খামেনির শেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১৩:৫১:৫৬
খামেনির শেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে শোক, ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার জীবনের শেষ মুহূর্তের একটি ছবি। তেহরান থেকে প্রকাশিত এই ছবি কেবল আবেগঘন প্রতিক্রিয়াই সৃষ্টি করেনি, বরং সংঘাতের রাজনৈতিক ও কৌশলগত মাত্রাকেও নতুন করে সামনে এনেছে।

পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’ এবং আঞ্চলিক মাধ্যম ‘আল মায়াদিন ইংলিশ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটি খামেনির মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে তোলা। এতে তাকে রাজধানী তেহরানে নিজ কার্যালয়ে গভীর মনোযোগে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়, যা তার শেষ সময়ের কর্মনিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী খামেনির বাসভবন ও প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। হামলার তীব্রতায় দীর্ঘদিনের সুরক্ষিত এই কমপ্লেক্স মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

পরবর্তীতে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া চিত্রে দেখা যায়, পুরো প্রাসাদ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে, যা হামলার মাত্রা ও পরিকল্পনার গভীরতা স্পষ্ট করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, খামেনি তার অফিসে দায়িত্ব পালনরত অবস্থাতেই এই হামলায় নিহত হন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-এর তথ্য অনুযায়ী, হামলার পরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়। একই হামলায় খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে, যার মধ্যে তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাই অন্তর্ভুক্ত।

ইরানি উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেই খামেনির মরদেহ উদ্ধার করেছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই তথ্য প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়ার মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে।

-রফিক


ইরানে ১২ বছর বয়সিদের যুদ্ধে যুক্ত করার ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১৩:৩৯:৩১
ইরানে ১২ বছর বয়সিদের যুদ্ধে যুক্ত করার ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন সহায়ক কার্যক্রমে এখন থেকে কম বয়সি কিশোরদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ন্যূনতম বয়সসীমা কমিয়ে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির তেহরান শাখার সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা রহিম নাদালি জানান, ‘ফর ইরান’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে টহল কার্যক্রম, চেকপয়েন্ট পরিচালনা এবং লজিস্টিক সহায়তার মতো বিভিন্ন কাজে কিশোরদের যুক্ত করা হচ্ছে।

নাদালির বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক কম বয়সি কিশোর স্বেচ্ছায় যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। তাদের এই আগ্রহ ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ বয়সসীমা হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফলে এখন ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সি কিশোররাও এসব কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবে।

তবে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা মনে করছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং শিশু সুরক্ষা নীতিমালার পরিপন্থী।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইরানে শিশুদের নিরাপত্তা বা আধাসামরিক কাজে ব্যবহারের ঘটনা নতুন নয়। ২০২২ সালে মাহসা আমিনি হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময়ও শিশুদের সামরিক পোশাকে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করতে দেখা গিয়েছিল।

এছাড়া ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে দুই শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান। একই সঙ্গে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিভিন্ন সময়ে শিশুদের আটক ও নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে।

বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী, শিশুদের কোনো ধরনের সামরিক বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। ফলে ইরানের এই নতুন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ও আইনগত কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

স্থানীয় অধিকারকর্মীদের মতে, ইরানে ইতোমধ্যেই ৩০ লাখের বেশি শিশু শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট কাজে শিশুদের অন্তর্ভুক্তি তাদের জীবনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল।


সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক বিস্ফোরণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১১:২৮:৪৬
সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক বিস্ফোরণ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার একটি প্রধান কেন্দ্র।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, এই হামলা বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ, যার মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন উপস্থিতিকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।

একই সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে মোট ১৩টি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে বলে দাবি করছে। এর মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ করে কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিক স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে বলে ইরানপন্থী সূত্রগুলো দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের শুরু থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ধারাবাহিকভাবে হামলার মুখে পড়ছে। কাতার, বাহরাইন এবং সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত রাডার ব্যবস্থায় আঘাত হানা হয়েছে। এই ঘাঁটিটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু।

এছাড়া বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও হামলার দাবি করা হয়েছে, যা উপসাগরীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এসব দাবিকে বারবার ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, ইরানের পক্ষ থেকে প্রচারিত তথ্যগুলো অতিরঞ্জিত এবং বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তবে এখনো পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

-রফিক


যুদ্ধ থামাতে ইরানকেই এগোতে হবে: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১১:০৮:৫৫
যুদ্ধ থামাতে ইরানকেই এগোতে হবে: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এখন আর ওয়াশিংটনের হাতে নেই; বরং ইরানকেই এগিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করতে হবে।

শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, আলোচনার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখন কৌশলগতভাবে কঠিন। তার মতে, ইরান যদি সত্যিই সংঘাতের অবসান চায়, তবে তাদেরই প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান বর্তমানে একটি চুক্তির জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাব গ্রহণ করবে কি না, কিংবা আদৌ চুক্তিতে যেতে চায় কি না, সে বিষয়ে তিনি অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের সূচনায় ট্রাম্প গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন, যেখানে বলা হয়েছিল তিনি কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি আগ্রহী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাস্তবে আলোচনায় ফেরার চেষ্টা করছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র নয়।

তার বক্তব্যে দ্বৈত বার্তাও লক্ষ্য করা যায়। একদিকে তিনি ইরানের নেতাদের দক্ষ আলোচক হিসেবে স্বীকৃতি দেন, অন্যদিকে তাদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘দুর্বল যোদ্ধা’ বলেও মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান, যুদ্ধ থামানোর দায় ইরানের ওপরই বর্তায়। তিনি বলেন, ইরান চাইলে আলোচনায় আসতে পারে, তবে এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও যুদ্ধকে কৌশলগতভাবে সফল বলে দাবি করেছেন। তার মতে, চলমান সংঘাত ইতোমধ্যেই ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করেছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভ্যান্স বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় এখন ইরানের পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতুন কৌশলগত বিকল্প তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখা এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করে সংঘাতের সমাধান খোঁজা।

বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্সের এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ অতীতে তিনি বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি প্রশাসনের কঠোর নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বক্তব্য দিচ্ছেন।

অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও প্রকাশ্যে যুদ্ধপন্থী অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা রোধ করাই এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।

ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যাতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা মিত্রদের জন্য পারমাণবিক হুমকি হয়ে উঠতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই এই সামরিক পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

সার্বিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সামরিক চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছে না। ফলে যুদ্ধ ও আলোচনার এই দ্বৈত কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

-রাফসান


এবার ইরানে প্রকাশ্যেই উঠছে পারমাণবিক বোমা তৈরির জোর দাবি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১০:৫৮:২১
এবার ইরানে প্রকাশ্যেই উঠছে পারমাণবিক বোমা তৈরির জোর দাবি
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের অভ্যন্তরে পারমাণবিক নীতিকে ঘিরে বিতর্ক এখন আর আড়ালে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা প্রকাশ্য রাজনৈতিক আলোচনায় রূপ নিয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে কট্টরপন্থী মহলের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুইজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের মতে, পারমাণবিক নীতির প্রশ্নে এখন কট্টরপন্থীদের মতামত নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে উঠে আসছে।

তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান তাদের পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে যাওয়ার ঘোষণাও দেয়নি। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিদ্যমান নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করে আসছে যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে অথবা অন্তত সেই সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। যদিও তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনি অতীতে পারমাণবিক অস্ত্রকে ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন এবং ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি, অর্থাৎ এনপিটির সদস্য।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমেও ভিন্ন ধরনের বক্তব্য উঠে আসছে। আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইরানের দ্রুত এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

একসময় পারমাণবিক বোমা তৈরির মতো সংবেদনশীল বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনার বাইরে থাকলেও এখন তা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক পরিসরে আলোচিত হচ্ছে, যা নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করে।

এই প্রেক্ষাপটে কট্টরপন্থী রাজনীতিক মোহাম্মাদ জাভেদ লারিজানি, যিনি সম্প্রতি নিহত আলি লারিজানির ভাই, প্রকাশ্যে এনপিটি স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে মূল্যায়ন করা উচিত যে এই চুক্তি ইরানের জন্য আদৌ উপকারী কি না। প্রয়োজনে তা থেকে সরে আসার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তিত অবস্থান মূলত সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ফল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণ এমন এক সময় সংঘটিত হয়েছে, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছিল। ফলে ইরানের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত রেখে বা আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় থেকে তেমন কোনো কৌশলগত সুবিধা অর্জন সম্ভব হয়নি। বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।

সার্বিকভাবে, ইরানের অভ্যন্তরে পারমাণবিক নীতিকে ঘিরে যে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

-রফিক


ইরানে ২৭ দিনের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, বাড়ছে দুর্ভোগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১০:২০:৩২
ইরানে ২৭ দিনের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, বাড়ছে দুর্ভোগ
ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনভিত্তিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরান টানা ২৭ দিনেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে রয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্নতা দেশটির তথ্যপ্রবাহ এবং ডিজিটাল যোগাযোগকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত করেছে।

সংস্থাটির সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইরানে ইন্টারনেট সংযোগের মাত্রা বর্তমানে ১ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কার্যত ইন্টারনেট অপ্রাপ্য হয়ে পড়েছে। কেবলমাত্র সরকার অনুমোদিত একটি সীমিত তালিকার ব্যবহারকারীদের জন্য সংযোগ আংশিকভাবে চালু রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডিজিটাল অধিকার সংগঠন অ্যাক্সেস নাউ জানিয়েছে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে তথ্য নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে ইন্টারনেট সীমিত বা বন্ধ করার পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছে। বিশেষ করে জাতীয় পর্যায়ের বিক্ষোভ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় এই ধরনের পদক্ষেপ আরও বেশি দেখা যায়।

মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, এই ব্ল্যাকআউটের কারণে সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি সাধারণ বার্তা পাঠানো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা প্রক্সি ব্যবহার করলেও সেগুলোও খুব সীমিত কার্যকারিতা দেখাচ্ছে।

এর ফলে জনগণ প্রায় বাধ্য হয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা তথ্যের স্বাধীন প্রবাহ ও বহুমাত্রিকতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে সাতটি স্টারলিংক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে, যেগুলো স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। একই অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করার কথাও জানানো হয়েছে।

-রফিক


ইরান বোকা নয়, কিছু ক্ষেত্রে খুবই বুদ্ধিমান: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ২১:৪৯:৩৪
ইরান বোকা নয়, কিছু ক্ষেত্রে খুবই বুদ্ধিমান: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আবারও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) তিনি দাবি করেন, গত চার সপ্তাহের অভিযানে ইরানের সামরিক শক্তি প্রায় ‘নিশ্চিহ্ন’ হয়ে গেছে এবং তেহরান এখন একটি চুক্তির জন্য ‘ভিক্ষা’ করছে। ট্রাম্পের মতে, ইরানিরা যুদ্ধের ময়দানে ‘দুর্বল যোদ্ধা’ হলেও আলোচনার টেবিলে তারা অত্যন্ত ‘ধুরন্ধর আলোচক’।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বরাত দিয়ে ট্রাম্প জানান, ইরানের নৌবাহিনীর বড় জাহাজগুলোর ৯২ শতাংশই ধ্বংস করা হয়েছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণের হার ৯০ শতাংশ কমে গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি গুঁড়িয়ে দিয়েছি। তারা এখন আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।” তবে ইরানের আলোচকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তারা বোকা নয়, তারা অসাধারণ কৌশলী। আমি তাদের বলব তারা দুর্বল যোদ্ধা, কিন্তু ভালো আলোচক।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের জন্য একটি ‘১৫-দফা’ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং তারা এখন সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পথ খুঁজছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, খুব দেরি হওয়ার আগেই ইরানকে পরাজয় স্বীকার করে আলোচনার টেবিলে আসতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। তবে ইরান এই প্রস্তাবকে ‘একপাক্ষিক ও অন্যায্য’ বলে অভিহিত করে সরাসরি আলোচনার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


আকাশে মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের চরম পরিণতি: চাবাহার উপকূলে বড় ধামাকা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ২১:২৩:০৮
আকাশে মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের চরম পরিণতি: চাবাহার উপকূলে বড় ধামাকা
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় নজিরবিহীন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের আকাশসীমার কাছে চাবাহার উপকূলে একটি মার্কিন এফ-১৮ (F-18) যুদ্ধবিমানে আঘাত হেনেছে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে বিমানটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এয়ারোস্পেস ফোর্স ও নৌবাহিনী যৌথভাবে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের ৮১তম ধাপে ‘এমাদ’, ‘কিয়াম’, ‘খোররামশাহর-৪’ এবং ‘কদর’—এর মতো শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের হাইফা, দিমোনা ও হাদেরাসহ ৭০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে আঘাত হানা হয়েছে। একই সময়ে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়।

খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র আরও জানান, তাঁদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ‘আলি আল সালেম’, ‘ক্যাম্প আরিফজান’ এবং ‘মুয়াফফাক সালতি’। এছাড়া এরবিলে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানি নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির মুখে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ তার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

/আশিক


ইসরায়েলের পরমাণু কেন্দ্র ও জেরুজালেম কমান্ড সেন্টারে ইরানের ভয়াবহ হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ২০:১০:০৭
ইসরায়েলের পরমাণু কেন্দ্র ও জেরুজালেম কমান্ড সেন্টারে ইরানের ভয়াবহ হামলা
ছবি : সংগৃহীত

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কড়া নজরদারি এড়িয়ে এবার সরাসরি ইসরায়েলের সামরিক হৃদপিণ্ড জেরুজালেমের ‘মিলিটারি কমান্ড সেন্টার’ এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানার দাবি করল ইরান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) ভোরে আইআরজিসি-র পরিচালিত এই হামলায় বেশ কয়েকটি আত্মঘাতী ড্রোন ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত কয়েক দিনের তীব্র উত্তেজনার মাঝে এটিই ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ইরানের চালানো সবচেয়ে বড় ও সরাসরি আঘাত।

ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত সাগরের দক্ষিণে অবস্থিত ইসরায়েলি পরমাণু কেন্দ্রে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরান দাবি করছে, তাদের এই হামলা সফল হয়েছে এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা কবচ ‘আয়রণ ডোম’ ও ‘অ্যারো’ সিস্টেম এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। আইআরজিসি-র একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমাদের কমান্ডারদের হত্যার যে দুঃসাহস জায়নিস্টরা দেখিয়েছে, এটি তার কেবল শুরু। আমাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল তাদের কমান্ড সেন্টার এবং পারমাণবিক শক্তির উৎস।”

এদিকে, জেরুজালেমে আইডিএফ-এর কমান্ড দপ্তরে হামলার খবরের পর শহরজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সরাসরি কোনো ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার না করলেও দেশটির গণমাধ্যমগুলো আকাশসীমায় দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু স্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্যবস্তু করায় মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন এক ভয়ংকর ও নিয়ন্ত্রণহীন মোড় নিল।

/আশিক


হরমুজ প্রণালির ‘মাস্টারমাইন্ড’ তাংসিরিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১৯:৪১:৪১
হরমুজ প্রণালির ‘মাস্টারমাইন্ড’ তাংসিরিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার এবং হরমুজ প্রণালির ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচিত আলিরেজা তাংসিরি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) ভোরে বান্দর আব্বাসে এক ‘ল্যাথাল’ বা মারাত্মক অভিযানে তাকে ও তাঁর বেশ কয়েকজন সহযোগীকে ‘নির্মূল’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান একে একে তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানির মতো শীর্ষ নেতাদের হারিয়েছে। এই তালিকায় তাংসিরি হলেন সর্বশেষ হাই-প্রোফাইল টার্গেট। ২০১৮ সাল থেকে আইআরজিসি-র নৌপ্রধানের দায়িত্বে থাকা তাংসিরি গত কয়েক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিচ্ছিলেন এবং তাঁর নির্দেশেই বিশ্ববাজারের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহকারী এই পথটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল।

হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন যে, ইরান সামরিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং তারা এখন একটি চুক্তির জন্য ‘বেগিং’ বা ভিক্ষা করছে। এদিকে, তাংসিরির মৃত্যুর খবরের পর বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে আরও অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বান্দর আব্বাসের একটি গোপন ডেরায় তাংসিরি যখন নৌ-কৌশল নিয়ে বৈঠক করছিলেন, ঠিক তখনই ৩টি নিখুঁত মিসাইল আঘাত হানে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: