চিঠির আড়ালে কী বার্তা টিউলিপের? সিদ্ধান্ত কি আইনের হাতে?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ১১ ০৯:০০:২৫
চিঠির আড়ালে কী বার্তা টিউলিপের? সিদ্ধান্ত কি আইনের হাতে?

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের পাঠানো একটি চিঠি পেয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

মঙ্গলবার লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনূসের প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “চিঠিটি আমরা পেয়েছি। যেহেতু বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় জড়িত, তাই তা আইনানুগভাবেই পরিচালিত হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, এবং লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন।

ব্রিটিশ প্রভাবশালী দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ড. ইউনূসের চলমান লন্ডন সফরকালে তাঁর রাজা চার্লস এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। এই সফরকালে ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য টিউলিপ সিদ্দিক একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউনূস ও টিউলিপের মধ্যে এই সম্ভাব্য সাক্ষাৎ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করতে পারে, বিশেষ করে যেহেতু উভয়েই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন এবং মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সরব ভূমিকা রাখেন।

-অনন্যা, নিজস্ব প্রতিবেদক


দেশের ভেতর ও বাইরে সমান তালে ভোট: পোস্টাল ব্যালটে নতুন রেকর্ডের হাতছানি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১১:৫১:৩৩
দেশের ভেতর ও বাইরে সমান তালে ভোট: পোস্টাল ব্যালটে নতুন রেকর্ডের হাতছানি
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রবাসী এবং দেশের অভ্যন্তরে থাকা ভোটারদের অংশগ্রহণে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের পাঠানো ভোটগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪টি পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসসকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পোস্টাল ব্যালটে নতুন রেকর্ডের হাতছানিসালীম আহমাদ খান জানান, আজ সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের ঠিকানায় মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৮ জন প্রবাসী তাঁদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ জন ইতোমধ্যে নিজ নিজ ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। ভোট দেওয়ার পর ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫২ জন প্রবাসী তাঁদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বিভাগে জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৭ হাজার ১৬৮টি ব্যালট ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন।

বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত (আইসিপিভি) ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশের ভেতরে ৬ লাখ ৬২ হাজার ১৯১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৭ জন ভোটার তাঁদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ২ লাখ ১১ হাজার ১২২ জন ভোট দিয়েছেন এবং ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫১৯ জন তাঁদের পূরণকৃত ব্যালট ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ ২৭ হাজার ৩৬৭টি ব্যালট হাতে পেয়েছেন।

প্রকল্পের টিম লিডার আরও জানান, এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে সফলভাবে নিবন্ধন করেছেন। প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ অতীতের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


 ধন্যবাদ পাকিস্তান! বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ উপদেষ্টার 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১১:০৩:২৯
 ধন্যবাদ পাকিস্তান! বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ উপদেষ্টার 
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পাকিস্তানের এই অবস্থানকে স্বাগত জানান এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

ড. আসিফ নজরুল তাঁর পোস্টে লিখেছেন, "ধন্যবাদ পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, বাংলাদেশকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তাঁর দেশ ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শাহবাজ শরিফ বুধবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের জানিয়েছেন—খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয় এবং খুব ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যেন পাকিস্তান সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে পারে। উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ‘একেবারেই যথাযথ এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত বিশ্বকাপের ম্যাচ বর্জনের এই ঘোষণা দেন। ক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শাহবাজ শরিফ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে পাকিস্তান খুব পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না, কারণ খেলার মাঠে রাজনীতি থাকা উচিত নয়। আমাদের উচিত সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো।"

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে ক্রীড়া বিশ্বে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের এই কঠোর অবস্থান এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার তরফ থেকে সেই পদক্ষেপকে সমর্থন জানানো ভূ-রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের প্রতি অবিচারের প্রতিবাদে পাকিস্তানের এই বয়কট সিদ্ধান্ত নৈতিকভাবে সঠিক।


জনগণ কি ভোট দিতে যাবে? দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় বাড়ছে শঙ্কা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ০৯:৪৬:০৯
জনগণ কি ভোট দিতে যাবে? দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় বাড়ছে শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের তেরোতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, জনমনে ভোট দেওয়ার আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি গভীর উৎকণ্ঠা ও ভীতিও সমানভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার বঞ্চিত দেশের নাগরিকরা এবার ভোট দিতে উন্মুখ হলেও নির্বাচনি প্রচারণায় ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এই আগ্রহকে ম্লান করে দিচ্ছে, যা এবারের নির্বাচনের সামনে সবচেয়ে বড় শঙ্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ভোটারদের মধ্যে যেমন আগ্রহ আছে, তেমনি আছে উৎকণ্ঠা আর ভীতি, কারণ নির্বাচনি প্রচারণার পর থেকে সারা দেশে সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে এবং ভোটের দিন পরিবেশ স্বাভাবিক না হলে সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন না, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সব উন্নয়ন সহযোগী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চেয়েছে এবং তাদের মতে ভোটারদের উপস্থিতিই হলো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাপকাঠি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন যে নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দেবেন, কিন্তু দলের অনুগত নন এমন সাধারণ নাগরিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন কি না, তা সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৫৩ দিনে অর্থাৎ ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ৯টা পর্যন্ত সারা দেশে মোট ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক আচরণ ১৬টি, প্রার্থীর ওপর সরাসরি হামলা ১৫টি, ৫টি হত্যাকাণ্ড এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৮৯টি। এ ছাড়া অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ৩টি, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ৯টি, প্রচার কার্যে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ২৯টি, নির্বাচনি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ২০টি, অবরোধ ও বিক্ষোভ ১৭টি এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার একটি ঘটনা ঘটেছে। পরিসংখ্যান বলছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৩০টি সহিংসতায় ১১৫ জন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪১৪টি সহিংসতায় ২২ জন এবং দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৫৩৪টি সহিংসতায় ছয়জন নিহত হয়েছিলেন, যা প্রমাণ করে প্রতি নির্বাচনেই প্রচুর সংঘাত ও আহতের ঘটনা ঘটছে।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিসেম্বরে দেশে ১৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ২৬৮ জন আহত হলেও জানুয়ারিতে পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে এবং মোট ৭৫টি সহিংসতার ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ৬১৬ জন আহত হন। জানুয়ারি মাসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮টি ঘটনায় ৫ জন নিহত, ১১ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮টি ঘটনায় ২ জন নিহত এবং ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অর্থাৎ নির্বাচনি প্রচার শুরু হওয়ার পর মাত্র ১১ দিনে ৪৯টি ভয়ংকর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে যাতে ৪ জন নিহত এবং ৪১৪ জন আহত হয়েছেন।

পুলিশ বাহিনী এখনো পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে উঠতে না পারায় এবং জনগণকে আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় নির্বাচনের ঠিক আগে র‍্যাবের নাম পরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ঘোষণা করেন যে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম বদলে এখন থেকে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ) রাখা হচ্ছে এবং বাহিনীর পোশাক ও কার্যক্রমেও সংস্কার আনা হবে।

নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই ধরনের ঘোষণা এলিট বাহিনীর সদস্যদের আরও গুটিয়ে নিতে বাধ্য করতে পারে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই পরিস্থিতিতে জনগণের প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী এবং গত ৩ ফেব্রুয়ারি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও ঘোষণা করেছেন যে নির্বাচনের দিন যারা ভোটারদের বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী কঠোর অ্যাকশন নেবে এবং অপরাধী আইনের অধীনে সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে জয়ী হয়ে ক্ষমতা দখলের মানসিকতা পরিহার করে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং ভোটাররা যেন স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় ভোটারবিহীন সহিংস নির্বাচন দেশ ও গণতন্ত্রের উত্তরণকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সোর্স: বাংলাদেশ প্রতিদিন


নির্বাচনের আগে ১ হাজার কোটির বাস কেনার তোড়জোড়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ০৯:০২:৫২
নির্বাচনের আগে ১ হাজার কোটির বাস কেনার তোড়জোড়
ছবি : সংগৃহীত

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ কর্মদিবসের ঠিক আগে ১ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৪০টি সিএনজি এসি বাস কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক আগ মুহূর্তে এই মেগা প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগের তোড়জোড়কে অনেকেই ‘বিদায়ী উপহার’ বা তড়িঘড়ি করা সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

বাস কেনার প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান স্থিতি বিআরটিসির জন্য ৩৪০টি সিএনজিচালিত সিঙ্গেল ডেকার এসি বাস সংগ্রহের এই প্রকল্পটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,১৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৮২৯ কোটি টাকা দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ (EDCF) থেকে ঋণ হিসেবে পাওয়ার কথা। দীর্ঘ আড়াই বছর প্রশাসনিক জটিলতা ও দরপত্র নথি নিয়ে ঋণদাতা সংস্থার সঙ্গে টানাপোড়েনের পর হঠাৎ করে গত ১ ডিসেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী বিদায়ী সরকারের শেষ সময়ে সাধারণত বড় কোনো আর্থিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় না, তবে আগামী রোববারের মধ্যে এই দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দরপত্রের শর্ত ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, দরপত্রের কিছু শর্ত নির্দিষ্ট কয়েকটি আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে

দরদাতার গত ২০ বছরে অন্তত ৩৪০টি সিএনজি বাস রপ্তানির অভিজ্ঞতা থাকার শর্তটি অনেক বড় কোম্পানিকেও প্রতিযোগিতার বাইরে ঠেলে দিতে পারে।

শুরুতে বাসগুলো কোরিয়ায় নির্মিত হওয়ার কথা থাকলেও এখন শর্ত শিথিল করে বলা হয়েছে যে কেবল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কোরীয় হলেই চলবে, বাস অন্য দেশে তৈরি হলেও সমস্যা নেই। এতে মান বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিটি বাসের গড় দাম পড়ছে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা সাধারণ এসি বাসের বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিআরটিসি ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য বিআরটিসি চেয়ারম্যানের মতে, এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং এতে কোনো শর্ত পরিবর্তন করা হয়নি। পুরো টেন্ডারিং প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও ৪৫-৬০ দিন সময় লাগবে বিধায় বর্তমান সরকারের আমলে এটি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামছুল হক কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন যে, বিআরটিসির বাস রাখার জায়গা নেই, ঢাকার রাস্তা দখল করে তারা বাস রাখে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ১ হাজার কোটির বাস কেনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।


নির্বাচনে কোনো সহিংসতা হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৮:২৮:৫৫
নির্বাচনে কোনো সহিংসতা হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং এ নিয়ে কোনো ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা নেই। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কোনো ধরনের ভীতি কাজ করছে না এবং তথাকথিত 'মব ভায়োলেন্স' বলে এখন আর কিছু নেই। নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি অত্যন্ত সন্তোষজনক উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিয়মিতভাবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চালানো হচ্ছে। নির্বাচনে কোনো প্রার্থী যদি অশোভন আচরণ করেন বা আইন ভঙ্গ করার চেষ্টা করেন, তবে সামাজিক ও আইনিভাবে তাঁদের কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো প্রার্থী সীমা লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। এ ছাড়া অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিসহ রাজশাহী বিভাগের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং ভোটাররা যেন নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের উস্কানি বা অপতৎপরতা রুখে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


ভোট সংক্রান্ত সব তথ্য মিলবে হেল্পলাইনে, জানুন কিভাবে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৪:২৭:০৪
ভোট সংক্রান্ত সব তথ্য মিলবে হেল্পলাইনে, জানুন কিভাবে
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নাগরিকদের জন্য সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এর সহযোগিতায় এবং এটুআই কর্মসূচির ব্যবস্থাপনায় জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩–এর মাধ্যমে একটি বিশেষ নির্বাচন তথ্যসেবা চালু করা হয়েছে।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশের যেকোনো মোবাইল অপারেটর ব্যবহার করে টোল ফ্রি নম্বর ৩৩৩-এ কল করে ৯ প্রেস করলে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাওয়া যাবে।

এই সেবার আওতায় ভোটাররা ভোট দেওয়ার নিয়ম ও প্রক্রিয়া, নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা, নির্বাচনকালীন আচরণবিধি এবং প্রবাসী ভোটারদের জন্য নির্ধারিত ভোট প্রদানের নিয়মাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও নারী ভোটারদের জন্য বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা, নির্বাচন সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বর সম্পর্কেও তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে। ফলে ভোটারদের জন্য একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে ৩৩৩।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত Smart Election Management BD এবং Postal Vote BD অ্যাপ ব্যবহারের নিয়ম ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কেও হেল্পলাইনের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যা ডিজিটাল সেবাকে আরও সহজলভ্য করবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জানুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) চালু হওয়া এই বিশেষ সেবার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৬৪৩ জন নাগরিক নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা গ্রহণ করেছেন।

একই সঙ্গে, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাব্য অস্থিরতা আগাম শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করার একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবেও ৩৩৩-এর ৯ নম্বর ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, এই সেবা সরাসরি পুলিশ কন্ট্রোল রুম হিসেবে কাজ করবে না। বরং এটি একটি “Information Intake, Early Warning & Forwarding System” হিসেবে পরিচালিত হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্য ৯৯৯ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

-রফিক


নবম পে-স্কেল ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক: সুযোগ না কি নতুন বৈষম্যের শঙ্কা?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ০৯:৫৭:০০
নবম পে-স্কেল ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক: সুযোগ না কি নতুন বৈষম্যের শঙ্কা?
ছবি : সংগৃহীত

নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলেও এর সুফল নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও শঙ্কায় রয়েছেন দেশের কয়েক লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বেতন বৈষম্যের শিকার হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মূল বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পে কমিশনের সদস্যদের সূত্র অনুযায়ী, সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় যারা বেতন পান, নতুন পে-স্কেল অনুমোদিত হলে তাদের সবারই সুযোগ-সুবিধা বাড়ার কথা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরাসরি সরকারি কর্মচারী না হলেও তারা সরকারের নির্দিষ্ট গ্রেড অনুযায়ী বেতন পান। যদিও এই বেতনটি 'অনুদান' হিসেবে দেওয়া হয়, তবুও নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষকদের মূল বেতন শতভাগ বাড়ার কথা। মূল বেতন বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বৈশাখী ভাতা ও উৎসব ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।

বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার বৈষম্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলেও দীর্ঘদিনের বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার বৈষম্য ঘোচার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের মাত্র ১৫ শতাংশ পাবেন। যেখানে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এই হার ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। একইভাবে চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও ব্যাপক ব্যবধান থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষকরা মাসে মাত্র ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই ভাতা ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিতই থাকছেন।

ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টিফিন ভাতা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান না। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীরা নির্দিষ্ট সময় পর পর মূল বেতনের সমপরিমাণ বিনোদন ভাতা পেলেও শিক্ষকদের জন্য এমন কোনো ভাতার ব্যবস্থা নেই। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য দেখা গেছে শিক্ষা ভাতার ক্ষেত্রে। সরকারি চাকরিজীবীরা বর্তমানে দুই সন্তানের জন্য মাসিক এক হাজার টাকা করে শিক্ষা ভাতা পান, যা নতুন পে-স্কেলে দুই হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য এমন কোনো শিক্ষা ভাতার ব্যবস্থা বিদ্যমান নেই।

সব মিলিয়ে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার আশঙ্কায় হতাশায় ভুগছেন সারা দেশের শিক্ষক সমাজ।


১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প: বড় কোনো বিপদের সংকেত দিচ্ছে প্রকৃতি?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ০৯:০২:২২
১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প: বড় কোনো বিপদের সংকেত দিচ্ছে প্রকৃতি?
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তে মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুইবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশ। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। এর ঠিক ১৭ মিনিট পর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে ৫ দশমিক ২ মাত্রার দ্বিতীয় দফা ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৬৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন এই কম্পনের প্রভাবে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

একই দিনে তিন দফা কম্পন ও অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি মঙ্গলবার কেবল রাতেই নয়, বরং ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটেও সাতক্ষীরা অঞ্চলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার একটি হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। গত বছরের ২১ নভেম্বর ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর থেকে গত দুই মাসে ঘনঘন এমন কম্পন জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ এখন আর কেবল প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূমিকম্পের প্রবারে কাঁপছে না, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ ফল্ট লাইনগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠছে। সম্প্রতি নরসিংদীর মাধবদী, সাভার ও বাড্ডা এলাকায় হওয়া ভূমিকম্পগুলো সেই বিপদেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

টেকটোনিক প্লেটের চাপ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, বাংলাদেশ ভারতীয় প্লেট, ইউরেশীয় প্লেট এবং বার্মা মাইক্রোপ্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। জিপিএস পরিমাপ অনুযায়ী, এসব ফল্ট লাইন প্রতি বছর কয়েক মিলিমিটার করে সরে যাচ্ছে, যার ফলে ভূ-অভ্যন্তরে বিশাল শক্তি জমা হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের ডাউকি ফল্ট, ঢাকা-টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্ট এবং চট্টগ্রাম-মিয়ানমার সীমানা এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতিহাস বলছে, ১৭৬২ সালে চট্টগ্রাম-আরাকান ভূমিকম্পে ঢাকায় ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং ১৮৮৫ সালের বেঙ্গল ভূমিকম্প ও ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

ঢাকার মাটির গঠন ও লিকুইফ্যাকশন ঝুঁকি রাজধানী ঢাকার ঝুঁকি সমতলের চেয়ে অনেক বেশি। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার নরম পলিমাটির কারণে এখানে ‘সাইট অ্যামপ্লিফিকেশন’ প্রক্রিয়া ঘটে, ফলে মাঝারি মাত্রার কম্পনও বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে অনুভূত হয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে কিছু এলাকায় মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা ‘লিকুইফ্যাকশন’ বা ভূমিকম্পের সময় মাটি তরলের মতো আচরণ করার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান রুবাইয়াত কবির জানান, ভারতীয় প্লেটের ওপর অবস্থানের কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সচেতনতা ও যন্ত্রপাতির সংকট ভূ-দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ মোহন কুমার দাস বলেন, দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতির এখনও ঘাটতি রয়েছে। ভূমিকম্পের সময় সাধারণ মানুষের করণীয় কী, সেই বিষয়ে জনসচেতনতার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছেন।


অপরাধীরা বাধা দিলেও ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেই: সেনাপ্রধান 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ২১:২১:৫৫
অপরাধীরা বাধা দিলেও ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেই: সেনাপ্রধান 
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) গাজীপুর জেলা পরিদর্শন ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন আয়োজনে সম্মিলিত সক্ষমতা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, সেনাপ্রধান বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা আমাদের আছে। নির্বাচন কমিশন, সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী—সবাই আগ্রহী। এখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।” তিনি জানান, একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য ভোট উপহার দিতে রাষ্ট্রীয় সকল বাহিনী এখন একযোগে কাজ করছে।

সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং অপরাধীদের তৎপরতা নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কিছু আর্থিক লেনদেন হতে পারে, যা রোধে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া কিছু অপরাধী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে এই ধরনের অপতৎপরতা রুখে দেওয়া হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ভোটের দিন মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

তিন বাহিনী প্রধানের গাজীপুর সফর নির্বাচনী প্রস্তুতির মাঠপর্যায় পর্যবেক্ষণে সেনাপ্রধানের এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিন বাহিনীর প্রধানেরা যৌথভাবে গাজীপুর জেলা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।

পাঠকের মতামত: