মাহফুজ আলমের উপস্থিতিতে নিউইয়র্কে কনস্যুলেটে আওয়ামী সহিংসতা, নিন্দার ঝড়

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অন্তবর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা পরে সহিংসতায় রূপ নেয়। যদিও সরাসরি তার ওপর হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে ওয়াশিংটন দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা জানিয়েছেন, তবে কনস্যুলেট ভবনে হামলা, ভাঙচুর এবং বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে একটি সরকারি সফরের সময় উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে ঘিরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের হয়রানির চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তার মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতন্ত্রের মূলভিত্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সুরক্ষিত, কিন্তু এগুলোকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে। সহিংসতা কোনো প্রতিবাদ নয়, ভয় দেখানো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়, আর বিশৃঙ্খলা কখনোই গণতন্ত্র নয়।
ঘটনার দিন ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী, এ উপলক্ষে নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে এক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন এবং নির্বিঘ্নে বেরিয়েও গেছেন। তবে বাইরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা সহিংসতা শুরু করে। তাদের হাতে ডিম ছিল, যা প্রোগ্রামে আমন্ত্রিত ছাত্রদের উদ্দেশে নিক্ষেপ করা হয়। এই ছাত্রদের অনেকে উত্তর আমেরিকায় জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। গোলাম মোর্তোজার ভাষ্য অনুযায়ী, আক্রমণকারীরা কনস্যুলেটের প্রধান কাঁচের দরজা লাথি মেরে ভেঙে ফেলে, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ভয়ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে যেভাবে তারা সহিংসতা চালাত, বিদেশের মাটিতেও সেই একই আচরণ করছে।
শফিকুল আলম তার পোস্টে আরও সতর্ক করে বলেছেন, যে কোনো আন্দোলনের শক্তি উচ্চস্বরে চিৎকার বা সহিংসতায় নয়, বরং শৃঙ্খলা, মর্যাদা ও দায়িত্বশীলতায় প্রকাশ পায়। তিনি সবাইকে অতীত ও বর্তমানের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসী আচরণ কোনো সমাধান নয়। সহিংসতার মাধ্যমে আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রমাণ হয়ে যাবে কেন একটি সত্যিকারের মুক্ত বাংলাদেশের জন্য বিপ্লবই ছিল একমাত্র পথ। তিনি আহ্বান জানান, মর্যাদা নিয়ে প্রতিবাদ করুন, বৈরিতা দিয়ে নয়, কারণ ভিন্নমতের অধিকার পবিত্র এবং এটি রক্ষা পেয়েছে গত বছরের গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া শহীদদের ত্যাগের মাধ্যমে।
এ ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। নেটিজেনরা অভিযোগ করেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরব ভূমিকা হতাশাজনক। তারা অবিলম্বে মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনাকে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দাবি ওঠে, ভবিষ্যতে যেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রবাসে কিংবা দেশে এ ধরনের হামলার সুযোগ না পায়, সেজন্য সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সব মিলিয়ে নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের এ ঘটনাকে প্রবাসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার ও নাগরিক সমাজ মনে করছে, প্রবাসে রাজনৈতিক সহিংসতা দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলছে। তাই এই প্রবণতা দমন করতে কূটনৈতিক এবং প্রশাসনিক উভয় দিক থেকেই আরও দৃঢ় পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।
সবজির পর এবার অন্য যেসব খাতে আগুন
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই সবজির দাম চড়া অবস্থায় থাকলেও নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে আটা, ময়দা ও মসুর ডালের মতো মুদি পণ্যের দাম। এর পাশাপাশি মুরগি, ডিম ও পেঁয়াজের উচ্চমূল্যও ভোক্তাদের কষ্ট আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, কয়েকদিনের মধ্যেই খুচরা পর্যায়ে আলুর দামও বাড়তে পারে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়— তিন-চার দিন আগেও কোম্পানিভেদে এক কেজি প্যাকেটজাত আটা ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। খোলা আটার দামও কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে বর্তমানে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ময়দার দাম কোম্পানিভেদে কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে এখন ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় পৌঁছেছে। খোলা ময়দার দামও বেড়ে কেজিতে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে।
ভালো মানের মসুর ডাল যেখানে এক সপ্তাহ আগে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। বড় দানার মসুর ডালের দামও একই সময়ে ১১৫-১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১২৫-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে আগের চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। বেগুন এখনো কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা, করলা ৯০-১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০-৮০ টাকা, কচুর মুখি ৮০-৯০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা এবং চিচিংগা-ঝিঙ্গা ৯০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম আরও বেশি; বর্তমানে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজের ক্ষেত্রে আমদানি বাড়লেও দাম কমেনি উল্লেখযোগ্যভাবে। খুচরায় এখনো প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮০-৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তালতলা বাজারের ব্যবসায়ী বুলু মিয়া বলেন, “ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজও দেশি পেঁয়াজের সমান দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে আমদানি থাকা সত্ত্বেও দামের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।” কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকা কেজিতে, যেখানে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭২ টাকায়।
এছাড়া ডিম ও মুরগির দামও উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০-১৮০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ৩২০-৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও অপরিবর্তিত আছে— প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা।
এদিকে, আলুর বাজারেও দাম বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিন লোকসানে আলু বিক্রি করার অভিযোগের পর কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবির ভিত্তিতে সরকার সম্প্রতি হিমাগার পর্যায়ে আলুর ন্যূনতম দাম ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে দীর্ঘদিন হিমাগারে আলু ১২-১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। এখন হিমাগারে প্রতি কেজির দাম ৭-১০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব খুব শিগগিরই খুচরা বাজারে পড়বে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।
বর্তমানে খুচরায় আলু ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হলেও আগামী দিনে তা ৩৫-৪০ টাকায় উঠতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন। কারওয়ান বাজারের আলুর আড়তদার জাহাঙ্গীর বলেন, “হিমাগারে ২২ টাকায় আলু কিনলে আমাদের পাইকারি বিক্রি করতে হবে অন্তত ২৪ টাকায়। অন্যান্য খরচ যোগ করলে খুচরায় ২৭-২৮ টাকা দাঁড়াবে। তখন স্বাভাবিকভাবেই ভোক্তার দামে এর প্রভাব পড়বে।”
গত ২৭ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের নীতি শাখা থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে আলুর ন্যূনতম হিমাগার মূল্য নির্ধারণ করা হলেও খুচরা বিক্রির সর্বোচ্চ মূল্য ঠিক করা হয়নি। ফলে বাজারে চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত দাম নির্ধারিত হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার যদি সরবরাহ চেইন মনিটরিংয়ে শক্ত ভূমিকা রাখে, তবে খুচরা পর্যায়ে হঠাৎ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।
রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আপাতত আলুর দাম বাড়েনি। তবে সবজির স্থায়ী উচ্চমূল্য, মুদি পণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আসন্ন আলুর দামের চাপ সব মিলিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের দৈনন্দিন খরচ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
-রাফসান
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের অভূতপূর্ব মন্তব্য
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সাম্প্রতিক অস্থিরতা বিবেচনা করলে স্পষ্ট হয় যে এবারকার নির্বাচন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংকট একসঙ্গে মিলে নির্বাচনী পরিবেশকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
নির্বাচন কমিশনারের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা একটি বড় পরীক্ষা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের আস্থা নিশ্চিত করাই হবে নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব। তবে তিনি একইসঙ্গে স্বীকার করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আস্থার সংকট, মাঠপর্যায়ে সহিংসতার ঝুঁকি এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তাকে কঠিন করে তুলতে পারে।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার মনে করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় অপরিহার্য। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে সহনশীলতা প্রদর্শন করতে হবে এবং সহিংসতা পরিহার করে গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার এবং পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
তাঁর ভাষায়, “এবারের নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক ইভেন্ট নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তাই ঝুঁকি থাকলেও আমাদের দায়িত্ব এটি সফলভাবে সম্পন্ন করা।”
-রফিক
গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড: নতুন অধ্যাদেশের নীতিগত অনুমোদন
গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য খসড়াটি আরও আলোচনার পর আবারও বৈঠকে তোলা হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের ৪০তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের খসড়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান রাখা হয়েছে:
শাস্তি: গুমকে একটি চলমান অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
গোপন আটক কেন্দ্র: গোপন আটক কেন্দ্র স্থাপন বা ব্যবহার করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
তদন্ত ও বিচার: জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুমসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষাসংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে এবং অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকবে।
ভুক্তভোগীর অধিকার: ভুক্তভোগী, তথ্য প্রদানকারী ও সাক্ষীর অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ ও আইনগত সহায়তার নিশ্চয়তার বিধানও অধ্যাদেশে রাখা হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, “আজকে কেবল নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি নিয়ে সামনে আরও আলোচনা হবে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নিয়ে আসা হবে।”
/আশিক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। এ কর্মপরিকল্পনায় সীমানা পুনর্নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন সম্পন্নকরণসহ অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ আয়োজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে। এর আগে আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ২৪টি কার্যক্রমকে আলাদা ভাগে বিভক্ত করেছে। প্রতিটি কার্যক্রমই একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়িত হবে। এ কার্যক্রমগুলোর অন্যতম হলো অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, নাগরিক সমাজ ও নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করে নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করার চেষ্টা করবে কমিশন।
ভোটার তালিকা প্রণয়নের বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, এবার তিন ধাপে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। যেসব নাগরিকের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা সবাই নতুন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ প্রক্রিয়ায় তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জোর দেওয়া হবে।
ঘোষিত রোডম্যাপে সীমানা নির্ধারণের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আসনভিত্তিক জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষার জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও হালনাগাদ করা হবে। দেশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকেও নতুন করে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে, যাতে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
-রাফসান
সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় আটকে আছে ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব: বিটিআরসি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রশাসনিক নির্দেশনা এখনো বহাল থাকায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আন্তর্জাতিক এসএমএস খাত থেকে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার পতনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে বিটিআরসি জয়ের সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি।
২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) চালু হলেও আন্তর্জাতিক এসএমএস সেবা এর আওতার বাইরে রেখে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের (এমএনও) হাতে তুলে দেওয়া হয়। অথচ লাইসেন্সিং গাইডলাইনস এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সেবা নীতিমালা (আইএলডিটিএস) অনুযায়ী ইন্টারনেট ছাড়া সব আন্তর্জাতিক সেবা আইজিডব্লিউর মাধ্যমে পরিচালনা করার কথা। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশি মোবাইল কোম্পানিগুলোর চাপের কারণে বিটিআরসি তার নিজের প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
২০১৭ সালে বিটিআরসি আন্তর্জাতিক এসএমএস সেবা আইএলডিটিএস নীতিমালার অধীনে আনার জন্য উদ্যোগ নেয় এবং একটি খসড়া পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়। কিন্তু ২০২০ সালের অক্টোবরে বিটিআরসি যখন আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের অনুমোদন চায়, তখন তিনি এই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। তিনি নতুন নীতিমালা আসবে—এই অজুহাত দেখিয়ে আন্তর্জাতিক এসএমএস সেবা মোবাইল অপারেটরদের হাতেই রেখে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তার সেই মতামতই এখন পর্যন্ত প্রশাসনিক আদেশ হিসেবে বহাল আছে।
বর্তমানে প্রতি মাসে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে গড়ে ৩ কোটির বেশি আন্তর্জাতিক ইনকামিং এটুপি এসএমএস (অ্যাপ্লিকেশন টু পারসন) বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, মাসে এর আয় ২৪ লাখ ডলার। তবে মোবাইল অপারেটরদের থেকে বিটিআরসি সর্বোচ্চ মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার ডলার আয় করতে পারে।
নীতিমালা অনুযায়ী যদি আন্তর্জাতিক এসএমএস সেবা আইজিডব্লিউর মাধ্যমে পরিচালিত হতো, তবে বিটিআরসি শুধু আইজিডব্লিউ থেকেই ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার আয় করতে পারত। মোবাইল অপারেটর এবং আইসিএক্স থেকেও আসত আরও ২ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। সব মিলিয়ে বিটিআরসির মাসিক আয় দাঁড়াত কমপক্ষে ১২ লাখ ৫ হাজার ডলার, যা বর্তমান আয়ের চেয়ে প্রায় ৮ গুণ বেশি। এই হিসাবে সরকার বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
বর্তমানে প্রতিটি বিদেশি মোবাইল অপারেটর তাদের বিদেশে অবস্থিত সহপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে আন্তর্জাতিক এটুপি এসএমএস পরিচালনা করছে। এটি একদিকে যেমন আইএলডিটিএস নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন, অন্যদিকে তা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে পাচারের সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়াও, এ ব্যবস্থা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া ও মানি লন্ডারিংয়ের ঝুঁকিও তৈরি করেছে।
আইজিডব্লিউ অপারেটরদের সংগঠনের (আইওএফ) প্রেসিডেন্ট আসিফ সিরাজ রব্বানী বলেন, “নীতিমালা অনুযায়ী আমরা আন্তর্জাতিক ভয়েস কলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এসএমএস ব্যবসায় প্রবেশাধিকার পাব ধরে নিয়েই ব্যাপক বিনিয়োগ করেছিলাম। কিন্তু অনুমোদন না পাওয়ায় আমরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।” তিনি বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এই খাতে সুযোগ না দিয়ে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সক্ষমতাকে কাজে লাগানো উচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ বলেন, “আমরা পুরো সেক্টরটাই সংস্কার করার চেষ্টা করছি। আন্তর্জাতিক এসএমএস নিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটা নির্দেশনা ছিল। আমরা সেটি নিয়ে কাজ করছি। এ মাসের শুরুর দিকেও আমি স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক করেছি। সবার প্রস্তাব পাওয়ার পর, যেটা ভালো হয় ও সরকারের রাজস্ব বাড়ে—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” তবে তিনি বছরে ২০০ কোটি টাকা রাজস্ববঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন।
দিল্লির গোপন বৈঠক ফাঁস: হাসিনা ও এস আলমের ষড়যন্ত্র, নেপথ্যে ৪৫০০ কোটি টাকা
জুলাই বিপ্লবের মুখে আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে দেশের বাইরে বসে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের ধারাবাহিকতায়, সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনা ও এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের একটি গোপন বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকে তারা আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনাকে ২৫০০ কোটি টাকা হস্তান্তর করেছেন এস আলম। তিনি আরও ২০০০ কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন। এই অর্থ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার হটাতে ভয়াবহ নাশকতার ছক কষা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন দেশে পলাতক মুজিববাদী নেতাকর্মী, সাবেক আমলা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের কর্মকর্তাদের দিয়ে এই নীলনকশা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
দিল্লি ও মক্কায় গোপন বৈঠক
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, পবিত্র ওমরাহ পালনের দোহাই দিয়ে সাইফুল আলম মাসুদ প্রথমে মক্কায় যান। সেখানে তিনি মক্কার ফেয়ারমন্ট হোটেলে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দেশ থেকে পাচার করা অর্থের বিনিময়ে সেখানে একটি বিলাসবহুল হোটেল কেনার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গেও তিনি বৈঠক করেন।
এরপর ৪ আগস্ট এস আলম মদিনায় চলে যান এবং ‘ইলাফ আল তাকওয়া’ হোটেলে চট্টগ্রামের কিছু চিহ্নিত আওয়ামী লীগ ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলোচনা করেন। দুই দিন পর ৬ আগস্ট তিনি দুবাই হয়ে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে পৌঁছান। দিল্লি সফরে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ফারজানা পারভীন, ছোট ছেলে এবং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক একজন চেয়ারম্যান। তারা দিল্লির বিখ্যাত পাঁচ তারকা হোটেল ‘দি ওবেরেই নিউ দিল্লি’তে ওঠেন।
শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন বৈঠক
৮ আগস্ট দুপুরে এস আলম তার সব ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস হোটেলে রেখে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন গাড়িতে করে শেখ হাসিনার বাসভবনে যান। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পথে দুইবার গাড়ি পরিবর্তন করে তিনি Lutyens Bungalwo Zone (LBZ)-এ অবস্থিত হাসিনার বাসভবনে পৌঁছান। সেখানে তিনি দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করেন এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্তে আলাপ করেন। এই দীর্ঘ সময়ে ভারতের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
৪৫০০ কোটি টাকার চুক্তি ও ষড়যন্ত্র
এই বৈঠকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য এস আলমের কাছে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চান এবং এস আলম এতে সম্মতি দেন। এই অর্থ নির্দিষ্ট কিছু খাতে খরচ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে:১. আন্তর্জাতিক লবি ও বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকদের আওয়ামী লীগের পক্ষে আনা।
২. নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দেশজুড়ে নাশকতা সৃষ্টি করে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিদায় নিতে বাধ্য করা।
৩. সরকারি আমলা, পুলিশ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কিনে ফেলা।
৪. দলীয় নেতাকর্মীদের জামিনের জন্য খরচ করা।
৫. এস আলমের সুগার রিফাইনারিসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মাধ্যমে আন্দোলন সংগঠিত করা।
এই অর্থ গ্রহণ, বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন— আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
সূত্র : আমার দেশ।
পাকিস্তান-বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতায় দিল্লির উদ্বেগ
মাস্কাটে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠককালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রসঙ্গ আপাতত না তোলাই ভালো। কারণ, কোন দেশটির কারণে এবং কেন সার্ক অচল হয়ে আছে, তা জোটের সদস্য দেশগুলোর ভালো মতোই জানা। জয়শংকর এও বলেন, সার্কের কথা বলা মানে সেটাকে ‘পাকিস্তানের সুরে সুর মেলানো’ হিসেবেই দেখবে ভারত।
জয়শংকরের এমন মন্তব্যের পর গত ছয় মাসে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং যোগাযোগ—প্রায় সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সহযোগিতা নিবিড়তর হচ্ছে। ঢাকা ও ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান এই ঘনিষ্ঠতা যে দিল্লিকে অস্বস্তিতে ফেলছে, তা সহজেই অনুমেয়। ভারতের সামরিক কর্মকর্তারাও মনে করছেন, পাকিস্তান, চীন ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা স্বার্থের ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘অভিন্নতা’ দেখা যাচ্ছে, যা ভারতের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারত ও বাংলাদেশের এই নতুন আঞ্চলিক সমীকরণে ভারত কেন বিচলিত, তার কয়েকটি কারণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নিরাপত্তা ঝুঁকি: ভারতের সাবেক কূটনীতিক ভিনা সিক্রি বলেছেন, তিনি যখন ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার ছিলেন, তখন বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে একই রকম ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর জন্য অস্ত্র পাচারের ঘটনা ঘটেছিল। এখন আবার বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উদ্বিগ্ন। তারা আশঙ্কা করছেন, ভারত-বাংলাদেশের চার হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ স্থলসীমান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতের বিরুদ্ধে আবার সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা শুরু হতে পারে।
২. ভূরাজনৈতিক সমীকরণ: লন্ডন-ভিত্তিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রিয়জিৎ দেবসরকারের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ওয়ার্ল্ডভিউ’ এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এই ঘনিষ্ঠতার সম্পর্ক রয়েছে। ট্রাম্প এই অঞ্চলে ভারতকে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে দেখতে চান না, বরং তিনি পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশকে ‘ইকুয়াল ফুটিং’-এ বা এক কাতারে ফেলতে চান। ফলে ঢাকা ও ইসলামাবাদকে কাছাকাছি আনার পেছনে ওয়াশিংটনেরও প্রচ্ছন্ন সমর্থন আছে। পাকিস্তানের ‘ব্লিড ইন্ডিয়া উইথ আ থাউজ্যান্ড কাটস’ নীতিকে সফল করতে এই পদক্ষেপ তাদের স্বার্থের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।
৩. আদর্শিক লড়াই: ভারতের সাবেক আইপিএস অফিসার শান্তনু মুখার্জি মনে করেন, এটি কেবল সামরিক বা নিরাপত্তাগত উদ্বেগ নয়, বরং একটি আদর্শিক ও চিন্তা-চেতনাগত দুর্ভাবনার বিষয়। পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি দিয়ে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে জিন্নাহ বা আল্লামা ইকবালের আদর্শে নতুন প্রজন্মকে দীক্ষিত করতে চাইছে, যা রবীন্দ্রনাথের চিন্তাধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মুখার্জি বলেন, পাকিস্তান একাত্তরকে ‘ভারতের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরার যে বয়ান দিয়ে থাকে, সেটিই এখন বাংলাদেশে প্রাধান্য পাচ্ছে।
বাণিজ্য: গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ বহু বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করে।
কূটনীতি ও যোগাযোগ: ভিসা শিথিল করা এবং ঢাকা-ইসলামাবাদ সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং একাত্তরের গণহত্যার মতো স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়েও কথা বলতে দ্বিধা করেননি। তিনি বাংলাদেশিদের ‘হৃদয় পরিষ্কার করে’ সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামরিক ও রাজনৈতিক বৈঠক: পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা একে অপরের দেশে সফর করছেন। ইশহাক দার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও দেখা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে এনআইডি কার্যক্রম শুরু: ওয়াশিংটন, নিউইয়র্কসহ ৪ শহরে মিলবে সেবা
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দেশটিতে বসবাসরত অনেক প্রবাসী বিভিন্ন সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, কারণ তাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই। এই সমস্যা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি শহরে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডার মায়ামি এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে। এসব অঞ্চলে প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন, যাদের অনেকেই হয়তো এনআইডি চালু হওয়ার আগে দেশত্যাগ করেছেন। আগামী মাসেই এই কার্যক্রম শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, এই কার্যক্রমের জন্য দুটি প্রশাসনিক ও চারটি কারিগরি টিম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে। প্রশাসনিক টিমটি কার্যক্রম তদারকি করবে, এবং কারিগরি টিম চারটি মিশনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবে।
প্রশাসনিক টিম: ইসি সচিব আখতার আহমদের নেতৃত্বে একটি টিম নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিতে যাবে, এবং এনআইডি মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে আরেকটি টিম মায়ামি ও লস অ্যাঞ্জেলেসে যাবে। তারা ১৯ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন।
কারিগরি টিম: চারটি টিমে চারজন করে মোট ১৬ জন সদস্য যাবেন। তারা ১২ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দূতাবাসের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এই কার্যক্রমের সব খরচ স্মার্টকার্ড বা আইডিইএ-২ প্রকল্প থেকে বহন করা হবে।
বর্তমানে দশটি দেশের ১৭টি মিশনে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইসি। দেশগুলো হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও জাপান। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ওমান, দক্ষিণ আফ্রিকা, জর্ডান এবং মালদ্বীপেও এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সীমিত পরিসরে হলেও প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায় তার কমিশন। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের মতো আমরা নির্বাচন কমিশনও আগামী নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ইসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৪০টি দেশে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৪ জন বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী সৌদি আরবে (৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮৮ জন) এবং সবচেয়ে কম নিউজিল্যান্ডে (২ হাজার ৫০০ জন)। পর্যায়ক্রমে এসব দেশেও ভোটার বা এনআইডি কার্যক্রম চালু করা হবে।
/আশিক
প্রকৌশলীদের রেষারেষির নেপথ্যে ‘চাকরি সংকট’
দেশের প্রকৌশলীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে বৈষম্য ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করছেন। এক পক্ষে আছেন বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীরা, যাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সহ অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অন্য পক্ষে আছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা, যারা দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাস করেছেন। উভয় পক্ষই নিজ নিজ দাবি নিয়ে আন্দোলন করায় তাদের এই দ্বন্দ্ব এখন চরমে পৌঁছেছে।
বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের দুর্দশা
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চার বছরের স্নাতক কোর্স সম্পন্ন করেছেন আবু সুফিয়ান। ২০২০ সালে পড়ালেখা শেষ করেও পছন্দমতো চাকরি না পাওয়ায় বর্তমানে তিনি একটি দেশীয় অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, যেখানে তিনি সন্তুষ্ট নন। তিনি সরকারি চাকরির চেষ্টা করছেন, এমনকি দশম গ্রেডের পদেও। তবে এই গ্রেডের অনেক পদ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য সংরক্ষিত থাকায় তাদের সুযোগ খুবই সীমিত।
আবু সুফিয়ান বলেন, “বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির নিরাপত্তা নেই। আমাদের জন্য সরকারি চাকরির পদসংখ্যা খুবই সীমিত। দশম গ্রেডে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে অনেক জনবল প্রয়োজন হয়, যা সব ডিপ্লোমাধারীরা পাচ্ছেন। একচেটিয়াভাবে তাদের দশম গ্রেড দিয়ে দেওয়ায় বুয়েট-রুয়েট-চুয়েট-কুয়েট থেকে পড়েও অনেকে বেকার।”
বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা যেসব পদে চাকরি পান, তার মধ্যে নবম গ্রেডের সহকারী প্রকৌশলী পদটি বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ হয়। কিন্তু ৩১ থেকে ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে মাত্র ৪৬৮টি সহকারী প্রকৌশলী পদ ছিল। অথচ প্রতি বছর প্রায় এক লাখ বিএসসি গ্র্যাজুয়েট বের হন।
তাদের তিনটি প্রধান দাবি হলো:
১. নবম গ্রেডের সহকারী প্রকৌশলী পদে শুধু পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ এবং ন্যূনতম যোগ্যতা বিএসসি ডিগ্রি করা।
২. দশম গ্রেডে ডিপ্লোমাধারীদের পাশাপাশি বিএসসি ডিগ্রিধারীদেরও আবেদনের সুযোগ দেওয়া।
৩. শুধু বিএসসি সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীরাই যেন নামের সঙ্গে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ লিখতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।
প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি এম ওয়ালীউল্লাহ বলেন, “বুয়েটে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা সুযোগ পান। অথচ তাদের চাকরির পরীক্ষায় আবেদনই করতে দেওয়া হচ্ছে না। উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদটি শুধু ডিপ্লোমাধারীদের জন্য বরাদ্দ করে দেওয়া অন্যায়।”
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ৭ দফা দাবি
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা হাতে-কলমে শেখার কারণে নিজেদের কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ জনশক্তি দাবি করেন। তাদের পেশাজীবী সংগঠন ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) এর নেতৃত্বে তারা ৭ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন।
তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
১. উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদগুলো শুধু ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বরাদ্দ রাখা।
২. সহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির জন্য ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা রাখা।
৩. তাদের ‘ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য আব্দুল আহাদ বলেন, “ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররাই প্রকৃত প্রকৌশলী। আমরা হাতে-কলমে শিখছি। বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা কর্মক্ষেত্রে গিয়ে আমাদের কাছে ধরনা দেন, কারণ তারা তত্ত্বীয় বিষয়গুলো পড়লেও কাজে পারদর্শী নন।”
আইডিইবির অন্তর্বর্তী আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেন বলেন, “ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররাই মাঠে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। অথচ বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা তাদের সব খাত থেকে বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। এটা মেনে নেওয়া হবে না।”
সংকটের কারণ ও সমাধান
শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিএসসি ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের এই রেষারেষির মূল কারণ চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা। এটি একটি ‘ইগো’র লড়াইও বটে। বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা ডিপ্লোমাধারীদের ‘ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে সম্বোধন করতে চান না, বরং তাদের ‘ডিপ্লোমা টেকনোলজিস্ট’ হিসেবে দেখতে চান।
অন্যদিকে ডিপ্লোমাধারীদের দাবি, বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করেন, কিন্তু হাতে-কলমে কাজে পারদর্শী নন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৌশল খাতে সব ধরনের প্রকৌশলীকেই প্রয়োজন। ভিন্ন ভিন্ন দক্ষতার কারণে তারা ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে পারদর্শী হবেন। একটি পদে শুধু এক ধরনের প্রকৌশলী চাকরি পাবে—এই নীতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সবার দৃষ্টি সরকারি চাকরির দিকে। সবাই শর্টকাট খুঁজছে, দক্ষ জনশক্তি হয়ে ওঠার দিকে নজর দিচ্ছে না। এটিই আজকের এই সংকটের মূল কারণ।”
সরকারের উদ্যোগ
এই সংকট সমাধানের জন্য সরকার চারজন উপদেষ্টার সমন্বয়ে ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, উভয় পক্ষের কথা শুনে একটি ন্যায্য সমাধান করা হবে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- মসজিদে প্রবেশের আগে যে ছোট কাজটি আনতে পারে রহমত
- কেন প্রতিদিন লেখার চর্চা আপনাকে করে তুলতে পারে আলাদা? জানুন কিভাবে
- কেন আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি- মনোবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ
- সবজির পর এবার অন্য যেসব খাতে আগুন
- আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের অভূতপূর্ব মন্তব্য
- নকলায় বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ ২৪ নেতা-কর্মীর
- নদী ভাঙন রোধে কী পরিকল্পনা জানালেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী
- স্বাধীনতা দিবসে সব নাগরিককে নগদ অর্থ দেবে সরকার
- নিহত গাজা সাংবাদিকের চিঠি পড়ে কেঁদে ফেললেন জাতিসংঘে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত
- গাজা উপত্যকায় রাতভর তাণ্ডব
- রোডম্যাপ গতানুগতিক ও বিভ্রান্তিকর: জামায়াত সেক্রেটারি
- জুলাইয়ে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ
- টি-টোয়েন্টিতে ২০০ রানের লক্ষ্য, অভ্যাস গড়তে চায় বাংলাদ: লিটন দাস
- ইয়েমেনের সানায় ইসরায়েলের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
- এআই দিয়ে তৈরি করা ছবির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: ডিএমপি
- ডিএমপি কার্যালয় অভিমুখে মিছিল শেষে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের
- গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড: নতুন অধ্যাদেশের নীতিগত অনুমোদন
- ইসি’র রোডম্যাপে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
- ইসি’র রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল: ‘বিএনপি সরকারের পাশে আছে’
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ
- ডিএসই ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের আজকের লেনদেনের সামগ্রিক বিশ্লেষণ
- ২৮ আগস্ট দরপতনের তালিকায় শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- ২৮ আগস্ট শীর্ষ ১০ গেইনার তালিকা
- ডিএসইতে শীর্ষ ২০ শেয়ারের তালিকায় আধিপত্য যে দুই কোম্পানির
- ডিআরইউতে লতিফ সিদ্দিকীসহ আ.লীগ নেতাদের অবরুদ্ধ করে রাখল ‘জুলাই যোদ্ধারা’
- সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় আটকে আছে ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব: বিটিআরসি
- দিল্লির গোপন বৈঠক ফাঁস: হাসিনা ও এস আলমের ষড়যন্ত্র, নেপথ্যে ৪৫০০ কোটি টাকা
- পুলিশের পোশাকে বিড়াল, হৃদয় জয় করে থানায় রাজত্ব করছে ‘নারুতো’
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪ প্রতিনিধির ছাত্রদলে যোগদান
- গাজার অবরোধের জবাবে ইয়েমেনের সামরিক অভিযান: আল-লিদ্দ বিমানবন্দরে হামলা
- পাকিস্তান-বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতায় দিল্লির উদ্বেগ
- বুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, ফাঁকা ক্যাম্পাসে বন্ধ ক্লাস–পরীক্ষা
- বিকেলে ব্যাংকে ঢুকে লুকিয়ে ছিল যুবক, রাতে ডাকাতির চেষ্টার সময় আটক
- বেইজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজে কিম ও পুতিন, বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা
- ছেলের আত্মহত্যার জন্য দায়ী ChatGPT’: কাঠগড়ায় OpenAI
- প্রতারণার অভিযোগে শাহরুখ ও দীপিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
- লুঙ্গি-গেঞ্জি পরে পালিয়েছেন শামীম ওসমান: যুবদল নেতা রনি
- এই এক ফলই যথেষ্ট: মাত্র এক সপ্তাহে দূর হবে কোষ্ঠকাঠিন্য
- প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও নীরবতা
- যুক্তরাষ্ট্রে এনআইডি কার্যক্রম শুরু: ওয়াশিংটন, নিউইয়র্কসহ ৪ শহরে মিলবে সেবা
- ডিএসই টিমের তদন্তে অপ্রত্যাশিত তথ্য ফাঁস
- ডার্ক চকলেটের জাদু: মস্তিষ্ক সচল রাখার এক গোপন রহস্য
- বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ডিএসই’র নতুন উদ্যোগ
- শেয়ারবাজারে বিভ্রান্তি রুখতে ডিএসই বার্তা
- জোড়া গোল করে দলকে ফাইনালে তুললেন মেসি
- মূলধন বাজারে বিনিয়োগে সতর্কবার্তা দিলো বিএসইসি
- দেশের ৬ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়, বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
- মার্কেটিং ও উদ্যোক্তাবৃত্তিতে গল্প বলার চার বৈজ্ঞানিক নীতি
- ডিএসই প্রকাশ করল নতুন মার্জিন ঋণযোগ্য সিকিউরিটিজ তালিকা
- মাহাথির মোহাম্মদ ও মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক রূপান্তর: নীতি, সংস্কার ও উত্তরাধিকার
- অমীমাংসিত ইস্যু সরকারের বিষয়, মুসলিম বিশ্বের ঐক্য শক্তিশালী করার আহ্বান জামায়াতের
- পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে ভাবতে চায় এনসিপি, ৭১-এর অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান
- ২৭ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৬ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- মুক্তিযুদ্ধের নাম কি তবে ‘৭১ ডিল’: মেহের আফরোজ শাওন
- ২৭ আগস্টের বন্ড মার্কেট আপডেট: কিছু বন্ডে দরপতন, বেশিরভাগই স্থবির
- ২৬ আগস্ট শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া বিপ্লব অসম্পূর্ণ: ডা. তাহের
- নাইজেরিয়ার বাজারে ডেরিকা: টমেটো পেস্ট থেকে মাপের এককে রূপান্তরের গল্প
- ২৪ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- ২৫ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- সার্কিট ব্রেকারে তালিকাভুক্ত দুই শীর্ষ কোম্পানি
- মাহফুজ আলমের উপস্থিতিতে নিউইয়র্কে কনস্যুলেটে আওয়ামী সহিংসতা, নিন্দার ঝড়