নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন জামায়াতের এই নেতা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ১১ ১৬:০২:২১
নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন জামায়াতের এই নেতা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সর্বউত্তর-পশ্চিম প্রান্তের সীমান্তবর্তী জেলা ঠাকুরগাঁও, যার পাঁচটি উপজেলা নিয়ে গঠিত তিনটি সংসদীয় আসন দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে আছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই “ভিআইপি আসন” হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক ঐতিহ্য, প্রভাবশালী নেতৃত্বের উপস্থিতি এবং অতীতের সাফল্যের ধারাবাহিকতা—সব মিলিয়ে এই আসন ঘিরে প্রতিবারের নির্বাচনী মৌসুমে সারা দেশের দৃষ্টি এখানে নিবদ্ধ থাকে। ইতিহাস বলছে, এ আসন থেকে চারজন রাজনীতিক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনই সরকারের মন্ত্রীসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় নেতৃত্বে তার অবস্থান অদ্বিতীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই, প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে তার পক্ষে নির্বাচনী তৎপরতা ইতোমধ্যেই জোরদার হয়েছে। পোস্টার, লিফলেট, উঠান বৈঠক, পথসভা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তার জনপ্রিয়তাকে আরও দৃঢ় করছেন। দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা ও বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে জনসমর্থনে তিনি এগিয়ে আছেন এবং নির্বাচনী লড়াইয়েও সেই ধারা অব্যাহত রাখবেন।

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন শুধু নেতৃত্ব নয়, প্রতিরোধেরও ইতিহাস। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার, দীর্ঘ কারাবাস, নির্যাতন এবং শতাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়া সবকিছুই তার রাজনৈতিক যাত্রার অংশ। টানা ১৭ বছর ধরে তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন, যা স্থানীয় কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানা ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক দমননীতির মাঝেও তার নেতৃত্বে বিএনপির স্থানীয় কাঠামো দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকেছে, যা আসন্ন নির্বাচনে তার জন্য একটি বড় সম্পদ।

মির্জা ফখরুলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে যে নামটি সামনে আসছে, তিনি ইসলামী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ দেলোয়ার হোসেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঠাকুরগাঁও উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। তার নেতৃত্বে জামায়াতপন্থি কর্মী ও সমর্থকরা ইতোমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছেন। ব্যানার, পোস্টার, সামাজিক মাধ্যম এবং সরাসরি জনসংযোগের মাধ্যমে তিনি জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, দিচ্ছেন সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি।

দেলোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক পথচলা প্রতিকূলতায় ভরা। ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে থাকাকালে তাকে গ্রেপ্তার করে মাসের পর মাস থানায় থানায় ঘুরিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। অন্তত দেড়শো মামলা কাঁধে নিয়ে তিনি এক দশকেরও বেশি সময় আদালতের দোরগোড়ায় ছুটেছেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই আসনে অতীতে তিনটি রাজনৈতিক শক্তির শাসন মানুষ দেখেছে, কিন্তু কেউই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ উপহার দিতে পারেনি। এখন জনগণ সৎ, দক্ষ, দেশপ্রেমিক এবং আল্লাভিরু নেতৃত্বের অপেক্ষায় আছে। আমরা সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য কাজ করছি।”

এই আসনে প্রধানত বিএনপি ও জামায়াতপন্থি প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ থাকবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তেমন সক্রিয়তা এখনো দৃশ্যমান নয়। কিছু ক্ষুদ্র কর্মসূচি ছাড়া কোনো শক্তিশালী প্রার্থী মাঠে আসার ইঙ্গিত মেলেনি। ফলে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যেই সীমিত থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

-রাফসান


বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ এ তারেক রহমানের জয়

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ২৩:৩৫:১৭
বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ এ তারেক রহমানের জয়
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭—দুই আসনেই বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, উভয় আসনেই তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

ঢাকা-১৭ আসনের ৪১টি কেন্দ্রের গণনা শেষে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে তারেক রহমান মোট ৫৬ হাজার ৩৮১ ভোট অর্জন করেছেন। একই সময়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৫৩৮ ভোট। এ হিসেবে এখন পর্যন্ত তারেক রহমান ৩১ হাজার ৮৪৩ ভোটে এগিয়ে আছেন।

কেন্দ্রভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাটিডালী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সর্বাধিক ভোট পেয়েছেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি ১ হাজার ৯৫১ ভোট লাভ করেন, বিপরীতে আবিদুর রহমান সোহেল পান ১ হাজার ৯৯ ভোট। এরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কেন্দ্রেও ধানের শীষ প্রতীক এগিয়ে ছিল; সেখানে তারেক রহমান ১ হাজার ৮৩৪ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১ হাজার ৪ ভোট পান।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত পর্যন্ত প্রাপ্ত সব কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা গেছে, ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষ প্রতীক সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে। নির্বাচনী সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পর ফলাফল চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনেও একই চিত্র দেখা গেছে। বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াজেদ নিশ্চিত করেছেন যে, বেসরকারি ফলাফলে তারেক রহমান এগিয়ে রয়েছেন এবং বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।

-রাফসান


ঠাকুরগাঁও-১ এ মির্জা ফখরুলের রেকর্ড জয়

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ২২:৪৯:৩৪
ঠাকুরগাঁও-১ এ মির্জা ফখরুলের রেকর্ড জয়
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রার্থী ১৮৫টি কেন্দ্রের গণনা শেষে মোট ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট অর্জন করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পান ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। ফলে দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ৯৫ হাজার ৪৯১।

একই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম তুলনামূলক কম ভোট পেয়ে ৩ হাজার ৮৩৩ ভোটে সীমাবদ্ধ থাকেন। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শহরাঞ্চল ও গ্রামীণ ইউনিয়ন—উভয় জায়গাতেই বিএনপি প্রার্থী ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ভোট গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পর ফলাফল চূড়ান্ত হবে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

-রাফসান


বগুড়া-৬ এ তারেক রহমানের জয়

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ২২:২১:৪৭
বগুড়া-৬ এ তারেক রহমানের জয়
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রভিত্তিক গণনা ও ফল সংকলনের পর প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেছেন।

জেলা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পরই তার অগ্রগতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রাপ্ত ভোটের ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, শহর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোতে তিনি স্থিতিশীল লিড ধরে রাখতে সক্ষম হন। বিশেষ করে বড় ভোটকেন্দ্রগুলোতে তার প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গণনা প্রক্রিয়া বিকেল সাড়ে চারটার পর শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল নির্ধারিত সরকারি ফরমে লিপিবদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সমন্বিত ফলাফল প্রস্তুত করা হয়।

-রফিক


নিজ কেন্দ্রে ৫ ভোটে হারলেন জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ২২:১৩:৩২
নিজ কেন্দ্রে ৫ ভোটে হারলেন জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ চিত্র সামনে এসেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান তার নিজ ভোটকেন্দ্রে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। প্রাথমিক ও বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, মাত্র পাঁচ ভোটের ব্যবধানেই এই কেন্দ্রের ফল নির্ধারিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ডা. মো. শফিকুর রহমান পেয়েছেন ৫৬০ ভোট। বিপরীতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান অর্জন করেছেন ৫৬৫ ভোট। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পাঁচ ভোটের ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত হয়েছে বিএনপির প্রার্থীর।

কেন্দ্রটির ফলাফল ঘিরে সারাদিনই ছিল টানটান উত্তেজনা। গণনার সময় উভয় পক্ষের এজেন্টরা প্রতিটি ব্যালট সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ব্যবধান ছিল খুবই সামান্য, যা রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করে।

নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখন পর্যন্ত গৃহীত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, নিজ কেন্দ্রে সামান্য ব্যবধানে পরাজয় প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে, বিশেষত যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতা। যদিও এটি কেবল একটি কেন্দ্রের ফলাফল, তবুও রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে এর তাৎপর্য রয়েছে।

ঢাকা-১৫ আসনের অন্যান্য কেন্দ্রের ফলাফল এখনও পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হচ্ছে। সামগ্রিক আসনভিত্তিক ফল চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। তবে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ইতোমধ্যেই নির্বাচনী আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

-রফিক


রংপুর-৪ আসনে এনসিপির বিশাল লিড: শাপলা কলির ঝড়ে কাঁপছে পীরগাছা-কাউনিয়া!

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ২১:৪৯:৩৬
রংপুর-৪ আসনে এনসিপির বিশাল লিড: শাপলা কলির ঝড়ে কাঁপছে পীরগাছা-কাউনিয়া!
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে বড় বড় রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে দিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই আসনে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আখতার হোসেন প্রাথমিক ভোট গণনায় এক বিশাল ব্যবধান তৈরি করেছেন। ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮০টি কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলাফল জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা কলি মার্কায় পেয়েছেন মোট ৭৪,৮০০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৯,৫১২ ভোট। অর্থাৎ ৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলেই আখতার হোসেন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১৫,২৮৮ ভোটের এক শক্তিশালী ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

রংপুর-৪ আসনে মোট ১৬৩টি কেন্দ্র রয়েছে। অর্ধেকের কাছাকাছি কেন্দ্রের এই ফলাফল নির্দেশ করছে যে, এই অঞ্চলের মানুষ নতুন রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকছে। সারাদেশে ২৯৯টি আসনে চলা এই ভোটযুদ্ধে রংপুর-৪ আসনটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর এই বিশাল প্রতিযোগিতায় শাপলা কলির এই অগ্রগতি এনসিপি সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

সারা দেশে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের এই মহাযজ্ঞে রংপুর-৪ আসনের বাকি ৮৩টি কেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহের কাজ এখন দ্রুতগতিতে চলছে। পীরগাছা ও কাউনিয়ার রাজপথে এখন শাপলা কলি সমর্থকদের উল্লাস চোখে পড়ার মতো। আখতার হোসেন কি এই বড় লিড ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের মালা পরবেন, না কি প্রবীণ রাজনীতিবিদ এমদাদুল হক ভরসা অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ঘুরে দাঁড়াবেন—তা দেখার জন্য পুরো রংপুর এখন রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায়।


ঢাকা-১৫ আসনে দাপুটে লিড ডা. শফিকুর রহমানের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ২১:৩৭:৩২
ঢাকা-১৫ আসনে দাপুটে লিড ডা. শফিকুর রহমানের
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানী ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-১৫ (মিরপুর, ডিএনসিসি ৪, ১৩, ১৪ এবং ক্যান্টনমেন্ট ১৬ নম্বর ওয়ার্ড) এর নির্বাচনী ফলাফল এখন এক রুদ্ধশ্বাস পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁর প্রাথমিক লিডকে এক বিশাল ব্যবধানে নিয়ে গেছেন। মোট ১২৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৬টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে।

ঘোষিত এই ৬৬টি কেন্দ্রের সম্মিলিত ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান পেয়েছেন মোট ৪১,৩৯০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৩০,৩২৬ ভোট। অর্থাৎ এই মুহূর্তে ডা. শফিকুর রহমান তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১১,০৬৪ ভোটের এক শক্তিশালী ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

ঢাকা-১৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। ১২টি রাজনৈতিক দলের এই মহাযুদ্ধে মিরপুরের ১২৭টি কেন্দ্রের প্রতিটি থেকেই এখন ফলাফল আসার অপেক্ষা। সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আসনটিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। যদিও দুপুর পর্যন্ত সারাদেশের কিছু কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গিয়েছিল, তবে মিরপুরের এই কেন্দ্রেগুলোতে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

বর্তমানে অবশিষ্ট ৬১টি কেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। মিরপুরের রাজপথে এখন উভয় দলের সমর্থকদের টানটান উত্তেজনা। ডা. শফিকুর রহমানের এই ১১ হাজার ভোটের লিড কি শেষ পর্যন্ত তাঁকে বিজয়ের মালা পরাবে, না কি শফিকুল ইসলাম খান অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ঘুরে দাঁড়াবেন—তা দেখার জন্য এখন পুরো ঢাকা শহর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।


কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লার বড় জয়

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ২১:২৪:১৫
কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লার বড় জয়
মোস্তাফিজুর রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, চর রাজিবপুর ও চিলমারী) আসনে এক চমকপ্রদ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে পাওয়া বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন মোট ৭৮,৯৪৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৭,৯৪৫ ভোট। অর্থাৎ মোস্তাফিজুর রহমান প্রায় ২০,৯৯৮ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হাফিজুর রহমান পেয়েছেন মাত্র ৯,৪৪৯ ভোট।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২২ হাজার ১৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় সমান, যারা আজ অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। রৌমারী ও চিলমারীর মতো দুর্গম চরাঞ্চলেও এবার ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মোস্তাফিজুর রহমানের এই বিজয়কে ওই অঞ্চলের জামায়াত নেতা-কর্মীরা জনগণের বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক রায় হিসেবে দেখছেন। রাত বাড়ার সাথে সাথে বিজয়ীদের কর্মী-সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যদিও কেন্দ্র থেকে বিজয় পরবর্তী সময়ে সংযত থাকার নির্দেশনা রয়েছে।


ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানার দাপুটে লিড

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ২০:৫৭:৪১
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানার দাপুটে লিড
ছবি: প্রথম আলো

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনের নির্বাচনী ময়দানে এখন বইছে উত্তেজনার ঝড়। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করা রুমিন ফারহানা প্রাথমিক ভোট গণনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। রাত ৮টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২টি কেন্দ্রের ফলাফল হাতে এসেছে। এতে রুমিন ফারহানা পেয়েছেন মোট ৯ হাজার ৬৪৮ ভোট।

অন্যদিকে, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব পেয়েছেন ৬ হাজার ৭৪৫ ভোট। প্রথম ১২টি কেন্দ্রেই রুমিন ফারহানা প্রায় ২ হাজার ৯০৩ ভোটের এক শক্তিশালী ব্যবধান তৈরি করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মোট কেন্দ্র ১৫১টি, যার মধ্যে বড় একটি অংশ সরাইল ও আশুগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত। যদিও ১২টি কেন্দ্রের ফলাফল পুরো আসনের চিত্র স্পষ্ট করার জন্য যথেষ্ট নয়, তবে রুমিন ফারহানার এই প্রাথমিক লিড তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। সরাইল ও আশুগঞ্জের কেন্দ্রগুলোর বাইরে এখন সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় এবং ফলাফল শোনার জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট ১৩৯টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হবে। রুমিন ফারহানা কি তাঁর এই লিড ধরে রেখে জয়ের মালা পরবেন, না কি জুনায়েদ আল হাবিব ঘুরে দাঁড়াবেন—তা দেখার জন্য পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া এখন প্রহর গুনছে।


ঝিনাইদহ-১ আসনে বিশাল জয় অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ২০:৪৩:১১
ঝিনাইদহ-১ আসনে বিশাল জয় অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে এক অভাবনীয় এবং বিশাল বিজয় অর্জন করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দেশের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি নিজেই তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এই বেসরকারি ফলাফলের তথ্য নিশ্চিত করেন। শৈলকুপার মাটি যে আজ ধানের শীষের দুর্গে পরিণত হয়েছে, তা এই বিপুল ব্যবধানই প্রমাণ করে দিচ্ছে।

বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত এবং শৈলকুপার সবগুলো কেন্দ্রের সমন্বিত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান পেয়েছেন মোট ১,৭১,৫৯৮ ভোট। অন্যদিকে, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫,৫৭৭ ভোট। ফলাফলে দেখা যায়, মো. আসাদুজ্জামান তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১,১৬,০২১ (এক লাখ ১৬ হাজার ২১) ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এই জয়ের খবর শৈলকুপার রাজপথে ছড়িয়ে পড়তেই উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। নেতা-কর্মীরা একে অপরকে মিষ্টি মুখ করাচ্ছেন এবং স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে এলাকা। সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেলের বিজয়কে কেবল একটি আসনের জয় নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। শৈলকুপার ভোটাররা তাঁদের অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আসাদুজ্জামানকে যে বিপুল ম্যান্ডেট দিয়েছেন, তা এই আসনের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করল।

পাঠকের মতামত: