ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবাননের ১৪ দফা চুক্তি

ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সই হওয়া ১৪ দফার কাঠামোগত চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করার পর এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দফা সামনে এসেছে, যেখানে লেবাননের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের মতো সংবেদনশীল বিষয় রাখা হয়েছে।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তেল আবিব ও বৈরুতের মধ্যে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সই হওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি একে দীর্ঘ সংঘাতের অবসান এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি প্রাথমিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন।
চুক্তির দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, ইসরাইল ও লেবানন সরকার পারস্পরিক এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য একটি প্রক্রিয়ায় সম্মত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী বা এলএএফের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পুরো দেশের ওপর কার্যকর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
তবে এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি কঠিন শর্ত। চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের ভেতরে সক্রিয় অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে এবং এই প্রক্রিয়া বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, নিরস্ত্রীকরণ ও অবকাঠামো অপসারণের শর্ত পূরণ এবং যাচাইয়ের পর ইসরাইলি বাহিনী ধাপে ধাপে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সরে যাবে। অর্থাৎ সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি সরাসরি নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও হিজবুল্লাহসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভবিষ্যৎ অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
চুক্তির বাকি দফাগুলোতে সীমান্ত নিরাপত্তা, সমন্বয় প্রক্রিয়া, লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব, পুনর্গঠন এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সহায়তার মতো বিষয় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, কোন সময়সীমায় হবে এবং কোন পক্ষ কীভাবে অগ্রগতি যাচাই করবে—এসব প্রশ্ন এখনো বড় রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে আছে।
চুক্তির আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে দুটি এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর একটি এলাকা লিতানি নদীর দক্ষিণে এবং অন্যটি উত্তরে। এই অঞ্চলগুলোতে ইসরাইলি বাহিনী সীমিতভাবে সরে দাঁড়াবে এবং লেবাননের সেনাবাহিনী নিরাপত্তা দায়িত্ব গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত এলাকায় একই মডেল প্রয়োগ করা হতে পারে। তবে নিরাপত্তা যাচাই, হিজবুল্লাহর উপস্থিতি, স্থানীয় জনগণের প্রত্যাবর্তন এবং পুনর্গঠন সহায়তা—সবকিছুই এই প্রক্রিয়ার সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্তে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। মাঝে মাঝে সীমান্ত এলাকায় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটছে। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘর্ষের তীব্রতা কিছুটা কমেছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই চুক্তিকে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, লেবাননের ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য এই ফ্রেমওয়ার্ক একটি রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন ছাড়বে না। তাঁর অবস্থান হলো, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেনা উপস্থিতি বজায় থাকবে।
এই অবস্থানই চুক্তির বাস্তবায়নকে জটিল করে তুলতে পারে। কারণ লেবাননের ভেতরে হিজবুল্লাহ শুধু একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী নয়; দেশটির রাজনৈতিক বাস্তবতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নটি কেবল নিরাপত্তা নয়, লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি কাগজে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবায়ন হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। লেবাননের সেনাবাহিনী কি পুরো ভূখণ্ডে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে, হিজবুল্লাহ কি নিরস্ত্রীকরণে রাজি হবে, আর ইসরাইল কি পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করবে—এই তিন প্রশ্নই আগামী দিনের মূল চ্যালেঞ্জ।
যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী ও সমন্বয়কারী ভূমিকা পালন করতে চাইছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা তৈরি করা, লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব জোরদার করা এবং ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমানো।
তবে চুক্তিকে ঘিরে আশাবাদের পাশাপাশি অনিশ্চয়তাও প্রবল। যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা, হিজবুল্লাহর অবস্থান, ইসরাইলের নিরাপত্তা শর্ত, লেবাননের রাজনৈতিক বিভাজন এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব সব মিলিয়ে এই ফ্রেমওয়ার্ককে একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।
সব মিলিয়ে, ইসরাইল-লেবানন ১৪ দফা কাঠামোগত চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় বাস্তবতায় একটি নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ। এটি শান্তির পথে দরজা খুলতে পারে, আবার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে নতুন উত্তেজনার কারণও হয়ে উঠতে পারে। তাই এখন নজর থাকবে লেবাননের সেনাবাহিনীর মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব গ্রহণ, হিজবুল্লাহর প্রতিক্রিয়া এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বাস্তব অগ্রগতির দিকে।
-রাফফসান
সৌদিতে যেতে পারবেন না ৩ দেশের ভ্রমণকারীরা
ইবোলা ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তিন আফ্রিকান দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এসব দেশ থেকে আসা ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা প্রদান এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক রোগের আন্তঃসীমান্ত বিস্তার প্রতিরোধের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির পাবলিক হেলথ অথরিটি ওয়াকায়া জানিয়েছে, ইবোলা পরিস্থিতি বিবেচনায় আগাম সতর্কতা হিসেবে সীমান্ত, বিমানবন্দর ও স্বাস্থ্য নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদান। এই তিন দেশ থেকে সরাসরি সৌদি আরবে আসা ভ্রমণকারীদের প্রবেশ স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে অন্য কোনো দেশ হয়ে সৌদিতে প্রবেশ করতে চাইলেও নিয়মটি কার্যকর হবে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে ডিআর কঙ্গো, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদানের যেকোনো একটিতে অবস্থান করেছেন—এমন ব্যক্তিরাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। অর্থাৎ শুধু নাগরিকত্ব নয়, সাম্প্রতিক ভ্রমণ ইতিহাসও এখন সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
ওয়াকায়া জানিয়েছে, ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সৌদি আরবের স্বাস্থ্য নজরদারি ব্যবস্থা কাজ করছে। সম্ভাব্য সংক্রমণ শনাক্ত, ভ্রমণকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রবেশপথে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
প্রাদুর্ভাব-প্রভাবিত দেশগুলোর প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রেও সৌদি কর্তৃপক্ষ বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় বিমানবন্দর ও অন্যান্য প্রবেশপথে স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং, রোগ নজরদারি এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে।
সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াকায়া। কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে কোনো ইবোলা-সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়নি।
তবে কোনো রোগী শনাক্ত না হলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। ইবোলা একটি গুরুতর সংক্রামক রোগ হওয়ায় সংক্রমণপ্রবণ অঞ্চল থেকে ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ভ্রমণ ইতিহাস, শারীরিক উপসর্গ এবং সম্ভাব্য সংস্পর্শের বিষয়গুলো যাচাই করা হবে।
সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের ফলে ডিআর কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান থেকে শ্রম, ব্যবসা, চিকিৎসা, শিক্ষা, ধর্মীয় বা পারিবারিক কারণে সৌদিতে যেতে ইচ্ছুক বহু মানুষ সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারেন। ভিসা প্রদান স্থগিত থাকায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের নতুন আবেদনও আপাতত আটকে যাবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা প্রতিরোধে সীমান্ত পর্যায়ে দ্রুত শনাক্তকরণ, ভ্রমণ ইতিহাস যাচাই, সংস্পর্শ অনুসন্ধান এবং স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রমণ ছড়ানোর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সময় বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ইবোলা সাধারণত সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের তরল, রক্ত বা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। তাই প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া অঞ্চল থেকে আসা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ওয়াকায়া জানিয়েছে, সৌদি আরব যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নজরদারি, পরীক্ষাব্যবস্থা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করছে।
ভ্রমণকারীদের প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষের পরামর্শ হলো, যাত্রার আগে সর্বশেষ ভিসা ও প্রবেশ-নিয়ম যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে যারা গত ২১ দিনের মধ্যে ডিআর কঙ্গো, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদানে অবস্থান করেছেন, তাদের সৌদি আরবে প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে।
সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সৌদি আরব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে তারা আগাম সতর্কতার পথেই এগোবে। কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার অপেক্ষা না করে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের জন্যই ভ্রমণ ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইবোলা ভাইরাসের বিস্তার রোধে তিন দেশের ওপর সৌদি আরবের এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেশটির সীমান্ত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করল। এখন নজর থাকবে পরিস্থিতির অগ্রগতি, প্রাদুর্ভাব-প্রভাবিত দেশগুলোর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
-রফিক
পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে রাজি ইরান: দাবি ট্রাম্পের
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ‘শতভাগ নিশ্চিতভাবে’ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে শক্তিশালী অবস্থান থেকে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এ বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফলে ট্রাম্পের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং এই অবস্থান থেকেই ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য, তেহরান এখন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত রয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৩ জুন এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে, যা তিনি রেকর্ড পরিমাণ বলে উল্লেখ করেন। যদিও এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের জন্য অবমুক্ত কিছু অর্থ মানবিক ও কৃষিখাতে ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, ওই অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, ভুট্টা ও সয়াবিন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের খাদ্য চাহিদা পূরণে সহায়তা করা সম্ভব হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প পুনরায় দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
অন্যদিকে, সংঘাতের পর ইরান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এমন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ ও সংবাদ প্রতিবেদনকে ট্রাম্প সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি এসব তথ্যকে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন এবং যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
-রফিক
ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নিজের দল রিপাবলিকানের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গেই এক উত্তপ্ত ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তীব্র বাদানুবাদ ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নাটকীয় বৈঠকের পরপরই যুদ্ধের যাবতীয় ব্যয় মেটানোর উদ্দেশ্যে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে আরও কয়েক হাজার কোটি ডলারের বিশাল এক অতিরিক্ত বাজেট দাবি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স নিশ্চিত করেছে যে, বুধবার ওয়াশিংটনে এই উত্তপ্ত ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের ভেতরে উপস্থিত থাকা একাধিক রিপাবলিকান সদস্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, আলোচনার একপর্যায়ে সিনেটর বিল ক্যাসিডির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র চেঁচামেচি ও বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। ক্যাসিডি যুক্তি দেখান যে, গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন যে বিতর্কিত রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তা নিয়ে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এই চুক্তিতে ইরানকে বড় ধরনের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, আদতে যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প যেসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেছিলেন, তা পূরণে এই প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
বৈঠক শেষে ক্যাসিডি সাংবাদিকদের স্পষ্ট বলেন, প্রশাসন বর্তমানে আমাদের যা জানাচ্ছে, মার্কিন জনগণের আসলে তার চেয়েও অনেক বেশি তথ্য জানা দরকার। কারণ শুরুতে আমাদের যেভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছিল এবং যুদ্ধ যেভাবে চলার কথা ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি কোনোভাবেই সেভাবে চলছে বলে মনে হচ্ছে না।
এই উত্তপ্ত বাদানুবাদের পর পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট ও শান্ত করার প্রচেষ্টায় রিপাবলিকান সিনেট নেতারা ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানের একটি বিশেষ প্রস্তাব আটকে দিতে গভীর রাতে আকস্মিক এক ভোটাভুটির আয়োজন করেন। মে মাসে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ওই যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত ৫০-৪৭ ভোটের ব্যবধানে সিনেটে আটকে দিতে সক্ষম হন রিপাবলিকানরা।
এই ভোটাভুটির পর ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই ভোট ইরানকে একটি কড়া সতর্কবার্তা দিল। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, এই ভোটের ফলাফল আগের কোনো নির্বাহী সিদ্ধান্তের ওপর নতুন করে প্রভাব ফেলবে না। মূলত আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর এক বিশাল রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে।
এই উত্তপ্ত ও ঝোড়ো বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে যুদ্ধের খরচ বাবদ জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ৭ হাজার কোটি (৭০ বিলিয়ন) ডলারের বিশাল এক তহবিল দাবি করে বসে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ৮৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের সামরিক বাজেটকে আরও আকাশচুম্বী করে তুলবে। উল্লেখ্য, বুধবার রাতের ওই ভোটাভুটিতে তীব্র সমালোচনা করা ক্যাসিডি শেষ পর্যন্ত দলীয় লাইন মেনে প্রস্তাবের বিপক্ষেই ভোট দেন। অন্যদিকে, কেনটাকির বিখ্যাত রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল এই ভোটদান প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন।
রিপাবলিকান দলের মেইন প্রদেশের সুসান কলিন্স এবং আলাস্কার লিসা মুরকোভস্কি নামের দুই সিনেটর দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেন। এর বিপরীতে পেনসিলভানিয়ার জন ফেটারম্যান ছিলেন একমাত্র ডেমোক্র্যাট সিনেটর, যিনি নিজের দলের বাইরে গিয়ে ট্রাম্পের অনূকূলে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। এছাড়া মিচ ম্যাককনেল এবং মাইকেল বেনেট এই ভোটাভুটিতে অংশ নেননি। অবশ্য পরবর্তীতে বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক নতুন পোস্টে সিনেটর ক্যাসিডি জানান, বিকেলে ইরান ইস্যুতে বিস্তারিত ও সুক্ষ্ম ব্রিফিংয়ের জন্য তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এত দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির ব্যাখ্যা প্রদানকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।
/আশিক
২৫ লাখ কিলোমিটার দূর দিয়ে যাবে গ্রহাণু, বাইনোকুলারে দেখার সুযোগ
আগামী শনিবার মহাশূন্যে পৃথিবীর বেশ কাছ দিয়ে অতিক্রম করতে যাচ্ছে বিশাল আকৃতির একটি গ্রহাণু। তবে এই মহাজাগতিক ঘটনার কারণে পৃথিবীর জন্য কোনো ধরনের বিপদ বা ঝুঁকির আশঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছে বিজ্ঞানীদের দল। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ) জানিয়েছে, স্থানীয় আবহাওয়া ও বায়ুমণ্ডলের পরিবেশ অনুকূলে থাকলে সাধারণ জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীরা একটি ভালো মানের দূরবীক্ষণ যন্ত্র (টেলিস্কোপ) কিংবা শক্তিশালী বাইনোকুলারের সাহায্যেই আকাশে এই গ্রহাণুটির গতিপথ প্রত্যক্ষ করতে পারবেন।
মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির হিসাব ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় আগামী শনিবার সকাল ১১টা ১৪ মিনিটে ‘(১৫২৬৩৭) ১৯৯৭ এনসি১’ নামের এই গ্রহাণুটি আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার দূর দিয়ে তার কক্ষপথ অতিক্রম করবে। বিজ্ঞানীদের মতে, মহাশূন্যের এই দূরত্বটি পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যকার পারস্পরিক গড় দূরত্বের তুলনায় অন্তত ছয় গুণেরও বেশি। আর এই বিশাল নিরাপদ দূরত্বের কারণেই গ্রহাণুটির সঙ্গে পৃথিবীর কোনো ধরনের আকস্মিক সংঘর্ষ বা সংঘাতের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহর এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হওয়া এই গ্রহাণুটির সম্ভাব্য ব্যাস বা প্রস্থ প্রায় ৭৫০ মিটার থেকে শুরু করে ১ হাজার ৬৫০ মিটারের মধ্যে হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত গ্রহাণুটির গা থেকে সূর্যালোক প্রতিফলনের সামগ্রিক মাত্রা সুক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এই আকারের অনুমান করেছেন। অবশ্য ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ইএসএ এটিও জানিয়েছে যে, অন্য কিছু গাণিতিক হিসাব ও পর্যবেক্ষণের সূত্র ধরলে এর প্রকৃত আকার এই অনুমানের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কিছুটা ছোটও হতে পারে।
মহাকাশে ভ্রমণের সময় এই গ্রহাণুটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ কিলোমিটারের এক দুর্দান্ত গতিতে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকবে। ইএসএর প্ল্যানেটারি ডিফেন্স অফিসের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা হুয়ান লুইস কানো এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, মহাকাশে এ ধরনের বিশাল আকারের কোনো বাহ্যিক বস্তু পৃথিবীর এত কাছাকাছি দূরত্বের পরিধিতে আসার ঘটনা সাধারণত কয়েক বছর পরপর একবার ঘটে থাকে। তবে এবার গ্রহাণুটি অতিক্রম করার সময়ে আকাশে উজ্জ্বল চাঁদের উপস্থিতি থাকার কারণে সাধারণ মানুষের এটি খালি চোখে বা লেন্সের মাধ্যমে দেখতে কিছুটা বেগ পেতে হতে পারে।
মহাকাশ বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পৃথিবীর দিকে অগ্রসর হওয়ার শুরুর দিকে এই গ্রহাণুটি মূলত উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থান থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। এরপর এটি যখন নিজ কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী বিন্দুতে এসে পৌঁছাবে, তখন বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চল থেকেই এটি কমবেশি দৃশ্যমান হবে। পরবর্তী সময়ে এটি আমাদের গ্রহ থেকে ক্রমান্বয়ে দূরে সরে যেতে শুরু করলে তা মূলত দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশে হেলে পড়বে এবং সেখানকার বাসিন্দাদের দৃশ্যপটে থাকবে। তবে গ্রহাণুটি দেখার পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে স্থানীয় আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং রাতের আকাশের স্বচ্ছতার ওপর। রাতের আকাশ মেঘমুক্ত, পরিষ্কার এবং পর্যাপ্ত অন্ধকার থাকলে এটি দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকবে।
/আশিক
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ থেকে টোল নিচ্ছে না ইরান: ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী কোনো বাণিজ্যিক বা পণ্যবাহী জাহাজ থেকে ইরান কোনো ধরনের টোল বা মাশুল আদায় করছে না বলে ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তেহরানের দেওয়া এই আশ্বাস যদি কোনোভাবে মিথ্যা বা কাল্পনিক প্রমাণিত হয়, তবে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নিজের পোস্টে সম্পূর্ণ বড় হাতের অক্ষরে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় কোনো জাহাজের কাছ থেকেই ইরান কোনো ধরনের টোল, বিমা খরচ কিংবা অন্য কোনো প্রকার অতিরিক্ত চার্জ দাবি করছে না এবং গ্রহণও করছে না। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার কোনো ধরনের গোপন বা সরাসরি আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে কোনো নগদ অর্থ দেওয়া হয়নি বা তাদের কোনো অর্থ নতুন করে অবমুক্তও করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করা তহবিলের কিছু অংশ মার্কিন কৃষক ও খামারিদের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। এই নির্দিষ্ট অর্থ দিয়ে মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ভুট্টা, গম ও সয়াবিনের মতো বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য কেনা হবে।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের শেষ অংশে ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইরানে বর্তমানে খাদ্যের তীব্র সংকট ও জরুরি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। আর সেই মানবিক কারণেই দেশটির অবরুদ্ধ অর্থের একটি অংশ দিয়ে এই খাদ্যসামগ্রী কেনা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই খাদ্যশস্য একচেটিয়াভাবে কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেই কেনা হবে বলে দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প।
সূত্র: আল-জাজিরা।
খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ইরানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক প্রকাশ ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ভারতীয় গণমাধ্যম উইয়ন নিউজ (WION News) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে তেহরানের এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে শীর্ষপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি যোগ দেবেন কি না, তা এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সমবেদনা জানাতে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসে গিয়েছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিসরি। সেখানে তিনি শোকবইয়ে স্বাক্ষর করে ভারতের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।
নয়াদিল্লি সর্বদা ইরানকে তাদের বর্ধিত প্রতিবেশী অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক ৪০ দিনব্যাপী চলাকালীন সংঘাতের সময়েও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
অস্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যেই ব্রিকস (BRICS) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দিতে ভারতের নয়াদিল্লি সফর করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সেই সফরকালে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠক করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
/আশিক
ইরান যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করল সিনেট
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি সীমিত করতে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান দ্রুত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৫০-৪৮ ভোটের ব্যবধানে বিলটি অনুমোদন পায়। এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই একই প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাস হয়েছিল। ফলে প্রথমবারের মতো যুদ্ধসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সমর্থন লাভ করল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট শুধু একটি আইন প্রণয়নের প্রচেষ্টা নয়; বরং এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে নিজ দলের ভেতরে বাড়তে থাকা অস্বস্তি ও রাজনৈতিক বিভাজনেরও প্রতিফলন।
সিনেটে রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে থাকলেও দলের কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, দীর্ঘায়িত সংঘাত এবং এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিলটির পক্ষে ভোট দেওয়া রিপাবলিকান সিনেটরদের মধ্যে রয়েছেন লুইসিয়ানার বিল কাসিডি, আলাস্কার লিসা মুরকোস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স এবং কেনটাকির র্যান্ড পল। অন্যদিকে, অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট সদস্য এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন।
তবে কেনটাকির সাবেক সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেল এবং পেনসিলভেনিয়ার ডেভ ম্যাককরমিক ভোটদানে অংশ নেননি, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি মূলত কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রেসিডেন্টরা নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন।
ইরান ইস্যুতে সেই প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে। সমালোচকদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পর্যাপ্ত কংগ্রেসীয় অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন, যা সাংবিধানিক বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।
তবে বিলটি পাস হলেও সেটি কার্যকর হওয়ার বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিলে ভেটো প্রয়োগ করতে পারেন।
যদি ট্রাম্প ভেটো দেন, তাহলে বিলটি কার্যকর করতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জনমতও দ্রুত বদলাচ্ছে। যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
ইরানের বুকে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের আগে মার্কিন পাইলটের রহস্যময় দাবি
ইরানের আকাশসীমায় গত এপ্রিল মাসে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের এক পাইলট উদ্ধার হওয়ার পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি আকাশে একসঙ্গে সুবিন্যস্ত অবস্থায় একাধিক ইরানি ড্রোন উড়তে দেখেছিলেন, যার সামগ্রিক অবয়ব বা বিন্যাস দেখতে অনেকটা সমুদ্রের ‘জেলিফিশ’-এর মতো ছিল।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই পাইলট মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে এই জেলিফিশ-সদৃশ ড্রোন নেটওয়ার্কের বিবরণ দেওয়ার পর থেকেই পেন্টাগন এবং মার্কিন গোয়েন্দা মহলে ব্যাপক তোলপাড় ও চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
পাইলটের বিবরণ অনুযায়ী, আকাশে একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট জ্যামিতিক বিন্যাসে ড্রোনগুলো অবস্থান করছিল। সেখানে বড় আকৃতির ড্রোনগুলোর ঠিক নিচে ছোট ড্রোনগুলো এমন নিখুঁতভাবে সারিবদ্ধ ছিল, যেন দূর থেকে দেখলে মনে হবে একটি জেলিফিশের পা বা শুঁড়গুলো ঝুলছে। শুধু তাই নয়, পুরো গঠনটি একটি একক সত্তার মতো অত্যন্ত সমন্বিতভাবে একসঙ্গে দিক পরিবর্তন ও চলাচল করছিল। ঘটনার বিষয়ে অবগত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র সিএনএনকে জানায়, ড্রোনগুলো পরস্পরের সঙ্গে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল এবং বড় ড্রোনের নিচে ছোটগুলো যেভাবে ঝুলছিল, তা দেখতে অবিশ্বাস্য লাগছিল। এছাড়া পাইলট আকাশে ‘ড্রোনের মাইনফিল্ড’ বা ফাঁদ দেখার কথাও উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের এই অত্যাধুনিক ড্রোন নেটওয়ার্ক কোনোভাবে তাদের স্থলভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এই সমন্বিত প্রযুক্তির সাহায্যেই মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটিকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ভূপাতিত করা হয়। উল্লেখ্য, ভূপাতিত ওই বিমানে দুজন আরোহী ছিলেন। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মূল পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও, অপর ক্রু সদস্য প্রায় একদিনের বেশি সময় ধরে ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করে থাকার পর উদ্ধার হন। তবে ওই দ্বিতীয় ক্রু সদস্যও আকাশে একই দৃশ্য দেখেছিলেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। এছাড়া ওই একই উদ্ধার অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীর একটি এ-১০ যুদ্ধবিমানও ইরানের গোলার আঘাতে ভূপাতিত হয়েছিল, তবে তার পাইলট নিরাপদে ইরানের আকাশসীমার বাইরে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।
সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে সামরিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পাইলট আকাশে যে প্রযুক্তির বর্ণনা দিয়েছেন, সামরিক পরিভাষায় তাকে 'ওয়ান-টু-ম্যানি মেশড নেটওয়ার্কিং' (One-to-Many Meshed Networking) বলা হয়। এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন মাত্র অপারেটর বা একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড স্টেশন থেকে একই সময়ে শত শত ড্রোনের ঝাঁক নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং ড্রোনগুলো জিপিএস বা স্যাটেলাইট ছাড়াই নিজেদের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করে নিখুঁতভাবে হামলা বা প্রতিরক্ষার কাজ করতে পারে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পূর্ববর্তী কোনো মূল্যায়নেই ইরানের কাছে এমন স্বয়ংক্রিয় ‘সোয়ার্ম ড্রোন’ বা মেশড নেটওয়ার্কিং সক্ষমতা থাকার কথা স্বীকার করা হয়নি। তবে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা মহলের একাংশের দাবি, ড্রোন প্রযুক্তির এই অভাবনীয় উন্নয়নে ইরান মূলত চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে বড় ধরনের কারিগরি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা পেয়ে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলটের এই দাবি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য এক নজিরবিহীন ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
অবশ্য মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ এই ‘জেলিফিশ ড্রোন’-এর তত্ত্বটি এখনই শতভাগ মেনে নিতে রাজি নন। তারা বিষয়টিকে বেশ সতর্কতার সঙ্গে দেখছেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বিমানটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হওয়ার সময় পাইলট মাথায় বেশ গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। এছাড়া যুদ্ধ চলাকালীন এর আগেও তিনি একবার ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ (নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলা) এর শিকার হয়ে বিমান থেকে ছিটকে পড়েছিলেন। ফলে তিনি বাস্তবে আসলেই ইরানের কোনো গোপন ও পরীক্ষামূলক ড্রোন প্রযুক্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন, নাকি তীব্র মানসিক চাপ ও মাথায় আঘাতজনিত কারণে এটি তার কোনো চাক্ষুষ বিভ্রম (Hallucination) ছিল—তা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থায় তীব্র মতভেদ ও বিতর্ক রয়েই গেছে।
/আশিক
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর ইরানি প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট: মধ্যপ্রাচ্য শান্তিতে নতুন সংকট
দীর্ঘদিন ধরে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়া বহুল আলোচিত শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া ও হুমকিমূলক বক্তব্যের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে সুইজারল্যান্ডের আলোচনাস্থল সাময়িকভাবে ত্যাগ করেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে যখন দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি কড়া বার্তা দেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরান যদি তার মিত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে লজিস্টিক ও সামরিক সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে ওয়াশিংটন। এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর কিছুক্ষণ পরেই আলোচনার টেবিল থেকে ওয়াকআউট করেন ইরানি প্রতিনিধিরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এই নাটকীয় খবরটি নিশ্চিত করেছে।
আইআরএনএ-এর বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক শেষ করার পরপরই ইরানি প্রতিনিধি দল আলোচনার মূল ভেন্যু ছেড়ে চলে যায়। প্রায় একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে আরেকটি পোস্ট করেন। তবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক মহলের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এখনই এই শান্তি আলোচনা পুরোপুরি বয়কট বা বন্ধ করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কূটনীতিক জানান, ইরানি প্রতিনিধি দল এখনো সুইজারল্যান্ডেই অবস্থান করছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা জারি রেখেছে; তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপ ত্যাগের কোনো চূড়ান্ত ইঙ্গিত দেয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির জবাবে অত্যন্ত কড়া ভাষায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেন, মার্কিন প্রশাসনের নিজেদের বক্তব্যের বিষয়ে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং প্রয়োজন হলে সামরিক উপায়ে ভিন্নভাবে জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তারা বাইরে যা-ই বলুক না কেন, মাঠের কাজ ইরান নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ীই করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে দশকের পর দশক ধরে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে শুরু হওয়া এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সফল হলে, পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে কয়েক যুগের অমীমাংসিত পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো বড় বড় ইস্যুগুলো নিয়ে একটি বিস্তৃত ও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পথ খুলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু এই অগ্রগতির পথে এখনো লেবাননে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং উভয় পক্ষের অনমনীয় অবস্থান বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এরই মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ দমনে ইসরায়েলি সেনারা ‘যতদিন প্রয়োজন’ ততদিন অবস্থান করবে এবং তারা কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না। অপরদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, প্রথম দফার দীর্ঘ আলোচনার শুরুর ৮০ মিনিটে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি টেবিল জুড়েই আসেনি। বরং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং লেবাননের জ্বলন্ত পরিস্থিতিই ছিল দুই পক্ষের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
এই সংলাপকে অত্যন্ত ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বেশ কিছু কৌশলগত প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে কি দুই দেশের মধ্যে শত্রুতার অবসান ঘটে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে? মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক কি চিরতরে বদলে দেওয়া সম্ভব, নাকি পরিস্থিতি আবার পুরোনো সংঘাতের পথেই ফিরে যাবে? বর্তমানে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার ভয়াবহ যুদ্ধ যখন পুরো অঞ্চলকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে, ঠিক তখনই এই মার্কিন-ইরান সংলাপ চলছে। তবে তেহরান ইতোমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবানন সীমান্তে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো অসম্ভব।
সূত্র: দ্য স্ট্রেট টাইমস, দ্য হিন্দু
পাঠকের মতামত:
- ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবাননের ১৪ দফা চুক্তি
- সৌদিতে যেতে পারবেন না ৩ দেশের ভ্রমণকারীরা
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- বছরের সর্বনিম্নে সোনা, আজ ভরি কত?
- আজ কখন কোন নামাজ? দেখে নিন পূর্ণ সময়সূচি
- টিভিতে আজ ফুটবল ও ক্রিকেটের মেগা সূচি
- সোনার বাজারে ধ্বস, ১ লাখ ৮২ হাজার টাকায় মিলবে ভরি
- চীন সফরে ১৭ এমওইউ, কী পেল বাংলাদেশ
- তিস্তার ঢেউয়ে কূটনীতির নতুন গল্প: ঢাকার পাশে বেইজিং
- ভূমিকম্পের আগেই ফোনে সতর্কবার্তা, যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার
- বারবার ক্ষুধা লাগে? জানুন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে যে ৭ খাবার
- শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বড় বার্তা
- যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় তুরস্কের
- আজ টিভিতে বিশ্বকাপ ফুটবল, ক্রিকেটসহ খেলার সূচি
- ডিএসই সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ, কোন খাত এগোল, কোনটি পিছোল
- আজ ১০ মহররম, জেনে নিন নামাজের সময়সূচি
- পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে রাজি ইরান: দাবি ট্রাম্পের
- ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকায় কী ঘটতে পারে, জানুন বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র
- আবার কমল স্বর্ণের দাম, আজ কত টাকায় মিলছে এক ভরি
- শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ, বের হওয়ার আগে জানুন
- বেইজিংয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন মোড়: শি জিনপিং-তারেক রহমান বৈঠক
- হয়রানির ভয়ে মানুষ এখন পুলিশের কাছে যেতে চায় না: শিশির মনির
- দেবিদ্বারে স্বপ্নসিঁড়ি ব্লাড ডোনার সোসাইটির নতুন কমিটি গঠন
- দেবিদ্বার নিউ মার্কেটে বাস পার্কিং করে যানজট: ৩ পরিবহনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা
- জাপান ও সুইডেনের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, কার মাথায় উঠবে নকআউটের মুকুট?
- ইসলামে বিভেদ ও হানাহানির কোনো স্থান নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- জর্ডান ম্যাচে আর্জেন্টিনা একাদশে বড় পরিবর্তনের আভাস, বিশ্রাম পেতে পারেন মেসি-মার্তিনেজ
- ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
- ১ টাকার দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারলে সংসদ থেকে ইস্তফা দেব: হাসনাত আবদুল্লাহ
- প্রতিদিনের ১০ খাবার যা বাড়াবে আপনার শক্তি
- হালাল রিজিক ও বরকতের জন্য যে আমলগুলো গুরুত্বপূর্ণ
- ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপে কঠিন সমীকরণের মুখে বিশ্বফুটবলের পরাশক্তিরা
- আজ রাতের মধ্যে দেশের ১৭ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প
- ২৮ জুন থেকে দেশের ৫টি কেন্দ্রে নেওয়া হবে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন
- অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়তে শেখায় আশুরা: রাষ্ট্রপতি
- সীমান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে: আশাবাদ নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারের
- বেইজিংয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: ১৫টি সমঝোতা স্মারকে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়
- ২৫ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ২৫ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৫ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- তিস্তা নিয়ে চীনের সঙ্গে নতুন সমঝোতা, বৈঠকে তারেক রহমান
- যেদিন থেকে শুরু হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন
- নবম পে স্কেলে বড় অগ্রগতি, বৈঠকে নেওয়া যেসব সিদ্ধান্ত
- স্বস্তির খবর, সোনার দামে বড় পতন ঘোষণা বাজুসের
- বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফের পুশইন চেষ্টা
- প্রথমবার এমওইউ সই করল বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টি
- বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন গতি, বেইজিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- আশুরার রোজা কেন এত ফজিলতপূর্ণ? জেনে নিন
- নকআউটে ব্রাজিল, কবে-কোথায় ম্যাচ? প্রতিপক্ষ কারা
- শিক্ষকের মর্যাদা ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির সীমারেখা
- ইরান চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ
- হরমুজে টোল নিলে যুক্তরাষ্ট্রই আদায় করবে: ট্রাম্প
- স্পেন-সৌদি আরবসহ আজ বিশ্বকাপের বড় ছয় লড়াই, এক নজরে পূর্ণ সূচি
- বিশ্বকাপে গোলযুদ্ধে ব্রাজিল-জার্মানির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
- ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬: টিভি ও মোবাইলে দেখার উপায়
- নকআউটে ব্রাজিল, কবে-কোথায় ম্যাচ? প্রতিপক্ষ কারা
- রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণের নতুন লাফ: দুদিনের মাথায় দামের এই রেকর্ড লাফের পেছনের রহস্য কী?
- ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ নাজিরপুরে মাদক নির্মূলে মানববন্ধন
- সোনার বাজারে ধ্বস, ১ লাখ ৮২ হাজার টাকায় মিলবে ভরি
- রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত
- ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর ও বেইজিং—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেগা সফরে যা কিছু থাকছে
- ২১ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- অবসরের ১১ বছর পর ফুটবল মাঠে ফিরছেন কিংবদন্তি রোনালদিনহো
- বুধবার বন্ধ থাকবে যমুনা ফিউচার পার্কসহ যেসব মার্কেট








