাথর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তাঁর বিতর্কিত পোস্টগুলো, যা তাঁর মানসিক সুস্থতা ও প্রশাসনিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডেরিক জনসন এক বিবৃতিতে ট্রাম্পকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন

"এই প্রেসিডেন্ট অযোগ্য (Unfit), অসুস্থ (Unwell) এবং উন্মাদ (Unhinged)। আমরা ট্রাম্পের যে ধরনের বক্তব্য ও আচরণ লক্ষ্য করছি, তা শুধু উদ্বেগজনক নয় বরং অত্যন্ত বিপজ্জনক।"

তিনি আরও যোগ করেন যে, দেশের সর্বোচ্চ পদে থাকা কোনো ব্যক্তি যখন সত্য, স্থিতিশীলতা এবং জনগণের কল্যাণকে অবজ্ঞা করেন, তখন তা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই দেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে এখনই সরিয়ে দেওয়া জরুরি।

মার্কিন সংবিধানের এই সংশোধনী অনুযায়ী, যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য লিখিতভাবে জানান যে প্রেসিডেন্ট তাঁর দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তবে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্টের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করা যায়। এনএএসিপি এখন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মন্ত্রিসভাকে এই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানাচ্ছে।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ৩৮তম দিনে যখন বিশ্বজুড়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে, তখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে প্রেসিডেন্টের অপসারণের এই দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করল।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

৮ এপ্রিল: দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার

৮ এপ্রিল: দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবারের লেনদেনে শীর্ষ গেইনার তালিকায় শক্তিশালী উত্থান লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে বিভিন্ন খাতের কোম্পানিগুলো উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি... বিস্তারিত