ওপেক ছাড়ল সংযুক্ত আরব আমিরাত: সৌদি আরবের জন্য বড় ধাক্কা, উত্তাল তেলের বাজার!

বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) ওপেক (OPEC) এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)। ১ মে থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্তটি ওপেকের অনানুষ্ঠানিক নেতা সৌদি আরবের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) দীর্ঘ ৬ দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করে জ্বালানি তেলের শক্তিশালী জোট ওপেক (OPEC) এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার আলজাজিরা ও রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে যখন বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজার এক ঐতিহাসিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই আমিরাতের এই ‘এক্সিট’ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল।
১. নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক রাজনীতি: ইউএই-র কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশের মতে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের উপর্যুপরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখেও প্রতিবেশী আরব দেশগুলো এবং জিসিসি (GCC) তাদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত সহায়তা করেনি। এই ‘আঞ্চলিক সংহতির অভাব’ আমিরাতকে হতাশ করেছে।
২. বাজার নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদন সক্ষমতা: আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে তাদের তেল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল, যা ওপেকের কোটা পদ্ধতির কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় তারা এখন স্বাধীনভাবে নিজেদের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
ওপেকের অনানুষ্ঠানিক নেতা সৌদি আরবের জন্য এটি একটি বিশাল কৌশলগত ক্ষতি। আমিরাত ওপেকের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য এবং তাদের এই বিস্থান জোটের ঐক্য ও তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেবে। বিশেষ করে যখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের সরবরাহ প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ব্যাহত হচ্ছে, তখন এই ভাঙন জ্বালানি বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ওপেক-এর সমালোচনা করে আসছিলেন। আমিরাতের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি ‘বড় জয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ইউএই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মিত্র। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শক্তিশালী জোটটি এখন তার ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সংকটের মুখোমুখি।
/আশিক
২০৩৬ সালের মধ্যে অর্থের প্রয়োজনই ফুরিয়ে যাবে: ইলন মাস্ক
বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের এবং টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক দাবি করেছেন যে, আগামী ২০৩৬ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রচলিত অর্থের গুরুত্ব অনেকটাই হারিয়ে যাবে। ব্রিটিশ সংবাদ সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর প্রধান সম্পাদক জ্যানি মিন্টন বেডোসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও হিউম্যানয়েড রোবট এমন বিপুল পরিমাণ পণ্য ও সেবা উৎপাদন করবে, যা মানবজাতির চাহিদার সীমানাকেও ছাড়িয়ে যাবে। এর ফলে বিশ্বে দেখা দেবে এক অবিশ্বাস্য বস্তুগত প্রাচুর্য।
মার্কিন অর্থবিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসের বরাতে জানা যায়, মাস্ক মনে করেন মানুষ মূলত খাদ্য, বাসস্থান, বিনোদন কিংবা যাতায়াতের মতো পণ্য ও সেবা পাওয়ার জন্যই অর্থ উপার্জন ও সঞ্চয় করে। কিন্তু এআই এবং রোবোটিক্স যদি এই সমস্ত সেবা ও পণ্য এতটাই সহজলভ্য করে ফেলে যে তা মানুষের ব্যবহারের চেয়েও উদ্বৃত্ত থাকে, তবে মুদ্রা বা অর্থের প্রাসঙ্গিকতাই হারিয়ে যাবে। আর এ রূপান্তরকে তিনি ভবিষ্যতের সবচেয়ে ইতিবাচক সম্ভাবনা বলে দেখছেন।
তবে এই উজ্জ্বল সম্ভাবনার পাশাপাশি এক বড় আশঙ্কার কথাও শুনিয়েছেন এই ধনকুবের। তিনি সতর্ক করে বলেন, ২০৩৬ সালের মধ্যে সুপার-ইন্টেলিজেন্ট প্রযুক্তির কারণে মানবজাতি হয়তো রোবট ও এআইয়ের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। এআইয়ের সাথে মানুষের বুদ্ধিমত্তার পার্থক্যের তুলনা টেনে তিনি বলেন, মানুষের বুদ্ধিমত্তার সাথে শিম্পাঞ্জির যে তফাত, এআইয়ের শক্তি তার চেয়েও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ফলে শিম্পাঞ্জি যেমন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, মানুষও এআইকে নিজের অধীনে রাখতে ব্যর্থ হতে পারে।
মাস্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই এআই মানবজাতির সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে। মানুষ হওয়া ব্যতীত প্রায় প্রতিটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাজই এআই মানুষের চেয়ে নিখুঁতভাবে করতে সক্ষম হবে। তবে প্রচলিত অর্থের গুরুত্ব কমলে তার জায়গায় কী ধরণের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আসবে, সেটির কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা তিনি দেননি।
এআইয়ের এই অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রাকে থামানোর কোনো বাস্তবমুখী উপায় নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, গতি থামানোর কোনো বোতাম থাকলেও তা হয়তো অলস বসে চেপে দেওয়া উচিত হবে না।
এদিকে মাস্কের বক্তব্যের সাথে সুর মিলিয়ে ওপেনএআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও সম্প্রতি সতর্ক করেছেন যে, বিশ্ব ইতোমধ্যে 'সিঙ্গুলারিটি' যুগে প্রবেশ করেছে—যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত মানব সক্ষমতাকে অতিক্রম করে বহুদূর এগিয়ে যাচ্ছে।
/আশিক
লেবাননে হামলা না থামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নয়: মোজতবা খামেনি
লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ও সামরিক অভিযান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি চুক্তি হবে না বলে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা বা সমঝোতার প্রধান ও প্রথম পূর্বশর্ত হলো লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের আগ্রাসন ও হামলার সম্পূর্ণ এবং শর্তহীন অবসান ঘটানো।
লেবাননের সার্বভৌমত্ব, দেশটির সীমানার অখণ্ডতা রক্ষা এবং হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সব ধরনের সামরিক ও কৌশলগত সমর্থন দেওয়াকে তেহরানের অন্যতম নীতিগত দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ কিংবা সংকট নিরসনে যেকোনো চুক্তির টেবিলে লেবানন ইস্যুকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই আঞ্চলিক সংকট প্রশমনে প্রাথমিক সমঝোতা হলেও পরবর্তীতে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি নিয়ে চরম বিরোধের কারণে সেই আলোচনা ভেস্তে যায়। অন্যদিকে, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় সম্প্রতি প্রণীত কাঠামোগত চুক্তিটিকে সম্পূর্ণ একপেশে ও ইসরায়েলঘেঁষা আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
লেবানন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত না করে ইসরায়েল এখনও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে সামরিক অভিযান ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩২৯ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান স্থগিতকে নিজেদের কৌশলগত জয় দাবি করল ইরান
টানা প্রায় দুই সপ্তাহের বিধ্বংসী বিমান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আপাতত স্থবির হওয়াকে নিজেদের বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে তেহরান। দেশটির সামরিক নেতৃত্বের দাবি, তীব্র হামলা চালিয়েও ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে চরম ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন এবং তারা এখন সিদ্ধান্তহীনতা ও মানসিক ক্লান্তিতে ভুগছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বরাত দিয়ে এ খবর জানা গেছে।
রোববার (২৬ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বক্তব্যে দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ মুখপাত্র আমির আকরামিনিয়া বলেন, “আমরা এখনো ওয়াশিংটনের কোনো সুস্পষ্ট বা সুনির্দিষ্ট যুদ্ধকৌশল দেখতে পাচ্ছি না। বাস্তবতা হলো, তারা কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তীব্র মানসিক ক্লান্তি ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে।”
আমির আকরামিনিয়া আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক চাপ ও হামলা চালিয়েও যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারেনি কিংবা ইরানের মূল প্রতিরক্ষা শক্তিকে দুর্বল বা ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর এখন লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবমুখী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ মেয়াদে আটকে রাখতে ইসরায়েল অনবরত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উসকানি দিচ্ছে এবং তাকে ভুল গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে।
আইআরজিসি মুখপাত্রের দাবি, গত দুই সপ্তাহের পাল্টাপাল্টি অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় তারা অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করেছেন। যদিও ওয়াশিংটন সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা গোপন করার চেষ্টা করছে, তবে জর্ডানসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘাঁটিতে হামলার কথা স্বীকার করেছে। বিশেষ করে জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন।
এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি ও মার্কিন অস্ত্রাগারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই পর্যালোচনার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সূত্র নিশ্চিত করে যে, টানা দুই সপ্তাহের জোরালো অভিযানের পর আপাতত ইরানে বিমান হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।
/আশিক
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে গুলির ঘটনা, নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করে অন্তত চারটি বাণিজ্যিক জাহাজকে তাদের নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আইআরজিসির একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির তথ্য তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় আইআরজিসি নৌবাহিনী সেগুলোর গতিপথ রোধ করতে সতর্কতামূলক গুলি চালায়। এই পরিস্থিতিতে কোনো উপায় না দেখে জাহাজগুলো তাদের আগের দিক পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়।
আইআরজিসির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলো দক্ষিণ করিডোরের যে রুটটি ব্যবহারের চেষ্টা করছিল, তা তেহরানের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ‘অনিরাপদ ও অবৈধ’।
পাশাপাশি আইআরজিসি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, নির্ধারিত নির্দেশিকা বা অনুমোদিত রুট না মেনে যদি অন্য কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্ব বাজারের জ্বালানি ও খনিজ তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই সামুদ্রিক রুটে বাণিজ্যিক নৌযানের যাতায়াত নিয়ে নিয়ন্ত্রণ ও কড়াকড়ি বহুগুণ বাড়িয়েছে ইরান। বিশেষ করে ওমান উপকূল সংলগ্ন রুট ব্যবহারকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে নিজেদের ভৌগোলিক সীমান্তে আনার কৌশল দেখা যাচ্ছে আইআরজিসির ব্যবহারে। নতুন করে সংঘটিত এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
/আশিক
ইরানের জব্দ অর্থ এবার জাহাজের ক্ষতিপূরণে!
লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতিদের নতুন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো ঘিরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ইরানের জব্দ অর্থ নিয়ে নতুন ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সংঘাতের কারণে জাহাজ, কার্গো কিংবা সংশ্লিষ্ট সম্পদের যেকোনো ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানি অর্থ থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাহাজ ও কার্গোর ক্ষয়ক্ষতি মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের দখল ও নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানি অর্থ ব্যবহারের নীতি অনুসরণ করা হবে। ক্ষতির অঙ্ক অনেক বড় হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজমালিক বা শিপিং কোম্পানিকে মার্কিন সরকার সরাসরি অর্থ দেবে, নাকি কোনো বিশেষ ক্ষতিপূরণ কাঠামো তৈরি করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ট্রাম্পের ঘোষণাটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতিদের তৎপরতায় লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও গুরুতর হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার আক্রান্ত হওয়ার পর ইরান ও হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। এই হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথ দিয়ে জ্বালানি তেলসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিটাইম প্রশাসনও চলতি বছর বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য হুতিদের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে।
একই সময়ে পারস্য উপসাগরের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে এসেছে। শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মাত্র একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা ৭ মে-র পর সর্বনিম্ন দৈনিক চলাচল। ফলে লোহিত সাগর ও হরমুজ, দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথেই অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের জব্দ সম্পদ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বিভিন্ন দেশে ইরানের মোট কত অর্থ আটকে আছে, তার সুনির্দিষ্ট অঙ্ক নিয়ে ভিন্ন হিসাব রয়েছে। আল জাজিরার এপ্রিলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ সরাসরি জব্দ রয়েছে। পাশাপাশি চীন, ইরাক, কাতার, ভারত, জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় ইরানের আরও কয়েক হাজার কোটি ডলার আটকে থাকার তথ্য রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বা তারও বেশি বলে বিভিন্ন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় এই জব্দ অর্থের একটি অংশ তেহরানের নাগালে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। জুনে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতায় ইরানের জব্দ বা সীমাবদ্ধ অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার একটি বিধান ছিল। সে সময় তেহরান প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের আটকে থাকা অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আলোচনায় তুলেছিল। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তখন স্পষ্ট করেছিলেন, চুক্তির ফলে ইরান সরাসরি বিপুল অঙ্কের অর্থ পেয়ে যাবে, এমন ব্যাখ্যা সঠিক নয়।
একই সমঝোতায় ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য বিনিয়োগ তহবিল নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। তবে ওই বিনিয়োগ তহবিল এবং ইরানের নিজস্ব জব্দ সম্পদ ছাড় করার বিষয় দুটি আলাদা আর্থিক ব্যবস্থা ছিল। অর্থের উৎস, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং কারা অর্থায়ন করবে, তা নিয়েও তখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অমীমাংসিত ছিল।
এখন নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় সেই আর্থিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প যদি সত্যিই ইরানের জব্দ অর্থ তৃতীয় পক্ষের জাহাজ ও কার্গোর ক্ষতিপূরণে ব্যবহারের উদ্যোগ নেন, তাহলে সম্পদের মালিকানা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইন এবং ক্ষতিপূরণ দাবির বৈধতা নিয়ে নতুন আইনি বিতর্ক দেখা দিতে পারে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন বর্তমানে হুতিদের কর্মকাণ্ডের জন্যও তেহরানকে দায়ী করছে এবং গোষ্ঠীটিকে ইরানের প্রক্সি হিসেবে বিবেচনা করছে। অন্যদিকে হুতিদের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সামরিক সহায়তা পাওয়ার কিছু অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে হামলার দায় এবং সেই ক্ষতির জন্য ইরানের জব্দ অর্থ ব্যবহারের যৌক্তিকতা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
-রফিক
তেল রপ্তানি বন্ধ হলে কাউকেই ছাড় দেবে না ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আবারও তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানের জবাবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, ইরান যদি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সুযোগ না পায়, তাহলে পারস্য উপসাগরীয় অন্য কোনো দেশকেও নির্বিঘ্নে তেল রপ্তানি করতে দেবে না। এই বক্তব্যের পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে চলমান সংকটকে "সব নয়তো কিছুই না" ধরনের পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি ও চাপ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা আর আগের অবস্থায় থাকবে না এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গালিবাফের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজের ওপর ইরান ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে। অঞ্চলজুড়ে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে ইরানও প্রতিবেশী অঞ্চলের জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে প্রতিক্রিয়ামূলক হামলা জোরদার করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব সামরিক ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি ও পাল্টা দাবির কারণে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই নৌপথে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন বা সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
-রফিক
গ্রেফতারের পর মোদিকে কড়া বার্তা রাহুল গান্ধীর
ভারতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে আটক হওয়ার একদিন পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রকাশ্যে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর তথ্য অনুযায়ী, এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও দমন-পীড়নের একটি ভিডিও প্রদর্শন করেন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত তিনটি দাবিই যৌক্তিক এবং বিরোধী জোটের রাজনৈতিক দলগুলো এসব দাবির প্রতি সম্পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।
রাহুল গান্ধীর মতে, প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় মন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পারেননি। তিনি বলেন, এ কারণেই শিক্ষার্থীদের পদত্যাগের দাবি অযৌক্তিক নয়।
দ্বিতীয় দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যেসব পুলিশ সদস্য বলপ্রয়োগ করেছেন, সেই নির্দেশদাতা এবং বাস্তবায়নকারীদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী ভারতের নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, গত এক দশকে ভারতে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যার প্রভাব পড়েছে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর ওপর। তবে এত বড় অনিয়মের পরও এখন পর্যন্ত কাউকে কার্যকরভাবে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একসময় ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা দেশের অন্যতম শক্তি হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে তা দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে গভীর আস্থাহীনতার মধ্যে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, প্রতি মাসেই লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে নতুন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে, অথচ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ভারতে পরিবারগুলো প্রতি বছর বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি রুপি ব্যয় করে, যা দেশের শিক্ষা বাজেটের প্রায় সমপরিমাণ। এত বড় বিনিয়োগের পরও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা অব্যাহত থাকাকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থী আন্দোলনের পেছনে আরও গভীর অর্থনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর মতে, উচ্চশিক্ষা শেষ করে চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী কিংবা অন্যান্য পেশায় যোগ্যতা অর্জনের পরও তরুণদের সামনে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। ফলে সরকারি চাকরিই বহু তরুণের একমাত্র ভরসায় পরিণত হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে চীনা পণ্যের আধিপত্যে উৎপাদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার করপোরেট চাকরির বাজারেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেসরকারিকরণের প্রবণতা বাড়ায় সরকারি চাকরির সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে, যা তরুণদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, তরুণ কিংবা কৃষক— যে কোনো শ্রেণির মানুষের ন্যায্য দাবি সংসদে তুলে ধরা বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব। মানুষের দুর্ভোগের বিষয়গুলো সামনে আনতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে হামলা বা হয়রানির শিকার হলেও তিনি পিছু হটবেন না বলেও জানান।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। এসব আন্দোলনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকার, বিরোধী দল এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
-রফিক
মার্কিন-ইরান যুদ্ধ থামাতে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মধ্যস্থতাকারীদের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসন এবং মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের ভয়াবহতা এড়াতে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা। সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, সার্বিক উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে তেহরানের কাছে বেশ কয়েকটি লিখিত প্রস্তাব এসেছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কাতার, মিশর ও পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো ওয়াশিংটন ও তেহরানের কাছে ১০ দিনের একটি জরুরি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির রূপরেখা পাঠিয়েছে। প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক লক্ষ্য হলো—সামরিক হামলা সাময়িকভাবে থামিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালি পুনরায় নিরাপদ ও উন্মুক্ত করা এবং গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি (MOU) নতুন করে সক্রিয় করা।
তবে পর্দার পেছনের এই নিবিড় কূটনৈতিক উদ্যোগের বিপরীত চিত্রে দেখা যাচ্ছে দুই দেশের সামরিক আগ্রাসনের রূপ। প্রতিপক্ষকে দমাতে দুই পরাশক্তিই সামরিক ঘাটির পাশাপাশি বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোকেও নতুন করে লক্ষ্যবস্তু বানাতে শুরু করেছে। মার্কিন বাহিনীর প্রাণহানির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানোর হুমকির পর মার্কিন আগ্রাসন তীব্র রূপ নিয়েছে।
জবাবে ইরান ও তাদের মিত্র অক্ষ কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা বাব আল-মানদেব প্রণালি ও সৌদি সমুদ্রবন্দরে নতুন অবরোধের হুমকি দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও লজিস্টিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধমনি 'হরমুজ প্রণালি'-র ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাকেই আন্তর্জাতিক টেবিলে ইরান তাদের মূল দর-কষাকষির শক্তি মনে করছে। অন্যদিকে, দেশের রাজনৈতিক চাপ ও বৈশ্বিক অবস্থানের কারণে মার্কিন প্রশাসনও একচুল সামরিক পিছু হটতে নারাজ। এর ফলে প্রতিটি পাল্টা হামলার পর রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের এই দৌড়ঝাঁপ সত্ত্বেও উভয় পক্ষ নমনীয় না হলে চরম বিপর্যয় এড়ানো কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: আল-জাজিরা।
ইরানি ৪টি বিধ্বংসী ড্রোন আকাশে উড়িয়ে দিল জর্ডানের যুদ্ধবিমান
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির ক্রমাবনতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান থেকে জর্ডানের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা চারটি বিধ্বংসী একমুখী (কামিকাজে) হামলাকারী ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে জর্ডানের রয়্যাল এয়ার ফোর্স। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জর্ডান সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ সূত্রটি জানিয়েছে, নিজস্ব এয়ারস্পেস ও আকাশসীমা সুরক্ষা দিতে যুদ্ধবিমান টহল জোরদার রাখা হয়েছিল। ইরানের দিক থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে আসা ড্রোন চারটিকে চিহ্নিত করার পরপরই ক্ষিপ্র গতির যুদ্ধবিমান দিয়ে আকাশেই সেগুলো ইন্টারসেপ্ট ও ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার হতাহত কিংবা বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ড্রোনগুলোর ধ্বংসাবশেষ জর্ডানের যেসকল নির্জন এলাকায় পড়েছে, সেগুলোতে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের বিশেষ দল পাঠিয় এলাকাগুলো সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখার কথা জানিয়ে সামরিক সূত্রটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, “জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমগ্র আকাশসীমার ওপর নিবিড় ও ২৪ ঘণ্টা নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা বা দেশের নাগরিকদের সামান্যতম ঝুঁকিতে ফেলার মতো যেকোনো বাহ্যিক হুমকি মোকাবিলায় আমাদের সামরিক শক্তি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।”
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুরে টিসিবির ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি, উপকৃত ৭১৪ পরিবার
- যুক্তরাজ্যে ওয়াটফোর্ড বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশনের ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম মেজবান অনুষ্ঠিত
- স্বৈরাচারের দুঃশাসনে ক্ষতবিক্ষত: ১০ নম্বর গুনাইঘর (দক্ষিণ) ইউনিয়ন বিএনপি
- ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ফেসবুকে নতুন অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন পদ্ধতি
- সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা বাড়ল
- ২০৩০ বিশ্বকাপ ঘিরে ফিফার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, খেলা হবে ৬ দেশে
- সুন্দর দেশ গড়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মকেই নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ২০৩৬ সালের মধ্যে অর্থের প্রয়োজনই ফুরিয়ে যাবে: ইলন মাস্ক
- জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে বিদেশের লিগে নতুন শুরুর সামনে শামীম
- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হলে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইউক্রেন ও হুতিদের প্রবেশে নতুন অঞ্চলে বিস্তৃত ইরান যুদ্ধ
- শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা দল টিকিয়ে রাখার রাজনৈতিক কৌশল: ব্যারিস্টার পার্থ
- লেবাননে হামলা না থামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নয়: মোজতবা খামেনি
- হজ ২০২৭: প্রাথমিক নিবন্ধনের বিস্তারিত নিয়ম জারি করল সরকার
- শর্ত সাপেক্ষে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর অনুমতি
- অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে সরকার: শামা ওবায়েদ
- পুলিশকে জনবান্ধব করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি বহাল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
- দেশের ২৬টি টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক, ইএসডিওর গবেষণায় উদ্বেগ
- ফরিদপুরে হাজী ডাঙ্গী কবরস্থানে সোলার লাইট চুরি, অন্ধকারে আচ্ছন্ন এলাকা
- কোরআনের চোখে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কারা?
- মার্ভেল ভক্তদের জন্য দারুণ খবর: 'ব্ল্যাক প্যান্থার ৩' মুক্তির সব তথ্য প্রকাশ্যে
- প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে সহিংসতার পেছনে জামায়াত ও বিদেশি শক্তির হাত: শুভেন্দু অধিকারী
- হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইনের আঘাতে তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ
- জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান স্থগিতকে নিজেদের কৌশলগত জয় দাবি করল ইরান
- বিশ্বকাপ ফাইনালই ছিল মেসির শেষ ম্যাচ, বিস্ফোরক বার্তা সতীর্থ পারেদেসের
- উত্তাল বঙ্গোপসাগর: আরও শক্তি সঞ্চয় করছে মৌসুমি নিম্নচাপ
- সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল নিয়ে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পূর্বাভাস
- শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে লন্ডনে যাওয়া লাগে না, ঢাকাতেই সম্ভব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অতীত কর্মকাণ্ডের তদন্ত চলছে: আইনমন্ত্রী
- সময় থাকতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনুন: জামায়াত আমির
- আগের অবস্থান থেকে সরেনি বিচার বিভাগ: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান
- শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর এবার দিল্লিতে সরকার পতনের ডাক
- যুক্তরাজ্যে ‘‘দ্য ওয়ান পাউন্ড হসপিটাল’’ এর উদ্যোগে মতবিনিময় ও নেটওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত
- এশীয় সফরে তিন ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা, তৃতীয় ভেন্যু হতে পারে কলকাতা
- বৃষ্টির দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস
- গণরায় না মানলে পাঁচ বছর ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে না সরকার: নাহিদ ইসলাম
- হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে গুলির ঘটনা, নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি
- জয়ী ছাত্র আন্দোলন: যন্তর মন্তর ছেড়ে ঘরে ফেরার ডাক দিল সিজেপি
- ফাইনাল হারলেও ২০৩০ বিশ্বকাপের আগে বড় সুখবর পেল আর্জেন্টিনা
- বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপ, চার সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
- চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে সান্তোস, নজর নেইমারে
- মধ্যপ্রাচ্যে ছড়াচ্ছে যুদ্ধ: ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে যৌথ হামলা বাহরাইন-কুয়েতের
- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও থামছে না সিজেপির আন্দোলন, বাকি ২ দাবি
- মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
- নজরুলকে নিয়ে বেরিয়ে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ইরানের জব্দ অর্থ এবার জাহাজের ক্ষতিপূরণে!
- শুক্রবার রাজধানীতে বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট
- কমনওয়েলথ গেমস থেকে দ্য হানড্রেড, আজকের সূচি
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অটল সরকার: মির্জা ফখরুল
- আবারও বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম
- সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি, কী থাকছে এতে
- তেল রপ্তানি বন্ধ হলে কাউকেই ছাড় দেবে না ইরান
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- স্বর্ণ কিনবেন আজ? দেখে নিন ভরিপ্রতি সর্বশেষ দাম
- কমনওয়েলথ গেমস থেকে দ্য হানড্রেড, আজকের সূচি
- গ্রেফতারের পর মোদিকে কড়া বার্তা রাহুল গান্ধীর
- বিশ্বকাপ ও গোল্ডেন বল জয়ের পরই রদ্রির জন্য বড় দুঃসংবাদ
- স্বর্ণের দামে পরিবর্তন নেই, প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকা
- রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে যা জানিয়েছে রয়টার্স
- স্বর্ণের বাজারে নতুন ধাক্কা, ভরিতে বাড়ল যত
- তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুরু একনেক সভা
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন পর্যায়ে, বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা
- ইরানের জব্দ অর্থ এবার জাহাজের ক্ষতিপূরণে!
- ২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা, কোথায় কী সুবিধা মিলবে








