জাকসু নির্বাচন
জাকসু ভোট গণনায় ট্র্যাজেডি: দায়িত্ব পালনে এসে সহকারী অধ্যাপকের মৃত্যু

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোট গণনার সময় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে সিনেট ভবনের তৃতীয় তলায় গণনার কক্ষের সামনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস (৩১)। দ্রুত তাঁকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত্যুর ঘোষণা দেন।
দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনা
জান্নাতুল ফেরদৌস জাকসু নির্বাচনে প্রীতিলতা হলের পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বৃহস্পতিবার দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বাসায় ফেরার পর শুক্রবার সকালে তিনি আবারও ভোট গণনার কাজে যোগ দিতে আসেন। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে আটটার মধ্যে সিনেট ভবনে পৌঁছে ভোট গণনার কক্ষের দরজার সামনেই হঠাৎ পড়ে যান তিনি।
চারুকলা বিভাগের সভাপতি শামীম রেজা জানান, তিনি নিজে প্রীতিলতা হলে রিটার্নিং অফিসার ছিলেন। জান্নাতুল গণনার কাজের জন্য এসেছিলেন তাঁর আহ্বানে। তবে অপ্রত্যাশিতভাবে সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় সবাই হতবাক হয়ে পড়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ভোটগ্রহণের দিন রাতভর কর্মব্যস্ততার কারণে সব হলে একসঙ্গে গণনা করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার সকালে প্রীতিলতা হলের গণনা চলছিল। সে সময়েই এ ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, “আমাদের সবাই শোকে আচ্ছন্ন। তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”
পরিবেশে শোকের ছায়া
জান্নাতুল ফেরদৌসের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে সিনেট ভবনের গণনাকক্ষে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। কমিশনার রেজোয়ানা করিম স্নিগ্ধা মাইকে উপস্থিত সবার কাছে মরহুম শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করার আহ্বান জানান এবং জানান, প্রীতিলতা হলের ভোট গণনা দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় এক তরুণ শিক্ষকের মৃত্যু পুরো বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়কে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জান্নাতুল ফেরদৌসের পরিবারকে সমবেদনা জানানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ ভেন্যুতে বিশ্বকাপের খেলা সম্প্রচার সাময়িক বন্ধ
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে আকস্মিক বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র বৃষ্টিপাতের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে বড় পর্দায় ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের বহুল প্রতীক্ষিত শেষ ষোলোর হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি ঢাবির নির্ধারিত কোনো ভেন্যুতেই জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে না। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বকাপ সম্প্রচার আয়োজকদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে দর্শকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আজকের সব আয়োজন স্থগিতের এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া সাপেক্ষে আগামী বুধবার থেকে আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পাঁচটি ভেন্যুতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালসহ পরবর্তী সব ম্যাচ বড় পর্দায় সফলভাবে সম্প্রচার করা হবে। এ বিষয়ে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মো. সাইফ উল্লাহ লিখেন, ‘যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় উদ্যোগে ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সার্বিক সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ৫টি ভেন্যুতে (টিএসসি, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল খেলার মাঠ, কবি জসীমউদদীন হল খেলার মাঠ, জগন্নাথ হল উপাসনালয় ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল খেলার মাঠ) অ্যাথলেট স্পোর্টস গিয়ার কর্তৃক বড়পর্দায় ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার আজ ৭ জুলাই বৈরী আবহাওয়াজনিত কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।’ আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আগামীকাল থেকেই পুনরায় প্রতিটি ম্যাচ দেখানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জায়ান্ট স্ক্রিন স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাথলেট স্পোর্টস গিয়ার’-এর সিইও মো. সেজান মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, বিশ্বকাপ ঘিরে ঢাবি শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শকদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা আমাদের দারুণভাবে উৎসাহিত করেছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় দর্শকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও কারিগরি ত্রুটি এড়ানোর স্বার্থে কোনো আপস না করে সাময়িকভাবে আজকের আয়োজন বন্ধ রাখার যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে টিএসসি, মুহসীন হল মাঠসহ ঢাবির বিভিন্ন ভেন্যুতে বড় পর্দায় বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ও উন্মাদনা দেখা যায়। তবে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার কারণে আজকের মেগা ম্যাচটির সম্প্রচার স্থগিত হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, বন্ধুদের সঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাবি ক্যাম্পাসে খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। তবে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির মধ্যে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আয়োজকদের এই সাময়িক স্থগিতের সিদ্ধান্তকে তারা সাধুবাদ জানাচ্ছেন। এদিকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সবাইকে বৈরী আবহাওয়ায় সতর্ক থাকার এবং অপ্রয়োজনে হলের বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
/আশিক
ষড়ঋতুর পালাবদলে নতুন সাজে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
লালমাটির কোল ঘেঁষে গড়ে উঠা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা এবং প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মিলনকেন্দ্র। এখানে প্রতিবছর ছয়টি ঋতু নানানরূপে ধরা দেয়, যা ক্যাম্পাসটিকে করে তুলে আরো প্রাণবন্ত, মনোমুগ্ধকর। এর ফলে এখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয় পড়াশোনার এক মনোরম পরিবেশ।
গ্রীষ্মঃ রৌদ্রজ্জ্বল কর্মচঞ্চল কুবি
গ্রীষ্মের রোদ ঝলমলে ক্যাম্পাসে সবুজ গাছপালা গুলো যেন উজ্জ্বল আলোয় ঝলমল করে উঠে। ক্যাম্পাসের চারপাশে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে। ক্যাম্পাসের গাছে গাছে দেখা যায় নানান ফল যেমনঃ আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, ইত্যাদি। সেই সাথে সকালের ক্লাস, কুবির কেন্দ্রীয় মাঠের খেলাধুলার আনন্দ, লাইব্রেরির নিঃশব্দ অধ্যয়ন, আর রঙিন ফুলের ছোঁয়া দিনের শুরুকে করে তোলে কর্মমুখর ও প্রাণবন্ত। একাডেমিক ভবন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মাঠ পর্যন্ত প্রতিটি স্থানেই গ্রীষ্মের এই উজ্জ্বলতা আর কর্মমুখরতার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে।
.jpeg)
বর্ষাঃ বৃষ্টিস্নাত কুবি
বর্ষার আগমন যেন কুবি ক্যাম্পাসে সজীবতার বার্তা নিয়ে আসে। কখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আবার কখনো মুষলধারার বৃষ্টিপাতে ক্যাম্পাস হয়ে উঠে আরো প্রাণবন্ত ও সবুজ। কখনো কখনো ফ্যাকাল্টির উপর বৃষ্টি যেন ঝাপটে পরে। বৃষ্টির এই অঝোর ধারা দেখলে মনে হয় পাহাড়ি ঝরণার মতো জলধারা নেমে এসেছে।এছাড়াও ছাতা মাথায় দিয়ে শিক্ষার্থীদের পদচারণা আর ভেজা লাল মাটির ঘ্রাণে বৃষ্টিস্নাত ক্যাম্পাসকে এক প্রাণচঞ্চল পরিবেশ বিরাজ করে।

শরৎঃ কাশফুলের শুভ্রতা মোড়ানো কুবি
শরতের আগমনে কুবির নীল আকাশে যেন সাদা মেঘের ভেলার দেখা মেলে। সেই সাথে সাদা কাশফুলের শুভ্রতার দোলা লাগে স্নিগ্ধ ক্যাম্পাসে। শিক্ষক, শিক্ষার্থীর পাশাপাশি বিভিন্ন দর্শনার্থীরাও এই সময় কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসে ক্যাম্পাসে। সবমিলিয়ে শরতের ছোঁয়ায় লালমাটির ক্যাম্পাসটি হয়ে উঠে আরো স্নিগ্ধ ও সুন্দর।

হেমন্তঃ নবান্ন উৎসবে উৎসবমুখর কুবি
হেমন্তে কুবির ক্যাম্পাসে অন্যতম আকর্ষণ হলো নবান্ন উৎসব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, সংগঠন গুলো হেমন্ত ঋতুকে স্বাগত জানাতেই মূলত নবান্ন উৎসবের আয়োজন করে থাকে। এই উৎসবে কুবির শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। সকলের এই উপস্থিতি ক্যাম্পাসে এক আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করে।

শীতঃ কুয়াচ্ছন্ন কুবি
শীত মানেই শিশির ভেজা পথ আর কুয়াচ্ছন্ন সকাল। শীতের এই সময়ে কুবি এক নতুন রূপে সেজে উঠে। শিশির আর কুয়াশায় পরিপূর্ণ হয়ে থাকে সমগ্র ক্যাম্পাস। শীতের শুরুতেই যখন ক্যাম্পাসের গাছগুলোর সবুজ পাতাগুলো ঝরে পড়া শুরু করে আর ক্যাম্পাসের চারপাশ শিউলি ফুলের ঘ্রাণে সুশোভিত হয়। শীতের সকালে শিক্ষার্থীদের আড্ডা জমে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় এক কাপ চা অথবা কফি হাতে। শীতের এই সময়ে বিভিন্ন বিভাগ কর্তৃক পিঠা উৎসব, বারবিকিউ পার্টি, কালচারাল উইক, কার্নিভাল, চড়ুইভাতির আয়োজন করা হয়। অর্থাৎ শীতকালেও কুবিতে এক উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

বসন্তঃ বর্ণিল সাজে কুবি
বসন্তের শুরুতেই ক্যাম্পাসের প্রতিটি গাছে নতুন পাতা গজায়। গোলাপ, ডালিয়া, গাঁদা, ক্যাসিয়া জাভানিকা, কৃষ্ণচূড়া ইত্যাদি নানান ফুল কুবির শোভাবর্ধন করে।বসন্তকে বরণ করে নিতেই বসন্তবরণ উৎসব উদযাপিত হয়। ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণা বর্ণিল সাজে সেজে উঠে। সব মিলেমিশে বসন্তেও কুবিতে নানান রঙের দোলা লাগে।
কুবি ক্যাম্পাসের ষড় ঋতুর পালাবদল কেবল নৈসর্গিক সৌন্দর্যই নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের মন ও সৃজনশীলতাকে উজ্জ্বীবিত করে। ষড় ঋতুর আগমনে কুবিও সেজে উঠে রঙিন সাজে। গ্রীষ্ম, বর্ষা বা শীত
বছরের ছয়টি ঋতুতেই প্রকৃতির ছোঁয়া আর শিক্ষার্থীদের বর্ণিল আয়োজনে লালমাটির এই ক্যাম্পাসকে করো তোলে আরো প্রাণবন্ত এবং আনন্দময়।
লেখকঃ শিক্ষার্থী, জান্নাতুল ফেরদৌস প্রীতি,
লোকপ্রশাসন বিভাগ,
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
উইলস লিটল ফ্লাওয়ারে বিচারপতির বিরুদ্ধে শিক্ষক হেনস্তার অভিযোগ: আইনমন্ত্রী যা বললেন
রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাম্প্রতিক উত্তাল পরিস্থিতি এবং একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা শিক্ষক হেনস্তার অভিযোগ দেশের বিচারিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল দশম শ্রেণির একটি পদার্থবিজ্ঞান ক্লাসে এক শিক্ষার্থীর অশোভন আচরণ এবং তার প্রেক্ষিতে শিক্ষকের চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংকটের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক, যিনি একজন উচ্চপদস্থ বিচারপতি, পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ওই শিক্ষককে নিজ বাসভবনে ডেকে নিয়ে চরমভাবে অপমান ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে রাজপথের বিক্ষোভ এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি পেশ পর্যন্ত গড়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে, যেখানে অনেকেই একজন বিচারপতির এমন ব্যক্তিগত আচরণকে পদের অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
শনিবার ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সাংবাদিকরা যখন বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ আছে কি না জানতে চান, তখন মন্ত্রী সরাসরি জানান যে এই বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে যদি সদাচারণ বহির্ভূত বা 'মিসকন্ডাক্ট'-এর অভিযোগ আসে, তবে সেটি তদন্ত ও বিচার করার দায়িত্ব কেবল 'সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল'-এর। দেশের সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকার বা নির্বাহী বিভাগ এ ধরনের বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না। আইনমন্ত্রীর এই মন্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, অভিযুক্ত বিচারপতির বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কাঠামোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের এই ঘটনাটি কেবল একটি একক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় পদের নৈতিক সীমা এবং শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার এক বৃহত্তর প্রশ্নে রূপ নিয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাসরুমের একটি সাধারণ শৃঙ্খলাজনিত বিষয়কে যেভাবে বিচারপতির বাসভবন পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক দাবি করেছেন যে, ১৮ এপ্রিল তাকে সমঝোতার কথা বলে ডেকে নিয়ে চরম মানসিক চাপের মুখে ফেলা হয়। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে যাতে বিচারিক পদের মর্যাদা ব্যবহার করে কেউ সাধারণ নাগরিক বা শিক্ষকদের ওপর অন্যায় প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। আইনমন্ত্রীর স্বচ্ছ বক্তব্যের পর এখন জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে যে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এই অভিযোগটি আমলে নিয়ে কোনো দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত শুরু করবে কি না।
উল্লেখ্য যে, ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে মূলত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই গবেষণাটি বিচার ব্যবস্থার সংষ্কার ও প্রতিবন্ধকতা নিরসনের উপায় নিয়ে আলোকপাত করে। তবে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান যখন বিচারিক প্রক্রিয়ার উৎকর্ষ নিয়ে কথা বলছিলেন, তখনই উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের এই চাঞ্চল্যকর ইস্যুটি সামনে চলে আসে। বর্তমানে বিষয়টি দেশের সচেতন মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যেখানে একদিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আত্মসম্মান ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা সমান্তরালভাবে আলোচিত হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই বিতর্কের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে।
ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা পেরিয়ে ঈদের ছুটিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার আনন্দ
.png)
জান্নাতুল ফেরদৌস প্রীতি
স্টাফ রিপোর্টার
ঈদের ছুটি মানেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনন্য অনুভূতি।রোজার বেশিরভাগ সময়টাই তাদের কেটে যায় ক্লাস, টিউশন ইত্যাদি নানান ব্যস্ততায়। এই ব্যস্ততার মাঝেওএই ব্যস্ততার মাঝেও তাদের মনটা অপেক্ষা করে থাকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার।এছাড়াও অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এই ঈদে থাকে নিজের টাকায় শপিং করার নতুন অভিজ্ঞতা যা ঈদের আনন্দকে আরো দ্বিগুণ করে তোলে।আর এই অনুভূতিগুলোই কুবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৭ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মোরসালিনা আক্তার মুনতাহা বলেন, "রোজার বেশিরভাগ সময়টাই কেটেছে ক্যাম্পাসে ক্লাস, টিউশন, ইফতার আয়োজন আর পড়াশোনার ব্যস্ততায়। সেই ছুটোছুটির পর যখন বাড়ি ফিরলাম, পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে, মনে হলো যেন ঈদের আগেই আরেকটা ঈদ পেয়ে গেছি।বাড়িতে সবার সঙ্গে ইফতার করা, সেহেরি খাওয়া আর মাকে কাজে সাহায্য করার মধ্যেই অন্যরকম শান্তি—পরিবার যেন সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। নিজের টাকায় শপিং করে মা আর ছোট বোনের জন্য উপহার কিনতে পারাটাও ভীষণ ভালো লাগছে, এটা যেন দায়িত্ব আর ভালোবাসার প্রকাশ।ক্যাম্পাসের রুটিনভরা জীবনের তুলনায় এখন সময় কাটছে পরিবারের সঙ্গে, আনন্দ আর প্রস্তুতিতে। যদিও ব্যস্ততা আছে—ঘর সাজানো, রান্নার পরিকল্পনা, চাঁদ রাতের আয়োজন, সালামির হিসাব—তবুও এই ব্যস্ততাটা অনেক বেশি আনন্দের।সব মিলিয়ে, বাড়ি ফেরার আনন্দ সত্যিই যেন দ্বিগুণ হয়ে গেছে।"
পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৮ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী, সিফাতুল্লাহ মুমিন বলেন, "ঈদের আনন্দ যেন দিন দিন আমাদের মাঝ থেকে কিছুটা হারিয়ে যাচ্ছে—এটা সত্যিই কষ্টের। শহরে ক্যাম্পাস জীবনে ক্লাস, টিউশন, মেসের ঝামেলা, ঠিকমতো খাওয়া না হওয়া—সব মিলিয়ে দিনগুলো অনেক সময়ই কষ্টের হয়ে ওঠে। তবে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরে সেই ব্যস্ততা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়, কষ্ট কমে—আর সেই স্বস্তিই ঈদের আনন্দকে দ্বিগুণ করে তোলে।নিজের টাকায় শপিং করা প্রতিটি ছেলেরই এক ধরনের স্বপ্ন। নিজের জন্য কেনার পাশাপাশি বাবা-মা, ভাই-বোনের জন্য কিছু কিনতে পারা—এটা শুধু আনন্দই নয়, বরং স্বাবলম্বী হওয়ার এক গভীর তৃপ্তি। আগে যখন নিজের আয় ছিল না, তখন শপিংয়ের জন্য বাবার উপর নির্ভর করতে হতো, আর তাঁর মুখের চিন্তার রেখাগুলো কষ্ট দিত। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।ক্যাম্পাস জীবনের শুরুটা যতটা রঙিন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকের কাছেই তা কিছুটা একঘেয়ে হয়ে ওঠে। পড়াশোনার চাপ, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে এক ধরনের ক্লান্তি তৈরি হয়। এই ব্যস্ততা আর বিরক্তি থেকে কিছুটা দূরে সরে, বাড়িতে এসে শান্তিতে ঘুমানো এবং কিছু সময়ের জন্য সবকিছু থেকে মুক্ত থাকা—এটাই এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তি।তবে এই বিরতিটা দীর্ঘ না হয়ে স্বল্প সময়ের হলে তবেই তার আসল আনন্দ থাকে। জীবনের এই ছোট ছোট বিরতিগুলোই মানুষকে নতুন করে শক্তি জোগায়"। গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৮ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আনিকা ইসলাম সুমাইয়া বলেন, "ক্যাম্পাসের ব্যস্ততায় এবারের রোজার দিনগুলো বেশ অন্যরকম কেটেছে। বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার, তারাবির নামাজ আর রাত জেগে পড়াশোনা—সব মিলিয়ে সময়টা এক অদ্ভুত মায়ায় ঢাকা ছিল। তবে দিনশেষে মন পড়ে থাকত বাড়িতে। তাই সব ব্যস্ততা একপাশে সরিয়ে যখন বাড়ির পথে রওনা দিলাম, মনে হচ্ছিল এক বিশাল প্রশান্তি ফিরে পেয়েছি। পরিবারের সঙ্গে চিরচেনা ডাইনিং টেবিলে বসে ইফতার করা আর মা-বাবার হাসিমুখ দেখা—এই আনন্দের কাছে ক্যাম্পাসের সব ক্লান্তি নিমিষেই ধুয়ে গেছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ যেন শিকড়ে ফেরার এক পরম পাওয়া।
নিজের উপার্জনের টাকায় প্রথম শপিং করার অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এটা শুধু কিছু জামাকাপড় কেনা নয়, বরং আত্মনির্ভরশীলতার এক বড় প্রমাণ। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের হাত ধরে শপিংয়ে যাওয়া, আর এখন নিজের জমানো টাকায় তাঁদের জন্য এবং নিজের জন্য পছন্দের জিনিস কেনা—এই পরিবর্তনের মধ্যেই এক অদ্ভুত গর্ব আর তৃপ্তি কাজ করে। নিজের সামর্থ্যে প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর আনন্দ—এটাই সবচেয়ে মূল্যবান।ক্যাম্পাসের জীবন যেখানে ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন আর সময়ের সঙ্গে দৌড়ের মধ্যে আবদ্ধ, সেখানে প্রতিটি মুহূর্তই ছিল হিসেব করা। আর এখনকার সময়টা একেবারেই ভিন্ন—কোনো ডেডলাইনের চাপ নেই, নেই সকালের ক্লাসে যাওয়ার তাড়া। এই ভারমুক্ত সময়টুকুই যেন ঈদের আসল আনন্দকে আরও গভীর করে তুলেছে।"
গণিত বিভাগের ১৮ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো.শরিফুল আলম বিজয় বলেন,"রোজার বেশিরভাগ সময় ক্যাম্পাসে কাটানোটা একাডেমিক ব্যস্ততার মাঝেও ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা ছিল। সারাদিন রোজা রেখে ক্লাস, টিউশন আর বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার—সব মিলিয়ে সময়টা দ্রুত কেটেছে। ইফতারের পর ক্যাম্পাসের শীতল হাওয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে বের হলে সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যেত, মনে হতো ক্যাম্পাসেও যেন আরেকটি পরিবার আছে।তবে সব ব্যস্ততা শেষে পরিবারের কাছে ফিরে আসার মধ্যে আলাদা শান্তি আছে। মনে হয়, আসল ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গেই। এখানে নেই ক্লাস বা টিউশনের চাপ—শুধু একসঙ্গে সময় কাটানো আর ইবাদতের সুযোগ, যা ক্যাম্পাসে অনেক সময় মিস হয়ে যেত।ঈদে বাড়িতে আসার সবচেয়ে ভালো দিক হলো নিজের উপার্জনের টাকায় বাবা-মা ও ভাই-বোনদের জন্য শপিং করা। এতে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি কাজ করে—নিজের দায়িত্ব নিজে নেওয়ার আনন্দ, ছোট জিনিসেও বড় অর্জনের অনুভূতি।
ক্যাম্পাসের ব্যস্ত জীবনের বিপরীতে এখন সময় কাটছে শান্তভাবে—পরিবারের সঙ্গে গল্প, কাজে সাহায্য আর একসঙ্গে খাওয়ার মধ্যে। আগে সময় দ্রুত কেটে যেত, এখন সেই সময়টাকে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছি।"
পরিশেষে বলা যায়, ক্যাম্পাসের সকল ব্যস্ততার মাঝেই ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়া, নিজের উপার্জনের টাকায় পরিবারের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো ইত্যাদি সত্যিকার অর্থেই ভালোলাগার বিষয়।যা কুবি শিক্ষার্থীদের মনেও আনন্দের খোরাক জাগায়।
রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও বিচার দাবি করল জুলাই ঐক্য
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনকে সংবিধান লঙ্ঘন ও গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদের মাধ্যমে অভিশংসন করে পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’ নামে একটি সংগঠন। একই সঙ্গে তাকে গণহত্যার সহযোগী হিসেবে বিচারের আওতায় আনার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক ফাহিম ফারুকী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে সংসদের মাধ্যমে অভিশংসন করা সম্ভব। তাদের দাবি, রাষ্ট্রপতি তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংবিধানের শপথ ভঙ্গ করেছেন।
ফাহিম ফারুকীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এই ভাষণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপিকে দুটি শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা জুলাই সনদের শপথ গ্রহণ করেনি।
পরিবর্তে সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের আয়োজন করা হয়েছে বলে দাবি করে সংগঠনটি।
জুলাই ঐক্যের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে।
তাদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা হলে এর রাজনৈতিক পরিণতি গুরুতর হতে পারে।
সংগঠনটির অভিযোগ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি একাধিকবার শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন।
ফাহিম ফারুকী বলেন, রাষ্ট্রপতি দাবি করেছিলেন যে ২০২৪ সালের অক্টোবরে জুলাই ঐক্য বঙ্গভবন ঘেরাও করতে গিয়েছিল।
কিন্তু সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, জুলাই ঐক্যের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০২৫ সালের মে মাসে, ফলে ওই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সংবাদ সম্মেলনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের যেসব সদস্য এখনো শপথ নেননি, তাদের দ্রুত শপথ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠনকে সক্রিয় ও সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানায় জুলাই ঐক্য।
সংগঠনটি ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত দেশজুড়ে সংগঠন সংগ্রহ কার্যক্রম চালানো হবে, যার মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করা হবে।
-রফিক
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাবির নতুন সিদ্ধান্ত
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সাময়িকভাবে সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী সোমবার (৯ মার্চ) থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
রোববার (৮ মার্চ) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এই সভা আহ্বান করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সিন্ডিকেট ম্যানেজমেন্ট টিম (এসএমটি)-এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে পাঠানো নির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে ৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এর ফলে এই সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা এবং অন্যান্য শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক কাজকর্ম পুরোপুরি স্থগিত করা হয়নি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসমূহ স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা থাকবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ৯ মার্চের পর অফিস কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, প্রশাসনিক বিভাগগুলো খোলা থাকবে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং জাতীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের বাড়ি যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের চাপও কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে।
তারা মনে করেন, ছুটির সময়সূচি আগাম ঘোষণা করা হলে শিক্ষার্থীরা তাদের ভ্রমণ ও ব্যক্তিগত পরিকল্পনা আরও সহজে সমন্বয় করতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্যও সুবিধাজনক।
-রাফসান
কলঙ্কময় রাত থেকে রক্ষা পেল ঢাবি: মিত্র চাকমা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এক পথশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টাকালে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম হলসংলগ্ন ফুটপাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনাকে একটি কলঙ্কময় রাত আখ্যা দিয়ে বুধবার (৪ মার্চ) রাতে একটি পোস্ট দিয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা।
তিনি পোস্টে লেখেন, ‘এক কলঙ্কময় রাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।’
‘মাহবুবুর রহমান, কাজ করেন পার্শ্ববর্তী পলাশী মার্কেটে, দুধ সাপ্লাইয়ের কাজ করেন। আজ রাতে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পার্শ্ববর্তী ফুটপাতে এক পথশিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় হাতেনাতে ধরা পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের হাতে।’
‘সিভিল সোসাইটির শর্তানুযায়ী কোনো ধরনের শারীরিক আঘাত ছাড়াই তাকে শাহবাগ থানায় আনা হয়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা আমাকে ফোন দিয়ে জানায় এবং তৎক্ষণাৎ থানায় যাই। অভিযুক্ত তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে। তিনি জানান, শয়তানের প্ররোচনায় তিনি এ কাজ করেছেন। তিনি জানেন না তিনি কীভাবে এ কাজ করতে গিয়েছিলেন।’
‘বাচ্চা শিশুটার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছি। সাধারণত ধর্ষণ চেষ্টায় খুব একটা সিগ্নিফিকেন্ট প্রমাণাদি থাকে না। কৌশলে জিজ্ঞেস করলে সে মোটামুটি স্বীকার করে, কিন্তু এটা কনক্রিট কোনো প্রমাণ না। মামলার খরচ চালানো, আইনি জটিলতা ইত্যাদির কারণে মামলার বাদী হিসেবে কেউ থাকতে না চাওয়ায় মামলা না দিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।’
‘যারা কথায় কথায় আইনের দোহাই দেন, এবার একটু চোখ খুলুন। দেখুন, আমি আইনের বাইরে যেতে পারিনি আজ! আইন কতভাবে আমাদের হাত-পা বেঁধে রেখেছে, দেখুন!’
ইবিতে লোমহর্ষক কাণ্ড: শিক্ষক খুন, ঘাতকের আত্মহত্যার চেষ্টা
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ দপ্তরে কুপিয়ে হত্যা করেছেন ফজলু নামের এক কর্মচারী। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। ঘাতক কর্মচারী শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। হঠাৎ করে কর্মচারী ফজলু ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিভাগীয় প্রধান আসমা সাদিয়া রুনার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ফজলু নিজেকে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।
বিভাগে চিৎকার ও গোলযোগের শব্দ শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি এবং ইবি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা দুজনকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সম্ভবত তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মচারী বর্তমানে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ক্যাম্পাসের ভেতরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো পূর্বশত্রুতা বা সুনির্দিষ্ট কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এই নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
/আশিক
ঢাবি ছাত্রদলের আলটিমেটামে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে ‘মিথ্যা প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আজ রাত ৮টার মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় অভিযুক্ত ডাকসু প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের নির্লিপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনটি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে। ছাত্রদলের অভিযোগ, গত সেপ্টেম্বরের বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচনের পর থেকে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি ও দোকান উচ্ছেদের রাজত্ব কায়েম করেছে।
স্মারকলিপিতে ছাত্রদল দাবি করেছে যে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এবং কতিপয় শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় নির্দিষ্ট কিছু ডাকসু প্রতিনিধি একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গঠন করেছেন। এই সিন্ডিকেটই মূলত ক্যাম্পাসে দোকান উচ্ছেদ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানির সাথে সরাসরি জড়িত। ছাত্রদলের অভিযোগ, এই চক্রটি নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে ভুয়া অভিযোগ ছড়িয়ে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রদল তাদের স্মারকলিপিতে দুই দফা দাবি উত্থাপন করেছে। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্যাম্পাসে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দোকানপাট পরিচালনার সঠিক নীতিমালা সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে এবং তা সর্বসাধারণের কাছে প্রচার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, চাঁদাবাজি এবং দোকান ভাঙচুরের সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত সকল ডাকসু প্রতিনিধি বা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। তিনি দাবি করেন যে, আসন্ন নির্বাচন এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির পক্ষে যে দেশব্যাপী গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তাকে ম্লান করতেই পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদলকে চাঁদাবাজির তকমা দেওয়া হচ্ছে। শিপন বলেন, দীর্ঘদিনের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামনে এনে এই প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের চোখে ছাত্রদলকে ছোট করা যায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান যেন আজ রাতের মধ্যেই চাঁদাবাজির প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতেই হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে এক ধরণের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে নাহিদুজ্জামান শিপন আরও বলেন যে, যদি এই ধরণের অসামাজিক বা অপরাধমূলক কাজের সাথে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়, তবে সংগঠন নিজ উদ্যোগেই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি মনে করেন, একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে হলে এই ধরণের ‘সিন্ডিকেট সংস্কৃতি’ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্ত করা জরুরি। ছাত্রদলের এই কঠোর অবস্থান এবং আলটিমেটামের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। ক্যাম্পাস জুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের পরবর্তী বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে।
পাঠকের মতামত:
- ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বদলে গেল তেলের বাজার
- দুই বছর পর প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা, কী বলবেন?
- তেলের দাম কমতেই লাফ দিল স্বর্ণের বাজার
- যেসব দেশে দিনদুপুরে নেমে আসবে রাতের অন্ধকার!
- মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির জোরালো প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ
- ৪০ মিলিয়ন ইউরোয় ইতালি পাড়ি জমাচ্ছেন আর্জেন্টাইন তারকা
- এমপি লুনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ‘ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর ট্রাস্টিবৃন্দ
- সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত বল্লভপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা
- কীভাবে এলো এই বিশেষ দিন: বন্ধু দিবসের অজানা কথা
- এশিয়ান গেমস ফুটবলের সূচি প্রকাশ, কোন গ্রুপে বাংলাদেশ?
- হাইকোর্টে জোড়া মামলায় জামিন পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
- ভারতের গণতান্ত্রিক উদাহরণ টেনে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য
- হুতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌদি জোটে বাংলাদেশ, জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- অপারেশন শরতের তুফান: ৮ বছর পর ট্রাইব্যুনালে উঠে এল কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য?
- সাবেক সরকারের মতো একই আচরণ ধারণ করছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী: জামায়াত আমির
- ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প
- আরব আমিরাতে জামিন পেলেন সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ
- ফের পরিবর্তন এলপিজি গ্যাসের দামে: রোববার সন্ধ্যা থেকে নতুন রেট কার্যকর
- টানা সাড়ে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে কারওয়ান বাজারে প্রতিবাদী কর্মসূচি: কঠোর আলটিমেটাম এনসিপির
- আগস্ট জুড়ে আবহাওয়া কেমন থাকবে? দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বিডব্লিউওটির বিশেষ বার্তা
- ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার রূপরেখা পেশ
- সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন ইউকে নবগঠিত (আংশিক) কমিটি ঘোষণা
- অন্যায়ের অবসান ও নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির
- ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে ড্রোন তাণ্ডব: আন্তর্জাতিক ষড়যন্তের দিকে আঙুল ইরানের
- ইন্ডাকশন নাকি ইনফ্রারেড চুলা: কেনার আগে জেনে নিন কাজের পার্থক্য
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব সম্প্রদায়ের অবদান ছিল: নাহিদ ইসলাম
- যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন, প্রভাবিত হবে বাংলাদেশও
- স্ত্রীর কবর খননকালে ২৪ বছর পর স্বামীর অক্ষত দেহ উদ্ধার
- আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিশ্বজয়ে আবার স্বর্ণের দামে দরপতন
- হয়ে গেল সাফের ড্র: সহজ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশ, সহজ হলো সেমির পথ
- যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক: অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা
- যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক: অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা
- আমদানি-রপ্তানি ত্বরান্বিত করতে দেশের সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালুর নির্দেশ
- আগামী ৫ দিনের আবহাওয়া কেমন থাকবে? যা জানাল অধিদপ্তর
- কুমিল্লা প্রেস ক্লাব নির্বাচন আজ, ১৬ পদে লড়ছেন ৩২ প্রার্থী
- ৩ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
- আগস্টের ডিজেল-অকটেন-পেট্রোলের দাম নির্ধারণ
- হজযাত্রীদের বড় সুখবর: হজের বিমান টিকিটের দাম আরও কমাল সরকার
- বন্ধ সরকারি শিল্পকারখানা চালুর তাগিদ, চলতি বছরের মধ্যেই প্রক্রিয়ার নির্দেশ
- মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
- ব্রাজিলে তীব্র ঝড়ে দেয়াল ধসে নিহত সাবেক জনপ্রিয় ফুটবলার
- সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের
- দেশ আবার পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
- আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- দেশের ৭ অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, ১ নম্বর সতর্কসংকেত
- এশিয়ান লিজেন্ডস লিগে বাংলাদেশ টাইগার্সের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান
- অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে বড় রদবদল: পূর্বের সব নিয়োগ বাতিল
- কেশম দ্বীপে স্বজন হত্যার প্রতিশোধ: জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ আইআরজিসির
- বিশ্ব-ব্যবস্থা তত্ত্ব: পুঁজিবাদী বিশ্ব-অর্থনীতি, নির্ভরতা ও বাংলাদেশের অবস্থান
- কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুরে টিসিবির ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি, উপকৃত ৭১৪ পরিবার
- ইউক্রেন ও হুতিদের প্রবেশে নতুন অঞ্চলে বিস্তৃত ইরান যুদ্ধ
- স্বৈরাচারের দুঃশাসনে ক্ষতবিক্ষত: ১০ নম্বর গুনাইঘর (দক্ষিণ) ইউনিয়ন বিএনপি
- গোপন ভিডিও কাণ্ডে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে গাড়িচালকের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
- ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ফেসবুকে নতুন অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন পদ্ধতি
- সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের
- পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বদলাতে পারে, ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা ইসরায়েলের
- বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে বাহুবল পুলিশ ফাঁড়িতে এনসিপির লিখিত অভিযোগ
- দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ বার্তা পাঠাল সরকার
- ছাত্রদলের পদ থাকাটাই এখন চাকরির প্রধান কোয়ালিফিকেশন
- যানজট নিরসন ও যাতায়াত সহজ করতে সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্কের পথে বাংলাদেশ
- জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক হামলা, ভূপাতিত করল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হলে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর








