সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কিছু না কিছু রেখেছি: তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন যে, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে এবং সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য নির্বাচনী ইশতেহারে রাখা পরিকল্পনাগুলো ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হতে শুরু করেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) সকালে জাতীয় সংসদের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুর থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি খেটে খাওয়া মানুষের জন্য তাঁদের ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল। কৃষকদের সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে ইতিমধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে। একইভাবে দেশের নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে প্রান্তিক পর্যায়ের নারী প্রধান পরিবারগুলোকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে, যা সরাসরি কৃষকদের উপকৃত করার পাশাপাশি স্থানীয় দিনমজুরদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। এ ছাড়াও পরিবেশ রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের আয়ের পথ সুগম করতে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি সম্মানীর বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি বলেন, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সমাজের প্রতিটি ধাপে মানুষের পাশে থাকা খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের জন্য সরকারি সম্মানীর ব্যবস্থা করার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তার কাজ এখন বাস্তবায়নের পথে। শুধু ইসলাম ধর্মই নয়, অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদেরও এই সহায়তার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
যুব সমাজের স্বপ্নের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে তরুণদের ‘ক্রীড়া কার্ড’ দেওয়া শুরু হয়েছে, যাতে তারা খেলাধুলাকেই পেশা হিসেবে নিয়ে নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পারে। শিল্পোদ্যোক্তাদের পাশাপাশি প্রান্তিক প্রতিটি মানুষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের আওতায় আনাই এ সরকারের মূল লক্ষ্য বলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন।
/আশিক
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, গ্রেফতারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর আর আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ থাকবে না, বরং তাঁকে সরাসরি গ্রেফতার করে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের এই কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
গণআন্দোলনের মুখে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা রুজু হয় এবং দেশের আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা প্রদান করেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি আগামী ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন এবং দেশে ফিরে তিনিসহ তাঁর অধুনালুপ্ত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই টেলিফোন সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে রয়টার্স উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ দুই বছর যাবত ভারতের আশ্রয়ে থাকার পর এখন তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সাক্ষাৎকারে দাবি করেন।
নিজের নিরাপত্তা ও দেশে ফেরার ঝুঁকি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেন, বাংলাদেশে পা রাখার পর বর্তমান সরকার আমাকে গ্রেফতার করতে পারে, এমনকি আমার জীবননাশের আশঙ্কাও রয়েছে; তা সত্ত্বেও আমাকে দেশে ফিরতেই হবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে তাঁর দলের নেতাকর্মীদের ওপর তীব্র দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। জীবনের চূড়ান্ত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, যদি আমার মৃত্যুও অবধারিত হয়, তবুও আমি নিজের দেশের মাটিতেই মরতে চাই— যেখানে আমার বাবা-মা সমাহিত আছেন এবং যেখানে তাঁদের রক্ত মিশে রয়েছে।
/আশিক
দুর্যোগে পরীক্ষা দিতে না পারলে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে, প্রয়োজনে তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের বিভ্রান্তিতে না ভুগে পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, দেশের সার্বিক অবস্থা এবং মাঠপর্যায়ের স্থানীয় প্রশাসনের মতামত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেই পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এছাড়া, পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের ওই প্রশ্নের জন্য সম্পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়া হবে বলেও তিনি জাতীয় সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের মাধ্যমে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, এইচএসসির মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যার ওপর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও জীবনের গতিপথ নির্ভর করে, সেটি পদার্থবিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়ের দিন কেন মাত্র এক বা দুই দিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া গেল না, তা মন্ত্রীর কাছে জানতে চান।
রুমিন ফারহানার প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। চলমান পরিস্থিতির ওপর সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছিল এবং ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আটটি বিভাগীয় কমিশনার, প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়েছিল।
এমনকি আবহাওয়া পূর্বাভাসের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়। আবহাওয়াবিদরা বৃষ্টি হবে না এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে বলে আশ্বস্ত করার পর, পরীক্ষার আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
মন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বিকেল ৫টা পর্যন্ত বসে থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, কারণ সবাই বলেছিল আবহাওয়া ভালো হবে। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি কলেজের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতি দেখার পরপরই আমি দ্রুত ওই পরীক্ষাকেন্দ্রটি স্থানান্তরের নির্দেশ দিই। এ ছাড়া সারা দেশের ইউএনও এবং জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, দেশের অন্য কোথাও পরীক্ষা নিয়ে এমন বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। যে ছাত্রীর কাপড় ভিজে গিয়েছিল, তার জন্য বিকল্প শুকনো কাপড়ের ব্যবস্থা করে এক ঘণ্টা পর তার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং তার পরীক্ষার সময়সীমাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন যে, প্রশ্নপত্র পরিমার্জন বা মডারেশনের কাজটির প্রক্রিয়া পরীক্ষা শুরুর অন্তত দুই বছর আগে থেকেই শুরু করতে হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাস অতিবাহিত হয়েছে, যার ফলে এই প্রশ্নগুলো বিগত সরকারের আমলের মডারেটরদের তৈরি করা। তা সত্ত্বেও, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়টি চিহ্নিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুটি প্রশ্নের বিপরীতে পরীক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মার্জিয়া বেগমের অন্য এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সাধারণ বা বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের যে দাবি উঠেছে, তা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইনের ভেটিংয়ের কাজ চলছে। ইউরোপ ও আমেরিকার পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষায়িত ‘স্কুল অব এগ্রিকালচার’ বা কৃষি অনুষদ গড়ে তোলা হবে, যা এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাবে।
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বন্যায় বা দুর্যোগে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া সরকারের জন্য বড় কোনো কঠিন কাজ নয়। অনেক জায়গায় ইতিমধ্যেই পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। বিকল্প প্রশ্নপত্রের সেট মজুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে তাদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রশাসনিক দুর্বলতা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার কারণে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারলে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, যেমনটি চট্টগ্রাম বোর্ডে করা হয়েছে। তাই তিনি শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে মনোযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ে শিক্ষার্থীদের চেয়ে সরকারই বেশি উদ্বিগ্ন।
/আশিক
তারুণ্য ও উদ্ভাবনে জোর, ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ সফর
সরকার গঠনের পর দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সোয়া ১০টার দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সিন্ডিকেট সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসজুড়ে নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা।
সফরের মূল আকর্ষণ ছিল ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরি এবং তরুণদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান।
অনুষ্ঠানে দেশের উদীয়মান স্টার্টআপ খাতের বর্তমান অবস্থা, বিনিয়োগের সুযোগ, প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের অগ্রগতি তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সফল স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব। সেখানে বিভিন্ন উদ্যোক্তা নিজেদের সফলতার গল্প, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি মুক্ত মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তরুণরা সরাসরি নিজেদের ভাবনা, প্রশ্ন ও উদ্ভাবনী পরিকল্পনা তুলে ধরার সুযোগ পান।
এ ছাড়া নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ এবং ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব উদ্যোক্তা উদ্যোগে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ, মেন্টরশিপ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা আরও সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতি এবং জ্ঞানভিত্তিক শিল্পের বিকাশে স্টার্টআপ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের দ্বিতীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর। এর আগে গত ১২ মে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘Transforming Higher Education in Bangladesh: Roadmap to Sustainable Excellence’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলেন। ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী কার্যক্রমে সরকারের অংশগ্রহণকে উচ্চশিক্ষা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
-রফিক
সবাই মিলে স্বৈরাচার হটিয়েছি, এবার আসুন দেশ গড়ি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব মানুষ যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে, ঠিক একইভাবে এখন সবাইকে মিলেমিশে দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে হবে। সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজনৈতিক মতাদর্শ ভুলে দেশের সব ধর্মের ও সব পেশার মানুষ যেভাবে একসঙ্গে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছিল, ঠিক কদিন আগেও দেশের আপামর জনতা রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা যদি সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারি, তবে তার সুফল দেশের প্রতিটি নাগরিক ভোগ করবে। প্রধানমন্ত্রী বধ্যভূমি এলাকায় একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির সূচনা করেন এবং পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কেবল সরকার বা সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য সামাজিক সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন, বৃক্ষরোপণের এই দিনে সবাইকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখব। তিনি দেশের নাগরিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যার যার ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও কার্যালয়ের চারপাশের আঙিনা সুন্দর ও দূষণমুক্ত রাখার পরামর্শ দেন।
ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন সাগরদী খালের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খালের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্ব স্থানীয় বাসিন্দাদেরও। পার্কে ঘুরতে আসা সাধারণ মানুষ অনেক সময় ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন কিংবা টিস্যু পেপার খালের পানিতে ফেলে দেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি সবাইকে এসব বর্জ্য নির্দিষ্ট বিনে ফেলার অনুরোধ জানান এবং সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করার নির্দেশনা দেন।
খালের পানি দূষণমুক্ত রাখার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, খালের অপর পাড়ে কিছু আবাসিক ভবনের সুয়ারেজ ও ড্রেনেজ লাইনের সংযোগ সরাসরি খালের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি সিটি কর্পোরেশনকে দ্রুত একটি সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, খালের পানিতে ময়লা পানি বা বর্জ্যের সংযোগ দেওয়া বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিজেদের ঘর গোছানোর মতো করে যদি আমরা নিজেদের এলাকা বা দেশ পরিষ্কার না রাখি, তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব আমাদের ওপরই পড়বে। নিজের দেশের সম্পদ নষ্ট করে অন্য দেশের সুন্দর জায়গা দেখে আফসোস করার কোনো মানে হয় না।
পরিবেশ সুরক্ষার এই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন এবং খালের দুপাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত করে তোলেন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সার্কিট হাউসে গিয়ে জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করেন। সফরসূচি অনুযায়ী বিকেলে শিল্পকলা একাডেমিতে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে তাঁর বরিশাল সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
/আশিক
আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শেষে যা বললেন অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন একটি ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে এবং বর্তমানে এই ঋণের শর্ত ও নীতিমালা নির্ধারণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে আইএমএফ মিশনের প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে সফরকারী একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, নতুন এই ঋণ সহায়তার অংশ হিসেবে আইএমএফ পর্যায়ক্রমে কিছু অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনগণের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার নিজস্ব বিবেচনা অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও জানান যে, জনগণের প্রতি একটি রাজনৈতিক সরকারের যেসব দায়বদ্ধতা থাকে, আইএমএফের প্রতিনিধি দল সেটিকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে।
বৈঠকের বরাত দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়ন এবং কর ও জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধি সহ অর্থনীতির বেশ কিছু সূচকের অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এসব খাতে আরও দৃশ্যমান সংস্কার ও উন্নতির তাগিদ দিয়েছে দাতা সংস্থাটি।
নতুন এই ঋণ কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করতে আগামী অক্টোবরে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে অর্থমন্ত্রী জানান। তিনি নিজেই সেই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
/আশিক
শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণ করলে আইন অনুযায়ী জেলে যেতে হবে: শামা ওবায়েদ
বাংলাদেশের আদালতে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সোমবার (১৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আলাপকালে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বিবৃতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শামা ওবায়েদ বলেন, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কী বক্তব্য দিচ্ছেন, তা বাংলাদেশ সরকারের কাছে গুরুত্ব পাওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশের আইনি পরিভাষায় তিনি একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবেই বিবেচিত।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, আইন সবার জন্য সমান এবং যেকোনো অপরাধী বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করলে দেশের বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে যার কাছেই আত্মসমর্পণ করুন না কেন, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাকে প্রথমেই কারাগারে যেতে হবে বলে তিনি জানান।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কেও কথা বলেন শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, ভারতের সাথে বাংলাদেশের নিয়মিত যে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনা ও যোগাযোগ বজায় রয়েছে, সেখানে এই বিষয়টি সবসময়ই গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
/আশিক
সেনাসদস্যদের সাথে মাটিতে বসে গল্প ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
বরিশালের বাবুগঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৩ জুলাই) এই পরিদর্শনকালে তিনি সেনাসদস্যদের যুদ্ধকালীন রণকৌশল, বনাঞ্চলে পরিচালিত বিশেষ অনুশীলন এবং আধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, পরিদর্শনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে মহড়ার বিভিন্ন কারিগরি দিক ও বাহিনীর রণপ্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানান।
বনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পরিচালিত এই প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ধাপ প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখেন। এ সময় যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের ড্রোন চিহ্নিত ও তা নিষ্ক্রিয় করার জন্য ব্যবহৃত অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের মহড়া প্রদর্শন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই প্রযুক্তির পরিচালন প্রক্রিয়া এবং এর কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
মহড়া পর্যবেক্ষণকালে প্রধানমন্ত্রী জঙ্গল পরিখায় অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে যান এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা শোনার পাশাপাশি তিনি কিছু সময় সেনাসদস্যদের সাথে মাটিতে বসে কথা বলেন। পরে তিনি সেনাসদস্যদের সাথে একই কাতারে বসে যুদ্ধকালীন পরিবেশে প্রস্তুতকৃত খাবার দিয়ে মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করেন।
সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশবাসীর গভীর আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা, যেকোনো সংকট মোকাবিলা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর সদস্যদের দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কঠোর শৃঙ্খলা, কর্মদক্ষতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে সেনাবাহিনী জনগণের হৃদয়ে একটি অনন্য মর্যাদা তৈরি করেছে। জনগণের এই বিশ্বাস ও আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখতে তিনি নিয়মিত পেশাদার প্রশিক্ষণ গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির আত্মীকরণ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশনা দেন।
নিজের পারিবারিক পটভূমি স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সেনা পরিবারে বড় হওয়ার কারণে সেনাসদস্যদের মাঝে এলে তিনি শৈশবের স্মৃতি অনুভব করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের পেশাগত দক্ষতা ও সুনাম আরও বৃদ্ধি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন, সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পেশাগত মানোন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত ও বাস্তবমুখী সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এই প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি
সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো বরিশাল সফরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একদিনের সরকারি এই সফরকে কেন্দ্র করে বরিশালসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে সফরের শুরু থেকেই প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ সফরে অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়ে নতুন ঘোষণা আসতে পারে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে যাত্রা করে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক হয়ে প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল জেলার গৌরনদীর ভূরঘাটা এলাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।
স্বাগত পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গৌরনদী পৌরসভা অভিমুখে যাত্রা করে। সফরপথজুড়ে মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সাধারণ মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা স্লোগান, ব্যানার ও শুভেচ্ছা জানিয়ে সরকারপ্রধানকে অভ্যর্থনা জানান। ফলে পুরো এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
সরকারি সফরের সূচি অনুযায়ী, দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের নবখননকৃত সরিকল খালের তীরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এরপর একই এলাকায় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাভোগী পরিবারের কাছে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ জোরদার হবে।
সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সিটি করপোরেশনের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালের পাশে আয়োজিত আরেকটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলাধার সংরক্ষণ এবং নগর সবুজায়নকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
দিনের শেষভাগে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত একটি সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং স্থানীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, সব কর্মসূচি শেষে সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী সড়কপথেই ঢাকায় ফিরবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সফরপথজুড়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বরিশালের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামো, নদী ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি, কর্মসংস্থান এবং নগর উন্নয়নসংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নতুন গতি আসবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও মনে করছেন, সরকারপ্রধানের এই সফর বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
-রফিক
প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ফিরলে সরাসরি কারাগারে যেতে হবে শেখ হাসিনাকে, ট্রাইব্যুনালের কড়া বার্তা
২৪-এর ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গত দুই বছর ধরে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর সরাসরি আদালতে বা আইনের কাছে আত্মসমর্পণের কোনো ধরনের আইনি সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে যদি দুই দেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফেরত আনা হয়, তবে তাঁকে সরাসরি গ্রেপ্তার হয়ে বাধ্যতামূলকভাবে কারাগারেই যেতে হবে।
আজ রোববার (১২ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এই আইনি ব্যাখ্যা ও কড়া বার্তা প্রদান করেন।
সম্প্রতি গত ৯ জুলাই আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক দীর্ঘ ও চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন যে, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের দিকে তিনি ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে সশরীরে আদালতের মুখোমুখি হবেন এবং স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা সমস্ত নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, তাঁরা যেন সবাই গোপন আস্তানা থেকে বেরিয়ে এসে ওই সময়ে তাঁর সঙ্গে একযোগে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
রয়টার্সে প্রকাশিত শেখ হাসিনার এই রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে জোর কূটনৈতিক অনুরোধ জানিয়েছে। এখন মূল আইনি প্রশ্নটা হচ্ছে, তিনি যেহেতু বর্তমানে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে ও নজরদারিতে রয়েছেন, তাই তাঁর নিজের ইচ্ছায় বা নিজে নিজে বাংলাদেশে আসার কোনো সুযোগই নেই।
হয় দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির (এক্সট্রাডিশন ট্রিটি) আওতায় তাঁকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আইনি প্রক্রিয়ায় হ্যান্ডওভার (হস্তান্তর) করা হবে, অথবা তাঁকে পুশব্যাক করা হবে।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, মূলত দেশে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের উসকে দিয়ে দেশকে নতুন করে অস্থিতিশীল করার এক অপকৌশল হিসেবেই শেখ হাসিনা ভারত থেকে এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও স্পষ্ট করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে শেখ হাসিনাকে চূড়ান্ত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই মামলায় তাঁর সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যিনিও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
এই অবস্থায় দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার কোনো ধরনের আইনি জামিন পাওয়ার সুযোগ আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের দেশের বিচারিক ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিন পাওয়ার নজির নেই। সুতরাং, শেখ হাসিনাকে যদি প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয় বা তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়, তবে সংগত কারণেই তিনি প্রথমে সরাসরি জেলে যাবেন। জেলে যাওয়ার পর তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন কি পারবেন না, সেই আইনি বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে।”
আইনের জটিল ধারা উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারার বিধান স্বচক্ষে তুলে ধরে বলেন, “সেকশন ২১-এর ৩ উপধারায় পরিষ্কার করে বলা আছে, ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার ৩০ দিনের পর আর কোনো আপিল দায়ের করার আইনি সুযোগ থাকবে না। ফলে, যদি আপিল করার নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার কারণে সুযোগ না থাকে, তবে তাঁর এই মৃত্যুদণ্ডের সাজাই সরাসরি বহাল থাকবে। আর যদি বিশেষ আইনি প্রক্রিয়ায় আপিল করা যায়, তবে উচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে রায়ের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার মামলার বাইরেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান অন্যান্য চাঞ্চল্যকর মামলার হালনাগাদ অগ্রগতি তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি জানান, আজ থেকে ১৩ বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের বিশাল সমাবেশকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চালানো নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার দীর্ঘ তদন্তকাজ অবশেষে সফলভাবে শেষ হয়েছে।
আগামী ২১ জুলাই ধার্য তারিখে এই ঐতিহাসিক মামলার আনুষ্ঠানিক ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। এ ছাড়া গত ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার আরও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তকাজ একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং সেগুলোও দ্রুতই বিচারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ১৪ জুলাইয়ের অদ্ভুত সমাপতন: ২০২৪-এ 'রাজাকার' আর ২০২৬-এ 'ফার্মের মুরগি' বিতর্ক
- হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি, বিশ্বজুড়ে চড়বে তেলের দাম
- সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে তৎপরতা নেই: নাহিদ ইসলাম
- শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, গ্রেফতারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- মনে হচ্ছে এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে: মিশরীয় কোচ
- বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মহারণ: স্প্যানিশদের রুখে দিতে প্রস্তুত আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স
- বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সেমিফাইনাল: ফ্রান্সের তুরুপের তাস যখন এমবাপ্পে
- ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করাই হরমুজ প্রণালী সচলের একমাত্র পথ
- চারবার দাম কমিয়ে জুয়েলারি বাজারে স্বস্তির খবর দিল বাজুস
- শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
- হরমুজ প্রণালির আসল প্রহরী ইরানই, চিরকাল থাকবে: ট্রাম্পকে আরাগচির কড়া জবাব
- লক্ষণ খুব ভালো নয়, অপরাধীদের শাস্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ জামায়াত আমিরের
- সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পদত্যাগ ও ক্ষমা চাইতে হবে: শিক্ষামন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের আলটিমেটাম
- ইয়েমেনে হুতিদের দমনে সৌদি আরবকে ট্রাম্পের সবুজ সংকেত, মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের শঙ্কা
- দুর্যোগে পরীক্ষা দিতে না পারলে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
- ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, ‘আরও বড় হামলা আসছে’
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- তারুণ্য ও উদ্ভাবনে জোর, ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ সফর
- টানা বর্ষণ কবে কমবে? নতুন পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে
- ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- বর্ষণ কমলেও সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দফার বৃষ্টি
- সৌদি-হুথি সংঘাত ফের তীব্র, ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি
- আজকের খেলার সূচি, বিশ্বকাপে জমজমাট সেমিফাইনাল
- আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, জেনে নিন বিস্তারিত
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- মঙ্গলবার ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বেশ কিছু এলাকায়
- বন্যায় মানুষ মরছে, আর প্রধানমন্ত্রী বরিশালে সফর করছেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- দুর্যোগেও কেন চলছে এইচএসসি পরীক্ষা, কারণ ব্যাখ্যা করল শিক্ষা বোর্ড
- রাঙ্গামাটিতে ভারীবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
- ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
- ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা: হরমুজ প্রণালির অভিভাবক হয়ে অর্থ আদায় করবে ওয়াশিংটন
- পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস: কোন দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- ইনস্টাগ্রাম থেকে রিয়াল মাদ্রিদের পরিচয় সরালেন ভিনিসিয়ুস, ফুটবল বিশ্বে তোলপাড়
- সবাই মিলে স্বৈরাচার হটিয়েছি, এবার আসুন দেশ গড়ি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ইউরোপের ফুটবল মাঠে মুসলিম তারকাদের সেজদা ও নতুন আত্মপরিচয়ের গল্প
- গাজার পুনর্বাসনে ইউরোপীয় কমিশনের ১০০ কোটি ডলারের বিশাল প্যাকেজ ঘোষণা
- যুদ্ধবিরতি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বিমান হামলা
- আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শেষে যা বললেন অর্থমন্ত্রী
- শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণ করলে আইন অনুযায়ী জেলে যেতে হবে: শামা ওবায়েদ
- সেনাসদস্যদের সাথে মাটিতে বসে গল্প ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
- ওয়াল্ট রস্টোর আধুনিকীকরণ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
- বন্যা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- ঢাকাজুড়ে আজও বৃষ্টি, কী বলছে আবহাওয়া অফিস?
- এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?
- বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি
- আজ রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ, দেখে নিন সম্পূর্ণ তালিকা
- স্বর্ণবাজারে নতুন ধাক্কা, এক লাফে বাড়ল ভরির দাম
- শিক্ষকের মর্যাদা যখন প্রশ্নবিদ্ধ: সংকটে শিক্ষাঙ্গন, সংকটে আমাদের ভবিষ্যৎ
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?
- সোনা-রুপার নতুন দাম কার্যকর, জানুন সর্বশেষ তালিকা
- ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত মরক্কোকে বিদায় দিল ফ্রান্স
- ওয়াল্ট রস্টোর আধুনিকীকরণ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
- ‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
- নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল: কার প্রতিপক্ষ কে? দেখুন সূচি
- এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?








