‘বিশ্বকে রক্ষা করছি’ নেতানিয়াহুর দাবি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১০:২১:১৪
‘বিশ্বকে রক্ষা করছি’ নেতানিয়াহুর দাবি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্যও অপরিহার্য। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এমন একটি হুমকি মোকাবিলা করছে, যা পুরো বিশ্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানা যায়, নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মতে, তেহরান বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কিংবা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।

নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করা। তিনি যুক্তি দেন, এই হুমকি যদি সময়মতো মোকাবিলা না করা হয়, তাহলে ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো ভূগর্ভে স্থানান্তর করে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে আকাশপথে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়বে।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, এই সামরিক পদক্ষেপের একটি রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। তার মতে, ইরানের জনগণের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করতে সক্ষম হবে। এই বক্তব্য বিশ্লেষকদের কাছে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের একটি ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের কৌশলগত চিন্তাভাবনা ও লক্ষ্য প্রায় অভিন্ন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি সেইসব অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে বলা হচ্ছে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেউ কি সত্যিই মনে করে যে বাইরের কোনো শক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নির্দেশ দিতে পারে এমন ধারণা তার কাছে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

সূত্র: সিএনএন


ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ০৯:৫৩:১৩
ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান নতুন করে দাবি করেছে যে তারা ইসরাইলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানি সামরিক সূত্র জানায়, এই হামলা ছিল একটি পরিকল্পিত প্রতিক্রিয়া, যা সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ধারাবাহিকতায় পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিবের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ এবং ‘বীরদের রক্তের প্রতিদান’ হিসেবেই এই ড্রোন হামলা সংঘটিত হয়েছে। এ হামলার সঙ্গে ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’র নামও উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই অভিযানের প্রতীকী বার্তা বহন করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একইসঙ্গে, হামলার ফলে কোনো ধরনের প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দাবি কেবল সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতই নয়; বরং এটি মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত বার্তা দেওয়ার একটি অংশ। বিশেষ করে যখন সংঘাত ক্রমেই সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তু থেকে বেরিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোর দিকে বিস্তৃত হচ্ছে, তখন এই ধরনের হামলা বা হামলার দাবি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা শুধু সীমান্ত বা সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা শহুরে কেন্দ্র, কৌশলগত প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরেও বিস্তার লাভ করছে। এতে করে সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসর যেমন বাড়ছে, তেমনি এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবও বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা


জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে আর ছাড় নয়: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ০৫:২৮:৪৪
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে আর ছাড় নয়: ইরান
ছবি: আল জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই জ্বালানি অবকাঠামোকেন্দ্রিক এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে ইরান সরাসরি ঘোষণা দিয়েছে যে ভবিষ্যতে তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা হলে আর কোনো ধরনের সংযম দেখানো হবে না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, সাম্প্রতিক পাল্টা হামলায় ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার কেবল একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহার করেছে এবং এই সংযম ছিল কেবল উত্তেজনা কমানোর আন্তর্জাতিক আহ্বানের প্রতি সম্মান জানানো।

তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো আবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলে তেহরান ‘শূন্য সংযম’ নীতি অনুসরণ করবে। এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সংকেত হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র, যা দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটিতে ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলা সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে।

এরই ধারাবাহিকতায় কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানি হামলার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এই কমপ্লেক্সটি বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করে থাকে। হামলার ফলে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা তৈরি করেছে।

কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে। তিনি আরও জানান, দুটি এলএনজি উৎপাদন ইউনিট এবং একটি গ্যাস-টু-লিকুইডস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে প্রতিবছর প্রায় ১২.৮ মিলিয়ন টন উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

আল-কাবি এই ঘটনাকে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বিশেষ করে রমজান মাসে একটি মুসলিম দেশের পক্ষ থেকে এমন হামলা গোটা অঞ্চলের জন্য গভীর হতাশার কারণ। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেকোনো পরিস্থিতিতেই তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে সংঘাতের বাইরে রাখা উচিত।

এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তাদের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। তিনি দাবি করেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সামরিক শিল্পভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং দেশটির কমান্ড কাঠামোকে বিশৃঙ্খল করে তুলছে।

তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলাটি ইসরাইল এককভাবে পরিচালনা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে আপাতত জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন হামলা থেকে বিরত রয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলকে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পুনরায় হামলা না চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তার এই অবস্থান আসে যখন উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যেই ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের মহাসচিবও মন্তব্য করেছেন, এই হামলাগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।

সামগ্রিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন একটি পূর্ণাঙ্গ “জ্বালানি যুদ্ধ” পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


কাতারের জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতার সীমিত অংশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ০৫:১১:৩২
কাতারের জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতার সীমিত অংশ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন করে জ্বালানি খাতে তীব্র আকার ধারণ করেছে, যেখানে ইরান সরাসরি শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে। কাতারের রাস লাফান জ্বালানি কমপ্লেক্সে সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, এই অভিযানে তেহরান তাদের সামরিক সক্ষমতার কেবল একটি সীমিত অংশ ব্যবহার করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের এই সংযত অবস্থান মূলত আন্তর্জাতিক মহলের উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ফল। তবে তিনি একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, এই সংযম দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

আরাগচি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্দেশে ইঙ্গিতপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ইরানের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর নতুন করে হামলা হলে তেহরান আর কোনো ধরনের সংযম প্রদর্শন করবে না। তার ভাষায়, ইরানের স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

এই উত্তেজনার মধ্যে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সে হামলার প্রভাব ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার ফলে কাতারের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, এই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না। তার মতে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুরোপুরি পুনর্গঠন ও উৎপাদন সক্ষমতা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের হামলা শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে।

আল-কাবি আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেন, তিনি কখনো কল্পনাও করেননি যে কাতার এমন হামলার মুখে পড়বে, বিশেষ করে একটি মুসলিম দেশের পক্ষ থেকে রমজান মাসে এই ধরনের আক্রমণ ঘটবে যা তার মতে অত্যন্ত হতাশাজনক।

বর্তমান পরিস্থিতির পটভূমিতে রয়েছে ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ। বুধবার ভোরে ইসরাইল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এই গ্যাসক্ষেত্রটি বিশ্বের বৃহত্তম হিসেবে পরিচিত এবং এর একটি অংশ কাতারের সঙ্গে যৌথভাবে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল এখন একটি বিস্তৃত জ্বালানি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরানের হামলায় ইসরাইলের তেল শোধনাগারে আগুন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ০৪:৫৪:৩৪
ইরানের হামলায় ইসরাইলের তেল শোধনাগারে আগুন
ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের হাইফা শহরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার পর ছড়িয়ে পড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, যা দ্রুত জ্বালানি স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে।

উত্তর ও মধ্য ইসরাইলসহ জেরুজালেম অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্ক সাইরেন বেজে ওঠার কিছুক্ষণ পরই এই ঘটনার খবর পাওয়া যায়, যা পুরো পরিস্থিতির তীব্রতা এবং সমন্বিত আক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র বা হতাহতের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি চলমান ইসরাইল-ইরান সংঘাতের একটি নতুন ধাপ, যেখানে সরাসরি জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর সংঘটিত ১২ দিনের ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষের সময়ও হাইফার এই একই তেল শোধনাগার হামলার শিকার হয়েছিল, যা এটিকে একটি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে।

এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে ইসরাইলের সাম্প্রতিক একটি বড় ধরনের হামলা। বুধবার ভোরে ইসরাইল ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র বিশ্বে সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এবং এর একটি অংশ কাতারের মালিকানাধীন হওয়ায় এই হামলার ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

এর জবাবে ইরান দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এই পাল্টা হামলার ফলে কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। এই কমপ্লেক্সটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত, ফলে এর ওপর হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সংঘাতের এই নতুন ধারা ‘এনার্জি ওয়ারফেয়ার’ বা জ্বালানি-কেন্দ্রিক যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করছে, যেখানে উভয় পক্ষ একে অপরের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডে আঘাত হানার কৌশল গ্রহণ করছে। এর ফলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ চেইন এবং অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

-রফিক


‘আমি বেঁচে আছি’- গুজব ভেঙে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ০৪:৪৯:১৩
‘আমি বেঁচে আছি’- গুজব ভেঙে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নানা গুজব ও তথ্যযুদ্ধের আবহে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অবশেষে সরাসরি জনসমক্ষে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বৃহস্পতিবার জেরুজালেমে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বিরল সরাসরি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি শুরুতেই বলেন, “আমি বেঁচে আছি, এবং আপনারা সবাই তা দেখছেন,” যা সাম্প্রতিক গুজবকে সরাসরি খণ্ডন করার একটি স্পষ্ট বার্তা।

গত ৮ মার্চ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন এমন একটি গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গুজবের বিস্তার আরও ত্বরান্বিত হয় যখন তিনি পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি উপস্থিত না থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন এবং নিজের অবস্থান প্রকাশ করেননি।

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ভিডিও প্রকাশ করলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। ভিডিওটির নিম্নমান এবং কিছু ভিজ্যুয়াল বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করে অনেকে দাবি করেন এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি। বিশেষ করে তার হাতে অতিরিক্ত আঙুল দেখা গেছে বলে অভিযোগ ওঠে, যা এই বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।

এই পরিস্থিতিতে গুজব থামানোর উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহু জেরুজালেমের উপকণ্ঠে একটি ক্যাফেতে উপস্থিত হয়ে কফি পান করার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তবে সেটিও বিতর্কমুক্ত ছিল না; ভিডিওতে থাকা একজন বারিস্তার স্বতঃস্ফূর্ত হাসি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়, যা পুরো ঘটনাটিকে আরও আলোচিত করে তোলে।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানান যে, নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবর ভিত্তিহীন। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুজব নিরসনে ভূমিকা রাখলেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।

তবে বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলন কেবল গুজব খণ্ডনের উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি ছিল রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ ঘরানার কিছু অংশ থেকে যে অভিযোগ উঠেছে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে ফেলছে তার জবাব দেওয়াও এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন জনমতের একটি অংশ এই যৌথ সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। এমনকি একজন সিনিয়র মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার পদত্যাগও এই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট দাবি করেছেন, ইসরাইলি পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

এই অভিযোগের জবাবে নেতানিয়াহু সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, কেউ কি সত্যিই বিশ্বাস করে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বাইরের কোনো শক্তি নির্দেশ দিতে পারে? তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময় নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যা তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে সঠিক মনে করেন।

-রাফসান


ইরান মিশনের পর জরুরি অবতরণ মার্কিন F-35, F-35 ক্ষতিগ্রস্ত?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ০৪:৩৫:০১
ইরান মিশনের পর জরুরি অবতরণ মার্কিন F-35, F-35 ক্ষতিগ্রস্ত?
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক F-35 যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। মার্কিন সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের আকাশসীমার ওপর পরিচালিত একটি যুদ্ধ মিশন শেষে বিমানটি মধ্যপ্রাচ্যের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নিরাপদে অবতরণ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং পাইলটের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং এর পেছনের কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানটি ইরানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন বিমানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই F-35 যুদ্ধবিমান শত্রুপক্ষের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে এটি হবে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। কারণ ২০১৮ সাল থেকে এই স্টেলথ ফাইটার যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলেও শত্রুপক্ষের আঘাতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো নিশ্চিত ঘটনা এর আগে প্রকাশ্যে আসেনি।

এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির তালিকাও ধীরে ধীরে দীর্ঘ হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটি প্রায় ১২টি MQ-9 রিপার ড্রোন হারিয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের একটি ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচটি KC-135 রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে, যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

অন্যদিকে, যুদ্ধের শুরুতে একটি ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ দুর্ঘটনায় তিনটি মার্কিন F-15E যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়, যেখানে কুয়েতের একটি F/A-18 ভুলবশত সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল। তবে ওই ঘটনায় ছয়জন ক্রু নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

মানবিক ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকেও পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এই সংঘাতে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,৪৪৪ জন ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ।

যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা, প্রতিরক্ষা শিল্প দুর্বল করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ বন্ধ করাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য।

মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ইরানের ভেতরে প্রায় ৭ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ইরানের নৌ সক্ষমতা দুর্বল করতে ৪০টির বেশি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ এবং ১১টি সাবমেরিনে আঘাত হানার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বর্তমানে নতুন করে সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে আগাম কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

অন্যদিকে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে এবং প্রতিদিনই ইরানের ভেতরে আরও গভীরে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরান এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।

সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন প্রযুক্তিগত, সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে আরও জটিল হয়ে উঠছে, যেখানে প্রতিটি নতুন ঘটনা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা


গ্যাস শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে ইরানের আঘাত: বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তার নতুন ঢেউ

ইসরাফিল আলম
ইসরাফিল আলম
স্টাফ রিপোর্টার, মধ্যপ্রাচ্য।
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ০৪:২৬:২৪
গ্যাস শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে ইরানের আঘাত: বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তার নতুন ঢেউ

কাতারের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনা রাস লাফানে সাম্প্রতিক ইরানের হামলার ফলে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রটি কাতারের জ্বালানি রপ্তানির মূল ভিত্তি, যেখানে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশের উৎস নিহিত। হামলার ফলে এই বিশাল কমপ্লেক্সের ১৪টি উৎপাদন ইউনিটের মধ্যে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সামগ্রিক উৎপাদন ও রপ্তানিতে তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে, কারণ এই ধরনের এলএনজি স্থাপনাগুলো অত্যন্ত জটিল এবং প্রযুক্তিনির্ভর। এর অর্থ দাঁড়ায়, দীর্ঘমেয়াদে কাতারের মোট ক্ষতি ৬০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালের আনুমানিক ২২৫ বিলিয়ন ডলারের মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় এই ক্ষতি প্রতি বছর প্রায় ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক সংকোচনের সমান, যা একটি জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার কারণে এলএনজি রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও, কাতার এখন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক পরিস্থিতি ঘোষণা করার দিকে এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে বেলজিয়াম, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনের সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ চুক্তিতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বাড়াবে।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে। বাহরাইন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তারা পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও দাবি করেছে যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ১৩৯টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৩৮টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তাদের মতে, বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে যে তারা পশ্চিম জেরুজালেমে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এটি সাম্প্রতিক হামলায় নিহত তাদের শীর্ষ কর্মকর্তা ও নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। যদিও এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে এটি সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, রাস লাফান হামলার অর্থনৈতিক অভিঘাত, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়া এবং পারস্পরিক পাল্টাঘাতের ধারাবাহিকতা মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। জ্বালানি অবকাঠামো ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো এখন এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও গভীরভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।


যুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের মাস্টারপ্ল্যান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ২২:১৫:৩৫
যুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের মাস্টারপ্ল্যান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মাঝেই বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম ধমনী 'হরমুজ প্রণালি' (Strait of Hormuz) নিয়ে এক বিস্ফোরক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান। তেহরানের ওয়ালিআসর স্কোয়ারে এক বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় দেশটির সংসদ সদস্য সোমায়ে রাফিয়ি জানান, এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য এখন থেকে ইরানকে 'টোল ও কর' দিতে হবে—এমন একটি আইন প্রণয়নের কাজ করছে দেশটির পার্লামেন্ট।

আইএসএনএ (ISNA) নিউজ এজেন্সির বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, সোমায়ে রাফিয়ি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান যে শ্রম ও শক্তি ব্যয় করে, তার বিনিময়ে এখন থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কর দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, ইরান তার শত্রুদের 'আরাম-আয়েশ' কেড়ে নিয়েছে এবং এই নতুন বাস্তবতা তারা মেনে নিতে পারছে না।

রাফিয়ি আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করেন যে, এই যুদ্ধে ইরানের 'চূড়ান্ত ও নিশ্চিত বিজয়' ঘটবে এবং এরপর থেকে এই নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করা ইরানের শত্রুদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান ছায়াযুদ্ধ এবং সরাসরি সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই প্রণালির ওপর নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।


যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত নেই: পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে ইরান ধ্বংসের নতুন নীল নকশা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ২২:০৭:১০
যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত নেই: পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে ইরান ধ্বংসের নতুন নীল নকশা
ইরান যুদ্ধ নিয়ে পেন্টাগনে প্রেস ব্রিফিং

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিয়ে পেন্টাগন থেকে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানের ভয়াবহ চিত্র এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানালেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) পেন্টাগনে আয়োজিত এক হাই-ভোল্টেজ প্রেস ব্রিফিংয়ে তাঁরা নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকেই এগোচ্ছে। তবে এই যুদ্ধ ঠিক কবে শেষ হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি হননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বিবিসিতে প্রকাশিত এই খবর অনুযায়ী, ইরানের নৌবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং তেহরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে—সেটাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানের ৭ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন বাহিনী সফলভাবে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে, জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেন যে, তিন সপ্তাহব্যাপী একটানা যুদ্ধের পরেও ইরান এখনও উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানোর মতো কিছু সক্ষমতা বজায় রেখেছে। এই সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন অত্যন্ত আগ্রাসী এবং দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তিনি জানান, ইরানের ভূগর্ভস্থ বা বাংকার সদৃশ লক্ষ্যবস্তুগুলো ধ্বংস করতে ৫,০০০ পাউন্ড (২,২৭০ কেজি) ওজনের ‘পেনিট্রেটিভ’ (কংক্রিট ভেদকারী) বোমা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মাটির নিচে থাকা মজবুত স্থাপনাগুলোকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সর্বশেষ আপডেট দিতে গিয়ে জেনারেল কেইন আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনীর এ-১০ ওয়ারথগ (A-10 Warthog) বিমানগুলো এখন দক্ষিণ ইরানজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌযানগুলো লক্ষ্য করে আঘাত হানছে। পাশাপাশি এএইচ–৬৪ অ্যাপাচি (AH-64 Apache) হেলিকপ্টার ড্রোন শিকারে নেমেছে এবং ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর ওপরও মার্কিন হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন আরও পূর্বদিকে ইরানি আকাশসীমায় প্রবেশ করে একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোনগুলো ধ্বংস করার মিশন চালাচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: