ইসি’র রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল: ‘বিএনপি সরকারের পাশে আছে’

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৮ ২০:০৫:০৫
ইসি’র রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল: ‘বিএনপি সরকারের পাশে আছে’
ছবিঃ সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করার পর তাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের সমস্যা সমাধানে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

যারা নির্বাচনে বাধা দেওয়া বা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা হটকারী সিদ্ধান্ত নেবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি এবারের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলেও প্রত্যাশা করেন।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপি অতীতেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতা করেছে এবং ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহায়তা করবে।

/আশিক


কাকরাইলে সংঘর্ষে রক্তাক্ত নুর, উত্তপ্ত রাজনীতি: এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ২৩:০০:৪৭
কাকরাইলে সংঘর্ষে রক্তাক্ত নুর, উত্তপ্ত রাজনীতি: এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা
আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। ছবি: সংগৃহীত।

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ফের রক্তাক্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে জাপা ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ধাপে ধাপে সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকা জুড়ে।

রক্তাক্ত নুরের ছবি ভাইরাল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুরুল হক নুরের অফিসিয়াল আইডি থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়, যেখানে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে। ছবিটি দ্রুত ভাইরাল হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

‘জয় বাংলা’ স্লোগান ও গণহত্যার অভিযোগ

গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে, জাপার কর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এটি ছিল পরিকল্পিত সহিংসতা। গণঅধিকার পরিষদের নেতারা বলেন, “জাতীয় পার্টিকে গণহত্যার দায়ে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে। যদি বিচার না হয়, তাহলে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা নিজেরাই বিচার করবে।”

ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল

সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা শুরু হয়। একপর্যায়ে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজনা দ্রুত ছড়ায়।

রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আতিকুল আলম খন্দকার বলেন, “ঘটনার শুরুতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে আছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছি।”

হলুদ হেলমেটধারী রহস্যময় বাহিনী

সংঘর্ষের দ্বিতীয় দফা ঘটে রাত সাড়ে ৯টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হলুদ রঙের হেলমেট পরে একদল লোক জাপার কার্যালয় থেকে বের হয়ে গণঅধিকার পরিষদের মিছিলে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এসময় পুলিশের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। এ বাহিনীকে নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ তাদের সবাইকে একই ধরনের হেলমেট পরা অবস্থায় দেখা গেছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগে জটিলতা

জাপার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, গণঅধিকার পরিষদ উসকানিমূলক মিছিল নিয়ে তাদের কার্যালয়ে গিয়ে হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে গণঅধিকার পরিষদ বলছে, উল্টো জাপার কর্মীরাই প্রথম ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষ বাধিয়েছে। ফলে ঘটনার দায় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছে।

এনসিপির বিক্ষোভের ডাক

এদিকে এ হামলার প্রতিবাদে জরুরি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় এক ক্ষুদে বার্তায় দলটি জানায়, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সহযোদ্ধা, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ তার দলের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, লীগ ও জাতীয় পার্টির বর্বর হামলার প্রতিবাদে আজ রাতেই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।” এই মিছিলে নেতৃত্ব দেবে ঢাকা মহানগর এনসিপি।


দিল্লিতে হাসিনা–এস আলম গোপন বৈঠকে অর্থায়ন, প্রোপাগান্ডা ও অস্থিতিশীলতার কৌশল!

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১৭:১৮:১৭
দিল্লিতে হাসিনা–এস আলম গোপন বৈঠকে অর্থায়ন, প্রোপাগান্ডা ও অস্থিতিশীলতার কৌশল!

৮ আগস্ট নয়াদিল্লির লুটিয়েন্স বাংলো জোনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম মাসুদ (এস আলম)–এর মধ্যে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। ভারতের রাজধানীর অভিজাত অঞ্চলে অবস্থিত এই বাংলোটি ভারত সরকারের তত্ত্বাবধানে শেখ হাসিনার অস্থায়ী আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন প্রভাবশালী ভারতীয় কর্মকর্তা এবং বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন পালাতক নেতা। বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচি ছিল আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার জন্য আর্থিক ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ। অভিযোগ অনুযায়ী শেখ হাসিনা বৈঠকে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চান, যা এস আলম দিতে সম্মত হন। এর একটি অংশ সঙ্গে সঙ্গেই প্রদান করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, আর বাকি অর্থ কিস্তিতে প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক ঘিরে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো বিপুল অর্থের ব্যবহার এবং এর সম্ভাব্য খরচের খাত। সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এ অর্থ ব্যবহার হবে আন্তর্জাতিক লবিং কার্যক্রমে, বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছে আওয়ামী লীগের পক্ষে সমর্থন আদায়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন নেটওয়ার্কে ব্যাপক প্রোপাগান্ডা চালাতে এবং মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক সহিংসতা উসকে দিতে। আরও বলা হচ্ছে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আর্থিকভাবে প্রভাবিত করা, আওয়ামী নেতাকর্মীদের জামিনে সহায়তা দেওয়া এবং নতুন করে আন্দোলনের ছদ্মবেশে নাশকতা সংগঠিত করাও আলোচনার অংশ ছিল। যদিও এসব তথ্য সরাসরি যাচাই করা যায়নি, তবে একাধিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্র এই আলোচনার আভাস দিয়েছে।

এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই), আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক গবেষণা ও যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম। গণঅভ্যুত্থানের পর সিআরআই কার্যক্রম গুটিয়ে নিলেও এখন আবার সেটি গোপনে সক্রিয় হচ্ছে বলে সূত্র দাবি করছে। এ কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্ণধার সৈয়দ গাউসুল আলম শাওন, যিনি অতীতে সিআরআই–এর মূল নেপথ্য কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। শাওনের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা তৈরি এবং বিরোধী দমননীতির পরিকল্পনা প্রণয়নের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। অভিযোগ আছে, দিল্লির বৈঠকে এস আলম বিপুল অঙ্কের অর্থ সিআরআই পুনর্গঠনের জন্য বরাদ্দ দিতে রাজি হন এবং শাওন এর দায়িত্ব নেন।

বৈঠককে ঘিরে টাইমলাইন অনুসারে দেখা যায়, এস আলম এর আগে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় একাধিক বৈঠক করেন পালাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে। সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ সংস্থা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথেও তার বৈঠক হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল লুট করা অর্থকে বৈধ ব্যবসার ছদ্মবেশে বিনিয়োগ করা। এরপর তিনি দুবাই হয়ে দিল্লিতে পৌঁছান এবং কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিক বৈঠকে অংশ নেন। ৮ আগস্টের বৈঠক ছিল এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে শেখ হাসিনার সাথে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়। ১০ আগস্ট তিনি আবার হাসিনার বাসভবনে যান এবং ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলমান যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। ১৭ আগস্ট তিনি সিঙ্গাপুরে ফিরে যান। এই পুরো যাত্রাপথের মধ্যে তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিছু পালাতক আওয়ামী লীগ নেতা এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ী।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো যদি সত্য হয় তবে এর কয়েকটি গুরুতর দিক রয়েছে। প্রথমত, বিদেশে পালিয়ে থাকা রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। দ্বিতীয়ত, বিপুল অর্থের অবৈধ স্থানান্তর ও বিদেশে লবিং কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রতি অমান্যতার শামিল। তৃতীয়ত, সিআরআই–এর মতো রাজনৈতিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা দেশের তরুণ প্রজন্মকে আবারও বিভ্রান্তির ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। চতুর্থত, রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অংশকে আর্থিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা সুশাসনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, অভিযোগ সত্য হলে দেশের স্থিতিশীলতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আর্থিক ফরেনসিক অডিট এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং। একই সাথে রাষ্ট্রের উচিত হবে জনগণকে সচেতন করা, যাতে গুজব ও প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে কাউকে অস্থিতিশীলতার সুযোগ দেওয়া না হয়। এই প্রেক্ষাপটে দিল্লির কথিত বৈঠক শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনাই নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও নিরাপত্তার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করছে।


"জাতীয় নাগরিক পার্টি আসলে ইউনূসের দল, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে"

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১৬:২৩:২১
"জাতীয় নাগরিক পার্টি আসলে ইউনূসের দল, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে"
ছবিঃ সংগৃহীত

সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদ থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত থাকা ফজলুর রহমান সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দল এবং তার সঙ্গে জামায়াত ইসলামীর গোপন যোগাযোগ রয়েছে। তার অভিযোগ, কার্যত জামায়াতই বর্তমানে দেশের রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক খাত পরিচালনা করছে।

ফজলুর রহমান বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস কোনোভাবেই নিরপেক্ষ ব্যক্তি নন। তিনি গত ১২–১৩ মাসে তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বারবার প্রমাণ করেছেন যে নিরপেক্ষ নির্বাচনের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা তার নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনূসের নিজস্ব রাজনৈতিক সন্তান রয়েছে, যাদের তিনি কখনও সন্তান আবার কখনও নিয়োগকর্তা বলে আখ্যা দেন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের স্বার্থ রক্ষায় তিনি পক্ষপাতদুষ্ট হবেন। এই কারণেই এনসিপি তার নিজস্ব রাজনৈতিক দল হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে ড. ইউনূসের রাতের যোগাযোগ আছে এবং বাস্তবে জামায়াতই দেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ব্যাংক খাত থেকে ইসলামী ব্যাংক, শেয়ারবাজার থেকে প্রশাসন এসব ক্ষেত্রে জামায়াতের প্রভাবশালী দখল রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি জেলা পর্যায়ের এসপি-ডিসি থেকে শুরু করে সচিব পর্যায়ের নিয়োগ ও বদলি পর্যন্ত জামায়াতের ইঙ্গিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ফজলুর রহমান। তার মতে, বিএনপি যত দ্রুত এই বাস্তবতা অনুধাবন করবে, দলের জন্য ততই ভালো হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ফজলুর রহমান বলেন, ৮৭ বছর বয়সী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে যেভাবে অপমান করে আটক করা হয়েছে তা দেশের জন্য চরম লজ্জাজনক। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান অপরিসীম, অথচ তাকে মিটিং ভেঙে গ্রেপ্তার করা হলো। যারা এ কাজ করেছে তারা অপরিণামদর্শী এবং তাদের পেছনে কালো শক্তি সক্রিয় রয়েছে, যারা দেশকে কব্জায় নিতে চাইছে।

বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকীসহ আটককৃতদের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত। রাজনৈতিক প্রতিরোধ না গড়ে তুললে এর পরিণতি একদিন বিএনপিকেও ভোগ করতে হবে। তিনি মনে করেন, বিএনপির উচিত এই ঘটনার বিরুদ্ধে চরম নিন্দা প্রকাশ করে রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া।

নিজের দলীয় অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদিও বিএনপি থেকে তিন মাসের জন্য তার পদ স্থগিত করা হয়েছে, তিনি এখনো নিজেকে বিএনপির অংশ হিসেবেই মনে করেন। তার মতে, তিন মাস পরে তাকে পুনর্বহাল করা হতে পারে, কিংবা তিনি নিজেও থাকতে পারেন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, দেশ আজ বকলমে পূর্ব পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির হাতে বন্দি, যেখানে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা বলা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে, এমনকি মুক্তচিন্তার পরিবেশও ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষকে এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সঙ্গে একাত্ম হতে হবে। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির পক্ষে দাঁড়ানো ছাড়া জাতির মুক্তি নেই।

সুত্র: কালের কণ্ঠ


নকলায় বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ ২৪ নেতা-কর্মীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১১:১৮:২৩
নকলায় বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ ২৪ নেতা-কর্মীর
ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মোড় নিল। ইউনিয়ন বিএনপির ২৪ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। এ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় ইউনিয়নের রাজলক্ষ্মী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের জামায়াত-মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়জুর রহমান ফিরোজ। তাঁর উপস্থিতিতেই বিএনপির এই ২৪ জন নেতা-কর্মী জামায়াতে ইসলামীতে সহযোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াত শাখার সভাপতি খাদিমুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নকলা পৌর জামায়াতের সহ-সভাপতি হুমায়ূন কবির, ইউনিয়ন জামায়াতের সহ-সভাপতি মো. সাইদুর রহমানসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

ফয়জুর রহমান ফিরোজ নবাগত সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আপনারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে একটি আদর্শিক ইসলামী দলে যুক্ত হয়েছেন। তবে শুধু নাম অন্তর্ভুক্ত করলেই চলবে না। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং পরকালীন মুক্তির জন্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। নিজেদের একজন ত্যাগী ও আদর্শিক দায়ী হিসেবে গড়ে তোলাই হবে প্রকৃত দায়িত্ব।”

যোগদানকারী নেতাকর্মীরা বলেন, “জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শভিত্তিক ইসলামী দল। দেশের চলমান পরিস্থিতি ও জামায়াতের দেশপ্রেমমূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা পারস্পরিক আলোচনা ও স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই দলে যোগ দিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, জামায়াতের প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী নেতৃত্বই দেশ ও জাতির কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

তারা আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতই একমাত্র নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম, যা জনগণের আস্থা অর্জন করেছে এবং জাতীয় জীবনে কল্যাণকামী নাগরিকদের জন্য আশ্রয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগদানকারী ওই ২৪ জন নেতাকর্মী হলেন সোহেল রানা, মো. ইসমাইল, জাহিদুল ইসলাম, ইলিয়াস মিয়া, মো. মানিকুল, মো. ফারুক, মো. মামুন, মো. হাসান, মো. সাগর মিয়া, নোনা মিয়া, মো. রাকিবুল হাসান, ইবনে আনাজ, শফিকুল ইসলাম, সরাফাত মিয়া, হায়তুলা, মো. সেকান্দর আলী, মুসুদ, রফিকুল ইসলাম, মো. সিদ্দিক, মিলু মিয়া, মো. সেলিম মিয়া, মো. জাহিদুল ইসলাম এবং মো. মোখন।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নকলা উপজেলা আমীর গোলাম সারোয়ার ঢাকা পোস্টকে বলেন, “যারা আজ যোগদান করেছেন, তারা প্রায় দুই মাস আগে থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তাদের হাতে কিছু প্রাথমিক বই দেওয়া হয়েছিল। এগুলো অধ্যয়ন করে তারা জামায়াতের গঠনতন্ত্র, কাঠামো ও কার্যক্রম ভালোভাবে বুঝেছেন। সবকিছু বিবেচনা করেই আজ তাদের সহযোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

তিনি ব্যাখ্যা করেন, জামায়াতের সংগঠন কাঠামোয় সদস্যপদ ধাপে ধাপে দেওয়া হয় প্রথমে সহযোগী সদস্য, এরপর কর্মী এবং সর্বশেষে রোকন বা পূর্ণ সদস্য। তাঁর ভাষায়, “এই ২৪ জন বর্তমানে প্রাথমিক সহযোগী সদস্য হয়েছেন। তারা কর্মী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সিলেবাস অধ্যয়ন করছেন। আশা করছি, আগামী এক-দুই মাসের মধ্যেই তারা দ্বিতীয় ধাপে উন্নীত হবেন।”

-রফিক


নদী ভাঙন রোধে কী পরিকল্পনা জানালেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১১:০৯:৫২
নদী ভাঙন রোধে কী পরিকল্পনা জানালেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান আহবায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য, মানিকগঞ্জ-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী এস এ জিন্নাহ কবির বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ৫৪ বছরে জনগণ প্রকৃত সুফল পায়নি। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে কৃষক, শ্রমিক, গ্রামগঞ্জের খেটে খাওয়া মানুষ এবং দিনমজুরদের ভাগ্যোন্নয়নের অঙ্গীকার রয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে জনগণকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে নয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত প্রচারনা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জিন্নাহ কবির।

তিনি আরও বলেন, “যারা গত ১৭ বছর দলের কোনো কর্মসূচি কিংবা আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন না, তারা তখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে সুবিধা ভোগ করেছেন, বিদেশে আরামে জীবন কাটিয়েছেন। অথচ ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও বিএনপির আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতনের পর এসব সুবিধাবাদী, বিএনপির নামধারী আওয়ামী এজেন্ট এখন মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন।” তিনি অভিযোগ করেন, এরা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, এমনকি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান।

নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে যমুনা নদীর ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। বিএনপি ক্ষমতায় এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, শিবালয়ের পাটুরিয়া ফেরিঘাট, আরুয়া, তেওতা, জাফরগঞ্জ এবং দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া, বাঁচামারা ও চরকাটারীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব মানুষের পাশে তিনি সবসময় থাকবেন।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার হাতে গড়া বিএনপিকে শক্তিশালী করতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানই আগামীতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে সকলের দোয়া প্রার্থনা করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. রফিক কাজী। এতে আরও বক্তব্য রাখেন শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাসির উদ্দীন, জেলা বিএনপির সাবেক প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. ফেরদৌস রহমান, ওলামা দলের কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা হাবিবুল্লাহ নোমানী, জেলা তাতীদলের সাবেক সভাপতি ইউনুস আলী মলিক, ঘিওর উপজেলা বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক রাজা মিয়া, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ইকবাল রনি, আকতারুজ্জামান আক্তার, মমিনুল ইসলাম মমিন, মো. মোসলেম উদ্দীন, কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল, শিবালয় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হোসেন আলী, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুরুজ মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম মুন্সি, জেলা যুবদলের নেতা আমীর হামজা পিন্টু, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. সাইদুর রহমান, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জিহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব খান অয়নসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।


রোডম্যাপ গতানুগতিক ও বিভ্রান্তিকর: জামায়াত সেক্রেটারি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৮ ২১:৫৭:৩১
রোডম্যাপ গতানুগতিক ও বিভ্রান্তিকর: জামায়াত সেক্রেটারি
ছবিঃ সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপকে ‘গতানুগতিক এবং কিছুটা বিভ্রান্তিকর’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে রোডম্যাপ ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জাতির প্রত্যাশা, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এখনো নির্বাচন কী পদ্ধতিতে হবে, তা নির্ধারিত হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি এবং তার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত নয়। এই পরিস্থিতিতে রোডম্যাপটি অপরিপক্ব ও খণ্ডিত। এতে জনগণের প্রত্যাশার সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রথমে জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা স্পষ্ট করা জরুরি ছিল। এরপরই রোডম্যাপ ঘোষণা করা উপযুক্ত হতো।”

/আশিক


ইসি’র রোডম্যাপে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৮ ২০:১১:১০
ইসি’র রোডম্যাপে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণায় জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি এই রোডম্যাপ ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তিনি বলেন, “যথাযথ সময়ে রোডম্যাপটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও একই রকম নির্দেশনা ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “এখন রোডম্যাপ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেওয়া হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

/আশিক


ডিআরইউতে লতিফ সিদ্দিকীসহ আ.লীগ নেতাদের অবরুদ্ধ করে রাখল ‘জুলাই যোদ্ধারা’

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৮ ১২:৫৭:৫৫
ডিআরইউতে লতিফ সিদ্দিকীসহ আ.লীগ নেতাদের অবরুদ্ধ করে রাখল ‘জুলাই যোদ্ধারা’
ছবিঃ সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও কাদের সিদ্দিকীর ভাই আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতা রয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হাফিজ আল আসাদ এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তিদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হবে। শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদ বলেন, “এখান থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।”

সকালে ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণফোরামের সাবেক সভাপতি ড. কামাল হোসেনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি আসেননি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান, “দল-মতনির্বিশেষে সব মুক্তিযোদ্ধাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমরা অনুষ্ঠান শুরু করেছিলাম, এমন সময় ২০-২৫ জন যুবক এসে হৈচৈ শুরু করে এবং আমাদের ঘিরে ফেলে। তবে তারা কারও গায়ে হাত দেয়নি।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘জুলাই যোদ্ধা’ ব্যানারে আল আমিন রাসেলের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে লতিফ সিদ্দিকী ও অন্যান্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং মিলনায়তনে প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে একটি ভাঙা টেবিল দেখা যায় এবং উপস্থিত লোকজনদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

পরে এডিসি হাফিজ আল আসাদের নেতৃত্বে পুলিশ লতিফ সিদ্দিকীসহ কয়েকজনকে একটি ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।

/আশিক


অবৈধ সম্পদে জড়িত সাবেক খাদ্যমন্ত্রী রাজ্জাক পরিবার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৮ ০৮:০০:১৩
অবৈধ সম্পদে জড়িত সাবেক খাদ্যমন্ত্রী রাজ্জাক পরিবার
ছবিঃ সংগৃহীত

সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী এবং ছেলের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় কমিশন পৃথক পৃথকভাবে তিনজনের কাছেই সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করেছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আব্দুর রাজ্জাকের নামে মোট ৬ কোটি ৭২ লাখ ৩৭ হাজার ২৯০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ মিলেছে। কিন্তু তার বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে প্রমাণ পাওয়া গেছে মাত্র ৪ কোটি ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯১৬ টাকা। ফলে রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৭২ হাজার ৩৭৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ দাঁড়িয়েছে। কমিশনের রেকর্ডপত্র এবং জেলগেটে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এই ব্যবধানের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। তাছাড়া তার আয়কর রিটার্ন বিশ্লেষণে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস অপ্রমাণিত থাকে।

এদিকে রাজ্জাকের স্ত্রী শিরিন আক্তার বানুর সম্পদের হিসাবেও অনিয়ম পাওয়া গেছে। দুদক জানায়, তার নামে ২ কোটি ৭৭ লাখ ৩০ হাজার ৫১১ টাকার সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পারিবারিক ব্যয়সহ সর্বমোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫০২ টাকা। এর বিপরীতে বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ২ কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ৬১২ টাকা। ফলস্বরূপ, শিরিন আক্তারের বিরুদ্ধে ৯০ লাখ ৭১ হাজার ৮৯০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে কমিশন মনে করছে।

একইভাবে, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের নামেও অনিয়ম ধরা পড়ে। তার নামে ১ কোটি ২১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৮২ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়, যা পারিবারিক ব্যয়সহ দাঁড়ায় ১ কোটি ২৪ লাখ ৮১ হাজার ৮৩ টাকা। অথচ তার বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে প্রমাণ মেলে মাত্র ৭৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৩ টাকা। এই হিসেবে তার বিরুদ্ধেও ৫১ লাখ ১২ হাজার ১০০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠে আসে।

দুদক বলছে, রাজ্জাক পরিবারের মোট সম্পদ বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে আব্দুর রাজ্জাক প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। পরে মন্ত্রণালয় বিভক্ত হওয়ার পর ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতার পালাবদলের পর গত বছরের ১৪ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: