ছাত্রদল
‘বিষ দাঁত উপড়ে ফেলবে ছাত্রদল’, বললেন সভাপতি রাকিব

রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত ছাত্রদলের ছাত্র সমাবেশে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে ছাত্রদলকে রুখে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রদলই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
রাকিবুল ইসলাম জানান, ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের নির্দেশে সারাদেশে অবরোধ কার্যকর করার সক্ষমতা রাখে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। যারা দেশের পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করতে চায়, ছাত্রদল প্রয়োজনে তাদের ‘বিষ দাঁত’ উপড়ে ফেলবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই ছাত্র সমাবেশটি আয়োজন করা হয় জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঘোষিত মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে অনুষ্ঠানটি কোরআন তেলাওয়াত এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়।
শাহবাগ মোড়ে টিএসসির দিকে মুখ করে তৈরি করা মঞ্চকে কেন্দ্র করে সমাবেশস্থলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে কাঁটাবন মোড় পর্যন্ত পুরো এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। কেউ জাতীয় পতাকা, কেউবা দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে অংশ নেয়।
সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ছাত্রদলের অভিভাবক তারেক রহমান। তিনি এই সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশের মূল পর্ব শুরু হয়। এরপর বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শ্যামল মালুম। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
সমাবেশমঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতারা।
/আশিক
ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর ও বেইজিং—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেগা সফরে যা কিছু থাকছে
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুনের এই দ্বৈত রাষ্ট্রীয় সফরটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি মালয়েশিয়া, অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক চীন। দুই দেশের এই শীর্ষ সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাংলাদেশের বাণিজ্য বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বহুপক্ষীয় জোটে নিজেদের অবস্থান পাকা করার একটি কৌশলগত মিশন।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম স্পষ্ট করেছেন যে, এই সফরে সরকারি অপচয় রোধে সফরসঙ্গীর সংখ্যা মাত্র ২৮ জনে সীমিত রাখা হয়েছে, যা বৈদেশিক সফরের ক্ষেত্রে একটি নতুন ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
মালয়েশিয়া মিশন (২১–২২ জুন): লক্ষ্য যখন শ্রমবাজার ও আসিয়ান
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে ২১ জুন (রোববার) দুপুরে কুয়ালালামপুর পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম এই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক মূলত রেমিট্যান্স এবং জনশক্তি কেন্দ্রিক হলেও, এবারের সফরে এজেন্ডার পরিধি অনেক বিস্তৃত।
প্রধান এজেন্ডা ও কৌশলগত আলোচনা:
জি-টু-জি (G2G) কর্মী নিয়োগের গতি বৃদ্ধি: মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট প্রথা দূর করে পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন শিল্প খাতে (বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং ও কনস্ট্রাকশন) আরও বেশি নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সেমিকন্ডাক্টর ও মাইক্রোচিপ শিল্পে অংশীদারিত্ব: মালয়েশিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং হাব। বাংলাদেশ তার হাই-টেক পার্কগুলোর উন্নয়নে মালয়েশিয়ার কারিগরি সহযোগিতা এবং যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানাবে।
আসিয়ান (ASEAN) সদস্যপদ ও রোহিঙ্গা সংকট: ২০২৬ সাল নাগাদ আসিয়ানের কার্যকর অংশীদার হতে চায় বাংলাদেশ। জোটের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য মালয়েশিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চায়। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আসিয়ানের সক্রিয় ভূমিকা দাবি করা হবে।
হালাল অর্থনীতি ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য: বিশ্বজুড়ে মালয়েশিয়ার হালাল সার্টিফিকেশন (JAKIM) অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশের উদীয়মান খাদ্য ও ওষুধ শিল্পকে এই হালাল ইকোসিস্টেমে যুক্ত করার রোডম্যাপ তৈরি হবে।
চুক্তি ও দলিল সইয়ের সম্ভাবনা:
১. মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA): দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য শুল্ক কমাতে এফটিএ বা প্রিফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (PTA) এর প্রাথমিক খসড়া চূড়ান্ত হতে পারে।২. সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রটোকল: পর্যটন ও দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করতে একটি সমঝোতা স্মারক।
চীন মিশন (২৩–২৬ জুন): সামার দাভোস ও বেইজিংয়ের মেগা ডিল
২২ জুন রাতে মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি চীনের উইন্ডো সিটি বা বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। চীনের এই পাঁচ দিনের সফরটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত—প্রথমটি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) মঞ্চে বাংলাদেশের বৈশ্বিক নেতৃত্ব উপস্থাপন এবং দ্বিতীয়টি বেইজিংয়ে শীর্ষ নেতাদের সাথে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক বোঝাপড়া।
২৩ জুন ২০২৬
সকাল (WEF শীর্ষ বৈঠক): বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও-র সাথে একান্ত বৈঠক। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব (4IR) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের তরুণদের যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা।
দুপুর (বহুপক্ষীয় কূটনীতি): সামার দাভোসে অংশ নেওয়া কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাইডলাইন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।
বিকেল (মূল ভাষণ): 'ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং global ল্যান্ডস্কেপ' সেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক তহবিল (Loss and Damage Fund) ছাড়ের দাবি তুলবেন তিনি।
সন্ধ্যা: চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং কর্তৃক আয়োজিত রাষ্ট্রীয় স্বাগত নৈশভোজে অংশগ্রহণ।
২৪ জুন ২০২৬
সকাল: 'ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল' প্রতিপাদ্যে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান।
দুপুর: চীনের দ্রুতগতির বুলেট ট্রেনে চেপে দালিয়ান থেকে বেইজিং যাত্রা। এর উদ্দেশ্য চীনের উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ। বেইজিংয়ে পৌঁছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে অবস্থান।
২৫ জুন ২০২৬
সকাল (অর্থনৈতিক কূটনীতি): চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (CPC) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের (Exim Bank) চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদা বৈঠক। বাংলাদেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সহজ শর্তে ঋণ ও রেয়াত সময় (Grace Period) বৃদ্ধির প্রস্তাব।
দুপুর (বিনিয়োগ সম্মেলন): বিডা (BIDA) আয়োজিত 'বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম'-এ চীনের শীর্ষ ৫০০টি কোম্পানির নির্বাহীদের সামনে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তুলে ধরে বক্তব্য।
বিকেল (আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক): গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক। দুই দেশের উপস্থিতিতে ১৫-১৭টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই।
২৬ জুন ২০২৬
সকাল: ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সাথে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা।
দুপুর (মাস্টার স্ট্রোক বৈঠক): চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এই বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চীনা সহায়তার (Currency Swap) মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
বিকেল: তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ঢাকার উদ্দেশ্যে বেইজিং ত্যাগ।
বেইজিংয়ে কী কী চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) হতে যাচ্ছে?
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চীন সফরে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। এর বিন্যাস নিচে দেওয়া হলো:
১৩টি সমঝোতা স্মারক (MoU): যার মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ইকোনমি, গ্রিন ডেভেলপমেন্ট, কৃষি প্রযুক্তি স্থানান্তর, এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা।
২টি মূল চুক্তি: অবকাঠামো নির্মাণ এবং বাণিজ্য সহজীকরণ সংক্রান্ত।
১টি কর্মপরিকল্পনা (Action Plan): আগামী ৫ বছরের জন্য চীন-বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদারিত্বের রোডম্যাপ।
১টি প্রটোকল: বাংলাদেশ থেকে নির্দিষ্ট কিছু কৃষিপণ্য (যেমন আম, চামড়া ও পাটজাত পণ্য) চীনে শুল্কমুক্ত রপ্তানির প্রটোকল।
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অগ্রগতি ও বেসরকারি খাত
এই সফরের অন্যতম বড় ফোকাস হলো বাংলাদেশে প্রস্তাবিত "চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল" (Chinese Economic Zone)। আনোয়ারা বা পটুয়াখালীতে পরিকল্পিত এই বিশেষ জোনে চীনের হেভি ইন্ডাস্ট্রি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সোলার প্যানেল) এবং বৈদ্যুতিক যান (EV) প্রস্তুতকারকদের আনার জন্য চীনের বেসরকারি খাতের নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি গোলটেবিল বৈঠক করবেন।
দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক প্রভাব (Analyst View):
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য (Balancing Act) রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি চীন ও মালয়েশিয়ার মতো পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে বাংলাদেশ তার "সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়" ও "সবার আগে বাংলাদেশ" নীতিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নিন, খুলনার সমাবেশ থেকে জামায়াত আমিরের ডাক
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি শোষণ-দুর্নীতিমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, "আগামীর বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কিংবা কোনো গোষ্ঠী বা পরিবারকে তোষামোদ করার জন্যও নয়। কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত না করে দুনিয়ার বুকে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত ও সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্যই এই বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবো না। সরকার যদি আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করে, তাহলে আমরা সরকারকেও ছেড়ে কথা বলবো না।"
বক্তব্যে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, "বিএনপি জাতির সাথে দেওয়া কথা রাখেনি। দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল করছেন। ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসুন এবং জনরায়কে সম্মান করুন। জনরায়কে সম্মান না করার পরিণতি কী হতে পারে, তা দফায় দফায় দেখার পরেও যদি শিক্ষা না হয়, তবে জীবনেও আপনাদের শিক্ষা হবে না।"
নির্বাচনী ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে যেন কোনো গৃহযুদ্ধ শুরু না হয়, সেই উদ্দেশ্যে শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন। তবে কারও চোখ রাঙানিকে তারা পরোয়া করেন না। খুলনাবাসীর ভোটের রায় চুরি ও কারচুপির মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সংসদে আমাদের যে শক্তি আছে, তা নিয়েই আমরা সিংহের মতো লড়াই করে যাব। ফয়সালা যদি সংসদে না হয়, তবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তের মাঠ-ঘাট থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে। আর সেই আগ্নেয়গিরির দাবানলে সমস্ত আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।" একটি চাঁদাবাজ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়তে তিনি যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
/আশিক
আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি ‘মাফিয়া পার্টি’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার এক বিশেষ অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান, সাবেক পুলিশ প্রধানের গ্রেপ্তার এবং রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অত্যন্ত কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দেশের চলমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বিশদভাবে তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শুরুতেই দেশের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তীব্র আক্রমণাত্মক ও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন, “আমরা আওয়ামী লীগকে বর্তমানে কোনো বৈধ বা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে মনে করি না; এটি মূলত একটি ‘মাফিয়া পার্টি’। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বর্তমানে তাদের সব ধরনের রাজনৈতিক ও প্রকাশ্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে।” তবে দলটির আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সরকারের বিশেষ সতর্কতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আগামী ২৩ জুন তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে তারা যেন দেশের কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা উসকানিমূলক কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে জন্য সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
আলোচিত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের অবস্থান ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের (Interpol) সহযোগিতায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ইতিমধ্যে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে দেশের আদালতে দায়ের হওয়া মামলাসহ প্রয়োজনীয় ও প্রাসঙ্গিক সব আইনি কাগজপত্র ইতিমধ্যে কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে দুবাই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, দেশটির সরকার দ্রুতই তাদের অভ্যন্তরীণ সব আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে।”
দেশের অভ্যন্তরীণ অপরাধ দমন এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীর অন্যতম অপরাধপ্রবণ এলাকা মোহাম্মদপুরের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মোহাম্মদপুর এলাকাটি গত বহু বছর ধরেই বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের একটি নিরাপদ অভয়ারণ্য বা চারণভূমি হয়ে রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। খুব দ্রুতই পুরো মোহাম্মদপুর এলাকাকে সম্পূর্ণ আইনি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে এবং এখানকার তালিকাভুক্ত ও চিহ্নিত সব অপরাধীকে গোড়া থেকে নির্মূল করা হবে।”
পুলিশের সাম্প্রতিক কর্মতৎপরতা এবং বাহিনীর সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “দেশে একটি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও জনগণের নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন, যা ইতিমধ্যে দেশের সব সাধারণ মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর এই প্রশংসনীয় ও গৌরবময় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং তাদের কাজের গতি আরও বেগবান করতেই আজ যোগ্য সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।”
/আশিক
শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তাপ: তিস্তা, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত বাস্তবতা

আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে শিলিগুড়ি করিডর বা কথিত ‘চিকেনস নেক’ আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, চীন-ভারত সীমান্ত, নেপাল, ভুটান এবং তিস্তা অববাহিকাকে ঘিরে সাম্প্রতিক কৌশলগত আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, ঢাকার সম্ভাব্য কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস, তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনা সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি এখন শুধু ভৌগোলিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
শিলিগুড়ি করিডর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সরু ভূখণ্ডই দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য এবং সিকিমকে স্থলপথে যুক্ত করে। এর উত্তরে নেপাল, ভুটান ও চীনঘেঁষা অঞ্চল; দক্ষিণে বাংলাদেশ। ফলে এই করিডরকে ঘিরে ভারতের নিরাপত্তা-পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই অগ্রাধিকার পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামরিক অবকাঠামো জোরদার, বিমানঘাঁটি উন্নয়ন, সীমান্ত নজরদারি এবং সংযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা বাড়ছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই প্রস্তুতির বড় কারণ শুধু বাংলাদেশ নয়; বরং চীন-ভারত সীমান্ত উত্তেজনা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা হিসাব।
বাংলাদেশের জন্যও এই অঞ্চলটি কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। রংপুর বিভাগ, তিস্তা নদী, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী—সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গ এখন শুধু কৃষি বা নদীনির্ভর অঞ্চলের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা, পানি-নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা উত্তরবঙ্গের কৃষি, জীবিকা, পরিবেশ ও জনজীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট, নদীভাঙন, চরাঞ্চলের অনিশ্চয়তা এবং কৃষিজ উৎপাদনের ঝুঁকি উত্তরাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা।
এই প্রেক্ষাপটে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের কাছে শুধু একটি নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নয়; এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি, পরিবেশ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন। নদী খনন, তীর সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সংরক্ষণ, কৃষি সেচ এবং নদীকেন্দ্রিক উন্নয়ন—এসব বিষয় প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত। তবে প্রকল্পে চীনা সহায়তার সম্ভাবনা ভারতের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভারতের দৃষ্টিতে, তিস্তা প্রকল্পের ভৌগোলিক অবস্থান শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি হওয়ায় এতে চীনের উপস্থিতি ভবিষ্যতে কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের দৃষ্টিতে, তিস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা এবং পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বিকল্প উন্নয়ন সহযোগী খোঁজা অস্বাভাবিক নয়।
লালমনিরহাট বিমানবন্দর ঘিরেও সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন পুরোনো এই বিমানক্ষেত্র পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কথাবার্তা হয়েছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, উত্তরবঙ্গে কোনো বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশেষ করে যদি তাতে চীনা কারিগরি বা আর্থিক সহযোগিতা থাকে, তাহলে তা ভারতের শিলিগুড়ি করিডর নিরাপত্তা-চিন্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখা হয়।
এ অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে চীন একটি বড় ফ্যাক্টর। সিকিম, অরুণাচল, তিব্বত এবং ভুটানঘেঁষা সীমান্ত অঞ্চল নিয়ে ভারত-চীন সম্পর্ক বহু বছর ধরেই সংবেদনশীল। ২০১৭ সালের দোকলাম সংকট দেখিয়েছে, হিমালয়সংলগ্ন সীমান্তে সামান্য উত্তেজনাও বড় কৌশলগত সংকটে রূপ নিতে পারে। চীন অরুণাচল প্রদেশকে ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকার করে না; অন্যদিকে ভারত এটিকে তার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে। এই বিরোধের প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়ি করিডর ভারতের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সেনা, সরঞ্জাম ও রসদ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এই করিডর গুরুত্বপূর্ণ স্থলসংযোগ।
তবে এই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় অতিরঞ্জিত, উত্তেজনাপূর্ণ ও অসমর্থিত দাবি ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও বাংলাদেশের ভূখণ্ড দখলের আশঙ্কা, কোথাও উত্তরবঙ্গকে বিচ্ছিন্ন করার কথিত পরিকল্পনা, কোথাও আবার ধর্মীয় উত্তেজনাকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের দাবি সামনে আসে। এসব দাবি জনমনে উদ্বেগ তৈরি করলেও এগুলোর অনেকটির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে আবেগনির্ভর প্রচারণার বদলে তথ্যভিত্তিক, রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। কারণ ভুল তথ্য বা উসকানিমূলক বয়ান শুধু জনমতকে বিভ্রান্ত করে না; বরং আঞ্চলিক সম্পর্ককেও আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলো—একদিকে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, অন্যদিকে আঞ্চলিক সংঘাত এড়িয়ে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা। ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী এবং বাণিজ্য, যোগাযোগ, নদী, সীমান্ত ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সম্পর্ক গভীরভাবে আন্তঃনির্ভরশীল। আবার চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে ঢাকার জন্য কোনো একপক্ষের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ রাখাও যুক্তিযুক্ত নয়। এখানে দরকার পরিপক্ব কূটনীতি, স্বচ্ছ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা সংবেদনশীলতা মাথায় রেখে উন্নয়ন সিদ্ধান্ত নেওয়া।
তিস্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান হওয়া উচিত স্পষ্ট ও বাস্তববাদী। প্রথমত, ভারত-বাংলাদেশ পানি বণ্টন আলোচনাকে নতুন গতিতে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশগত নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তৃতীয়ত, যে কোনো বিদেশি সহযোগিতা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। চতুর্থত, তিস্তা প্রকল্পকে কেবল ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার চোখে না দেখে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
অন্যদিকে ভারতের জন্যও বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের উদ্বেগকে উপেক্ষা করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য বৈষম্য, ভিসা জটিলতা, পুশ-ইন বিতর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বয়ানে বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন—এসব বিষয় দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ায়। যদি ভারত সত্যিই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও শিলিগুড়ি করিডরের স্থিতিশীলতা চায়, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে আস্থাভিত্তিক সম্পর্কই হবে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
সব মিলিয়ে শিলিগুড়ি করিডর, তিস্তা ও উত্তরবঙ্গকে ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। এই অঞ্চলকে ঘিরে ভারত, বাংলাদেশ ও চীনের কৌশলগত হিসাব ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে এই প্রতিযোগিতা যেন সংঘাত, আতঙ্ক বা উসকানিতে রূপ না নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে জরুরি।
বাংলাদেশের নীতি হওয়া উচিত শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ়; সহযোগিতামূলক কিন্তু আত্মসম্মানসম্পন্ন; উন্নয়নমুখী কিন্তু নিরাপত্তা-সচেতন। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, তিস্তার ন্যায্য পানি, সীমান্তের স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য—এই চারটি বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করেই ঢাকাকে এগোতে হবে। কারণ শিলিগুড়ি করিডর ভারতের জন্য যেমন কৌশলগত, তেমনি তিস্তা ও উত্তরবঙ্গ বাংলাদেশের জন্য অস্তিত্ব, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্ন।
এমপিদের জন্য ওভেন-ওয়াশিং মেশিনের দাবি, জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক
সংসদ সদস্যদের সরকারি বাসভবনে মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন ও পর্দার ব্যবস্থা করার দাবিকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে আজ তীব্র বাদানুবাদ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর একজন সদস্যের উত্থাপিত এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ওই সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোওভেন দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে আর বিতর্ক না করার আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সংসদ সদস্যদের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সমস্যা ও দাবি-দাওয়া হাউজে তুলে ধরা। সেখানে একজন সংসদ সদস্যের মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন ও পর্দার মতো ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়া সংসদের মর্যাদার সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য সংসদ ও সংসদ সদস্যদের ভাবমূর্তিকে জনগণের সামনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
পার্থ আরও মন্তব্য করেন, যদি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সত্যিই একটি মাইক্রোওভেনের প্রয়োজন হয়, তবে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সেটি কিনে দিতে প্রস্তুত আছেন। একই সঙ্গে তিনি রসিকতা করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সংসদ সদস্যদের জন্য ওয়াশিং মেশিনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।
পার্থের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান সংসদে বলেন, মাননীয় সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে যে কথাগুলো বলেছেন, স্পিকার নিজেই প্রথমে নাকজ করেছেন যে এটি পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় নয়। তিনি আরও বলেন, জামায়াত নেতা মজিবুর রহমান নিজের জন্য নয়, বরং সব সংসদ সদস্যের জন্য একটি সুবিধার কথা চেয়েছেন। স্পিকার যথার্থই বলেছেন যে এটি সংসদে না বলে কমিটির কাছে বলা যেত। কিন্তু সেই সূত্র ধরে আন্দালিব রহমান পার্থ যেভাবে গাড়ি-বাড়ি এবং ব্যক্তিগতভাবে জিনিসপত্র দেওয়ার অফার করলেন, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। উনার কাছে কেউ কিছু চায়নি যে উনি দান করবেন। সংসদ সদস্যদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত যাতে কেউ কারও সম্মানে আঘাত না করেন।
উভয় নেতার এই বাদানুবাদের প্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ সদস্যদের আবাসন ও সুযোগ-সুবিধা দেখভালের জন্য নির্দিষ্ট 'হাউস কমিটি' রয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনীয় বিষয় সেখানে উত্থাপন করাই নিয়ম। স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট সদস্য নিজের একার জন্য নয়, সংসদের সরকারি বাসভবনে বসবাসকারী সব সদস্যের সামগ্রিক সুবিধার জন্য বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।
স্পিকার এই ঘটনাটিকে গুরুতর কোনো অপরাধ নয় বলে মন্তব্য করেন। তবে তিনি যোগ করেন, যদিও এটি সংসদে না বললেই ভালো হতো, কারণ এতে জনমনে ভিন্ন ধরনের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। তবে বিষয়টি সদস্যদের প্রাপ্য সুবিধার মধ্যেও পড়তে পারে। আন্দালিব রহমান পার্থের উদ্দেশ্যে স্পিকার বলেন, যেভাবে আপনি একজন সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়ার অফার করেছেন, সেটি তার জন্য অসম্মানজনক মনে হতে পারে। তাই এই বিষয় নিয়ে আর বাড়াবাড়ির কোনো দরকার নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সবাইকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
/আশিক
প্রস্তাবিত বাজেট চানাচুর মার্কার মতো শুনলে ভালো লাগে খেলে পেট খারাপ হয়: আমির হামজা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘লুটপাটের বাজেট’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। তিনি এই বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কার’ সাথে তুলনা করে বলেন, "এ বাজেট অনেকটা চানাচুর মার্কার মতো; শুনতে ভালো লাগলেও খেলে পেট খারাপ হয়।"
বুধবার (১৭ জুন) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, জাতীয় বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় বাড়াতে কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ না বাড়িয়ে নতুন আয়ের উৎস খুঁজে বের করার তাগিদ দেন তিনি। দেশের অন্যতম বড় সমস্যা বেকারত্ব মোকাবিলায় শিল্পায়নে আরও বেশি বিনিয়োগ ও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দের সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি দীর্ঘদিনের অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও মাদ্রাসাগুলো পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। তিনি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং প্রতিটি জেলা শহরে একটি করে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা জাতীয়করণের জোর দাবি জানান।
কৃষি খাতের উন্নয়নে কৃষকদের জন্য স্বল্পমূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত করার আহ্বান জানান আমির হামজা।
পাশাপাশি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। তাদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে রেললাইন চালুর উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও এ বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। আগামী বাজেটে যেন এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন হয়, সেই দাবি জানান তিনি।
বাজেট নিয়ে সরকারের আশাবাদী বক্তব্যের সমালোচনা করে আমির হামজা বলেন, "সরকার দাবি করছে বাজেটকে ঘিরে দেশে আনন্দের বন্যা বইছে। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের বাস্তব চিত্রও দেখা গেছে।"
/আশিক
দেশি-বিদেশি মদদে আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি: নাহিদ ইসলাম
দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশি মদদে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, এই চক্রটি জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের পরিকল্পিতভাবে হেনস্থা, নিপীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংসদ নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে বলেন, "এর মধ্য দিয়ে আবারও আওয়ামী সন্ত্রাসী রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও পাশবিক চরিত্র জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। হিংস্রতা ও নিষ্ঠুরতায় তারা সভ্যতার সব সীমা অতিক্রম করেছে।" তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির এই বর্বরতায় উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে এমন কিছু কুশীলবকে, যারা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ছিল এবং গত ১৭ বছর ধরে গুম, খুন ও দমনের পক্ষে নির্লজ্জ সাফাই গেয়েছে।
গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদের অর্থায়নের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশ থেকে লুটপাট ও পাচার করা অর্থ এখন গণমাধ্যমে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম কার্যক্রম শুরু করেছে দাবি করে এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট জবাব চান তিনি। একই সঙ্গে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু গণমাধ্যম সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ঘিরে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচার করে অপরাধ লঘু করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আদালতের নির্দেশনার আলোকে গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রচার অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার এবং ফ্যাসিবাদীদের পক্ষে সম্মতি তৈরিকারী তথাকথিত সুশীল ও দালালচক্রকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বর্তমান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, "পতিত সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর দুঃসাহসের দায় সরকার এড়াতে পারে না। নির্বাচনের পর জুলাই গণহত্যাসহ অন্যান্য গণহত্যায় অভিযুক্ত নেতাদের একের পর এক মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের প্রতি একধরনের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এর ফলেই তারা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।" তিনি জুলাই গণহত্যাসহ সব রাজনৈতিক নিপীড়নে জড়িতদের বিচারের পাশাপাশি গণহত্যা ও সন্ত্রাসে সম্পৃক্ত সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার অবিলম্বে শুরু করার জোর দাবি জানান। পরিশেষে, দেশে-বিদেশে সক্রিয় আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ করতে তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
/আশিক
জুলাই সনদ সংসদে নিষ্পত্তি না হলে রাজপথে আদায়ের হুঁশিয়ারি ডা. শফিকুরের
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় সংসদে নিষ্পত্তি না হলে তা রাজপথে আদায় করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, জনগণের দাবি থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ তাদের নেই। তিনি বলেন, 'উই আর কমিটেড। আমরা আমাদের কমিটমেন্ট ভায়োলেট করতে পারি না। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। এই দাবি আজ হোক, কাল হোক আদায় হবে ইনশা-আল্লাহ।'
সংবিধান সংশোধনে সরকারি দলের প্রস্তাবিত কমিটিতে বিরোধী দল কোনো প্রতিনিধি দেবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দেন জামায়াত আমির। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার এবং সেই লক্ষ্যেই দেশে রেফারেন্ডাম বা গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ৭২ শতাংশ মানুষ যেখানে ভোট দিয়েছে, সংসদের ভেতরে এসে সেই রায়কে তারা বদলাতে চান না। তিনি মনে করেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য কোনো বিশেষ কমিটির প্রয়োজন নেই, এটি একটি রুটিনওয়ার্ক যা ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বিল আকারে এলে সংসদে আলোচনা হতে পারে। তবে সরকার যদি সংবিধান সংস্কারের জন্য কোনো প্রস্তাব দেয়, তখন তারা তা বিবেচনা করে দেখবেন।
সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের বর্তমান কার্যক্রম ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নোটিশের প্রসঙ্গও সভায় তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া স্টক মার্কেট এবং গুঁড়া হওয়ার উপক্রম হওয়া ব্যাংক খাত নিয়ে তারা সংসদে জনগণের পক্ষে কথা বলেছেন। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে বিরোধী দলের দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে তা কার্যসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেনসিটিভ ইস্যু হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে তারা এ নিয়ে আলোচনা চেয়েছিলেন।
অতীতের সংসদীয় সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে দেশের স্বার্থে একটি ভিন্নধর্মী ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারা কোনো 'বগলদাবা' বা সরকারি দলের আজ্ঞাবহ বিরোধী দল হবেন না। আবার একই সাথে তারা কোনো অনর্থক 'গরম' বিরোধী দলও হতে চান না, বরং একটি যৌক্তিক বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে চান। কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সুযোগ না পেলে তারা সাময়িক ওয়াক আউট করবেন, কিন্তু জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন করে দীর্ঘমেয়াদে সংসদ বর্জন করবেন না। সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় প্রতি মিনিটে এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা খরচ হয় উল্লেখ করে তিনি স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন সংসদে ব্যক্তিগত বা দলীয় চরিত্রহনন এবং কারও মনোরঞ্জন বা প্রশংসা করা বন্ধ করা হয়।
মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
বেনজীরকে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ যেভাবে উঠল এমপি বন্ধুর বিরুদ্ধে
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমদকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নয়, বরং তার বাসার কাছাকাছি একটি শপিং মল থেকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। একই সঙ্গে দুবাইয়ে সরকারি ছুটি শেষে মঙ্গলবার (১৬ জুন) তাকে আদালতে হাজির করা হতে পারে এবং সেদিনই তার জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই বেনজীর আহমদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাস করছেন। গত ১২ জুন বাসায় অবস্থান করার সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক সংসদ সদস্য, যিনি তার ব্যবসায়িক সহযোগী ও দীর্ঘদিনের পরিচিত হিসেবে পরিচিত, তাকে নিকটবর্তী একটি শপিং মলে দেখা করার জন্য ফোন করেন।
পরিবারের ভাষ্যমতে, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া দুবাই পুলিশের সদস্যরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। তারা আরও অভিযোগ করেছেন, ওই সময় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
পরিবারের দাবি, তারা দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছেন যে স্থানীয়ভাবে বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তাদের মতে, বাংলাদেশ পুলিশের আবেদনের পর ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি ব্যক্তিগত উদ্যোগে রেড নোটিশসংক্রান্ত নথিপত্র দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগেরও কোনো স্বাধীন যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।
বেনজীর আহমদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, আটকের পর দুবাই কর্তৃপক্ষ তার ভিসার বৈধতা, অবস্থানের উদ্দেশ্য এবং তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করেছে। পরে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নোটিশ কার্যকর রয়েছে এই তথ্য বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও বাংলাদেশ পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
এদিকে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তার পক্ষে দুবাইয়ে একজন স্থানীয় আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চলমান মামলাগুলোর প্রয়োজনীয় নথিপত্রও আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, ১২ জুন সীমিত পরিসরে আদালতের কার্যক্রম চললেও সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে পরবর্তী কয়েকদিন স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল। মঙ্গলবার থেকে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর তাকে আদালতে হাজির করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে বেনজীর আহমদ বর্তমানে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতেই বিষয়টি বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- সুইডেনের ইসাক নাকি ডাচ প্রাচীর ভ্যান ডাইক? বিশ্বকাপে আজ দুই লিভারপুল তারকার দ্বৈরথ
- ডিজিটাল স্বাক্ষরের পর এবার মাঠপর্যায়ের নজরদারি, সুইজারল্যান্ড যাচ্ছে ইরানি প্রতিনিধিদল
- অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটারের নির্মাণকাজ শুরু
- ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নয়, জ্লাতানের চোখে এবার বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার অন্য দল!
- হিজাব ছাড়া গান গাওয়ার অপরাধ: ইরানি গায়িকাসহ ৯ জনকে ৭৪ দোররা মারার নির্দেশ
- ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর ও বেইজিং—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেগা সফরে যা কিছু থাকছে
- প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে রাখা ৩ ইউনিয়নের নাম বদলের নির্দেশ সরকারের
- অবসরের ১১ বছর পর ফুটবল মাঠে ফিরছেন কিংবদন্তি রোনালদিনহো
- আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নিন, খুলনার সমাবেশ থেকে জামায়াত আমিরের ডাক
- নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত হিসাব: কার বেতন কত বাড়ছে দেখে নিন (১ম-২০তম গ্রেড)
- হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে চরম উত্তেজনা
- শীর্ষে থেকেও অস্বস্তিতে ব্রাজিল, শেষ ম্যাচের আগে মেলেনি দ্বিতীয় পর্বের টিকিট
- গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, খুদেদের সাথে ওড়ালেন জাতীয় পতাকা
- ইরানকে ট্রাম্পের ৬০ দিনের আলটিমেটাম, চুক্তি না হলে ‘অসুখকর’ পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
- উত্তরাঞ্চলের ৪ জেলায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার সতর্কতা
- আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি ‘মাফিয়া পার্টি’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- তিব্বতে চীনের মেগা বাঁধ, নতুন দুশ্চিন্তায় ভারত
- ইরান যুদ্ধে কৌশলগতভাবে পরাজিত ট্রাম্প: নিউইয়র্ক টাইমস
- ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬: টিভি ও মোবাইলে দেখার উপায়
- আনচেলত্তির সুখবর, যেদিন ফিরছেন ব্রাজিলের তারকা নেইমার
- ২০ জুনের নামাজের সময় প্রকাশ, দেখে নিন এখনই
- ভারতের জন্য কঠোর বার্তা দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
- আবার কমল স্বর্ণের দাম, জেনে নিন আজকের নতুন দাম
- আষাঢ়ের শুরুতেই দেশজুড়ে বৃষ্টির দাপট, ঢাকার আকাশ মেঘলা
- শনিবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে
- কসাইবাড়ী-আজমপুর-আবদুল্লাহপুরে বড় প্রকল্পের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- রিঙ্গিত ও রিয়ালের বাজারে সুখবর, একনজরে আজকের মুদ্রার রেট
- মাঠের লড়াইয়ে এবার জায়ান্টদের পরীক্ষা: নেদারল্যান্ডস-জার্মানি ও জাপানের নকআউটের লক্ষ্য
- বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সাম্বা ঝড়, নকআউটে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, মরক্কোর জয়
- শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তাপ: তিস্তা, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত বাস্তবতা
- পাঠ্যক্রমে ফুটবল-ক্রিকেট যুক্ত হচ্ছে, বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য যেসব সুবিধা বাড়ানো হয়েছে
- রঙিন খাবার কেন শরীরের জন্য জরুরি
- যুক্তরাষ্ট্রের সব শর্ত মানবে না ইরান: খামেনি
- জুমার দিনের ৫ বিশেষ আমল, যা বদলে দিতে পারে জীবন
- সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান
- বড় ধাক্কা শেষে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে যত
- ইরাক ম্যাচের আগে নতুন পরিকল্পনায় ফ্রান্স
- কোন চাপের মুখে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প
- বের হওয়ার আগে দেখে নিন আজ কোথায় মার্কেট বন্ধ
- স্বর্ণবাজারে নতুন রেকর্ড, বেড়েছে সব ক্যারেটের সোনার দাম
- সূর্যোদয়-সূর্যাস্তসহ আজকের পূর্ণ নামাজের সময়সূচি
- ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- ১৩ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে সংকেত
- আজ টিভিতে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়াসহ যত খেলা
- চুক্তিতে লাভবান ইরান, ধাক্কায় নেতানিয়াহু সরকার
- নর্থহ্যাম্পটনের মেয়র কর্তৃক ‘অনুপ্রেরণাদায়ক’ কমিউনিটি লিডার সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত
- হাইকোর্টে জামিন পেলেও কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনকে
- ঋণখেলাপিদের সংসদ মন্তব্য নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের তুমুল বিতর্ক
- সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত রেকর্ড বৃদ্ধি, তথ্য দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
- আজকের খেলার সূচি: বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ওভাল টেস্ট
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- দুই দিনেই আবার বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের নতুন দর
- দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!
- ১৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ‘এটা শান্তি নয়, আত্মসমর্পণ’—ট্রাম্পকে নিশানা
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে থাকছে যেসব ৯ বড় শর্ত
- সুইডেন থেকে স্পেন, আজ জমজমাট বিশ্বকাপ সূচি
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৫ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- দিল্লিতে আড়াই ঘণ্টা আটকে থেকে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
- অবসরভাতা প্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য সুখবর








