ছেলের ফল জালিয়াতি: কারাবন্দি সাবেক সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথ সাময়িক বরখাস্ত

চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০৭ ১৭:৫৬:৩৬
ছেলের ফল জালিয়াতি: কারাবন্দি সাবেক সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথ সাময়িক বরখাস্ত

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ছেলের এইচএসসি পরীক্ষার ফল জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগারে থাকায় তাঁকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সোমবার (৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব সিদ্দিক জোবায়ের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ১৭ জুন নারায়ণ চন্দ্র নাথ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ফলে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী ১৭ জুন থেকে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ বলেন, “সাবেক সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি, তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি পাইনি।”

নারায়ণ চন্দ্র নাথ চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে সচিব থাকাকালে তাঁর ছেলে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর ছেলের ফল জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্ত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের ৯ জুলাই নারায়ণ চন্দ্র নাথকে বোর্ড থেকে সরিয়ে মাউশির চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়।

২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মাউশির শৃঙ্খলা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব শতরূপা তালুকদারের সই করা এক আদেশে বলা হয়, তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। এজন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাঁর ছেলের ফলাফল বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।


তালসরায় গাউসিয়া কমিটির মানবিক উদ্যোগ: দুস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

রেজাউল মোস্তফা
রেজাউল মোস্তফা
স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৭:১৭:২৯
তালসরায় গাউসিয়া কমিটির মানবিক উদ্যোগ: দুস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ
ছবি : রেজাউল মোস্তফা

২১ ফেব্রুয়ারি গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ ৬নং ওয়ার্ড তালসরা শাখার উদ্যোগে প্রায় অর্ধশতাধিক অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয় এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে শাখার নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, মানবসেবাই সংগঠনের মূল লক্ষ্য এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে সকলের নিকট দোয়া কামনা করা হয় এবং সমাজের বিত্তবানদের এ ধরনের মহতী উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

ট্যাগ: চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে সিএসসিআর এর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

রেজাউল মোস্তফা
রেজাউল মোস্তফা
স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৬:১৪:৪১
চট্টগ্রামে সিএসসিআর এর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
সিএসসিআর চট্টগ্রাম ইফতার ২০২৬ /ছবি : রেজাউল মোস্তফা

শুক্রবার ২০/০২/২০২৬ চট্টগ্রাম ক্লাবের অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রামের প্রথিতযশা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সিএসসিআর এর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সিএসসিআর এর ত্রৈমাসিক প্রকাশনা 'CSCR Connect' এর মোড়ক উম্মোচন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডাঃ খুরশীদ জামিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোরসেদুল করিম চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন। 'CSCR Connect' এর মোড়ক উম্মোচন করেন মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ ডি. পি. বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাননীয় মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে উপস্থিত সুধীমন্ডলী ও নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। মেয়র চট্টগ্রাম নগরীকে বিলবোর্ডমুক্ত পরিচ্ছন্ন নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি সম্প্রতি জনাব তারেক রহমান এর নেতৃত্বে নবগঠিত সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং আশা প্রকাশ করেন সরকারের বিভিন্ন জনবান্ধব কার্যক্রমের প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ সমগ্র বাংলাদেশের নগর ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।

নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও চট্টগ্রামের স্বনামধন্য চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সিএসসিআর ও সিএসসিআর কার্ডিয়াক পরিবারের সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অধ্যাপক ডা. মেহেরুন্নিসা খানম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ২য় পর্বে রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য্য নিয়ে আলোচনা এবং দোয়া পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের প্রধান ও সিডিএ মসজিদের খতিব অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দীন তালুকদার।


ইতিহাসে প্রথম: অর্থ ও স্বরাষ্ট্রের মতো শীর্ষ দুই মন্ত্রণালয় পেল চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ০৯:৫৩:০৯
ইতিহাসে প্রথম: অর্থ ও স্বরাষ্ট্রের মতো শীর্ষ দুই মন্ত্রণালয় পেল চট্টগ্রাম
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নজির সৃষ্টি করে প্রথমবারের মতো একই সাথে অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছে চট্টগ্রাম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী নবগঠিত মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের নেতাদের এই নজিরবিহীন মূল্যায়নে বন্দরনগরীসহ পুরো বৃহত্তর চট্টগ্রামে বইছে আনন্দের জোয়ার। এর আগে চট্টগ্রামের কোনো নেতা এই দুটি মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পাননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়েই নতুন সরকার এই বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

চট্টগ্রামের এই ঐতিহাসিক অর্জনে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বভার পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অন্যদিকে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার শীর্ষ দপ্তর তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন স্থায়ী কমিটির আরেক জ্যেষ্ঠ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি বড় মাইলফলক, কারণ এর আগে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ কিছুদিন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং বিদায়ী সংসদে ওয়াসিকা আয়েশা খান অর্থ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তবে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে এই দুটি দপ্তরে চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব এবারই প্রথম।

মন্ত্রিসভার এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সংমিশ্রণ। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে স্থান পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক সফল মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পুত্র ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, অতীতের যেকোনো সরকারের তুলনায় বিএনপি এবার চট্টগ্রামকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তাঁদের মতে, বন্দরনগরীর উন্নয়ন মানেই সারা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, আর সেই ধারাবাহিকতা রক্ষায় চট্টগ্রামের নেতাদের এমন উচ্চপদে আসীন করা অত্যন্ত সময়োপযোগী।

অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০০১ সালের বিএনপি সরকারে চট্টগ্রাম থেকে মোরশেদ খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, এলকে সিদ্দিকী এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে পররাষ্ট্র, খাদ্য, পানিসম্পদ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়াও সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে এবারের মন্ত্রিসভা গঠন চট্টগ্রামের জন্য এক বিশেষ মর্যাদা বয়ে এনেছে, কারণ অর্থ ও স্বরাষ্ট্রের মতো সংবেদনশীল দপ্তরের চাবিকাঠি এখন চট্টগ্রামের নেতাদের হাতে।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ নেতৃত্বের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটাবেন। তাঁকে বিপুল ভোটে জয়ী করার জন্য হাটহাজারীর মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নে নিবেদিত থাকার অঙ্গীকার করেন। চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, এই শক্তিশালী নেতৃত্বের হাত ধরে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রামের গুরুত্ব আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত গতিতে বাস্তবায়িত হবে।

/আশিক


বেতাগীতে বিশাল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: অংশ নিলেন হাজারো মানুষ

রেজাউল মোস্তফা চট্টগ্রাম।
রেজাউল মোস্তফা চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৯ ১১:৪৯:৪৫
বেতাগীতে বিশাল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: অংশ নিলেন হাজারো মানুষ
ছবি : রেজাউল মোস্তফা চট্টগ্রাম

তিন হাজারের অধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা পেল বেতাগী আনজুমানে রহমানিয়া লায়ন্স ইম্পেরিয়াল সিটি ও আই্ওয়াইসিএম, কেকা’র যৌথ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে এ বিনামূল্যে আয়োজিত চিকিৎসা সেবা ক্যাম্পটি যৌথ ভাবে বাস্তবায়ন করেছে বেতাগী আন্জুমানে রহমানিয়া, লায়ন্স ও লিও ক্লাব অব চিটাগাং ইম্পেরিয়াল সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেইঞ্জমেকার- আইওয়াইসিএম, চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার, হযরত শাহ্ জিল্লুর রহমান (রহ.) লায়ন্স আই সেন্টার ও হযরত শাহ্ জিল্লুর রহমান (রহ.) ফাউন্ডেশন, কর্ণফূলী এক্স ক্যাডেট এসোসিয়েশ (কেকা) ।

দিনব্যাপী আয়োজিত এই চিকিৎসা সেবা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে মেডিসিন, গাইনি, চক্ষু, চর্ম, শিশু, নাক, কান ও গলা, সার্জারী, অর্থোপেডিক, নেফ্রোলজী পেডিয়াট্রিক সার্জারী, কার্ডিওলর্জী চিকিৎসা প্রদান ও বিনামূল্যে খত্না করোনো হবে, পাশাপাশি কর্ণছেদন ও চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তিতে বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান করা হয় । ক্যাম্পে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করেছে ডাঃ নুরুল ইসলাম মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট অব এপ্লাইড হেলথ সাইন্স হাসপাতাল (ইউএসটিসি) চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল , বেতাগী রহমানিয়া জামেউল উলুম মাদ্রাসা প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদ ও রহমানিয়া ইয়ুথ ফোরাম, ট্রাভেল জোন ও বন্ধু ৯৯ ফাউন্ডেশন ।

উপমহাদেশের বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের বীর পুরোধা ব্যাক্তিত্ব আধ্যাত্বিক সাধক সৈয়দুল আযম আল্লামা হযরত ক্বারী হাকিম হাফেজ মুহাম্মদ বজলুর রহমান মোহাজেরে মক্কী (রহঃ) এর বার্ষিক পবিত্র ইছালে ছাওয়াব মাহফিল, বেতাগী রহমানিয়া জামেউল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসার বার্ষিক সভা ও বেতাগী আনজুমানে রহমানিয়ার ৩৯ তম বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ৫০ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সমন্বয়ে চট্টগ্রামের নিয়মিত সর্ববৃহত্তম বিনামূল্যে সমন্বিত চিকিৎসা, চক্ষু, ডায়াবেটিক ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও খতনা ক্যাম্প ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার সকাল ৯টা হতে ২টা পর্যন্ত রাঙ্গুনিয়া দরবার-এ বেতাগী আস্তানা শরীফে অনুষ্ঠিত হয় ।

চিকিৎসা ক্যাম্পে সভাপতিত্ব করেন দরবার এ বেতাগী আস্তানা শরীফের সাজ্জাদানশীন ও বেতাগী আনজুমানে রহমানিয়ার সভাপতি পীরে তরিকত মাওলানা মোহাম্মদ গোলামুর রহমান আশরফ শাহ (মাঃজিঃআলী) । লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং ইম্পেরিয়াল সিটির লায়ন মিজানুল করিম,লায়ন আবু হানিফ লিটন, লায়ন মুরাদুল হক, লায়ন মোহাম্মদ সোলায়মান ,আইওয়াইসিএম চট্টগ্রামের ভাইস প্রেসিডেন্ট এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, লিও ক্লাব অব চিটাগাং ইম্পেরিয়াল সিটির প্রেসিডেন্ট লিও মোহাম্মদ ওমর হায়দার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট লিও সিরাজুল ইসলাম রিপন, ভাইস প্রেসিডেন্ট লিও মো আল ফয়সাল, লিও মমি ভট্টাচার্য্য, লিও সজীব হোসেন, লিও নাবিল, লিও শহীদুল ইসলাম, লিও মারিয়া, লিও মরিয়ম, লিও তুষার, লিও তানভীর, লিও আশফাক, গেস্ট হিসেবে আরও ছিলেন লিও ক্লাব অব চিটাগং বে অব বেঙ্গল এর প্রেসিডেন্ট লিও চৌধূরী , রহমানিয়া ইয়ুথ ফোরামের সদস্য মোহাম্মদ হোসেন মিনার, মোহাম্মদ আব্দুল কাদের আকাশ ,মোহাম্মদ মোরশেদ,মোহাম্মদ মুরাদ, মোহাম্মদ শাহরুখ ,মোহাম্মদ নয়ন , মোহাম্মদ ফয়সাল ।

ডাঃ নুরুল ইসলাম মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট অব এপ্লাইড হেলথ সাইন্স হাসপাতাল (ইউএসটিসি) এর সহকারী অধ্যাপক (নেফ্রোলজি) ডাঃ নূর উদ্দিন জাহেদ এর নেতৃত্তে মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা জাহেদুল হক,মেডিকেল অফিসার (মেডিসিন) ডা . ফয়সাল ইন্টার্ন ডাক্তার মেডিসিন ডাঃ নাজাম উল সেহের, সহকারী অধ্যাপক (নেফ্রোলজি) ডাঃ নূর উদ্দিন জাহেদ, মেডিকেল অফিসার (নেফ্রোলজি) ডাঃ তাবাসসুম আহমেদ তিন্নি, শিশুরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শহীদ, সহকারী রেজিস্ট্রার (শিশুরোগ) ডাঃ আব্দুল মান্নান, মেডিকেল অফিসার (শিশুরোগ) ডাঃ নূরুল ইসলাম, ইন্টার্ন ডাক্তার (শিশুরোগ) ডাঃ মোঃ সুলতানুল আলম রিজভী, সহকারী অধ্যাপক, (গাইনি ও অবস্ট) ডাঃ বদরুন নাহার, রেজিস্ট্রার (গাইনি ও অবস্ট) ডাঃ নুর আক্তার, মেডিকেল অফিসার (গাইনি ও অবস্ট) ডাঃ নিশাত তাসনিম, মেডিকেল অফিসার (গাইনি ও অবস্ট) ডাঃ দিল নুসরাত জাহান নাফিসা, ইন্টার্ন চিকিৎসক (গাইনি ও অবস্ট) ডা. সামিয়া নওরিন, ইন্টার্ন ডাক্তার (গাইনি ও অবস্ট) ডাঃ সাকিবুল আলম ভূঁইয়া, সহযোগী অধ্যাপক ও প্রধান (অর্থোপেডিকস) ডাঃ ফাহাদ গনি, সহকারী রেজিস্ট্রার (অর্থোপেডিকস) ডা সৌমেন আচার্য্য, রেজিস্ট্রার (সার্জারি) ডা. মালিহা সুবাত, মেডিকেল অফিসার (সার্জারি) ডাঃ মুনতাসিল ইবনে কামাল জিদান, ইন্টার্ন, ডাক্তার (সার্জারি) ডাঃ মারিয়া মকবুল, ইন্টার্ন চিকিৎসক (সার্জারি) ডা জাওয়াদ বিন আলম, অধ্যাপক ও প্রধান (ইএনটি) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্বাস উদ্দিন, রেজিস্ট্রার (ইএনটি) ডাঃ জিয়াউর রহমান, ইন্টার্ন ডাক্তার (ইএনটি )ডাঃ আনিকা আবসার, কনসালটেন্ট (সিসিইউ) ড. মিনহাজ মাহমুদ, মেডিকেল অফিসার (সিসিইউ) ডাঃ এইচ এম সাইফুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ও প্রধান (চর্মরোগ) ডাঃ সালাহউদ্দিন আহমেদ,মেডিকেল অফিসার (চর্মরোগ) ডাঃ অপূর্ব কাঞ্চন রায়, সহকারী অধ্যাপক ও প্রধান (ইউরোলজি) ডাঃ মোঃ নাজামুল হক, সহকারী রেজিস্ট্রার (ইউরোলজি) ডাঃ রায়হান চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক ও প্রধান (শিশু সার্জারি) ডাঃ মোঃ হাসান উল্লাহ, লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের ডাঃ সুমন এর নেতৃত্তে চক্ষু চিকিৎসক টিম এবং কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের খতনা টিমের সহযোগিতায় এই ক্যাম্প বাস্তবায়িত হয় ।

চিকিৎসা সেবা ক্যাম্পটির বাস্তবায়নে সার্বিক ভাবে তত্তাবধান করেছেন বেতাগী আনজুমানে রহমানিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট, আন্তর্জাতিক লায়ন্স জেলা ৩১৫ বি ৪, বাংলাদেশের লিও জেলা ৩১৫বি ৪, বাংলাদেশ এর প্রাক্তন লিও জেলা সভাপতি ও আইওয়াইসিএম চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার এর প্রেসিডেন্ট লায়ন মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান ।

শরীয়ত তরিকতের খেদমতের পাশাপাশি প্রাতিষ্টানিক ও বাংলাদেশীদের বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ও স্বাধীকার আন্দোলনে আল্লামা হাফেজ হাকিম শাহ মুহাম্মদ বজলুর রহমান (রহঃ) অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে । তারই নামে প্রতিষ্ঠিত বেতাগী আনজুমানে রহমানিয়ার মাধ্যমে বর্তমানে ৩৫ টি প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ।


নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের উন্ন‌য়নে চেয়ার-টেবিল প্রদান ক‌রে‌ছে নানিয়ারচর জোন

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৮:২১:০২
নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের উন্ন‌য়নে চেয়ার-টেবিল প্রদান ক‌রে‌ছে নানিয়ারচর জোন

সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প এর আওতায় নানিয়ারচর সেনা জোন (১৭ ই বেংগল) কর্তৃক নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের মান উন্নয়নের জন্য উন্নতমা‌নের চেয়ার-টেবিল প্রদান করা হ‌য়ে‌ছে।

১৩ জানুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার নানিয়ারচর সেনা জোন (১৭ ই বেংগল) কর্তৃক 'সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প' এর আওতায় নানিয়ারচর জোনের আওতাধীন নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র (টেবিল ও চেয়ার) প্রদান করা হয়।

পূর্বে জোন কমান্ডার, নানিয়ারচর জোন কর্তৃক নানিয়ারচর উপজেলা পরিদর্শনকালে প্রেস ক্লাবটিতে চেয়ার ও টেবিলের অপ্রতুলতা পরিলক্ষিত হলে ক্লাবটির মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন। উক্ত আশ্বাসেরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জোন কমান্ডার, নানিয়ারচর জোন, বিএ-৭৯০০ লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান, পিএসসি কর্তৃক নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মেহেদী ইমাম ও দপ্তর সম্পাদক মোঃ ওমর ফারুকের নিকট উক্ত আসবাবপত্র (চেয়ার ও টেবিল) আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

এসময় জোন উপ-অধিনায়ক, নানিয়ারচর জোন, বিএ-৮২২০ মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম উপস্থিত ছিলেন। উক্ত জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে স্থানীয় জনসাধারণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, অত্র এলাকার জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই নিঃস্বার্থ সহযোগিতায় অত্যন্ত আনন্দিত। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা নানিয়ারচর সেনা জোন কর্তৃক অত্র এলাকার জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


বোয়ালখালী'র শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ক‌রে‌ছে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ২০:২৪:৪৮
বোয়ালখালী'র শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ক‌রে‌ছে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন
ছবি : সংগৃহীত

সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আজ ১০ জানুয়ারি, শনিবার, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলাধীন শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের খরণদ্বীপে বদিউল আলম কোম্পানির বাড়িতে স্থানীয় দুঃস্থ, অসহায় ও এতিমদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপ‌তি মোঃ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং গ্রীণ চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ও সাংবাদিক স ম জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন যুগ্ম মহাসচিব ফারহানা আফরোজ, সাংবাদিক নজিব চৌধুরী, গ্রীণ চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের বৈজ্ঞানিক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইমরান, মোঃ মুজিবুর রহমান, সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের সদস্য ইয়াছমিন আক্তার, প্রিয়া বেগম, নিলুফার ইয়াছমিন প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, মানুষ মানু‌ষের জন‌্য মান‌বিক সংগঠন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন এবং ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন ফাউন্ডেশন বোয়ালখালীর সামাজিক উন্নয়ন ও মানুষের মানবিক কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

এর ধারাবাহিকতায় আজ বোয়ালখালীর খরণদ্বীপে শীতার্ত, দুঃস্থ, অসহায় ও এতিমদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সংগঠনের আয়োজনের শীতার্ত শতাধিক মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এ কার্যক্রম বোয়ালখালীর বিভিন্ন অঞ্চলেও চলমান থাকবে বলে প্রত্যাশা রাখেন।

এ সময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ব‌লেন, লন্ড‌নের বি‌শিষ্ট আইনজীবী, বোয়ালখালী কধুরখীলের কৃ‌তি সন্তান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন প্রবাসে বাস করেও দেশের এই শীত মৌসুমে গরিব-দুঃখী মানুষের কথা স্মরণ করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি।


চট্টগ্রামের খতনা করাতে গিয়ে চিরতরে ঘুমিয়ে পড়ল ৭ বছরের রোহান

চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ২১:০৯:৩৪
চট্টগ্রামের খতনা করাতে গিয়ে চিরতরে ঘুমিয়ে পড়ল ৭ বছরের রোহান
শিশু মোস্তফা রোহান। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে খতনা করাতে গিয়ে চিকিৎসকের অবহেলায় মোস্তফা রোহান নামে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় শিশুটির শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হয়। পরবর্তীতে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে ওইদিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।

পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, শিশু মোস্তফার প্রস্রাবের রাস্তায় জন্মগত ত্রুটি বা ‘গ্ল্যানুলার হাইপোস্প্যাডিয়াস’ ছিল, যার জন্য খতনা ও একটি ছোট অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসক। অস্ত্রোপচারের আগে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে হাসিমুখে ছবিও তুলেছিল শিশুটি। কিন্তু অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর থেকেই তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শিশুটির বাবা আবু মুসা অভিযোগ করেছেন যে, অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগে বড় ধরনের ত্রুটি ছিল। তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের আগে ছেলেটির খুব খিদে পেয়েছিল কিন্তু চিকিৎসকের বারণ থাকায় তাকে কিছুই খাওয়ানো হয়নি। মা সুমি আক্তার এই ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন যে, খতনার সময় সাধারণত জটিলতা খুব কম হয়, তবে এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অ্যানেস্থেসিয়া বা অন্য কোনো কারণে কী ঘটেছিল তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। বর্তমানে শিশুটির পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী চিকিৎসকের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একটি নিয়মিত চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু চট্টগ্রাম জুড়ে চিকিৎসকদের দায়িত্ব ও অবহেলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।


২৮ বছরের প্রাপ্তি না কি বঞ্চনা: পার্বত্য চুক্তির আমূল পরিবর্তনে ৫ দফা দাবি

চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৯ ১৮:০১:৪৯
২৮ বছরের প্রাপ্তি না কি বঞ্চনা: পার্বত্য চুক্তির আমূল পরিবর্তনে ৫ দফা দাবি
ছবি : সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮তম বর্ষপূর্তিতে আজ এই চুক্তির প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন উঠেছে। ‘পাঠশালা সিএইচটি রিসার্চ সেল’-এর পরিচালনা সদস্য ওমর ফারুক এক পর্যালোচনায় দাবি করেছেন, ১৯৯৭ সালের এই চুক্তিটি আসলে একটি অসম ও অসাংবিধানিক রাজনৈতিক আপস, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হেনেছে। বাংলাদেশের এক-দশমাংশ জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ বাঙালিকে নিজ ভূখণ্ডেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রাখা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে একটি অঞ্চলকে ‘উপজাতীয় অধ্যুষিত’ ঘোষণা করা সংবিধানের ২৭, ২৮ এবং ৩৬ অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা দেশের ৬১টি জেলা থেকে এই অঞ্চলকে আলাদা করে ফেলেছে। চুক্তির পর থেকে পাহাড়ে জেএসএস, ইউপিডিএফ এবং কেএনএফের মতো সশস্ত্র সংগঠনগুলো চাঁদাবাজি, গুম ও হত্যার মতো অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু বিতর্কিত সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক তহবিল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে, যেখানে পাহাড়ের ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অধিকাংশরাই বঞ্চনার শিকার।

গবেষণা সেলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বহু ধারা সংবিধানের ১, ৫৯, ৮০ ও ১২২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। একটি অনির্বাচিত আঞ্চলিক পরিষদ বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগ করছে এবং সার্কেল চিফরা নাগরিকত্ব ও ভূমির মালিকানা নির্ধারণের মতো ক্ষমতা লাভ করেছেন, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নজিরবিহীন। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফের স্মৃতিবিজড়িত এই জনপদ রক্ষায় তাই ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো

১. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সকল অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক ধারা অবিলম্বে পুনর্গঠন বা বাতিল করতে হবে।

২. অনির্বাচিত আঞ্চলিক পরিষদ ও তার অবৈধ ক্ষমতার অবসান ঘটাতে হবে।

৩. পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল নাগরিকের জন্য সমান ভূমি, ভোট ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে কঠোর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠী ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্যে প্রত্যাহাকৃত ২৪৬ টি সেনাক্যাম্প পুনরায় স্থাপন করতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো আলাদা রাষ্ট্র নয়, কোনো পরীক্ষাগার নয়, কোনো গোষ্ঠীর একচেটিয়া সম্পত্তিও নয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষার্থে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে অন্যতম একজন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ শহিদ হয়েছেন এবং তার সমাধি রয়েছে রাঙ্গামাটি নানিয়াচরে। এটি বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং এখানকার প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার নিয়ে বাঁচতে চায়—ভিক্ষা নয়, ন্যায্য অধিকার।


বড় ভাইদের প্রশ্রয়ে চট্টগ্রামে ভিন্ন নামে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব ও আতঙ্ক

চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৭ ১০:৫৬:২১
বড় ভাইদের প্রশ্রয়ে চট্টগ্রামে ভিন্ন নামে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব ও আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

খবর চট্টগ্রাম নগরীতে নতুন নতুন নামে কিশোর গ্যাং গ্রুপ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি চালাচ্ছে তাণ্ডব। চাঁদাবাজি ও ছিনতাই থেকে শুরু করে দখলবাজি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে তারা। কোনো এলাকায় নতুন ভবন তৈরির কাজ শুরু হলে ভবন মালিক কিংবা ঠিকাদারের কাছে দাবি করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা। এমনকি গ্রুপিং দ্বন্দ্বে তাদের মধ্যে নিয়মিত ঘটছে খুনখারাবির ঘটনা।

অভিযোগ রয়েছে বড় ভাইদের প্রশ্রয়ে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে নতুন করে ভিন্ন নামে বিভিন্ন গ্রুপে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা। একাধিক সূত্রে জানা যায় গ্রুপ ঠিক থাকলেও নাম ও নেতৃত্বের বদল হয়েছে। এক সময়কার নেতৃত্বদানকারীরা এখন লাপাত্তা হওয়ায় অন্য বড় ভাইয়েরা হাল ধরেছে। এই চক্রে যুক্ত হয়েছে নতুন মুখ যারা মূলত মাদক সেবনের টাকা জোগাতে এ পথে আসছে। বিভিন্ন সময়ে অভিযানে কিশোর সদস্যরা গ্রেপ্তার হলেও অধরা থেকে যান মূল হোতা বা বড় ভাইয়েরা। তারা বরং সদস্যদের ছাড়াতে থানায় তদবির করেন এবং আদালতে আইনজীবী নিয়োগ করে জামিনের ব্যবস্থা করেন।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের এক জরিপে দেখা গেছে নগরে প্রায় ২০০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে যাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন। এসব গ্রুপ বিঙ্গো কমার্ড আয়রন পেটন ও এমবিবিএস সহ নানা অদ্ভুত নামে পরিচিত। গত ছয় বছরে ৫৪৮টি অপরাধের ঘটনায় কিশোর গ্যাং জড়িত ছিল এবং তাদের প্রশ্রয়দাতা হিসেবে ৬৪ জন বড় ভাই রয়েছেন। গত ১৬ মে হালিশহরের নয়াবাজারে দুই কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বে ওয়াহিদুল নামের এক কিশোরকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এছাড়া গত বছরের এপ্রিলে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে দন্তচিকিৎসক কোরবান আলীর মৃত্যুর ঘটনাটি কিশোর গ্যাংয়ের নিষ্ঠুরতার এক বড় উদাহরণ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে চট্টগ্রামের স্কুলগুলোয় অনুপস্থিত থাকা ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশই এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী এই কিশোররা পর্নোগ্রাফি সাইবার অপরাধ ও অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধে জড়াচ্ছে এবং এর জন্য তারা মূলত স্কুলের সময়টাকেই বেছে নেয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। হামজারবাগ এলাকার ভাড়াটিয়া মো. সাদিক হোসেন জানান কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় টেনশনে থাকতে হয়।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ জানিয়েছেন নগরীতে কিশোর গ্যাং থানাভিত্তিক এবং সিএমপির প্রতিটি থানায় এই গ্রুপগুলোর তালিকা আছে। কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ দমন ও গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে কোনো দলের ব্যানারে তারা সক্রিয় হতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে রাজনৈতিক নেতারা মিছিল মিটিংয়ে শিশু কিশোরদের ব্যবহার করলেও পুলিশ অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবে।

সূত্র:কালবেলা

পাঠকের মতামত: