জেট ইঞ্জিন ও এআই প্রযুক্তির মিশেল: ইরানের হাতে এখন রাশিয়ার সুপার ড্রোন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ১৭:৫৭:১৭
জেট ইঞ্জিন ও এআই প্রযুক্তির মিশেল: ইরানের হাতে এখন রাশিয়ার সুপার ড্রোন
ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত ইরানি শাহেদ ড্রোনের প্রযুক্তিগতভাবে আরও শক্তিশালী ও উন্নত সংস্করণ এখন খোদ তেহরানে পাঠাচ্ছে রাশিয়া। মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি (AP) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এই ড্রোনগুলোতে রুশ প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এমন কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে যা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আগে ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করত রাশিয়া। তবে এখন সেগুলোতে রাশিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তিতে জেট ইঞ্জিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর নেভিগেশন, উন্নত জ্যামার-প্রতিরোধী ব্যবস্থা এবং এমনকি স্টারলিংক ইন্টারনেট ডিভাইসও যুক্ত করা হয়েছে। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের দাবি, এই উন্নত ড্রোনগুলো আজারবাইজান হয়ে মানবিক সহায়তার আড়ালে ট্রাকে করে ইরানে পাঠানো হচ্ছে। তবে এই চালানের সঠিক পরিমাণ বা সরবরাহের ধরন সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

রাশিয়ার এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস স্পষ্ট জানিয়েছেন, অন্য দেশ ইরানকে যতই উন্নত প্রযুক্তি দিক না কেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্যের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই খবরকে পুরোপুরি ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ইরানের হাতে পৌঁছালে তা ওই অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

/আশিক


খারগ দ্বীপে হামলা করলে কেউ জীবিত ফিরবে না: ইরানের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ১৭:২৬:২২
খারগ দ্বীপে হামলা করলে কেউ জীবিত ফিরবে না: ইরানের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে কোনো ধরনের হামলার দুঃসাহস দেখালে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) এক কড়া বিবৃতিতে ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "খারগ দ্বীপে যারাই হামলা চালাবে, তারা আর জীবিত ফিরে যাবে না।" ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

খারগ দ্বীপ ইরানের জ্বালানি অর্থনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু এবং দেশটির সিংহভাগ তেল এই দ্বীপের মাধ্যমেই বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা হয়। ইব্রাহিম রেজাই স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই দ্বীপে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব হবে নজিরবিহীন ও কঠোর। তেহরানের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, একটি আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় শত্রুরা ইরানের এই দ্বীপটি দখলের নীল নকশা তৈরি করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরান কেবল হামলাকারীকেই নয়, বরং সহযোগিতাকারী ওই আঞ্চলিক দেশের ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো’ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারও এই সতর্কবার্তায় সুর মিলিয়ে বলেছেন, শত্রুর প্রতিটি গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইরান। যদি কোনো পক্ষ সামান্যতম উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ও নিরলস ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে খারগ দ্বীপকে কেন্দ্র করে ইরানের এই চরম হুঁশিয়ারি পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে।

/আশিক


সৌদি ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আহত ২৯ মার্কিন সেনা, কুয়েতে ড্রোন আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত রাডার

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ১৬:৩৩:০৭
সৌদি ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আহত ২৯ মার্কিন সেনা, কুয়েতে ড্রোন আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত রাডার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে, যেখানে ইরানের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত ২৯ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP) শুক্রবার একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, গত এক সপ্তাহে একাধিক দফায় চালানো হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত আঘাতে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে ১৫ জন মার্কিন সেনা আহত হন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। এর আগে একই ঘাঁটিতে চালানো আরেক দফা হামলায় আরও ১৪ জন সেনা আহত হন। ধারাবাহিক এই আক্রমণগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংঘাত এখন একটি বিস্তৃত ও পরিকল্পিত সামরিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে নির্দিষ্ট কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

এদিকে কুয়েতেও নিরাপত্তা ঝুঁকি নতুন মাত্রা পেয়েছে। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, একাধিক ড্রোন হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবে বিমান চলাচল ব্যবস্থার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাডার সিস্টেমের ক্ষতির কারণে আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় সাময়িক বিঘ্ন দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরেও সামরিক উত্তেজনার প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইরানি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত খুজেস্তান স্টিল কোম্পানির একটি বৃহৎ শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবারের হামলায় কারখানার একাধিক ইউনিট ও ইস্পাত উৎপাদন সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন লাইন স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া আঞ্চলিক নৌপথেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী শনিবার দাবি করেছে, তারা ওমানের সালালাহ বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় একটি মার্কিন লজিস্টিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “আগ্রাসী মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করা একটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।” যদিও এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সামগ্রিকভাবে এসব ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন একাধিক ফ্রন্টে বিস্তৃত হয়ে পড়েছে—স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—তিন ক্ষেত্রেই সংঘর্ষের পরিধি বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক রুট এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামরিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা যতটা জরুরি, বাস্তবে ততটাই কঠিন হয়ে উঠছে সমঝোতার পথ। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ধীরে ধীরে এমন এক অস্থির বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে প্রতিটি নতুন হামলা আরও বড় সংঘাতের সম্ভাবনাকে উসকে দিচ্ছে।


বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: সংকটের মুখে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ১১:৫৬:০৬
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: সংকটের মুখে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১১৪ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) লেনদেন শেষে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫.৭ শতাংশ বেড়ে ১১৪.২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে মার্কিন তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ফিউচারস ৬.১৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের কারণেই এই অস্থিরতা থামছে না। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা আঘাতের ঘটনায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত এক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অভাবনীয় হারে বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তেলের বাজারে এই রেকর্ড ভাঙা দাম আরও বাড়তে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করবে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ডাক: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজপথে নামছে লাখো মানুষ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ১১:৫১:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ডাক: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজপথে নামছে লাখো মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিমালার বিরুদ্ধে রাজপথে নামছে লাখ লাখ মানুষ। ‘নো কিংস’ (No Kings) নামক এই বিশাল আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা, যার মাধ্যমে ট্রাম্পের ইরান আগ্রাসন এবং অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে। শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সারা দেশে ৩ হাজারের বেশি বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম প্রতিবাদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো, মিনিয়াপোলিস এবং সান ফ্রান্সিসকোর মতো বড় শহরগুলোতে বিশাল জনসমাগমের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি মাত্র ৬ লাখ ৪৬ হাজার জনসংখ্যার ছোট অঙ্গরাজ্য ভারমন্টেও ৪০টির বেশি স্থানে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবর মাসেও একই ব্যানারে বড় ধরনের আন্দোলন হয়েছিল। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, জুনের বিক্ষোভে প্রায় ৫০ লাখ এবং অক্টোবরে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল। এবারের সমাবেশ সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের মূল ক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান ইরান নীতি এবং অভিবাসীদের ওপর চালানো দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি কেবল একটি প্রতিবাদ নয় বরং আমেরিকান গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। তারা একে ‘আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের দিনলিপি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। দেশজুড়ে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে প্রধান শহরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


নেপালে ওলি যুগের অবসান:শপথের পরদিনই গ্রেপ্তার হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ১১:৩৬:০৫
নেপালে ওলি যুগের অবসান:শপথের পরদিনই গ্রেপ্তার হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের প্রাণঘাতী 'জেনজি' (Gen-Z) বিক্ষোভে জড়িত থাকা এবং সহিংসতা দমনে চরম অবহেলার অভিযোগে শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সকালে ভক্তপুরের নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে আটক করা হয়। র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার ঠিক পরদিনই এই চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ নিলেন।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওলির সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আইনি বিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ওলিকে গ্রেপ্তারের পরপরই নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) লিখেছেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয় বরং ন্যায়বিচারের শুরু; আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তবে কেপি শর্মা ওলি এই গ্রেপ্তারকে 'প্রতিহিংসামূলক' দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দুর্নীতিবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেপালে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এই নজিরবিহীন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে ওলি সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের পর বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় এসে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করেন।

শুক্রবার নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে ওই কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে দায়িত্বহীন আচরণের কারণে অপ্রাপ্তবয়স্করাও প্রাণ হারিয়েছে, যার দায়ে ওলি ও লেখকসহ অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক চন্দ্র কুবের খাপুংসহ আরও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন।

/আশিক


বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ১০:০৬:০৯
বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) রাতে পরিচালিত এই হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে এটি তৃতীয় দফার হামলা। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে কোনো হতাহত বা কেন্দ্রের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও আল-জাজিরার তথ্যমতে, একই রাতে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের আরও বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর পরমাণু স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে একটি ইউরেনিয়াম উৎপাদনকেন্দ্র এবং ভারী পানির একটি চুল্লি রয়েছে। এ ছাড়া ইসফাহানের দুটি ইস্পাত কারখানাও হামলার শিকার হয়েছে। এই নজিরবিহীন হামলার পর ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, শান্তিপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর জন্য ইসরায়েলকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বার্তায় জানান, ইসরায়েল দাবি করছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। এদিকে, এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের দ্রুত কর্মস্থল ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে চরম সতর্কতা জারি করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন হরমুজ প্রণালি ছাড়িয়ে পারমাণবিক স্থাপনা পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

/আশিক


সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ০৯:২৮:৫৯
সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের আল-খারজে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস (CBS) জানিয়েছে, ইরান এই হামলায় অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোন এবং স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা পৌঁছেছে ৩০০ জনে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে ২৭৩ জন চিকিৎসা শেষে দায়িত্বে ফিরেছেন। তবে এই এক মাসের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে, যা পেন্টাগনের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিটি মূলত মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৬ এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের একটি প্রধান কেন্দ্র। এই ঘাঁটিতে আঘাত হানার মাধ্যমে ইরান সরাসরি ওয়াশিংটনকে তাদের পাল্টা সক্ষমতার বার্তা দিল বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: রয়টার্স


হরমুজ প্রণালির নতুন নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’? মিয়ামিতে ট্রাম্পের বিদ্রূপাত্মক ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ০৯:১০:২০
হরমুজ প্রণালির নতুন নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’? মিয়ামিতে ট্রাম্পের বিদ্রূপাত্মক ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিকে রসিকতা করে নিজের নামে অর্থাৎ ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) ফ্লোরিডার মিয়ামিতে সৌদি আরব সমর্থিত ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (FII) সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। ইরান যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হওয়ার মুখে যখন এই জলপথটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন ট্রাম্পের এমন নামকরণ বিষয়ক রসিকতা উপস্থিত বিনিয়োগকারী ও দর্শকদের মধ্যে হাসির রোল তৈরি করে।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরানকে ট্রাম্প প্রণালি— থিতু হোন, আমি বলতে চেয়েছি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।” পরক্ষণেই তিনি বিদ্রূপের সুরে ক্ষমা চেয়ে বলেন যে, ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলো (Fake News) হয়তো বলবে তিনি ভুল করে এটি বলেছেন, কিন্তু আসলে তাঁর অভিধানে ‘ভুল’ বলে কিছু নেই। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধের ময়দানে পরাজিত এবং তারা এখন একটি চুক্তির জন্য ‘মিনতি’ (Begging) করছে। যদিও তেহরান সরাসরি কোনো আলোচনার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে ট্রাম্পের দাবি— ইরান ইতিপূর্বেই আলোচনার অংশ হিসেবে ৮ থেকে ১০টি তেলের ট্যাঙ্কার ছেড়েছে, যা প্রমাণ করে যে তারা পর্দার আড়ালে সমঝোতা করতে চায়।

বর্তমানে ইরান এই পথটি কার্যকরভাবে অবরোধ করে রাখায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ঐতিহাসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানকে আগামী ৬ এপ্রিলের (বর্ধিত সময়সীমা) মধ্যে এই জলপথটি পুরোপুরি খুলে দিতে হবে, অন্যথায় দেশটির বড় বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালানো হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামকরণ মূলত তাঁর চিরচেনা ব্র্যান্ডিং মানসিকতারই প্রতিফলন, যা যুদ্ধের এই সংবেদনশীল সময়েও তাঁর রাজনৈতিক আধিপত্য প্রকাশের একটি কৌশল।

সূত্র: সিএনবিসি


ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার গোপন সহায়তার নতুন তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১৯:৩১:৫৬
ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার গোপন সহায়তার নতুন তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মস্কো তেহরানকে সীমিত পরিসরে সহায়তা করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সহায়তা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নয়; বরং প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে একটি পরোক্ষ কৌশলগত সমর্থন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানকে উন্নত স্যাটেলাইট তথ্য সরবরাহ করছে, যার মাধ্যমে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার কার্যকর গুপ্তচর স্যাটেলাইট ব্যবস্থার ব্যবহার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার ‘লিয়ানা’ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক এই গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতায় উৎক্ষেপিত ইরানের ‘খৈয়াম’ স্যাটেলাইট উচ্চমানের চিত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম, যা যুদ্ধক্ষেত্রে বাস্তব সময়ের নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।

এই স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা ইরানকে শত্রুপক্ষের সামরিক গতিবিধি সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য প্রদান করছে, যা কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সাম্প্রতিক কিছু হামলার দাবি নাকচ করে দিয়েছে এবং নির্দিষ্ট ঘটনাগুলোকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই সহযোগিতা যুদ্ধের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা একমুখী নয়; বরং এটি একটি পারস্পরিক নির্ভরতার কাঠামো তৈরি করেছে। ২০২২ সাল থেকে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ সিরিজের ড্রোন এবং গোলাবারুদ সরবরাহ করে আসছে। বর্তমানে সেই প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ পুনরায় ইরানের কাছে ফিরে আসছে, যা দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি বিনিময়ের একটি চক্র তৈরি করেছে।

উদাহরণ হিসেবে, সাম্প্রতিক এক হামলায় ব্যবহৃত ইরানি ড্রোনে রাশিয়ার তৈরি জ্যামিং-প্রতিরোধী নেভিগেশন প্রযুক্তি শনাক্ত করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি ইলেকট্রনিক বাধা অতিক্রম করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর সক্ষমতা বাড়ায়, যা আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া যে কৌশল ব্যবহার করেছে যেমন ড্রোন ও ডামি টার্গেটের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা সেই অভিজ্ঞতাও এখন ইরানের যুদ্ধ কৌশলে প্রভাব ফেলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক থাকলেও তাদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, মস্কো সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের ঝুঁকি নেবে না; বরং পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তারের কৌশলই অব্যাহত রাখবে।

সূত্র: আল জাজিরা

পাঠকের মতামত: