‘৬-০’ কটাক্ষের জেরে হারিস রউফকে জরিমানা করল আইসিসি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ সেপ্টেম্বর ২৭ ১৯:০৬:২৪
‘৬-০’ কটাক্ষের জেরে হারিস রউফকে জরিমানা করল আইসিসি
পাকিস্তানের পেসার হারিস রউফ। ছবি: সংগৃহিত

পাকিস্তানের পেসার হারিস রউফ এবং ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে তাদের ম্যাচ ফির ৩০ শতাংশ জরিমানা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি।

হারিস রউফ ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে ‘৬-০’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে ভারত-পাকিস্তানের সর্বশেষ সংঘাতের পর ‘অপারেশন সিঁদুরে’ ভারতের ছয়টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, সূর্যকুমার ম্যাচ শেষে জয়টিকে পেহেলগামে হামলা এবং অপারেশন সিঁদুরে হতাহত ও তাদের পরিবারকে উৎসর্গ করেছিলেন। দুই দলের দুই খেলোয়াড়কে নিয়ে আইসিসির কাছে অভিযোগ গেলে, আইসিসি তাদের জরিমানা করেছে।

হারিস রউফের জরিমানা দিচ্ছেন মহসিন নাকভি

হারিস রউফের জরিমানার এই অর্থ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের মন্ত্রী মহসিন নাকভি ব্যক্তিগতভাবে দিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন। রউফের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ফি প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার পাকিস্তানি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা)। এর ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার পাকিস্তানি রুপি (বা ৫৪ হাজার টাকা) নাকভি পরিশোধ করবেন।


ইরানের সাথে বৈষম্যের পর এবার ট্রাম্পের ক্ষমতার খেল, ২০২৬ বিশ্বকাপের সৌন্দর্য নষ্টের নেপথ্যে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ২১:৩৯:৪৩
ইরানের সাথে বৈষম্যের পর এবার ট্রাম্পের ক্ষমতার খেল, ২০২৬ বিশ্বকাপের সৌন্দর্য নষ্টের নেপথ্যে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (বামে) ও ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গারিঞ্চার লাল কার্ড পাওয়ার পর তৎকালীন চিলির প্রেসিডেন্টের নজিরবিহীন তদবিরে পার পেয়ে যাওয়ার সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে আজগুবি মনে হলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে ফুটবল বিশ্ব দেখল ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।

চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হওয়ার আগে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের ওপর দেওয়া এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে কয়েক দফা সরাসরি ফোন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর পর ফিফা তড়িঘড়ি করে টুর্নামেন্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দিয়েছে, যা ফুটবল ইতিহাসে এক চরম কেলেঙ্কারী ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে, যেখানে বল দখলের লড়াইয়ের সময় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গোড়ালিতে আঘাত করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বালোগান। এই লাল কার্ড নিয়ে ফুটবল বিশ্বে পক্ষে-বিপক্ষে নানা বিতর্ক তৈরি হলেও মার্কিন সমর্থক ও কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো মূলত বালোগানকে ছাড়াই বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ঠিক তখনই আসরে নামেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউএস সকার ফেডারেশনের লবিংয়ের পাশাপাশি ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপের পর ফিফা তাদের আইন কানুনের এক অদ্ভুত ধারার দোহাই দিয়ে বিশ্বকাপ চলাকালেই বালোগানের লাল কার্ড স্থগিতের নজিরবিহীন ঘোষণা দেয়।

ফিফার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর ফুটবল বিশ্বে তীব্র ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। বেলজিয়ামের প্রধান কোচ রুডি গার্সিয়া চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি তো জানতাম না যে এপ্রিল ফুল (১লা এপ্রিলে বোকা বানানোর দিন) এখন জুলাই মাসে উদযাপন হয়!” বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যে ফিফার এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম যখন ট্রাম্পের এই ফোন কল ও ফিফার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তখন ফিফা কর্মকর্তারা দায়সারাভাবে দাবি করছেন যে কোনো ধরণের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি—যা ফুটবল বিশ্লেষকদের কাছে স্পষ্টতই এক হাস্যকর অজুহাত। ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মধুর সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থের সমীকরণই যে এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে, তা এখন ওপেন সিক্রেট।

তবে ক্ষমতার জোর খাটিয়ে ট্রাম্প বালোগানকে দলে ফেরালেও, এটি আদতে মার্কিন ফুটবলের জন্য এক বিশাল কলঙ্ক বয়ে এনেছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। গ্রুপ পর্বে তিনটি অসাধারণ পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে নিজেদের যোগ্যতায় শেষ ষোলোতে আসা যুক্তরাষ্ট্রের এই গৌরবময় যাত্রাকে ট্রাম্পের এই ‘অন্যায্য সুবিধা’ বিশ্ববাসীর চোখে আজ কলঙ্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

এখন বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র জিতলেও ফুটবল বিশ্ব মনে করবে এই জয় ফিফার তৈরি করে দেওয়া। নরওয়ের প্রধান কোচ স্টেল সলবাকেনও যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিস্থিতির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “এটি ফিফার মস্ত বড় ভুল এবং অত্যন্ত বাজে একটি সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আমার দুঃখ হচ্ছে, কারণ তারা জিতলেও ম্যাচটির গায়ে কালো দাগ রয়ে যাবে, যা ফুটবলের জন্য মোটেও ভালো নয়।”

টিকিট বিতর্ক, অবকাঠামো ও ইরানের দলের সঙ্গে বাজে আচরণের মতো নানা ঝামেলার মাঝেও সফলভাবে চলতে থাকা ২০২৬ বিশ্বকাপের সৌন্দর্যকে ট্রাম্পের এই ক্ষমতার অপব্যবহার ও অযাচিত হস্তক্ষেপ এক লহমায় নষ্ট করে দিল।

লেখক: দ্য গার্ডিয়ানের ফুটবল বিষয়ক প্রতিনিধি


বোলাররা জেতালেও ব্যাটাররা ডোবাল, তুলনামূলক দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হতাশাজনক পরাজয়

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ২০:২৮:২৯
বোলাররা জেতালেও ব্যাটাররা ডোবাল, তুলনামূলক দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হতাশাজনক পরাজয়
ছবি : সংগৃহীত

জিম্বাবুয়ে সফরের চরম হতাশা যেন কোনোভাবেই কাটছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। স্বাগতিকদের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে ইনিংস ও ৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে লজ্জাজনক হারের পর এবার ওয়ানডে সিরিজও শুরু হলো চরম ভরাডুবি আর পরাজয় দিয়ে।

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৪১ রানে অলআউট করে দিয়েছিল টাইগার বোলাররা। জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৪২ রানের। বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তৈরি হওয়া এই সহজ ও নিশ্চিত জয়ের সুযোগটি হেলায় হারাল দেশের ব্যাটাররা। খর্বশক্তির জিম্বাবুয়ের দেওয়া মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক ভয়াবহ ও অবিশ্বাস্য ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টিম বাংলাদেশ।

ইনিংসের শুরুতেই মাত্র ১৭ রান তুলতেই টপ অর্ডারের ৩ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রাথমিক সেই ধাক্কা সামলে মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৬৬ রান। কিন্তু এরপরই শুরু হয় উইকেটের অবিশ্বাস্য ও দৃষ্টিকটু পতন। ক্রিজে থিতু হতে না পারার মিছিলে মাত্র ৫০ রান যোগ করতেই শেষ ৭টি উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসে ব্যাটাররা। ফলশ্রুতিতে ৩৩.১ ওভারে মাত্র ১১৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

মাত্র ১৪২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ২৫ রানের এক অবিশ্বাস্য ও লজ্জাজনক হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। ব্যাটিং লাইনের চরম ও ধারাবাহিক ব্যর্থতায় তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন হতাশাজনক পরাজয়ে ওয়ানডে সিরিজে পিছিয়ে পড়ল টাইগাররা।

/আশিক


আমাদের সালাহ ও ২৬ জন মেসি আছে: আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে মিশরীয় কোচের হুংকার

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ২০:০৮:১৮
আমাদের সালাহ ও ২৬ জন মেসি আছে: আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে মিশরীয় কোচের হুংকার
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে আফ্রিকার সাতবারের চ্যাম্পিয়ন মিশরের রূপকথা যেন থামছেই না। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নেওয়ার পর, শেষ ৩২-এর নকআউটে অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে দিয়ে এবার তারা মুখোমুখি হচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্বসেরা দল আর্জেন্টিনার।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল আর্জেন্টিনার বিপরীতে ২৯ নম্বরে থাকা মিশরের শক্তির তফাৎটা আকাশ-পাতাল। স্বাভাবিকভাবেই আগামীকালকের ম্যাচে নিরঙ্কুশ ফেভারিট আর্জেন্টিনা; তবে মাঠের লড়াইয়ের আগে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের এতটুকু ছেড়ে কথা বলতে রাজি নয় ফারাওরা। বিশেষ করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়ে মোটেও বাড়তি কোনো চাপ নিতে চাইছে না তারা।

মিশরীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘সাদা আল বালাদ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের এমন সাহসী মনোভাবের কথা স্পষ্ট করেছেন মিশরের সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান, যিনি দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসানের ভাই। লিওনেল মেসিকে নিয়ে মাঠের বাইরে চলমান তুমুল হাইপকে পাত্তাই দিচ্ছেন না তিনি। ইব্রাহিম বলেন, “আমরা মেসিকে আলাদা করে দেখছি না। আমরা আমাদের খেলোয়াড়দের পরিষ্কার বলে দিয়েছি—মাঠে নামো, প্রতিপক্ষ কে বা তাদের দলে কে আছে সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে শুধু নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলো।”

বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা মহাতারকার মুখোমুখি হওয়াকে অত্যন্ত সাধারণ একটি ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে এই সহকারী কোচ আরও যোগ করেন, “মেসির বিপক্ষে খেলা? আমরা এই মুহূর্তে এগুলো নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবছি না। আমাদের পুরো মনোযোগ কেবল মিশরীয় জাতীয় দলের ওপর। আমাদের কাছে প্রতিপক্ষ মেসি হোক বা অন্য কেউ, আমরা প্রতিটি ম্যাচে কেবল জানপ্রাণ দিয়ে লড়তে মাঠে নামি।”

আর্জেন্টাইন শিবিরের শক্তির জবাব দিতে গিয়ে নিজেদের সেরা তারকা মোহাম্মদ সালাহ ও স্কোয়াডের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে ইব্রাহিম হাসান এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, “তাদের (আর্জেন্টিনার) হয়তো একজন মেসি আছে; কিন্তু আমাদের দলে আছেন মোহাম্মদ সালাহ এবং আরও ২৬ জন ‘মেসি’। আশা করি, মাঠের এই লড়াই ও ত্যাগের জন্য আল্লাহ আমাদের পুরস্কৃত করবেন।”

চলতি বিশ্বকাপে মিশরের এই অভাবনীয় সাফল্য ধরে রাখার নেপথ্যের মানসিকতা তুলে ধরে ইব্রাহিম বলেন, “টুর্নামেন্টের প্রথম দিন থেকেই আমরা খেলোয়াড়দের মগজে এটি ঢুকিয়ে দিয়েছি যে, আমরা এখানে শুধু অংশগ্রহণ করার আনুষ্ঠানিকতা সারতে আসিনি। আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে এই টুর্নামেন্টে যতদূর সম্ভব পথ পাড়ি দেওয়া।”

আগামীকাল (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার ঐতিহ্যবাহী মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। উল্লেখ্য, চলতি আসরে ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি রয়েছেন অতিমানবীয় ফর্মে। এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ৭ গোল করে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের সর্বকালের রেকর্ড ২০তম গোলটি করে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন একাই দখল করে রেখেছেন তিনি।

/আশিক


ব্রাজিল বধের নায়ক হালান্ডের দানবীয় শক্তির অদ্ভুত রহস্য ফাঁস

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১৮:৪৮:৩৭
ব্রাজিল বধের নায়ক হালান্ডের দানবীয় শক্তির অদ্ভুত রহস্য ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল ইতিহাসের চেনা ছক এবং প্রচলিত সব ধারণাকে এক ঝটকায় বদলে দিয়ে একবিংশ শতাব্দীর ফুটবলে এক অতিমানবিক চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, ওয়েইন রুনি, রোনালদো নাজারিও, দিয়েগো ম্যারাডোনা কিংবা পেলের মতো কিংবদন্তিরা যখন কেউ গতি, কেউ ফিনিশিং আবার কেউ নিখুঁত ড্রিবলিংয়ে বিশ্বকে বুঁদ করে রেখেছিলেন, তখন তাঁদের প্রত্যেকের খেলাতেই ছিল ছোটখাটো কিছু সীমাবদ্ধতা।

কিন্তু চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেওয়ার পর ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—হালান্ড কি আসলেই একজন সাধারণ মানুষ, নাকি আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞানের ল্যাবরেটরিতে তৈরি কোনো ‘বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারড’ বা রোবোটিক অ্যাথলেট?

৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই নরওয়েজিয়ান তারকার মাঠের বিস্ফোরক গতি, অবিশ্বাস্য শারীরিক শক্তি এবং গোল করার যান্ত্রিক নিখুঁত দক্ষতা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য এক জীবন্ত আতঙ্কের নাম। তবে এই সাফল্য শুধু জন্মগত প্রতিভার জোরে আসেনি; বরং নিজের শরীর, মন এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনকে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও কঠোর শৃঙ্খলার ফ্রেমে বেঁধে ফেলার মাধ্যমেই তিনি আজ নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

প্রতিদিন ৬ হাজার ক্যালরির দানবীয় খাদ্যাভ্যাস

বর্তমান বিশ্বের আধুনিক ফুটবলাররা যখন প্রোটিন শেক আর মেপে মেপে কার্বোহাইড্রেট খেতে অভ্যস্ত, তখন হালান্ডের খাদ্যতালিকা শুনলে যে কেউ চমকে উঠবেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘হোলা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, হালান্ড প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার ক্যালরি খাবার গ্রহণ করেন। তাঁর এই দানবীয় ডায়েটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গরুর হৃৎপিণ্ড, কলিজা এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পুষ্টিকর মাংস।

নিজের বহুল আলোচিত প্রামাণ্যচিত্র ‘Haaland: The Big Decision’-এ তিনি অকপটে বলেন, “অনেকেই হয়তো এসব খাবার মুখেও তুলবে না। কিন্তু আমি আমার শরীরের সর্বোচ্চ যত্ন ও পুষ্টির ব্যাপারে ভীষণ সচেতন।” শুধু খাবারই নয়, পানের ক্ষেত্রেও তিনি সাধারণ পানি বর্জন করে বিশেষভাবে পরিশোধিত ও ফিল্টার করা পানি পান করেন। এছাড়া কাঁচা দুধ, পালং শাক ও কেলের (Kale) মিশ্রণে তৈরি একটি বিশেষ জুস পান করেন, যাকে তিনি রসিকতা করে নিজের ‘ম্যাজিক পোশন’ বা জাদুকরী পানীয় বলে ডাকেন।

ঘুমই যখন পারফরম্যান্সের প্রধান হাতিয়ার

হালান্ডের দর্শন অনুযায়ী, একজন পেশাদার অ্যাথলেটের মাঠের পারফরম্যান্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পর্যাপ্ত এবং গভীর ঘুম। এই কারণে তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুমানোর পাশাপাশি দুপুরেও কিছু সময় বাধ্যতামূলক বিশ্রাম নেন। ‘মেন্স হেলথ’-এর তথ্য মতে, রাতে ঘুমানোর ঠিক তিন ঘণ্টা আগে হালান্ড এক জোড়া বিশেষ কমলা রঙের চশমা ব্যবহার করেন, যা ঘরের কৃত্রিম নীল আলোর (Blue Light) ক্ষতিকারক প্রভাব কমিয়ে তাঁর শরীরে প্রাকৃতিক উপায়ে মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে সাহায্য করে।

আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঘুমানোর সময় তিনি মুখে একটি বিশেষ মেডিকেল টেপ ব্যবহার করেন, যাতে মুখ বন্ধ থাকে এবং নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার প্রাকৃতিক অভ্যাস বজায় থাকে। বিজ্ঞান বলে, এতে শরীরে অক্সিজেন গ্রহণ অনেক বেশি কার্যকর হয় এবং গভীর ঘুমের মধ্যে হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় থাকে। এছাড়া ঘুমানোর আগে ঘরের সব ধরনের ডিজিটাল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন তিনি।

কঠোর অনুশীলন ও ৫০ হাজার পাউন্ডের ক্রায়োথেরাপি

হালান্ডের শারীরিক শক্তির মূল ভিত্তি হলো গতি ও পেশির নমনীয়তা। তাঁর সাবেক ক্লাব রেড বুল সালসবুর্গের তৎকালীন কোচ স্ট্যানিস্লাভ ম্যাসেক জানিয়েছেন, কিশোর বয়সেই হালান্ডের দৈনিক রুটিনে ছিল ৩০০টি পুশ-আপ এবং ১ হাজারটি সিট-আপ। এর পাশাপাশি পাহাড়ি ঢালে তীব্র গতির স্প্রিন্ট এবং নিয়মিত যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন তাঁর শরীরকে করে তুলেছে ইস্পাত কঠিন। শুধু কঠোর অনুশীলনই নয়, ম্যাচের পর শরীর দ্রুত সতেজ করার (রিকভারি) প্রক্রিয়াতেও তিনি ঢেলেছেন কোটি টাকা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মিরর’-এর তথ্য অনুযায়ী, হালান্ড নিজের বাড়িতে প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৫ লাখ টাকা) ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক ‘ক্রায়োথেরাপি চেম্বার’ স্থাপন করেছেন। এই চেম্বারের চরম নিম্ন তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময় শরীরকে রাখার মাধ্যমে রক্তে ল্যাকটিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমানো, পেশির প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত ক্লান্তি দূর করা সম্ভব হয়, যা তাঁকে টানা উচ্চগতির ফুটবল খেলার পরও পুরোপুরি সতেজ রাখে।

মাঠের বাইরের স্পষ্টভাষী চরিত্র ও জ্লাতানের পরামর্শে লম্বা চুল

শারীরিক সক্ষমতার বাইরে মানসিক দিক থেকেও হালান্ড সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও স্পষ্টভাষী এক চরিত্র। সংবাদমাধ্যমের চর্বিতচর্বণ প্রশ্নের মুখে তিনি সবসময় সোজা সাপটা উত্তর দিতে পছন্দ করেন। যেমন ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর শেষ মুহূর্তের উইনিং গোল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি হেসে বলেন, “আমি তখন ভীষণ ক্লান্ত ছিলাম। ভাবলাম অতিরিক্ত সময়ে গেলে আরও আধঘণ্টা দৌড়াতে হবে, যা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই ভাবলাম ম্যাচটা এখনই শেষ করা দরকার এবং গোলটা করে দিলাম!”

মাঠে হালান্ডের আরেকটি ট্রেডমার্ক দৃশ্য হলো ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে মাথার চুলের বাঁধন পুরোপুরি খুলে দেওয়া। তাঁর এই লম্বা চুল রাখার পেছনেও জড়িয়ে আছে এক মজার কাহিনী। জেমস কর্ডেনের জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘After with James Corden’-এ হালান্ড জানান, সুইডিশ ফুটবল কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ একবার তাঁকে ডেকে বলেছিলেন, “কখনো নিজের চুল কাটবে না।

মনে রাখবে, একজন আসল স্ট্রাইকারের সব শক্তি লুকিয়ে থাকে তাঁর চুলেই।” হালান্ড হাসতে হাসতে বলেন, “জ্লাতান যখন নিজে আমাকে এই পরামর্শ দিয়েছেন, তখন আমার আর চুল কাটার কোনো উপায় আছে? তাঁর কথা তো শুনতেই হবে!” মাত্র ২৫ বছর বয়সেই আর্লিং হালান্ড আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞান, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, কঠোর শৃঙ্খলা ও দানবীয় পারফরম্যান্সের এক অভূতপূর্ব সমন্বয়ে নিজেকে বিশ্ব ফুটবলের একচ্ছত্র প্রতীকে পরিণত করেছেন।

/আশিক


আজকের ক্রীড়া সূচি, একদিনে তিন বড় লড়াই

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১১:০৩:৩০
আজকের ক্রীড়া সূচি, একদিনে তিন বড় লড়াই
ছবি : সংগৃহীত

ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য আজকের দিনটি হতে যাচ্ছে দারুণ ব্যস্ত। ক্রিকেট, ফুটবল এবং টেনিস তিনটি জনপ্রিয় খেলাতেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। দুপুরে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে সিরিজে মাঠে নামবে বাংলাদেশ, আর গভীর রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি পর্তুগাল ও স্পেন। পাশাপাশি চলবে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ টেনিস টুর্নামেন্ট উইম্বলডনের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচগুলো।

দিনের শুরুতেই ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর থাকবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে। নতুন সিরিজের শুরুতে জয় দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য থাকবে টাইগারদের, অন্যদিকে স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাইবে জিম্বাবুয়ে। ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে এবং সরাসরি সম্প্রচার করবে নাগরিক টিভি ও টি স্পোর্টস।

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও একটি উত্তেজনাপূর্ণ রাত। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পর্তুগাল ও স্পেন মুখোমুখি হবে এমন এক ম্যাচে, যাকে অনেকেই আগাম ফাইনাল বলেও অভিহিত করছেন। দুই ইউরোপীয় জায়ান্টের এই হাইভোল্টেজ লড়াই শুরু হবে রাত ১টায়। ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে বিটিভি, টি স্পোর্টস এবং সময় টিভিতে।

এরপর ভোরে মাঠে নামবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়াম। শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই দলের এই লড়াই শুরু হবে আগামীকাল সকাল ৬টায়। ম্যাচটিও সম্প্রচার করবে বিটিভি, টি স্পোর্টস এবং সময় টিভি।

টেনিসপ্রেমীদের জন্যও রয়েছে বড় আকর্ষণ। উইম্বলডন ২০২৬-এর চতুর্থ রাউন্ডের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো শুরু হবে বিকেল ৪টা থেকে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তারকাদের এই লড়াইগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ এবং স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২।

এক নজরে আজকের খেলার সূচি

ক্রিকেট

বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে (প্রথম ওয়ানডে)

সময়: দুপুর ১:৩০ মিনিট

সরাসরি: নাগরিক, টি স্পোর্টস

ফুটবল

পর্তুগাল বনাম স্পেন

সময়: রাত ১:০০টা

সরাসরি: বিটিভি, টি স্পোর্টস, সময়

যুক্তরাষ্ট্র বনাম বেলজিয়াম

সময়: আগামীকাল সকাল ৬:০০টা

সরাসরি: বিটিভি, টি স্পোর্টস, সময়

টেনিস

উইম্বলডন ২০২৬ (চতুর্থ রাউন্ড)

সময়: বিকেল ৪:০০টা

সরাসরি: স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও ২

ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন সিরিজের যাত্রা, বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল ম্যাচ এবং উইম্বলডনের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই সব মিলিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য আজকের দিনটি হতে যাচ্ছে রোমাঞ্চে ভরপুর।


মেক্সিকোর মাটিতে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ ঘিরে চরম উত্তেজনা, সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রশাসন

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ২০:২৫:১২
মেক্সিকোর মাটিতে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ ঘিরে চরম উত্তেজনা, সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রশাসন
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ রাতের দুটি বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া সূচি সংক্রান্ত সমস্ত জটিলতার অবসান ঘটেছে। বৈরি আবহাওয়া এবং সম্ভাব্য গোলযোগের আশঙ্কায় ম্যাচ দুটির সময় পরিবর্তনের জোর আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত পূর্ব নির্ধারিত সূচিই বহাল রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফলে কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়েই মাঠে গড়াচ্ছে ব্রাজিল-নরওয়ে এবং মেক্সিকো-ইংল্যান্ডের মধ্যকার শেষ ষোলোর লড়াই।

বিদ্যমান এবং অফিশিয়াল সূচি অনুযায়ী, আজ রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ২টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ফুটবল মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে, পরবর্তী ম্যাচের সময় পরিবর্তন করা হলে ব্রাজিলের ম্যাচের সময়সূচিতেও বড় ধরনের রদবদল আসতে পারে। তবে ফিফা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ম্যাচটি পূর্বের নির্ধারিত সময়েই শুরু হবে, যা ব্রাজিল ও নরওয়ে শিবিরের যাবতীয় অনিশ্চয়তা দূর করেছে।

এদিকে সূচি পরিবর্তনের মূল আলোচনাটি তৈরি হয়েছিল মূলত মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় মেক্সিকো ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে, যা বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৬টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মেক্সিকো সিটিতে ম্যাচের সময় তীব্র বজ্রঝড় ও মারাত্মক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার স্পষ্ট পূর্বাভাস থাকায় ফিফা কর্তৃপক্ষ মেক্সিকান ও ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় জরুরি বৈঠক করে।

দুর্যোগ এড়াতে ম্যাচটি ৬ ঘণ্টা এগিয়ে এনে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় শুরু করার একটি জোরালো প্রস্তাব টেবিলে ছিল। তবে দুই দলের লজিস্টিকস সাপোর্ট, সম্প্রচার স্বত্ব ও নানা কারিগরি জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব বাতিল করে সূচি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আবহাওয়ার চরম প্রতিকূলতার পাশাপাশি মেক্সিকান প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ ছিল স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক জননিরাপত্তা। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ম্যাচ মাঠে গড়াতে যদি কোনো বিলম্ব হয় এবং খেলা গভীর রাতে গড়ায়, তবে ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের বাইরে ফুটবল ভক্তদের মাঝে তীব্র বিশৃঙ্খলা বা বড় ধরনের দাঙ্গার আশঙ্কা করছিল দেশটির স্থানীয় সরকার।

এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো, চলমান বিশ্বকাপে মেক্সিকোর ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনায় ইতোমধ্যেই প্রাণহানির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর মাটিতে এটাই শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচের পর টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত বাকি সবকটি ম্যাচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

/আশিক


আজ রাতে ইতিহাস বদলানোর মিশনের আগেই বড় ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১৯:৫১:৩৯
আজ রাতে ইতিহাস বদলানোর মিশনের আগেই বড় ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। চোটের কবলে পড়ে আরলিং হালান্ডের দলের বিপক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে মাঠে নামতে পারছেন না সেলেসাওদের মাঝমাঠের অন্যতম প্রধান তারকা ও ভরসা লুকাস পাকেতা। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই দুঃসংবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় আজ রোববার দিবাগত রাত ২টায় নিউইয়র্কের নিউজার্সির ঐতিহ্যবাহী মেটলাইফ স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার এই মহালড়াইতে নামবে দুই দল। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হ্যামস্ট্রিংয়ের গুরুতর চোটের কারণে নরওয়ে ম্যাচ থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে গেছেন পাকেতা। নকআউটের মতো জীবন-মরণ ম্যাচে মাঝমাঠের এই নির্ভরযোগ্য ফুটবলারকে হারানো কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলের জন্য নিঃসন্দেহে অনেক বড় একটি মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত ধাক্কা।

লুকাস পাকেতা ঠিক কবে নাগাদ পুনরায় মাঠে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি। তবে সিবিএফের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হ্যামস্ট্রিং চোটের যে অবস্থা, তাতে ব্রাজিল যদি শেষ পর্যন্ত এই বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে না পারে, তবে পাকেতার চলতি বিশ্বকাপে আর মাঠে নামার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

এর আগে সেরা ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছিল সেলেসাওরা। সেই ম্যাচে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের সঙ্গে মাঝমাঠের শুরুর একাদশেই (স্টার্টিং লাইনআপ) ছিলেন পাকেতা। কিন্তু ম্যাচ চলাকালীন হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় প্রথমার্ধ শেষেই বিরতির পর আর মাঠে নামা হয়নি তাঁর। বর্তমানে তিনি চোট কাটিয়ে ওঠার জন্য দলের চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পাকেতার এই আকস্মিক অনুপস্থিতিতে মাঝমাঠের শূন্যতা পূরণে কোচ কার্লো আনচেলত্তির সামনে অবশ্য একাধিক বিকল্প খেলোয়াড় ও কৌশলগত পথ খোলা রয়েছে। পাকেতার নির্দিষ্ট পজিশনে তিনি সরাসরি দানিলো সান্তোসকে দলে ভেতাতে পারেন। আবার মাঝমাঠের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনে আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে শুরুর একাদশে এন্দ্রিক অথবা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো তরুণ ও গতিময় খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করে আরও বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার ছক কষতে পারেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড।

এদিকে ব্রাজিল শিবিরের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, ঊরুর চোট কাটিয়ে বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে চোট পাওয়ার পর থেকেই মাঠের বাইরে থাকা এই তারকা বর্তমানে মূল দলের বাইরে এককভাবে ব্যক্তিগত অনুশীলন বা রিহ্যাব চালিয়ে যাচ্ছেন। নরওয়ে ম্যাচের আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হলে আনচেলত্তি তাঁকে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য বদলি বেঞ্চে (সাবস্টিটিউট) রাখতে পারেন বলে দলের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

/আশিক


ওসলো থেকে মার্সেই: নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়হীন থাকার চার ঐতিহাসিক কারণ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১৮:৫০:০০
ওসলো থেকে মার্সেই: নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়হীন থাকার চার ঐতিহাসিক কারণ
ছবি : সংগৃহীত

লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি ও বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জন্য নরওয়ে নামটি এক চিরন্তন রহস্য ও অস্বস্তির কারণ। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক অমীমাংসিত সমীকরণ হলো, বিশ্বমঞ্চ কাঁপানো সেলেসাওরা আন্তর্জাতিক ফুটবলে আজ পর্যন্ত কোনো দিন নরওয়েকে হারাতে পারেনি। এই দুই দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিগত চারবারের লড়াইয়ে নরওয়ে জিতেছে দুটিতে এবং বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ রাতে সেই দুই দশকের পুরোনো ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার লক্ষ্যেই মাঠে নামছে ব্রাজিল।

এই দ্বৈরথের ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর প্রথম অধ্যায়টি লেখা হয়েছিল ১৯৮৮ সালে ওসলোর এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। তখনকার কোচ কার্লোস আলবার্তো সিলভার অধীনে ব্রাজিল যখন নতুন করে নিজেদের দল গোছাচ্ছিল, তখন নরওয়ে ছিল বিশ্ব ফুটবলে নিতান্তই গড়পড়তা একটি দল। সেই ম্যাচে কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোমারিওর গোলে ব্রাজিল প্রথমে লিড নিলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের ভুলে ম্যাচটি ১-১ গোলের ড্রতে রূপ নেয়।

এর প্রায় এক দশক পর ১৯৯৭ সালে মারিও জাগালোর অধীনে রোনালদো ও রোমারিওদের মতো তারকাখচিত পূর্ণ শক্তির ব্রাজিল দল আবার ওসলো সফরে যায়। ফুটবলপ্রেমীরা যখন ব্রাজিলের একচেটিয়া জয়ের অপেক্ষা করছিলেন, তখন সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে স্বাগতিক নরওয়ে ৪-২ ব্যবধানে ব্রাজিলকে বিধ্বস্ত করে। নরওয়ের পক্ষে টোরে আন্দ্রে ফ্লো জোড়া গোল করেন এবং ইয়াকবসেন ও ওস্টেনস্টাড গোল উৎসবে যোগ দেন। ব্রাজিলের হয়ে ডেনিলসন ও রোমারিও জালের দেখা পেলেও নড়বড়ে রক্ষণভাগের কারণে সেলেসাওরা সেই বড় পরাজয় এড়াতে পারেনি।

এই ঐতিহাসিক দ্বৈরথের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর এবং নাটকীয় অধ্যায়টি রচিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। মার্সেইর স্টেড ভেলোড্রমে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ব্রাজিল ততক্ষণে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলেছিল। তবুও কোচ জাগালো মাঠে নামিয়েছিলেন রোনালদো, রিভালদো ও বেবেতোর মতো বিশ্বসেরা তারকাদের। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে নরওয়ের জন্য এই ম্যাচে জয় পাওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।

ম্যাচের ৭৭ মিনিটে ডেনিলসনের চমৎকার এক ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন বেবেতো। তবে ব্রাজিলিয়ানদের সেই অগ্রগামিতার আনন্দ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৬ মিনিট, যখন টোরে আন্দ্রে ফ্লো নরওয়ের হয়ে সমতা ফেরান। ম্যাচের আসল নাটকটি মঞ্চস্থ হয় ৮৯ মিনিটে, যখন বক্সের ভেতর ব্রাজিলের জুনিয়র বাইয়ানো ফ্লোর জার্সি টেনে ধরলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে কেতিল রেকডাল গোল করে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানের এক ঐতিহাসিক ও অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপের ঠিক পরপরই। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ দুঙ্গার অধীনে একঝাঁক নতুন মুখ নিয়ে সেলেসাওরা আবার ওসলো সফরে গেলেও তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সেই প্রীতি ম্যাচে ড্যানিয়েল কারভালহো ব্রাজিলের হয়ে গোল করলেও মর্টেন গ্যামস্ট পেডারসেনের গোলে ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়। এরপর দীর্ঘ ২০ বছর এই দুই দল আর কখনো কোনো স্তরে মুখোমুখি হয়নি। ফলে আজ রাতের শেষ ষোলোর লড়াই ব্রাজিলের জন্য যেমন ইতিহাস বদলানোর অগ্নিপরীক্ষা, তেমনি নরওয়ের জন্য তাদের সেই অজেয় রূপকথা ধরে রাখার মহাসুযোগ।

/আশিক


নরওয়ের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন? জানালেন আনচেলত্তি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১১:১৫:০৮
নরওয়ের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন? জানালেন আনচেলত্তি
ছবি : সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে আজ রোববার (৫ জুলাই) গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে সেলেসাওরা। ম্যাচটি ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিনি কি অবশেষে প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন—এ প্রশ্নই এখন ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।

৩৪ বছর বয়সী নেইমারের এবারের বিশ্বকাপ এখন পর্যন্ত প্রত্যাশামতো কাটেনি। গ্রুপপর্বে মরক্কোর বিপক্ষে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে ছিলেন তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে শেষ ১৪ মিনিট মাঠে নামলেও হাইতির বিপক্ষে ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি। পরে জাপানের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচেও তাকে মাঠে নামানো হয়নি। ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের ফিটনেস ও সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, নেইমার এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একসঙ্গে খেলতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে দুজনকে একসঙ্গেই মাঠে দেখা যাবে। কোচের ভাষায়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নেইমার এখন পুরোপুরি খেলতে প্রস্তুত। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রয়োজন হলে ৯০ মিনিটও খেলতে পারবেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।

তবে আনচেলত্তি স্পষ্ট করে জানাননি যে নরওয়ের বিপক্ষে শুরুর একাদশেই থাকবেন নেইমার। বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের আগেও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও জাপানের বিপক্ষে নেইমারের ভূমিকা সীমিত ছিল। এ কারণে কোচের সর্বশেষ মন্তব্য নিয়েও কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে ব্রাজিলের একাধিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের দাবি, নরওয়ের বিপক্ষে শুরুর একাদশেই দেখা যেতে পারে নেইমারকে। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেইমারের ছবি প্রকাশ করে লিখেছে, "টিক-টক... ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াই চলে এসেছে।" অনেকেই এটিকে নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।

আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন, টানা বেঞ্চে বসে থাকতে নেইমার মোটেও সন্তুষ্ট নন। তবে তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগত হতাশা থাকা সত্ত্বেও নেইমার দারুণ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিচ্ছেন। নিয়মিত অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রম করছেন, সতীর্থদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখছেন এবং দলের পরিবেশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কোচের মতে, একজন ফুটবলার হিসেবে যেমন নেইমারের গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি ব্যক্তিত্বের কারণেও তিনি দলের জন্য মূল্যবান সম্পদ।

নেইমারের মানসিকতা নিয়েও সন্তুষ্ট আনচেলত্তি। তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি ফুটবলার মাঠে নামতে চায় এবং নেইমারও এর ব্যতিক্রম নন। তবে তিনি কখনোই অতিরিক্ত সময় বা সুযোগ দাবি করেননি। বরং ধৈর্য ধরে নিজের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। কোচের ভাষায়, কোনো খেলোয়াড় বেঞ্চে বসে সুখী থাকতে পারে না, আর সেটাই স্বাভাবিক।

নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের মূল চ্যালেঞ্জ হবে ইউরোপের অন্যতম সেরা গোলদাতা আর্লিং হালান্ডকে সামলানো। তবে আনচেলত্তি জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি নিজের দলের আক্রমণভাগকে আরও কার্যকর করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ব্রুনো গিমারাইস, রদ্রিগো ও ক্যাসেমিরোকে ঘিরেই ব্রাজিলের কৌশল সাজানো হচ্ছে। তবে ম্যাচ কঠিন হয়ে উঠলে নেইমার হতে পারেন ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেওয়া ফুটবলার।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: