কোনো ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলবে না: নাছির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ২১:১৪:১৮
কোনো ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলবে না: নাছির
ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চিরতরে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশের কোনো ক্যাম্পাসে ভবিষ্যতে কোনো লুকোচুরি বা গোপন রাজনীতি থাকতে পারবে না; রাজনীতি করতে হলে তা অবশ্যই প্রকাশ্যে করতে হবে।

বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে এক বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মিছিলটি নগরের পুরোনো রেলস্টেশন মাঠ থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউমার্কেট মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। নাছির উদ্দীন সমাবেশে বলেন, ছাত্রদল অতীতে ক্যাম্পাসে জুলুমের শিকার হলেও কোনো প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করে না। তবে সিটি কলেজের মতো হামলার পুনরাবৃত্তি হলে ছাত্রদল দেশের কোনো ক্যাম্পাসে চুপচাপ বসে থাকবে না।

শিবিরের সমালোচনা করে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, ছাত্রদল শিবিরের রাজনীতিকে ‘গুপ্ত’ বলার কারণে যদি তারা হামলা চালায়, তবে আগামীতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়ালে হাজারবার তাদের ‘গুপ্ত’ বলেই ডাকা হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গ্রাফিতি বা দেয়াল লিখনে মতের ভিন্নতা থাকলে পাল্টা গ্রাফিতি আঁকা যেত, কিন্তু তা না করে সন্ত্রাসবাদ উসকে দেওয়া হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে তারা ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রস্তুত নয়।

নাছির উদ্দীন আরও অভিযোগ করেন, হামলা চালিয়ে উল্টো ছাত্রদলের ওপর দোষ চাপানো এবং ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলা শিবিরের একটি চরিত্রে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

/আশিক


ভিডিও ফাঁসের পর দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি কতটা ইসলামিক?: রাশেদ খাঁনের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ২১:৫০:১৬
ভিডিও ফাঁসের পর দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি কতটা ইসলামিক?: রাশেদ খাঁনের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস
ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ওই তরুণীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে দাবি করার বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর এভাবে হঠাৎ দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা ওই দলের নীতি বা ফতোয়া অনুযায়ী কতটা শরীয়তসম্মত, সেই প্রশ্ন রেখে ফেসবুকে একটি তীক্ষ্ণ ও সমালোচনামূলক পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন লেখেন, “ভিডিও ধারণ হওয়ার সময় ২য় স্ত্রী হিসেবে দাবি না করে, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ২য় স্ত্রী হিসেবে দাবি করা নিশ্চয়ই বিরোধীদলের ফতুয়া (ফতোয়া) মোতাবেক ইসলামিক? এই এমপিকে কি মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ইমপিচমেন্ট করার জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করবেন, নাকি তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার জন্য শীঘ্রই ষড়যন্ত্র দাবি করে বিবৃতি দিবেন?”

পোস্টে তিনি বিরোধী দলের অবস্থান ও দলীয় নীতিকে ব্যঙ্গ করে আরও লেখেন, “সবকিছুর জন্য আমাদের, আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে... নিশ্চয়ই দলের গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত শরিয়া আইনের ভিত্তিতেই মাননীয় এমপি মহোদয়ের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা! মাননীয় রাহাবারের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখুন।”

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই রাত থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম নিজে, তাঁর প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম খাতুন ও তাঁর বাবা—সব পক্ষ থেকেই দাবি করা হয় যে উক্ত তরুণী এমপির বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে ভিডিও ফাঁসের পর তড়িঘড়ি করে এই দাবি করা এবং আনুষঙ্গিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে দেশের বিভিন্ন মহলে এখন জোর আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

/আশিক


এমপি গাজী নজরুলের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে জামায়াতের বিশেষ বিবৃতি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ১৮:২৪:৫৪
এমপি গাজী নজরুলের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে জামায়াতের বিশেষ বিবৃতি
ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২০ জুলাই রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে শ্যামনগরের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে নানান বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

এক বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রচারিত সংবাদের ওপর দলটি কড়া নজর রাখছে। মঙ্গলবার দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সই করা এই বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কড়া নজর রাখছে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজস্ব স্পষ্টীকরণ বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ধারণকৃত ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে একটি ব্যাখ্যা সামনে আনা হয়েছে এবং এমপি জিয়াউর রহমানের পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টিতে মুখ খুলেছেন। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


সরকারের সমালোচনার জন্য এখন আর কাউকে গুম হতে হয় না: রুহুল কবির রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ২০:০৬:৩৯
সরকারের সমালোচনার জন্য এখন আর কাউকে গুম হতে হয় না: রুহুল কবির রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করার কারণে এখন আর দেশের কোনো নাগরিককে গুম হওয়ার আতঙ্কে বা শঙ্কায় দিন কাটাতে হয় না। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের অবরুদ্ধ বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার পুনরায় ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনার ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী দেশের বর্তমান ভূরাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশে টেকসই গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে এবং ঐতিহাসিক জুলাই সনদকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবে রূপ দিতে হলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ন্যূনতম জাতীয় ঐক্য বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি দলগুলোর মধ্যে এই ঐক্যের ঘাটতি থাকে, তবে সেই রাজনৈতিক সুযোগ নিয়ে নানা ছিদ্রপথে গণতন্ত্রবিরোধী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অপশক্তিগুলো আবারও দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।’

/আশিক


‘বিচারের মুখোমুখি হলে সাহসের প্রমাণ মিলত’- হাসিনাকে নিয়ে নাহিদের মন্তব্য

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ০৯:৫৯:১৭
‘বিচারের মুখোমুখি হলে সাহসের প্রমাণ মিলত’- হাসিনাকে নিয়ে নাহিদের মন্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, তারা সাধারণত আর ফিরে আসে না। তাঁর ভাষায়, যদি সাহস থাকত, তাহলে পালিয়ে না গিয়ে আইনের মুখোমুখি হয়ে বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিত। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শীর্ষক স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, উত্তরা ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধকেন্দ্র। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের কোনো চেষ্টা হলে সেই প্রতিরোধের সূচনা আবারও উত্তরার মাটি থেকেই হবে।

নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই বছর আগে ঠিক এই সময় তাঁকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সে সময় আরও বহু মানুষ একই ধরনের ঘটনার শিকার হন। সেই ঘটনার স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন তাঁদের প্রধান দাবি হলো স্বৈরাচার এবং এর সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করা। তাঁর মতে, যদি এসব ঘটনার বিচার সম্পন্ন না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি থেকে যাবে। তাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিচারের কোনো বিকল্প নেই।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, জনগণ যে আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, সেই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে দলটির পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। উত্তরা অতীতেও প্রতিরোধের প্রতীক ছিল এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা পালন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে বিএনপিকেও কড়া সমালোচনার মুখে ফেলেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। তিনি বলেন, একসময় বিএনপি যে ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির কথা বলেছিল, এখন তারা সেখান থেকে সরে এসে ‘নোট অব ডিসেন্ট’-ভিত্তিক জুলাই সনদের কথা বলছে। নাহিদের মতে, জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গণভোট ও গণরায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, সংবিধান সংশোধনের আগে বিএনপির নিজেদের অবস্থান ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন প্রয়োজন।

দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন নাহিদ ইসলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ‘প্রতিবেশী বদলানো যায় না’ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র যদি বাংলাদেশের মানুষের জীবনহানি বা ক্ষতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে সেই রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন। এ ধরনের বিষয়ে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে রাজধানীর উত্তরাকে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি নিরাপদ, সুশাসনভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদার। এছাড়া জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্বজন ও আহত অংশগ্রহণকারীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

-রফিক


গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ২২:০৬:০২
গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে এবং দেশের সামগ্রিক স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সংস্কারের মূল দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই কাঁধে তুলে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুরে বাইপাস মোড়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক আহ্বান জানান।

পথসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিগত গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে আমরা রাজপথে বুক চিতিয়ে স্লোগান দিয়েছিলাম, ‘তুমি কে, আমি কে, বিকল্প, বিকল্প’। দেশের মাটিতে সেই কাঙ্ক্ষিত বিকল্প ও বৈষম্যহীন রাজনীতিকে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে এবং রাষ্ট্রের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করতে হলে তার মূল দায়িত্ব আমাদেরই অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে পালন করতে হবে।

তিনি আরও যোগ করে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় আমরা সাধারণ জনগণকে স্পষ্ট কথা দিয়েছিলাম যে আপনারা আমাদের ফ্রিতে ভোট দিন, আমরা আপনাদের সম্পূর্ণ ফ্রিতে রাষ্ট্রীয় সার্ভিস বা সেবা দেব। নির্বাচনের পর ক্ষমতা হাতে পেয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সেই পবিত্র প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতেই আমরা প্রতিনিয়ত সংসদের ভেতরে ও বাইরে আমজনতার পক্ষে জোরালো আওয়াজ তুলে যাচ্ছি।

বিগত পাঁচ মাস ধরে সংসদে নিজের সংসদীয় কার্যক্রম ও ভূমিকার কথা দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করে এই তরুণ সংসদ সদস্য বলেন, তিনি মাঠের রাজনীতি বা সংসদের ভেতরে কোনো ধরনের কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর রক্তচক্ষুকে বিন্দুমাত্র ভয় পাননি। দেশের মিডিয়া মাফিয়া, প্রভাবশালী ভূমিখেকো, রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ডাকাত এবং জনগণের ভোটচোরদের বিরুদ্ধে তিনি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সবসময় চোখে চোখ রেখে সত্য কথা বলে যাচ্ছেন।

দেশের সম্পদ লুটেরাদের বর্তমান ও অতীত চিত্র তুলে ধরে তিনি তীব্র অভিযোগ করে বলেন, বিগত আমলে এস আলমের মতো বড় বড় করপোরেট গ্রুপ দেশের ব্যাংক ও জাতীয় সম্পদ নির্বিচারে লুট করেছে, আবার কেউ কেউ একক আধিপত্য খাটিয়ে দেশের মেগা বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে। আর অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমান সময়ে এসেও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্থানীয় স্তরের নেতারা সিন্ডিকেট তৈরি করে বালুমহাল, নদী ও সাধারণ মানুষের গরু চুরির মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে ও জনগণের রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের এই নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেকোনো মূল্যে দেশে চিরতরে বন্ধ করতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে সব ধরনের দুর্নীতি, লুণ্ঠন এবং দখলদারিত্বের রাজনীতি উচ্ছেদ করতে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জনগণের জানমাল ও সম্পদ রক্ষায় কোনো মহলের সাথেই কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

/আশিক


সংসদে দাবি আদায় না হলে রাজপথে সরকার ভাঙার আন্দোলন: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ১৯:৫৫:৪০
সংসদে দাবি আদায় না হলে রাজপথে সরকার ভাঙার আন্দোলন: ডা. শফিকুর রহমান
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: কালবেলা

জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বা রায়ের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জাতীয় সংসদের ভেতরে যদি জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে রাজপথে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে সেই দাবি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করা হবে।

শনিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোকচিত্র ও স্মৃতি প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের সাধারণ জনগণকে অপমান বা তাদের আকাঙ্ক্ষাকে হেয় করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ যেখানে গণভোটে সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে, সেই রায় অবশ্যই রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি দলের কৌশল স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াত প্রথমে সংসদের ভেতরে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে লড়াই করবে, আর সেখানে যদি দাবি আদায় না হয় তবে রাজপথের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

বিগত সরকারের পতন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসার পর থেকে এই মৌলিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে কোনো ধরনের দৃশ্যমান আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রশাসনও আগের ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দিতে চাচ্ছে এবং খোদ গণভোটের ঐতিহাসিক রায়কেও তারা মানতে চাইছে না।

বিগত আমলের ভয়াবহ দুর্নীতি ও বিদেশে বাংলাদেশি অর্থ পাচারের তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের রক্ত জল করা টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটেনে সাবেক এক মন্ত্রীর শত শত বিলাসবহুল বাড়ি এবং বেলজিয়ামে আরেক প্রভাবশালী মন্ত্রীর শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সন্ধান মিলেছে। এই বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের অর্থ লুণ্ঠন করেই কেনা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও ছাত্র রাজনীতি নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, প্রথাগত ছাত্র রাজনীতির নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নিপীড়নমূলক ‘গণরুম’ ও ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতি চালু ছিল, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই তার চিরকবর হয়ে গেছে। এই ধরনের কোনো নিপীড়নমূলক অপসংস্কৃতি দেশের শিক্ষাঙ্গনে আর কখনোই ফিরতে দেওয়া হবে না। যদি কোনো মহল বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক এগুলো আবার চালু করার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে দেশের সাধারণ জনগণই তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো প্রথাগত রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। এখনো অনেক ক্ষেত্রে মেধার মূল্যায়ন না করে রাজনৈতিক বিবেচনা ও দলীয় লেজুড়বৃত্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা এখন চুপ করে আছি মানে এই নয় যে জামায়াত ঘুমিয়ে গেছে। সমুদ্রে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হলে যেমন পরবর্তীতে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়, ঠিক তেমনি সরকারের এই সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের ভেতরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণও যেকোনো সময় ঘটবে।’

দেশের তরুণ ও যুবসমাজের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, যুবকদের কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে তারা তাদের জীবনের বাকি সময় উৎসর্গ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তরুণ প্রজন্মকে সাথে নিয়েই এই অধিকার আদায়ের আন্দোলন চলবে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় কোনো দেশীয়, আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক মোড়ল বা অপশক্তির কাছে জামায়াত কখনোই মাথা নত করবে না।

গুরুত্বপূর্ণ এই ছাত্র সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এ ছাড়া শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমসহ সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী মুখে মধু আর অন্তরে ছলনা রাখছেন: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৮ ১৮:৪৯:৫৮
প্রধানমন্ত্রী মুখে মধু আর অন্তরে ছলনা রাখছেন: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে, তবে পুনরায় গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পথে হাঁটার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার যদি জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে জুলাই সনদ কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা রাজপথে কঠোর গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন।

শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) বরিশালের ঐতিহ্যবাহী হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত ১১-দলীয় ঐক্যের এক বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক অবস্থান ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

বক্তব্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ উল্লেখ করেন যে, দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে তারা এখনো পর্যন্ত হরতাল কিংবা অবরোধের মতো কোনো চরম ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেননি। তবে জনগণের দাবি আদায়ে যেকোনো মুহূর্তে এই ধরনের কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার মতো সব ধরনের প্রস্তুতি তাদের রাজনৈতিক জোটের রয়েছে। তিনি যোগ করেন, তারা এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতি ও পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে চরম কর্মসূচির পক্ষে ছিলেন না, কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ক্রমশ সেই সংঘাতময় ও কঠোর কর্মসূচির দিকেই ঠেলে দিচ্ছেন।

এনসিপির শীর্ষ এই নেতা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বক্তব্য নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধুর কথা থাকলেও তার অন্তরে আসলে ছলনা রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যে গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী নিজে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য জোরালো প্রচারণা চালিয়েছিলেন এবং নির্বাচনের ফলাফলে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ যেখানে সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে, সেখানে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করছেন।

অথচ বাইরে তিনি মুখে বলে যাচ্ছেন যে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এই দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম গণঅভ্যুত্থানের সময়কার একটি জনপ্রিয় স্লোগানের আদলে বলেন, ‘নাটক কম করো প্রিয়’। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশের মানুষ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে মানে এই নয় যে, যা খুশি তা-ই করা যাবে কিংবা জনগণের সঙ্গে ছলনা ও প্রতারণা করা যাবে।

বিগত বছরগুলোতে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি গত দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছে বলে দাবি করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তারা মূলত গণতন্ত্রের বিপক্ষেই অবস্থান নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আসল সত্য হলো বিএনপি কখনোই প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না, তাদের পুরো লড়াইটাই ছিল কেবল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করার জন্য।

এমনকি বিগত গণঅভ্যুত্থানেও তারা কেবল ক্ষমতার লোভেই অন্যান্য শক্তির সঙ্গে কাঁধ মিলিয়েছিল। এখন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা নিজেদের কবজায় নিয়ে নেওয়ার পর তারা আর কোনো ধরনের সংস্কারের কথা মুখে আনছে না।

/আশিক


দেবিদ্বারে আ.লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?

মাসুদ রানা
মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৭ ২৩:০৩:৪৬
দেবিদ্বারে আ.লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?
হাসনাত আব্দুল্লাহর সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের এক মতবিনিময় সভা। ছবি- মাসুদ রানা, কুমিল্লা প্রতিনিধি।

কুমিল্লার দেবিদ্বারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বর্তমান কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের এক মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দলীয় পুনর্বাসনের এই কথিত উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে উপজেলা বিএনপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলার সংচাইল এলাকায় অবস্থিত বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আউয়াল চেয়ারম্যানের ‘প্রভাতী ফিসারিজ’-এর অফিস কক্ষে এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মতবিনিময় সভায় বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়াল চেয়ারম্যান ছাড়াও সাধারণ সম্পাদক আহসানুর রশিদ শামীম, ছোটশালঘর আওয়ামী লীগের নেতা মো. শাজাহান মাস্টারসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিতর্কিত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনসেবাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ সময় তিনি উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার বিবরণ নিজ হাতে একটি ডায়েরিতে নোট করেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এই দৃশ্য প্রকাশ পাওয়ার পরই মূলত ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে।"মুখের কথা ও কাজের মিল নেই" — ফুঁসে উঠেছে বিএনপিআওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।"হাসনাত আব্দুল্লাহর মুখের কথার সাথে কাজের কোনো মিল নেই। সে জনসমক্ষে বা মাঠে বলে একরকম, আর ভেতরে কাজ করে অন্যরকম। সে কীভাবে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে টেবিল বৈঠক করে? জনগণ তার এমন দ্বিমুখী আচরণে চরমভাবে ক্ষুব্ধ।"— জসিম উদদীন সরকার, আহ্বায়ক, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপিঅনুরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন:"হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বড় বড় গরম বক্তব্য দেন, আর দেবিদ্বারে এসে সেই আওয়ামী লীগকে নিয়েই ঘর-সংসার করছেন! বর্তমানে তার দলের ৮০% লোকই হলো সুযোগসন্ধানী আওয়ামী লীগের নেতা।"

ফোন ধরেননি অভিযুক্তরাএই বৈঠকের নেপথ্য কারণ জানতে বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়াল চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠকের বিষয়ে জানতে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর হোয়াটসঅ্যাপে খোদে বার্তা (Message) পাঠানো হলেও তাঁর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি এবং ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


শহীদ আবু সাঈদ হলেন জুলাই বিপ্লবের ইমাম ও রূহানী নেতৃত্ব: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ২১:৪৮:০৫
শহীদ আবু সাঈদ হলেন জুলাই বিপ্লবের ইমাম ও রূহানী নেতৃত্ব: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী বীর আবু সাঈদকে জুলাইয়ের সকল শহীদের ‘ইমাম’ এবং সামগ্রিক জুলাই বিপ্লবের ‘রূহানী নেতৃত্ব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

২০২৪ সালের সেই রক্তঝরা দিনটিকে স্মরণ করে তিনি বলেন, আবু সাঈদের বুকের রক্ত আর অকুতোভয় আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই মূলত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের গণআন্দোলন এক সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থান ও চূড়ান্ত সফল বিপ্লবের রূপ পরিগ্রহ করেছিল।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পবিত্র মাজার জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, "আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে, ২০২৪ সালের এই ১৬ জুলাইয়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্র ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ তৎকালীন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের বর্বর দমন নীতির বিরুদ্ধে এক অনন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

তিনি কোনো অস্ত্রের পরোয়া না করে, রাজপথে দুই হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে বীরের মতো দাঁড়িয়েছিলেন এবং স্বৈরাচারের বুলেট বুকে নিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন। আবু সাঈদ আমাদের মুক্তির মন্দিরের সোপানতলে অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া হাজারো শহীদের অগ্রসেনানী এবং আমাদের সকলের মহান পূর্বসূরী।"

তিনি আবু সাঈদের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রতীক শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসিম আকরাম, শহীদ ফারহান ফাইয়াজ, শিশু শহীদ নাঈমা সুলতানা, শহীদ রিয়া গোপ ও শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়াসহ আন্দোলনের সকল শহীদ ও প্রায় ত্রিশ হাজার আহত ভাই-বোনের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। একই সাথে তিনি আবু সাঈদের বীরত্বে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসা দেশের সর্বস্তরের শ্রমিক, পেশাজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আলেম সমাজ, অভিভাবক এবং স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-জনতার অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

শহীদদের স্মৃতিকে কেবল আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা ও স্মরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, "আমরা যারা আজ বেঁচে আছি, তারা প্রত্যেকেই আবু সাঈদের রেখে যাওয়া উত্তরসূরি। তাই আমাদের প্রধানতম জাতীয় দায়িত্ব হলো শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি না করে একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস কাজ করে যাওয়া।"

তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে জনগণের মূল প্রত্যাশা ছিল তিনটি—সুষ্ঠু বিচার, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও জুলাইয়ের শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বিচার এবং কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র সংস্কারের পূর্ণ স্বাদ বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ এখনও পায়নি।

তিনি আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করে বলেন, নিম্ন আদালতে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হলেও তা কার্যকরের ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। উচ্চ আদালতে দায়ের হওয়া আপিলসমূহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করে খুনিদের শাস্তি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, "যেহেতু আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা ও প্রধান আসামি স্বৈরাচার শেখ হাসিনা, তাই বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী বর্তমান সরকার যেন দ্রুততম সময়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।"

শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও বিশেষ মোনাজাত সম্পন্ন করার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতৃবৃন্দ শহীদ সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সাথে তাদের বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নেতারা সাঈদের বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও ভাইদের জড়িয়ে ধরে সমবেদনা জানান এবং তাঁদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

এই বিশেষ জিয়ারত ও মতবিনিময় কর্মসূচিতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

/আশিক

পাঠকের মতামত: