পুলিশ-সাংবাদিক সুসম্পর্ক গড়তে ইউনেস্কোর নতুন প্রশিক্ষণ প্রকল্প

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১৯:৩২:২৬
পুলিশ-সাংবাদিক সুসম্পর্ক গড়তে ইউনেস্কোর নতুন প্রশিক্ষণ প্রকল্প
ছবি : সংগৃহীত

ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সুসান ভাইজের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন, সংস্কার এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও গণমাধ্যমের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

বৈঠকে ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ জানান যে, পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউনেস্কোর কিছু চলমান প্রকল্প রয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের প্রশিক্ষণের বিষয়ে আইজিপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত পেলে আগামী জুনের মধ্যেই এই কর্মসূচি শুরু করতে চায় তারা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই উদ্যোগে সম্মতি প্রদান করেন এবং দ্রুত প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য যে, বিগত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এসপি ও ওসি পদমর্যাদার ৭ শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে ইউনেস্কো বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করেছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইউনেস্কোর এই কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে ডিআইজি ও এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের মিডিয়া শাখায় কর্মরত অফিসারদের এই প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী মনে করেন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তবে এর সাথে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির বিষয়টিও নিশ্চিত করা জরুরি।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা জানান যে, পুলিশের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্যও তারা অনুরূপ বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো শনিবারের মতো ছুটির দিনে আয়োজন করার পরামর্শ দেন, যাতে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের নিয়মিত দাপ্তরিক কাজে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের মধ্যে একটি পেশাদার ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলে দুই পক্ষই আশা প্রকাশ করে।

/আশিক


অর্থনীতি পুনর্গঠন ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৮:১৪:৫২
অর্থনীতি পুনর্গঠন ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল ও পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির নানাবিধ দুর্বলতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপ সফলভাবে মোকাবিলা করে জাতীয় অর্থনীতিকে একটি মজবুত ভিত্তির ওপর পুনর্গঠন করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

জাতীয় সংসদে সোমবার (১৫ জুন) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সরকারের সমাপনী বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

সংসদে বাজেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় ও সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন খাতের ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক স্তরে সর্বোচ্চ মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের মূল নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিশেষ কার্যক্রমও সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির নানাবিধ জটিলতার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকি কিছুটা সমন্বয় বা হ্রাস করতে হলেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের পরিধি বহুগুণ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, প্রান্তিক চাষিদের জন্য কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রে ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক রাষ্ট্রীয় সম্মানী প্রদানের মতো কল্যাণমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আগের চেয়ে আরও বেশি সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এসব গণমুখী কার্যক্রম সুচারুভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থেই মূলত এবারের সম্পূরক বাজেটে সরকারি মোট ব্যয় ও ঘাটতির ক্ষেত্রে কিছু কৌশলগত সমন্বয় সাধন করা হয়েছে।

বাজেটের মূল অঙ্ক ও সংশোধনের বিবরণ দিয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের মোট নিট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে জাতীয় নির্বাচন-পূর্ববর্তী বিশেষ পরিস্থিতির কারণে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি মাঠপর্যায়ে কিছুটা মন্থর বা ধীরগতির ছিল। এই বাস্তবতার কারণে সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮Target কোটি টাকা নির্ধারণ করার একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

তিনি দেশের আর্থিক খাতের ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে আরও জানান, এবারের সংশোধিত বাজেটে সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ঠিক ৩ দশমিক ৩ শতাংশের সমান।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দের তারতম্য উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধিত বাজেটে দেশের মোট ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিধি ও গুরুত্ব বিবেচনায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার সর্বমোট পরিমাণ হলো ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে ব্যয়ের মিতব্যয়িতা নীতি অনুসরণ করে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ পূর্বের তুলনায় ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমিয়ে আনা হয়েছে।

সম্পূরক বাজেটের ওপর সংসদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ আলোচনা প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিরোধী দল ও সরকারি দলের সকল সংসদ সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, অত্যন্ত প্রাণবন্ত, সুনির্দিষ্ট ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা যে গুরুত্বপূর্ণ মতামত, সমালোচনা ও সুদূরপ্রসারী পরামর্শ দিয়েছেন, তা আগামী দিনে সরকারের বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

নিজের সমাপনী বক্তব্যের একদম শেষ পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী স্পিকারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সকল সম্মানিত সদস্যের প্রতি সম্পূরক আর্থিক বিবৃতিতে বর্ণিত আইনি দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য বাবদ দাবিকৃত মঞ্জুরি অনুমোদনের বিশেষ আহ্বান জানান।

/আশিক


ডা. জাহেদ ইস্যুতে ভারতীয় দূতকে ডেকে অসন্তোষ জানাল সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৭:৫৯:৫৩
ডা. জাহেদ ইস্যুতে ভারতীয় দূতকে ডেকে অসন্তোষ জানাল সরকার
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাঢ়েকে জরুরি ভিত্তিতে তলব করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ডেকে পাঠানো হয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অসন্তোষ ও কড়া প্রতিবাদলিপি হস্তান্তর করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে সে দেশে প্রবেশে আকস্মিক বাধা প্রদান করা হয়। মূলত বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এই স্পর্শকাতর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণেই ভারতীয় দূতকে তলব করে জবাবদিহি চেয়েছে ঢাকা।

এদিকে, দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে হওয়া অগ্রহণযোগ্য আচরণের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আইনগত ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে ঘটনাটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে হওয়া পুরো আচরণকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলেও আখ্যা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে, গত রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় ভারতে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিতে নয়াদিল্লি গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সেখানকার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি করে এবং তাকে প্রবেশে বাধা দেয়। এমন প্রতিকূল ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে তিনি আর দিল্লিতে প্রবেশ না করেই ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

/আশিক


৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দিন নির্ধারন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১১:৪৯:৪৯
৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দিন নির্ধারন
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চলতি জুন মাসেই ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করতে পারে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মৌখিক পরীক্ষা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ফল প্রকাশের প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ফলে কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থীর বহুদিনের প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পিএসসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে মৌখিক পরীক্ষার শেষ ধাপের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত সুপারিশ তালিকা প্রস্তুত, তথ্য যাচাই এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে জুন মাসের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা।

এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনতে নতুন একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছে পিএসসি। ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ নামে পরিচিত এই রোডম্যাপের আওতায় ভবিষ্যতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত ফলাফল পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ১২ মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নীতিমালা পূর্ণাঙ্গভাবে ৫০তম বিসিএস থেকে কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। এর মাধ্যমে বিসিএস পরীক্ষায় দীর্ঘ অপেক্ষা এবং প্রশাসনিক জটিলতা অনেকাংশে কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

এর আগে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই ফলাফলে মোট ৩ হাজার ৬৩১ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে মে মাস থেকে ধাপে ধাপে তাদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়, যা বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এই বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে মোট ৩ হাজার ৬৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৮৭টি পদ ক্যাডার এবং ২০১টি পদ নন-ক্যাডার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি মাসে ফলাফল প্রকাশিত হলে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি প্রার্থীর সরকারি চাকরিতে প্রবেশের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে। বিশেষ করে কয়েক বছর ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

-রফিক


দিল্লিতে আড়াই ঘণ্টা আটকে থেকে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ০৮:১৭:৩১
দিল্লিতে আড়াই ঘণ্টা আটকে থেকে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

ভারত সফরে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, সম্প্রচার ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখে। পরবর্তীতে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি ভারতে অবস্থান না করে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

রোববার (১৫ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, একটি সরকারি বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর নিয়মিত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় তার নাম একটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নজরদারি তালিকায় বা ওয়াচলিস্টে শনাক্ত হয়।

এরপরই তাকে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয়। তবে কী কারণে তার নাম ওই তালিকায় ছিল, সে বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, সোমবার (১৬ জুন) থেকে শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে রোববার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছান ডা. জাহেদ উর রহমান। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার।

এ বৈঠককে ঘিরে বাংলাদেশ সরকার আগেই প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল। জানা গেছে, গত শুক্রবার দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তার সফর ও প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি অবহিত করেছিল।

তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয়। এ সময় তাকে জানানো হয়নি তিনি শেষ পর্যন্ত ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন কি না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকার পর উচ্চ পর্যায় থেকে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভারতে অবস্থান না করার সিদ্ধান্ত নেন।

পরে রোববার রাতেই তিনি দিল্লি থেকে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উদ্দেশে যাত্রা করেন। সোমবার দুপুরের মধ্যেই তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, একটি আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক বৈঠকে অংশ নিতে আসা একজন উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিকে বিমানবন্দরে আটকে রাখার ঘটনা স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রটোকলের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং পূর্বানুমোদন থাকার পরও এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়। এতে ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ের সফর ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ওয়াচলিস্টে নাম থাকার কারণ কিংবা ইমিগ্রেশন পর্যায়ে বিলম্বের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ নিয়ে কাজ করা আইওআরএ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে এমন ঘটনার প্রভাব কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

তারা বলছেন, বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার করা না হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২৩টি সদস্য রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক জোট, যেখানে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

-রফিক


রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় জানালেন মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ২০:০৮:৫১
রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় জানালেন মন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রথম ও একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনা 'রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র' (আরএনপিপি) আগামী আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের টেবিলে উত্থাপিত এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশ করেন।

প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল কমিশনিং ও স্টার্টআপ পর্যায়ে রয়েছে। এই ধাপটি বাণিজ্যিকভাবে মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিপণন শুরু করার ঠিক পূর্ববর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, জটিল এবং চূড়ান্ত কারিগরি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘ সময়ব্যাপী সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রস্তুতিমূলক নানাবিধ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই প্রকল্পটি এখন এই বিশেষ পর্যায়ে উন্নীত হতে পেরেছে, যা বাংলাদেশের সামগ্রিক জ্বালানি খাতের জন্য একটি যুগান্তকারী মাইলফলক।

ফকির মাহবুব আনাম প্রকল্পটির নির্দিষ্ট টাইমলাইন উল্লেখ করে জানান, ইউনিট-১-এর স্টেজ-বি অর্থাৎ ফুয়েল লোডিং ও ফিজিক্যাল স্টার্টআপ কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট অংশ হিসেবে গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

বর্তমানে এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মূল রিঅ্যাক্টরের অভ্যন্তরে পারমাণবিক জ্বালানি নিখুঁতভাবে স্থাপন, প্রয়োজনীয় বোরিক অ্যাসিড সংযোজন, রিঅ্যাক্টর ও প্রাইমারি সার্কিট পরীক্ষা, সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইকরণ এবং সাব-ক্রিটিক্যালিটি পরীক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কমিশনিং কার্যক্রমগুলো মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিচালনা করা হচ্ছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর পরের ধাপে মূল রিঅ্যাক্টরকে সম্পূর্ণ ক্রিটিক্যাল অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বিত পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে এবং প্রথম দিকে অত্যন্ত নিম্নক্ষমতায় রিঅ্যাক্টর পরিচালনার মাধ্যমে স্টার্টআপের মূল কার্যক্রমটি সমাপ্ত করা হবে।

প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সূচি ও কারিগরি নিয়ম অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এই রিঅ্যাক্টরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং পরবর্তী সময়ে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতায় পরিচালনা করে বিভিন্ন ধরনের জটিল কারিগরি পরীক্ষা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, এই সবকটি অতি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং কমিশনিং কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হওয়ার পর, জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ার দিন থেকে হিসাব করে প্রায় ১১৪ দিন পর কেন্দ্রের মূল জেনারেটরকে দেশের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত বা সমন্বয় করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের দায়িত্বে থাকা রাশিয়ান মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সুনির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী সরকার আশা করছে যে, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট সর্বমোট ক্ষমতাসম্পন্ন এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে এবং দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসগুলোকে বহুমুখীকরণে অত্যন্ত দূরদর্শী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

/আশিক


দুবাই বিমানবন্দরের আধুনিক এআই প্রযুক্তির জালে ধরা পড়লেন বেনজীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১৮:৩৫:৫২
দুবাই বিমানবন্দরের আধুনিক এআই প্রযুক্তির জালে ধরা পড়লেন বেনজীর
ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতির একাধিক মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের শেষ রক্ষা হলো না আধুনিক প্রযুক্তির কড়া নজরদারির কারণে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির কারণেই মূলত ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী এই হাই-প্রোফাইল পলাতক আসামি শেষ পর্যন্ত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পথে দুবাইয়ে ট্রানজিট নেওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বেনজীর আহমেদ লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর অথবা থাইল্যান্ডগামী একটি দূরপাল্লার ফ্লাইটে যাত্রা করেছিলেন। তাঁর মূল পরিকল্পনা ছিল দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিট বিরতি শেষে চূড়ান্ত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া। তবে দুবাই বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে থাকা এআইভিত্তিক স্ক্যানিং সিস্টেমে তাঁর মুখমণ্ডল স্ক্যান করা মাত্রই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধীদের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলে যায়। এর সাথে সাথেই বিমানবন্দরে দায়িত্বরত ইন্টারপোলের বিশেষ সতর্কতা সংকেত বা অ্যালার্ট সিস্টেমটি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

প্রযুক্তিগতভাবে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় ইউনিট তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে বেনজীর আহমেদকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, এই প্রযুক্তিগত শনাক্তকরণের পরপরই আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অবশ্য এই নাটকীয় গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের মূল কর্তৃপক্ষ, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) কিংবা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো যৌথ বা আনুষ্ঠানিক লিখিত বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

তবে দুবাই পুলিশের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে পুরো প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বেনজীর আহমেদ যখন লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নির্ধারিত ফ্লাইটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন, তখন অন্য সাধারণ ট্রানজিট যাত্রীদের মতোই তিনি স্বাভাবিক ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।

কিন্তু বিমানবন্দরের এআই ক্যামেরা তাঁর মুখমণ্ডল স্ক্যান করার পর আন্তর্জাতিক অপরাধীদের তালিকার সাথে ম্যাচ করায় তাঁর নামে থাকা ইন্টারপোলের রেড নোটিশটি সামনে চলে আসে। এরপর দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল শাখা দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষ করে তাঁকে আটক ও পরে গ্রেপ্তার দেখায়।

এদিকে এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি নিয়ে রবিবার জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদকে অবহিত করেন যে, বর্তমান নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতির গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত সাবেক এই আইজিপিকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করার বিষয়ে ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে আসছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে স্পষ্ট করে জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিদ্যমান ফেডারেল আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা হস্তান্তরের আবেদন দাখিল করতে হয়। সরকার ইতিমধ্যেই সেই নির্দিষ্ট সময়সীমার গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুত করছে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে বহিঃসমর্পণ আবেদন পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে এগিয়ে নিচ্ছে।

জাতীয় সংসদে দেওয়া সরকারি তথ্যানুযায়ী, সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং জালিয়াতি বা পাসপোর্ট আইনের একাধিক গুরুতর ধারায় সুনির্দিষ্ট মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার নথি, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সুনির্দিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদনের অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এই এক্সট্রাডিশন বা আসামি হস্তান্তরের প্রস্তাবটি চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই ঘটনাকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের প্রত্যক্ষ সহায়তায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি ঐতিহাসিক এবং অভূতপূর্ব সাফল্য। তাঁর মতে, এই আন্তর্জাতিক ও আইনি সাফল্য এটিই প্রমাণ করে যে অপরাধী সামাজিক বা রাজনৈতিকভাবে যতই প্রভাবশালী কিংবা শক্তিশালী হোক না কেন, সঠিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আইনি সদিচ্ছা থাকলে তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো পুরোপুরি সম্ভব। এর আগে পুলিশ সদরদপ্তরের একজন শীর্ষস্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও ইন্টারপোল ও দুবাই পুলিশের এই সফল যৌথ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।

/আশিক


প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অসম্মতি: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১৮:২৭:৪৫
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অসম্মতি: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অসম্মতি জ্ঞাপন করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠতম কার্যদিবসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী সংসদের সামনে এই তথ্য প্রকাশ করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

সংসদীয় প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টির বর্তমান অবস্থা ও অগ্রগতি সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম। তিনি তাঁর প্রশ্নে উল্লেখ করেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যে সহকারী শিক্ষক (সংগীত) পদটি সৃষ্টি করা হয়েছে, তার বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি কী?

সংসদ সদস্যের এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী তাঁর লিখিত পুঙ্খানুপুঙ্খ উত্তরে সংসদকে স্পষ্টভাবে জানান যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিশেষায়িত সংগীত বিষয়ের শিক্ষক পদটি নতুন করে তৈরি বা সৃজনের বিষয়ে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক অসম্মতি প্রদান করা হয়েছে। ফলে এই পদে নিয়োগের প্রক্রিয়াটি আপাতত আর এগোচ্ছে না।

একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের অপর এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে বর্তমানে বিদ্যমান দুই শিফটের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে পর্যায়ক্রমে এক শিফটের বিদ্যালয়ে রূপান্তর করার মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পড়াশোনার অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিদ্যালয়গুলোতে আনন্দময় শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

/আশিক


দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত শতাধিক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১৮:০১:৩৪
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত শতাধিক
ছবি : সংগৃহীত

দেশে গত চব্বিশ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে আরও শতাধিক শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে, তবে গত একদিনে নিশ্চিত হামের কারণে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

রোববার (১৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিন ও প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে শিশু মারা গেছে। এই চার মৃত্যুর পর চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত কেবল হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬০ জনে। এছাড়া একই সময়ে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯২ জন শিশু। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫২ জনে।

সরকারি প্রতিবেদনে দেশের বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৫২ জন শিশুর শরীরে হামের বিভিন্ন প্রাথমিক উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে আরও ৭৫ জন শিশু। সব মিলিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৮৫ হাজার ৯৫১ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩২৩ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭০ হাজার ৫৭৯ জন শিশু। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এসব শিশুদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে ৬৬ হাজার ৮৪১ জন।

/আশিক


দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১৬:৩৭:১৪
দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে ঘিরে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। দুবাইভিত্তিক একাধিক সূত্রের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকের সময় তার কাছে বাংলাদেশ, পর্তুগাল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে আইনি তৎপরতা জোরদার হয়। এরই অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দুবাইয়ের একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছানোর পরপরই স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে। এরপর থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার ভ্রমণ সংক্রান্ত নথিপত্র ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে।

বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদের আটকের বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা ও কূটনৈতিক পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কার্যকর হওয়ার পর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুবাই ইন্টারপোলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাটি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় শুরু হয়েছে।

আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে এখন কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক আইন, প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট বিধান পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

দুদকের একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সম্পদের উৎস, অর্থ পাচার এবং দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাকে নজরদারির আওতায় আনা হয় এবং পরবর্তীতে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: