১৮ দিনেও মেলেনি রাজুর সন্ধান, পথ চেয়ে দিন কাটছে বৃদ্ধ মা-বাবার

ওয়ালিউল্লাহ রাইসুল
নাজিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের উত্তর কলারদোয়ানিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রাজু আহমদ গত ১৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। দীর্ঘ ১৮ দিন অতিবাহিত হলেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। মানসিকভাবে অসুস্থ রাজুর খোঁজ না পেয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবা, ভাই-বোন ও স্বজনদের।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে গর্ভে অনাগত সন্তান রেখে রাজুর প্রথম স্ত্রী হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন। প্রিয়জনকে হারানোর সেই গভীর শোক সহ্য করতে না পেরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধ সেবনের পর কিছুটা সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।
পরবর্তীতে পরিবারের উদ্যোগে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন এবং বড় ভাইদের সঙ্গে কাঁচামালের ব্যবসায় যুক্ত হন। কিন্তু নিয়মিত ওষুধ সেবন বন্ধ হয়ে গেলে তাঁর মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এ সময় পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে দ্বিতীয় স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এতে তিনি আবারও গভীর মানসিক সংকটে পড়েন।
স্বজনরা জানান, গত ১৪ জুলাই ভোররাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে রাজু বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি নিয়মিত ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
প্রতিদিন বাড়ির উঠানে বসে ছেলের ফেরার অপেক্ষায় থাকেন তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবা। তাঁদের একটাই আশা—একদিন হয়তো দরজায় কড়া নেড়ে ফিরে আসবে তাঁদের হারিয়ে যাওয়া সন্তান।
রাজুর সন্ধান পেলে বা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে পরিবারের দেওয়া মোবাইল নম্বরে দ্রুত যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একটি তথ্য বা একটি ফোনকলই হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে একটি অসহায় পরিবারের হারিয়ে যাওয়া সদস্যকে। তাই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বিষয়টি সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বজনরা।
মাসজুড়ে ৮ থেকে ৯ দিন বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস, উত্তরাঞ্চলসহ ৩ বিভাগে বন্যার আগাম সতর্কতা
বিদায়ী জুন মাসে সারা দেশে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে সদ্য শুরু হওয়া জুলাই মাসে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রবল ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই ভারী বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি। একই সঙ্গে চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে যেকোনো একটি শক্তিশালী মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
বুধবার (১ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে চলতি জুলাই মাসের এই দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ কমিটির নিয়মিত মাসিক সভায় গত জুন মাসের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত ও বৈশ্বিক আবহাওয়া মডেল পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে এই পূর্বাভাস চূড়ান্ত করা হয়।
পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, জুন মাসে বৃষ্টির ঘাটতি থাকলেও জুলাই মাসে সারা দেশে গড়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মাসজুড়ে অন্তত ৮ থেকে ৯ দিন দেশজুড়ে তীব্র বজ্রঝড় ও বজ্রপাত হতে পারে। বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি জুলাই মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি বা উত্তপ্ত থাকতে পারে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে এক বা একাধিক মৃদু তাপপ্রবাহ (মাইল্ড হিটওয়েভ) বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নদ-নদীর সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জুলাইয়ের মৌসুমি ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানির স্তর সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদী অববাহিকার কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। দেশের কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে— জুলাই মাসে দৈনিক গড় বাষ্পীভবনের পরিমাণ থাকবে ২.৫ থেকে ৪.৫ মিলিমিটার এবং দৈনিক গড় সূর্যকিরণকাল ৩.৭৫ থেকে ৫.৭৫ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
এদিকে সদ্য সমাপ্ত জুন মাসের আবহাওয়া পর্যালোচনা করে অধিদপ্তর জানায়, গত মাসে সারা দেশে সার্বিকভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় ২৯.৪ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে ভৌগোলিক কারণে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং রংপুর বিভাগে স্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
গত জুন মাসে দেশের সর্বোচ্চ দৈনিক বৃষ্টিপাত ১৭৮ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছিল নেত্রকোনায় (১২ জুন)। একই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৪ জুন যশোরে রেকর্ড করা হয়। আর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯ জুন নরসিংদীতে রেকর্ড করা হয়। জুলাই মাসজুড়ে এমন দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাত, কালবৈশাখী স্টাইলের বজ্রঝড় এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির বিষয়ে দেশের সব অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও সাধারণ জনগণকে আগাম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
/আশিক
দেবিদ্বারে ৪ হাজারের বেশি কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় চলতি মৌসুমের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৪ হাজার ৪০৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সরকারি কৃষি সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আবাদ বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ, রাসায়নিক সার, জৈব সার, ফলদ চারা ও পেঁয়াজ সংরক্ষণের আধুনিক যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে প্রণোদনার উপকরণ তুলে দেন দেবিদ্বার উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব অশোক বিক্রম চাকমা।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বানিন রায়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় কৃষক প্রতিনিধি ও সুবিধাভোগীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, কৃষিবান্ধব সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমছে এবং কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হচ্ছে। সময়মতো প্রণোদনা বিতরণের মাধ্যমে কৃষকদের আবাদে উৎসাহিত করা এবং কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন অর্জন সম্ভব হবে।সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায় বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার মোট ৪ হাজার ৪০৫ জন কৃষককে সাতটি ক্যাটাগরিতে সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। উন্নত বীজ ও সারের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে ফসলের বাম্পার ফলন পাওয়া সম্ভব।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোপা আমন খাতে ২ হাজার ৪০০ কৃষককে ধান বীজ ও সার, সবজি খাতে ১ হাজার ৫০০ কৃষককে বিভিন্ন জাতের সবজি বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৃক্ষরোপণে ২৯০ জন কৃষককে চারা, বাঁশের খুঁটি ও জৈব সার, পেঁয়াজ ও মরিচ চাষে ১৬০ জন কৃষককে বীজ ও সার এবং লেবু চাষে ৪০ জন কৃষককে চারা ও জৈব সার দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পেঁয়াজ সংরক্ষণে বিশেষ ‘এয়ার ফ্লো’ প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১৫ জন কৃষককে আধুনিক সংরক্ষণ যন্ত্র ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ইউনিয়ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে পুরো উপজেলায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। সরকারি এ সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও গৃহ পুননির্মাণে সহায়তা প্রদান

শহিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নানিয়ারচর জোন কর্তৃক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প এর আওতায় মানবিক সহায়তামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়।
৩০ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার ১১ টায় উক্ত কর্মসূচীতে, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠ মুসী আব্দুর রউফ জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নানিয়ারচর জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান, পিএসসি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ছাত্রদের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রীড়া সামগ্রী হস্তান্তর করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণের আহবান জানান।
এছাড়াও, এই জোনের আওতাধীন ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ জাহানারা বেগম এর বসতঘরটি জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় বসতঘর পুননির্মাণের জন্য ঢেউটিন প্রদানের পাশাপাশি ঘরটি নির্মাণের কাঠ, পেরেক, তারকাটা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক দ্রব্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এ সময় জোন কমান্ডার, নানিয়ারচর জোন ভুক্তভোগীকে বসতঘর নির্মাণে প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আজ ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
রাজধানীতে কেনাকাটা বা প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়ার আগে আজ কোন কোন এলাকার দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে, তা জেনে নেওয়া জরুরি। ঢাকার যানজট পেরিয়ে কোনো মার্কেটে গিয়ে যদি দেখা যায় দোকানপাট বন্ধ, তাহলে সময় ও শ্রম দুটোই নষ্ট হতে পারে। তাই মঙ্গলবারের সাপ্তাহিক বন্ধের তালিকা জেনে পরিকল্পনা করা সুবিধাজনক।
মঙ্গলবার রাজধানীর কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, মানিক মিয়া এভিনিউ, রাজাবাজার, মণিপুরিপাড়া, তেজকুনীপাড়া, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, শুক্রাবাদ, সোবহানবাগ, ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ, জিগাতলা, রায়েরবাজার, পিলখানা ও লালমাটিয়া এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
এ ছাড়া ঢাকার বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় শপিং কমপ্লেক্স ও মার্কেটেও আজ কেনাবেচা বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা সিটি, মোতালেব প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজা, সেজান পয়েন্ট, নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা মার্কেট, গাউসিয়া, ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেট, বদরুদ্দোজা মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, গাউসুল আজম মার্কেট, রাইফেলস স্কয়ার, অরচার্ড পয়েন্ট, ক্যাপিটাল মার্কেট, ধানমণ্ডি প্লাজা, মেট্রো শপিং মল, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা, কারওয়ান বাজার ডিআইটি মার্কেট ও অর্কিড প্লাজা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন অনুসরণ করা হলে যানজট ও ভিড় কিছুটা কমে এবং ব্যবসায়ীদেরও নিয়মিত বিশ্রাম ও রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়। তাই জরুরি কেনাকাটা থাকলে কাছাকাছি খোলা মার্কেট বা অনলাইন বিকল্প আগে থেকে যাচাই করে নেওয়াই ভালো।
-রাফসান
হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হবে জুড়ীতে পাটোয়ারী

মোঃ সামছুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মূখ্য সম্বন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর বলেছেন, ভবিষ্যতে যদি বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদি কোন সিস্টেম আসতে চায় তবে তার বিরুদ্ধে আবারও আমরা রাজপথে নামব। খুনি শেখ হাসিনাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
আমরা পুরো বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ, শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাবো। আওয়ামীলীগের বিষয়ে কোন নয় ছয় নেই। যারাই আওয়ামীলীগকে প্রশ্রয় দিবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের শক্তিশালী লড়াই হবে। তিনি রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে জুড়ী উপজেলার ক্যাম্প চত্বরে এক পথসভায় এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, খুনি রাষ্ট্র ভারতের বিএসএফ বাহিনী বাংলাদেশে পুশইনের মত নেক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে। মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলার সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ভারতের নাগরিকদের বাংলাদেশী নাগরিক আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। আপনারা বিজিবির সাথে সীমান্ত পাহাড়া দিবেন যাতে ভারত কোনভাবেই তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশের প্রবেশ করাতে না পারে।পথসভায় এনসিপি নেতা আব্দুল মালিক সাচ্চু, প্রীতম দাস, আফজাল হোসেন ও আমির হামজাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
জুনে ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: পাঁচ মাস মিলিয়ে যা ছিল, এক মাসেই তার দ্বিগুণের বেশি মৃত্যু
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটে একদিনেই আরও পাঁচজনের প্রাণহানি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি জুন মাসেই মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ১৩ জন। আর সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সবশেষ নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির এই আশঙ্কাজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সকাল আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় যে পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন, তাদের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। বাকিদের মধ্যে একজন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার, একজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার এবং অন্যজন ময়মনসিংহ বিভাগের হাসপাতালে মারা গেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়া আরও ১২৪ জন রোগীকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৫ হাজার ৯২৪ জনে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হওয়া ১০০ জনসহ এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৫ হাজার ৪৫৫ জন রোগী।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলক অনেক কম ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে দুজন, ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়। তবে জুন মাস শুরু হতেই বৃষ্টি আর এডিস মশার প্রজনন বাড়ায় মৃত্যুর গতি তীব্র হয়েছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১৮ জনের লিঙ্গভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং ৮ জন নারী রয়েছেন। অন্যদিকে বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হওয়া মোট ৫ হাজার ৯২৪ জন রোগীর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৭৯ জন এবং নারী রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ২৪৪ জন।
/আশিক
আজ ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
রাজধানীতে কেনাকাটা কিংবা প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা থাকলে বাসা থেকে বের হওয়ার আগে জেনে নেওয়া জরুরি আজ কোন কোন এলাকার দোকানপাট ও শপিং মার্কেট বন্ধ থাকবে। নির্ধারিত সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সোমবার (২৯ জুন) ঢাকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা ও মার্কেটে কেনাবেচা বন্ধ থাকবে। ফলে আগাম তথ্য না জেনে বের হলে সময়, শ্রম ও যাতায়াত খরচ—সবই বিফলে যেতে পারে।
আজ পূর্ণদিবস বন্ধ থাকবে রাজধানীর আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলানগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট এলাকা, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১, গুলশান-২, বনানী, মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, নাখালপাড়া, মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকা, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একটি অংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একটি অংশ, যাত্রাবাড়ীর একটি অংশ, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ এবং সানারপাড় এলাকার দোকানপাট ও মার্কেট।
এছাড়া রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শপিং কমপ্লেক্স ও বাজার আজ অর্ধদিবস বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে পল্লবী সুপার মার্কেট, মিরপুর বেনারসি পল্লী, ইব্রাহীমপুর বাজার, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স, বনানী সুপার মার্কেট, ডিসিসি মার্কেট (গুলশান-১ ও ২), গুলশান পিংক সিটি, মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোরান বাজার, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, আয়েশা মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স এবং মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ড সুপার মার্কেট।
রাজধানীতে প্রতিদিনের মতো সোমবারও যানজটের চাপ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। তাই কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই গন্তব্য এলাকার মার্কেট খোলা না বন্ধ—তা নিশ্চিত হয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়ানোর পাশাপাশি সময় ও যাতায়াত ব্যয়ও সাশ্রয় হবে।
-রফিক
সেমিনার, সম্মেলনসহ আজকের গুরুত্বপূর্ণ সব কর্মসূচি
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ সোমবার (২৯ জুন) সরকারি, সামাজিক, ধর্মীয় ও পেশাজীবী সংগঠনের উদ্যোগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শিক্ষা, কৃষি, সামাজিক উন্নয়ন এবং ধর্মীয় বিষয়ে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আলেম-ওলামা, বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। দিনের শুরুতেই এক নজরে দেখে নেওয়া যাক আজকের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচিগুলো।
দিনের প্রথম উল্লেখযোগ্য আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে। সকাল ১০টায় ‘জিও-এনজিও কোলাবোরেশন ফ্রেমওয়ার্ক প্রোগ্রাম’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সুপারিশ ও পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
একই দিন সকাল ১১টায় রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এর থ্রিডি হলে অনুষ্ঠিত হবে কৃষি উন্নয়নবিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার। এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) আয়োজিত এই সেমিনারের প্রতিপাদ্য ‘কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিকেল ৩টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে শানে সাহাবা কনফারেন্স। জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় আলেম, ওলামা ও ইসলামি চিন্তাবিদরা অংশ নেবেন। ইসলামের ইতিহাসে সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা, ঐক্য, সম্প্রীতি এবং সমসাময়িক ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
-রাফসান
দিনে-রাতে ২০ থেকে ৩০ বার লোডশেডিং, তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে যে, স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর তীব্র অভিযোগ, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২২ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে তাদের। পুরো দিনে অন্তত ২০ থেকে ৩০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে এবং প্রতিবার আসার পর তা মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। ফলে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নের কয়েক লাখ অধিবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি গরমের মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছিল। মাঝে কিছুদিন বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও গত এক মাস ধরে লোডশেডিং আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আলফাডাঙ্গা জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এই সাব-স্টেশনে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ৫.৬৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৩.৩২ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ২.৩৩ মেগাওয়াট বা ৪১ শতাংশ ঘাটতি নিয়েই বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
বিদ্যুতের এমন চরম বিপর্যয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। আলো এবং পাখার অভাবে তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরা সময়মতো ভ্যান-রিকশা চার্জ দিতে না পারায় তাদের রুজি-রোজগার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকেরাও সময়মতো সেচযন্ত্র চালাতে পারছেন না, যার ফলে খেতের ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।
বানা ইউনিয়নের রুদ্র বানা গ্রামের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নাঈম মোল্যা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, দিন-রাত মিলিয়ে সব মিলিয়ে দুই ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। ১০ মিনিটের জন্য এসে আবার চলে যায়। এই তীব্র গরমে আলো ছাড়া পড়ালেখা করা কিংবা অনলাইনে কোনো কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একইভাবে বুড়াইচ ইউনিয়নের ভ্যানচালক নান্নু শেখ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি ভ্যান চার্জ দিতে পারছেন না, যার কারণে তার আয়-রোজগার পুরোপুরি বন্ধ। নতুন সরকারের কাছে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান তিনি।
পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আসিফ ইকবাল হাসমত ঢাকার সঙ্গে বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাজধানীতে বিদ্যুৎ না গেলেও এখানে বিদ্যুৎ পাওয়াই দুষ্কর। অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি বা লোডশেডিংয়ের শিডিউল থাকলে মানুষ আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে পারত।
বিদ্যুৎ সংকটের এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে গরমে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্বাসকষ্টের রোগীদের নেবুলাইজার ও অক্সিজেন সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি ইসিজি, এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রামের মতো জরুরি পরীক্ষাগুলোও ব্যাহত হচ্ছে। ফ্রিজে রাখার মতো জরুরি ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন ওষুধ ব্যবসায়ীরা। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঘরবাড়িতে ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস নষ্ট হচ্ছে এবং বাজারের দোকানগুলোতে আইসক্রিমসহ অন্যান্য হিমায়িত খাদ্যপণ্য গলে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এরই মধ্যে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলো চলায় আলফাডাঙ্গার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ক্রীড়ামোদিরা জানান, গভীর রাতে খেলা দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করলেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তারা ম্যাচ উপভোগ করতে পারছেন না। এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় স্থানীয় এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বাসিন্দা।
সার্বিক বিষয়ে ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) আশিষ কুমার রায় জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নড়াইল থেকে শুকুরহাটা সাব-স্টেশনে ৩৩ কেভি লাইনের সংযোগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এনেছেন। ইতোমধ্যে এর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শুরু করার তাগিদ দেওয়া হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে আলফাডাঙ্গাসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, বর্তমান বিদ্যুৎ বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় অনেক কম এবং বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি।
ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার এস এম নাসির উদ্দিন বলেন, মূলত জাতীয় গ্রিড থেকেই চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। আলফাডাঙ্গায় দিনে ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট এবং রাতে ৭ থেকে ১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে তারা মাত্র ৩ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৃষ্টি হলে বিদ্যুতের চাহিদা কমবে এবং আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে তীব্র লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে এবং তারা দ্রুত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ১৮ দিনেও মেলেনি রাজুর সন্ধান, পথ চেয়ে দিন কাটছে বৃদ্ধ মা-বাবার
- গণভোটের রায় অমান্য করে সংশোধনের পথে সরকার, রাজপথে নামছে জামায়াত
- ৩১২ থেকে ৫০০ মিলিয়নে উন্নীত জাপানি ঋণ, কোন সংকটে পাশে দাঁড়াচ্ছে টোকিও?
- শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই: শামা ওবায়েদ
- লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে চূড়ায় এমবাপ্পে
- পার পিস ৫০ টাকা: জুলাইযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিয়ে উমামা ফাতেমার রহস্যময় পোস্ট
- ঢাকার ১১০ কিমি নদী পথে চলবে বিদ্যুৎচালিত যান, মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি জানলেন প্রধানমন্ত্রী
- ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন: আরও সস্তা হলো সোনা
- চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম একই ঐতিহাসিক কিট দ্বিতীয়বার ব্যবহার করছে আর্জেন্টিনা
- নেতানিয়াহু প্রশাসন গুরু ট্রাম্পের কথা না শুনলে ইরানই শিক্ষা দেবে: আব্বাস আরাগচি
- আমরা সরকারি সুবিধা না নেওয়ার চেষ্টা করব, তবে কেউ নিলে অপরাধ নয়: জামায়াত আমির
- ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ: ফাইনালের পথে সম্ভাব্য যত প্রতিপক্ষ
- ১৪৪ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচে মিলল অলৌকিক প্রাণ: ভেনেজুয়েলায় ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার
- মাসজুড়ে ৮ থেকে ৯ দিন বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস, উত্তরাঞ্চলসহ ৩ বিভাগে বন্যার আগাম সতর্কতা
- এইচএসসিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা: কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ও প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন
- ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতির আগুনে পুড়ছে বিশ্ব, একমাত্র ‘স্পষ্ট বিজয়ী’ হিসেবে উদয় চীনের
- অসলো চুক্তি লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানচিত্র বদলে দেওয়ার গোপন ছক ফাঁস
- দীর্ঘ ২৮ বছর পর নকআউটে নরওয়ে: আইভরি কোস্টের বিপক্ষে আজ মাঠে নামছেন হালান্ড
- পিছিয়ে পড়েও মেজাজ হারাননি আনচেলত্তি, ড্রেসিংরুমের সেই গোপন বার্তা ফাঁস
- ১৯৭৪ থেকে ১৯৯০: বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল দ্বৈরথের রোমাঞ্চকর চার অধ্যায়
- দেবিদ্বারে ৪ হাজারের বেশি কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ
- নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও গৃহ পুননির্মাণে সহায়তা প্রদান
- ভারতীয় ভিসা আবেদনে বড় পরিবর্তন
- নম্বর লুকিয়ে প্রোফাইল শেয়ারের ফিচার আনল হোয়াটসঅ্যাপ: নাম বুকিং শুরু আজই
- প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে পাস হলো জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬
- ইরান সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে তেহরান যাচ্ছে জামায়াতের সংসদীয় প্রতিনিধিদল
- ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের পরবর্তী রোডম্যাপ: সেমিফাইনালে সুপার ক্লাসিকোর আভাস
- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি: মির্জা ফখরুল
- ৬০ দিনের মধ্যে কেটে গেল ১৪ দিন, তবুও আলোর মুখ দেখেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি
- ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থনৈতিক অভিযাত্রা: পাস হলো দেশের অন্যতম বড় জাতীয় বাজেট
- স্বর্ণের পর এবার কমল রুপার দাম, প্রকাশ নতুন তালিকা
- ভিসা সহজ হতেই বদলাচ্ছে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- আজ ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- ব্রাজিলকে নিয়ে ভুল ভবিষ্যদ্বাণী, জার্মান অর্থনীতিবিদকে নেইমারের খোঁচা
- ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ডের তদন্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ
- দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের
- দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের
- আজকের খেলার সূচি, কোন ম্যাচ কখন দেখবেন
- আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন এক নজরে
- মহাকাশের ৩ স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে গেল চীন
- হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হবে জুড়ীতে পাটোয়ারী
- একীভূত ৫ ব্যাংকের আমানতের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে: সংসদে অর্থমন্ত্রী
- করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে মধ্যবিত্তদের বড় স্বস্তি দিল সরকার
- হিউস্টনে আজ ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গ করতে পারে জাপানের যে ৫টি মারাত্মক কৌশল
- জাপানের বিরুদ্ধে নামার আগে দাদির ভিডিও দেখে ক্যামেরার সামনেই কাঁদলেন ভিনিসিয়ুস
- তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে চীনের পূর্ণ সমর্থন, ভারতের উদ্বেগ নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া বার্তা
- শর্ত পূরণ আর তারিখ চূড়ান্ত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: তেহরান
- আর থাকবে না দীর্ঘ লোডশেডিং, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টার ঘোষণা
- ২ গোলের লিড হারিয়েও হারের ক্ষত বুকে নিয়ে জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে সেলেসাওরা
- দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের
- দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের
- নকআউটে ব্রাজিল, কবে-কোথায় ম্যাচ? প্রতিপক্ষ কারা
- স্বর্ণের পর এবার কমল রুপার দাম, প্রকাশ নতুন তালিকা
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- সোনার বাজারে ধ্বস, ১ লাখ ৮২ হাজার টাকায় মিলবে ভরি
- ভূমিকম্পের আগেই ফোনে সতর্কবার্তা, যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার
- মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা
- সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা
- সৌদিতে যেতে পারবেন না ৩ দেশের ভ্রমণকারীরা
- হরমুজ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
- ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ নাকচ করলেন নেতানিয়াহু
- ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থনৈতিক অভিযাত্রা: পাস হলো দেশের অন্যতম বড় জাতীয় বাজেট
- আশুরার রোজা কেন এত ফজিলতপূর্ণ? জেনে নিন
- ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ডের তদন্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ








