স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা: ‘ফ্যাসিবাদী চক্রের সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হয়েছে’

সদ্য শেষ হওয়া দুর্গাপূজা ঘিরে ফ্যাসিবাদী চক্রের সহায়তায় দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুরে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পূজা ও খাগড়াছড়ির ঘটনা
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমরা জনগণের সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তৎপরতায় সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছি।”
তিনি উল্লেখ করেন, কয়েকটি পূজামণ্ডপে অসুরের মুখে দাড়ি লাগিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পূজা উদযাপন কমিটির সহযোগিতায় এই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে।
খাগড়াছড়িতে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার আরেকটি চেষ্টা হয়েছিল। তবে তিনি নিশ্চিত করেন, মেডিকেল পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, খাগড়াছড়িতে জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বিগত ১৬ বছরের নিপীড়নের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অনেক ভালো: রিজওয়ানা
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে সংবাদকর্মীরা যে পরিমাণ ভয়াবহ নিপীড়ন ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এক শতাংশও ঘটছে না। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে সিলেট প্রেস ক্লাবে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান জানান যেন তারা মানুষের মনে আশা জাগাতে বিগত সময়ের সেই কঠিন বাস্তবতাগুলো বারবার তুলে ধরেন।
নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি প্রকৃত ও স্বচ্ছ ভোট হতে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পরাজিত ও অপশক্তি নানাভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে সরকার শুরু থেকেই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ভোটের সময় কিছুটা রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা প্রশাসনের রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যেহেতু স্বৈরাচারকে হঠানো সম্ভব হয়েছে, তাই ছোটখাটো বাধাগুলো অতিক্রম করে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া কঠিন হবে না।
গণমাধ্যমে ‘মব আক্রমণ’ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমার নিজের বাসার সামনেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে, কিন্তু আমি তাতে বিচলিত হয়ে অতিরিক্ত বাহিনী নিয়ে চলাচল শুরু করিনি।” তিনি সাংবাদিকদের ‘ফাইটিং ব্যাক’ বা সাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন যে বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও হামলার পরও দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো কাজ থামিয়ে রাখেনি। অপশক্তিকে শুভশক্তি দিয়ে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিবাচক শক্তিকে সংগঠিত করতে পারলেই পরাজিত শক্তির অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে।
অনুষ্ঠানে পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং সিলেট প্রেস ক্লাবের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে রিজওয়ানা হাসান জানান যে অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল একটি সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করা নয়, বরং জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে গণভোট ও সঠিক প্রার্থী নির্বাচন নিশ্চিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে গণমাধ্যম ও সরকার একযোগে কাজ করলে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
৯ম পে স্কেলে বড় চমক, আসছে নতুন বেতন কাঠামো
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেলে মৌলিক কাঠামোগত সংস্কারের ইঙ্গিত মিলছে। যদিও রাষ্ট্রীয় শোক ও নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটির কারণে জাতীয় বেতন কমিশনের নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি স্থগিত হয়েছে, তবুও কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় গ্রেড পুনর্বিন্যাস এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
কমিশন সূত্র জানায়, স্থগিত হওয়া সভাটির বিকল্প তারিখ খুব শিগগিরই নির্ধারণ করা হবে এবং সেই বৈঠকেই পে স্কেলের কাঠামোগত রূপরেখা চূড়ান্ত করার পথে অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।
নবম পে স্কেল প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় বর্তমানে চালু থাকা ২০টি গ্রেড ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনের সদস্যদের মধ্যে তিনটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে।
প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে কেবল জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন ও ভাতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো যেতে পারে।
দ্বিতীয় প্রস্তাব অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কিছুটা প্রশমিত করতে গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১৬টিতে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীরা তুলনামূলক সুবিধা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃতীয় এবং সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাবটি হলো গ্রেড কাঠামোকে আমূল সংস্কার করে ১৪টি গ্রেডে সীমিত করা। কমিশনের একটি বড় অংশের মত, এই পরিবর্তন কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত বৈষম্য দূর হবে এবং একটি আধুনিক, যুক্তিসংগত ও ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্রেড সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিচের ধাপের কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে একই প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে বৈষম্য ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে।
-রাফসান
কাল থেকে শুরু হাড়কাঁপানো শীতের তীব্রতা: কতদিন চলবে এই তাণ্ডব?
নতুন বছরের শুরুতেই দেশজুড়ে শীতের ভয়ংকর রূপের আগাম বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চলতি জানুয়ারি মাসে দেশে মোট ৪ থেকে ৫টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ ‘তীব্র’ আকার ধারণ করতে পারে যেখানে দেশের উত্তর ও নদী অববাহিকার কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে এই বিশেষ পূর্বাভাস প্রদান করা হয়।
পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি মাসে দেশে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং এক থেকে দুটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলাকালীন পারদ ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে যা জনজীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে ঘন কুয়াশা বজায় থাকবে যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় শীতের অনুভূতি হবে অসহনীয়।
গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহের দাপট অব্যাহত রয়েছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়েও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার যশোরে তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে নেমেছিল। আবহাওয়া অফিসের দেওয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা এর নিচে নেমে গেলে তা ‘অতি তীব্র’ পর্যায়ে পৌঁছায়।
আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানিয়েছেন যে আজ শনিবার দেশের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে যা শীতের তীব্রতা কিছুটা কমিয়ে আনবে। তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না কারণ আগামীকাল রবিবার থেকেই তাপমাত্রা পুনরায় কমতে শুরু করবে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে পঞ্চগড়ে টানা কয়েকদিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলায় সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। জানুয়ারির এই হাড়কাঁপানো পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকারি ও বেসরকারিভাবে আগাম প্রস্তুতির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চলবে ধার করা কয়লায়, নজিরবিহীন সংকটে পায়রা
দেশের জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনার এক বিরল চিত্র ফুটে উঠেছে পটুয়াখালীর আরপিসিএল-নরিনকো ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। নিজস্ব কয়লা মজুত শেষ হয়ে আসায় কেন্দ্রটি সচল রাখতে এখন মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কয়লা ধার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) আসন্ন রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সব কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র চালু রাখার নির্দেশ দিলেও আরপিসিএলের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা আমদানির বিষয়টি এখনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে।
বর্তমানে আরপিসিএল কেন্দ্রে যে পরিমাণ কয়লা অবশিষ্ট আছে, তা দিয়ে চলতি মাস পর্যন্ত একটি ইউনিট চালানো সম্ভব। অথচ এই কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। এই সংকট কাটাতে আরপিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিদ্যুৎ সচিবকে চিঠি দিয়ে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। যার মধ্যে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত হিসেবে দেখা হচ্ছে মাতারবাড়ী কেন্দ্র থেকে সাময়িকভাবে কিছু কয়লা ধার নেওয়া। মাতারবাড়ীতে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টনের বেশি উদ্বৃত্ত কয়লা মজুত রয়েছে, যা আরপিসিএল পরে মূল্য পরিশোধের শর্তে ব্যবহার করতে চায়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আরপিসিএল কেন্দ্রের জন্য কয়লা সরবরাহে চারবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রতিবারই অজ্ঞাত কারণে তা বাতিল করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইয়াংথাই বারবার সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের একটি প্রভাবশালী মহলের স্বার্থরক্ষা না হওয়ায় সরবরাহকারী চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, ইয়াংথাই একক বিডার হওয়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই দীর্ঘসূত্রতার মাশুল দিতে হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবে এখন এক কেন্দ্রের কয়লা দিয়ে অন্য কেন্দ্র চালানোর মতো অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদি দ্রুততম সময়ে কয়লা ধারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হয় বা নতুন সরবরাহকারী চূড়ান্ত না হয়, তবে শীত শেষে গরমের শুরুতে এবং আসন্ন রমজানে দেশজুড়ে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে। এখন দেখার বিষয়, মাতারবাড়ীর কয়লা ধারের প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভাগ সম্মতি দেয় কি না।
আবহাওয়া অফিসের বড় দুঃসংবাদ, ধেয়ে আসছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত
সারা দেশে পৌষের হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার দাপটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত তিন দিন ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহে বিশেষ করে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৬ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি জানুয়ারি মাসে দেশের কোনো কোনো স্থানে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
চলতি মৌসুমে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম। এর মধ্যে এক থেকে দুটি হবে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, যেখানে তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকবে। আজ শনিবার রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে আসতে পারে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, যেখানে পারদ নেমেছে ৮ ডিগ্রিতে। মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়সহ ১৬টি জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
ঘন কুয়াশার কারণে আকাশ, সড়ক ও নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে ৯টি ফ্লাইট কলকাতা, চট্টগ্রাম ও ব্যাংককে ডাইভার্ট করতে হয়েছে। রাজধানী ঢাকার বাতাসও আজ অস্বাভাবিক শীতল; এখানে আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৫ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে বায়ুদূষণও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, ফলে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা আজ ১৫তম অবস্থানে রয়েছে। আগামী ৫ দিন এই কনকনে শীতের আমেজ অব্যাহত থাকবে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার: বিশেষ আহ্বান নিয়ে হাজির ড. ইউনূস
রাজধানীর পূর্বাচলে আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৬। মেলা উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অংশগ্রহণকারী সকল দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে পারস্পরিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই মেলা বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
উল্লেখ্য যে, মেলাটি পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১ জানুয়ারি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে তারিখ পরিবর্তন করে ৩ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বাণীতে বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাণিজ্য মেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘অনুঘটক’ হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, দেশীয় পণ্যের প্রচার, পণ্য বহুমুখীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এই মেলার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মাসব্যাপী এই আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তারা যেমন বিশ্ববাজারের আধুনিক নকশা ও প্রবণতা সম্পর্কে জানতে পারবেন, তেমনি বিদেশি ক্রেতারাও বাংলাদেশি পণ্যের গুণগত মান সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবেন। মেলাটি যেন সুন্দর, ক্রেতাবান্ধব ও উৎসবমুখর হয়—সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
এক লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে মাসিক মুনাফা কমল যত
ছয় মাসের ব্যবধানে আবারও জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন এই হারে এক লাখ টাকা বিনিয়োগে মাসিক আয়ে উল্লেখযোগ্য কাটছাঁট পড়ছে, যা সঞ্চয়পত্রনির্ভর পরিবারগুলোর দৈনন্দিন অর্থব্যবস্থাকে আরও সংকুচিত করবে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে একই অঙ্কের বিনিয়োগে মাসে প্রায় ১১০ টাকা কম মুনাফা মিলবে।
আগের কাঠামোতে পরিবার সঞ্চয়পত্রে এক লাখ টাকা রাখলে মাসিক মুনাফা পাওয়া যেত ৯৪৪ টাকা। সংশোধিত হারে সেই অঙ্ক নেমে এসেছে ৮৩৪ টাকায়। অর্থাৎ মাস শেষে সংসারের ব্যয় মেটাতে যেসব পরিবার এই আয়কে নির্ভরযোগ্য ভরসা হিসেবে ব্যবহার করত, তাদের জন্য নতুন বাস্তবতা আরও কঠিন হয়ে উঠল।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) আগামী ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের সংশোধিত মুনাফার হার ঘোষণা করেছে, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এর আগে গত জুলাইয়েও একইভাবে হার কমানো হয়েছিল। সরকারি বিধি অনুযায়ী, প্রতি ছয় মাস অন্তর এই হার পর্যালোচনা করা হয়।
নতুন সিদ্ধান্তে বিনিয়োগের অঙ্কভেদে মুনাফার হারে স্পষ্ট পার্থক্য রাখা হয়েছে। অপেক্ষাকৃত কম অঙ্কের বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি সুদ দেওয়া হলেও বড় অঙ্কে বিনিয়োগে হার কমিয়ে আনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই সীমার মধ্যে বিনিয়োগ করলে কিছুটা বেশি মুনাফা মিলবে, তবে সীমা অতিক্রম করলেই সুদের হার নেমে যাবে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, রাজস্ব আদায় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য বজায় রাখার অংশ হিসেবেই নিয়মিতভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা সমন্বয় করা হয়। ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের সুদের ব্যবধান কমিয়ে আনা এবং সরকারের সুদ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখাই এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী মনে করেন, সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকে আমানত প্রবাহ বাড়ানো এবং ব্যাংকঋণের সুদের হার কমিয়ে আনা। তার মতে, এতে সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা হলেও কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।
তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসবে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর ওপর। কারণ দেশের বিনিয়োগ বাজারে তাদের জন্য ঝুঁকিহীন বিকল্প খুবই সীমিত। ব্যাংক আমানতের সুদ কম, আর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সঞ্চয়পত্রই এতদিন তাদের প্রধান আশ্রয় ছিল।
সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশে। একই সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে পাঁচ বছর শেষে মুনাফা নেমে এসেছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে।
এ ছাড়া পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেও একইভাবে সুদের হার হ্রাস করা হয়েছে। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্রের প্রায় সব ক্যাটাগরিতেই বিনিয়োগকারীদের আয় কমছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে যেসব সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ইস্যুকালীন নির্ধারিত মুনাফার হারই মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। শুধু মেয়াদ শেষে পুনর্বিনিয়োগের সময় তখনকার নতুন হার প্রযোজ্য হবে। নিয়ম অনুযায়ী, ছয় মাস পর আবারও মুনাফার হার পুনর্বিবেচনা করা হবে।
উল্লেখ্য, দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরেই সঞ্চয়পত্রের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। সংসারের নিয়মিত খরচ চালানো, চিকিৎসা ব্যয় কিংবা হঠাৎ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই মুনাফাই অনেক পরিবারের আর্থিক সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বছরের শুরুতেই সঞ্চয়পত্রের সুদ কমার খবর এসব পরিবারের ওপর নতুন করে চাপ বাড়াল।
-রাফসান
৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি আরও ন্যায্য, আধুনিক ও বৈষম্যহীন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫ দ্রুতগতিতে তাদের কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। কমিশনের নির্ধারিত একটি সভা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটির কারণে অনুষ্ঠিত না হলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে যে খুব শিগগিরই নতুন তারিখ নির্ধারণ করে কমিশনের সদস্যদের জানানো হবে।
কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বর্তমান বেতন কাঠামোর গ্রেড ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক মতামত উঠে এসেছে। প্রধানত তিনটি বিকল্প প্রস্তাব ঘিরেই চলছে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা। প্রথম প্রস্তাবে বলা হচ্ছে, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে শুধু বেতন, ইনক্রিমেন্ট ও ভাতাসমূহ জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাড়ানো যেতে পারে। এই মতের সমর্থকদের ধারণা, কাঠামো পরিবর্তনের চেয়ে বাস্তব বেতন বৃদ্ধিই কর্মচারীদের জন্য বেশি কার্যকর হবে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবনায় বর্তমান ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১৬টিতে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এতে গ্রেডগুলোর মধ্যকার ব্যবধান কমবে এবং নিম্নস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই কাঠামোকে একটি মধ্যপন্থী সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তৃতীয় ও সবচেয়ে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাবে গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে ১৪টিতে আনার কথা বলা হয়েছে। কমিশনের একটি অংশের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বেতন বৈষম্য অনেকটাই দূর হবে এবং একটি আধুনিক, কর্মীবান্ধব ও তুলনামূলকভাবে সমতাভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
কমিশনের মতে, বর্তমানে গ্রেড সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিম্ন ধাপের কর্মচারীরা ক্রমাগত আর্থিক চাপে পড়ছেন এবং উচ্চ গ্রেডের সঙ্গে তাদের ব্যবধান বাড়ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও কর্মচারী সংগঠন থেকে পাওয়া হাজার হাজার মতামত গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার গত ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং প্রথম সভা থেকেই ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশমালা জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। আনুষ্ঠানিক সময়সীমা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও, কমিশন সূত্র জানিয়েছে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগেই চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীরা এই কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাদের প্রত্যাশা, গ্রেড কাঠামোতে যৌক্তিক সংস্কার হলে তা শুধু আর্থিক স্বস্তিই নয়, বরং দীর্ঘদিনের পেশাগত হতাশা ও বৈষম্য কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
-রাফসান
৪৬তম বিসিএসের ভাইভার চূড়ান্ত তারিখ প্রকাশ
৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে এবং তা চলবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।
এবারের মৌখিক পরীক্ষার জন্য মোট ১ হাজার ৩৬১ জন প্রার্থীর সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ক্যাডারের ৩৯০ জন, কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারের ৭৩৮ জন এবং সাধারণ ও কারিগরি উভয় ক্যাডারের ১৩৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। এর আগে গত ২৭ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল, যেখানে ৪ হাজার ৪২ জন প্রার্থী সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচিও পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীদের কমিশন নির্ধারিত অনলাইন ফরম (BPSC Form-1) এর সাথে প্রয়োজনীয় সকল সনদ ও ডকুমেন্টের দুই সেট সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি মূল সনদসমূহ বোর্ডে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। পরীক্ষার বিস্তারিত সূচি পিএসসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের পোর্টালে (http://bpsc.teletalk.com.bd) পাওয়া যাবে। সরকারি চাকরিতে ৩ হাজার ১৪০টি শূন্য পদের বিপরীতে এই ৪৬তম বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।
পাঠকের মতামত:
- এবারের নির্বাচন বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
- বিগত ১৬ বছরের নিপীড়নের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অনেক ভালো: রিজওয়ানা
- ডার্ক এনার্জি আর স্থির নয়: মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
- ট্রাম্পের হাতে আটক মাদুরোর গন্তব্য এখন নিউইয়র্ক: সিএনএন
- শীতে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় জানুন
- ভাঙনের পথে ভারত ও বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্ক
- মোস্তাফিজের অপমানে সরব আসিফ, ভারতকে দিলেন কঠোর হুঁশিয়ারি
- মা সবার কাছে ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন: তারেক রহমান
- চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য বড় সুযোগ, আসছে এনটিআরসিএর গণবিজ্ঞপ্তি
- ভারত মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে বিশ্বকাপ দলগুলোকে কীভাবে দেবে
- ঈদ ও রমজান মিলিয়ে টানা লম্বা ছুটি
- মাফিয়া দল আওয়ামী লীগ আবার হত্যাকাণ্ড চালাতে সচেষ্ট: হাফিজ
- ৯ম পে স্কেলে বড় চমক, আসছে নতুন বেতন কাঠামো
- এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের চমক,ডিসেম্বরে রেকর্ড সংখ্যক ভ্যাট নিবন্ধন
- এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের চমক,ডিসেম্বরে রেকর্ড সংখ্যক ভ্যাট নিবন্ধন
- ষড়যন্ত্র নাকি প্রযুক্তিগত ভুল? মনোনয়নপত্র নিয়ে তাসনিম জারার নতুন বার্তা
- মাদুরো আটক, আন্তর্জাতিক চুক্তির কফিনে শেষ পেরেক
- মাদুরোকে আটকের পর জরুরি অবস্থা জারি: যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে লাতিন
- মোদি কি এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছে? জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে কী বার্তা এল
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় শিক্ষক নিয়োগ
- ইশরাক হোসেনের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে তথ্য সামনে এল
- ২ লাখ ১২ হাজার টাকায় কেনা যাবে এক ভরি সোনা
- জান্নাতে সব থাকলেও যেসব জিনিস নাই
- হাড়কাঁপানো শীতে রোগ প্রতিরোধে তুলসী চায়ের জাদুকরী সব গুণ
- আইপিএল থেকে মোস্তাফিজ আউট, রেকর্ড দামে দল পেয়েও কেন বাদ মোস্তাফিজ?
- খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ফাতেমা বেগমের নতুন অধ্যায়
- কাল থেকে শুরু হাড়কাঁপানো শীতের তীব্রতা: কতদিন চলবে এই তাণ্ডব?
- হাড়কাঁপানো শীতে ঘর হবে উষ্ণ: জানুন গিজার ও হিটারের বাজারদর
- ব্যাংক হলিডের প্রভাব, বাজারে নেতিবাচক চিত্র
- কনকনে ঠান্ডায় পানিভীতি কাটানোর উপায়: গোসল হবে এখন উপভোগ্য
- শীতের রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট: ইনহেলার না থাকলে যা করা জরুরি
- নাগরিকত্ব পেতে চান? জানুন কোন কোন দেশে খুব সহজে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়
- শুরু হচ্ছে কৃষি গুচ্ছের ভর্তি যুদ্ধ: শেষ সময়ের প্রস্তুতি জানুন
- তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চলবে ধার করা কয়লায়, নজিরবিহীন সংকটে পায়রা
- অবহেলার জবাব মাঠেই দিলেন মাহমুদউল্লাহ
- গয়না কেনার আগে দেখে নিন আজ কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে দেশে
- আমরা থানা পুড়িয়েছি ও এসআইকে জ্বালিয়ে দিয়েছি: বৈষম্যবিরোধী নেতা
- শূন্য চেয়ারপারসন পদ: তারেক রহমানই কি এখন বিএনপির নতুন প্রধান?
- আবহাওয়া অফিসের বড় দুঃসংবাদ, ধেয়ে আসছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত
- ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে সরাবার চাল : ইরাকের মতো ডুববে কি আমেরিকা?
- অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার: বিশেষ আহ্বান নিয়ে হাজির ড. ইউনূস
- আজ ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ও জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি
- আজ শনিবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- এক লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে মাসিক মুনাফা কমল যত
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
- সংসদের বেতন ছাড়া কিছুই নেব না: হাসনাত
- বিয়ের আগে পুরুষদের ত্বক উজ্জ্বল রাখার সহজ উপায়
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় সুখবর
- এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পিছাল, নতুন তারিখ ঘোষণা
- সাধারণের নাগালের বাইরে সোনার বাজার: মধ্যবিত্তের সোনা কেনার স্বপ্ন কি তবে শেষ
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- সোনার বাজারে সুখবর! কমল দাম যত
- ঢাকা-১৫ জামায়াত আমিরের বিপক্ষে নামলেন যে বিএনপি প্রার্থী
- ২০২৬ সালে স্কুলে ছুটি কমলো ১২ দিন, দেখে নিন তালিকা
- হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা থেকে মুক্তি কবে? যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা: আজই দেখে নিন রুটিন
- ই-রিটার্ন দাখিলে আর বাধা নেই: বড় সুখবর দিল রাজস্ব বোর্ড আজ
- বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় রেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
- ২৯ ডিসেম্বর ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরহারানো শেয়ার
- ২৯ ডিসেম্বরের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়








