ইরানকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিল পাকিস্তান: জারি হলো নতুন আদেশ

আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সংযোগ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পাকিস্তান সরকার তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশের পণ্য ইরানে পরিবহনের ঐতিহাসিক অনুমতি প্রদান করেছে। সম্প্রতি ‘ট্রানজিট অব গুডস অর্ডার ২০২৬’ জারির মাধ্যমে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, ১৯৫০ সালের আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং ২০০৮ সালের পাকিস্তান-ইরান সড়কপথ চুক্তির আলোকে এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশটি জারি করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পাকিস্তান একটি শক্তিশালী ট্রানজিট হাব হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।
এই আদেশের আওতায় তৃতীয় কোনো দেশ থেকে আসা ইরানগামী পণ্য পাকিস্তানের নির্দিষ্ট করিডোর ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের জন্য সরকার প্রধান রুট হিসেবে গোয়াদার ও করাচি সমুদ্রবন্দর এবং সীমান্ত এলাকা তাফতানকে নির্ধারণ করেছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ‘ট্রানজিট’ বলতে কেবল সেই পণ্যগুলোকে বোঝানো হবে যা পাকিস্তানের বাইরে থেকে আসবে এবং অন্য কোনো দেশে গিয়ে শেষ হবে। এছাড়া কাস্টমস নিয়ম মেনে পণ্য এক কনটেইনার থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের জন্য ‘ক্রস-স্টাফিং’ সুবিধাও রাখা হয়েছে।
বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বচ্ছ রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি চালানের জন্য আর্থিক গ্যারান্টি প্রদান বাধ্যতামূলক করেছে পাকিস্তান সরকার। পুরো প্রক্রিয়াটি ১৯৬৯ সালের কাস্টমস আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশটির ভূমিকা আরও জোরালো হবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
/আশিক
ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিতে সম্মত ডোনাল্ড ট্রাম্প!
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র সামরিক ও কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধের মাঝেই এবার এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় বিভিন্ন দেশে অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ হয়ে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থাৎ মোট ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকারও বেশি) রাষ্ট্রীয় সম্পদ সম্পূর্ণ মুক্ত বা অবমুক্ত করে দিতে গোপনে সম্মত হয়েছেন।
তবে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক জটিলতার কারণে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সরাসরি নিশ্চিতকরণ ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন এই বিশাল পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন তেহরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’ (Fars News Agency) গতকাল শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ভূ-রাজনৈতিক তথ্যটি বিশ্বমঞ্চে প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অত্যন্ত সিনিয়র ও প্রভাবশালী উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি (Mohsen Rezaei) দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমের ঐতিহাসিক শহর দেজফুলে একটি বিশেষ সামরিক স্মরণসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় আমেরিকার এই পিছু হটার দাবি করেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, "সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার সাথে মুখোমুখি হওয়া সামরিক সংঘাতগুলো বিশ্বমঞ্চে ইরানের কৌশলগত অবস্থানকে আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী ও অপরাজেয় করেছে। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিরোধ ক্ষমতা (Deterrence) এখন এমন এক অপ্রতিরোধ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে যে—যাকে আমরা ‘জুয়াড়ি ট্রাম্প’ বলতাম, সেই ট্রাম্প এখন তেহরানের সাথে সরাসরি কোনো যুদ্ধ বা আলোচনা করতেও রীতিমতো ভয় পাচ্ছেন।"
নিজের দীর্ঘ বক্তব্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নোংরা রাজনীতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে মহসেন রেজায়ি দাবি করেন, ওয়াশিংটনের বর্তমান পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতিগুলো এখন সম্পূর্ণভাবে এবং বহুলাংশে মার্কিন মুলুকের শক্তিশালী ইসরাইলি লবিং গ্রুপ বা জায়নবাদী লবিস্টদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এই লবিস্টদের অতিরিক্ত ও অনৈতিক প্রভাবের কারণে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র কার্যত এখন ‘জায়নবাদী ইসরাইলি শাসনের’ একটি ক্রীড়নক বা ‘উপনিবেশে’ পরিণত হয়েছে বলেও তিনি চরম বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
তবে মহসেন রেজায়ির এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের ঠিক আগেই গতকাল শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি (Abbas Araghchi) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে অত্যন্ত ইতিবাচক এক কূটনীতির ইঙ্গিত দিয়ে জানান, পর্দার আড়ালে চলমান আলোচনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ‘সমঝোতা স্মারক প্রস্তাব’ (MoU) এখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তেহরানের আশা—এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হলে লেবানন, সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে চলমান বিধ্বংসী প্রক্সি সংঘাতের একটি স্থায়ী ও আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটবে এবং একই সঙ্গে ইরানের ওপর দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চেপে থাকা মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মূল আলোচনার পথ পুরোপুরি সুগম হবে।
এদিকে তেহরানের এই দাবির সমান্তরালে খোদ ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউজ ও পেন্টাগনের পক্ষ থেকেও এই যুদ্ধবিরতির বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও স্পষ্ট সংকেত মিলেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক অত্যন্ত ঊর্ধ্বতন ও নীতি-নির্ধারক কর্মকর্তা শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে—সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অবসানের একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে জোরালো আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এই চুক্তি ও ২৪ বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ ফান্ড ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে আমেরিকার পক্ষ থেকে একটি কঠিন ও প্রধান শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে; আর তা হলো—ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি (Nuclear Program) চিরদিনের জন্য সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিতে হবে বা স্তিমিত করতে হবে। দুই চিরশত্রু দেশের এই গোপন ও প্রকাশ্য চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে সম্পূর্ণ নতুন এক মোড় এনে দিচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
ইরান ও প্রতিরোধ শক্তির চূড়ান্ত বিজয় দেখবে বিশ্ব
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝেই ইসরাইলকে তীব্র আক্রমণ করে হুশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দাবি করেছেন, খুব শিগগিরই পুরো বিশ্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের বিশাল বিজয় এবং তাদের গড়ে তোলা ‘প্রতিরোধ শক্তির’ (Axis of Resistance) চূড়ান্ত সাফল্যের প্রতিধ্বনি স্বচক্ষে দেখতে পাবে।
একই সঙ্গে তিনি ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলকে একটি ‘আগ্রাসী ও লোভী শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর সমালোচনা করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রভাবশালী গণমাধ্যম প্রেস টিভির (Press TV) এক বিশেষ প্রতিবেদনে তেহরানের এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার হুশিয়ারি বার্তাটি আজ শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) আন্তর্জাতিক মহলে প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরানের প্রয়াত দুই শীর্ষ সামরিক ব্যক্তিত্ব মেজর জেনারেল গোলামআলি রশিদ এবং আমিন আব্বাস রশিদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণসভায় পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক শোকবার্তায় জেনারেল আলি আবদোল্লাহি এসব তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেন। তিনি তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, জেনারেল রশিদ ও তাঁর সুযোগ্য পুত্রের আকস্মিক মৃত্যু নিঃসন্দেহে ইরানের সামরিক খাত এবং পুরো দেশের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অপূরণীয় ক্ষতি ছিল; তবে একই সঙ্গে এই আত্মত্যাগ বিশ্বমঞ্চে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধক্ষমতা, ইস্পাতকঠিন মনোবল ও জাতীয় শক্তির এক অনন্য প্রমাণ দিয়েছে।
শত্রুপক্ষের গুপ্তহত্যা নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি তাঁর ভাষ্যে বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের এই দুর্বল ও লোভী শত্রু (ইসরাইল) ভেবেছিল যে, ইরানের প্রধান সামরিক কৌশলবিদদের শারীরিকভাবে হত্যা বা নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে বুঝি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের মূল প্রতিরক্ষা-সংকল্পে বড় ধরনের ফাটল ধরানো যাবে। কিন্তু ধূর্ত শত্রুরা এটা বুঝতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে যে—শহীদ রশিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য যুদ্ধবিদ্যা, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং নিখুঁত কৌশলগত চিন্তার একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও অবিনশ্বর উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।"
জেনারেল আবদুল্লাহি আরও দাবি করেন, শহীদ রশিদের দেখিয়ে যাওয়া সেই আধুনিক কৌশলগত পথ ও গাইডলাইন নিখুঁতভাবে অনুসরণ করেই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখনও শত্রুপক্ষের তথাকথিত ‘জটিল হাইব্রিড যুদ্ধ এবং জ্ঞানগত বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ (Cognitive Warfare) অত্যন্ত সফলতার সাথে মোকাবিলা করে যাচ্ছে। তেহরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তার এমন মারমুখী বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে ইসরাইল ও মার্কিন জোটের বিরুদ্ধে ইরান তাদের সামরিক ও প্রক্সি ফ্রন্টগুলোকে আরও বেশি শক্তিশালী ও আক্রমণাত্মক করে তুলছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এফবিআই ড্রোন হ্যাকের দাবি, বিশ্বকাপকে ঘিরে সাইবার হুমকি
ফুটবল বিশ্বকাপের আবহের মধ্যেই নতুন এক সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ইরান-সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত একটি হ্যাকার গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর ড্রোন ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি তথ্যের অ্যাক্সেস ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তারা পরোক্ষ হুমকিও দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, উগ্রপন্থী ও সাইবার গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘হান্দালা’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী নিজেদের বিবৃতিতে দাবি করেছে যে তারা কয়েক মাস ধরে এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (এফপিভি) ড্রোন থেকে সংগৃহীত তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, এসব ড্রোনে অত্যাধুনিক মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং যানবাহনের নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা যুক্ত ছিল। তাদের ভাষ্যমতে, ড্রোনগুলো সন্ত্রাসবিরোধী নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো এবং তারা এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগৃহীত ছবি ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তথ্য দেখতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত বিবৃতিতে হান্দালা সতর্কতামূলক ভাষায় উল্লেখ করেছে যে আয়োজকরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা যতই জোরদার করুক না কেন, আকাশপথের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে ড্রোন প্রযুক্তি এখন সর্বত্র উপস্থিত এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
তবে হ্যাকারদের এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। সংস্থাটি বলছে, হান্দালা যে ভিডিও ও ছবিগুলো প্রকাশ করেছে তার কিছু উপাদান আগেই জনসমক্ষে ব্যবহৃত হয়েছিল। বিশেষ করে একটি ভিডিও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রচারণামূলক উপস্থাপনায় ব্যবহৃত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
সাইটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভিডিওটির একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের একটি পুলিশ বিভাগের টর্নেডো-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত প্রযুক্তির ডেমোনস্ট্রেশন ছিল। ফলে হান্দালার প্রকাশিত সব উপকরণ যে এফবিআইয়ের হ্যাক হওয়া ড্রোন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, সে দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। আয়োজক শহর ও স্টেডিয়ামগুলোর আশপাশে এফবিআই, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ফেডারেল সংস্থাগুলো উন্নত ড্রোন নজরদারি ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে স্টেডিয়াম এলাকা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানস্থলের আকাশসীমায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়নও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক ক্রীড়া আসরগুলোতে ড্রোন-ভিত্তিক হুমকি মোকাবিলা এখন অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। কারণ ছোট আকারের ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ কিংবা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনার পেছনে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং তেহরানকে কেন্দ্র করে সামরিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্ভাব্য ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলা সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তখন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলোতে সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে।
হান্দালা নামটি এর আগেও আলোচনায় এসেছে। গত মার্চে গোষ্ঠীটি দাবি করেছিল যে তারা এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছে। পরে অনলাইনে কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য প্রকাশ করা হয়, যদিও সেসব দাবির পূর্ণ সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ছিল।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ এই গোষ্ঠীকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। হান্দালার সদস্যদের শনাক্ত করতে সহায়ক তথ্য দিলে সর্বোচ্চ এক কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র গোষ্ঠীটিকে সম্ভাব্য সাইবার হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
-রাফসান
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়ায় কী আছে? জানালেন কূটনীতিক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটাতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তির খসড়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ চুক্তির খসড়ার মৌলিক বিষয়গুলোতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনার কাঠামো তৈরির বিষয়গুলোকে চুক্তির কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত খসড়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে ৬০ দিনের বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়েও চুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, ইরান কোনো ধরনের অতিরিক্ত ট্রানজিট ফি বা শুল্ক ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট পুনরায় উন্মুক্ত করবে। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালীটি স্বাভাবিকভাবে চালু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়েছে, স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক শিপিং খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন বন্দর ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তির বাস্তবায়ন অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে শিথিল করার বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পারমাণবিক কর্মসূচি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ দূর করার লক্ষ্যও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন প্রতিশ্রুতি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ সংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলার বিষয়গুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য পরবর্তী পর্যায়ে পৃথক ও বিস্তৃত আলোচনা চালানো হবে।
কূটনৈতিক মহলে আলোচিত আরেকটি বিষয় হলো সম্ভাব্য চুক্তির নাম। সূত্র অনুযায়ী, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এগিয়ে চলা এই সমঝোতা চূড়ান্ত হলে এর নাম হতে পারে ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’। আলোচনায় দুই দেশের সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এমন নাম বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে চুক্তির সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি—বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানি তহবিল মুক্ত করা—খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ ছাড়ের দাবি জানিয়ে আসছিল তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, জ্বালানি পরিবহন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে নিবিড় আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা কাছাকাছি এসেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছে এবং খুব শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইউরোপে সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।
আরেক কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্যমতে, সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকায় জেনেভাকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভেন্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে অপরদিকে ইরান এখনো সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চুক্তি নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে তার অনেকটাই ‘জল্পনা-কল্পনা’ এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটছে না।
সূত্র : সিএনএন
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
বিশ্বের মহাকাশ প্রযুক্তি খাতে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি (আইপিও) থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের খবর আন্তর্জাতিক আর্থিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার বা ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, যা ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শেয়ার ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্পেসএক্সের শেয়ার প্রতি মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দামে প্রায় ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের মূলধন সংগ্রহ করা হয়। এর ফলে মহাকাশ অনুসন্ধান, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং বাণিজ্যিক মহাকাশ পরিবহন খাতে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি ও মহাকাশ কোম্পানিগুলোর কাতারে উঠে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিটির অবস্থান বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে আরও শক্তিশালী হতে পারে।
‘এসপিসিএক্স’ প্রতীকে নাসডাকে লেনদেন শুরু হলে স্পেসএক্স বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অন্যতম হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এবং মহাকাশ পরিবহন খাতে কোম্পানিটির বিস্তৃত কার্যক্রম বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
আইপিও-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির পরও কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ দৃঢ়ভাবে ইলন মাস্কের হাতেই থাকবে। তার কাছে প্রায় ৮৪ কোটি ৯৫ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার এবং ৫৫৭ কোটির বেশি ক্লাস-বি শেয়ার থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে কোম্পানির ভোটিং ক্ষমতার প্রায় ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
বাজারমূল্যের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, স্পেসএক্সে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন শেয়ারের মূল্য প্রায় ৮৬৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে তার অন্যান্য ব্যবসা বিশেষ করে Tesla, xAI এবং X-এ থাকা সম্পদের মূল্য যোগ করলে তাকে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রিলিয়নিয়ার উপাধি কেবল ব্যক্তিগত সম্পদের প্রতীক নয়; এটি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দ্রুত বিস্তারেরও একটি প্রতিফলন। গত এক দশকে মহাকাশ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে যে বিপ্লব ঘটেছে, ইলন মাস্ক তার অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী।
স্পেসএক্স বর্তমানে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি, স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক এবং গভীর মহাকাশ অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দশকে বাণিজ্যিক মহাকাশ অর্থনীতির আকার কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যেখানে স্পেসএক্সের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
-রাফসান
জেডি ভ্যান্সের সফর জল্পনা, বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির সম্ভাবনা
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের পর এবার নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মার্কিন বিমানবাহিনীর চারটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান ইউরোপের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এসব বিমানে বহন করা সরঞ্জাম মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সম্ভাব্য জেনেভা সফর এবং একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন রয়েছে, দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এমন একটি কাঠামোগত সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে, যা শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নেও নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী বর্তমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য সম্প্রসারণ করা হতে পারে। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি বিস্তৃত ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য আলোচনা কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সফল হলে বহু বছর ধরে চলা পারমাণবিক অচলাবস্থা নিরসনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
খসড়া প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দ্রুত উন্মুক্ত করা হবে এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত ট্রানজিট ফি ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ের বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত এবং পারমাণবিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দূর করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পারমাণবিক কর্মসূচির চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আরও একটি পৃথক ও বিস্তারিত চুক্তি প্রয়োজন হবে।
সমঝোতা বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে শিথিল করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে সীমিত ছাড় দেওয়া হতে পারে, যা ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষ কাজ করছে।
তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরানের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক মহলে চুক্তির অধিকাংশ বিষয় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হলেও সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির চূড়ান্ত সম্মতি এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
এই পুরো আলোচনায় কাতার ও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। দুই দেশই দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় সক্রিয় ছিল। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করলে সমঝোতার নাম হতে পারে ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’, যা দক্ষিণ এশীয় কূটনীতির জন্যও একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানিয়েছেন, চুক্তির ভাষা ও মূল কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া এটিকে চূড়ান্ত চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
-রাফসান
ট্রাম্পের দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতার দাবি করার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়নি এবং এ ধরনের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরকে ‘ভিত্তিহীন’, ‘অকালপক্ব’ এবং ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এখনো এমন কোনো পর্যায়ে পৌঁছানো যায়নি, যেখান থেকে চূড়ান্ত সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া সম্ভব।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে জানা গেছে, বাঘেই মনে করেন আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি পরিস্থিতিকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তিনি বলেন, সংলাপের বিভিন্ন ধাপ এখনো চলমান এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
তবে আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি—এমনটিও বলছে না তেহরান। আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, আলোচনার খসড়ার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। অর্থাৎ সংলাপ প্রক্রিয়া থেমে নেই, বরং বিভিন্ন বিষয়ে খুঁটিনাটি পর্যায়ে আলোচনা এগোচ্ছে।
একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে ওয়াশিংটন বারবার তাদের অবস্থান বদলেছে, যা সমঝোতা প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান নিজের মৌলিক নীতি ও কৌশলগত স্বার্থ থেকে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
বাঘেই জোর দিয়ে বলেন, ইরানের নির্ধারিত ‘লাল রেখা’ বা জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট মৌলিক অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকবে। পারমাণবিক কর্মসূচি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্বার্থের প্রশ্নে তেহরান কোনো আপসের পথে হাঁটবে না।
আলোচনার পেছনে আঞ্চলিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন ইরানি মুখপাত্র। তাঁর মতে, কাতার ও পাকিস্তান বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা এবং উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করছে। এই দুই দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আলোচনার অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলেও ইরানের ধারণা।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত একটি টেলি-র্যালিতে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের কার্যত অবসান ঘটেছে এবং তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে বিরত রাখা এবং সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে একটি সফল সমঝোতা হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার পথে রয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য এবং ইরানের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। ওয়াশিংটন যেখানে সমঝোতার কথা বলছে, তেহরান সেখানে আলোচনা চলমান থাকার কথা জানাচ্ছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
-রফিক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামল? নতুন ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন এক দাবি সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কার্যত শেষ হয়েছে এবং তেহরান ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না—এমন একটি সমঝোতায় দুই পক্ষ পৌঁছেছে।
সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত এক টেলি-র্যালিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এমন একটি সমঝোতা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে সরে আসতে সম্মত হয়েছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে ছিল। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার প্রশ্নে ওয়াশিংটন কোনো ধরনের ছাড় দেয়নি এবং শেষ পর্যন্ত তাদের অবস্থানই সফল হয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে আরও উঠে আসে, দুই দেশের মধ্যে একটি ‘চমৎকার চুক্তি’ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, এই সমঝোতার ফলে শুধু পারমাণবিক ইস্যুই নয়, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনাও প্রশমিত হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলগুলো থেকে ধীরে ধীরে মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করবে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যা চেয়েছিল, প্রায় সবকিছুই পেয়েছে এবং সমঝোতার প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তেহরান চুক্তি, যুদ্ধের সমাপ্তি কিংবা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই অবিশ্বাস, নিষেধাজ্ঞা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবদ্ধ। ফলে এত বড় ধরনের সমঝোতা হয়ে থাকলে সেটি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, বৈশ্বিক কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে ঘিরে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে নতুন করে বৃহৎ আকারের সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
-রফিক
আজ রাতেই ইরানে 'খুব কঠোর' হামলার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সামরিক সংঘাতের পারদ এক ধাক্কায় সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে দিয়ে এবার সরাসরি ইরান দখলের প্রকাশ্য ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী আজ রাতেই ইরানের ওপর ‘খুব কঠোরভাবে’ বিধ্বংসী সামরিক আঘাত হানবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত দেশটির সব গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস অবকাঠামো সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনীর বুটের নিচে নিয়ে আসা তথা দখল ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।
নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ভবিষ্যতের কোনো এক সুবিধাজনক সময়ে ইরানের প্রধান খনিজ হাব ‘খার্গ দ্বীপ’ (Kharg Island) সহ অন্যান্য সব তেল ও জ্বালানি স্থাপনার ওপর ওয়াশিংটন তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ ফ্ল্যাশ নিউজে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চরম যুদ্ধংদেহী বার্তার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ওই পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ টেনে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে যেভাবে ভেনেজুয়েলাকে কোণঠাসা করেছিল, ঠিক একই কায়দায় এবার ইরানের তেল ও গ্যাস বাজারের ওপরও হোয়াইট হাউজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও খবরদারি প্রতিষ্ঠা করা হতে পারে।
ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেন, গত কয়েকদিনের মার্কিন নিখুঁত হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর (IRGC) প্রতিরোধ গড়ার সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই খার্গ দ্বীপটি মূলত ইরানের মোট তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান ও সবচেয়ে বড় কৌশলগত কেন্দ্র, যেখান থেকে দেশটির উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগ বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানি করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সরাসরি ভূখণ্ড দখলের চরম উসকানিমূলক মন্তব্য ঘিরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক প্রলয়ংকরী ও দীর্ঘস্থায়ী মহাযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। তবে ট্রাম্পের এই আজ রাতেই হামলার আলটিমেটামের বিপরীতে তেহরান বা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা সামরিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ইতিহাসে প্রথমবার বাজেট পাসের পর বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী
- পরিচয় দেওয়ার পরও থানায় সম্মান পাইনি, গলা চেপে ধরা হয়েছিল: নাঈম হাসান
- বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ৮৮ বছরের অপরাজেয় উদ্বোধনী রেকর্ডের সামনে এবার মরক্কো
- আগামী প্রজন্মের জন্য আমাদের দায়বদ্ধতা: কৃষিমন্ত্রী
- নিখোঁজ নাটক ফাঁস! উদ্ধারের পরই শিবির নেতার বিরুদ্ধে নারী-শিশু নির্যাতন মামলা
- সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ গণ-অভ্যুত্থান ঘটাবে: নাহিদ ইসলাম
- অর্থনীতিতে সাম্য প্রতিষ্ঠা ও অলিগার্কদের ধ্বংস করাই সরকারের লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল
- সরকারকে বেশি দিন সময় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির
- আমরা কাউকে ভয় পাই না, ব্রাজিলকে হারিয়েই মাঠ ছাড়ব: হাকিমি
- বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী
- ভোরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান: নেইমার কি থাকছেন শেষ পর্যন্ত?
- ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিতে সম্মত ডোনাল্ড ট্রাম্প!
- ইরান ও প্রতিরোধ শক্তির চূড়ান্ত বিজয় দেখবে বিশ্ব
- ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে দূষণমুক্ত পরিষ্কার বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
- বাংলাদেশের ব্রাজিল উন্মাদনা এবার লাতিন আমেরিকায়: মুগ্ধতা ছড়াল বিখ্যাত ‘জি গ্লোবো’
- ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের অপরাধে দুই পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- চার দফা পতনের পর হঠাৎ লাফ দিল সোনার দাম
- এক বিড়ালেই থমকে গেল মেট্রোরেলের সব চাকা, বন্ধ মেট্রোরেল চলাচল
- ঘরে বসেই বিশ্বকাপ, টিভি ও অ্যাপে দেখার সুযোগ, জেনে নিন সব মাধ্যম
- ‘ভারত-বাংলাদেশ এক হওয়া’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির
- মদ ও সিগারেটের কর বৃদ্ধি নিয়েও আপত্তি বিরোধী দলের: প্রধানমন্ত্রী
- এফবিআই ড্রোন হ্যাকের দাবি, বিশ্বকাপকে ঘিরে সাইবার হুমকি
- ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
- সোনার বাজারে বড় ধস, ভরিতে কমলো যত টাকা
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়ায় কী আছে? জানালেন কূটনীতিক
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- রূপপুর নিয়ে বড় ঘোষণা বিদ্যুৎমন্ত্রীর
- উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন: মির্জা ফখরুল
- জেডি ভ্যান্সের সফর জল্পনা, বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির সম্ভাবনা
- ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল, ভাতা ও সুবিধা বেড়ে বেতন হচ্ছে যত
- ট্রাম্পের দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলল ইরান
- ১৫ টাকায় ৩০ কেজি চাল পাবে ৫৫ লাখ পরিবার
- শিরোপা যুদ্ধ ও বিশ্বকাপ, আজকের ক্রীড়াসূচি এক নজরে
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামল? নতুন ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
- শুক্রবারের নামাজের সময় প্রকাশ, প্রস্তুত তো?
- স্বর্ণ কিনতে এটাই কি সেরা সময়? নতুন দর প্রকাশ
- শুক্রবার বন্ধ রাজধানীর যেসব মার্কেট, দেখে নিন তালিকা
- ৪১ বছর বয়সি রোনালদোর অফ-ফর্মে পর্তুগাল শিবিরে বড় দুশ্চিন্তার ভাঁজ
- ঐতিহাসিক গৌরবময় অর্জনের জন্য ক্রিকেটার, কোচ ও বিসিবিকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
- নানিয়ারচর জোনের মানবিক উদ্যোগ: বটতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ
- ব্র্যাকের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে ১ হাজার হাঁসের বাচ্চা বিতরণ
- দেবিদ্বার-চান্দিনা-মুরাদনগর: হামের হটস্পট, অথচ অন্ধকারে স্বাস্থ্য বিভাগ
- পর্দা উঠছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের; আজ মেক্সিকো সিটিতে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
- রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের বড় উপহার; নতুন বাজেটে বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা
- আজ রাতেই ইরানে 'খুব কঠোর' হামলার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সমন্বিত মেগা অপারেশন
- ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট: ব্যাংকে টাকা রাখায় কমছে সাধারণ মানুষের করের বোঝা
- বাজেটে মেগা ঘোষণা: নির্মিত হচ্ছে দ্বিতীয় যমুনা ও তৃতীয় মেঘনা সেতু
- স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ার বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে মিলবে রেকর্ড প্রাইজমানি, কত সেই টাকা
- টিভি ও মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখার পূর্ণ গাইড
- বিশ্বকাপ জিতলে চ্যাম্পিয়ন পাবে কত টাকা? জানুন প্রাইজমানির অঙ্ক
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন? জেনে নিন সেরা ৪ প্ল্যাটফর্ম, খরচ কত
- সোনা কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন দর
- মেগা করছাড়ের বাজেট, কমবে-বাড়বে যেসব পণ্যের দাম
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ইরানে হামলা বন্ধের চাপ
- আজকের খেলার সূচি, কখন কোথায় দেখবেন?
- ডলারের নতুন দর কত? আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম
- ৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ইউরেনিয়াম কর্মসূচিতে ছাড় নয়, ট্রাম্প হলেন ‘অবিশ্বস্ত’- ইরান








